Bengali Forum Latest Questions

  1. স্বচ্ছ ভারত অভিযান ভূমিকা: স্বচ্ছ ভারত অভিযান ভারত সরকারের প্রচলিত একটি জাতীয় প্রকল্প ।এই প্রকল্পের অধীনে দেশের ৪০৪১টি শহরের সড়ক এবং পরিকাঠামোকে পরিষ্করণের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের ২রা অক্টোবর নূতন দিল্লির রাজঘাট সমাধি পরিসরে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়, যেখাRead more

    স্বচ্ছ ভারত অভিযান

    ভূমিকা: স্বচ্ছ ভারত অভিযান ভারত সরকারের প্রচলিত একটি জাতীয় প্রকল্প ।এই প্রকল্পের অধীনে দেশের ৪০৪১টি শহরের সড়ক এবং পরিকাঠামোকে পরিষ্করণের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের ২রা অক্টোবর নূতন দিল্লির রাজঘাট সমাধি পরিসরে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়, যেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দ্বারা এই প্রকল্পের শুভাৰম্ভ হয় । সেই দিন এই প্রকল্পকে রূপায়িত করতে দেশের প্রায় ত্রিশ লক্ষ সরকারি কর্মচারী এবং ছাত্ররা অংশগ্রহণ করেন।

    আবশ্যকতা : ইহা নির্দ্বিধায় শিকার করা যায় যে স্বচ্ছতার দিক দিয়ে ভারত অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলি থেকে অনেক পিছিয়ে । ভারত বর্ষ একটি পুরনো সভ্য সংস্কৃতির দেশ হওয়া সত্ত্বেও ভারতবর্ষের নাগরিক স্বচ্ছতার দিক দিয়ে অনেকটাই উদ্বেগহীন। আর এই উদ্যোগ হীনতা ই নিত্যদিন বয়ে আনছে নানান রোগ ও ব্যাদি। তাই বৃহত্তর ভারতীয় নাগরিকদের সুস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে আরম্ভ হয় এই গণআন্দোলন। চারিদিক স্বচ্ছ রাখা এবং স্বচ্ছ করা এই গণআন্দোলনের একমাত্র লক্ষ।

    স্বচ্ছতার উপরে উল্লেখযোগ্য সাবেক প্রয়াস : ভারতবর্ষে সর্বপ্রথম ১৯৫৪ সালে স্বচ্ছতার প্রোগ্রাম চালানো হয়। পরে ১৯৮৬ সেন্ট্রাল সেন্ট্রাল রুবেল স্যানিটেশন প্রোগ্রাম নামে একটি প্রোগ্রাম চালিত হয়। এবং সর্বশেষ ১৯১২ সালে কংগ্রেস সরকার নির্মল ভারত অভিযান নামে একটি প্রোগ্রাম চালায়। যদিও নির্মল ভারতের আওতায় কয়েকটি বিশেষ এলাকা এবং সীমিত বিষয়বস্তুকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, এবং এর ফলাফল খুব একটা সুদূরপ্রসারি হয়ে উঠতে পারেনি। তাই এই নির্মল ভারত অভিযান কে ২০১৪ সালে আবার স্বচ্ছ ভারত অভিযান নামে আরম্ভ করা হয়।

    স্বচ্ছ ভারত অভিযানের তাৎপর্য: মহাত্মা গান্ধী যে ভারতবর্ষের স্বপ্ন দেখেছিলেন তা শুধুমাত্র ক্ষমতার হস্তান্তর ছিলনা। তিনি চেয়েছিলেন বিদেশি শক্তির উৎখাতের সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত ভেদাভেদ এবং নোংরামির উৎখাত। তাই মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন উপলক্ষে ২০১৪ সালে এই গণ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে পরিচ্ছন্ন অস্বাস্থ্যকর ভারতের যে স্বপ্ন গান্ধী দেখেছিলেন তা পূরণ করার লক্ষ্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

    স্বচ্ছ ভারত অভিযানের বিভিন্ন প্রকল্প ও কার্যকলাপ: স্বচ্ছ ভারত অভিযানে ব্যক্তিগত শৌচাগার, গোষ্ঠী শৌচাগার নির্মাণ ও কঠিন বর্জ্য পরিচালন ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়। গ্রামাঞ্চলে আবার মানুষের ব্যবহারিক আচরণ বদলানোর লক্ষ্যে মুখোমুখী কথাবার্তার মাধ্যমে মানুষকে বোঝানোর কাজ চলছে। এছাড়া, গ্রাম পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত প্রকল্প রূপায়ণ ও পরিষেবা প্রদান ব্যবস্থাকে জোরদার করা হয়ে । শৌচাগার নির্মাণের জন্য উৎসাহ প্রদান বাবদ অর্থ সাহায্যের পরিমাণ ২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা করা হয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে কঠিন ও তরল বর্জ্য পরিচালনের জন্যও অর্থ প্রদান করা হচ্ছে। সারা দেশে নাগরিকরা যেসব পরিচ্ছন্নতার কাজ করেছেন, তা তুলে ধরতে, স্বচ্ছ ভারত অভিযানের অঙ্গ হিসেবে MycleanIndiaনামে একটি পোর্টালও চালু করা হয়েছে।

    প্রভাব ও প্রসার: এই উদ্যোগে অংশগ্রহণের অনুরোধ স্বচ্ছতা অভিযান এক জাতীয় আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। স্বচ্ছ ভারত আন্দোলনের মাধ্যমে দেশবাসীর মধ্যে এক ধরনের দায়িত্ববোধের সঞ্চার হয়েছে।সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ পরিচ্ছন্নতার গণআন্দোলনে এগিয়ে এসে যুক্ত হয়েছেন। এই মহান উদ্যোগে সরকারি কর্মকর্তা থেকে জওয়ান, বলিউডের অভিনেতা থেকে ক্রীড়াবিদ, শিল্পপতি থেকে ধর্মীয় নেতা সকলেই যুক্ত হয়েছেন। সারা দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ দিনের পর দিন বিভিন্ন সরকারি বিভাগ, অসরকারি সংগঠন এবং স্থানীয় গোষ্ঠীগুলি কেন্দ্রের উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন। সারা দেশ জুড়ে ঘন ঘন পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে প্রচার কর্মসূচিতে নাটক ও সঙ্গীতের মাধ্যমে ব্যাপক ভিত্তিতে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে প্রচার সংগঠিত হচ্ছে।
    বলিউডের খ্যাতনামা চিত্রতারকা থেকে শুরু করে টেলিভিশনের অভিনেতারা এগিয়ে এসে এই পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। অমিতাভ বচ্চন, আমির খান, কৈলাশ খের, প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মতো বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরা এগিয়ে এসেছেন । শচীন তেন্ডুলকর, সানিয়া মির্জা, সাইনা নেহওয়াল এবং মেরীকমের মতো বহু বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদদের স্বচ্ছ ভারত অভিযানে অবদান বিশেষভাবে প্রশংসনীয়।

    See less
  1. দূরদর্শন বা জনজীবনে দূরদর্শনের প্রভাব ভূমিকা : আজকের ভারতবর্ষে সর্বাধিক মনােরঞ্জক ও জনপ্রিয় কোন বৈজ্ঞানিক যন্ত্রের নাম যদি করতে হয়, তাহলে যে যন্ত্রটির নাম বহুজনের কণ্ঠে উচ্চারিত হবে, সেটি হল টেলিভিশন। বাংলায় আমরা একে বলে থাকি দূরদর্শন। বহুদুরের জিনিসকে, আমরা কাছে এনে দেখে থাকি এই যন্ত্রের মাধ্যমেRead more

    দূরদর্শন বা জনজীবনে দূরদর্শনের প্রভাব

    ভূমিকা : আজকের ভারতবর্ষে সর্বাধিক মনােরঞ্জক ও জনপ্রিয় কোন বৈজ্ঞানিক যন্ত্রের নাম যদি করতে হয়, তাহলে যে যন্ত্রটির নাম বহুজনের কণ্ঠে উচ্চারিত হবে, সেটি হল টেলিভিশন। বাংলায় আমরা একে বলে থাকি দূরদর্শন। বহুদুরের জিনিসকে, আমরা কাছে এনে দেখে থাকি এই যন্ত্রের মাধ্যমে। এই দেখার মধ্যে একাধারে যেমন আছে উত্তেজনা, ঠিক তেমনি আছে আনন্দ। ঘরে বসে এমন উত্তেজক আনন্দ আর কোন যন্ত্রের মাধ্যমে পাই না, তাই ‘দূরদর্শন আমাদের একান্ত প্রিয়।
    আবিষ্কার ও গবেষণা : বলা যেতে পারে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ দান এই আনন্দদায়ক যন্ত্রটি। যদিও ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জে, এল, বােয়ার্ডকে এই যন্ত্রটি আবিষ্কারের গৌরব দেওয়া হয়ে থাকে তথাপি পূর্বসূরী হিসাবে জার্মানির কর্ণ ও মার্কিন বৈজ্ঞানিক রেঞ্জারে নামও আমাদের স্মরণ করতে হয়। ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে জার্মান বৈজ্ঞানিক কর্ণ। বেতারের মাধ্যমে প্রথম দুরে ছবি পাঠাতে পেরেছিলেন যদিও তার দূরত্বটা ছিল কম। পরবর্তীতে রেঞ্জার এই ছবি পাঠাতে সমর্থ হলেন আটলান্টিক সাগরের এপার থেকে ওপারে। এ দুজন বৈজ্ঞানিক যে ছবি পাঠিয়ে ছিলেন তা ছিল স্থির। ১৯২৫ সালে অনেক গবেষণার পর বেয়ার্ড সমর্থ হলেন চলমান দৃশ্যের ছবি পাঠাতে। বলাবাহুল্য এই চলমান ছবি থেকেই আমরা পেয়ে গেলাম টেলিভিশন বা দূরদর্শন।
    ভারতে দূরদর্শন : ইউরােপ ও আমেরিকায় টেলিভিশন চালু হওয়ার অনেক পরে আমাদের দেশে এ যন্ত্রটি চালু হয়। এর কারণ আমাদের মতাে গরীব দেশের জন্য এটা ছিল বড়ই ব্যয় বহুল। বিজ্ঞানের এই শ্রেষ্ঠ ফসল যদি মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়া না যায়, যদি নির্দিষ্ট সংখ্যক লােকের কাছে পৌছায় তবে বিজ্ঞানের এই প্রকৃত সুফলটি পাওয়া যাবে না। তাই অনেক চেষ্টা সাবুদ করে প্রথমে চালু করা হল দিল্লী শহরে। তারপর সত্তরের দশকের মাঝামাঝি পশ্চিমবঙ্গে দূরদর্শন চালু হয়। দুরদর্শনের কলকাতা কেন্দ্রে টেলিভিশন প্রচার আরম্ভ হয় ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে। ১৯৮২ তে মাইক্রোওয়েভ সংযােগের মাধ্যমে দিল্লি থেকে সরাসরি কলকাতা এবং দেশের অপরাপর কেন্দ্রে প্রচার সম্ভব হয়।

    দূরদর্শনের উপযােগিতা : টেলিভিশন বা দূরদর্শন মানুষের জীবনে আনন্দ দানের এক বিরাট ও ব্যাপক ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে।টেলিভিশনের কল্যাণে পৃথিবী ঘটে যাওয়া বড় বড় ঘটনা সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চক্ষু গােচর হচ্ছে।এত সহজে এবং এত অল্প সময়ে এত বিস্তৃতভাবে লক্ষ লক্ষ জ্ঞান শিক্ষা আনন্দ-বিতরণের ব্যবস্থায় দূরদর্শন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। দূরদর্শন শিক্ষক, চাকুরীজীবী, রাজনৈতিক বা বৈজ্ঞানিক, শিক্ষিত অশিক্ষিত সকলের জন্যই প্রয়োজনীয়। আমেরিকার বক্তৃতা, ইংল্যান্ডের গান আর অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট খেলার বর্ণনা আমরা নিজ নিজ ঘরে বসেই দৈনন্দিন টেলিভিশনের মাধ্যমে দেখে আনন্দ উপভোগ করতে পারি। একই সময়ে একই সঙ্গে লক্ষ লক্ষ লোককে আনন্দ দানের এত বড় মাধ্যম পৃথিবীতে কোন কালেই ছিল না।

    ইডিয়েট বক্স বোকা বাক্স: বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে টেলিভিশন একটি বোকা বাক্স। এই দৃশ্যমান যন্ত্রটি মানুষকে বোকা বানিয়ে রাখে। ভাববার বা চিন্তা করবার ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে দিনে দিনে একটু একটু করে দর্শকদের নির্বোধ বানিয়ে ফেলে। নির্বোধ না হলে দিনের পর দিন ওই সব ছবি কেউ কি দেখতে পারে? রাজনীতিকরা মনে করেন যে এটি শাসক দলের প্রচার এর একটি হাতিয়ার। সুতরাং এই হাতি এটি তাদের হাতে না থাকাই ভালো। মোট কথা অনেকের কাছেই টিভি আজাদ পছন্দের বস্তু নয়। তবে ব্যবসায় দাঁড়ায় এবং জিজ্ঞাসু কৌতুহলী দর্শকদের কাছে এটি খুবই জনপ্রিয়। ব্যবসায়ীরা দেখছেন এর মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারলে খদ্দের ধরা খুবই সহজ। তাই টিভির মধ্যে দিয়ে বিজ্ঞাপন এখন একটি চারুকলা হয়ে উঠেছে। নাচ-গান, বিজ্ঞান, চিকিৎসা, খেলাধুলা, শিক্ষা, ভ্রমণ ইত্যাদি সম্পর্কে সারা সপ্তাহ ধরে নানান বিচিত্র আলোচনা এখানে পরিবেশিত হয়।

    ছাত্রদের জন্য : ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অনেক অনুষ্ঠান দুরদর্শনে পরিবেশন করা হয়। তবে টিভি প্রােগ্রাম দেখা সম্পর্কে ছাত্র-ছাত্রীদের উপরও কিছুটা বিধি নিষেধ থাকা দরকার। সব অনুষ্ঠান তাদের দেখা ঠিক নয়। যেগুলি শিক্ষামূলক সেগুলিই তারা দেখুক। সেগুলি ছাড়া আর সব অনুষ্ঠানের দিকে ঝোক ছাত্রদের পক্ষে ক্ষতিকারক হতে পারে। অধিকাংশ হিন্দি সিনেমা, নাচ, গান, ছাত্র-ছাত্রীদের দেখা উচিত নয়। প্রদর্শনীয় বিষয় পরিকল্পনার সময় দেশের কিশাের-কিশােরীদের নৈতিক এবং মানসিক গঠনের কথাটা ভাবতেই হবে।

    উপসংহার: মানুষের কল্যাণে বিজ্ঞানের আবিষ্কার। মানুষের প্রয়োগ পদ্ধতির জন্য আবিষ্কার হয়েছে কোন আশীর্বাদ আবার কখনো হয়েছে অভিশাপ। কোটি কোটি মানুষ আজও দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করছে। তাই আজও বহুলোকের টিভি ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। টিভি এখনো উচ্চবিত্ত উচ্চ-মধ্যবিত্ত বিলাসের উপকরণ অথচ বিজ্ঞানের আবিষ্কার কে করে করে সব মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। ধীরে ধীরে এগিয়ে রূপান্তরিত করতে হবে অগ্রগতির শানিত হাতিয়ারে। কেননা আধুনিক জীবনে এই অপরিহার্য সঙ্গীটিকে আর বর্জন করার উপায় বা সাধ্য নেই। তবে সেখানে প্রয়োজন অনুষ্ঠান সূচির নৈতিক নিয়ন্ত্রণ। প্রয়োজন ব্যাপক গঠনমূলক রুচি শিল্পোন্নত অনুষ্ঠানের নিত্য নতুন পরিকল্পনা উদ্ভাবন।

    See less
  1. This answer was edited.

    বিশ্বজননী মা টেরেসা ভূমিকা: মানব চরিত্রের শ্রেষ্ঠ গুণ সেবা ও প্রেম। সেবা ও প্রেম দিয়ে যারা পৃথিবীর মানব সমাজে অমরত্বের আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন মাদার টেরেসা তাদের মধ্যে অন্যতম। শৈশবকাল থেকে বৃদ্ধাবস্থা পর্যন্ত তিনি ছিলেন মানবসেবায় নিয়ােজিত প্রাণ। রােগগ্রস্ত শােক সন্তপ্ত মানুষের কাছে তিনি দেবমূর্তিRead more

    বিশ্বজননী মা টেরেসা

    ভূমিকা: মানব চরিত্রের শ্রেষ্ঠ গুণ সেবা ও প্রেম। সেবা ও প্রেম দিয়ে যারা পৃথিবীর মানব সমাজে অমরত্বের আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন মাদার টেরেসা তাদের মধ্যে অন্যতম। শৈশবকাল থেকে বৃদ্ধাবস্থা পর্যন্ত তিনি ছিলেন মানবসেবায় নিয়ােজিত প্রাণ। রােগগ্রস্ত শােক সন্তপ্ত মানুষের কাছে তিনি দেবমূর্তি। তার সেবা যত্নে, আদর আর ভালবাসায় অগণিত মানুষ রােগ মুক্ত হয়ে স্বস্তি পেয়েছে, তার স্নেহধন্য হয়ে কেউ পরম সুখে জীবন যাপন করছে। আর্ত লােকদের অতি কাছের মানুষ ছিলেন মাদার টেরেসা।

    জন্ম ও বাল্য জীবন : টেরেসা মায়ের নিজের দেশ ভারতবর্ষ, যদিও তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৯১০ খৃষ্টাব্দের ২৭শে আগষ্ট যুগােশ্লাভিয়ার স্কপেজ শহরের এক আলবেনীয় দম্পতির ঘরে। তার পূর্বনাম অ্যাগনেস গংক্সা বােজাক্সিউ। বাল্যকালে পড়াশুনা শুরু হয় একটি সরকারি বিদ্যালয়ে। স্কুলের পড়া-শুনা যেমন তার ভালাে লাগত তেমনি ভালাে লাগত সেবামূলক কাজ। স্কুলের শিক্ষিকার নিকট হতে জানতে পারেন যে সেবামলক কাজ করবার জন্য পথিবীতে বেশ কয়টি সংগঠন আছে। অ্যাগনেস মনে মনে স্থির করেন যে এ সব সংগঠনে যােগ দান করবেন। এর সঙ্গে এক অধ্যাত্ববােধও তার মনে বাসা বাঁধে, তাই মাত্র আঠারাে বছর বয়সে তিনি একটি খ্রিষ্টীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত হন।

    কর্মজীবন : মিশনারির ব্রত নেওয়ার পর তার নাম রাখা হয় টেরেসা। তারপর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ডাবলিনের লরেটো অ্যাবেতে ভারতের বৈচিত্র্যময় জীবনের কথা শুনে তিনি ভারতবর্ষের প্রতি আকৃষ্ট হন। ১৯২৮ খৃষ্টাব্দে মাদার ভারতে আসেন। প্রথমে মার্গারেট স্কুলে শিক্ষকতা, ছাত্র-ছাত্রীদের পরিচালনা ও পরে অধ্যক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই শিক্ষকতার ফাকে বস্তির দুঃস্থ অসহায় মানুষের সেবা করতেন।

    সেবায় নিজেকে নিয়ােগ : ১৯৪৬ খৃষ্টাব্দে দার্জিলিং যাত্রার পথে টেরেসার জীবনে এক ভাবান্তর দেখা যায়। শিক্ষকতা ছেড়ে তিনি একমাত্র সেবাব্রত গ্রহণে মনস্থ করেন। নীল পাড়যুক্ত সাদা সুতী শাড়ি পরিহিতা বিশ্বজননী মাদার এর এ সময় থেকে। শুরু হল জীবনের এক উজ্জ্বলতম অধ্যায়। ১৯৪৮ খৃষ্টাব্দে তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব অর্জন করেন। পাটনা থেকে নার্সিং ট্রেনিং নিয়ে তিনি এ বৎসরেই মতিঝিল বস্তিতে একটি বিদ্যালয় খুলেন। ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ‘মিশনারিজ অব চ্যারিটিজ’ প্রতিষ্ঠা। করেন। তাঁর শুভ প্রচেষ্টায় কলকাতার কালীঘাটে গড়ে উঠে মরণাপন্নদের জন্য আতুর ভবন নির্মল হৃদয়’। সােদপুরে ‘প্রেমনিবাস’, ‘নির্মলা কেনেডি কেন্দ্রের মতাে অগণিত প্রতিষ্ঠান দুঃস্থ, আতুর অসহায় মানুষের জন্য মাদার গড়ে তুলেন। ভারতের গ্রামে গঞ্জে ছড়িয়ে আছে মাদাদের প্রতিষ্ঠান গুলি। ভারতে তার পরিচালিত বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫, দাতব্য চিকিৎসাকেন্দ্র দুই শতাধিক, কুষ্ঠ চিকিৎসাকেন্দ্র ৫৫টি। ভারতের বাইরেও তার সেবা প্রতিষ্ঠান ছড়িয়ে আছে।

    সেবা কার্যের পুরস্কার : বিশ্বের নানাদেশ একের পর এক সম্মান ও স্বীকৃতি প্রদান করেছে মাদারকে। ১৯৬২ সালে ফিলিপাইন্স সরকার মাদারের জন্য ঘােষণা করেছে ম্যাগসেসে পুরস্কার। ওই বছরই ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মশ্রী’ উপাধিতে ভূষিত করেন। ১৯৬৪ সালে পােপ জন পল তাকে একটি বহুমূল্য গাড়ি উপহার দেন। ওই দামি গাড়ি বিক্রি করে মাদার সেই টাকায় একটি কুষ্ঠাশ্রম গড়ে তােলেন। ১৯৭২ সালে পান নেহেরু পুরস্কার। ১৯৭৯ সালের ১৭ই অক্টোবর তিনি শান্তির জন্য নােবেল পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৮০ সালে প্রদত্ত হয় ভারত সরকারের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘ভারতরত্ন’।

    আদর্শ : আত্ম প্রচার বিমুখ মা টেরেসা অক্লান্ত পরিশ্রমে দেশবাসীর কাছে। সেবার এক নতুন আদর্শ গড়ে তুলেছিলেন। শুধু সেবা নয় তার সঙ্গে আন্তরিক ভালবাসায় মানুষকে কাছে টেনে এনেছেন। বাণী বা উপদেশ নয়, যে কোন অবস্থায় আর্তের পাশে দাড়িয়ে সেবা ও ভালবাসাই ছিল তার জীবনাদর্শ।

    উপসংহার : ১৯৯৭ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর এই মহীয়সী নারী পঞ্জভতে বিলীন হয়ে যান। মানুষ হারাল তাদের বিশ্ব জননীকে। মহৎকাজে তাঁর সাধ ছিল, তাই সাদ্যের অকুলান হয়নি। তার সেবাদর্শ ও মানব প্রীতি সর্বকালের মানুষকে প্রেরণা ও শক্তি যোগায়।মূর্তিমতি সেবারূপা মা টেরেসা মানুষের মনিকোঠায় পূজিত ও বন্দিতা হবেন

    See less
  1. দূরদর্শন ভূমিকা : আজকের ভারতবর্ষে সর্বাধিক মনােরঞ্জক ও জনপ্রিয় কোন বৈজ্ঞানিক যন্ত্রের নাম যদি করতে হয়, তাহলে যে যন্ত্রটির নাম বহুজনের কণ্ঠে উচ্চারিত হবে, সেটি হল টেলিভিশন। বাংলায় আমরা একে বলে থাকি দূরদর্শন। বহুদুরের জিনিসকে, আমরা কাছে এনে দেখে থাকি এই যন্ত্রের মাধ্যমে। এই দেখার মধ্যে একাধারে যেমনRead more

    দূরদর্শন

    ভূমিকা : আজকের ভারতবর্ষে সর্বাধিক মনােরঞ্জক ও জনপ্রিয় কোন বৈজ্ঞানিক যন্ত্রের নাম যদি করতে হয়, তাহলে যে যন্ত্রটির নাম বহুজনের কণ্ঠে উচ্চারিত হবে, সেটি হল টেলিভিশন। বাংলায় আমরা একে বলে থাকি দূরদর্শন। বহুদুরের জিনিসকে, আমরা কাছে এনে দেখে থাকি এই যন্ত্রের মাধ্যমে। এই দেখার মধ্যে একাধারে যেমন আছে উত্তেজনা, ঠিক তেমনি আছে আনন্দ। ঘরে বসে এমন উত্তেজক আনন্দ আর কোন যন্ত্রের মাধ্যমে পাই না, তাই ‘দূরদর্শন আমাদের একান্ত প্রিয়।
    আবিষ্কার ও গবেষণা : বলা যেতে পারে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ দান এই আনন্দদায়ক যন্ত্রটি। যদিও ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জে, এল, বােয়ার্ডকে এই যন্ত্রটি আবিষ্কারের গৌরব দেওয়া হয়ে থাকে তথাপি পূর্বসূরী হিসাবে জার্মানির কর্ণ ও মার্কিন বৈজ্ঞানিক রেঞ্জারে নামও আমাদের স্মরণ করতে হয়। ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে জার্মান বৈজ্ঞানিক কর্ণ। বেতারের মাধ্যমে প্রথম দুরে ছবি পাঠাতে পেরেছিলেন যদিও তার দূরত্বটা ছিল কম। পরবর্তীতে রেঞ্জার এই ছবি পাঠাতে সমর্থ হলেন আটলান্টিক সাগরের এপার থেকে ওপারে। এ দুজন বৈজ্ঞানিক যে ছবি পাঠিয়ে ছিলেন তা ছিল স্থির। ১৯২৫ সালে অনেক গবেষণার পর বেয়ার্ড সমর্থ হলেন চলমান দৃশ্যের ছবি পাঠাতে। বলাবাহুল্য এই চলমান ছবি থেকেই আমরা পেয়ে গেলাম টেলিভিশন বা দূরদর্শন।
    ভারতে দূরদর্শন : ইউরােপ ও আমেরিকায় টেলিভিশন চালু হওয়ার অনেক পরে আমাদের দেশে এ যন্ত্রটি চালু হয়। এর কারণ আমাদের মতাে গরীব দেশের জন্য এটা ছিল বড়ই ব্যয় বহুল। বিজ্ঞানের এই শ্রেষ্ঠ ফসল যদি মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়া না যায়, যদি নির্দিষ্ট সংখ্যক লােকের কাছে পৌছায় তবে বিজ্ঞানের এই প্রকৃত সুফলটি পাওয়া যাবে না। তাই অনেক চেষ্টা সাবুদ করে প্রথমে চালু করা হল দিল্লী শহরে। তারপর সত্তরের দশকের মাঝামাঝি পশ্চিমবঙ্গে দূরদর্শন চালু হয়। দুরদর্শনের কলকাতা কেন্দ্রে টেলিভিশন প্রচার আরম্ভ হয় ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে। ১৯৮২ তে মাইক্রোওয়েভ সংযােগের মাধ্যমে দিল্লি থেকে সরাসরি কলকাতা এবং দেশের অপরাপর কেন্দ্রে প্রচার সম্ভব হয়।

    দূরদর্শনের উপযােগিতা : টেলিভিশন বা দূরদর্শন মানুষের জীবনে আনন্দ দানের এক বিরাট ও ব্যাপক ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে।টেলিভিশনের কল্যাণে পৃথিবী ঘটে যাওয়া বড় বড় ঘটনা সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চক্ষু গােচর হচ্ছে।এত সহজে এবং এত অল্প সময়ে এত বিস্তৃতভাবে লক্ষ লক্ষ জ্ঞান শিক্ষা আনন্দ-বিতরণের ব্যবস্থায় দূরদর্শন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। দূরদর্শন শিক্ষক, চাকুরীজীবী, রাজনৈতিক বা বৈজ্ঞানিক, শিক্ষিত অশিক্ষিত সকলের জন্যই প্রয়োজনীয়। আমেরিকার বক্তৃতা, ইংল্যান্ডের গান আর অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট খেলার বর্ণনা আমরা নিজ নিজ ঘরে বসেই দৈনন্দিন টেলিভিশনের মাধ্যমে দেখে আনন্দ উপভোগ করতে পারি। একই সময়ে একই সঙ্গে লক্ষ লক্ষ লোককে আনন্দ দানের এত বড় মাধ্যম পৃথিবীতে কোন কালেই ছিল না।

    ইডিয়েট বক্স বোকা বাক্স: বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে টেলিভিশন একটি বোকা বাক্স। এই দৃশ্যমান যন্ত্রটি মানুষকে বোকা বানিয়ে রাখে। ভাববার বা চিন্তা করবার ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে দিনে দিনে একটু একটু করে দর্শকদের নির্বোধ বানিয়ে ফেলে। নির্বোধ না হলে দিনের পর দিন ওই সব ছবি কেউ কি দেখতে পারে? রাজনীতিকরা মনে করেন যে এটি শাসক দলের প্রচার এর একটি হাতিয়ার। সুতরাং এই হাতি এটি তাদের হাতে না থাকাই ভালো। মোট কথা অনেকের কাছেই টিভি আজাদ পছন্দের বস্তু নয়। তবে ব্যবসায় দাঁড়ায় এবং জিজ্ঞাসু কৌতুহলী দর্শকদের কাছে এটি খুবই জনপ্রিয়। ব্যবসায়ীরা দেখছেন এর মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারলে খদ্দের ধরা খুবই সহজ। তাই টিভির মধ্যে দিয়ে বিজ্ঞাপন এখন একটি চারুকলা হয়ে উঠেছে। নাচ-গান, বিজ্ঞান, চিকিৎসা, খেলাধুলা, শিক্ষা, ভ্রমণ ইত্যাদি সম্পর্কে সারা সপ্তাহ ধরে নানান বিচিত্র আলোচনা এখানে পরিবেশিত হয়।

    ছাত্রদের জন্য : ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অনেক অনুষ্ঠান দুরদর্শনে পরিবেশন করা হয়। তবে টিভি প্রােগ্রাম দেখা সম্পর্কে ছাত্র-ছাত্রীদের উপরও কিছুটা বিধি নিষেধ থাকা দরকার। সব অনুষ্ঠান তাদের দেখা ঠিক নয়। যেগুলি শিক্ষামূলক সেগুলিই তারা দেখুক। সেগুলি ছাড়া আর সব অনুষ্ঠানের দিকে ঝোক ছাত্রদের পক্ষে ক্ষতিকারক হতে পারে। অধিকাংশ হিন্দি সিনেমা, নাচ, গান, ছাত্র-ছাত্রীদের দেখা উচিত নয়। প্রদর্শনীয় বিষয় পরিকল্পনার সময় দেশের কিশাের-কিশােরীদের নৈতিক এবং মানসিক গঠনের কথাটা ভাবতেই হবে।

    উপসংহার: মানুষের কল্যাণে বিজ্ঞানের আবিষ্কার। মানুষের প্রয়োগ পদ্ধতির জন্য আবিষ্কার হয়েছে কোন আশীর্বাদ আবার কখনো হয়েছে অভিশাপ। কোটি কোটি মানুষ আজও দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করছে। তাই আজও বহুলোকের টিভি ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। টিভি এখনো উচ্চবিত্ত উচ্চ-মধ্যবিত্ত বিলাসের উপকরণ অথচ বিজ্ঞানের আবিষ্কার কে করে করে সব মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। ধীরে ধীরে এগিয়ে রূপান্তরিত করতে হবে অগ্রগতির শানিত হাতিয়ারে। কেননা আধুনিক জীবনে এই অপরিহার্য সঙ্গীটিকে আর বর্জন করার উপায় বা সাধ্য নেই। তবে সেখানে প্রয়োজন অনুষ্ঠান সূচির নৈতিক নিয়ন্ত্রণ। প্রয়োজন ব্যাপক গঠনমূলক রুচি শিল্পোন্নত অনুষ্ঠানের নিত্য নতুন পরিকল্পনা উদ্ভাবন।

    See less
  1. সর্বশিক্ষা অভিযান ভূমিকা : রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন ‘অজ্ঞানের অন্ধকারে আড়ালে ঢাকিছ যারে তােমার মঙ্গল ঢাকি গড়িছে সে ঘাের ব্যবধান। কিন্তু সেই বাণী হেলায় আমাদের রাষ্ট্রনেতারা উপেক্ষা করেছিলেন। তারা হয়তাে ভেবেছিলেন এমনি করেই যায় যদি দিন যাক না। কিন্তু এখন তারা বুঝেছেন, দেরিতে হলেও অন্য সব দেশ জাগছে জ্ঞRead more

    সর্বশিক্ষা অভিযান

    ভূমিকা : রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন ‘অজ্ঞানের অন্ধকারে আড়ালে ঢাকিছ যারে
    তােমার মঙ্গল ঢাকি গড়িছে সে ঘাের ব্যবধান। কিন্তু সেই বাণী হেলায় আমাদের রাষ্ট্রনেতারা উপেক্ষা করেছিলেন। তারা হয়তাে ভেবেছিলেন এমনি করেই যায় যদি দিন যাক না। কিন্তু এখন তারা বুঝেছেন, দেরিতে হলেও অন্য সব দেশ জাগছে জ্ঞানের গৌরবে, ভারত শুধুই ঘুমায়ে রয়। তাই কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কুম্ভকর্ণের নিদ্রা ভেঙ্গেছে। যৌথ উদ্যোগে আমাদের রাজ্যে শুরু হয়েছে সর্বশিক্ষা অভিযান।

    বাস্তবতা : ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আব্দুল কালাম ‘ভিশন ২০১০ পরিকল্পনা ঘােষণা করেন। তাতে প্রকাশিত রিপাের্টে দেখা যায় পশ্চিমবঙ্গে সাক্ষরতার হার ৬৯.২২ শতাংশ, হিমাচল প্রদেশ ৭৭.১৩ শতাংশ এবং কেরলে ৯০.২২ শতাংশ। আসামে ৬৮.৫৮ শতাংশ। এই বাস্তব অবস্থানের প্রেক্ষিতে আমাদের দেশে সর্ব শিক্ষা অভিযানের গুরুত্ব অপরিসীম।
    সর্বশিক্ষা অভিযান কী ? সকলের জন্য শিক্ষা, তাই হলাে সর্বশিক্ষা। বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে এই শিক্ষার সমাধান করার নাম সর্বশিক্ষা অভিযান। স্বাস্থ্যের জন্য যেমন পালস পােলিওর অভিযান – পােলিও মুক্ত পৃথিবী গড়ার জন্য, তেমনি সকল শিশুর জন্য সর্বশিক্ষা অভিযান। আসলে সর্বশিক্ষা অভিযান সকলের শিক্ষার জন্য সবশ্রেণির মানুষকে একসঙ্গে করে পথ চলার একটা পদ্ধতি মাত্র। যারা সমাজে নিজেদের শিক্ষিত বলে পরিচয় দিয়ে থাকে, তাদের যে অশিক্ষিত মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা আছে, সেই দায়বদ্ধতা সুনিশ্চিত করতে এই সর্বশিক্ষা অভিযান।

    সর্বশিক্ষা অভিযানের কারণ : এই সর্বশিক্ষা অভিযানের অন্যতম কারণ শুধু সব শিশুকেই শিক্ষা দান নয়, মাঝপথে শিক্ষা বন্ধ করে দেওয়া শিশুদেরও শিক্ষার মূল স্রোতে অঙ্গীভূত করা। কারণ, আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ এখনও নিজেদের সম্পূর্ণরূপে জানে না, নিজেদের দুঃখ দুর্দশার কারণগুলি সম্পর্কেও আদৌ সচেতন নয়। সেজন্য পারস্পরিক লেনদেনের প্রয়ােজনে চাই যাতায়াতের পথ। সেটা যদি রাজপথ না হয় তাে অন্তত গলি রাস্তা হওয়া চাই। সর্বশিক্ষা অভিযান সে পল্লি গ্রামের মেটে পথ। দ্বিতীয়তঃ অনেক সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও বিশ্বাস আছে যে শিক্ষার জন্য ব্যয় করা বিলাসিতা মাত্র। তাই শিক্ষা এখনাে সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়েনি। অথচ ভারতীয় সংবিধানের ৪৫নং ধারায় বলা হয়েছে, ১৪ বছরের কম বয়স্ক শিশুরা অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা পাবে। তবুও আজও পর্যন্ত এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়নি। তৃতীয়তঃ জন্মসূত্রে পেশাগত কাজে যারা নিয়ােজিত তারা নিজেদের মতাে তাদের সন্তানদের নিজের মৌলিক কাজে নিয়ােজিত করতে গিয়ে মাঝপথে পড়া বন্ধ করে দেন, তাদের জন্য এই কর্মসূচির গুরুত্ব রয়েছে।

    সর্বশিক্ষা অভিযানের সমস্যা : সর্বশিক্ষা অভিযানের পথ কঠিন। গরিব পরিবারের ছেলে মেয়েরা শিশু শ্রমিক হিসাবে চায়ের দোকানে, হােটেলে, মিষ্টির দোকানে কাজ করে। তাদের পিতা-মাতাদের কাছে ছেলেমেয়েকে স্কুলে পড়ানাে সময়ের অপব্যয় মাত্র। এদের মধ্যে যারা স্কুলে যায়, তারাও পরে স্কুলছুট হয়ে যায়। এজন্য সর্বশিক্ষা প্রকল্প মার খাচ্ছে। ফলে সব শিশুকে স্কুলে পাঠানাের লক্ষ্যমাত্রা আজও ষােলাে আনা পূরণ হয়নি।

    গৃহীত কর্মসূচি : প্রথাগত শিক্ষার ব্যাপারে গরিব পরিবারের শিশুদের অনাহা কাটানাের জন্য চালু হয়েছে Midday Meal অর্থাৎ মধ্যাহ্ন ভােজন। বর্তমানে
    হালেবা সংস্থা সৰ্বশিক্ষার প্রচারে ও পসারে এগিয়ে এসেছে। জেলায় জেলায় ৪টি গঠন করে পরিকাঠামাে নির্মাণ করে শিক্ষকদেরও এই অভিযানে সামিল রা হয়েছে।

    উপসংহার : UNESCO এর মাধ্যমে “সকলের জন্য শিক্ষা” সমীক্ষার ফলাফল থেকে জানা যায়, ভারতে পঞ্চম শ্রেণিতে উঠার আগেই ৭৫ শতাংশ পড়ুয়া স্কুল ছেড়ে যায় ।জনসাধারণকে শিক্ষিত করার ব্যাপারে শিক্ষিত মানুষদের গা-ছাড়া মনােভাব কম দায়ী নয় । এব্যাপারে আমাদেরও এগিয়ে আসা উচিত কারণ শিক্ষা না পেলে মানুষের কার্যকরী শক্তি জেগে উঠতে পারে না। মানুষ সমাজের সেবায় লাগার উপযুক্ত হয়ে উঠে না।

    See less