Bengali Forum Latest Questions

  1. হোলি বা দোল উৎসব  সুচনাঃ- হোলি বা দোল  রঙের উৎসব প্রায়ই সারা ভারত জুড়ে পালিত হয়। হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, প্রতিবছর ফেব্রুয়ারী বা মার্চ মাসে পূর্ণিমাতে ফাগুন পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে প্রতিবছর হোলির উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এই দিনে মানুষ তাদের সব সমস্যা ভুলে,নতুন রঙে  এবং নতুন ভাবে তাদের সম্পর্ক শক্তিশালীRead more

    হোলি বা দোল উৎসব 

    সুচনাঃ-
    হোলি বা দোল  রঙের উৎসব প্রায়ই সারা ভারত জুড়ে পালিত হয়। হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, প্রতিবছর ফেব্রুয়ারী বা মার্চ মাসে পূর্ণিমাতে ফাগুন পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে প্রতিবছর হোলির উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এই দিনে মানুষ তাদের সব সমস্যা ভুলে,নতুন রঙে  এবং নতুন ভাবে তাদের সম্পর্ক শক্তিশালী করে তোলে। এই উৎসব মানুষের মধ্যে ভালবাসা বাড়ায়। এই দিনটি ঐতিহ্যবাহী ও সাংস্কৃতিক উৎসব, এই উৎসব শুধু হিন্দুদের উৎসব নয় এই উৎসব সর্বজনীন।

    হোলি রং এবং প্রেমের উত্সব। প্রতিবছর হিন্দুদের দ্বারা উদযাপন করা একটি বড় উৎসব। এই দিনে প্রেম ও স্নেহের প্রতীক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। বিভিন্ন ধর্ম স্থান তথা রাম জন্মভূমি, কৃষ্ণ জন্মভূমি এই দিনে বিশেষ ভাবে পালিত হয়।

    হোলি উৎসবে সমাজের ভুমিকাঃ- 

    হোলি উৎসব ভারতে প্রতি অঞ্চলে সুখের রঙ আনে, আনে প্রতিটি বাড়িতে, এই উৎসব সুখের রঙ দেয়, তাই এই উৎসব কে রং উৎসব বলা হয়। যেমন প্রকৃতি তার আলো, বায়ু, জল, সমস্ত জীবকে কোনও পার্থক্য ছাড়াই বিতরণ করে। অনুরূপভাবে, হোলির রংগুলি এমন কোনো বৈষম্য ছাড়াই সমস্ত জীবকুলে  খেলা করে। আবীরের রঙে রঙিন রং সব রঙিন হয়ে যায়। সমাজের সব জীবকুলে এমনকি সমস্ত জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে এই রং সবারে মধ্যে ছরিয়ে পরে বন্ধুত্ব বৃদ্ধি করতে। তাই হোলি এক সমতা বৃদ্ধি, ও বন্ধুত্ব বৃদ্ধি করার উৎসব।

    মথুরা এবং বৃন্দাবনে হোলি উদযাপন মথুরা এবং বৃন্দাবনে হোলি উৎসবঃ

    মথুরা এবং বৃন্দাবন পবিত্র স্থান যেখানে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সারা বছর ধরে এই পবিত্র জায়গায় দেশ বিদেশ থেকে পর্যটক ঘুরতে আসে। কিন্তু এই সময় দোল যাত্রার সময় প্রচুর মানুষ এই পবিত্র স্থানে ঘুরতে আসে। মথুরা ও বৃন্দাবনে হোলি উৎসব বিখ্যাত এই দিন আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করা হয়, সাত দিন ধরে এই সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠান চলে। রাধা-কৃষ্ণকে নিয়ে লিলা খেলার নৃত্য হয়। জাত্রাপালার মাধ্যমে রাধা-কৃষ্ণর লিলা খেলা তুলে ধরা হয় নতুন প্রজন্মের কাছে। রামায়নের চরিত্র এই সময় তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন প্রকারের খাবার, নৃত্য নতুন পোশাক রং মাখা গোটা শহর কিছুটা অন্য রকম। হাসি-খুশিতে কেটে যায় এই সাতদিন। আর এই ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করার জন্য এই দিনে মানুষ ভারতের অন্যান্য শহর থেকে মথুরা এবং বৃন্দাবনে আসে।

    হোলির গুরুত্ব হোলির ও তাৎপর্য :

    এই উৎসব অনেক অনুষ্টানের মাধ্যমে পালন করা হয়, পরিবারের সব সদস্য এবং আত্মীয় একসাথে হোলিকা পুড়িয়ে দেয় এবং হোলি দিবসের পালন করে। এই হোলিকার মৃত্যু এবং প্রতিবছর সে উপলক্ষে হোলিকা পুড়ান হোলির রং খেলার সঙ্গে জরিত।কেউ কেউ মনে করে যে  হিরণ্যকশিপ রাজার বোন হোলিকার নাম থেকেই হোলি নাম হয়েছিল ।

    উপসংহারঃ-

    হোলি প্রেম এবং পারস্পরিক মিলনের একটি উৎসব যা একতা ক্রমাগত বৃদ্ধি করে। সবাই হাসে, এবং প্রত্যেক মানুষ হোলির রং পায়। পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের রং এ মিলে মিশে যায়। মানুষ সবার সাথে সুখ -শান্তি ভোগ করে নেয়। হোলি একটি পবিত্র ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে যুক্ত সুখের উৎসবের পাশাপাশি একটি সামাজিক উৎসব ও বটে । আসুন সবাই একসঙ্গে এই উৎসবের মর্যাদা রাখি এবং আনন্দে এই উৎসব উদযাপন করি। সুখশান্তি সবাই মিলে ভাগ করে নেই এবং হোলির রঙ্গে সবাই রঙ্গিন হই।

    See less
  1. This answer was edited.

    ক্রিকেট সূচনাঃ বর্তমানে বিশ্বে ক্রিকেট একটি জনপ্রিয় খেলা।ক্রিকেট, ফুটবলের মতোই একটি বিদেশি খেলা। ফুটবল খেলা যদিও জনপ্রিয় খেলা তবু ক্রিকেটকেই বলা হয় খেলার রাজা। অনেক ব্যয়বহুল ও দীর্ঘ সময়ের খেলা হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই ক্রিকেট খেলা খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ক্রিকেট খেলার ইতিহাসঃ ক্রRead more

    ক্রিকেট

    সূচনাঃ বর্তমানে বিশ্বে ক্রিকেট একটি জনপ্রিয় খেলা।ক্রিকেট, ফুটবলের মতোই একটি বিদেশি খেলা। ফুটবল খেলা যদিও জনপ্রিয় খেলা তবু ক্রিকেটকেই বলা হয় খেলার রাজা। অনেক ব্যয়বহুল ও দীর্ঘ সময়ের খেলা হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই ক্রিকেট খেলা খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

    ক্রিকেট খেলার ইতিহাসঃ ক্রিকেট খেলার জন্মভূমি ইংল্যান্ডে। খ্রিস্টীয় আঠারো শতকে ইংল্যান্ডের মাটিতেই প্রথম ক্রিকেট খেলা অনুষ্ঠিত হয়। হ্যাম্পশায়ারের অন্তর্গত হাম্পবলডনে প্রথমে ক্রিকেট দল গড়ে উঠে। তারপর সমগ্র ইংল্যান্ডে এ খেলা জনপ্রিয় হয়ে উঠে। ঊনবিংশ এবং বিংশ শতাব্দীর পূর্বাহ্নে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য সম্প্রসারিত হওয়ার সাথে সাথে ক্রিকেট খেলাও ছড়িয়ে পড়ে। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে ইংল্যান্ডের ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক সফরের মাধ্যমে বিশ্ব ক্রিকেটপ্রিয় দেশগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় অবর্তীণ হয়। পরবর্তীতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, বাংলাদেশ কেনিয়, আয়ারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও স্কটল্যান্ড প্রভৃতি দেশে এ খেলা ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

    ক্রিকেট খেলার প্রকারভেদঃ ক্রিকেট খেলা তিন ধরনের। যথা- টেস্ট ম্যাচ অর্থাৎ পাঁচ দিনের খেলা, ওয়ানডে ম্যাচ অর্থাৎ এক দিনের সীমিত ওভারের খেলা, এবং টি টোয়েন্টি ম্যাচ।

    ক্রিকেট খেলার নিয়মঃ  ক্রিকেট দু’দলে খেলতে হয়। প্রত্যেক দলে এগারোজন করে খেলোয়াড় থাকে। ক্রিকেট খেলার জন্য একটি কাঠের ব্যাট ও মুষ্টির ন্যায় আয়তনবিশিষ্ট একটি গোলাকার কাঠের বলের প্রয়োজন হয়। মাঠের মধ্যস্থলে পরস্পরের সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে বাইশ গজ দূরে এক একদিকে তিনটি করে কাঠের দন্ড পোঁতা থাকে। এ পোঁতা কাঠের দন্ডকে ক্রিকেটের পরিভাষায় ‘উইকেট’ বলা হয়। এ উইকেটের মাথায় একটি নির্দিষ্ট মানের দুটি করে কাঠখন্ড থাকে, এগুলোকে বলা হয়, ‘বেইল’। ক্রিকেট খেলা আরম্ভ হওয়ার পূর্বে টস দেওয়া হয়। যে পক্ষ টসে জয়লাভ করে সে পক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় কে আগে ব্যাট করবে। প্রতিপক্ষ ফিল্ডিং-এর জন্য প্রস্তুত হয়। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে উভয় দলকে পর্যায়ক্রমে দুবার করে ব্যাট করতে হয়। প্রত্যেকবারের খেলাকে একটি ইনিংস বলা হয়। ক্রিকেট খেলা যিনি পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রন করেন তাকে আম্পায়ার বলে। দুই পাশের উইকেটের জন্য দুইজন আম্পায়ার থাকেন। তবে বর্তমানে আরও এক আম্পায়ার অন্তরালে থাকে কাজ করেন, যাকে ‘থার্ড আম্পায়ার’ বলা হয়।

    একদল ব্যাট করে আর অন্যদল মাঠের নির্দিষ্ট স্থান ঘিরে দাঁড়ায় যাতে বল আয়ত্তের বাইরে যেতে না পারে। দুজন ব্যাটধারী দুদিকে উইকেটের নিকট পরস্পর মুখোমুখি দাঁড়ায়। তাদের মধ্যে একজন দল পিটায় আর অন্যজন প্রয়োজনবোধে দৌড়িয়ে দলের জন্য রান সংগ্রহ করতে সাহায্য করে, পরে পালাক্রমে নিজেরা ব্যাট করে। তাদের একজন একদিক হতে বল নিক্ষেপ করে ব্যাটধারীর উইকেট স্পর্শ বা আঘাত করতে চেষ্টা করে। বল নিক্ষেপকারীকে ‘বোলার’ বলে। একজন বোলার একধারে ছয় বল অর্থাৎ এক ওভার এবঙ একদিকে খেলায় বিরতি দিয়ে দিয়ে মোট দশ ওভার বল করতে পারে। ব্যাটধারীর উইকেটের পেছনে যে দাঁড়িয়ে থাকে তাকে ‘উইকেট রক্ষক’ বলে। তাদের লক্ষ্য থাকে উইকেট বলের দিক, বাকি খেলোয়াড় চতুর্দিকে নির্দিষ্ট স্থানে দাড়িঁয়ে বল আটকাবার চেষ্টা করে। এ জন্য তাদেরকে ফিল্ডার বলে। একদলের দশজন খেলোয়াড় আউট হলে তাদের এক ইনিংস শেষ হয়। তখন অপর দল ব্যাট করার সুযোগ পায়।

    আউটবিধিঃ প্রত্যেক বোলার সর্বদা ব্যাটসম্যানকে আউট করা চেষ্টা করেন। আবার ব্যাটম্যান চেষ্টা করেন উইকেট রক্ষা করার। আর এভাবেই খেলা উপভোগ্য হয়ে উঠে। খিল্ডি-এ থাকা দলের খেলোয়াড়রা মাঠের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় এবং বলকে সীমানা ছাড়িয়ে যেতে বাধা দেয়। ফিল্ডাররা বল মাটি স্পর্শ করার আগেই শূন্যে বলটি ধরে ব্যাটসম্যানকে ‘ক্যাচ আউট’ করেন। ক্যাচ আউট ছাড়াও বোল্ড আউট, রান আউট, লেগ বিফোর উইকেট, স্ট্যাম্প আউট ইত্যাদি রয়েছে।

    জয়- পরাজয়ঃ একদিনের খেলায় জয় পরাজয় নির্ধারিত হয় নির্দিষ্ট ওভারে রানের সংখ্যা এবং কতজন ব্যাটসম্যান নট আউট তার হিসাব দ¦ারা । সুতরাং এ খেলায় সব সময় লক্ষ রাখতে হয় রান বাড়াবার দিকে এবং উইকেট রক্ষার দিকে। অন্যদিকে টেস্ট ম্যাচে প্রতি দল দুইবার ব্যাট করার সুযোগ পায়। এর মধ্যে যে দল বেশি রান করতে পারে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিপক্ষকে আউট করতে পারে সে দলই জয়ী হয় নতুবা খেলা ড্র হয়।

    সাম্প্রতিক ক্রিকেট খেলাঃ সাম্প্রতিককালে এ খেলা বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং এর অনেক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। বর্তমানে দীর্ঘ সময়ের অসুবিধা দূর করা জন্য টি-টোয়েন্টি খেলা চালু করা হয়েছে। এতে প্রত্যেক দল ২০ ওভার করে বল খেলার সুযোগ পায়; এতে যে দল বেশি রান করতে পারে সে দল বিজয়ী বলে ঘোষিত হয়। টি-টোয়েন্টি ম্যাচ কম সময়ে শেষ হয় বলে এর জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। তা ছাড়া ৫০ ওভারের ওয়ান ডে ম্যাচ ও তার জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে।

    বিশ্বকাপ ক্রিকেটঃ ক্রিকেটের ইতিহাস দীর্ঘদিনের হলেও ১৯৭৫ সাল থেকে শুরু হয়েছে ক্রিকেটের মহামিলন বিশ্বকাপ ক্রিকেট। প্রত্যেক চার বছর পর পর বিশ্বকাপ ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম, দ্বিতীয় এবঙ তৃতীয় বিশ্বকাপ ইংল্যান্ড অনুষ্ঠিত হয। প্রথম দুইবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং তৃতীয়বার ভারত চ্যাম্পিয়ন হয়। ১৯৮৭ সালে ভারত ও পরিস্তানে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বিশ্বকাপ ক্রিকেট চ্যাম্পিয়ন হয় অস্ট্রেলিয়া। ১৯৯২ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড অনুষ্ঠিত পঞ্চম বিশ্বকাপ ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান। ১৯৯৬ সালে পাকিস্তান, ভারত ও শ্রীলংকায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত যষ্ঠ বিশ্বকাপ ক্রিকেট চ্যাম্পিয়ন হয় শ্রীলংকা। ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ড অনুষ্ঠিত সপ্তম বিশ্বকাপ, ২০০৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত অষ্টম বিশ^কাপ এবঙ ২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত নবম বিশ্বকাপ জয় করে অস্ট্রেলিয়া। ২০১১ সালে বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলংকা যৌথভাবে আয়োজন করে দশম বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আসর। এ আসরে ভারত চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৫ সালে যৌথভাবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড এগারোতম বিশ্বকাপ আয়োজন করে। দুই স্বাগতিক দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় ফাইনাল ম্যাচ এবং এতে অস্ট্রেলিয়া জয়লাভ করে চ্যম্পিয়ন হয়।

    উপকারিতাঃ অন্যান্য খেলাধুলার ন্যায় ক্রিকেট খেলাও আনন্দদায়ক ও স্বাস্থপ্রদ। শরীরচর্চার দিক ব্যতীত এর অন্য একটা দিকও আছে চরিত্র গছন, দৈর্য, সহিষষ্ণুতা, সতর্কতা, সহযোগিতা প্রভৃতি গুণ এ খেলা থেকেই লাভ করা যায়।

    অপকারিতাঃ  ক্রিকেট অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ খেলা। বোলার কর্তৃক সজোরে ছোড়া বল ব্যাটসম্যানকে মারাত্মকভঅবে আহত করতে পারে। এমনকি তা মৃত্যুর কারনও হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ফিল্ডারদেরও ফিল্ডিং করতে গিয়ে করুণ করিণতি বহন করত দেখা যায়। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ফিল হিউজ বলের আঘাতে মৃতুবরণ করেন। এরকম উদাহরণ আরও অনেকে রয়েছে। তা ছাড়া অনেকের মতে, ক্রিকেট খেলায় অনেক বেশি সময় ও অর্থ ব্যয় হয়।

    উপসংহারঃ বর্তমানে দেশ বিদেশে ক্রিকেট একটি জনপ্রিয় খেলা। এ খেলায় মাধ্যমে দেশে দেশে গড়ে উঠে সখ্যতা। মানুষের মাঝে সম্প্রীতির বন্ধন হয় দৃঢ়। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে এ খেলা সকল মানুষকে এক কাতারে সামিল করে। যা বিশ্ব শান্তির দ্বার উন্মোচিত করে সহজেই।

    See less
  1. লশুনপলাণ্ডগুঞ্জনকুম্ভীশ্রাপথন্নসুতকান্নাভোজ্যান্যমধুমাংসমূত্ররেতোহমেধ্যাভক্ষভক্ষণেগায়ত্র‍্যাষ্টসহ

    লশুনপলাণ্ডগুঞ্জনকুম্ভীশ্রাপথন্নসুতকান্নাভোজ্যান্যমধুমাংসমূত্ররেতোহমেধ্যাভক্ষভক্ষণেগায়ত্র‍্যাষ্টসহ

    See less
  1.  বিশেষ্য                             বিশেষণ    অ অরণ্য                                                                আরণ্যক অবসাদ                                                              অবসন্ন অবসান                                                              অবসিত অনুগমন                     Read more

     বিশেষ্য                             বিশেষণ   

    অরণ্য                                                                আরণ্যক

    অবসাদ                                                              অবসন্ন

    অবসান                                                              অবসিত
    অনুগমন                                                            অনুগত
    অভ্যাস                                                               অভ্যস্ত
    অঙ্গ                                                                    আঙ্গিক
    অনুপ্রবেশ                                                            অনুপ্রবিষ্ট

     

    আশ্বাস                                                                আশ্বস্ত
    আদর                                                                  আদৃত
    আকর্ষণ                                                               আকৃষ্ট
    আসক্তি                                                                আসক্ত
    আনুগত্য                                                              অনুগত
    আভিজাত্য                                                           অভিজাত

     

    উৎকর্ষ                                                               উৎকৃষ্ট
    উৎসর্গ                                                                উৎসৃষ্ট/উৎসর্গীকৃত
    উপনিবেশ                                                           ঔপনিবেশ
    উপহাস                                                               উপহসিত

    See less
  1. বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দকে পদ বলে। পদ মোট ৫ প্রকার– ১. বিশেষ্য ২. বিশেষণ ৩. সর্বনাম ৪. ক্রিয়া ৫. অব্যয়

    বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দকে পদ বলে।

    পদ মোট ৫ প্রকার

    ১. বিশেষ্য

    ২. বিশেষণ

    ৩. সর্বনাম

    ৪. ক্রিয়া

    ৫. অব্যয়

    See less
  1. জন্মদিন / Jonmodin/ The Birthday   রবিপ্রদক্ষিণপথে জন্মদিবসের আবর্তন হয়ে আসে সমাপন। আমার রুদ্রের মালা রুদ্রাক্ষের অন্তিম গ্রন্থিতে এসে ঠেকে রৌদ্রদগ্ধ দিনগুলি গেঁথে একে একে। হে তপস্বী, প্রসারিত করো তব পাণি লহো মালাখানি। উগ্র তব তপের আসন, সেথায় তোমারে সম্ভাষণ করেছিনু দিনে দিনে কঠিন স্তবনে, কখনো মRead more

    জন্মদিন / Jonmodin/ The Birthday

     

    রবিপ্রদক্ষিণপথে জন্মদিবসের আবর্তন

    হয়ে আসে সমাপন।

    আমার রুদ্রের

    মালা রুদ্রাক্ষের

    অন্তিম গ্রন্থিতে এসে ঠেকে

    রৌদ্রদগ্ধ দিনগুলি গেঁথে একে একে।

    হে তপস্বী, প্রসারিত করো তব পাণি

    লহো মালাখানি।

    উগ্র তব তপের আসন,

    সেথায় তোমারে সম্ভাষণ

    করেছিনু দিনে দিনে কঠিন স্তবনে,

    কখনো মধ্যাহ্নরৌদ্রে কখনো-বা ঝঞ্ঝার পবনে।

    এবার তপস্যা হতে নেমে এসো তুমি–

    দেখা দাও যেথা তব বনভূমি

    ছায়াঘন, যেথা তব আকাশ অরুণ

    আষাঢ়ের আভাসে করুণ।

    অপরাহ্ন যেথা তার ক্লান্ত অবকাশে

    মেলে শূন্য আকাশে আকাশে

    বিচিত্র বর্ণের মায়া; যেথা সন্ধ্যাতারা

    বাক্যহারা

    বাণীবহ্নি জ্বালি

    নিভৃতে সাজায় ব’সে অনন্তের আরতির ডালি।

    শ্যামল দাক্ষিণ্যে ভরা

    সহজ আতিথ্যে বসুন্ধরা

    যেথা স্নিগ্ধ শান্তিময়,

    যেথা তার অফুরান মাধুর্যসঞ্চয়

    প্রাণে প্রাণে

    বিচিত্র বিলাস আনে রূপে রসে গানে।

    বিশ্বের প্রাঙ্গণে আজি ছুটি হোক মোর,

    ছিন্ন করে দাও কর্মডোর।

    আমি আজ ফিরব কুড়ায়ে

    উচ্ছৃঙ্খল সমীরণ যে কুসুম এনেছে উড়ায়ে

    সহজে ধুলায়,

    পাখির কুলায়

    দিনে দিনে ভরি উঠে যে-সহজ গানে,

    আলোকের ছোঁওয়া লেগে সবুজের তম্বুরার তানে।

    এই বিশ্বসত্তার পরশ,

    স্থলে জলে তলে তলে এই গূঢ় প্রাণের হরষ

    তুলি লব অন্তরে অন্তরে–

    সর্বদেহে, রক্তস্রোতে, চোখের দৃষ্টিতে, কণ্ঠস্বরে,

    জাগরণে, ধেয়ানে, তন্দ্রায়,

    বিরামসমুদ্রতটে জীবনের পরমসন্ধ্যায়।

    এ জন্মের গোধূলির ধূসর প্রহরে

    বিশ্বরসসরোবরে

    শেষবার ভরিব হৃদয় মন দেহ

    দূর করি সব কর্ম, সব তর্ক, সকল সন্দেহ,

    সব খ্যাতি, সকল দুরাশা,

    বলে যাব, “আমি যাই, রেখে যাই, মোর ভালোবাসা।’

    See less
  1. This answer was edited.

    আফ্রিকা/ Africa পত্রপুট (১৯৩৬) কাব্য-এ ষােলাে সংখ্যক কবিতা – ‘উদ্ভান্ত সেই আদিম যুগে’ (নাম আফ্রিকা) কবি অমিয় চক্রবর্তী লিখে পাঠাবার জন্য অনুরােধ করায় ২৮ শে মাঘ ১৩৪৩, ইং ১২ ফ্রেব্রুয়ারি ১৯৩৬ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কবিতাটি রচনা করেন। কবিতাটি প্রথমে প্রবাসী (চৈত্র ১৩৪৩) ও পরে কবিতাটির পত্রপুটের দ্বিতীRead more

    আফ্রিকা/ Africa

    পত্রপুট (১৯৩৬) কাব্য-এ ষােলাে সংখ্যক কবিতা – ‘উদ্ভান্ত সেই আদিম যুগে’ (নাম আফ্রিকা) কবি অমিয় চক্রবর্তী লিখে পাঠাবার জন্য অনুরােধ করায় ২৮ শে মাঘ ১৩৪৩, ইং ১২ ফ্রেব্রুয়ারি ১৯৩৬ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কবিতাটি রচনা করেন।

    কবিতাটি প্রথমে প্রবাসী (চৈত্র ১৩৪৩) ও পরে কবিতাটির পত্রপুটের দ্বিতীয় সংস্করণে (১৩৪৫) প্রকাশিত হয়। ৩রা অক্টোবর, ১৯৩৫ ফ্যাসিস্ত মুসােলিনির নির্দেশে ইতালীয় আক্রমণকারী সৈন্যদল অ্যাবিসিনিয়ায় (ইথিওপিয়া) আক্রমণ করে। রবীন্দ্রনাথ এখানে তার প্রতিবাদ করে আফ্রিকা, ‘ছায়াচ্ছন্ন আফ্রিকার সকল বন লাঞ্ছনার রক্তাক্ত ইতিহাসকে স্মরণ করে এক অনবদ্য কাব্য রূপ দিয়েছেন। বেদনায় ভারাক্রান্ত চিত্তে একান্ত মমতায় এক লাঞ্ছিত কৃয়া মানবীর রূপ এই কবিতায় তিনি নির্মাণ করেছেন। আবেদন রেখেছেন “দাঁড়াও ঐ মান-হারা মানবীর দ্বারে।”

    আফ্রিকা কবিতার সম্পূর্ণ সারাংশ ও ব্যাখ্যার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

     

    উদ্ভ্রান্ত সেই আদিম যুগে
    স্রষ্টা যখন নিজের প্রতি অসন্তোষে
    নতুন সৃষ্টিকে বারবার করছিলেন বিধ্বস্ত,
    তাঁর সেই অধৈর্যে ঘন-ঘন মাথা-নাড়ার দিনে
    রুদ্র সমুদ্রের বাহু
    প্রাচী ধরিত্রীর বুকের থেকে
    ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে, আফ্রিকা,
    বাঁধলে তোমাকে বনস্পতির নিবিড় পাহারায়
    কৃপণ আলোর অন্তঃপুরে।
    সেখানে নিভৃত অবকাশে তুমি
    সংগ্রহ করছিলে দুর্গমের রহস্য,
    চিনছিলে জলস্থল-আকাশের দুর্বোধ সংকেত,
    প্রকৃতির দৃষ্টি-অতীত জাদু
    মন্ত্র জাগাচ্ছিল তোমার চেতনাতীত মনে।
    বিদ্রূপ করছিলে ভীষণকে
    বিরূপের ছদ্মবেশে,
    শঙ্কাকে চাচ্ছিলে হার মানাতে
    আপনাকে উগ্র করে বিভীষিকার প্রচণ্ড মহিমায়
    তাণ্ডবের দুন্দুভিনিনাদে।
    হায় ছায়াবৃতা,
    কালো ঘোমটার নীচে
    অপরিচিত ছিল তোমার মানবরূপ
    উপেক্ষার আবিল দৃষ্টিতে।
    এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে
    নখ যাদের তীক্ষ্ণ তোমার নেকড়ের চেয়ে,
    এল মানুষ-ধরার দল
    গর্বে যারা অন্ধ তোমার সূর্যহারা অরণ্যের চেয়ে।
    সভ্যের বর্বর লোভ
    নগ্ন করল আপন নির্লজ্জ অমানুষতা।
    তোমার ভাষাহীন ক্রন্দনে বাষ্পাকুল অরণ্যপথে
    পঙ্কিল হল ধূলি তোমার রক্তে অশ্রুতে মিশে;
    দস্যু-পায়ের কাঁটা-মারা জুতোর তলায়
    বীভৎস কাদার পিণ্ড
    চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে।
    সমুদ্রপারে সেই মুহূর্তেই তাদের পাড়ায় পাড়ায়
    মন্দিরে বাজছিল পুজোর ঘণ্টা
    সকালে সন্ধ্যায়, দয়াময় দেবতার নামে;
    শিশুরা খেলছিল মায়ের কোলে;
    কবির সংগীতে বেজে উঠছিল

    সুন্দরের আরাধনা।
    আজ যখন পশ্চিমদিগন্তে
    প্রদোষকাল ঝঞ্ঝাবাতাসে রুদ্ধশ্বাস,
    যখন গুপ্তগহ্বর থেকে পশুরা বেরিয়ে এল,
    অশুভ ধ্বনিতে ঘোষণা করল দিনের অন্তিমকাল,
    এসো যুগান্তরের কবি,
    আসন্ন সন্ধ্যার শেষ রশ্মিপাতে
    দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর দ্বারে,
    বলো “ক্ষমা করো’–
    হিংস্র প্রলাপের মধ্যে
    সেই হোক তোমার সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী।

     

    See less
  1. This answer was edited.

    হে নূতন, দেখা দিক আর-বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ হে নূতন, দেখা দিক আর-বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ ।। তোমার প্রকাশ হোক কুহেলিকা করি উদঘাটন সূর্যের মতন । রিক্ততার বক্ষ ভেদি আপনারে করো উন্মোচন । ব্যক্ত হোক জীবনের জয়, ব্যক্ত হোক তোমামাঝে অসীমের চিরবিস্ময় । উদয়দিগন্তে শঙ্খ বাজে, মোর চিত্তমাঝে চিরনূতনেরে দিলRead more

    হে নূতন, দেখা দিক আর-বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ

    হে নূতন,
    দেখা দিক আর-বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ ।।
    তোমার প্রকাশ হোক কুহেলিকা করি উদঘাটন
    সূর্যের মতন ।
    রিক্ততার বক্ষ ভেদি আপনারে করো উন্মোচন ।
    ব্যক্ত হোক জীবনের জয়,
    ব্যক্ত হোক তোমামাঝে অসীমের চিরবিস্ময় ।
    উদয়দিগন্তে শঙ্খ বাজে, মোর চিত্তমাঝে
    চিরনূতনেরে দিল ডাক
    পঁচিশে বৈশাখ ।।

    আরও পড়ুনঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতাসমূহ

    Hey Nuton
    Hey Nuton,

    Dekha dik aarbaar jonmero prothom shubhokhon.
    Tomar prokash hok kuhelika kori udghaton
    suryer moton.
    Riktotar bokkhyo bhedi aponarey koro unmochan.
    Byakto hok jiboner joy,
    Byakto hok tomamajhe asheemero chirobishshoy.
    Udaydigantey shonkho baaje, mor chittomajhe
    Chironuutonere dil dak
    Ponchishey boishakh.

    Hail the new
    Hail the new,
    Let the sacred hour of birth approach once more
    May you appear in glory, unveiled from mist
    as does the sun.
    Reveal yourself from the emptiness of the soul
    Let life be victorious once more,
    Let the wonder of the infinite be revealed through your creation
    Conch shells sound in celebration in the dawn skies within my soul
    The call goes out for eternal renewal
    From this twenty fifth day of Boishakh

     

    See less
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের ছোটো নদী চলে বাঁকে বাঁকে বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে। পার হয়ে যায় গোরু, পার হয় গাড়ি, দুই ধার উঁচু তার, ঢালু তার পাড়ি। চিক্ চিক্ করে বালি, কোথা নাই কাদা, একধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা। কিচিমিচি করে সেথা শালিকের ঝাঁক, রাতে ওঠে থেকে থেকে শেয়ালের হাঁক। আর-পারে আমবন তালবন চলে, গাঁRead more

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    আমাদের ছোটো নদী চলে বাঁকে বাঁকে
    বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে।
    পার হয়ে যায় গোরু, পার হয় গাড়ি,
    দুই ধার উঁচু তার, ঢালু তার পাড়ি।

    চিক্ চিক্ করে বালি, কোথা নাই কাদা,
    একধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা।
    কিচিমিচি করে সেথা শালিকের ঝাঁক,
    রাতে ওঠে থেকে থেকে শেয়ালের হাঁক।

    আর-পারে আমবন তালবন চলে,
    গাঁয়ের বামুন পাড়া তারি ছায়াতলে।
    তীরে তীরে ছেলে মেয়ে নাইবার কালে
    গামছায় জল ভরি গায়ে তারা ঢালে।

    সকালে বিকালে কভু নাওয়া হলে পরে
    আঁচল ছাঁকিয়া তারা ছোটো মাছ ধরে।
    বালি দিয়ে মাজে থালা, ঘটিগুলি মাজে,
    বধূরা কাপড় কেচে যায় গৃহকাজে।

    আষাঢ়ে বাদল নামে, নদী ভর ভর
    মাতিয়া ছুটিয়া চলে ধারা খরতর।
    মহাবেগে কলকল কোলাহল ওঠে,
    ঘোলা জলে পাকগুলি ঘুরে ঘুরে ছোটে।
    দুই কূলে বনে বনে পড়ে যায় সাড়া,
    বরষার উৎসব জেগে ওঠে পাড়া।।

    See less
  1. This answer was edited.

    মেঘবালিকার জন্য রুপকথা কবি: জয় গোস্বামী আমি যখন ছোট ছিলাম খেলতে যেতাম মেঘের দলে এক দিন এক মেঘবালিকা প্রশ্ন করল কৌতূহলে “এই ছেলেটা .        নাম কী রে তোর ?” আমি বললাম, .        “ফুসমন্তর!” মেঘবালিকা রেগেই আগুন, “মিথ্যে কথা । নাম কি অমন হয় কখনো ?” .        আমি বললাম, “নিশচয়ই হয়। আগে আমার গল্প শোনো।”Read more

    মেঘবালিকার জন্য রুপকথা

    কবি: জয় গোস্বামী

    আমি যখন ছোট ছিলাম
    খেলতে যেতাম মেঘের দলে
    এক দিন এক মেঘবালিকা
    প্রশ্ন করল কৌতূহলে

    “এই ছেলেটা
    .        নাম কী রে তোর ?”
    আমি বললাম,
    .        “ফুসমন্তর!”

    মেঘবালিকা রেগেই আগুন,
    “মিথ্যে কথা । নাম কি অমন
    হয় কখনো ?”

    .        আমি বললাম,
    “নিশচয়ই হয়। আগে আমার
    গল্প শোনো।”
    সে বলল, “শুনব না, যা—
    সেই তো রানি, সেই তো রাজা
    সেই তো একই ঢালতলোয়ার
    সেই তো একই রাজার কুমার
    পক্ষিরাজে—
    শুনব না আর।
    .        ওসব বাজে।”

    আমি বললাম “তোমার জন্যে
    নতুন ক’রে লিখব তবে।”

    সে বলল, “সত্যি লিখবি ?
    বেশ তা হলে
    মস্ত করে লিখতে হবে।
    মনে থাকবে ?
    লিখেই কিন্তু আমায় দিবি।”
    আমি বললাম, “তোমার জন্যে
    লিখতে পারি এক পৃথিবী।”

    লিখতে লিখতে লেখা যখন
    সবে মাত্র দু-চার পাতা
    হঠাৎ তখন ভূত চাপল
    আমার মাথায়—

    খুঁজতে খুঁজতে চলে গেলাম
    ছোটবেলার মেঘের মাঠে
    গিয়েই দেখি চেনা মুখ তো
    একটিও নেই এ-তল্লাটে

    একজনকো মনে হল
    ওরই মধ্যে অন্যরকম
    এগিয়ে গিয়ে বলি তাকেই!
    “তুমিই কি সেই ? মেঘবালিকা
    তুমি কি সেই ?”

    সে বলেছে, “মনে তো নেই
    আমার ও সব মনে তো নেই।”
    আমি বললাম, “তুমি আমায়
    লেখার কথা বলেছিলে—”
    সে বলল, “সঙ্গে আছে ?
    ভাসিয়ে দাও গাঁয়ের ঝিলে!
    আর হ্যাঁ, শোনো—এখন আমি
    মেঘ নেই আর, সবাই এখন
    বৃষ্টি বলে ডাকে আমায়।”
    বলেই হঠাৎ এক পশলায়—
    চুল থেকে নখ—আমায় পুরো
    ভিজিয়ে দিয়ে—
    .                অন্য অন্য
    বৃষ্টি বাদল সঙ্গে নিয়ে
    মিলিয়ে গেল খরস্রোতায়
    মিলিয়ে গেল দূরে কোথায়

    দূরে দূরে . . .

    “বৃষ্টি বলে ডাকে আমায়
    বৃষ্টি বলে ডাকে আমায়—”
    আপন মনে বলতে বলতে
    আমি কেবল বসে রইলাম
    ভিজে একশা কাপড়জামায়
    গাছের তলায়
    .                বসে রইলাম
    বৃষ্টি নাকি মেঘের জন্য

    এমন সময়
    অন্য একটি বৃষ্টি আমায়
    চিনতে পেরে বলল, “তাতে
    মন খারাপের কী হয়েছে!
    যাও ফিরে যাও—লেখো আবার।
    এখন পুরো বর্ষা চলছে
    তাই আমরা সবাই এখন
    নানান দেশে ভীষণ ব্যস্ত।
    তুমিও যাও, মন দাও গে
    তোমার কাজে—
    বর্ষা থেকে ফিরে আমরা
    নিজেই যাব তোমার কাছে।”

    এক পৃথিবী লিখব আমি
    এক পৃথিবী লিখব বলে
    ঘর ছেড়ে সেই বেরিয়ে গেলাম
    ঘর ছেড়ে সেই ঘর বাঁধলাম
    গহন বনে
    সঙ্গী শুধু কাগজ কলম

    একাই থাকব। একাই দুটো
    ফুটিয়ে খাব—
    .                দু-এক মুঠো
    ধুলো বালি—যখন যারা
    আসবে মনে
    .                তাদের লিখব
    লিখেই যাব!

    এক পৃথিবীর একশোরকম
    স্বপ্ন দেখার
    সাধ্য থাকবে যে-রূপকথার—
    সে-রূপকথা আমার একার।

    ঘাড় গুঁজে দিন
    .                লিখতে লিখতে
    ঘাড় গুঁজে রাত
    .                লিখতে লিখতে
    মুছেছে দিন—মুছেছে রাত
    যখন আমার লেখবার হাত
    অসাড় হল,
    .                মনে পড়ল
    সাল কি তারিখ, বছর কি মাস
    সেসব হিসেব
    .                আর ধরিনি
    লেখার দিকে তাকিয়ে দেখি
    এক পৃথিবী লিখব বলে
    একটা খাতাও
    .                শেষ করিনি।

    সঙ্গে সঙ্গে ঝমঝমিয়ে
    বৃষ্টি এল খাতার উপর
    আজীবনের লেখার উপর
    বৃষ্টি এল এই অরণ্যে
    বাইরে তখন গাছের নীচে
    নাচছে ময়ূর আনন্দিত
    এ-গাছ ও-গাছ উড়ছে পাখি
    বলছে পাখি, “এই অরণ্যে
    কবির জন্য আমরা থাকি।”
    বলছে ওরা, “ কবির জন্যে
    আমরা কোথাও আমরা কোথাও
    আমরা কোথাও হার মানিনি—”

    কবি তখন কুটির থেকে
    তাকিয়ে আছে অনেক দূরে
    বনের পরে মাঠের পরে
    নদীর পরে
    সেই যেখানে সারাজীবন
    বৃষ্টি পড়ে, বৃষ্টি পড়ে
    সেই যেখানে কেউ যায় যায়নি
    কেউ যায় না কোনোদিনই—
    আজ সে কবি দেখতে পাচ্ছে
    সেই দেশে সেই ঝরনাতলায়
    এদিক-ওদিক ছুটে বেড়ায়
    সোনায় মোড়া মেঘহরিণী—
    কিশোরবেলার সেই হরিণী!

    See less