1. সারাংশ : খেয়া কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত চৈতালি কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। রবীন্দ্রনাথ পতিসরের নাগর নদী ভ্রমণকালে থাকা অবস্থায় এই কবিতা রচনা করেছিলেন। কবি নদীর তীরে গড়ে ওঠা সরল গ্রাম্য জীবনধারা এই কবিতার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। খেয়া রবীন্দ্রনাথের একটি উল্লেখযোগ্য কবিতা। এই কবিতায় সভ্যতার দুইটিRead more

    সারাংশ :
    খেয়া কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত চৈতালি কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। রবীন্দ্রনাথ পতিসরের নাগর নদী ভ্রমণকালে থাকা অবস্থায় এই কবিতা রচনা করেছিলেন। কবি নদীর তীরে গড়ে ওঠা সরল গ্রাম্য জীবনধারা এই কবিতার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।

    খেয়া রবীন্দ্রনাথের একটি উল্লেখযোগ্য কবিতা। এই কবিতায় সভ্যতার দুইটি দিক; কোলাহল মগ্ন নগর এবং শান্তি প্রবন গ্রামাঞ্চলের জীবনের চরিত্র ফুটে উঠেছে।
    কবিতার প্রথমেই সহজ সরল গ্রামাঞ্চলের শান্তিপ্রিয় মানুষের জীবনের বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে। নদীর দুই তীরে দুইটি গ্রাম কিন্তু এই দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক, জানাশোনা। নিত্যদিন ওরা খেয়ার মাধ্যমে এক গ্রাম হইতে অন্য গ্রামে আসা-যাওয়া করে। তাই খেয়ে নৌকা হয়ে উঠেছে দুই পাড়ের মানুষের আত্মীয়তার অনন্য বাহন।
    গ্রামের মানুষ গুলি এতই সহজ যে ওরা বাইরের জগৎ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। বহির্বিশ্বে কত না যুদ্ধ-বিগ্রহ লড়াই অবিরাম হয়ে যাচ্ছে আর কত না ইতিহাস নিত্যদিনে গড়ে উঠছে। ক্ষমতার লড়াই এর ফলে হচ্ছে রক্তপাত, যুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধে কেহ বা ক্ষমতা অর্জন করছে আর কেহ ক্ষমতাচ্যুত হয়ে যাচ্ছে।

    রক্তপ্রবাহের মাঝে ফেনাইয়া উঠে
    সোনার মুকুট কত ফুটে আর টুটে

    অর্থাৎ কত রাজা বা ক্ষমতাবান সরকার যুদ্ধে পরাজিত হচ্ছে আর যুদ্ধে জয় লাভ করছে। এ সবকিছুই যেন এই গ্রামের মানুষদের ছুইতে পারে নাই।
    মানুষের সভ্যতার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে সৃষ্টি হচ্ছে নতুনত্বের। বিজ্ঞানের অগ্রগতি মানব সভ্যতাকে নিয়ে এসেছে এক নতুন স্থানে। মানুষের মনে তৃষ্ণা জেগেছে না জানাকে জানার, অসম্ভবকে সম্ভব করার। তাই আবিষ্কৃত হচ্ছে নতুন পদ্ধতি নতুন প্রযুক্তি। আর তার সঙ্গে উঠছে অনেক হলাহল অর্থাৎ বিশৃঙ্খলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    কিন্তু নদীর এই দুই তীরবর্তী গ্রাম তার ব্যতিক্রম। এখানে নেই কোনো নতুনত্ব, নেই কোনো অগ্রগতি, নেই কোন বহির্বিশ্বের খবর।

    এই খেয়া চিরদিন চলে নদীস্রোতে

    তাদের সরল জীবনযাত্রায় কোন বাধাপ্রাপ্ত হয় নাই। গ্রামের দুই পারের মানুষের মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব-সংঘাত ঘটেনি বরং ওদের মধ্যে রয়েছে মিলন, ভালোবাসা এবং আদান প্রদান। তাদের জীবনের নদীস্রোত নদীর খেয়ার মত চলে যাচ্ছে অবলীলায়।

    মূলভাব :

    কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কবিতার মাধ্যমে নগরজীবনের বা উন্নত সভ্যতার অন্ধকার দিক কে তুলে ধরেছেন। যদিও নগরজীবন বা আধুনিক সভ্যতা গ্রামাঞ্চলের মানুষ থেকে অনেক উন্নত কিন্তু তাদের মধ্যে মিল নেই, মায়া নেই বরং সংঘাত এবং দ্বন্দ্বে পরিপূর্ণ। আর তার বিপরীতে গ্রাম্য জীবনযাত্রা অনুন্নত হওয়া সত্বেও তাদের মধ্যে রয়েছে নিবিড় মিলন, ভালোবাসা একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা।

    See less
    • 4
  2. দুরন্ত আশা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাব্যগ্রন্থ - মানসী মর্মে যবে মত্ত আশা সর্পসম ফোঁষে অদৃষ্টের বন্ধনেতে দাপিয়া বৃথা রোষে তখনো ভালোমানুষ সেজে বাঁধানো হুঁকা যতনে মেজে মলিন তাস সজোরে ভেঁজে খেলিতে হবে কষে! অন্নপায়ী বঙ্গবাসী স্তন্যপায়ী জীব জন-দশেকে জটলা করি তক্তপোষে ব'সে। ভদ্র মোরা, শান্ত বড়ো, পোষ-মানা এ প্রাRead more

    দুরন্ত আশা

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    কাব্যগ্রন্থ – মানসী

    মর্মে যবে মত্ত আশা
    সর্পসম ফোঁষে
    অদৃষ্টের বন্ধনেতে
    দাপিয়া বৃথা রোষে
    তখনো ভালোমানুষ সেজে
    বাঁধানো হুঁকা যতনে মেজে
    মলিন তাস সজোরে ভেঁজে
    খেলিতে হবে কষে!
    অন্নপায়ী বঙ্গবাসী
    স্তন্যপায়ী জীব
    জন-দশেকে জটলা করি
    তক্তপোষে ব’সে।

    ভদ্র মোরা, শান্ত বড়ো,
    পোষ-মানা এ প্রাণ
    বোতাম-আঁটা জামার নীচে
    শান্তিতে শয়ান।
    দেখা হলেই মিষ্ট অতি
    মুখের ভাব শিষ্ট অতি,
    অসল দেহ ক্লিষ্টগতি–
    গৃহের প্রতি টান।
    তৈল-ঢালা স্নিগ্ধ তনু
    নিদ্রারসে ভরা,
    মাথায় ছোটো বহরে বড়ো
    বাঙালি সন্তান।

    ইহার চেয়ে হতেম যদি
    আরব বেদুয়িন!
    চরণতলে বিশাল মরু
    দিগন্তে বিলীন।
    ছুটেছে ঘোড়া, উড়েছে বালি,
    জীবনস্রোত আকাশে ঢালি
    হৃদয়তলে বহ্নি জ্বালি
    চলেছি নিশিদিন।
    বর্শা হাতে, ভর্সা প্রাণে,
    সদাই নিরুদ্দেশ
    মরুর ঝড় যেমন বহে
    সকল বাধাহীন।

    বিপদ-মাঝে ঝাঁপায়ে প’ড়ে
    শোণিত উঠে ফুটে,
    সকল দেহে সকল মনে
    জীবন জেগে উঠে–
    অন্ধকারে সূর্যালোতে
    সন্তরিয়া মৃত্যুস্রোতে
    নৃত্যময় চিত্ত হতে
    মত্ত হাসি টুটে।
    বিশ্বমাঝে মহান যাহা
    সঙ্গী পরানের,
    ঝঞ্ঝামাঝে ধায় সে প্রাণ
    সিন্ধুমাঝে লুটে।

    নিমেষতরে ইচ্ছা করে
    বিকট উল্লাসে
    সকল টুটে যাইতে ছুটে
    জীবন-উচ্ছ্বাসে–
    শূন্য ব্যোম অপরিমাণ
    মদ্যসম করিতে পান
    মুক্ত করি রুদ্ধ প্রাণ
    ঊর্ধ্ব নীলাকাশে।
    থাকিতে নারি ক্ষুদ্র কোণে
    আম্রবনছায়ে
    সুপ্ত হয়ে লুপ্ত হয়ে
    গুপ্ত গৃহবাসে।

    বেহালাখানা বাঁকায়ে ধরি
    বাজাও ওকি সুর–
    তবলা-বাঁয়া কোলেতে টেনে
    বাদ্যে ভরপুর!
    কাগজ নেড়ে উচ্চ স্বরে
    পোলিটিকাল তর্ক করে,
    জানলা দিয়ে পশিছে ঘরে
    বাতাস ঝুরুঝুর।
    পানের বাটা, ফুলের মালা,
    তবলা-বাঁয়া দুটো,
    দম্ভ-ভরা কাগজগুলো
    করিয়া দাও দূর!

    কিসের এত অহংকার!
    দম্ভ নাহি সাজে–
    বরং থাকো মৌন হয়ে
    সসংকোচ লাজে।
    অত্যাচারে মত্ত-পারা
    কভু কি হও আত্মহারা?
    তপ্ত হয়ে রক্তধারা
    ফুটে কি দেহমাঝে?
    অহর্নিশি হেলার হাসি
    তীব্র অপমান
    মর্মতল বিদ্ধ করি
    বজ্রসম বাজে?

    দাস্যসুখে হাস্যমুখ,
    বিনীত জোড়-কর,
    প্রভুর পদে সোহাগ-মদে
    দোদুল কলেবর!
    পাদুকাতলে পড়িয়া লুটি
    ঘৃণায় মাখা অন্ন খুঁটি
    ব্যগ্র হয়ে ভরিয়া মুঠি
    যেতেছ ফিরি ঘর।
    ঘরেতে ব’সে গর্ব কর
    পূর্বপুরুষের,
    আর্যতেজ-দর্প-ভরে
    পৃথ্বী থরথর।

    হেলায়ে মাথা, দাঁতের আগে
    মিষ্ট হাসি টানি
    বলিতে আমি পারিব না তো
    ভদ্রতার বাণী।
    উচ্ছ্বসিত রক্ত আসি
    বক্ষতল ফেলিছে গ্রাসি,
    প্রকাশহীন চিন্তারাশি
    করিছে হানাহানি।
    কোথাও যদি ছুটিতে পাই
    বাঁচিয়া যাই তবে–
    ভব্যতার গণ্ডিমাঝে
    শান্তি নাহি মানি।

    In English Font:

    Duranta Aasha
    Rabindranath Tagore

    Morme jobe motto aasha
    Sharpa momo fushe
    Odrister bondhonete
    Dapia britha rushe
    Takhano valo manush sheje
    Badhano hukka jatane meje
    Molin tar shojore veje
    Khelite hobe koshe!
    Annapayi Bangabashi
    Stonnopayi jib
    Jon dosheke jatola kori
    Taktaposhe boshe

    Bhadro mora, Shanto boro
    Posh-man ei pran
    Botam ata jamar niche
    Shantite shoyan
    Dekha holei misti oti
    Mukher bhav shisto oti,
    Olosh deho klistogati
    Griher proti taan
    Toil-dhala snigdo tanu
    Nidrarashe bhora,
    Mathay choto bahre boro
    Bangali shontan

    Ihar cheye hotam jadi
    Arab beduin
    Charantole bishal maru
    digonte bilin
    Chuteche ghura, ureche bali,
    Jibonsrut aakahse dali
    Hridoytole banni jali
    cholechi nishidin.
    borsha hate, bhorsha prane
    shodai niruddesh
    Marur jhar jemon bohe
    Shakal badhahin

    Bipod majhe japaye pore
    Shonit uthe fute,
    Shakal dehe shakal mone
    Jibon jege uthe
    Ondhokare shurjalote
    shantoriya mrityosrute
    Nrittyomoy chitta hote
    matta hashi tute
    Bissho majhe mohan jaha
    Shangi poraner
    Jhanjhamajhe dhay she pran
    Shindhumajhe lute

    Nimeshtore iccha kore
    Bikot ullashe
    Shakal tute jaite chute
    Jibon ucchashe
    shunno Byom oporiman
    Modyo shomo korite paan
    Mukta kori ruddha pran
    urdha nilakashe
    Thakite nari khudra khone
    ambrobonochaye
    Shupta hoye lupta hoye
    Gupta grihobashe

    Behalakhana bakaye dhari
    bajao oki shur-
    Tabla baya kulete tene
    badye bharpur
    Kagoj nere uccha share
    Political tarko kore
    Janla diye poshiche ghore
    Batash jhurujhur.
    Paner bata fuler mala,
    tabla-baya duto,
    Dambha bhora kagajgulo
    Koria dao dur!

    Kisher eto ohongkar
    dambha nahi shaje
    Barong thako mouno hoye
    Shashangkuch laje
    ottachare motto-para
    kabhu ki ho aatmohara?
    tapta hoye raktadhara
    Fute ki dehomajhe?
    Aharnishi helay hashi
    tibro opoman
    Marmotal biddho kori
    Bajroshomo baje?

    Dashyoshuke hashyomukh
    Biniti Jor-kar
    Prabhur pode shohag-mode
    Dodul kalebor!
    Padukatole podiya luti
    Grinay makha onno khuti
    Bygro hoye bhariya muthi
    jetecho firi ghar
    Gharete boshe garba kar
    Purbapurusher,
    Aarjatej-dorpe-bhore
    Prithbi tharthora

    Helaye matha dater aage
    Mishta hashi tani
    Bolite ami paribo na to
    bhadrotar bani
    Ucchoshito rakta aashi
    Bakkhatal feliche grashi
    prokashhin chintarashi
    Koriche hanahani.
    Kothao jadi chutite pai
    bachiya jai tabe-
    Bhovyotar gandimajhe
    Shanti nahi mani

    See less
    • 0
  3. ফাল্গুন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাব্যগ্রন্থ - চিত্রবিচিত্র ফাল্গুনে বিকশিত কাঞ্চন ফুল, ডালে ডালে পুঞ্জিত আম্রমুকুল। চঞ্চল মৌমাছি গুঞ্জরি গায়, বেণুবনে মর্মরে দক্ষিণবায়। স্পন্দিত নদীজল ঝিলিমিলি করে, জ্যোৎস্নার ঝিকিমিকি বালুকার চরে। নৌকা ডাঙায় বাঁধা, কাণ্ডারী জাগে, পূর্ণিমারাত্রির মত্ততা লাগে। খেয়াঘাটে ওঠে গRead more

    ফাল্গুন

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    কাব্যগ্রন্থ – চিত্রবিচিত্র

    ফাল্গুনে বিকশিত
    কাঞ্চন ফুল,
    ডালে ডালে পুঞ্জিত
    আম্রমুকুল।
    চঞ্চল মৌমাছি
    গুঞ্জরি গায়,
    বেণুবনে মর্মরে
    দক্ষিণবায়।
    স্পন্দিত নদীজল
    ঝিলিমিলি করে,
    জ্যোৎস্নার ঝিকিমিকি
    বালুকার চরে।
    নৌকা ডাঙায় বাঁধা,
    কাণ্ডারী জাগে,
    পূর্ণিমারাত্রির
    মত্ততা লাগে।
    খেয়াঘাটে ওঠে গান
    অশ্বথতলে,
    পান্থ বাজায়ে বাঁশি
    আন্মনে চলে।
    ধায় সে বংশীরব
    বহুদূর গাঁয়,
    জনহীন প্রান্তর
    পার হয়ে যায়।
    দূরে কোন্ শয্যায়
    একা কোন্ ছেলে
    বংশীর ধ্বনি শুনে
    ভাবে চোখ মেলে–
    যেন কোন্ যাত্রী সে,
    রাত্রি অগাধ
    জ্যোৎস্নাসমুদ্রের
    তরী যেন চাঁদ।
    চলে যায় চাঁদে চ’ড়ে
    সারা রাত ধরি,
    মেঘেদের ঘাটে ঘাটে
    ছুঁ’য়ে যায় তরী।
    রাত কাটে, ভোর হ|য়,
    পাখি জাগে বনে–
    চাঁদের তরণী ঠেকে
    ধরণীর কোণে।

     

    In English Font:

    Falgun

    Falgune bikoshito
    kanchon ful
    dale dale punjito
    Amromukul
    Chonchol Moumachi
    gunjuri gay
    Benubone mormore
    Dokkhinbay

    Spandito nadijol
    jhilimili kore
    Josnar Jhikimiki
    balukar chore
    Nouka Dangay badha
    Kandari jage
    Purnimaratrir
    Mottota lage.

    Kheyaghate othe gaan
    Osshothtole
    Pantho bajay bashi
    Anmone chole
    Dhay she bangshidhar
    bahudur gay
    Janahin prantar
    par hoye jay

    Dure kono shojjay
    eka kuno chele
    bongshir dhani shune
    Bhabe chokh mele
    Jeno kuno jatri she
    Ratri ogadh
    Josnashamudrer
    Tari jeno chada

    Chole jay chade chore
    Shara raat dhori
    Megheder ghate ghate
    Chuye jay tari
    Raat kate, Vor hay
    Pakhi jage bone
    Chader tarani theke
    Dharanir kune.

     

    See less
    • 0
  4. ছোটোবড়ো- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এখনো তো বড়ো হই নি আমি, ছোটো আছি ছেলেমানুষ ব'লে। দাদার চেয়ে অনেক মস্ত হব বড়ো হয়ে বাবার মতো হলে। দাদা তখন পড়তে যদি না চায়, পাখির ছানা পোষে কেবল খাঁচায়, তখন তারে এমনি বকে দেব! বলব, "তুমি চুপটি ক'রে পড়ো।' বলব, "তুমি ভারি দুষ্টু ছেলে' -- যখন হব বাবার মতো বড়ো। তখন নিয়ে দাদার খাঁRead more

    ছোটোবড়ো- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    এখনো তো বড়ো হই নি আমি,
    ছোটো আছি ছেলেমানুষ ব’লে।
    দাদার চেয়ে অনেক মস্ত হব
    বড়ো হয়ে বাবার মতো হলে।
    দাদা তখন পড়তে যদি না চায়,
    পাখির ছানা পোষে কেবল খাঁচায়,
    তখন তারে এমনি বকে দেব!
    বলব, “তুমি চুপটি ক’রে পড়ো।’
    বলব, “তুমি ভারি দুষ্টু ছেলে’ —
    যখন হব বাবার মতো বড়ো।
    তখন নিয়ে দাদার খাঁচাখানা
    ভালো ভালো পুষব পাখির ছানা।
    সাড়ে দশটা যখন যাবে বেজে
    নাবার জন্যে করব না তো তাড়া।
    ছাতা একটা ঘাড়ে ক’রে নিয়ে
    চটি পায়ে বেড়িয়ে আসব পাড়া।
    গুরুমশায় দাওয়ায় এলে পরে
    চৌকি এনে দিতে বলব ঘরে,
    তিনি যদি বলেন “সেলেট কোথা?
    দেরি হচ্ছে, বসে পড়া করো’
    আমি বলব, “খোকা তো আর নেই,
    হয়েছি যে বাবার মতো বড়ো।’
    গুরুমশায় শুনে তখন কবে,
    “বাবুমশায়, আসি এখন তবে।’
    খেলা করতে নিয়ে যেতে মাঠে
    ভুলু যখন আসবে বিকেল বেলা,
    আমি তাকে ধমক দিয়ে কব,
    “কাজ করছি, গোল কোরো না মেলা।’
    রথের দিনে খুব যদি ভিড় হয়
    একলা যাব, করব না তো ভয় —
    মামা যদি বলেন ছুটে এসে
    “হারিয়ে যাবে, আমার কোলে চড়ো’
    বলব আমি, “দেখছ না কি মামা,
    হয়েছি যে বাবার মতো বড়ো।’
    দেখে দেখে মামা বলবে, “তাই তো,
    খোকা আমার সে খোকা আর নাই তো।’
    আমি যেদিন প্রথম বড়ো হব
    মা সেদিনে গঙ্গাস্নানের পরে
    আসবে যখন খিড়কি-দুয়োর দিয়ে
    ভাববে “কেন গোল শুনি নে ঘরে।’
    তখন আমি চাবি খুলতে শিখে
    যত ইচ্ছে টাকা দিচ্ছি ঝিকে,
    মা দেখে তাই বলবে তাড়াতাড়ি,
    “খোকা, তোমার খেলা কেমনতরো।’
    আমি বলব, “মাইনে দিচ্ছি আমি,
    হয়েছি যে বাবার মতো বড়ো।
    ফুরোয় যদি টাকা, ফুরোয় খাবার,
    যত চাই মা, এনে দেব আবার।’
    আশ্বিনেতে পুজোর ছুটি হবে,
    মেলা বসবে গাজনতলার হাটে,
    বাবার নৌকো কত দূরের থেকে
    লাগবে এসে বাবুগঞ্জের ঘাটে।
    বাবা মনে ভাববে সোজাসুজি,
    খোকা তেমনি খোকাই আছে বুঝি,
    ছোটো ছোটো রঙিন জামা জুতো
    কিনে এনে বলবে আমায় “পরো’।
    আমি বলব, “দাদা পরুক এসে,
    আমি এখন তোমার মতো বড়ো।
    দেখছ না কি যে ছোটো মাপ জামার–
    পরতে গেলে আঁট হবে যে আমার।’

    আরও পড়ুনঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতাসমূহ

    In English font:

    Chotoboro
    Rabindranath Tagore

    Ekhono to boro hoini ami
    Choto aachi chelemanush bolo.
    Dadar cheye onek mosto hobo
    Boro hoye babar moto hole.
    Dada takhan jodi porte na chay
    Pakhir chana poshe kebol khachay,
    Takhan tare emni boke debo!
    Bolbo, “Tumi chupti kore poro”
    Bolbo, “tumi bhari dusto chele”

    Jakhan hobo babar moto boro
    Takhan niye dadar khachakhana
    Valo valo pushbo pakhir chana
    Share dashta jakhan jabe beje
    Nabar jonno korbo na to tara.
    Chata ekta ghare kore niye
    Choti paye beriye aashbo para
    Gurumoshay daway ele pore
    chouki ene dite bolobo ghore,
    Tini jadi bolen “selet kutha”?
    Deri hocche, “boshe pora koro.
    Amo bolbo, “khoka to ar nei,
    hoyechi je babar moto boro”
    Gurumoshay shune takhan kobe,
    “babumoshay, aashi ekhon tobe.
    Khela korte niye jete mathe
    Bhulu jakhan aashbe bikelbela,
    Ami take dhamak diye kobo,
    “kaj korchi, gol koro na mela”
    rather din khub bhir hoy
    Ekla jabo korbo na to bhoy
    Mama jadi bolen chute eshe
    “hariye jabe, amar kole choro”
    Bolbo ami, “Dekhcho na ki mama,
    Hoyechi je babar moto boro”
    dekhe dekhe mama bolbe, “tai to,
    Khoka amar she khoka aar nai to”
    Ami jedin prothom boro hobo
    Maa shedine gongasnaner pore
    Aashbe jakhan Khirki-duwar diye
    Bhabbe “Keno gol shuni ne ghore”
    takhan ami chabi khulte shikhe
    joto icche taka dicchi jhike,
    Maa dekhe tai bolbe taratari,
    “khoka, tomar khela kemontoro”
    Ami bolbo, maine dicchi ami,
    Hoyechi je babar moto boro
    Furoy jadi taka, furoy khabar,
    Jata chai maa, ene debo abar
    Aashinete pujor chuti hobe,
    Mela boshbe gajantalar hate,
    Babar nouko koto durer theke
    Lagbe eshe babuganjer ghate.
    Baba mone bhabbe shujashuji,
    Khoka temni khoka i aache bujhi,
    Choto choto rangin jama juto
    Kine ene bolbe amay “porp”
    Ami bolbo, “dada paruk eshe,
    Ami ekhon tumar moto boro.
    Dekhcho na ki je choto map jamar-
    porte gele aat hobe je amar.

    See less
    • 1
  5. একই অর্থে ব্যবহৃত বিভিন্ন শব্দকে সমার্থক শব্দ বলে। দিন এর বিভিন্ন সমার্থক শব্দ হচ্ছে। দিবস- ৫রা সেপ্টেম্বর কে শিক্ষক দিবস হিসাবে পালন করা হয়। দিবা- দিবা নিশি আমি আকুল চিত্তে ভাবনায় মত্ত থাকি। অহ- অহর্নিশি তুমি কোথায় থাক আমারে ছাড়িয়া। বার- আজ কি বার ? রোজ- আমি রোজ বাজারে যাই। অষ্টপ্রহর- অষ্টপ্রহরRead more

    একই অর্থে ব্যবহৃত বিভিন্ন শব্দকে সমার্থক শব্দ বলে।
    দিন এর বিভিন্ন সমার্থক শব্দ হচ্ছে।
    দিবস– ৫রা সেপ্টেম্বর কে শিক্ষক দিবস হিসাবে পালন করা হয়।
    দিবা– দিবা নিশি আমি আকুল চিত্তে ভাবনায় মত্ত থাকি।
    অহ– অহর্নিশি তুমি কোথায় থাক আমারে ছাড়িয়া।
    বার– আজ কি বার ?
    রোজ– আমি রোজ বাজারে যাই।
    অষ্টপ্রহর– অষ্টপ্রহর মানে একদিন যেহেতু এক প্রহর তিন ঘণ্টা।
    অহ্ন
    দিনমান

    See less
    • 0
  6. Days- দিন/কয়েকদিন , to go- বাকি Days to go- কয়েকদিন বাকি , হইতে অনেক বাকি For example- Days to go- It's a mega project, its complication is days to go matter. Days to go- I am excited, my vacation is  just two days to go.  

    Days- দিন/কয়েকদিন , to go- বাকি

    Days to go- কয়েকদিন বাকি , হইতে অনেক বাকি

    For example-

    Days to go- It’s a mega project, its complication is days to go matter.

    Days to go- I am excited, my vacation is  just two days to go.

     

    See less
    • 0
  7. This answer was edited.

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মদিন নিয়ে অনেক কবিতা লিখেছেন। তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থের নাম "জন্মদিনে" সেই কাব্যে রয়েছে ২৯ টি কবিতা। এখানে তিনটি কবিতা দেয়া হলো যেগুলি তার অন্যান্য কাব্যের অন্তর্গত। জন্মদিন (তোমরা রচিলে যারে) কাব্যগ্রন্থ-নবজাতক জন্মদিন (আজ মম জন্মদিন। সদ্যই প্রাণের প্রান্তপথে) কাব্যগ্রন্থ-সেঁজুতিRead more

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মদিন নিয়ে অনেক কবিতা লিখেছেন। তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থের নাম “জন্মদিনে” সেই কাব্যে রয়েছে ২৯ টি কবিতা।
    এখানে তিনটি কবিতা দেয়া হলো যেগুলি তার অন্যান্য কাব্যের অন্তর্গত।

    • জন্মদিন (তোমরা রচিলে যারে) কাব্যগ্রন্থ-নবজাতক
    • জন্মদিন (আজ মম জন্মদিন। সদ্যই প্রাণের প্রান্তপথে) কাব্যগ্রন্থ-সেঁজুতি
    • জন্মদিন (দৃষ্টিজালে জড়ায় ওকে হাজারখানা চোখ) কাব্যগ্রন্থ-সেঁজুতি

     
    আরও পড়ুনঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতাসমূহ

    জন্মদিন

    তোমরা রচিলে যারে
    নানা অলংকারে
    তারে তো চিনি নে আমি,
    চেনেন না মোর অন্তর্যামী
    তোমাদের স্বাক্ষরিত সেই মোর নামের প্রতিমা।
    বিধাতার সৃষ্টিসীমা
    তোমাদের দৃষ্টির বাহিরে।
    কালসমুদ্রের তীরে
    বিরলে রচেন মূর্তিখানি
    বিচিত্রিত রহস্যের যবনিকা টানি
    রূপকার আপন নিভৃতে।
    বাহির হইতে
    মিলায়ে আলোক অন্ধকার
    কেহ এক দেখে তারে, কেহ দেখে আর।
    খণ্ড খণ্ড রূপ আর ছায়া,
    আর কল্পনার মায়া
    আর মাঝে মাঝে শূন্য, এই নিয়ে পরিচয় গাঁথে
    অপরিচয়ের ভূমিকাতে।
    সংসারখেলার কক্ষে তাঁর
    যে-খেলেনা রচিলেন মূর্তিকার
    মোরে লয়ে মাটিতে আলোতে,
    সাদায় কালোতে,
    কে না জানে সে ক্ষণভঙ্গুর
    কালের চাকার নিচে নিঃশেষে ভাঙিয়া হবে চুর।
    সে বহিয়া এনেছে যে-দান
    সে করে ক্ষণেকতরে অমরের ভান–
    সহসা মুহূর্তে দেয় ফাঁকি,
    মুঠি-কয় ধূলি রয় বাকি,
    আর থাকে কালরাত্রি সব-চিহ্ন-ধুয়ে-মুছে-ফেলা।
    তোমাদের জনতার খেলা
    রচিল যে পুতুলিরে
    সে কি লুব্ধ বিরাট ধূলিরে
    এড়ায়ে আলোতে নিত্য রবে।
    এ কথা কল্পনা কর যবে
    তখন আমার
    আপন গোপন রূপকার
    হাসেন কি আঁখিকোণে,
    সে কথাই ভাবি আজ মনে

     

    জন্মদিন

    দৃষ্টিজালে জড়ায় ওকে হাজারখানা চোখ,
    ধ্বনির ঝড়ে বিপন্ন ওই লোক।
    জন্মদিনের মুখর তিথি যারা ভুলেই থাকে,
    দোহাই ওগো, তাদের দলে লও এ মানুষটাকে–
    সজনে পাতার মতো যাদের হালকা পরিচয়,
    দুলুক খসুক শব্দ নাহি হয়।
    সবার মাঝে পৃথক ও যে ভিড়ের কারাগারে
    খ্যাতি-বেড়ির নিরন্ত ঝংকারে।
    সবাই মিলে নানা রঙে রঙিন করছে ওরে,
    নিলাজ মঞ্চে রাখছে তুলে ধরে,
    আঙুল তুলে দেখাচ্ছে দিনরাত;
    কোথায় লুকোয় ভেবে না পায়, আড়াল ভূমিসাৎ।
    দাও-না ছেড়ে ওকে
    স্নিগ্ধ -আলো শ্যামল-ছায়া বিরল-কথার লোকে,
    বেড়াহীন বিরাট ধূলি-‘পর,
    সেই যেখানে মহাশিশুর আদিম খেলাঘর।
    ভোরবেলাকার পাখির ডাকে প্রথম খেয়া এসে
    ঠেকল যখন সব-প্রথমের চেনাশোনার দেশে,
    নামল ঘাটে যখন তারে সাজ রাখে নি ঢেকে,
    ছুটির আলো নগ্ন গায়ে লাগল আকাশ থেকে–
    যেমন করে লাগে তরীর পালে,
    যেমন লাগে অশোক গাছের কচি পাতার ডালে।
    নাম ভোলা ফুল ফুটল ঘাসে ঘাসে
    সেই প্রভাতের সহজ অবকাশে।
    ছুটির যজ্ঞে পুষ্পহোমে জাগল বকুলশাখা,
    ছুটির শূন্যে ফাগুনবেলা মেলল সোনার পাখা।
    ছুটির কোণে গোপনে তার নাম
    আচম্কা সেই পেয়েছিল মিষ্টিসুরের দাম;
    কানে কানে সে নাম ডাকার ব্যথা উদাস করে
    চৈত্রদিনের স্তব্ধ দুইপ্রহরে।
    আজ সবুজ এই বনের পাতায় আলোর ঝিকিঝিকি
    সেই নিমেষের তারিখ দিল লিখি।
    তাহারে ডাক দিয়েছিল পদ্মানদীর ধারা,
    কাঁপন-লাগা বেণুর শিরে দেখেছে শুকতারা;
    কাজল-কালো মেঘের পুঞ্জ সজল সমীরণে
    নীল ছায়াটি বিছিয়েছিল তটের বনে বনে;
    ও দেখেছে গ্রামের বাঁকা বাটে
    কাঁখে কলস মুখর মেয়ে চলে স্নানের ঘাটে;
    সর্ষেতিসির খেতে
    দুইরঙা সুর মিলেছিল অবাক আকাশেতে;
    তাই দেখেছে চেয়ে চেয়ে অস্তরবির রাগে–
    বলেছিল, এই তো ভালো লাগে।
    সেই-যে ভালো-লাগাটি তার যাক সে রেখে পিছে,
    কীর্তি যা সে গেঁথেছিল হয় যদি হোক মিছে,
    না যদি রয় নাই রহিল নাম–
    এই মাটিতে রইল তাহার বিস্মিত প্রণাম।

     

    জন্মদিন

    আজ মম জন্মদিন। সদ্যই প্রাণের প্রান্তপথে
    ডুব দিয়ে উঠেছে সে বিলুপ্তির অন্ধকার হতে
    মরণের ছাড়পত্র নিয়ে। মনে হতেছে কী জানি
    পুরাতন বৎসরের গ্রন্থিবাঁধা জীর্ণ মালাখানি
    সেথা গেছে ছিন্ন হয়ে; নবসূত্রে পড়ে আজি গাঁথা
    নব জন্মদিন। জন্মোৎসবে এই-যে আসন পাতা
    হেথা আমি যাত্রী শুধু, অপেক্ষা করিব, লব টিকা
    মৃত্যুর দক্ষিণ হস্ত হতে, নূতন অরুণলিখা
    যবে দিবে যাত্রার ইঙ্গিত।
    আজ আসিয়াছে কাছে
    জন্মদিন মৃত্যুদিন, একাসনে দোঁহে বসিয়াছে,
    দুই আলো মুখোমুখি মিলিছে জীবনপ্রান্তে মম
    রজনীর চন্দ্র আর প্রত্যুষের শুকতারাসম–
    এক মন্ত্রে দোঁহে অভ্যর্থনা।
    প্রাচীন অতীত, তুমি
    নামাও তোমার অর্ঘ্য; অরূপ প্রাণের জন্মভূমি,
    উদয়শিখরে তার দেখো আদিজ্যোতি। করো মোরে
    আশীর্বাদ, মিলাইয়া যাক তৃষাতপ্ত দিগন্তরে
    মায়াবিনী মরীচিকা। ভরেছিনু আসক্তির ডালি
    কাঙালের মতো; অশুচি সঞ্চয়পাত্র করো খালি,
    ভিক্ষামুষ্টি ধূলায় ফিরায়ে লও, যাত্রাতরী বেয়ে
    পিছু ফিরে আর্ত চক্ষে যেন নাহি দেখি চেয়ে চেয়ে
    জীবনভোজের শেষ উচ্ছিষ্টের পানে।
    হে বসুধা,
    নিত্য নিত্য বুঝায়ে দিতেছ মোরে– যে তৃষ্ণা, যে ক্ষুধা
    তোমার সংসাররথে সহস্রের সাথে বাঁধি মোরে
    টানায়েছে রাত্রিদিন স্থুল সূক্ষ্ম নানাবিধ ডোরে
    নানা দিকে নানা পথে, আজ তার অর্থ গেল কমে
    ছুটির গোধূলিবেলা তন্দ্রালু আলোকে। তাই ক্রমে
    ফিরায়ে নিতেছ শক্তি, হে কৃপণা, চক্ষুকর্ণ থেকে
    আড়াল করিছ স্বচ্ছ আলো; দিনে দিনে টানিছে কে
    নিষ্প্রভ নেপথ্যপানে। আমাতে তোমার প্রায়োজন
    শিথিল হয়েছে, তাই মূল্য মোর করিছ হরণ,
    দিতেছ ললাটপটে বর্জনের ছাপ। কিন্তু জানি,
    তোমার অবজ্ঞা মোরে পারে না ফেলিতে দূরে টানি।
    তব প্রয়োজন হতে অতিরিক্ত যে মানুষ তারে
    দিতে হবে চরম সম্মান তব শেষ নমস্কারে।
    যদি মোরে পঙ্গু কর, যদি মোরে কর অন্ধপ্রায়,
    যদি বা প্রচ্ছন্ন কর নিঃশক্তির প্রদোষচ্ছায়ায়,
    বাঁধ বার্ধক্যের জালে, তবু ভাঙা মন্দিরবেদীতে
    প্রতিমা অক্ষুণ্ন রবে সগৌরবে; তারে কেড়ে নিতে
    শক্তি নাই তব।
    ভাঙো ভাঙো, উচ্চ করো ভগ্নস্তূপ,
    জীর্ণতার অন্তরালে জানি মোর আনন্দস্বরূপ
    রয়েছে উজ্জ্বল হয়ে। সুধা তারে দিয়েছিল আনি
    প্রতিদিন চতুর্দিকে রসপূর্ণ আকাশের বাণী;
    প্রত্যুত্তরে নানা ছন্দে গেয়েছে সে “ভালোবাসিয়াছি’।
    সেই ভালোবাসা মোরে তুলেছে স্বর্গের কাছাকাছি
    ছাড়ায়ে তোমার অধিকার। আমার সে ভালোবাসা
    সব ক্ষয়ক্ষতিশেষে অবশিষ্ট রবে; তার ভাষা
    হয়তো হারাবে দীপ্তি অভ্যাসের ম্লানস্পর্শ লেগে,
    তবু সে অমৃতরূপ সঙ্গে রবে যদি উঠি জেগে
    মৃত্যুপরপারে। তারি অঙ্গে এঁকেছিল পত্রলিখা
    আম্রমঞ্জরীর রেণু, এঁকেছে পেলব শেফালিকা
    সুগন্ধি শিশিরকণিকায়; তারি সূক্ষ্ম উত্তরীতে
    গেঁথেছিল শিল্পকারু প্রভাতের দোয়েলের গীতে
    চকিত কাকলিসূত্রে; প্রিয়ার বিহ্বল স্পর্শখানি
    সৃষ্টি করিয়াছে তার সর্বদেহে রোমাঞ্চিত বাণী,
    নিত্য তাহা রয়েছে সঞ্চিত। যেথা তব কর্মশালা
    সেথা বাতায়ন হতে কে জানি পরায়ে দিত মালা
    আমার ললাট ঘেরি সহসা ক্ষণিক অবকাশে,
    সে নহে ভৃত্যের পুরস্কার; কী ইঙ্গিতে কী আভাসে
    মুহূর্তে জানায়ে চলে যেত অসীমের আত্মীয়তা
    অধরা অদেখা দূত, বলে যেত ভাষাতীত কথা
    অপ্রয়োজনের মানুষেরে।
    সে মানুষ, হে ধরণী,
    তোমার আশ্রয় ছেড়ে যাবে যবে, নিয়ো তুমি গণি
    যা-কিছু দিয়েছ তারে, তোমার কর্মীর যত সাজ,
    তোমার পথের যে পাথেয়, তাহে সে পাবে না লাজ;
    রিক্ততায় দৈন্য নহে। তবু জেনো অবজ্ঞা করি নি
    তোমার মাটির দান, আমি সে মাটির কাছে ঋণী–
    জানায়েছি বারংবার, তাহারি বেড়ার প্রান্ত হতে
    অমূর্তের পেয়েছি সন্ধান। যবে আলোতে আলোতে
    লীন হত দড়যবনিকা, পুষ্পে পুষ্পে তৃণে তৃণে
    রূপে রসে সেই ক্ষণে যে গূঢ় রহস্য দিনে দিনে
    হত নিঃশ্বসিত, আজি মর্তের অপর তীরে বুঝি
    চলিতে ফিরানু মুখ তাহারি চরম অর্থ খুঁজি।
    যবে শান্ত নিরাসক্ত গিয়েছি তোমার নিমন্ত্রণে
    তোমার অমরাবতী সুপ্রসন্ন সেই শুভক্ষণে
    মুক্তদ্বার; বুভুক্ষুর লালসারে করে সে বঞ্চিত;
    তাহার মাটির পাত্রে যে অমৃত রয়েছে সঞ্চিত
    নহে তাহা দীন ভিক্ষু লালায়িত লোলুপের লাগি।
    ইন্দ্রের ঐশ্বর্য নিয়ে হে ধরিত্রী, আছ তুমি জাগি
    ত্যাগীরে প্রত্যাশা করি, নির্লোভেরে সঁপিতে সম্মান,
    দুর্গমের পথিকেরে আতিথ্য করিতে তব দান
    বৈরাগ্যের শুভ্র সিংহাসনে। ক্ষুব্ধযারা, লুব্ধ যারা,
    মাংসগন্ধে মুগ্ধ যারা, একান্ত আত্মার দৃষ্টিহারা
    শ্মশানের প্রান্তচর, আবর্জনাকুণ্ড তব ঘেরি
    বীভৎস চীৎকারে তারা রাত্রিদিন করে ফেরাফেরি,
    নির্লজ্জ হিংসায় করে হানাহানি।
    শুনি তাই আজি
    মানুষ-জন্তুর হুহুংকার দিকে দিকে উঠে বাজি।
    তবু যেন হেসে যাই যেমন হেসেছি বারে বারে
    পণ্ডিতের মূঢ়তায়, ধনীর দৈন্যের অত্যাচারে,
    সজ্জিতের রূপের বিদ্রূপে। মানুষের দেবতারে
    ব্যঙ্গ করে যে অপদেবতা বর্বর মুখবিকারে
    তারে হাস্য হেনে যাব, বলে যাব, “এ প্রহসনের
    মধ্য-অঙ্কে অকস্মাৎ হবে লোপ দুষ্ট স্বপনের;
    নাট্যের কবররূপে বাকি শুধু রবে ভস্মরাশি
    দগ্ধশেষ মশালের, আর অদৃষ্টের অট্টহাসি।’
    বলে যাব, “দ্যূতচ্ছলে দানবের মূঢ় অপব্যয়
    গ্রন্থিতে পারে না কভু ইতিবৃত্তে শাশ্বত অধ্যায়।’
    বৃথা বাক্য থাক্। তব দেহলিতে শুনি ঘন্টা বাজে,
    শেষপ্রহরের ঘন্টা; সেই সঙ্গে ক্লান্ত বক্ষোমাঝে
    শুনি বিদায়ের দ্বার খুলিবার শব্দ সে অদূরে
    ধ্বনিতেছে সূর্যাস্তের রঙে রাঙা পূরবীর সুরে।
    জীবনের স্মৃতিদীপে আজিও দিতেছে যারা জ্যোতি
    সেই ক’টি বাতি দিয়ে রচিব তোমার সন্ধ্যারতি
    সপ্তর্ষির দৃষ্টির সম্মুখে; দিনান্তের শেষ পলে
    রবে মোর মৌন বীণা মূর্ছিয়া তোমার পদতলে।
    আর রবে পশ্চাতে আমার, নাগকেশরের চারা
    ফুল যার ধরে নাই, আর রবে খেয়াতরীহারা
    এ পারের ভালোবাসা– বিরহস্মৃতির অভিমানে
    ক্লান্ত হয়ে রাত্রিশেষে ফিরিবে সে পশ্চাতের পানে।

    See less
    • 0
  8. অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান জয় গোস্বামী অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো পায়ে আমি এখন হাজার হাতে পায়ে এগিয়ে আসি , উঠে দাড়াই হাত নাড়িয়ে বুলেট তাড়াই গানের বর্ম আজ পরেছি গায়ে গান তো জানি একটা দুটো আঁকড়ে ধরে সে-খরকুটো রক্ত মুছি শুধু গানের গায়ে মাথায় কত শকুন বা চিল আমার শুধু একটা কোকিল গান-বাঁধবে সহস্র উপাRead more

    অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান
    জয় গোস্বামী

    অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো পায়ে
    আমি এখন হাজার হাতে পায়ে
    এগিয়ে আসি , উঠে দাড়াই
    হাত নাড়িয়ে বুলেট তাড়াই
    গানের বর্ম আজ পরেছি গায়ে

    গান তো জানি একটা দুটো
    আঁকড়ে ধরে সে-খরকুটো
    রক্ত মুছি শুধু গানের গায়ে
    মাথায় কত শকুন বা চিল
    আমার শুধু একটা কোকিল
    গান-বাঁধবে সহস্র উপায়ে

    অস্ত্র রাখো অস্ত্র ফ্যালো পায়ে
    বর্ম খুলে দেখো আদুরে গায়ে
    গান দাঁড়াল ঋষি বালক
    মাথায় গোঁজা ময়ূর পালক
    তোমায় নিয়ে বেড়াবে গান
    নদীতে , দেশে গায়ে
    অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো গানের দুটি পায়ে

     

    In English Script:

    Aster biruddhe gan
    Joy Goswami

    Astra felo, Astra rakho paye
    Ami ekhon hajar hate paye
    Egiye aashi, Uthe darai
    hat nariye bulet tarai
    ganer barma aaj porechi paye.

    gan to jani ekta duto
    Akre dhore she-kharkuto
    rakta muchi sudhu ganer gaye
    mathay koto shakun ba chil
    Amar sudhu ekta Kukil
    Gaan badhbe shohosro upaye.

    Astra felo, Astra rakho paye
    Barma khule dekho aadure gaye
    Gan daralo rishi balok
    Mathay guja mayur palok
    Tumay niye berabe gaan
    Nadite, deshe gaye
    Astra felo, Astra rakho duti paye.

    See less
    • 0
  9. একটি সংলাপ - সুভাষ মুখোপাধ্যায় মেয়ে: তুমি কি চাও আমার ভালবাসা ? ছেলে: হ্যাঁ, চাই ! মেয়ে: গায়ে কিন্তু তার কাদা মাখা ! ছেলে: যেমন তেমনিভাবেই চাই । মেয়ে: আমার আখেরে কী হবে বলা হোক । ছেলে: বেশ! মেয়ে: আর আমি জিগ্যেস করতে চাই । ছেলে: করো । মেয়ে: ধরো’ আমি কড়া নাড়লাম । ছেলে: আমি হাত ধরে ভেতরে নিয়ে যাবRead more

    একটি সংলাপ – সুভাষ মুখোপাধ্যায়

    মেয়ে: তুমি কি চাও আমার ভালবাসা ?
    ছেলে: হ্যাঁ, চাই !
    মেয়ে: গায়ে কিন্তু তার কাদা মাখা !
    ছেলে: যেমন তেমনিভাবেই চাই ।
    মেয়ে: আমার আখেরে কী হবে বলা হোক ।
    ছেলে: বেশ!
    মেয়ে: আর আমি জিগ্যেস করতে চাই ।
    ছেলে: করো ।
    মেয়ে: ধরো’ আমি কড়া নাড়লাম ।
    ছেলে: আমি হাত ধরে ভেতরে নিয়ে যাব !
    মেয়ে: ধরো’ তোমাকে তলব করলাম ।
    ছেলে: আমি হুজুরে হাজির হব ।
    মেয়ে: তাতে যদি বিপদ ঘটে ?
    ছেলে: আমি সে বিপদে ঝাঁপ দেব ।
    মেয়ে: যদি তোমার সঙ্গে প্রতারণা করি?
    ছেলে: আমি ক্ষমা করে দেব ।
    মেয়ে: তোমাকে তর্জনী তুলে বলব, গান গাও ।
    ছেলে: আমি গাইব ।
    মেয়ে: বলব,কোনো বন্ধু এলে তার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দাও।
    ছেলে: বন্ধ করে দেব ।
    মেয়ে: তোমাকে বলব, প্রাণ নাও ।
    ছেলে: আমি নেব ।
    মেয়ে: বলব, প্রাণ দাও ।
    ছেলে: দেব ।
    মেয়ে: যদি তলিয়ে যাই ?
    ছেলে: আমি টেনে তুলবো ।
    মেয়ে: তাতে যদি ব্যথা লাগে ?
    ছেলে: সহ্য করব ।
    মেয়ে: আর যদি থাকে বাধার দেয়াল ?
    ছেলে: ভেঙ্গে ফেলব ।
    মেয়ে: যদি থাকে একশো গিঠঁ ?
    ছেলে: তাহলেও ।
    মেয়ে: তুমি চাও আমার ভালবাসা ?
    ছেলে: হ্যাঁ, তোমার ভালবাসা ।
    মেয়ে: তুমি কখনোই পাবে না ।
    ছেলে: কিন্তু কেন ?
    মেয়ে: কারণ, যারা ত্রীতদাস আমি তাদের কখনই ভালবাসি না ।

    In English Font:

    Ekti Songlap
    Subhash Mukopadhay

    Meye- Tumi ki chao amar valobasha
    Chele- Ha, chai!
    Meye- Gaye kintu tar kada makha
    Chele- Jemon temnibhabei chai.
    Meye- Amar aakher ki hobe bola houk.
    Chele- Besh!
    Meye- Aar ami jiggesh korte chai.
    Chele- koro
    Meye- Dhoro ami kora narlam.
    Chele- Ami hath dhore vitore niye jabo
    Meye- Dhoro tumake talab korlam.
    Chele- Ami huzure hajir hobo.
    Meye- Tate jadi bipod ghote?
    Chele-Ami she bipode jhap debo
    Meye- Jadi tumar shange protarona kori?
    Chele- Ami gaibo
    Meye- Bolobo, Kuno bandhu eletar mukher upar darja bandha kore dao.,
    Chele- bandha kore debo.
    Meye- Tumake balbo pran nao.
    Chele- Ami nebo.
    Meye- Balbo pran dao.
    Chele- Debo.
    Meye- Jadi taliye jai?
    Chele- Ami tene tulbo
    Meye- Tate jadi betha lage?
    Chele- shojyo karbo
    Meye- Ar jadi thake badhar deyal?
    Chele- Venge felbo
    Meye- Jadi thake eksho gith?
    Chele- taholeo.
    Meye- tumi chao amar valobasha?
    Chele- ha, Tumar valobasha
    Meye- Tumi khakhonoi pabe na.
    chele- kintu keno?
    Meye- Karon, Jara tritidash ami tader kakhanoi valobashi na.

    See less
    • 0