Discy Latest Questions

  1. This answer was edited.

     রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হে মোর দুর্ভাগা দেশ, যাদের করেছ অপমান, অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান! মানুষের অধিকারে বঞ্চিত করেছ যারে, সম্মুখে দাঁড়ায়ে রেখে তবু কোলে দাও নাই স্থান, অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান। মানুষের পরশেরে প্রতিদিন ঠেকাইয়া দূরে ঘৃণা করিয়াছ তুমি মানুষের প্রাণের ঠাকুরে। বিধাতার রুদ্ররোষেRead more

     রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    হে মোর দুর্ভাগা দেশ, যাদের করেছ অপমান,

    অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান!

    মানুষের অধিকারে

    বঞ্চিত করেছ যারে,

    সম্মুখে দাঁড়ায়ে রেখে তবু কোলে দাও নাই স্থান,

    অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।

    মানুষের পরশেরে প্রতিদিন ঠেকাইয়া দূরে

    ঘৃণা করিয়াছ তুমি মানুষের প্রাণের ঠাকুরে।

    বিধাতার রুদ্ররোষে

    দুর্ভিক্ষের দ্বারে বসে

    ভাগ করে খেতে হবে সকলের সাথে অন্নপান।

    অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।

    তোমার আসন হতে যেথায় তাদের দিলে ঠেলে

    সেথায় শক্তিরে তব নির্বাসন দিলে অবহেলে।

    চরণে দলিত হয়ে

    ধুলায় সে যায় বয়ে

    সে নিম্নে নেমে এসো, নহিলে নাহি রে পরিত্রাণ।

    অপমানে হতে হবে আজি তোরে সবার সমান।

    যারে তুমি নীচে ফেল সে তোমারে বাঁধিবে যে নীচে

    পশ্চাতে রেখেছ যারে সে তোমারে পশ্চাতে টানিছে।

    অজ্ঞানের অন্ধকারে

    আড়ালে ঢাকিছ যারে

    তোমার মঙ্গল ঢাকি গড়িছে সে ঘোর ব্যবধান।

    অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।

    শতেক শতাব্দী ধরে নামে শিরে অসম্মানভার,

    মানুষের নারায়ণে তবুও কর না নমস্কার।

    তবু নত করি আঁখি

    দেখিবারে পাও না কি

    নেমেছে ধুলার তলে হীন পতিতের ভগবান,

    অপমানে হতে হবে সেথা তোরে সবার সমান।

    দেখিতে পাও না তুমি মৃত্যুদূত দাঁড়ায়েছে দ্বারে,

    অভিশাপ আঁকি দিল তোমার জাতির অহংকারে।

    সবারে না যদি ডাক’,

    এখনো সরিয়া থাক’,

    আপনারে বেঁধে রাখ’ চৌদিকে জড়ায়ে অভিমান–

    মৃত্যুমাঝে হবে তবে চিতাভস্মে সবার সমান।

     

    English Translation:
    Oh my wretched country!

    You will be humiliated in the same way you humiliated others for so long.
    Those whom you deprived of basic humanity
    Whom you zealously excluded, despite being in the same boat
    You will be brought down to your knees one day.
    You left them out in the cold, day in and day out
    You despised the very soul of the people
    You will be paid back in the same coin
    When you will have to eat and drink along with them
    One day at the doorway of deprivation.
    .
    You ostracized and cornered them
    With your own your own strength you labeled them with your disdain
    You trampled them under your feet
    You will have to come down to their status one day for salvation; there is no other way out
    You too will have to experience their humiliation, one day.
    With your wickedness you rebuffed them as lowly
    You repudiated them as backward and brought yourself down to the level of backwardness.
    You thrust them into the darkness of ignorance thus building up a vast chasm
    Which will one day be bridged only through your immense ignominy
    Heaps of degradation have dominated for centuries

    You have not allowed them to move forward even an inch
    You too will be disgraced just like the ones whom you disgraced one day.
    You are still blind to the monarch of mortality at your door who has cursed you for your racial arrogance.
    If you still revile them, keep them distant, and surround yourself with pride and prejudice
    Death will one day bring you down to the same obscurity–to the ashes, all alike.

    See less
    • 0
  1. This answer was edited.

     রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হে মোর দুর্ভাগা দেশ, যাদের করেছ অপমান, অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান! মানুষের অধিকারে বঞ্চিত করেছ যারে, সম্মুখে দাঁড়ায়ে রেখে তবু কোলে দাও নাই স্থান, অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান। মানুষের পরশেরে প্রতিদিন ঠেকাইয়া দূরে ঘৃণা করিয়াছ তুমি মানুষের প্রাণের ঠাকুরে। বিধাতার রুদ্ররোষেRead more

     রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    হে মোর দুর্ভাগা দেশ, যাদের করেছ অপমান,
    অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান!
    মানুষের অধিকারে
    বঞ্চিত করেছ যারে,
    সম্মুখে দাঁড়ায়ে রেখে তবু কোলে দাও নাই স্থান,
    অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।
    মানুষের পরশেরে প্রতিদিন ঠেকাইয়া দূরে
    ঘৃণা করিয়াছ তুমি মানুষের প্রাণের ঠাকুরে।
    বিধাতার রুদ্ররোষে
    দুর্ভিক্ষের দ্বারে বসে
    ভাগ করে খেতে হবে সকলের সাথে অন্নপান।
    অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।

    তোমার আসন হতে যেথায় তাদের দিলে ঠেলে
    সেথায় শক্তিরে তব নির্বাসন দিলে অবহেলে।
    চরণে দলিত হয়ে
    ধুলায় সে যায় বয়ে
    সে নিম্নে নেমে এসো, নহিলে নাহি রে পরিত্রাণ।
    অপমানে হতে হবে আজি তোরে সবার সমান।
    যারে তুমি নীচে ফেল সে তোমারে বাঁধিবে যে নীচে
    পশ্চাতে রেখেছ যারে সে তোমারে পশ্চাতে টানিছে।
    অজ্ঞানের অন্ধকারে
    আড়ালে ঢাকিছ যারে
    তোমার মঙ্গল ঢাকি গড়িছে সে ঘোর ব্যবধান।
    অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।
    শতেক শতাব্দী ধরে নামে শিরে অসম্মানভার,
    মানুষের নারায়ণে তবুও কর না নমস্কার।
    তবু নত করি আঁখি
    দেখিবারে পাও না কি
    নেমেছে ধুলার তলে হীন পতিতের ভগবান,
    অপমানে হতে হবে সেথা তোরে সবার সমান।
    দেখিতে পাও না তুমি মৃত্যুদূত দাঁড়ায়েছে দ্বারে,
    অভিশাপ আঁকি দিল তোমার জাতির অহংকারে।
    সবারে না যদি ডাক’,
    এখনো সরিয়া থাক’,
    আপনারে বেঁধে রাখ’ চৌদিকে জড়ায়ে অভিমান–
    মৃত্যুমাঝে হবে তবে চিতাভস্মে সবার সমান।

    আরও পড়ুনঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতাসমূহ

     

    English Translation:

    Oh my wretched country!

    You will be humiliated in the same way you humiliated others for so long.
    Those whom you deprived of basic humanity
    Whom you zealously excluded, despite being in the same boat
    You will be brought down to your knees one day.
    You left them out in the cold, day in and day out
    You despised the very soul of the people
    You will be paid back in the same coin
    When you will have to eat and drink along with them
    One day at the doorway of deprivation.
    .
    You ostracized and cornered them
    With your own your own strength you labeled them with your disdain
    You trampled them under your feet
    You will have to come down to their status one day for salvation; there is no other way out
    You too will have to experience their humiliation, one day.
    With your wickedness you rebuffed them as lowly
    You repudiated them as backward and brought yourself down to the level of backwardness.
    You thrust them into the darkness of ignorance thus building up a vast chasm
    Which will one day be bridged only through your immense ignominy
    Heaps of degradation have dominated for centuries

    You have not allowed them to move forward even an inch
    You too will be disgraced just like the ones whom you disgraced one day.
    You are still blind to the monarch of mortality at your door who has cursed you for your racial arrogance.
    If you still revile them, keep them distant, and surround yourself with pride and prejudice
    Death will one day bring you down to the same obscurity–to the ashes, all alike.

    See less
    • 0
  1. ভালবাসি, ভালবাসি —সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ধরো কাল তোমার পরীক্ষা,রাত জেগে পড়ার টেবিলে বসে আছ, ঘুম আসছে না তোমার হঠাত করে ভয়ার্ত কন্ঠে উঠে আমি বললাম- ভালবাস? তুমি কি রাগ করবে? নাকি উঠে এসে জড়িয়ে ধরে বলবে, ভালবাসি, ভালবাসি.. ধরো ক্লান্ত তুমি, অফিস থেকে সবে ফিরেছ, ক্ষুধার্ত তৃষ্ণার্ত পীড়িত.. খাওয়ার টেবিলে কিRead more

    ভালবাসি, ভালবাসি
    —সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    ধরো কাল তোমার পরীক্ষা,রাত জেগে পড়ার
    টেবিলে বসে আছ,
    ঘুম আসছে না তোমার
    হঠাত করে ভয়ার্ত কন্ঠে উঠে আমি বললাম-
    ভালবাস? তুমি কি রাগ করবে?
    নাকি উঠে এসে জড়িয়ে ধরে বলবে,
    ভালবাসি, ভালবাসি..
    ধরো ক্লান্ত তুমি, অফিস থেকে সবে ফিরেছ,
    ক্ষুধার্ত তৃষ্ণার্ত পীড়িত..
    খাওয়ার টেবিলে কিছুই তৈরি নেই,
    রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে ঘর্মাক্ত আমি তোমার
    হাত ধরে যদি বলি- ভালবাস?
    তুমি কি বিরক্ত হবে?
    নাকি আমার হাতে আরেকটু
    চাপ দিয়ে বলবে
    ভালবাসি, ভালবাসি..
    ধরো দুজনে শুয়ে আছি পাশাপাশি,
    সবেমাত্র ঘুমিয়েছ তুমি
    দুঃস্বপ্ন দেখে আমি জেগে উঠলাম শশব্যস্ত
    হয়ে তোমাকে ডাক দিয়ে যদি বলি-ভালবাস?
    তুমি কি পাশ ফিরে শুয়ে থাকবে?
    নাকি হেসে উঠে বলবে
    ভালবাসি, ভালবাসি..
    ধরো রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি দুজনে,মাথার উপর
    তপ্ত রোদ,বাহন
    পাওয়া যাচ্ছেনা এমন সময় হঠাত দাঁড়িয়ে পথ
    রোধ করে যদি বলি-ভালবাস?
    তুমি কি হাত সরিয়ে দেবে?
    নাকি রাস্তার সবার দিকে তাকিয়ে কাঁধে হাত
    দিয়ে বলবে
    ভালবাসি, ভালবাসি..
    ধরো শেভ করছ তুমি,গাল কেটে রক্ত পড়ছে,এমন সময়
    তোমার এক ফোঁটা রক্ত হাতে নিয়ে যদি বলি-
    ভালবাস?
    তুমি কি বকা দেবে?
    নাকি জড়িয়ে তোমার গালের রক্ত আমার
    গালে লাগিয়ে দিয়ে খুশিয়াল
    গলায় বলবে
    ভালবাসি, ভালবাসি..
    ধরো খুব অসুস্থ তুমি,জ্বরে কপাল পুড়ে যায়,
    মুখে নেই রুচি, নেই কথা বলার
    অনুভুতি,
    এমন সময় মাথায় পানি দিতে দিতে তোমার
    মুখের
    দিকে তাকিয়ে যদি বলি-ভালবাস?
    তুমি কি চুপ করে থাকবে?নাকি তোমার গরম
    শ্বাস আমার
    শ্বাসে বইয়ে দিয়ে বলবে ভালবাসি, ভালবাসি..
    ধরো যুদ্ধের দামামা বাজছে ঘরে ঘরে,প্রচন্ড
    যুদ্ধে তুমিও অঃশীদার,
    শত্রুবাহিনী ঘিরে ফেলেছে ঘর
    এমন সময় পাশে বসে পাগলিনী আমি তোমায়
    জিজ্ঞেস করলাম-
    ভালবাস? ক্রুদ্ধস্বরে তুমি কি বলবে যাও?
    নাকি চিন্তিত আমায় আশ্বাস
    দেবে,বলবে
    ভালবাসি, ভালবাসি..
    ধরো দূরে কোথাও যাচ্ছ
    তুমি,দেরি হয়ে যাচ্ছে,বেরুতে যাবে,হঠাত
    বাধা দিয়ে বললাম-ভালবাস? কটাক্ষ করবে?
    নাকি সুটকেস ফেলে চুলে হাত
    বুলাতে বুলাতে বলবে
    ভালবাসি, ভালবাসি
    ধরো প্রচন্ড ঝড়,উড়ে গেছে ঘরবাড়ি,আশ্রয় নেই
    বিধাতার দান এই
    পৃথিবীতে,বাস করছি দুজনে চিন্তিত তুমি
    এমন সময় তোমার
    বুকে মাথা রেখে যদি বলি ভালবাস?
    তুমি কি সরিয়ে দেবে?
    নাকি আমার মাথায় হাত রেখে বলবে
    ভালবাসি, ভালবাসি..
    ধরো সব ছেড়ে চলে গেছ কত দুরে,
    আড়াই হাত মাটির নিচে শুয়ে আছ
    হতভম্ব আমি যদি চিতকার করে বলি-ভালবাস?
    চুপ করে থাকবে?নাকি সেখান থেকেই
    আমাকে বলবে ভালবাসি, ভালবাসি..
    যেখানেই যাও,যেভাবেই থাক,না থাকলেও দূর
    থেকে ধ্বনি তুলো
    ভালবাসি, ভালবাসি, ভালবাসি..
    দূর থেকে শুনব তোমার কন্ঠস্বর,বুঝব
    তুমি আছ,তুমি আছ
    ভালবাসি, ভালবাসি….
    See less
    • 0
  1. জয়ী নই, পরাজিত নই – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় পাহাড়-চুড়ায় দাঁড়িয়ে মনে হয়েছিল আমি এই পৃথিবীকে পদতলে রেখেছি এই আক্ষরিক সত্যের কছে যুক্তি মূর্ছা যায়। শিহরিত নির্জনতার মধ্যে বুক টন্‌‌টন করে ওঠে হাল্‌কা মেঘের উপচ্ছায়ায় একটি ম্লান দিন সবুজকে ধূসর হতে ডাকে আ-দিগন্ত প্রান্তের ও টুকরো ছড়ানো টিলার উপর দিয়ে ভেসে যায়Read more

    জয়ী নই, পরাজিত নই – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    পাহাড়-চুড়ায় দাঁড়িয়ে মনে হয়েছিল
    আমি এই পৃথিবীকে পদতলে রেখেছি
    এই আক্ষরিক সত্যের কছে যুক্তি মূর্ছা যায়।
    শিহরিত নির্জনতার মধ্যে বুক টন্‌‌টন করে ওঠে
    হাল্‌কা মেঘের উপচ্ছায়ায় একটি ম্লান দিন
    সবুজকে ধূসর হতে ডাকে
    আ-দিগন্ত প্রান্তের ও টুকরো ছড়ানো টিলার উপর দিয়ে
    ভেসে যায় অনৈতিহাসিক হাওয়া
    অরণ্য আনে না কোনো কস্তুরীর ঘ্রাণ
    কিছু নিচে ছুটন্ত মহিলার গোলাপি রুমাল উড়ে গিয়ে পড়ে
    ফণমনসার ঝোপে
    নিঃশব্দ পায়ে চলে যায় খরগোশ আর রোদ্দুর।

    এই যে মুহূর্তে, এই যে দাঁড়িয়ে থাকা–এ‌র কোনো অর্থ নেই
    ঝর্নার জলে ভেসে যায় সম্রাটের শিরস্ত্রাণ
    কমলার কোয়া থেকে খসে পড়া বীজ ঢুকে পড়ে পাতাল গর্ভে
    পোল্‌কা ডট্‌ দুটি প্রজাপতি তাদের আপন আপন কাজে ব্যস্ত
    বাব্‌‌লা গাছের শুক্‌নো কাঁটাও দাবী করেছে প্রকৃতির প্রতিনিধিত্ব।
    সব দৃশ্যই এমন নিরপেক্ষ
    আমি জয়ী নই, আমি পরাজিত নই, আমি এমনই একজন মানুষ
    পাহাড় চূড়ায় পৃথিবীকে পদতলে রেখে, আমার নাভিমূল
    থেকে উঠে আসে বিষণ্ন, ক্লান্ত দীর্ঘশ্বাস
    এই নির্জনতাই আমার ক্ষমাপ্রার্থী অশ্রুমোচনের মুহূর্ত।।

    See less
    • 0
  1. আমাদের মা – হুমায়ুন আজাদ আমাদের মাকে আমরা বলতাম ‘তুমি’,বাবাকে ‘আপনি’। আমাদের মা গরিব প্রজার মত দাঁড়াতো বাবার সামনে, কথা বলতে গিয়ে কখনোই কথা শেষ ক’রে উঠতে পারতো না। আমাদের মাকে বাবার সামনে এমন তুচ্ছ দেখাতো যে মাকে আপনি বলার কথা আমাদের কোনোদিন মনেই হয়নি। আমাদের মা আমাদের থেকে বড় ছিলো,কিন্তু ছিলো আমাদেRead more

    আমাদের মা – হুমায়ুন আজাদ

    আমাদের মাকে আমরা বলতাম ‘তুমি’,বাবাকে ‘আপনি’।

    আমাদের মা গরিব প্রজার মত দাঁড়াতো বাবার সামনে,
    কথা বলতে গিয়ে কখনোই কথা শেষ ক’রে উঠতে পারতো না।
    আমাদের মাকে বাবার সামনে এমন তুচ্ছ দেখাতো যে মাকে আপনি বলার কথা আমাদের
    কোনোদিন মনেই হয়নি।
    আমাদের মা আমাদের থেকে বড় ছিলো,কিন্তু ছিলো আমাদের সমান।
    আমাদের মা ছিলো আমাদের শ্রেনীর,আমাদের বর্ণের,আমাদের গোত্রের।
    বাবা ছিলেন অনেকটা ‘আল্লার’ মতো, তার জ্যোতি দেখলে আমরা সেজদা দিতাম বাবা ছিলেন অনেকটা সিংহের মতো, তার গর্জনে আমরা কাঁপতে থাকতাম
    বাবা ছিলেন অনেকটা আড়িয়াল বিলের প্রচন্ড চিলের মতো, তার ছায়া দেখলেই
    মুরগির বাচ্চার মতো আমরা মায়ের ডানার নিচে লুকিয়ে পড়তাম।
    ছায়া সরে গেলে আবার বের হয়ে আকাশ দেখতাম।
    আমাদের মা ছিলো অশ্রুবিন্দু-দিনরাত টলমল করতো
    আমাদের মা ছিলো বনফুলের পাপড়ি;-সারাদিন ঝরে ঝরে পড়তো,
    আমাদের মা ছিলো ধানখেত-সোনা হয়ে দিকে দিকে বিছিয়ে থাকতো।
    আমাদের মা ছিলো দুধভাত তিন বেলা আমাদের পাতে ঘন হয়ে থাকতো।
    আমাদের মা ছিলো ছোট্টপুকুর-আমরা তাতে দিনরাত সাঁতার কাটতাম।
    আমাদের মার কোনো ব্যক্তিগত জীবন ছিলো কিনা আমরা জানি না।
    আমাদের মাকে আমি কখনো বাবার বাহুতে দেখি নি।
    আমি জানি না মাকে জড়িয়ে ধরে বাবা কখনো চুমু খেয়েছেন কি না
    চুমু খেলে মার ঠোঁট ওরকম শুকনো থাকতো না।
    আমরা ছোট ছিলাম, কিন্তু বছর বছর আমরা বড় হতে থাকি,
    আমাদের মা বড় ছিলো, কিন্তু বছর বছর মা ছোটো হতে থাকে।
    ষষ্ঠ শ্রেনীতে পড়ার সময়ও আমি ভয় পেয়ে মাকে জড়িয়ে ধরতাম।
    সপ্তম শ্রেনীতে ওঠার পর ভয় পেয়ে মা একদিন আমাকে জড়িয়ে ধরে।
    আমাদের মা দিন দিন ছোটো হতে থাকে
    আমাদের মা দিন দিন ভয় পেতে থাকে।
    আমাদের মা আর বনফুলের পাপড়ি নয়, সারাদিন ঝরে ঝরে পড়েনা
    আমাদের মা আর ধানখেত নয়, সোনা হয়ে বিছিয়ে থাকে না
    আমাদের মা আর দুধভাত নয়, আমরা আর দুধভাত পছন্দ করিনা
    আমাদের মা আর ছোট্ট পুকুর নয়, পুকুরে সাঁতার কাটতে আমরা কবে ভুলে গেছি।
    কিন্তু আমাদের মা আজো অশ্রুবিন্দু, গ্রাম
    থেকে নগর পর্যন্ত আমাদের মা আজো টলমল করে।

    See less
    • 0
  1.   আমার কুঁড়েঘরে হুমায়ুন আজাদ আমার কুঁড়েঘরে নেমেছে শীতকাল তুষার জ’মে আছে ঘরের মেঝে জুড়ে বরফ প’ড়ে আছে গভীর ঘন হয়ে পাশের নদী ভ’রে বরফ ঠেলে আর তুষার ভেঙে আর দু-ঠোঁটে রোদ নিয়ে আমার কুঁড়েঘরে এ-ঘন শীতে কেউ আসুক আমার গ্রহ জুড়ে বিশাল মরুভূমি সবুজ পাতা নেই সোনালি লতা নেই শিশির কণা নেই ঘাসের শিখা নেই জলেরRead more

     

    আমার কুঁড়েঘরে

    হুমায়ুন আজাদ

    আমার কুঁড়েঘরে নেমেছে শীতকাল
    তুষার জ’মে আছে ঘরের মেঝে জুড়ে বরফ প’ড়ে আছে
    গভীর ঘন হয়ে পাশের নদী ভ’রে
    বরফ ঠেলে আর তুষার ভেঙে আর দু-ঠোঁটে রোদ নিয়ে
    আমার কুঁড়েঘরে এ-ঘন শীতে কেউ আসুক

    আমার গ্রহ জুড়ে বিশাল মরুভূমি
    সবুজ পাতা নেই সোনালি লতা নেই শিশির কণা নেই
    ঘাসের শিখা নেই জলের রেখা নেই
    আমার মরুভূর গোপন কোনো কোণে একটু নীল হয়ে
    বাতাসে কেঁপে কেঁপে একটি শীষ আজ উঠুক

    আমার গাছে গাছে আজ একটি কুঁড়ি নেই
    একটি পাতা নেই শুকনো ডালে ডালে বায়ুর ঘষা লেগে
    আগুন জ্ব’লে ওঠে তীব্র লেলিহান
    বাকল ছিঁড়েফেড়ে দুপুর ভেঙেচুরে আকাশ লাল ক’রে
    আমার গাছে আজ একটা ছোট ফুল ফুটুক

    আমার এ-আকাশ ছড়িয়ে আছে ওই
    পাতটিনের মতো ধাতুর চোখ জ্বলে প্রখর জ্বালাময়
    সে-তাপে গ’লে পড়ে আমার দশদিক
    জল ও বায়ুহীন আমার আকাশের অদেখা দূর কোণে
    বৃষ্টিসকাতর একটু মেঘ আজ জমুক

    আমার কুঁড়েঘরে নেমেছে শীতকাল
    তুষার জ’মে আছে ঘরের মেঝে জুড়ে বরফ প’ড়ে আছে
    গভীর ঘন হয়ে পাশের নদী ভ’রে
    বরফ ঠেলে আর তুষার ভেঙে আজ দু-ঠোঁটে রোদ নিয়ে
    আমার কুঁড়েঘরে এ-ঘন শীতে কেউ আসুক।

    See less
    • 0
  1. আমাদের মা – হুমায়ুন আজাদ হুমায়ুন আজাদ আমাদের মাকে আমরা বলতাম তুমি, বাবাকে আপনি। আমাদের মা গরিব প্রজার মত দাঁড়াতো বাবার সামনে, কথা বলতে গিয়ে কখনোই কথা শেষ ক’রে উঠতে পারতোনা। আমাদের মাকে বাবার সামনে এমন তুচ্ছ দেখাতো যে মাকে আপনি বলার কথা আমাদের কোনোদিন মনেই হয়নি। আমাদের মা আমাদের থেকে বড় ছিলো, কিন্তুRead more

    আমাদের মা – হুমায়ুন আজাদ

    হুমায়ুন আজাদ

    আমাদের মাকে আমরা বলতাম তুমি, বাবাকে আপনি।
    আমাদের মা গরিব প্রজার মত দাঁড়াতো বাবার সামনে,
    কথা বলতে গিয়ে কখনোই কথা শেষ ক’রে উঠতে পারতোনা।
    আমাদের মাকে বাবার সামনে এমন তুচ্ছ দেখাতো যে
    মাকে আপনি বলার কথা আমাদের কোনোদিন মনেই হয়নি।

    আমাদের মা আমাদের থেকে বড় ছিলো, কিন্তু ছিলো আমাদের সমান।
    আমাদের মা ছিলো আমাদের শ্রেনীর, আমাদের বর্ণের, আমাদের গোত্রের।
    বাবা ছিলেন অনেকটা আল্লার মতো, তার জ্যোতি দেখলে আমরা সেজদা দিতাম
    বাবা ছিলেন অনেকটা সিংহের মতো, তার গর্জনে আমরা কাঁপতে থাকতাম
    বাবা ছিলেন অনেকটা আড়িয়াল বিলের প্রচন্ড চিলের মতো, তার ছায়া দেখলেই
    মুরগির বাচ্চার মতো আমরা মায়ের ডানার নিচে লুকিয়ে পড়তাম।
    ছায়া সরে গেলে আবার বের হয়ে আকাশ দেখতাম।

    আমাদের মা ছিলো অশ্রুবিন্দু-দিনরাত টলমল করতো
    আমাদের মা ছিলো বনফুলের পাপড়ি;-সারাদিন ঝরে ঝরে পড়তো,
    আমাদের মা ছিলো ধানখেত-সোনা হয়ে দিকে দিকে বিছিয়ে থাকতো।
    আমাদের মা ছিলো দুধভাত-তিন বেলা আমাদের পাতে ঘন হয়ে থাকতো।
    আমাদের মা ছিলো ছোট্ট পুকুর-আমরা তাতে দিনরাত সাঁতার কাটতাম।
    আমাদের মার কোনো ব্যক্তিগত জীবন ছিলো কিনা আমরা জানি না।
    আমাদের মাকে আমি কখনো বাবার বাহুতে দেখি নি।
    আমি জানি না মাকে জড়িয়ে ধরে বাবা কখনো চুমু খেয়েছেন কি না
    চুমু খেলে মার ঠোঁট ওরকম শুকনো থাকতো না।
    আমরা ছোট ছিলাম, কিন্তু বছর বছর আমরা বড় হতে থাকি,
    আমাদের মা বড় ছিলো, কিন্তু বছর বছর মা ছোটো হতে থাকে।

    ষষ্ঠ শ্রেনীতে পড়ার সময়ও আমি ভয় পেয়ে মাকে জড়িয়ে ধরতাম।
    সপ্তম শ্রেনীতে ওঠার পর ভয় পেয়ে মা একদিন আমাকে জড়িয়ে ধরে।
    আমাদের মা দিন দিন ছোটো হতে থাকে
    আমাদের মা দিন দিন ভয় পেতে থাকে।
    আমাদের মা আর বনফুলের পাপড়ি নয়, সারাদিন ঝরে ঝরে পড়েনা
    আমাদের মা আর ধানখেত নয়, সোনা হয়ে বিছিয়ে থাকে না
    আমাদের মা আর দুধভাত নয়, আমরা আর দুধভাত পছন্দ করিনা
    আমাদের মা আর ছোট্ট পুকুর নয়, পুকুরে সাঁতার কাটতে আমরা কবে ভুলে গেছি।
    কিন্তু আমাদের মা আজো অশ্রুবিন্দু, গ্রাম থেকে নগর পর্যন্ত
    আমাদের মা আজো টলমল করে।

    See less
    • 0
  1. চন্দ্রকরোজ্জ্বল (Chondro korojjol)- Moonlit অপ্রতিসাম্য (Oproti Shammo)- Asymmetry খুঞ্চিপোষ( Khunchi Poash) - Tray Cover মতিভ্রংশ-(Moti vrongsho)- Mistake স্বভাবশোভা( Shovab Shobha)- Natural Beauty বিলাসপ্রিয়(Bilash Priyo)- Luxurious স্বরমাধুর্য(Shoro madhurjo) -Melody নৃতত্ত্ব- ( Nri Totto) AnthroRead more

    চন্দ্রকরোজ্জ্বল (Chondro korojjol)- Moonlit

    অপ্রতিসাম্য (Oproti Shammo)- Asymmetry

    খুঞ্চিপোষ( Khunchi Poash) – Tray Cover

    মতিভ্রংশ-(Moti vrongsho)- Mistake

    স্বভাবশোভা( Shovab Shobha)- Natural Beauty

    বিলাসপ্রিয়(Bilash Priyo)- Luxurious

    স্বরমাধুর্য(Shoro madhurjo) -Melody

    নৃতত্ত্ব- ( Nri Totto) Anthropology

    মঞ্জু ভাষী- (Monju Bhashi) Sweet Spoken

    যুগ্মরাশি- (Jugmo Rashi) Even Number

    মনঃকষ্ট- (Mono Koshto) Sorrow

    বিশ্বব্রহ্মাণ্ড- (Bissho Brohmmando) Universe

    জীবনসঙ্গিনী- (Jibon Shongini) Wife

    গ্রহাণুপুঞ্জ (Grohanu punjo)-Asteroids

    তেজস্বিনী (Tejosshini)- High Spirited Woman

    তাণ্ডবলীলা-(Tandob leela) Massacre

    মধুরালাপ -(Modhuralap) Friendly conversation

    খুনসুটি -(Khun shuti) Childish quarrel

    মন্ত্রমুগ্ধ- (Montro mugdho) Charmed

    বিশুদ্ধতা (Bishuddhota)- Holiness

    রণ নৈপুণ্য -(Rono noipunno) Strategy

    See less
    • -1
  1. This answer was edited.

    সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই- কবি চন্ডিদাস ভূমিকা: আদিমকাল থেকে প্রাচীন সভ্যতা পর্যন্ত প্রাণী ও বৃক্ষরাজি কে বুকে ধরে পৃথিবী ক্রমশ সুন্দর হয়ে উঠেছে। পৃথিবীতে যেসব প্রাণী এসেছে তাদের মধ্যে নিজ গুণে, মানুষ হয়ে উঠেছে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ জীব। নিজের প্রয়োজনে মানুষ গড়ে তুলেছে সমাজ তাই মানুষ সমাজবদ্Read more

    সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই- কবি চন্ডিদাস

    ভূমিকা: আদিমকাল থেকে প্রাচীন সভ্যতা পর্যন্ত প্রাণী ও বৃক্ষরাজি কে বুকে ধরে পৃথিবী ক্রমশ সুন্দর হয়ে উঠেছে। পৃথিবীতে যেসব প্রাণী এসেছে তাদের মধ্যে নিজ গুণে, মানুষ হয়ে উঠেছে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ জীব। নিজের প্রয়োজনে মানুষ গড়ে তুলেছে সমাজ তাই মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। সমাজে একে অপরের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে মানুষ রচনা করেছে তার সুবিন্যস্ত সমাজ ব্যবস্থা। এই সমাজে মানুষ একা নয় মানুষের কাছে রয়েছে তার সঙ্গেই মানুষেরা। মানুষের বাঁচার জন্য সমাজে এসেছে নানা আনুষঙ্গিক উপকরণ ।ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে অনেক ক্ষেত্রেই মানুষের থেকে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে আনুষঙ্গিক উপকরণ সমূহ । কিন্তু মনে রাখতে হবে মানুষের জন্য যে সবের সৃষ্টি সেগুলো যদি মানুষের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় তবে তাদের সৃষ্টির সার্থকতা শুধু নষ্ট হবে না, সেই সঙ্গে মানুষের মানবিক গুরুত্ব ও রাস পাবে তাই কবি মন প্রকৃত তথ্য বুঝতে পেরে বলে উঠেছে
    ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।’

    মানবতার আদর্শ: প্রত্যেক মানুষেরই দুটো পরিচয় আছে। এর মধ্যে একটি হলো সে ব্যক্তি মানুষ অপরটি সে সামাজিক মানুষ। সমাজবদ্ধ মানুষ একে অপরের উপর নির্ভরশীল, তাই সমাজে রয়েছে একতা, ভালোবাসা । কিন্তু মানুষ যখনই কূপমন্ডুক ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে তখন এই ভালবাসাকে হারিয়ে হিংসা-বিদ্বেষ জায়গা নেয়। কিন্তু মানুষকে বাঁচতে হবে প্রীতির বন্ধন প্রেমের ডোরে। যুগে যুগে তাই কবি শিল্পী প্রকৃতির গুরুত্বের কথা উপলব্ধি করে মানবপ্রেমের জয়গান করেছেন, এক জাতি এক প্রাণ গড়তে আহ্বান জানিয়েছেন। কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের লেখনীতে তাই ধ্বনিত হয়েছে
    ‘মানুষে মানুষে নাইকো বিশেষ নিখিল জগৎ ব্রহ্মময়’
    এই ব্রহ্মময় জগত কেই মানুষের সামনে তুলে ধরতে যুগে যুগে আবির্ভূত হয়েছেন ধর্ম গুরুগণ।

    বিভেদ চেতনা: কিন্তু মানুষের দুর্ভাগ্য এই মহতী চিন্তাকে অনেকেই উপলব্ধি করতে পারেন না । মানবকল্যাণ সর্বোত্তম মানবধর্ম সত্ত্বেও আত্মকেন্দ্রিক মানুষ স্বার্থপর হয়ে মানবসেবার মূলে কুঠারাঘাত করেন। তাদের লোভ, তাদের ঘৃণ্য নিঃস্বার্থপরতা সমাজের পরিবেশকে বিষাক্ত করে তুলে । এইসব মানুষ ধর্মের মুখোশের আড়াল থেকে শুধু সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তাই নয় বরং ধর্মের ও ধ্বংস সাধন করে। ধর্মের নামে তারা শুরু করে ভন্ডামি, ধর্মের দোহাই দিয়ে এই সব মানুষের দল সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে শাসন-শোষণ চালায় ।তাই এদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী কণ্ঠস্বর বেজে উঠেছে।

    ধর্ম ও মানবতা: ‘মানুষেরে ঘৃণা করি ও কারা কোরান বেদ বাইবেল চুম্বিছে মরি মরি।’ ধর্ম মানবকল্যাণের নিমিত্তই। তাই ধর্মকে প্রাধান্য দিয়ে মানুষকে ছোট করা কখনও উচিত নয়। কারণ মানব ধর্মই শ্রেষ্ঠ ধর্ম। পৃথিবীতে একমাত্র মানুষই সত্য। কোন দেব, দেবী ধর্ম তার উপরে নেই। মানুষ এদের জন্ম দিয়েছে আবার মানুষের হাতেই এদের অস্তিত্ব নির্ভরশীল। তাই কবি কালিদাস রায় বলেছেন।
    “মানুষই দেবতা গড়ে দাড়ি কৃপার পরে করে দেব মহিমা নির্ভর”
    মানবের মূঢ় অপব্যয় ইতিহাসে কখনও শাশ্বত অধ্যায়ে রচনা করতে পারে না। তাই ভারতীয় পুরাণের শাস্ত্রে মানুষের জয়গান গাওয়া হয়েছে। কোরআনে, বাইবেলে মানব সন্তানকে মহিমান্বিত করা হয়েছে । এই প্রেম, মৈত্রী, করুনার জয় গান করেছেন বীর সন্ন্যাসী বিবেকানন্দ-
    “বহুরূপে সম্মুখে তোমার ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর, জীবে প্রেম করে যেইজন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর”

    স্বার্থ প্রণোদিত ভ্রান্ত আদর্শ: এইসব মূল মত মানুষের জ্ঞাত থাকলেও রাষ্ট্রনায়কেরা অনেক সময় বিপথে চালিত হন। তাই তারা অস্ত্রের ঝংকারে মানবধর্ম কে রক্ত লাঞ্চিত করতে উদ্যত হয়। কিন্তু প্রকৃত রাজ ধর্ম ও মানব ধর্ম বিচ্ছিন্ন নয়। সম্রাট অশোক তার জাজ্জ্বল্যমান প্রমাণ, যার ধর্ম ছিল, শাক্য মুনির শান্তির পথে চালিত রাজধর্ম। মানুষের জন্যই রাষ্ট্র, মানব কল্যাণ রাষ্ট্রের লক্ষ্য । একতা বর্তমান কালে ও স্বীকৃত। তাই মহাত্মা গান্ধী, লুথার কিং, মাদার তেরেসা প্রমুখ মানব মানবী কোন মানবধর্ম সেবায় আত্মনিয়োগ করেছেন।

    উপসংহার: মানুষে মানুষের অবাধ মিলন ই মানুষের চিরন্তন কাম্য। যাবতীয় ভেদবুদ্ধির ঊর্ধ্বে উঠে মনুষ্যত্বের উষ্ণতা সঞ্চারিত করে দিলেই আমাদের পৃথিবীতে সুখের স্বর্গ নেমে আসবে। ও এই কাজে ছাত্রদলকে ই এগোতে হবে। কারণ এ পথ কুসুম বিস্তীর্ণ পথ নয়। স্বার্থলোভী ভন্ডদের দুস্তর বাধা এ পথের পাথেয়। তাই যুগের সারথি ছাত্রদলকে ধরতে হবে সমাজের হাল। তারাই হবে সু মহান কর্মের কান্ডারী। ছাত্রদলের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর ‘এক জাতি এক প্রাণ’ আদর্শ সফল হয়ে উঠবে এই আমাদের কাম্য। বাংলাদেশেরই এক গ্রাম্য কবি রেনেসাঁস মানবতাবাদ বা কোন তথ্য দর্শনে পান্ডিত্য অর্জন না করেও এই চিরন্তন বাণী উচ্চারণ করে গেছেন। ” সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই” সহজিয়া সাধক কবি চন্ডীদাসের এই মরমী উপলব্ধি সর্বযুগে অনুসরণীয়।

    See less
    • 0