Bengali Forum Latest Questions

  1. হারানো পদক | harano padak মাঝরাতে লাইব্রেরীতে তারই অপেক্ষায় বসে ভাবছি কতক্ষণে সে আসবে আমার নিদ্রাহীনতার দেশে সঙ্গিনী অশরীরী কখনও এ্যাতোটা করেনা দেরী সে চুরি করে হৃদয়,হৃদয়েই বন্দিনী সে এক অভিশপ্ত জাদুকরী কখনও জীবিত তাকে ভালোবাসিনি আমি অদৃশ্য দেহের পড়েছি প্রেমে রাতে তার উপস্থিতির অনুভূতি চুরির রিনিঝিনRead more

    হারানো পদক | harano padak

    মাঝরাতে লাইব্রেরীতে
    তারই অপেক্ষায় বসে
    ভাবছি কতক্ষণে সে আসবে
    আমার নিদ্রাহীনতার দেশে
    সঙ্গিনী অশরীরী
    কখনও এ্যাতোটা করেনা দেরী
    সে চুরি করে হৃদয়,হৃদয়েই বন্দিনী
    সে এক অভিশপ্ত জাদুকরী
    কখনও জীবিত তাকে ভালোবাসিনি
    আমি অদৃশ্য দেহের পড়েছি প্রেমে
    রাতে তার উপস্থিতির অনুভূতি চুরির রিনিঝিনি
    দিনে তৈলচিত্র বাঁধানো ফ্রেমে
    মণিহারা সুন্দরী, দোহাই দোহাই
    হয়ে সাতনহলা হার ছাই ছুঁতে হৃদয়ের খোঁয়ায়
    এ বস্তুবাদের আবাদে তোমার পূনর্জন্ম হোক
    পরে মৃত্যুপুড়িতে তোমার হারানো পদক
    একা এই প্রাসাদে আমি
    যে প্রাসাদ আমার থেকেও দামী
    কাউন্ট ড্রাকুলার মতো আসামী
    জেলখানা খানা খানা শূণ্যস্থান
    তার পাগলামী ধ্বনিতে
    প্লাবন ওঠে আমার শনিতে
    সে বোধহয় জন্ম নেয় আমার ভূত-যোনীতে

    সে আমার ক্ষুধিত পাষাণ
    আত্মাকে পিছু ফিরতে মানা করিনি
    কোন তীর্থে দেয়া হয়নি পিন্ডদান
    কবরে চিতাতে তার দেহ আমি নষ্ট করিনি
    তার অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সাজিয়েছি মাকান
    দেহ হারা সুন্দরী, দোহাই দোহাই
    করুক অবাধ্য বুলেট বিদ্ধ এ হৃদয়ের খোয়ায়
    এ বস্তুবাদের আবাদে তোমার পূনর্জন্ম হোক
    পরে মৃত্যুপুড়িতে তোমার হারানো পদক
    মণিহারা সুন্দরী, দোহাই দোহাই
    হয়ে সাতনহলা হার ছাই ছুঁতে হৃদয়ের খোঁয়ায়
    এ বস্তুবাদের আবাদে তোমার পূনর্জন্ম হোক
    পরে মৃত্যুপুড়িতে তোমার হারানো পদক

    See less
  1. Amader chuti chuti by Sandhya Mukhopadhyay সন্ধ্যা মুখার্জী ওরে আয় ..... ওরে আয় ....আয় ...আয় আয় আয়, আমাদের ছুটি ছুটি চল নেবো লুটি ওই আনন্দ ঝরনা, সোনা ঝরা খুশি ভরা মিষ্টি আলোর ওড়না । আমাদের ছুটি ছুটি চল নেবো লুটি ওই আনন্দ ঝরনা, সারেগা রেগা রেগামা পা মাপা মাপাধানি ধানি ধানিসা গারেসা সারেগা..... গাপাRead more

    Amader chuti chuti by Sandhya Mukhopadhyay

    সন্ধ্যা মুখার্জী

    ওরে আয় ….. ওরে আয় ….আয় …আয় আয় আয়,
    আমাদের ছুটি ছুটি চল নেবো লুটি ওই আনন্দ ঝরনা,
    সোনা ঝরা খুশি ভরা মিষ্টি আলোর ওড়না ।

    আমাদের ছুটি ছুটি চল নেবো লুটি ওই আনন্দ
    ঝরনা,

    সারেগা রেগা রেগামা পা মাপা মাপাধানি ধানি ধানিসা গারেসা
    সারেগা….. গাপামাগা, রেগামা …. নিধাপামা , গামাপা ….সানিধাপা ,মাপাধা পাধানি ধানি, সা পা সা ।।
    আমাদের ছুটি ছুটি চল নেবো লুটি ওই আনন্দ ঝরনা।
    ওই সাতরঙ্গা রামধনু থেকে প্রজাপতি রং মেখে মেখে । ও ও ও ও সাতরঙ্গা রামধনু থেকে প্রজাপতি রং মেখে মেখে
    ফুলে ফুলে স্বরলিপি লেখে
    গাপামা রেমাগা ধানিসা
    সারেগা রেগা রেগামাপা মাপা মাপাধানি ধানি ধানিসা গারেসা
    সারেগামাপা ( গাপা ) রেগামাপাধা( রেমা ) গামাপাধানি ( গাপা ) মাপাধানিসা ( সা……)।।
    আ আ আ আ আ আ

    আমাদের ছুটি ছুটি চল নেবো লুটি ওই আনন্দ ঝরনা।
    আ আ আ আ …….আ আ আ আ আ আ
    ওই দূরে রাখালি সুরে যে বাঁশি পাহাড়ে তুলেছে ঢেউ রে
    পাহাড়ে তুলেছে ঢেউ , উ উ উ উ

    নীল সবুজের কোলে ,দোলে দোদুল দোলে শিখে তা নে নারে কেউ
    পাহাড়ে তুলেছে ঢেউ ,বাঁশি রে পাহাড়ে তুলেছে ঢেউ …..
    ওই নীল পাখি মিল খুজে ফেরে গানে গানে তোর প্রানে যেরে ।ও ও ও ও নীল পাখি মিল খুঁজে ফেরে, গানে গানে তোর প্রানে যে রে
    দু চোখে আকাশ ভরে নে রে
    গাপামা রেমাগা ধানিসা
    সারেগা রেগা রেগামাপা মাপা মাপাধানি ধানি ধানিসা গারেসা
    সাগারে মাপানি , রেমাগা গাপাসা, গাপামা নিসারে ( নি …সা……)
    মাধাপা পানিধা ধানি সা ।।

    See less
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ধনধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা ও সে স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে দেশ স্মৃতি দিয়ে ঘেরা এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি ও সে সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি সে যে আমার জন্মভূমি, সে যে আমার জন্মভূমি।। চন্দ্র সূর্য গ্রহতারা, কোথায় উজল এমন ধারRead more

    দ্বিজেন্দ্রলাল রায়

    ধনধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা
    তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা
    ও সে স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে দেশ স্মৃতি দিয়ে ঘেরা
    এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি
    ও সে সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি
    সে যে আমার জন্মভূমি, সে যে আমার জন্মভূমি।। চন্দ্র সূর্য গ্রহতারা, কোথায় উজল এমন ধারা
    কোথায় এমন খেলে তড়িৎ এমন কালো মেঘে
    তার পাখির ডাকে ঘুমিয়ে উঠি পাখির ডাকে জেগে।।
    এত স্নিগ্ধ নদী কাহার, কোথায় এমন ধুম্র পাহাড়
    কোথায় এমন হরিত ক্ষেত্র আকাশ তলে মেশে
    এমন ধানের উপর ঢেউ খেলে যায় বাতাস কাহার দেশে ।।
    পুষ্পে পুষ্পে ভরা শাখি কুঞ্জে কুঞ্জে গাহে পাখি
    গুঞ্জরিয়া আসে অলি পুঞ্জে পুঞ্জে ধেয়ে
    তারা ফুলের ওপর ঘুমিয়ে পড়ে ফুলের মধু খেয়ে।।
    ভায়ের মায়ের এত স্নেহ কোথায় গেলে পাবে কেহ
    ওমা তোমার চরণ দুটি বক্ষে আমার ধরি
    আমার এই দেশেতে জন্ম যেন এই দেশেতে মরি।।

    See less
  1. মোহিনী চৌধুরী মুক্তির মন্দির সোপানতলে কত প্রাণ হলো বলিদান, লেখা আছে অশ্রুজলে।। কত বিপ্লবী বন্ধুর রক্তে রাঙা, বন্দীশালার ওই শিকল ভাঙ্গা তাঁরা কি ফিরিবে আজ সুপ্রভাতে যত তরুণ অরুণ গেছে অস্তাচলে।। যাঁরা স্বর্গগত তাঁরা এখনও জানেন স্বর্গের চেয়ে প্রিয় জন্মভূমি এসো স্বদেশ ব্রতের মহা দীক্ষা লভি সেই মৃত্যুঞRead more

    মোহিনী চৌধুরী

    মুক্তির মন্দির সোপানতলে
    কত প্রাণ হলো বলিদান,
    লেখা আছে অশ্রুজলে।।
    কত বিপ্লবী বন্ধুর রক্তে রাঙা,
    বন্দীশালার ওই শিকল ভাঙ্গা
    তাঁরা কি ফিরিবে আজ সুপ্রভাতে
    যত তরুণ অরুণ গেছে অস্তাচলে।।
    যাঁরা স্বর্গগত তাঁরা এখনও জানেন
    স্বর্গের চেয়ে প্রিয় জন্মভূমি
    এসো স্বদেশ ব্রতের মহা দীক্ষা লভি
    সেই মৃত্যুঞ্জয়ীদের চরণ চুমি।
    যাঁরা জীর্ণ জাতির বুকে জাগালো আশা,
    মৌল মলিন মুখে জোগালো ভাষা
    আজি রক্ত কমলে গাঁথা মাল্যখানি
    বিজয় লক্ষ্মী দেবে তাঁদেরই গলে।।

    See less
  1. দূর্গা পূজা বা দুর্গোৎসব ভূমিকাঃ দুর্গোৎসব বা দুর্গাপূজা জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতায় বাংলার অন্যতম ধর্মীয় উৎসব। দুর্গোৎসব নিয়ে আসে বাংলার জীবনে এক নতুন মাত্রা, বাংলার মানুষ মেতে উঠে খুশিতে আনন্দে। ভারতের অন্যান্য রাজ্যের খুব কম উৎসবের সঙ্গেই তার তুলনা চলে। যদিও এটি মূলত: ধর্মীয় অনুষ্ঠান তবুও সকল শ্রেRead more

    দূর্গা পূজা বা দুর্গোৎসব

    ভূমিকাঃ দুর্গোৎসব বা দুর্গাপূজা জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতায় বাংলার অন্যতম ধর্মীয় উৎসব। দুর্গোৎসব নিয়ে আসে বাংলার জীবনে এক নতুন মাত্রা, বাংলার মানুষ মেতে উঠে খুশিতে আনন্দে। ভারতের অন্যান্য রাজ্যের খুব কম উৎসবের সঙ্গেই তার তুলনা চলে। যদিও এটি মূলত: ধর্মীয় অনুষ্ঠান তবুও সকল শ্রেণীর জনসাধারণের আন্তরিক মিলনের ফলে এক উদারতর সামাজিক ব্যপ্তি লাভ করেছে। সর্বমানবের মিলনই যদি জাতীয় উৎসবের বৈশিষ্ট্য হয়, তবে দুর্গোৎসবকে নিঃসন্দেহে বাংলা ও বাঙালী জাতির জাতীয় উৎসবরূপে স্বীকার করতে হবে।

    সময় ও প্রস্তুতি : বৎসরের সুন্দরতম ঋতুতে বাংলার নিসর্গ-প্রকৃতি যখন সুস্নিগ্ধ লাবণ্যে অপরূপ হয়ে ওঠে, তখনই দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। শারদ এই শুভলগ্নে প্রকৃতিই প্রকৃতি হয়ে উঠে নির্মেঘ আকাশ হয়ে উঠে সুনীল এরইমধ্যে প্রকৃতি তাঁর স্বর্ণোজ্জ্বল রৌদ্রের প্রদীপালােকে জগন্মাতার বন্দনার আয়ােজন করে। শরৎ ঋতুর আগমনে মৃৎ-শিল্পীর দিবারাত্রির পরিশ্রমে দেবী দুর্গা মৃন্ময়ীরূপে দৃষ্টিগােচর হয়ে ওঠেন, বিপণিতে নয়নলােভন পণ্য আনন্দোচ্ছল ক্রেতার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। প্রবাসী কর্মীর দিন কাটে প্রিয়জনের সঙ্গে মিলনের প্রতীক্ষায়। অবশেষে আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠীতিথির পুণ্যলগ্নে কল্যাণী জননী-রূপে দেবী দুর্গা তাঁর মর্তের সন্তানদের সম্মুখে আবির্ভূত হন। গ্রাম-বাঙলার শারদ আকাশে বাজতে থাকে আগমনীর সুর।

    দুর্গাপূজার ইতিহাস : ইতিহাস পুরাণে বিধৃত। গিরিরাজ হিমালয় ও তদীয় পত্রী মেনকার কন্যা এই দুর্গা, দেবাদিদেব মহাদেব তাঁর স্বামী। সত্যযুগে সুরথ নামক জনৈক নরপতি শহস্তে পরাজিত হয়ে হতাশচিত্তে মেধস্ মুনির আশ্রমে যান। এই মুনির উপদেশেই তিনি সর্বপ্রথম দুর্গাপূজা করেন এবং দেবীর কৃপায় শত্রুকবলিত রাজ্য পুনরুদ্ধার করেন। রাজা সুরথ বসন্তঋতুতে দুর্গাপূজা করেছিলেন বলে এই পূজা বাসন্তী পূজা’ নামে অভিহিত হয় । বাঙালী দেবী দুর্গার আরাধনায় রামচন্দ্রের শারদীয় অনুষ্ঠানকে গ্রহণ করেছে। তাহেরপুরের রাজা কংসনারায়ণ প্রায় সাড়ে তিনশত বৎসর পূর্বে সর্বপ্রথম বাঙলাদেশে জগজ্জননীর পূজায় ব্রতী হন, এরূপ মত প্রচলিত আছে।

    দুর্গা দশভুজা : তার দশটি হাতে শাণিত প্রহরণ। সিংহপৃষ্ঠে আরােহণ করে তিনি ভীষণদর্শন মহিষাসুর নিধনে উদ্যত। শক্তিরূপিণী জননী দুর্গার দক্ষিণে শােভা পান ঐশ্বর্যের দেবী কমলাসনা লক্ষ্মী, বামভাগে অবস্থান করেন বাণী বিদ্যাদায়িনী সর্বশুক্লা সরস্বতী। দুই পুত্র দেবসেনাপতি কার্তিকেয় এবং সিদ্ধিদাতা গণেশও একই সঙ্গে পূজিত হন । গণেশের পার্শ্বে প্রকৃতি-জননীর সৃষ্টির প্রতীক নবপত্রিকা অবস্থান করেন । অসুররূপী অশুভ শক্তিকে বিনাশ করে বিশ্ববাসীকে শাস্তি ও কল্যাণে প্রতিষ্ঠিত করবার জন্যই আদ্যাশক্তি মহামায়া দশপ্রহরণ ধারিণী দুর্গারূপে আত্মপ্রকাশ।

    মূল উৎসব : আলােকোজ্জ্বল আশ্বিনের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে বােধন করে দুর্গাপুজার অনুষ্ঠান শুরু হয়। পুণ্য ষষ্ঠী তিথিতেই দেবীর আবাহন ও অধিবাসের কার্যটি সম্পন্ন করা হয়। সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী–পরবর্তী এই তিনটি দিন ধরে মহাসমারােহে অগণিত ভক্তের সম্মিলনে পূজা চলতে থাকে। অষ্টম ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে যে পূজা অনুষ্ঠিত হয়, তার নাম ‘সন্ধিপূজা’ । চতুর্থ দিন দশমী তিথিতে পূজা সমাপন করে দেবীকে বিসর্জন দেওয়া হয় । বিসর্জনের পরবর্তী কৃত্যই হল প্রতিমা। নিরঞ্জন—অর্থাৎ বাদ্যভাণ্ড ও শোভাযাত্রা সহকারে দেবী প্রতিমাকে নদী-গর্ভে অথবা অন্য কোন জলাশয়ে নিমজ্জিত করা হয়। ভক্ত-পূজকদের দেহে নামে ক্লান্তির ভার, মন আচ্ছন্ন হয়ে থাকে প্রিয়জন বিচ্ছেদের বিষাদে। প্রতিমা নিরঞ্জনের পরে প্রতিটি বাঙালী আত্মীয় প্রিয়জনের সঙ্গে স্নেহালিঙ্গনে আবদ্ধ হয়ে পরস্পরকে ভক্তি শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছাজ্ঞাপন করে, এই অনুষ্ঠানটির নাম ‘বিজয়া।

    বাংলার জীবনে দুর্গ উৎসবের মাহাত্ম্য : শুধু যে ধর্মীয় গুরুত্বেই জগন্মাতা দুর্গার আরাধনা বাঙালী হিন্দুর জীবনে প্রধানতম স্থান গ্রহণ করেছে তাই নয়, মানবিক সম্পর্কের সহজ আন্তরিকতার স্পশে এ উৎসবটি অনন্য। হিমালয়-দুহিতা উমা পুত্র-কন্যা সঙ্গে নিয়ে মাত্র তিনটি দিনের জন্য পিতৃগৃহে ফিরে আসেন, চতুর্থ দিনেই আবার মাতা মেনকাকে অশ্রু সাগরে ভাসিয়ে স্বামী মহেশ্বরের আলয়ে প্রত্যাবর্তন করেন । মর্ত্য-পৃথিবীতে দেবী দুর্গার আবির্ভাবের এই লৌকিক কাহিনীটি বাঙালীর পারিবারিক জীবনে একটি বিষন্ন-মধুর অভিজ্ঞতার সমান্তরালে চলে আসছে। বিবাহিতা কন্যার পিত্রালয়ে আগমন এবং বিদায়ে বাঙালী জননী বা মেনকার আনন্দোৎকণ্ঠা ও অশ্রুঘন বেদনার মর্মস্পর্শিতা অনুভব করেন। কাজেই, বাঙালী জননীর নিকট তখন দেবী দুর্গা আর স্বীয় কন্যা একই স্নেহবাৎসল্যের স্পর্শে দ্রবীভূত হয়ে একাত্মতা লাভ করেন। মাতৃসাধন বাঙালী সঙ্গীতের সুরে বিবাহিত কন্যার সঙ্গে মিলনপ্রত্যাশী বাঙালী মাতার অন্তরবেদনাকেই মুক্তি দিয়েছে : “যাও যাও গিরি, আনিতে গৌরী, উমা আমার কত কেঁদেছে।

    উপসংহার: শারদোৎসব প্রকৃতপক্ষে বাংলার পারিবারিক জীবনে মিলনােৎসবের মাধুর্য নিয়েই আবির্ভূত হয়। সুদীর্ঘে প্রবাসজীবনযাপন করে প্রিয়জন ফিরে আসে জননীর স্নেহাঞ্চলতলে, আনন্দ-হাসিতে মুখর হয় বাঙালীর গৃহ-প্রাঙ্গণ। ধরাতলে রচিত হয় গিরীশ মেনকার সুখতৃপ্ত সংসারের দ্বিতীয় রূপ। তাই বাঙালীই নিঃসঙ্কোচ সারল্যে বলতে পেরেছে-‘দেবতারে মােরা আত্মীয় জানি।

    See less
  1. This answer was edited.

    ভারত তীর্থ হে মোর চিত্ত,পূণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে-- এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে। হেথায় দাঁড়ায়ে দু-বাহু বাড়ায়ে নমি নর-দেবতারে, উদার ছন্দে পরমানন্দে বন্দন করি তাঁরে। ধ্যান-গম্ভীর এই যে ভূধর, নদীজপমালাধৃত প্রান্তর, হেথায় নিত্য হেরো পবিত্র ধরিত্রীরে এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে। কেহ নাহি জানে কার আহ্বাRead more

    ভারত তীর্থ

    হে মোর চিত্ত,পূণ্য তীর্থে
    জাগো রে ধীরে–
    এই ভারতের মহামানবের
    সাগরতীরে।
    হেথায় দাঁড়ায়ে দু-বাহু বাড়ায়ে
    নমি নর-দেবতারে,
    উদার ছন্দে পরমানন্দে
    বন্দন করি তাঁরে।
    ধ্যান-গম্ভীর এই যে ভূধর,
    নদীজপমালাধৃত প্রান্তর,
    হেথায় নিত্য হেরো পবিত্র
    ধরিত্রীরে
    এই ভারতের মহামানবের
    সাগরতীরে।
    কেহ নাহি জানে কার আহ্বানে
    কত মানুষের ধারা
    দুর্বার স্রোতে এল কোথা হতে
    সমুদ্রে হল হারা।
    হেথায় আর্য, হেথা অনার্য
    হেথায় দ্রাবিড়, চীন–
    শক-হুন-দল পাঠান মোগল
    এক দেহে হল লীন।
    পশ্চিম আজি খুলিয়াছে দ্বার,
    সেথা হতে সবে আনে উপহার,
    দিবে আর নিবে, মিলাবে মিলিবে
    যাবে না ফিরে,
    এই ভারতের মহামানবের
    সাগরতীরে।
    রণধারা বাহি জয়গান গাহি
    উন্মাদ কলরবে
    ভেদি মরুপথ গিরিপর্বত
    যারা এসেছিল সবে,
    তারা মোর মাঝে সবাই বিরাজে
    কেহ নহে নহে দূর,
    আমার শোণিতে রয়েছে ধ্বনিতে
    তারি বিচিত্র সুর।
    হে রুদ্রবীণা, বাজো, বাজো, বাজো,
    ঘৃণা করি দূরে আছে যারা আজো,
    বন্ধ নাশিবে, তারাও আসিবে
    দাঁড়াবে ঘিরে
    এই ভারতের মহামানবের
    সাগরতীরে।
    হেথা একদিন বিরামবিহীন
    মহা ওংকারধ্বনি,
    হৃদয়তন্ত্রে একের মন্ত্রে
    উঠেছিল রনরনি।
    তপস্যাবলে একের অনলে
    বহুরে আহুতি দিয়া
    বিভেদ ভুলিল, জাগায়ে তুলিল
    একটি বিরাট হিয়া।
    সেই সাধনার সে আরাধনার
    যজ্ঞশালায় খোলা আজি দ্বার,
    হেথায় সবারে হবে মিলিবারে
    আনতশিরে–
    এই ভারতের মহামানবের
    সাগরতীরে।
    সেই হোমানলে হেরো আজি জ্বলে
    দুখের রক্ত শিখা,
    হবে তা সহিতে মর্মে দহিতে
    আছে সে ভাগ্যে লিখা।
    এ দুখ বহন করো মোর মন,
    শোনো রে একের ডাক।
    যত লাজ ভয় করো করো জয়
    অপমান দূরে থাক।
    দুঃসহ ব্যথা হয়ে অবসান
    জন্ম লভিবে কী বিশাল প্রাণ।
    পোহায় রজনী, জাগিছে জননী
    বিপুল নীড়ে,
    এই ভারতের মহামানবের
    সাগরতীরে।
    এসো হে আর্য, এসো অনার্য,
    হিন্দু মুসলমান।
    এসো এসো আজ তুমি ইংরাজ,
    এসো এসো খৃস্টান।
    এসো ব্রাহ্মণ শুচি করি মন
    ধরো হাত সবাকার,
    এসো হে পতিত করো অপনীত
    সব অপমানভার।
    মার অভিষেকে এসো এসো ত্বরা
    মঙ্গলঘট হয় নি যে ভরা,
    সবারে-পরশে-পবিত্র-করা
    তীর্থনীরে।
    আজি ভারতের মহামানবের
    সাগরতীরে।

     

    See less
  1. আমাদের জাতীয় পতাকা/ ভারতের জাতীয় পতাকা সূচনা : প্রত্যেকটি স্বাধীন দেশের জাতীয় পতাকা সেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। পতাকা একটি জাতি,দল, দেশ বা সংগঠনের প্রতীক তথা পরিচায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বর্তমান বিশ্বের প্রতিটি দেশেরই একটি নিজস্ব পতাকা আছে, যা জাতীয় পতাকা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সে ভাবেRead more

    আমাদের জাতীয় পতাকা/ ভারতের জাতীয় পতাকা

    সূচনা : প্রত্যেকটি স্বাধীন দেশের জাতীয় পতাকা সেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। পতাকা একটি জাতি,দল, দেশ বা সংগঠনের প্রতীক তথা পরিচায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বর্তমান বিশ্বের প্রতিটি দেশেরই একটি নিজস্ব পতাকা আছে, যা জাতীয় পতাকা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সে ভাবে ভারতবর্ষের ও একটি নিজস্ব জাতীয় পতাকা আছে যা ভারতবর্ষের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে প্রকাশ করে।

    আমাদের জাতীয় পতাকার বিবরণ : ভারতের জাতীয় পতাকা তিনটি রং দিয়ে তৈরী।উপরে গেরুয়া মধ্যে সাদা ও নিচে সবুজ।পতাকার ঠিক মধ্যেখানে আছে চব্বিশটি দণ্ডযুক্ত নীল “অশোকচক্র”।তিনটি রং থাকার দরুন আমাদের জাতীয় পতাকাকে সাধারণত “ত্রিরঙ্গা পতাকা” বা “ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা” বলা হয়।১৯৪৭ সালের ২২ জুলাই এই পতাকার বর্তমান রূপটি ভারতবর্ষের সরকারি পতাকা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।

    জাতীয় পতাকার ইতিহাস : ভারতবর্ষের স্বাধীনতার পর্বে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রং ও আকারের পতাকা ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি ভারতের স্বাধীনতার সময় জাতীয় পতাকার বাছাই নিয়ে অনেক বিবাদ দেখা দে। শেষ পর্যন্ত “পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া” ধারা তৈরী তিরঙ্গা জাতীয় পতাকা হিসাবে গৃহীত হয়। এই পতাকায় আনুভূমিক গেরুয়া, সাদা ও সবুজের মধ্যস্থলে একটি চরকা খচিত ছিল। গেরুয়া ত্যাগ; সাদা সত্য ও শান্তি এবং সবুজ বিশ্বাস ও প্রগতির প্রতীক তথা চরকা ভারতের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও দেশবাসীর শ্রমশীলতার প্রতীক হিসেবে গৃহীত হয়। পবর্তীকালে চরকার স্থলে অশোকচক্র যুক্ত করে ইহাকে ভারতবর্ষের জাতীয় পতাকা হিসাবে গ্রহণ করা হয়।

    পতাকা ব্যবহারের নিয়ম : পতাকা উত্তোলনের বিশেষ কয়েকটি দিন রয়েছে তারমধ্যে স্বাধীনতা দিবস, গণতন্ত্র দিবস অন্যতম। এই দিনগুলোতে প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বিভিন্ন অফিস আদালত ও সরকারি- বেসরকারি কার্যালয় গুলোতে পতাকা উত্তোলন করা হয়। পতাকা কোনো একটি উঁচু জায়গায় উত্তোলন করা হয়। দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পতাকা উড়িয়ে রাখা হয় এবং আঁধার নামিয়ে আসলে পতাকা নামিয়ে নেওয়া হয়। এই দিন গুলি ছাড়া কোনো বিশেষ ব্যক্তির মৃত্যু হলে অর্ধেক উত্তোলন করা হয়।তাছাড়া জাতীয় পতাকা কুচকাওয়াজ প্রদর্শনী, বিশেষ প্রদর্শনী, সরকারি অফিস ও আদালতে বছরের যে কোনো সময়ে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

    জাতীয় পতাকার মাহাত্ম্য : জাতীয় পতাকা ভারতবর্ষের পরিচয়ের প্রতীক, প্রত্যেক ভারতীয় মানুষের গর্বের প্রতীক, আমাদের সার্বভৌমত্ব এবং রাষ্ট্রের অখন্ডতার চিহ্ন। জাতীয় পতাকার প্রতি অবিচল আস্থা, ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।ভারতীয় আইন অনুসারে জাতীয় পতাকার ব্যবহার সর্বদা “মর্যাদা, আনুগত্য ও সম্মান সহকারে হওয়া উচিত।জাতীয় পতাকার অপব্যবহার ও অমর্যাদা করা অত্যন্ত জগন্য ও শাস্তিমূলক অপরাধ।

    উপসংহার : ভারতের জাতীয় পতাকা আমাদের গর্বের প্রতীক, আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক।আমরা অনেক সংগ্রাম ও কষ্টের পর এই পতাকাকে অর্জন করেছি। তাই এই পতাকার প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও মর্যাদা ভারতীয় হিসাবে প্রথম দায়িত্ব ও কর্তব্য। ভারতের জাতীয় পতাকার মান যাতে অক্ষুন্ন থাকে সেই জন্য আমাদেরকে এই লক্ষ্যে কাজ করা উচিত।

    See less