1. গুপ্তধন ‘গুপ্তধন’ কথাটির অর্থ লুকোনাে সম্পদ, যে সম্পদ মানুষের দৃষ্টির বাইরে থাকে, তাকেই ‘গুপ্তধন’ বলে। রবীন্দ্রনাথ দেখিয়েছেন যে এই গুপ্তধন কখনই মানুষের কাছে মঙ্গলকর নয়, এর মধ্যেই লুক্কায়িত থাকে মৃত্যুর অমােঘ হাতছানি। রবীন্দ্রনাথ এভাবে ধন প্রাপ্তিতে শ্রদ্ধাশীল ছিলেন না। যে ধন থাকে মনুষ্যচক্ষুর অন্Read more

    গুপ্তধন

    ‘গুপ্তধন’ কথাটির অর্থ লুকোনাে সম্পদ, যে সম্পদ মানুষের দৃষ্টির বাইরে থাকে, তাকেই ‘গুপ্তধন’ বলে।
    রবীন্দ্রনাথ দেখিয়েছেন যে এই গুপ্তধন কখনই মানুষের কাছে মঙ্গলকর নয়, এর মধ্যেই লুক্কায়িত থাকে মৃত্যুর অমােঘ হাতছানি। রবীন্দ্রনাথ এভাবে ধন প্রাপ্তিতে শ্রদ্ধাশীল ছিলেন না। যে ধন থাকে মনুষ্যচক্ষুর অন্তরালে সে ধনকে তিনি বলেছেন ‘মরা ধন’। এই ধনের প্রতি আকর্ষণ তিনি সহ্য করতে পারেন নি। এর প্রতি আকর্ষণ কীভাবে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনকে বিপর্যস্ত করে তারই ছবি ‘গুপ্তধন’ গল্পে লেখক অঙ্কন করার চেষ্টা করেছেন।

    গুপ্তধন গল্পটির শুরুতেই একটি চমক আর সেই চমকের মাধ্যমেই মৃত্যুঞ্জয়ের মানসিকতার উন্মােচন একটা পরিচয়কে প্রতিষ্ঠা করেছে। মৃত্যুঞ্জয় নিষ্ঠাবান, সদাচারী ও নিতান্ত সাধারণ কিন্তু লােভ লালসার উর্ধ্বে নয়। বিত্তের স্বাভাবিক লােভের কারণে অনন্যমনা অধ্যবসায়ী, ফলে গুপ্তধনের আবিষ্কারে মনপ্রাণ সমর্পণ করেছে। সেই আবিষ্কারের মূল সূত্রটিই যখন রহস্যজনকভাবে উধাও হয়, লেখক সেই মানসিক পরিস্থিতি অত্যন্ত জীবন্ত করে তুলেছেন এবং একই সঙ্গে পাঠকমনও মৃত্যুঞ্জয়ের সঙ্গে সঙ্গে রহস্য উদঘাটনে সঙ্গী হয়েছে। নামকরণে থাকে বিষয়বস্তুর ইঙ্গিত, গল্প শুরু হয় প্রথম পঙক্তি থেকেই। গুপ্তধন গল্পও এর ব্যতিক্রম নয়।

    আসলে এই গল্পের নামকরণের মধ্য দিয়ে মানুষের অন্তরের সুপ্ত এক সম্পদের কথাই বলা হয়েছে, ইন্দ্রিয়ের তাড়নায় ও বাসনায় মােহজালে আবদ্ধ হয়ে যা ঘুমন্ত অবস্থায় থাকে। এক্ষেত্রে শংকর ও মৃত্যুঞ্জয়ের উদ্দেশ্য এক – গুপ্তধনের সন্ধান। অবশ্য একসময়ে তার সন্ধান পেয়েও তারা তা গ্রহণ করেনি। সন্ন্যাসী শংকর একসময় স্বরূপানন্দ স্বামীর মাধ্যমে মৃত্যুঞ্জয় সম্পদের লােভে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করল। আবার এই শংকরই মৃত্যুঞ্জয়ের গুপ্তধনের মােহমুক্তি ঘটালেন, আলাে বাতাসে ছড়িয়ে থাকা প্রকৃত সম্পদকে চেনালেন।

    রবীন্দ্রনাথ একসময় বলেছিলেন, “সুখের উপায় বাহিরে নাই, তাহা অন্তরেই আছে, তাহা উপকরণজালের বিপুল জটিলতার মধ্যে নাই, তাহা সংযত চিত্তের নির্মল সরলতার মধ্যে জটিলতার মধ্যে নাই, তাহা সংযত চিত্তের নির্মল সরলতার মধ্যে বিরাজমান।” এই দৃষ্টিভঙ্গী থেকেই বিশ্বব্যপী অক্ষয় সম্পদের সন্ধান পেলেন মৃত্যুঞ্জয়, ত্যাগ করলেন গুপ্তধনের বিপুল সম্পদ, যা এতদিন অন্তদৃষ্টির বন্ধনে আবদ্ধ ছিল আজ তা আলাে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ল – শংকর আর মৃত্যুঞ্জয়ের প্রকৃত গুপ্তধন অর্থাৎ মনের ঐশ্বর্যের সন্ধান মিলল। আর এই তাৎপর্যই গুপ্তধন গল্পটি ব্যঞ্জনা বা ইঙ্গিতবহ হয়ে উঠেছে

    See less
    • 0
  2. This answer was edited.

    একটি তুলসীগাছের কাহিনী উঃ বাংলাদেশের বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহের লেখা 'একটি তুলসী গাছের কাহিনী’-তে মানুষের আশ্রয়সন্ধান, আশ্রয় লাভ ও আশ্রয়চ্যুত হয়ে মঙ্গলস্বপ্ন ও স্বপ্ন বিনষ্টের প্রতীক হয়ে দেখা দিয়েছে যে ভাবনা চিন্তা – যার প্রতিফলন এ গল্পের বিষয়ে মূর্ত হয়ে উঠেছে তাই আমাদের বর্তমRead more

    একটি তুলসীগাছের কাহিনী

    উঃ বাংলাদেশের বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহের লেখা ‘একটি তুলসী গাছের কাহিনী’-তে মানুষের আশ্রয়সন্ধান, আশ্রয় লাভ ও আশ্রয়চ্যুত হয়ে মঙ্গলস্বপ্ন ও স্বপ্ন বিনষ্টের প্রতীক হয়ে দেখা দিয়েছে যে ভাবনা চিন্তা – যার প্রতিফলন এ গল্পের বিষয়ে মূর্ত হয়ে উঠেছে তাই আমাদের বর্তমান আলােচ্য বিষয়।

    এই গল্পে সাহিত্যিক ইতিহাসের বিশেষ সময়কে ঘিরে নিয়ে কয়েকদল জবরদখলকারী মানুষদের দিনকয়েকের জীবনচিত্রকে করুণ রসে আনন্দ আহ্লাদে স্নিগ্ধ মধুর ও বেদনা বিধুর করে তুলেছেন। পলাতক হিন্দু মানিকের দাবিদারহীন বাড়িতে মতিন, ইউনুস, কাদের যেভাবে আশ্রয় নিয়েছে, আর যেভাবে বিহঙ্গের মতাে ডানা মেলেছে তাদের জীবনের সাময়িক আনন্দঘন মুহূর্তগুলি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে আর ঐ বাড়িকে কেন্দ্র করে কিছু সুপ্ত সখ আহ্লাদ, অন্তরে মৃতপ্রায় সহানুভূতির স্পন্দন আজ তারা নতুন করে শুনতে পেলাে – এক্ষেত্রে সাহিত্যিকের দক্ষতা সুনিপুণ চিত্রকরের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।

    আবার হিন্দু বাড়িতে হঠাৎ উঠোনের উপর আবিষ্কৃত ‘তুলসী গাছকে ঘিরে লেখক যেভাবে নানা কোণ থেকে মানসিক দ্বন্দ্ব তৈরী করেছেন তাতে কাহিনীর রস অন্য এক মাত্রা পেয়েছে – “এই বাড়িতে হিন্দুয়নির কোন চিহ্ন রাখব না – ওটাকে উপড়ে ফেলাে” – এই বিরােধী মন্তব্যের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব লেখক তীব্র করে তােলেন আবার পরক্ষণেই মতিনের চোখে বাঙালী গৃহকর্তীর জীবন্ত চিত্র ভেসে ওঠে – “আকাশে যখন দিনান্তের ছায়া ঘনিয়ে ওঠে তখন প্রতিদিন এ তুলসীতলার কথা মনে হয় বলে তার চোখ হয়তাে ছলছল করে ওঠে।”

    সুখ-দুঃখের মধ্য দিয়ে দিন কাটে তাদের। হিন্দুর গৃহের তুলসী গাছটিকেও যথাস্থানে রেখে তারা যখন সুখে থাকার কথা ভাবে তখনই আসে পুলিশ এবং তারা জানিয়ে দেয় দশ দিনের মধ্যে তাদের ঘর ছেড়ে যেতে হবে। সরকারি কাজকর্মে মানবিকতা, দয়ামায়া প্রভৃতির স্থান নেই – এর মাধ্যমে মানুষ আবার উদ্বাস্তু হল না – এই গল্পে তুলসী গাছটিরও আবার শুকনাে হয়ে যাওয়াও বড়াে কথা। আসলে তুলসী গাছের বেঁচে থাকার কাহিনি তাে মানুষেরই বেঁচে থাকার কাহিনি। কারণ সাম্প্রদায়িকতা আর দেশভাগ – হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে কাউকেই রেহাই দেয় নি। তাই গল্পের শেষ কয়েকটি ছত্রে একটা দীর্ঘশ্বাসের আবহ গড়ে তুলেছেন – “সেদিন থেকে গৃহকর্তীর ছলছল চোখের কথাও কারও মনে পড়েনি। কেন পড়েনি সে কথা তুলসী গাছের জানবার কথা নয়, মানুষেরই জানবার কথা। তাই বলা যায় এই ‘একটি তুলসী গাছ’-এর কাহিনিতে লেখক জীবনের মঙ্গলস্বপ্ন ও স্বপ্নবিনষ্টের প্রতীক হিসাবে গড়ে তুলেছেন তুলসী গাছটিকে, যার মাধ্যমে বার বার প্রতিফলিত হয়েছে সাধারণ মানুষের ছিন্নমূল হওয়ার বেদনা।

    See less
    • 0
  3. This answer was edited.

    কবি বলেছেন কোন কাজ না পারিলে বা অসম্ভব মনে হলে, প্রতক্ষ্য করা দরকার যে কাজটি বাকি পাঁচ জন মানুষ করতে সক্ষম তোমার ক্ষেত্রে কেন সেই কাজটি অসম্ভব।

    কবি বলেছেন কোন কাজ না পারিলে বা অসম্ভব মনে হলে, প্রতক্ষ্য করা দরকার যে কাজটি বাকি পাঁচ জন মানুষ করতে সক্ষম তোমার ক্ষেত্রে কেন সেই কাজটি অসম্ভব।

    See less
    • 0
  4. দেবী দুর্গার বিভিন্ন রূপ: মা দুর্গার নয়টি রূপের পৃথক পৃথক নামকরণ করেছেন পিতামহ ব্রহ্মা। নয়টি নামে নয়টি রূপভেদ ও ভাবভেদ । এঁরা পরমা মহাশক্তির নটি রূপ । এঁদের একসাথে “নবদুর্গা” নামে ডাকা হয়। ★ প্রথম হলেন শৈলপুত্রী ( যিনি হিমালয় দুহিতা অর্থাৎ গিরিনন্দিনী পার্বতী)। ★ দ্বিতীয় ব্রহ্মচারিণী ( ভগবান শিবকে সRead more

    দেবী দুর্গার বিভিন্ন রূপ:

    মা দুর্গার নয়টি রূপের পৃথক পৃথক নামকরণ করেছেন পিতামহ ব্রহ্মা। নয়টি নামে নয়টি রূপভেদ ও ভাবভেদ । এঁরা পরমা মহাশক্তির নটি রূপ । এঁদের একসাথে “নবদুর্গা” নামে ডাকা হয়।

    ★ প্রথম হলেন শৈলপুত্রী ( যিনি হিমালয় দুহিতা অর্থাৎ গিরিনন্দিনী পার্বতী)।

    ★ দ্বিতীয় ব্রহ্মচারিণী ( ভগবান শিবকে স্বামী রূপে পাবার জন্য মা গৌরী কঠোর তপস্যা করেন- ইঁহা সেই রূপ)।

    ★ তৃতীয় চন্দ্রঘণ্টা ( ইনি প্রচণ্ড ধ্বনি দ্বারা ভক্তের জীবন থেকে ভৌতিক, জাগতিক নানা বাধা বিপত্তি দূর করেন)।

    ★ চতুর্থ কুস্মাণ্ডা ( ইঁনি চতুর্বর্গ ফল দায়িনী, তথা সৃষ্টির আদিতে যে মহাশক্তি ছিলেন ইঁনি সেই। ইঁনি হস্তে অমৃত কলস ধারন করেন, যা ব্রহ্মজ্ঞান প্রদানের প্রতীক)।

    ★ পঞ্চম হলেন স্কন্দমাতা ( ইঁনি শিবপুত্র কার্ত্তিকের জননী। কার্ত্তিকের এক নাম স্কন্দ। ইঁনি শিবজায়া উমা)।

    ★ ষষ্ঠ রূপে ইঁনি কাত্যায়নী ( মহিষাসুর কে বধ করেছেন যিনি, আসুরিক বাধা সঙ্কট দূরকারিনী। বৃন্দাবনের গোপ বালারা শ্রীকৃষ্ণ প্রাপ্তির জন্য এঁনারাই পূজা করেছিলেন)।

    ★ সপ্তম রূপে কালরাত্রি ( সৃষ্টির প্রারম্ভে যখন কিছুই ছিলো না। তখন ইঁনি জেগে ছিলেন। এঁনারাই যোগনিদ্রার প্রভাবে ভগবান বিষ্ণু যোগনিদ্রায় ছিলেন। মধু কৈটভের দ্বারা আক্রান্ত হলে প্রজাপতি ব্রহ্মা সেই যোগনিদ্রা রূপিনী যোগমায়ার স্তবে এঁই দেবীর নাম উচ্চারন করেছিলেন)।

    ★ অষ্টম রূপে হলেন মহাগৌরী ( ইঁনি ভগবান শিবের মাহেশী শক্তি মহেশ্বরী তথা মহাগৌরী। ইনি শিবানী আবার রুদ্রানী আবার হরের গৌরী)।

    ★ নবম রূপে ইঁনি সিদ্ধিদাত্রী ( ইঁনি সকল প্রকার সিদ্ধবিদ্যার অধীশ্বরী , ভগবান শিবের সাথে অর্ধনারীশ্বর রূপে বিরাজিতা। চতুর্বর্গ ফল প্রদায়িনী)। ইঁহারাই একত্রে নবদুর্গা নামে খ্যাতা।

    See less
    • 0
  5. This answer was edited.

    কীটনাশক এক ধরনের বিষাক্ত পদার্থ যা কীটপতঙ্গকে মেরে ফেলতে সহায়তা করে। রাসায়নিক পদার্থের সাহায্যে প্রস্তুতকৃত কীটনাশক মূলতঃ পোকা-মাকড় নির্মূলের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। জৈব কীটনাশক দুই প্রকারের হয়। উদ্ভিজ্জ বা উদ্ভিদ থেকে প্রাপ্ত কীটনাশক যেমন - রোটেনন, নিকোটিন, পাইথ্রিন কৃত্রিম রাসায়নিক - কৃত্রিমRead more

    কীটনাশক এক ধরনের বিষাক্ত পদার্থ যা কীটপতঙ্গকে মেরে ফেলতে সহায়তা করে। রাসায়নিক পদার্থের সাহায্যে প্রস্তুতকৃত কীটনাশক মূলতঃ পোকা-মাকড় নির্মূলের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। জৈব কীটনাশক দুই প্রকারের হয়।

    • উদ্ভিজ্জ বা উদ্ভিদ থেকে প্রাপ্ত কীটনাশক যেমন – রোটেনন, নিকোটিন, পাইথ্রিন
    • কৃত্রিম রাসায়নিক – কৃত্রিম রাসায়নিক কীটনাশক তিন ধরনের হয় থাকে –

     

    জৈব ক্লোরিন – ডিডিটি, গ্যামাক্সিন

    জৈব ফসফেট – ম্যালানিয়ন, প্যারাথিন

    কার্বামেট – সেভিন, ডায়াজিনন

    See less
    • 0
  6. পূজারিনী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাব্যগ্রন্থ- কথা তারিখ - ১৮ আশ্বিন, ১৩০৬   (অবদান শতক) নৃপতি বিম্বিসার নমিয়া বুদ্ধে মাগিয়া লইলা পাদ-নখ-কণা তাঁর। স্থাপিয়া নিভৃত প্রাসাদ-কাননে তাহারি উপরে রচিলা যতনে অতি অপরূপ শিলাময় স্তূপ শিল্পশোভার সার । সন্ধ্যাবেলায় শুচিবাস পরি রাজবধূ রাজবালা আসিতেন, ফুল সাজায়Read more

    পূজারিনী

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    কাব্যগ্রন্থ- কথা

    তারিখ – ১৮ আশ্বিন, ১৩০৬

     

    (অবদান শতক)

    নৃপতি বিম্বিসার
    নমিয়া বুদ্ধে মাগিয়া লইলা
    পাদ-নখ-কণা তাঁর।
    স্থাপিয়া নিভৃত প্রাসাদ-কাননে
    তাহারি উপরে রচিলা যতনে
    অতি অপরূপ শিলাময় স্তূপ
    শিল্পশোভার সার ।
    সন্ধ্যাবেলায় শুচিবাস পরি
    রাজবধূ রাজবালা
    আসিতেন, ফুল সাজায়ে ডালায়
    স্তূপপদমূলে সোনার থালায়
    আপনার হাতে দিতেন জ্বালায়ে
    কনক প্রদীপমালা ।

    অজাত শত্রু রাজা হোলো যবে
    পিতার আসনে আসি
    পিতার ধর্ম শোণিতের স্রোতে
    মুছিয়া ফেলিল রাজপুরী হতে

    সঁপিল যজ্ঞ-অনল-আলোতে
    বৌদ্ধ-শাস্ত্ররাশি।
    কহিলা ডাকিয়া অজাতশত্রু
    রাজপুরনারী সবে,—
    বেদ ব্রাহ্মণ রাজা ছাড়া আর
    কিছু নাই ভবে পুজা করিবার
    এই ক’টি কথা জেনো মনে সার—
    ভুলিলে বিপদ হবে।

     

    সেদিন শারদ-দিবা-অবসান,—
    শ্ৰীমতী নামে সে দাসী
    পুণ্যশীতল সলিলে নাহিয়া
    পুষ্প প্রদীপ থালায় বাহিয়৷
    রাজমহিষীর চরণে চাহিয়া
    নীরবে দাঁড়াল আসি।
    শিহরি সভয়ে মহিষী কহিলা—
    এ কথা নাহি কি মনে
    অজাতশত্রু করেছে রটনা—
    স্তূপে যে করিবে অৰ্ঘ্যরচনা
    শূলের উপরে মরিবে সে জনা
    অথবা নির্বাসনে।

    সেথা হতে ফিরি গেল চলি ধীরি
    বধূ অমিতার ঘরে।
    সমুখে রাখিয়া স্বর্ণ-মুকুর,
    বাঁধিতেছিল সে দীর্ঘ চিকুর,
    আঁকিতেছিল সে যত্নে সিঁদুর
    সিথির সীমার পরে।
    শ্ৰীমতীরে হেরি বাঁকি গেল রেখা
    কাঁপি গেল তার হাত,-
    কহিল অবোধ, কী সাহস-বলে
    এনেছিস পূজা,এখনি যা চ’লে
    কে কোথা দেখিবে, ঘটিবে তাহলে
    বিষম বিপদপাত।

     

    অস্ত-রবির রশ্মি-আভায়
    খোলা জানালার ধারে
    কুমারী শুক্লা বসি একাকিনী
    পড়িতে নিরত কাব্য-কাহিনী,
    চমকি উঠিল শুনি কিঙ্কিণী
    চাহিয়া দেখিল দ্বারে।
    শ্ৰীমতীরে হেরি পুঁথি রাখি ভূমে
    দ্রুতপদে গেল কাছে।

    কহে সাবধানে তার কানে কানে
    রাজার আদেশ আজি কে না জানে,
    এমনি ক’রে কি মরণের পানে
    ছুটিয়া চলিতে আছে।
    দ্বার হতে দ্বারে ফিরিল শ্রীমতী
    লইয়া অৰ্ঘ্যথালি।
    “হে পুরবাসিনী” সবে ডাকি কয়,—
    “হয়েছে প্রভুর পূজার সময়”—
    শুনি ঘরে ঘরে কেহ পায় ভয়
    কেহ দেয় তারে গালি।

    দিবসের শেষ আলোক মিলাল
    নগর সৌধপরে॥
    পথ জনহীন আঁধারে বিলীন,
    কলকোলাহল হয়ে এল ক্ষীণ,
    আরতিঘণ্টা ধ্বনিল প্রাচীন
    রাজ-দেবালয় ঘরে।
    শারদ নিশির স্বচ্ছ তিমিরে
    জ্বলে অগণ্য তারা।
    সিংহদুয়ারে বাজিল বিষাণ,
    বন্দীরা ধরে সন্ধ্যার তান,

    “মন্ত্রণাসভা হোলো সমাধান”
    দ্বারী ফুকারিয়া বলে।

    এমন সময়ে হেরিলা চমকি
    প্রাসাদে প্রহরী যত—
    রাজার বিজন কানন মাঝারে
    স্তূপপদমূলে গহন আঁধারে
    জ্বলিতেছে কেন, যেন সারে সারে
    প্রদীপমালার মতো।
    মুক্তকৃপাণে পুররক্ষক
    তখনি ছুটিয়া আসি
    শুধাল—“কে তুই ওরে দুর্মতি,
    মরিবার তরে করিস আরতি।”
    মধুর কণ্ঠে শুনিল “শ্ৰীমতী
    আমি বুদ্ধের দাসী।”
    সেদিন শুভ্ৰ পাষাণ-ফলকে
    পড়িল রক্ত-লিখা।
    সেদিন শারদ স্বচ্ছ নিশীথে
    প্রাসাদ কাননে নীরবে নিভৃতে
    স্তূপপদমূলে নিবিল চকিতে
    শেষ আরতির শিখা৷

     

    Pujarini Poem by Rabindranath Tagore:

    Pujarini

    Rabindranath Tagore

    (Abadan-Shatak)
    Nipriti bimbisar
    Namiya buddhe magiya loila
    Padan-khakana tar.
    Stapiya nivrito prashad-kanane
    Tahari upore racila jatane
    Oti aparup shilamaya sthup
    Shilposhovar sar.

    Sandhya belay shuchibash pori
    Rajbadhu Rajbala
    Ashiten phul sajaye ḍalay,
    Stupa-pada-mule sonar thalay
    Apanar hathe diten jalaye
    Kanak-pradip-mala.

    Ajatsatru raja holo jabe,
    Pitar ashone asi
    Pitar̥ dharma shonither srote
    Muchiya felilo rajpuri hote–
    Shopilo jagga-anal-alote
    Baud’dha-sastra-rashi.

    Kahilo ḍakiya ajatsatru
    Rajpuranari sobe,
    “bed brahman raja chara ar
    kichu na bhobe puja koribar
    Ei kati katha jeno mone shar-
    Bhulile bipad hobe. ‘

    Sedin sharad-diba-abashan-
    Srimoti name she dashi
    Punyasitala salile nahiya,
    Puṣhpa-pradip thalay bahiya,
    Rajmahishir charane cahiya
    Nirobe daralo asi.

    Sihari sobhoye mahiṣhi kahila,
    “e katha nahi ki mane,
    Ajatsatru kareche ratana
    Stupe je koribe arghya-rachana
    Shuler upore maribe se jana
    Othoba nirbashane? ‘

    Setha hote phiri gelo choli dhire
    Badhu amitar ghare.
    Samukhe rakhiya sarnamukur
    Badhitechilo se dirgha chikur,
    Akitechilo se jatne sinḍur
    Shimantashima-‘pre.

    See less
    • 0
  7. আসামের কুটির শিল্প ভূমিকা : কুটির অর্থাৎ ঘর এবং ঘরের সদস্যের দ্বারা উৎপাদিত সামগ্রী ও শিল্পকে কুটির শিল্প বলে। কুটির শিল্পের দিক দিয়ে আসামের একটি গৌরবময় ঐতিহ্য আছে, আসামের মতাে রূপময় ও বিচিত্র সুন্দর কুটির শিল্প ভারতবর্ষে অদ্বিতীয় । যুগে যুগে আসামের কুটিরে নির্মিত সামগ্রী দেশ বিদেশের সৌন্দর্য পিপRead more

    আসামের কুটির শিল্প

    ভূমিকা : কুটির অর্থাৎ ঘর এবং ঘরের সদস্যের দ্বারা উৎপাদিত সামগ্রী ও শিল্পকে কুটির শিল্প বলে। কুটির শিল্পের দিক দিয়ে আসামের একটি গৌরবময় ঐতিহ্য আছে, আসামের মতাে রূপময় ও বিচিত্র সুন্দর কুটির শিল্প ভারতবর্ষে অদ্বিতীয় । যুগে যুগে আসামের কুটিরে নির্মিত সামগ্রী দেশ বিদেশের সৌন্দর্য পিপাসু নরনারীর মুগ্ধ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী আসামের মেয়েদের গৃহে প্রস্তুত বস্ত্রের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে বলেছেন, তাহারা বস্ত্রের উপর রূপ কাহিনি রচনা করে।

    আসামের কুটির শিল্পের ঐতিহ্য : কুটির শিল্প আসামের একটি পুরনো সংস্কৃতি । কামরূপের রাজা কুমার ভাস্কর বর্মা তার মিত্র রাজা হর্ষবর্ধনকে আসামের পাটের বস্ত্র, কাঁসার বাসন, বাঁশের ফুলসাজি, হাতীর দাতের কারুকার্য খচিত শিল্প ইত্যাদি উপঢৌকন দিয়েছিলেন। তাছাড়াও ঐতিহাসিক তথ্য থেকে জানা যায় কোচ রাজা ও আহােম রাজাদের শাসনকালে কুটির শিল্পের প্রভূত উন্নতি হয়েছিল। দরং রাজবংশাবলী থেকে জানা যায় যে, মহারাজা নরনারায়ণ কামার-কুমার, ধাতু শিল্পী ও অন্যান্য শিল্পের কারিগরদের রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলেন।

    বস্ত্রবয়ন শিল্প : বস্ত্র শিল্প আসামের অন্যতম কুটির শিল্প । কুটিরজাত রেশমী ও কার্পাস বস্ত্রবয়নে স্ত্রীলােকদের ভূমিকাই প্রধান। আসামে তাতী সম্প্রদায় বলে কোন পৃথক জাতি নেই, শ্রেণি নির্বিশেষে সকলেই নিজেদের বস্ত্র প্রস্তুত করে। প্রতিটি গৃহেই একটি করে তাঁত রয়েছে। যে স্ত্রীলােক ভাল কাপড় বুনতে জানে, তার সমাদর সর্বত্র। আসামে সাধারণত এণ্ডি’ ও ‘মুগা’ এই দুই শ্রেণির রেশমী বস্ত্রই কুটির শিল্প হিসাবে উৎপন্ন হয়। অসমীয়া নারীরা ‘মেখলা’, ‘রিহা’, ‘মুগা’ ইত্যাদি পরিধান করে।

    মৃৎপাত্র নির্মাণ শিল্প : মৃৎপাত্র ইত্যাদি নির্মাণও আসামের কুটির শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। রােজদিনের গৃহকর্মের জন্য হাঁড়ি, কলসী, মটকি, থালা ইত্যাদি এবং গৃহসজ্জার জন্য ফুলদানি, শৌখিন দ্রব্যাদি গ্রামাঞ্চলের কারিগরগণ মাটি দিয়ে অতি সুচারুরূপে প্রস্তুত করে।

    বেত, বাঁশ ও তালপাতার কাজ : বেত, বাঁশ, তালপাতা ইত্যাদির দ্বারা গ্রামাঞ্চলের জনসাধারণ নানাবিধ নিত্য প্রয়ােজনীয় জিনিস প্রস্তুত করে থাকে। বেত, বাশ ও তালপাতা দিয়ে ঝুড়ি, বাক্স নানাবিধ পাখা ইত্যাদি তৈরি হয়। মুর্তা নামক এক জাতীয় উদ্ভিদ দিয়ে শীতল পাটিও তৈয়ার করা হয়। ‘জাপি’ নামক তালপাতা দিয়ে তিরী এক প্রকার টুপি মাথায় দিয়ে আসামের কৃষকগণ তীব্র রৌদ্র কিরণ হতে আত্মরক্ষা করে। এককালে জাপি পরিধান সামাজিক প্রতিষ্ঠার নিদর্শন রূপে পরিগণিত ছিল । এখনও তাঁর প্রচলন দেখতে পাওয়া যায় ।

    কুটির শিল্পের বর্তমান অবস্থা : বর্তমানে আসামে যে সব কুটির শিল্প রয়েছে সেগুলির মধ্যে তাঁত শিল্প, মৃৎ শিল্প বা বাঁশবেতের কাজ, রূপ শিল্প ছাড়াও কাঠের কাজ, কাসা-পিতলের বাসন তৈরিও উল্লেখযােগ্য। কাঠের শিল্পীরা কাঠ দিয়ে তৈরি করে নৌকা, খাট-পালঙ্ক, টেবিল, আলমারি, ঘরের দরজা-জানালা ইত্যাদি। কামার তৈরি করে দা-কুড়াল, খন্তি, ঝাটা, শরতা ইত্যাদি। কিন্তু যুগের প্রভাবে এসব জিনিসের ব্যবহার কমে আসছে।

    কুটির শিল্পের অবনতির কারণ : কুটির শিল্পের অবনতির অন্যতম কারণ নতুন প্রযুক্তির আবিষ্কার। আধুনিক যুগের লােকের রুচিও পরিবর্তন হচ্ছে। তারা যন্ত্রশিল্পের উৎপাদিত সামগ্রী ব্যবহারে অধিক আগ্রহী। কাচামালের যােগানও দুর্মূল্য, শিল্পীর আর্থিক দুরবস্থা এবং তরুণ প্রজন্মের পিতৃপুরুষের বৃত্তি অবলম্বনে অনীহা কুটির শিল্পের অবনতির অন্যতম কারণ। সর্বোপরি প্রচারের অভাবে শিল্পসুন্দর কুটির শিল্পজাত সামগ্রী সর্বভারতীয় বাজার ধরতে পারছে না।

    কুটির শিল্পের উন্নতির উপায় : কুটির শিল্পের উন্নতির জন্য এর আধুনিকীকরণ একান্ত প্রয়ােজন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কাঁসা শিল্পে ‘রােলার মেশিন ব্যবহার করতে পারলে শ্রম ও সময় দুই-ই বাঁচানাে যায়। ছােটখাটো বৈদ্যুতিক যন্ত্রাদি ব্যবহার করা যেতে পারে। এজন্য সরকারি উদ্যোগে শিল্পী-কারিগরদের প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়ােজন। মৃৎ শিল্পজাত দ্রব্যাদি আধুনিক রুচি সম্মত করতে পারলে শহুরে লােকদের চাহিদা মেটানাে যায়। সমবায় সমিতি স্থাপন করে মূলধন সংগ্রহ করা যেতে পারে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় কাসা-পিতল-লােহা ও রেশম শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। ভারতের প্রতিটি রাজ্যে সরকারি উদ্যোগে বিপননের ব্যবস্থা করতে পারলে অতি ফল পাওয়া যাবে। শিক্ষিত যুবকেরা যদি চাকরির জন্য হা-হুতাশ না করে কুটির শিল্পের ব্যবসায়ে নিযুক্ত হন তবে নিশ্চয়ই লাভবান হবেন।

    উপসংহার : কুটির শিল্প শিল্পীর নান্দনিক সৃষ্টি। শিল্পীরা যে দক্ষতা, কল্পনা ও শ্রম নিয়ােগ করেন অর্থের মূল্যে তার পরিমাপ হয় না। কুটির শিল্পকে যথাযােগ্য মর্যাদা ও উন্নতির সন্ধান দিতে চাই সরকার ও সমবায় মানুষের প্রচেষ্টা । তাদের প্রচারের আলােয় আনতে পারলে শিল্পীর আর্থিক দুর্দশা যেমন ঘুচবে তৈমনি তিনি পারেন শিল্প সৃষ্টির অনির্বাচনীয় তৃপ্তি।

    See less
    • 1
  8. তেমন করে হাত বাড়ালে, সুখ পাওয়া যায় অনেকখানি।’ উল্লিখিত অংশটুকু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বোঝাপড়া কবিতার অন্তর্গত। কবি এখানে বলতে চাইছেন যে, আমরা যদি আমাদের মধ্যে ভেদাভেদ, দ্বন্দ্ব না রেখে একে অপরের সাথে ভ্রাতৃসুলভ, বন্ধুসুলভ আচার-আচরণ রাখি তাহলে সেই বিষয়টি অনেক সুখের। অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ বলতে চাRead more

    তেমন করে হাত বাড়ালে,

    সুখ পাওয়া যায় অনেকখানি।’

    উল্লিখিত অংশটুকু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বোঝাপড়া কবিতার অন্তর্গত।
    কবি এখানে বলতে চাইছেন যে, আমরা যদি আমাদের মধ্যে ভেদাভেদ, দ্বন্দ্ব না রেখে একে অপরের সাথে ভ্রাতৃসুলভ, বন্ধুসুলভ আচার-আচরণ রাখি তাহলে সেই বিষয়টি অনেক সুখের। অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ বলতে চাইছেন যে মানুষের মধ্যে মনোমালিন্য, ভেদাভেদ থাকাটা স্বাভাবিক কিন্তু তা নিয়ে অযথা বাড়াবাড়ি ঠিক নয়। বরং মতভেদ, ঈর্ষা, হিংসা ইত্যাদি ছেড়ে দিয়ে শ্রদ্ধার সহিত একে অপরের সহিত মিলেমিশে থাকাই উত্তম। তাতে করে মনে শান্তি আসে এবং অনেক সুখ পাওয়া যায়।

    See less
    • 1
  9. This answer was edited.

    মূল্যপ্রাপ্তি -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অবদানশতক অঘ্রাণে শীতের রাতে নিষ্ঠুর শিশিরঘাতেপদ্মগুলি গিয়াছে মরিয়া--সুদাস মালীর ঘরে কাননের সরোবরেএকটি ফুটেছে কী করিয়া।তুলি লয়ে বেচিবারে গেল সে প্রাসাদদ্বারে,মাগিল রাজার দরশন--হেনকালে হেরি ফুল আনন্দে পুলকাকুলপথিক কহিল একজন,"অকালের পদ্ম তব আমি এটি কিনি লব,কত মূল্য লইবেRead more

    মূল্যপ্রাপ্তি

    -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    অবদানশতক

    অঘ্রাণে শীতের রাতে নিষ্ঠুর শিশিরঘাতে
    পদ্মগুলি গিয়াছে মরিয়া–
    সুদাস মালীর ঘরে কাননের সরোবরে
    একটি ফুটেছে কী করিয়া।
    তুলি লয়ে বেচিবারে গেল সে প্রাসাদদ্বারে,
    মাগিল রাজার দরশন–
    হেনকালে হেরি ফুল আনন্দে পুলকাকুল
    পথিক কহিল একজন,
    “অকালের পদ্ম তব আমি এটি কিনি লব,
    কত মূল্য লইবে ইহার?
    বুদ্ধ ভগবান আজ এসেছেন পুরমাঝ
    তাঁর পায়ে দিব উপহার।
    ‘মালী কহে, “এক মাষা স্বর্ণ পাব মনে আশা।’
    পথিক চাহিল তাহা দিতে–
    হেনকালে সমারোহে বহু পূজা-অর্ঘ্য বহে
    নৃপতি বাহিরে আচম্বিতে।
    রাজেন্দ্র প্রসেনজিৎ উচ্চারি মঙ্গলগীত
    চলেছেন বুদ্ধদরশনে–
    হেরি অকালের ফুল শুধালেন, “কত মূল?
    কিনি দিব প্রভুর চরণে।
    ‘মালী কহে, “হে রাজন্‌, স্বর্ণমাষা দিয়ে পণ
    কিনিছেন এই মহাশয়।’
    “দশ মাষা দিব আমি’ কহিলা ধরণীস্বামী,
    “বিশ মাষা দিব’ পান্থকয়।
    দোঁহে কহে “দেহো দেহো’, হার নাহি মানে কেহ–
    মূল্য বেড়ে ওঠে ক্রমাগত।
    মালী ভাবে যাঁর তরে এ দোঁহে বিবাদ করে
    তাঁরে দিলে আরো পাব কত!
    কহিল সে করজোড়ে, “দয়া করে ক্ষম মোরে–
    এ ফুল বেচিতে নাহি মন।
    ‘এত বলি ছুটিল সে যেথা রয়েছেন বসে
    বুদ্ধদেব উজলি কানন।
    বসেছেন পদ্মাসনে প্রসন্ন প্রশান্ত মনে,
    নিরঞ্জন আনন্দমূরতি।
    দৃষ্টি হতে শান্তি ঝরে, স্ফুরিছে অধর-‘পরে
    করুণার সুধাহাস্যজ্যোতি।
    সুদাস রহিল চাহি– নয়নে নিমেষ নাহি,
    মুখে তার বাক্য নাহি সরে।
    সহসা ভূতলে পড়ি পদ্মটি রাখিল ধরি
    প্রভুর চরণপদ্ম-‘পরে।
    বরষি অমৃতরাশি বুদ্ধ শুধালেন হাসি,
    ‘কহো বৎস, কী তব প্রার্থনা।
    ‘ব্যাকুল সুদাস কহে, “প্রভু, আর কিছু নহে,
    চরণের ধূলি এক কণা।’

    Mulya Prapti Poem in Bengali

    Mullyoprapti

    Rabindranath Tagore

    Oghrane shiter rate nisthur raate
    Podmoguli giyache moria
    Sudash malir ghoreKanoner sorobore
    Ekti futeche ki koria
    Tuli loye bechibare gelo se proshaddhare
    magilo Rajar dorshon.
    henokale heri ful Aanonde pulkakul
    Pothik kohilo ekjon,
    ‘okaler podmo tobo ami eti kine lobo
    Koto mullyo hoibe ihar
    Budha Bhogoban aaj esechen puromajh
    Tar paye dibo upohar.
    mali kohe, “ek masha shorno pabe mone asha”
    Pothik chahilo taha dite
    Henokale somaruhe bahu puja-orgyo bohe
    Nripoti bahire aachombito
    Rajendra Prosenjit ucchari mongolgeet
    Cholechen budha dorshone-
    Heri okaler ful shudhalen, “koto mul”?
    Kini dibo prabhur chorone.
    Mali kohe, “he rajon shornomasha diye pon
    Kinichen ei mohashoy.
    “Dash masha dibo aami” kohila dhoronishami,
    “bish masha dibo” pantokoy.
    Duhe kohe “deho deho’, E duhe bibad kore
    Mullyo bere uthe kromagata
    Mali bhabe jar tore e duhe bibad kore
    tare dile aaro pabo koto!
    Kohilo sae korojure, “doya kore khomo more”
    E ful bechite nahi mono’
    Eto bole chutilo she jetha royechen boshe
    Buddhadeb ujli kanan.
    Boshechen poddashone proshonno proshanto mone,
    Nironjon Anandomurti
    dristi hote santi jhore, sfuriche odhor-pore
    Karunar sudha-hashyo-jyoti
    Sudash rohilo chahi- noyone nimesh nahi
    Mukhe tar bakyo nahi shore.
    Sohosha bhutole pori poddoti rakhilo dhori
    Pabhur choronpoddo pore
    Baroshi omrito rashi buddha sudhalen hashi
    “koho botsho ki taba prarthona”.
    Byakul sudash kohe, “prabhu ar kichu nohe,
    Choroner dhuli ek kona’.

    See less
    • 0