1. উলঙ্গ রাজা নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী সবাই দেখছে যে, রাজা উলঙ্গ,তবুও সবাই হাততালি দিচ্ছে। সবাই চেঁচিয়ে বলছে শাবাস, শাবাস। কারো মনে সংস্কার, কারও ভয়- কেউ বা নিজের বুদ্ধি অন্য মানুষের কাছে বন্ধক দিয়েছে কেউ বা পরান্নভোজী, কেউ কৃপাপ্রার্থী, উমেদার, প্রবঞ্চক; কেউ ভাবছে, রাজবস্ত্র সত্যিই অতীব সূক্ষ্ম, চোখে পড়Read more

    উলঙ্গ রাজা
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    সবাই দেখছে যে, রাজা উলঙ্গ,তবুও
    সবাই হাততালি দিচ্ছে।
    সবাই চেঁচিয়ে বলছে শাবাস, শাবাস।
    কারো মনে সংস্কার, কারও ভয়-
    কেউ বা নিজের বুদ্ধি অন্য মানুষের কাছে বন্ধক দিয়েছে
    কেউ বা পরান্নভোজী, কেউ
    কৃপাপ্রার্থী, উমেদার, প্রবঞ্চক;
    কেউ ভাবছে, রাজবস্ত্র সত্যিই অতীব সূক্ষ্ম,
    চোখে পড়ছে না যদিও, তবুও আছে
    অন্তত থাকাটা কিছু অসম্ভব নয়।

    গল্পটা সবাই জানে।
    কিন্তু সেই গল্পের ভিতরে
    শুধুই প্রশস্তি বাক্য-উচ্চারক কিছু
    আপাদমস্তক ভিতু, ফন্দিবাজ অথবা নিবোর্ধ স্তাবকই ছিল না
    একটি শিশুও ছিল-
    সত্যবাদী, সরল, সাহসী একটি শিশু।
    নেমেছে গল্পের রাজা বাস্তবের প্রকাশ্য রাস্তায়-
    আবার হাততালি উঠছে মুহুর্মুহু
    জমে উঠছে স্তাবক- বৃন্দের ভিড়।
    কিন্তু সেই শিশুটিকে আমি
    ভিড়ের ভিতর আজ কোথাও দেখছি না।
    শিশুটি কোথায় গেল? কেউ কি কোথাও তাকে কোন
    পাহাড়ের গোপন গুহায় লুকিয়ে রেখেছে?
    নাকি সে পাথর-ঘাস-মাটি নিয়ে খেলতে খেলতে
    ঘুমিয়ে পড়েছে কোন নির্জন নদীর ধারে কিংবা
    প্রান্তরের গাছের ছায়ায়

    যাও, তাকে যেমন করেই হোক খুজেঁ আনো।
    সে এসে একবার এই উলঙ্গ রাজার সামনে নির্ভয়ে দাঁড়াক।
    সে এসে হাততালির উর্ধ্বে গলা তুলে জিজ্ঞাসা করুক;
    রাজা, তোর কাপড় কোথায়?

    In English Font:

    Ulongo Raja
    Nirandronath Chakraborty

    Sobai dekheche je, raja ulongo, tobuo
    Sobai hattali dichey
    Sobai chechiye bolche sabas, sabas
    Karo mone songskar, karo’o voy-
    Keu ba nijer buddi onno manuser kache bondhok deyeche
    Keu ba porannovuji, keu kripaprarti, umadar, probonchok;
    Keu vavche, rajbostro sotti’i otibo sukko
    Chokhe poreche na jodio, tobuo aache
    Onthoto thakata kichu oshomvov noy

    Golpo sobai jane
    Kintu sei golper vitore
    Suduei prososti vithu, fondibaz othoba niboddo shabok’i chilo na
    Akti sishu chilo-
    Sottobadi, sorol, sahosi akti sishu
    Nameche golper raja bastober prokasho rastay-
    Abar hattali uteche muhurmuhu
    Jome uteche stabok-brinder bhir
    Kintu sei sishutike ami
    Bhirer vitor aaj’o kota’o dekhchi na
    Sishuti kutay gelo? Keu ki kuta’o take kuno
    Paharer gupon guhay lukiye rekeche?
    Na-ki se pator-gaas-mati niye khelte khelte
    gumiye poreche kuno nirjon nodir dhare
    kinba pranther gacher chayay

    Jaw, take jemon kore’ei houk khuje aano
    Se ashe akbar ei ulongo rajar samne nirvoye dhadrak
    Se ashe hattali urdhe gola tule jiggasha koruk;
    Raja, tor kapor kuthay?

    See less
    • 0
  2. This answer was edited.

    শিল্পী - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ‘শিল্পী’ গল্পের মাধ্যমে এক সামাজিক উত্তরণ তথা জন জাগরণের ডাক দিয়েছেন – মূলত বলা ভাল সামাজিক শােষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধাচরণে যে নিম্নশ্রেণীর মানুষেরও সমান অধিকার আছে তারই যেন প্রকাশ সােচ্চার হয়েছে এ গল্পে এছাড়া রয়েছে সংগ্রামী এক মানুষের শিল্প স্ততRead more

    শিল্পী – মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ‘শিল্পী’ গল্পের মাধ্যমে এক সামাজিক উত্তরণ তথা জন জাগরণের ডাক দিয়েছেন –
    মূলত বলা ভাল সামাজিক শােষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধাচরণে যে নিম্নশ্রেণীর মানুষেরও সমান অধিকার আছে তারই যেন প্রকাশ সােচ্চার হয়েছে এ গল্পে এছাড়া রয়েছে সংগ্রামী এক মানুষের শিল্প স্তত্বাকে বাঁচিয়ে রাখার টানাপােড়নে ‘শিল্পী’ থাকার প্রকৃত কাহিনী।

    তাঁতিপাড়ার মানি তাঁতি এ গল্পের কেন্দ্রিয় চরিত্র। বস্তুত সে একজন শিল্পী। কেন? সে হাজার অভাবেও সস্তায় কাপড় বােনার কথা স্বপ্নেও ভাবতে পারে না। সাতপুরুষের এই তাঁতির বংশ এককালে বেনারসী বুনত, এখনও বেশী দামের কাপড় না বুনলে মদনের মন ভরে না। এখানেই মদনের শিল্পী মন – মানসিকভাবে তার শিল্পী হয়ে ওঠা – তাই কিছুতেই মদন ভুবন বা মিহির বাবুর কাছ থেকে বেশি দামে সস্তা কাপড়ের সুতাে কিনতে রাজি হয় না। শত দারিদ্রের মধ্যে স্পর্ধা ও জাত্যাভিমান হারায় না মদন তাই ভুবনের ‘বােকা’ অপবাদের উত্তরে সঠিক প্রত্যুত্তর দিতে তার বাঁধে না। অসামান্য চরিত্রবল ও দৃঢ়তা নিয়ে অন্নহীন সংসার আসন্নপ্রবণা স্ত্রী, সাতদিন তাঁতবন্ধ থাকার বাস্তবের সামনে দাঁড়িয়েও মাথা উঁচু করে থাকে মদন। এই মদনকে বুঝতে পারে না ভুবন – মদনের অভাবে না ভেঙে পড়ে বড় বড় কথা বলা বা প্রাণ খুলে হেসে ওঠার অতল রহস্য সে বােঝে না কেননা সে মদনকে তাঁতি পরিচয়েই জেনেছিল, জানেনি মদন ছিল শিল্পী।

    ‘লেখকের কথা’ রচনায় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন – খালের ধারে, নদীর ধারে, গ্রামের ধারে বসানাে গ্রামচাষি, মাঝি, জেলে, তাঁতিদের পীড়িত ক্লিষ্ট মুখ দেখতেন তিনি অহরহ আর ‘মধ্যবিত্ত আর চাষাভুষাের ওই মুখগুলি আমার মধ্যে মুখর অনুভুতি হয়ে চ্যাঁচাত – ভাষা দাও, ভাষা দাও। সেই ভাষাই তিনি দিয়েছিলেন শিল্পী’ গল্পের মদনের মুখে। সে অনায়াসে তাঁতি সমাজের আপােষহীন শ্রেণীসংগ্রামের নায়ক হয়ে ওঠে, তাকে নিয়ে তাই প্রবাদ তৈরি হয় মদন যখন গামছা বুনবে। সে অনমনীয়তা থেকে সে নিচুতলার প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরের ধারক হয়েই বলে বড়াে বাড় বেড়েছে বাবুদের – একথা কেবল ব্যক্তিপ্রত্যাখ্যানের প্রতিবাদ নয় – এ প্রতিবাদ সমস্ত শ্রেণীসংগ্রামী মানুষের প্রতিবাদ।।

    এ গল্পের শেষ পর্বে ব্যক্তি মদনের সঙ্গে শিল্পীমদনের দ্বন্দ্ব দেখা যায় – সে দ্বন্দ্বে পরিস্থিতির হাতে বিকারগ্রস্থ মদনকে পাই আমরা। সাধারণ মানুষ হয়ে এই একবারই গল্পে আসে মদন যেখানে তার মানসিক সহ্য ক্ষমতা সামান্য সময়ের জন্য হলেও ভেস্তে যায়, ভুবনের দাদন গ্রহণ করে সে। কিন্তু শিল্পীর সবচেয়ে বড়াে সম্পদ আত্মাভিমান, তাই সে পরদিন সকালে সবকিছু ফেরত দিয়ে বলে ‘মদন তাঁতি যেদিন গামছা বুনবে – আর বুড়াে ভােলাকে বলে বেইমানি করব তােমাদের সাথে কথা দিয়ে। এখানেই শিল্পী সত্তাকে নষ্ট করতে পারে না। এভাবেই প্রকৃত শিল্প ভাবনার মধ্য দিয়ে শিল্পীসত্তা জয় লাভ করে।

    ‘শিল্পী’ গল্পের মধ্য দিয়ে লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় দেখালেন আত্মহত্যা বা নৈরাশ্য মানুষের জীবনের শেষ কথা নয় – তাই হাজার অভাব অতিক্রম করে শিল্পীর শিল্পসত্ত্বাই শেষ পর্যন্ত বেঁচে যায় অর্থাৎ সংগ্রামী মানুষ চির অপরাজেয়। এছাড়া নিম্নশ্রেণীর মানুষও যে একজন সামাজিক মানুষ তারও যে দায়বদ্ধতা ও কর্তব্যবােধ রয়েছে এই সমাজের প্রতি-শিল্পী সত্ত্বাকে বাঁচিয়ে রেখে সৎ পথে আত্মবল সম্বল করে যে প্রকৃতই জয়ী হওয়া যায় – এবং যথার্থ শিল্পীর সার্থকতা অর্জন করা যায় তাই এই গল্পের প্রধান উপজীব্য – এক্ষেত্রে গল্পটির নামকরণটিও যথার্থ রূপেই সার্থক।

    See less
    • 0
  3. সারাংশ ও মূলভাবঃ আরােগ্য কাব্যগ্রন্থের ‘ওরা কাজ করে’ কবিতায় কবি রবীন্দ্রনাথ বিশ্রামরত, কর্মহীন অবস্থায় মহাশূন্যের দিকে তাকিয়ে ছায়াছবি দেখতে পান। সে ছায়াছবিতে ভারতবর্ষের অতীত থেকে আজকের ইতিহাস যেমন তার কাছে প্রকাশিত হয় তেমনই ফুটে ওঠে লােকসাধারণের জীবনসত্য। জীবনের পরমসত্য যে মানুষদের কর্মে, শ্রমRead more

    সারাংশ ও মূলভাবঃ

    আরােগ্য কাব্যগ্রন্থের ‘ওরা কাজ করে’ কবিতায় কবি রবীন্দ্রনাথ বিশ্রামরত, কর্মহীন অবস্থায় মহাশূন্যের দিকে তাকিয়ে ছায়াছবি দেখতে পান। সে ছায়াছবিতে ভারতবর্ষের অতীত থেকে আজকের ইতিহাস যেমন তার কাছে প্রকাশিত হয় তেমনই ফুটে ওঠে লােকসাধারণের জীবনসত্য।

    জীবনের পরমসত্য যে মানুষদের কর্মে, শ্রমে, আত্মত্যাগে মহীয়ান তাদেরই জীবন নিষ্প্রদীপ – এ যন্ত্রণা কবির মর্মপীড়ণের মূল ছিলাে। রথের রশি’ নাটিকায় তাই এ মানুষদেরকেই তিনি রাষ্ট্রপরিচালক হিসেবে দেখিয়েছেন। রাষ্ট্র, সভ্যতার প্রবাহিত ইতিহাস ও তাঁর সুললিত ব্যাখ্যা রবীন্দ্রসাহিত্যের অন্যত্রর মতাে ‘ওরা কাজ করে’ কবিতাতেও প্রকাশিত।

    এ কবিতায় প্রবাহিত ইতিহাসের বিরাট দৃশ্যমালা দরােজা খুলেছে কবির চোখের সামনে। সুদীর্ঘ অতীত থেকে আজ পর্যন্ত ভারতবর্ষের ইতিহাস বিদেশিদের পদলাঞ্ছিত হবার ইতিহাস। অনার্য ভারতে আর্য প্রবেশ এবং “শক-হ্ণ-দল-পাঠান-মােগলের একদেহে লীন হওয়া। বিদেশিদের জয়ােল্লাশ, জয়ৌদ্ধত্ত্বের সামনে অসহায় ভারতবাসী। সমস্ত ভারতজুড়ে বিদেশীয় শাসকদের দম্ভ। প্রত্যক্ষ করেছেন কবি। পাঠান, মােঘলদের জয়স্তম্ভ কালের নিয়মে নিশ্চিহ্ন হয়েছে। সময়ের প্রবাহে ভারত শাস্ত্র করতে এসেছে আর এক বিদেশি ইংরেজ। ইতিহাসচেতনার ব্যঞ্জনাময় প্রকাশে কবি উল্লেখ করেছেন।

    “লৌহ বাঁধা পথে অনল নিঃশ্বাসী রথে।”

    ইংরেজ কীর্তি রেলপথ স্থাপ্নের সংকেতদ্যোতক এই চরণ একইসঙ্গে ইংরেজ লালসারও প্রকাশক। প্রগাঢ় দার্শনিক সত্তার অধিকারী রবীন্দ্রনাথ অবশ্য একইসঙ্গে বলেছেন ইংরেজের পণ্যবাহী সেনা একদিন ভারত থেকে তথা বিশ্ব থেকে লীন হয়ে যাবে।

    ‘জ্যোতিষ্কলােকের পথে রেখামাত্র চিহ্ন আঁকিবে না।

    কবির মৃত্যুর পরে ভারতের স্বাধীনতা এবং কবির জীবদ্দশায় স্বাধীনতা আগমনের লক্ষ্মণ সমাজদেহে প্রকাশিত নয়। তাই কবির প্রত্যয়ী বাণী আমাদের তাঁর দার্শনিক স্বত্তার কাছে শ্রদ্ধাশীল করে তােলে। কবি তাঁর কবিতায় বলেছেন মানুষের জীবনের নিত্যপ্রয়ােজনে যে বিপুল জনতাবলে জীবন থেকে মরণ পর্যন্ত তারাই ধ্রুব, সনাতন। রাজস্তম্ভ ভেঙে যায়, রণডঙ্কা নিঃশব্দ হয়, জয়স্তম্ভ কীর্তিগর্ব ভুলে পুরাকীর্তি হয়ে ওঠে, প্রবল প্রতাপশালীর স্থান হয় ছেলেভুলােনাে ছড়ায় কিন্তু ইতিহাসে প্রাণসঞ্চার করে ওই লােকসাধারণ, সভ্যতার পিলসুজরা, ইতিহাসের রথচক্র ‘ওরা’ই ওদের কর্মের মাধ্যমে সচল রাখে।

    ‘কিষাণের জীবনের শরিক যে জন কর্মে ও কথায় সত্য আত্মীয়তা করেছে অর্জন।

    ‘আরােগ্য কাব্যগ্রন্থের পাঠ্য কবিতায় রবীন্দ্রলােকচেতনের প্রকাশ ঘটেছে সাবলীলভাবে। ১৯৩০ খ্রীঃ-এ। রাশিয়া ভ্রমণের পর রবীন্দ্রনাথ যেন নিপীড়িতের পক্ষে লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা পান। পৃথিবী সে সময় নিদারুণ অর্থদৈণ্যে পিড়ীত, ভারতীয় সমাজও সাম্রাজ্যবাদী শােষণে বিহুল ত্রস্ত। মানবতার বেদীকে রক্তাক্ত করে তুলছে। বিশ্বব্যাপী বণিকতন্ত্রের লােভ। ব্যক্তিজীবনের অসুস্থতায় এ সময়ই কবি পেয়েছেন মৃত্যুর ভয়াবহ আমন্ত্রণের স্বাদ। মানুষ ও পৃথিবীর প্রবাহিত তরঙ্গ তাকে করে তুলছে আরাে দৃঢ়। মানবত্বের পরম সত্য তাই বারংবার রূপ পাচ্ছে তাঁর রচনায়।

    চলিতেছে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি প্রাণী এই শুধু জানি।। চলিতে চলিতে থামে, পণ্য তার দিয়ে যায় কাকে পশ্চাতে যে রহে নিতে ক্ষণপরে সেও নাহি থাকে। (রােগশয্যায়)
    এই জীবনসত্য বহনকারীদের সম্পর্কে পাঠ্য কবিতায় বলেছেন –

    ‘মাটির পৃথিবী পানে আঁখি মেলি যবে দেখি সেথা কলকলরবে বিপুল জনতা চলে ।
    নানা পথে নানা দলে দলে যুগযুগান্তর হতে মানুষের নিত্যপ্রয়ােজনে। জীবনে মরণে।

    বিশ্বজীবন প্রবাহের এই সত্যকে প্রকাশ গিয়ে এ কবিতায় এদের জীবন, এদের কথা, তাদের ভাষা কোন কিছুই সামাজিক স্বীকৃতি প্রাপ্ত নয় বলে কবি কলকলরবে বলেছেন, বলেছেন এরা কেউ জন নয় – জনতা। এদের ব্যক্তিপরিচয়ে সমাজে উপেক্ষিত বলে কবি এদের কবিতায় তুচ্ছার্থবােধক সর্বনাম ‘ওরা” বলে চিহ্নিত করেছেন। কিন্তু এদের কর্মক্ষেত্র সর্বত্র, এরাই সভ্যতার বাহক, ধারক, পরিচালক – ওরা চিরকাল টানে দাঁড়, ধরে থাকে হাল ওরা মাঠে মাঠে বীজ বােনে, পাকা ধান কাটে।
    সভ্যতা অগ্রগতি ও দিশা দেওয়া এই ব্রাত্য, উপেক্ষিতরা সভ্যতার পিলসূজ। তারাই সভ্যতার গতি ও দিকনির্ণায়ক বলে দেশ-দেশান্তরে, অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ, পজ্ঞাব-বােম্বাই-গুজরাট, সমুদ্র নদীর ঘাট সর্বত্রই শােনা যায় এদের রব। উপনিষদ বলেছে মানবজীবনের মূলমন্ত্র চরৈবতি, চরৈবতি। এরা সেই মন্ত্রকে জীবনের মহামন্ত্রধ্বনিতে রূপান্তরিত করে রেখেছে – আগামীকেও রাখবে।

    See less
    • 2
  4. সারমর্ম: ‘ছাড়পত্র’ কাব্যগ্রন্থের ‘আঠারাে বছর বয়স’ কবিতায় কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ‘আঠারাে’কে কৈশাের ও যৌবনের বয়ঃসন্ধির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। পরাধীন, যুদ্ধ-দাঙ্গা-দুর্ভিক্ষ পীড়িত বঙ্গ তথা ভারতীয় সমাজে আঠারাে এক প্রথা ভাঙ্গা বিস্ময়। কবি আঠারাের চরিত্র ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণে আঠারাে বছর বয়েসেরRead more

    সারমর্ম:

    ‘ছাড়পত্র’ কাব্যগ্রন্থের ‘আঠারাে বছর বয়স’ কবিতায় কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ‘আঠারাে’কে কৈশাের ও যৌবনের বয়ঃসন্ধির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। পরাধীন, যুদ্ধ-দাঙ্গা-দুর্ভিক্ষ পীড়িত বঙ্গ তথা ভারতীয় সমাজে আঠারাে এক প্রথা ভাঙ্গা বিস্ময়। কবি আঠারাের চরিত্র ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণে আঠারাে বছর বয়েসের নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলাে খুঁজে পেয়েছেন –
    ১) আঠারাে বছর বয়স দুঃসহ, ২) মাথা তােলার ঝুঁকি নেবার স্পর্ধাদীপ্ত, ৩) দুঃসাহসী, ৪) নির্ভীক, ৫) অসম্ভবকে সম্ভব করতে চায়, ৬) তীব্র আত্মমর্যাদা সম্পন্ন, ৭) ভেঙে পড়তে জানে না, ৮) জীবনের সঙ্গে জীবনকে মেলাতে জানে, ৯) অন্তরশক্তিতে বলীয়ান, ১০) দেশের সমাজের কল্যানে আত্মােৎসর্গ করতে বা অন্যায়কারীকে বধ করতে সদা প্রস্তুত, ১১) অপ্রতিরােধ্য, সমস্ত প্রতিবন্ধতাকে চূর্ণ করে দিতে চায়, ১২) প্রতিকূলতায় নত হয় না, ১৩) বিপদের মুখে এগিয়ে যায়, ১৪) নতুনের পন্থী, ১৫) সংশয়, দ্বিধাহীন প্রাণে সর্বদা এগিয়ে চলার বাসনা।

    পরাধীন ভারতের দ্বন্দ্ব-দাঙ্গা-হতাশা-অবক্ষয় পীড়িত সময়ে কবি কিশাের সুকান্ত আঠারাের মধ্যে খুঁজে পেয়েছেন নতুন জীবনস্পন্দ। কৈশােরের কোমল, স্বপ্নময়তা আর যৌবনের উদ্দাম, নির্ভীক, দুঃসাহসীপনার সংযােগ আঠারাে। যৌবরাজ্যে অভিষেকের আনন্দে সে মাথা তােলার ঝুঁকি নেয়, অসম্ভবকে সম্ভব করতে ব্রতী হয়, আত্মমর্যাদায় মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়। কান্না তার কাছে অগৌরবের প্রতীক হয়ে ওঠে। সুগভীর প্রাণশক্তি তাকে বৃহত্তর জীবনের সঙ্গে যুক্ত করে।

    কাজ করতে গিয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ আঠারাে দেশ-সমাজমানুষের কল্যানমঙ্গলহিত সাধনে আত্মােৎসর্গ করতে যেমন পিছপা হয় না, তেমনই প্রয়ােজনে অপকারীর বিনাশেও সে দ্বিধাহীন।আঠারােই আগামী তাই আঠারাের কানে কতশত মন্ত্রণা আসে। আত্মকে সনাক্ত না করতে পারার যন্ত্রণাদীর্ণ আঠারাে অপ্রতিরােধ্য। সময়ের বুকে সে তােলে পরিবর্তনের ঝড়। কিন্তু অনভিজ্ঞতা অন্তরায় হয়। ফলে প্রতিকূলতায় সে ক্ষতবিক্ষত হয়, হয় লক্ষ্যচ্যুত। যৌবনের উদ্দামতা তাকে এগিয়ে নিয়েছিলাে অন্তরের কৈশাের কোমলতা এই ব্যর্থতায় বেদনাগ্রস্ত করতে থাকে তাকে। সাময়িকভাবে হতাশাচ্ছন্নও হয় সে।

    এই কঠোর-কোমলের সমন্বয়ই আঠারাে। আঠারাের হতাশা, স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা বেদনাতুর হওয়া স্বত্তেও আঠারাের জয়ধ্বনি শােনেন কবি। পরাধীন ভারতের দুঃসহ পটভূমিতে আঠারােই তাে ত্রাণ । কেননা আঠারাে প্রতিকূলতায় বিনষ্ট হয় না, বিপদে বুক বেঁধে এগােয়। সর্বদা নতুনের পন্থী আঠারাে লক্ষ্যপথে এগােতে ভয় পায় না। সবচেয়ে বড়াে কথা তারা যা করে যতটুকু করে নির্ভয়ে, সাহসের সঙ্গে, সংশয়হীনভাবে করে। তাই আত্মসংকটদীর্ণ, বহুধাবিভক্ত পরাধীন ভারতবাসীর মধ্যে কবি সুকান্ত আঠারাের বৈশিষ্ট্যগুলাে অনাবিল, স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশ পাওয়ার কামনা করেছেন।

    See less
    • 0
  5. ভয়ংকর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয় ভূমিকা – প্রকৃতির রূপমুগ্ধতায় মানুষ যেমন দিশেহারা হয় তেমনি প্রকৃতির রুদ্র ভয়ংকর রূপের কাছে মানুষের অসহায়তার সীমা থাকে না। মানুষ প্রকৃতিকে আজও ১ শতাংশ বুঝে উঠতে পারে নি – তাই তাে তার প্রলয়ংকরী রূপ মাঝে মাঝে মানুষকে নাস্তানাবুদ করে তােলে। মানুষের হাজারাে গবেষণা তাই তাRead more

    ভয়ংকর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয়

    ভূমিকা – প্রকৃতির রূপমুগ্ধতায় মানুষ যেমন দিশেহারা হয় তেমনি প্রকৃতির রুদ্র ভয়ংকর রূপের কাছে মানুষের অসহায়তার সীমা থাকে না। মানুষ প্রকৃতিকে আজও ১ শতাংশ বুঝে উঠতে পারে নি – তাই তাে তার প্রলয়ংকরী রূপ মাঝে মাঝে মানুষকে নাস্তানাবুদ করে তােলে। মানুষের হাজারাে গবেষণা তাই তাে বার বার পর্যদস্ত হয়। বর্ষার নদীর উন্মত্ত তরঙ্গকে যেমন বেঁধে রাখতে পারে নি মানুষ তেমনি আজও পারেনি সমুদ্রের দিকে অঙ্গলি সংকেত করে বিশেষ সীমায় তাকে বেঁধে রাখতে। আর মানুষের সভ্য সুন্দর সভ্যতা বার বার ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয় যখনই প্রকৃতি নির্মম শােধ নেয়। প্রকৃতির এই আচরণকে ইংরেজিতে বলে –‘Nature red in tooth and claws। প্রকৃতির এমনই এক নির্মম মূর্তির মুখােমুখি হল ২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর রবিবার সকালে। প্রকৃতির নির্মমতা রূপ নিল সুনামী নাম্নী সমুদ্রদানবরূপে। সুনামি আজ গােটা বিশ্বের মানুষের কাছে আতঙ্কগ্রস্ত দুঃখ বিহুল করা ভয়ংকর এক শব্দ, ভয়ংকর এক নাম।

    সুনামি কী? সুনামি (Tsunami) কথাটি জাপানী শব্দ। সমুদ্রতলে প্রচণ্ড ভূমিকম্পের ফলে সমুদ্রতীর ছাপিয়ে যে ভয়ংকর জলােচ্ছ্বাস দেখা দেয় – তাই সুনামি। ভূবিজ্ঞানীদের অভিমতানুযায়ী, সমুদ্র তলদেশে ভূকম্পনের দরুণ একটি স্তর আর একটি স্তরের উপরে উঠে গেলে যে ফাটলের সৃষ্টি হয় ও সেই ফাটল দিয়ে পাক খেয়ে। জল ওপরের দিকে ওঠে এবং যার ফলে ঢেউ তৈরি হয় সেই ঢেউ প্রচণ্ড গতিবেগে গভীর সমুদ্র দিয়ে এগিয়ে যায়। তীরের কাছে এসে সেই জলরাশির গতিবেগ কমে গেলেও বেড়ে যায় উচ্চতা। প্রায় ১০ মিটার উচ্চতার জলরাশি সমুদ্রের তীরভূমিতে ছাপিয়ে পরে। আর তাতেই ধুয়ে মুছে একাকার হয়ে যায় মানুষের হাতে তৈরি সুন্দর সভ্য জনজীবন।

    ২৬শে ডিসেম্বরের সুনামির আঘাত – ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা উপকূলের কাছে ভারত মহাসাগরের ৪০ কিলােমিটার নিচে ৮.৯ মাত্রার যে ভূমিকম্প হয় সেই ভূমিকম্পই দক্ষিণ-পূর্ব। এশিয়ার কয়েকটি দেশে চরম বিপর্যয় ডেকে আনে। সুমাত্রার সমুদ্রতলে এই ভূকম্পনের পর পরই আন্দামানের নিকটবর্তী সমুদ্রতলে আর একটি কম্পন হয়, ফলে সমস্যা আরও ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। ভূকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, সুমাত্রা কাছে সমুদ্রতলে কেন্দ্রীভূত ভূমিকম্পের ধ্বংসাত্মক শক্তি ছিল একটি পারমাণবিক বােমার থেকেও ১০ লক্ষ গুণ অধিক। এই ভয়ংকর তাণ্ডবের অনিবার্য প্রভাবে উপকূলে ঝাপিয়ে পড়ে সুনামি।।

    ক্ষয়ক্ষতি – ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলি হল ইন্দোনেশিয়া, সুমাত্রা, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপ, কেরালা, তামিলনাড়ু, ওড়িশা আর আফ্রিকার সােমালিয়া। টাকার অঙ্কে ক্ষতির পরিমাণ সামগ্রিকভাবে কোনদিনই জানা যাবে না। বিগত ৪০ বছরের মধ্যে ভয়ংকরতম দুর্বিপাক। গত একশ বছরের শক্তির নিরিখে পঞ্চম স্থানাধিকারী সুনামি। সুনামির আঘাতে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে হাজার হাজার বাসভূমি, মারা গেছে ৩ লক্ষেরও বেশি মানুষ, নষ্ট হয়েছে ফসল, বনসম্পদ, প্রাণ হারিয়েছে জীবজন্তু – বহু মানুষ যারা সুনামিতে প্রাণে বেঁচে গেছেন তাঁরা মানসিক ব্যাধিতে ভুগছেন, পরিবর্তন হয়েছে কোথাও কোথাও ভৌগলিক মানচিত্রও। প্রিয়জন হারানাের যন্ত্রণা নিয়ে আজও বেঁচে আছে বহু মানুষ।

    ত্রাণ ও পুণর্গঠন – এই চরম বিপর্যয়ে পূর্ণ উদ্যমে বহু মানুষ ত্রাণ ও পুণর্গঠনের কাজে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জ ঘােষণা করেছে ৫০০ কোটি ডলার সাহায্যের ব্যবস্থা করবে তারা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, চীন, জাপানও সাহায্য করবে বলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়। ভারতবর্ষের সরকার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং জনসাধারণও ত্রাণ ও পুণর্গঠনের কাজে এগিয়ে এসেছে, এছাড়া বেশ কিছু সংবাদপত্র ত্রাণ তহবিলের মাধ্যমে অর্থসাহায্য করেছে।

    উপসংহার – সুনামি আমাদের কাছে এক বাস্তবচিত্র রেখে গেছে – আজও যে প্রকৃতির কাছে মানুষ শিশু এরই প্রমাণ দিয়ে গেছে – এছাড়া নানা সামাজিক অবক্ষয়ে মানুষের মানবিকতাবােধ মূল্যহীন হয়ে গেছে এই ভাবনাকে ভ্রান্ত প্রমাণ করে মানুষ মানুষের পাশে দাড়িয়েছে, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে অকপটে। এখন ভাবনা কিভাবে আমরা এই সুনামির কবল থেকে রক্ষা পাব? দিল্লির মৌসম ভবনের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ দপ্তরের বিশেষজ্ঞ, অসীমকুমার ঘােষ বলেছেন, “ঘূর্ণিঝড়ের আগাম পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হলেও ভূমিকম্পের পূর্বাভাস আমরা দিতে পারি না।” তাহলে সুনামি থেকে পরিত্রানের উপায়? বিশেষজ্ঞদের মতে ‘সুনামি’ থেকে পরিত্রাণের উপায় প্রবাল প্রাচীর আর ম্যানগ্রোভ বা লবণাম্ব উদ্ভিদ, দুটোই প্রাকৃতিক – মানুষের চেষ্টা থাকবে এই দুটোরই সমুদ্র উপকূলভাগে বাড়ানাের উদ্যোগ। কালক্রমে আর সুনামি ভয়ংকর। রূপ নিতে নিজেই যেন ভয় পায় এমন চেষ্টা মানুষকে করতে হবে।

    See less
    • 0
  6. Can-কি - I-আমি - call-কল/ডাক - You-তোমাকে/ আপনাকে Can i call you - আমি কি তোমাকে কল করতে পারি /আমি কি তুমাকে ডাকতে পারি For example: Can I call you after four PM-আমি কি তোমাকে চার টার পর কল করতে পারি । Can I call you my hero- আমি কি তোমাকে আমার নায়ক বলে ডাকতে পারি। Can I call you at my office- আমি কRead more

    Can-কি – I-আমি – call-কল/ডাক – You-তোমাকে/ আপনাকে

    Can i call you – আমি কি তোমাকে কল করতে পারি /আমি কি তুমাকে ডাকতে পারি

    For example:

    Can I call you after four PM-আমি কি তোমাকে চার টার পর কল করতে পারি ।

    Can I call you my hero- আমি কি তোমাকে আমার নায়ক বলে ডাকতে পারি।

    Can I call you at my office- আমি কি তোমাকে আমার অফিসে ডাকতে পারি।

    See less
    • 0
  7. খোশ আমদেদ মুলত একটি ফারসি বাক্য। যাহা কোন অথিতি আপ্যায়নের সময় বা কাউকে ধন্যবাদান্তে  ব্যবহৃত হয়। খোশ- শুভ, মঙ্গলকর, আনন্দময় আমদেদ- আগমন,পদার্পণ খোশ আমদেদ- শুভ আগমন বা স্বাগতম In English - Warm Welcome or Welocome উদাহারন সরূপঃ -খোশ আমদেদ এ বাদশাহ সালামত -খোশ আমদেদ মাহে রামযান    

    খোশ আমদেদ মুলত একটি ফারসি বাক্য। যাহা কোন অথিতি আপ্যায়নের সময় বা কাউকে ধন্যবাদান্তে  ব্যবহৃত হয়।

    খোশ- শুভ, মঙ্গলকর, আনন্দময়
    আমদেদ- আগমন,পদার্পণ

    খোশ আমদেদ- শুভ আগমন বা স্বাগতম
    In English – Warm Welcome or Welocome

    উদাহারন সরূপঃ

    -খোশ আমদেদ এ বাদশাহ সালামত

    -খোশ আমদেদ মাহে রামযান

     

     

    See less
    • 0
  8. Pursuing -অন্বেষণ করা (কোনো উদ্দেশ্য)  অথবা  চালানো বা চালিয়ে যাওয়া বা কাজে লিপ্ত থাকা । graduation- স্নাতক, ডিগ্রি For Example: -I am pursuing graduation in Economics from Delhi University (আমি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থশাস্ত্রে স্নাতক করিতেছি) - Are you pursuing graduation in Bengali? (তুমি কিRead more

    Pursuing -অন্বেষণ করা (কোনো উদ্দেশ্য)  অথবা  চালানো বা চালিয়ে যাওয়া বা কাজে লিপ্ত থাকা ।

    graduation- স্নাতক, ডিগ্রি

    For Example:

    -I am pursuing graduation in Economics from Delhi University (আমি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থশাস্ত্রে স্নাতক করিতেছি)
    – Are you pursuing graduation in Bengali? (তুমি কি বাংলায় স্নাতক করছ?)

    See less
    • 0
  9. শেষ বসন্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাব্যগ্রন্থ- পূরবী আজিকার দিন না ফুরাতে হবে মোর এ আশা পুরাতে-- শুধু এবারের মতো বসন্তের ফুল যত যাব মোরা দুজনে কুড়াতে। তোমার কাননতলে ফাল্গুন আসিবে বারম্বার, তাহারি একটি শুধু মাগি আমি দুয়ারে তোমার। বেলা কবে গিয়াছে বৃথাই এতকাল ভুলে ছিনু তাই। হঠাৎ তোমার চোখে দেখিয়াছি সন্ধ্যালোRead more

    শেষ বসন্ত

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    কাব্যগ্রন্থ- পূরবী

    আজিকার দিন না ফুরাতে
    হবে মোর এ আশা পুরাতে–
    শুধু এবারের মতো
    বসন্তের ফুল যত
    যাব মোরা দুজনে কুড়াতে।
    তোমার কাননতলে ফাল্গুন আসিবে বারম্বার,
    তাহারি একটি শুধু মাগি আমি দুয়ারে তোমার।

    বেলা কবে গিয়াছে বৃথাই
    এতকাল ভুলে ছিনু তাই।
    হঠাৎ তোমার চোখে
    দেখিয়াছি সন্ধ্যালোকে
    আমার সময় আর নাই।
    তাই আমি একে একে গনিতেছি কৃপণের সম
    ব্যাকুল সংকোচভরে বসন্তশেষের দিন মম।

    ভয় রাখিয়ো না তুমি মনে!
    তোমার বিকচ ফুলবনে
    দেরি করিব না মিছে,
    ফিরে চাহিব না পিছে
    দিনশেষে বিদায়ের ক্ষণে।
    চাব না তোমার চোখে আঁখিজল পাব আশা করি
    রাখিবারে চিরদিন স্মৃতিরে করুণারসে ভরি।

    ফিরিয়া যেয়ো না, শোনো শোনো,
    সূর্য অস্ত যায় নি এখনো।
    সময় রয়েছে বাকি;
    সময়েরে দিতে ফাঁকি
    ভাবনা রেখো না মনে কোনো।
    পাতার আড়াল হতে বিকালের আলোটুকু এসে
    আরো কিছুখন ধরে ঝলুক তোমার কালো কেশে।

    হাসিয়া মধুর উচ্চহাসে
    অকারণ নির্মম উল্লাসে,
    বনসরসীর তীরে
    ভীরু কাঠবিড়ালিরে
    সহসা চকিত কোরো ত্রাসে।
    ভুলে-যাওয়া কথাগুলি কানে কানে করায়ে স্মরণ
    দিব না মন্থর করি ওই তব চঞ্চল চরণ।

    তার পরে যেয়ো তুমি চলে
    ঝরা পাতা দ্রুতপদে দোলে,
    নীড়ে-ফেরা পাখি যবে
    অস্ফুট কাকলিরবে
    দিনান্তেরে ক্ষুব্ধ করি তোলে।
    বেণুবনচ্ছায়াঘন সন্ধ্যায় তোমার ছবি দূরে
    মিলাইবে গোধূলির বাঁশরির সর্বশেষ সুরে।

    রাত্রি যবে হবে অন্ধকার
    বাতায়নে বসিয়ো তোমার।
    সব ছেড়ে যাব, প্রিয়ে,
    সমুখের পথ দিয়ে,
    ফিরে দেখা হবে না তো আর।
    ফেলে দিয়ো ভোরে-গাঁথা ম্লান মল্লিকার মালাখানি।
    সেই হবে স্পর্শ তব, সেই হবে বিদায়ের বাণী।

     

    In English Font:

    Shesh Basanta
    Rabindranath Tagore

    Aajikar din na furate
    Hobe mor e asha purate
    Shudhu ebarer moto
    Basanter ful joto
    Jabo mora dujane kurate
    Tomar kanantole falgun aashibe barombar
    Tahari ekti shudhu magi ami duware tumar

    Bela kobe giyache brithay
    Etokal bhule chinu tai.
    Hothath tomar chokhe
    Dekiyachi shondhaloke
    Amar shomoy ar nai.
    tai ami eke eke gonitechi kriponer shomo
    Byakul shonkochbhore basantashesher din momo

    Bhoy rakhio na tuni mone
    Tumar bikoch fulbone
    Deri korbo na miche
    Fire chahibo na piche
    Din sheshe bidayer khone
    Chabo na tomar chokhe aakhijal pabo aasha kori
    Rakhibatre chirodin sritire karunaroshe bhori.

    Firiya jeyo na, Shono shono,
    Surja osta jay ni ekhono.
    Shomoy royeche baki;
    Shomoyere dite faki
    Bhabona rekho na mone kono
    Patar aaral hote bikaler aalotuku eshe
    Aro kichukhan dhore jhaluk tomar kalo keshe.

    Hashiya madhur ucchahashe
    Okaron nirmom ullashe
    banshoroshir tire
    Bhiru kathbiralire
    Shohosha chokito koro trashe
    Bhule jawa kothagulikane kane koraye sharan
    Dibo ba manthar kori oi taba chanchal charan.

    Tar pore jeyo tumi chole
    Jhorapata drutopode dole,
    Nire fera pakhi jobe
    Osfut Kakolirobe
    Dinantore khubda kori tule
    Benubonocchayaghana shondhay Tumar chobi dure
    Milaibe Godholir basharir Sharbashesh shure

    Ratri Jobe hobe ondhakar
    batayone boshiyo tomar
    Shab chere jabo, priye
    Shamukher path diye Fire dekha hobe na to ar
    Fele diyo bhore-gatha mlan mollikar malakhani
    Shei hobe sparsho tabo, shei hobe bidayer bani

    See less
    • 0
  10. নীরার জন্য কবিতার ভূমিকা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এই কবিতার জন্য আর কেউ নেই, শুধু তুমি, নীরা এ-কবিতা মধ্যরাত্রে তোমার নিভৃত মুখ লক্ষ্য করে ঘুমের ভিতরে তুমি আচমকা জেগে উঠে টিপয়ের থেকে জল খেতে গিয়ে জিভ কামড়ে একমুহূর্ত ভাবলে কে তোমার কথা মনে করছে এত রাত্রে–তখন আমার এই কবিতার প্রতিটি লাইন শব্দ অক্ষর কম ড্যাসRead more

    নীরার জন্য কবিতার ভূমিকা
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    এই কবিতার জন্য আর কেউ নেই, শুধু তুমি, নীরা
    এ-কবিতা মধ্যরাত্রে তোমার নিভৃত মুখ লক্ষ্য করে
    ঘুমের ভিতরে তুমি আচমকা জেগে উঠে টিপয়ের
    থেকে জল খেতে গিয়ে জিভ কামড়ে একমুহূর্ত ভাবলে
    কে তোমার কথা মনে করছে এত রাত্রে–তখন আমার
    এই কবিতার প্রতিটি লাইন শব্দ অক্ষর কম ড্যাস রেফ্‌
    ও রয়ের ফুট্‌কি সমেত ছুটে যাচ্ছে তোমার দিকে, তোমার
    আধোঘুমন্ত নরম মুখের চারপাশে এলোমেলো চুলে ও
    বিছানায় আমার নিশ্বাসের মতো নিঃশব্দ এই শব্দগুলি
    এই কবিতার প্রত্যেকটি অক্ষর গুণিনের বাণের মতো শুধু
    তোমার জন্য, এরা শুধু তোমাকে বিদ্ধ করতে জানে

    তুমি ভয় পেয়ো না, তুমি ঘুমোও, আমি বহু দূরে আছি
    আমার ভয়ংকর হাত তোমাকে ছোঁবে না, এই মধ্যরাত্রে
    আমার অসম্ভব জেগে ওঠা, উষ্ণতা, তীব্র আকাঙ্খা ও
    চাপা আর্তরব তোমাকে ভয় দেখাবে না–আমার সম্পূর্ণ আবেগ
    শুধু মোমবাতির আলোর মাতো ভদ্র হিম,
    শব্দ ও অক্ষরের কবিতায়
    তোমার শিয়রের কাছে যাবে–এরা তোমাকে চুম্বন করলে
    তুমি টের পাবে না, এরা তোমার সঙ্গে সারারাত শুয়ে থাকবে
    এক বিছানায়–তুমি জেগে উঠবে না, সকালবেলা তোমার পায়ের
    কাছে মরা প্রজাপতির মতো এরা লুটোবে। এদের আত্মা মিশে
    থাকবে তোমার শরীরের প্রতিটি রন্ধ্রে, চিরজীবনের মতো

    বহুদিন পরে তোমার সঙ্গে দেখা হলে ঝর্ণার জলের মতো
    হেসে উঠবে, কিছুই না জেনে। নীরা, আমি তোমার অমন
    সুন্দর মুখে বাঁকা টিপের দিকে চেয়ে থাকবো। আমি অন্য কথা
    বলার সময় তোমার প্রস্ফুটিত মুখখানি আদর করবো মনে মনে
    ঘরভর্তি লোকের মধ্যেও আমি তোমার দিকে
    নিজস্ব চোখে তাকাবো।
    তুমি জানতে পারবে না–তোমার সম্পূর্ণ শরীরে মিশে আছে
    আমার একটি অতি-ব্যক্তিগত কবিতার প্রতিটি শব্দের আত্মা।।

    In English font:

    Nirar Jonno kobitar Bhumika
    Sunil Gangopadhay

    Ei kobitar jonno ar keu nei, shudu tumi Nira
    Ei kobita moddhoratre tumar nibrito mukh lokkho kore
    Ghumer vitore tumi aachmoka jege uthe tipyer
    theke khete giye jiv kamre ek muhurta bhable
    Ke tumar kotha mone korche eto ratre-takhan amar
    Ei kobitar protiti line shabda okkhor kom dash ref
    O royer futki shomet chute jacche tumar dike, tumar
    Adoghumonto naram mukher charpashe elommelo chule o
    Bichanay Amar nishasher moto nishabdo ei shabdoguli
    Ei kobitar protekti okkhar guniner baner moto shudhu
    Tumar jonno, Era shudu tumake biddho korte jane

    Tumi bhoy peyo na, Tumi Ghumo, ami bahudure aachi
    Amar bhoyonkar haat tumake chube na, Ei moddhoratre
    Amr oshombob jege utha, ushanata, tibra aakanka o
    Chapa aartarab tumake bhoy dekhabe na-Amar shampurna aabeg
    Shudu mombatir alor moto bhadra him,
    Shabda o okkhorer kobitay
    Tumar shiyorer kache jabe-era tumake chumban korle
    Tumi ter pabe na, era tumar shange shararat shuye thakbe
    Ek bichanay-tumi jege uthbe na, shokalbela tumar payer
    kache mora projapatir moto era lutobe. eder atma mishe
    thakbe tumar sharirer protiti randre, chirojiboner moto

    Bahudin pore tumar shange dekha hole jharnar jaler moto
    Heshe uthbe, kichu e na jene. Nira, Ami tumar omon
    shundar mukhe baka tiper dike cheye thakbo. Ami onno kotha
    bolar shomoy tumar prosfutito mukhkhani adar korbo mone mone
    Gharbhorti loker moddheo ami tumar dike
    Nijossho chokhe takabo.
    Tumi jante parbe na-tumar shampurna sharire mishe aache
    Amar ekti oti-bektigoto kobitar protiti shabder aatma

     

    See less
    • 0