দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান ভূমিকা : মানব জাতির গৌরবের শিখরে উত্তরণে যার ভূমিকা নিঃসংশয়ে ।এক বাক্যে স্বীকার করে নিতে হয় তার নাম বিজ্ঞান। বিজ্ঞান’ শব্দটির অর্থ - বিশেষ জ্ঞান। মানুষ অন্য প্রাণীর তুলনায় অনেক উন্নত ও বুদ্ধিমান। তাই সীমাবদ্ধ জ্ঞানের বাইরে বিশেষ জ্ঞানের সাহায্যেই সে বিশ্বের সব প্রাণীদের উপRead more
দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান
ভূমিকা : মানব জাতির গৌরবের শিখরে উত্তরণে যার ভূমিকা নিঃসংশয়ে ।এক বাক্যে স্বীকার করে নিতে হয় তার নাম বিজ্ঞান। বিজ্ঞান’ শব্দটির অর্থ – বিশেষ জ্ঞান। মানুষ অন্য প্রাণীর তুলনায় অনেক উন্নত ও বুদ্ধিমান। তাই সীমাবদ্ধ জ্ঞানের বাইরে বিশেষ জ্ঞানের সাহায্যেই সে বিশ্বের সব প্রাণীদের উপর অধিকার স্থাপন করেছে। মানুষের কাছে কোন কিছুই আজ আর অসম্ভব নয়। কোন একদিনের সেই গুহাচারী মানুষ আজ নির্মাণ করছে গগনস্পর্শী অট্টালিকা। আদিম মানুষ থেকে আধুনিক জীবনে উপনীত হওয়ার একমাত্র অবলম্বন হলাে বিজ্ঞান।
বিজ্ঞানের জন্ম : সৃষ্টির ঊষালগ্নে মানুষ গভীর অরণ্যে, নদীতীরে বসবাস করতো । ভয়ঙ্কর প্রকৃতি বার বার মানুষকে হাতছানি দিয়ে ডাকত। গভীর অরণ্যে ঝড় ঝঞা-বন্দ্র বিদ্যুৎ আর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যে মানুষকে বাঁচতে হতাে নিরন্তর সংগ্রামের মধ্যে। মানুষ ছিল তখন প্রকৃতির হাতের ক্রীড়নক। সে দিন মানুষকে রক্ষা করতে আসেননি স্বর্গবাসী কোন দেবতা। কিন্তু মানুষ যেদিন নিজ বুদ্ধি বলে পাথর ঘষে অস্ত্র নির্মাণ করে পশুদের আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করল, তারপর ভয়ঙ্কর প্রকৃতিকে বশে এনে আত্মরক্ষার চিন্তা করল, সে দিন জন্ম হল বিজ্ঞানের।সে বিজ্ঞান-বুদ্ধির উপর নির্ভর করে মানুষ শিখেছে আগুনের ব্যবহার, শিখেছে কৃষিকর্ম, বয়ন কর্ম আর রাস্তা নির্মাণ। ওই বিজ্ঞানের বলেই নিসর্গ প্রকৃতি তথা জলে-স্থলে-আকাশ উড়াল বিজয় পতাকা। কবির ভাষায়
“পাখিরে দিয়েছ গান,
গায় সেই গান
তার বেশী করে না সে দান,
আমারে দিয়েছ সুর।
আমি তার বেশি করে দান।
আমি গাই গান।
এভাবে মানুষ আপন প্রভাব বিস্তার করে বিধাতার শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করল।
দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞানের জয়যাত্রা : আজ শতশত শতাব্দী ধরে চলে আসছে বিজ্ঞানের জয়যাত্রা। সভ্যতার বিকাশ ও বিবর্তনে বিজ্ঞানের সীমাহীন অবদানের কথা আজ আর কারো অজানা নয়। বিজ্ঞানকে করায়ত্ত করে মানুষ সাগর লঙঘন। করল, উদ্দাম নদী স্রোতকে বশীভূত করে বাঁধ দিয়ে তার দুই তীর জুড়ে দিল। খাল নির্মাণ করে নদীর জল ধারাকে দিকে দিকে ছড়িয়ে দিয়ে মরু প্রান্তরকে উর্বর শস্য শালিনী করে তুলল। সকালে ঘুম থেকে উঠে দিন আরম্ভ করা থেকে রাত্রে শয্যা গ্রহণ, জীবনযাত্রার প্রতিটি পদক্ষেপ আজ বিজ্ঞানের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বলা যায়, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আমরা বিজ্ঞানের মুখাপেক্ষী।
বৈদ্যুতিক অবদান : বৈদ্যুতিক শক্তির সহায়তায় সুইচ টিপে উঠে যাচ্ছে। মানুষ ঘরের বিভিন্ন তলার কক্ষে। তাইতো আজ পাঁচতলা, দশতলা আর বাহান্ন তলা বাড়িতে হাটু ভেঙ্গে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠবার আর প্রয়ােজন নেই – রয়েছে লিফট।তাছাড়া বৈদ্যুতিক পাখা, হিটার, ফ্রিজ, ইলেকট্রিক ইস্ত্রি, ওয়াশিং মেশিন, ইলেকট্রিক বেল, ঘড়ি, দাড়ি কামানাের সরঞ্জাম। সর্বোপরি মােবাইল ফোন যা সকাল থেকে রাত্র পর্যন্ত এই গানটা পৃথিবীটাকে নিয়ে এসেছে মানুষের হাতের মুঠোয়। তাই আজ আর চিঠিপত্র লিখে সময় নষ্ট করতে হয় না – সময় গড়িয়ে আত্মীয় স্বজনের খবর নেওয়ার প্রয়ােজন হয় না। ইলেকট্রিকের মাধ্যমে E. V. M. মেশিনের দ্বারা জনসাধারণ তাদের নেতা নির্বাচন করেছেন অতি সহজে।
টেলিভিশনের অবদান : আধুনিক যুগে বিজ্ঞানের একটি শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার টেলিভিশন। যার কল্যাণে পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া বড় বড় ঘটনা সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চক্ষুগোচর হচ্ছে। এত সহজে এত অল্প সময়ে এত বিস্তৃত ভাবে লক্ষ লক্ষ জ্ঞান শিক্ষা ও আনন্দ বিতরণের ব্যবস্থায় দূরদর্শন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। দূরদর্শন ছাত্র-শিক্ষক, চাকুরিজীবি, রাজনৈতিক বা বৈজ্ঞানিক, শিক্ষিত-অশিক্ষিত সকলের জন্যই প্রয়ােজনীয়। আমেরিকার বক্তৃতা, ইংল্যান্ডের গান আর অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট খেলার বর্ণনা আমরা ঘরে বসেই টেলিভিশনে দেখতে পাই। এরকম আনন্দ দানের এত বড় মাধ্যম পৃথিবীতে কোন কালে ছিল না।
বিজ্ঞানের আবিষ্কার – কম্পিউটার ও লেপটপ : বিজ্ঞানের বিস্ময়কর আবিষ্কার কম্পিউটার আর ল্যাপটপ এর মাধ্যমে খুব কম সময়ের মধ্যে যােগ-বিয়ােগ, গুণ-ভাগের বড় বড় অংকের নির্ভুল ভাবে হিসেবে সম্পন্ন করা যায়। বর্তমানে বেঙ্ক, অফিস-আদালত, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এমনকি ব্যক্তিদের দৈনন্দিন জীবনে হিসাবের কাজে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
চিকিৎসাক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অবদান : পৃথিবীতে আজ মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি হয়েছে যার দৌলতে সে হচ্ছে চিকিৎসা শাস্ত্রে বিজ্ঞান। পদার্থ বিজ্ঞান এবং রসায়নের অগ্রগতি আরও বিস্ময়ের ব্যাপার। পূবে যে সব রোগ একে বারেই দুরারােগ্য ছিল আজ আর তা এমনটি নয়। বিজ্ঞান মানুষের হাতে তুলে দিয়েছে অনেক জীবনদায়ী ঔষধ যা বাড়াচ্ছে মানুষের গড় আয়ু। আজকের পৃথিবীতে কলেরা, মহামারী, টাইফয়েড, বসন্ত, কর্কট, যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর, ব্লাড ফ্লু প্রভৃতি মারাত্মক রোগ আর দুরারোগ্য নয়। চিকিৎসকরা রঞ্জন রশ্মির সাহায্যে শরীরের ভিতরকার ছবি তুলে তা পরীক্ষা করে চিকিৎসা করতে পারছেন। রেডিয়ামের দ্বারা দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে। কৃত্রিম হৃদয় স্থাপন, কিড়নি স্থাপন প্রতিদিনই বড় বড়চিকিৎসালয়ে চলছে। বস্তুত চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির কথা অল্প কথায় বলে শেষ করা যায় না।
কৃষিক্ষেত্রে সবুজ বিপ্লব : কৃষিক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অবদান আজকের দিনে অনস্বীকার্য। বিজ্ঞানের অবদানে উষর ভূমি আজ হয়েছে শস্য-শ্যামল ভূমি। পূর্বে যেভাবে ছিল দৈব নির্ভর কৃষিকাজ অর্থাৎ আকাশ থেকে বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল, বর্তমানে তা আর নয়। উচ্চ ফলনশীল বীজ, রাসায়নিক সার, নানা প্রকার যন্ত্রপাতি পাম্প-মেশিন এবং অধিক ফলনের জন্য গাছের অনুখাদ্য আবিষ্কারের ফলে কৃষিতে সবুজ বিপ্লবের সৃষ্টি হয়েছে। দেশের লােকের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে।
উপসংহার : বিজ্ঞান যেভাবে দৈনন্দিন জীবনে অহরহ উন্নতি সাধন করে।চলেছে ঠিক সেভাবে বিজ্ঞানের আবার কিছু কিছু ধ্বংসাত্মক দিকও আছে। তবে মানুষের উপরে বিশ্বাস হারানাে ঠিক নয়। পৃথিবীতে এখনও বিবেকবান মানুষের অভাব নেই ধীর গতিতে হলেও বিশ্ববিবেক জাগ্রত হচ্ছে। আশা করা যায় মানুষ এই বিজ্ঞানকে সার্বিক মানব কল্যাণে ব্যবহার করবে। বিজ্ঞান কোটি কোটি মানুষের আশীর্বাদ লাভে ধন্য হবে।
See less
মহাপুরুষ শ্ৰীমন্ত শঙ্করদেব ভূমিকা : পৃথিবীতে যখনই অধর্ম আধিপত্য বিস্তার করে ফেলে তখনই সাধুজনদের রক্ষা ও অধর্মীদের বিনাশের জন্য ভগবান যুগে যুগে আবির্ভূত হন। আসল কথা এই যে, বিপন্ন পথভ্রষ্ট জাতিকে সুস্থ-সুন্দর পথ দেখাবার জন্য যুগের প্রয়োজনেই দেবকল্প মানুষের আবির্ভূত হয় । এরূপ ধর্মীয় ও সামাজিক পট ভূমRead more
মহাপুরুষ শ্ৰীমন্ত শঙ্করদেব
ভূমিকা : পৃথিবীতে যখনই অধর্ম আধিপত্য বিস্তার করে ফেলে তখনই সাধুজনদের রক্ষা ও অধর্মীদের বিনাশের জন্য ভগবান যুগে যুগে আবির্ভূত হন। আসল কথা এই যে, বিপন্ন পথভ্রষ্ট জাতিকে সুস্থ-সুন্দর পথ দেখাবার জন্য যুগের প্রয়োজনেই দেবকল্প মানুষের আবির্ভূত হয় । এরূপ ধর্মীয় ও সামাজিক পট ভূমিকায় শঙ্করদেব আবির্ভাব হয়ে সমগ্ৰ অসমীয়া জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সুস্থ জীবন চেতনায় প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এ কথা বলা যায় যে, শ্ৰীমন্ত শঙ্করদেব মধ্যযুগের জনজীবনে নবজাগরণ বা রেনেসাস ঘটিয়ে ছিলেন।
জন্ম ও বংশ পরিচয় : আসামের নগাওঁ জেলার অন্তর্গত বরদোয়ার আলিপুখুরী গ্রামে ১৪৪৯ খৃস্টাব্দে শঙ্করদেব জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম কুসুমবর ও মাতার নাম সত্যসন্ধ্যাদেবী। তার জন্মক্ষণে মঙ্গল সূচক নানা অলৌকিক ঘটনা ঘটেছিল। এ থেকেই তাকে বিষ্ণুর অংশাবতার বলে গ্রহণ করা হয়। অতি শৈশবে শঙ্কর তার পিতা মাতাকে হারান। তাই তিনি তার পিতামহী খেরসূতী আইর সযত্ন স্নেহে প্রতিপালিত হন। বাল্যকালে তাকে মহেন্দ্ৰ কন্দলীর পাঠশালায় ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি অলৌকিক প্রতিভার পরিচয় দিয়ে বাল্যশিক্ষা সমাপ্ত করেন। |
সাধনা ও আধ্যাত্ম সিদ্ধিলাভ: বাল্যকাল থেকেই শঙ্কর ধর্মপরায়ণ ও সত্যবাদী ছিলেন। অন্যান্য ধর্ম প্রচারক মহাপুরুষদের ন্যায় তিনি সংসার ধর্ম পরিত্যাগ করে সন্ন্যাস ধর্ম অবলম্বন করেননি। সংসারে থেকে সমাজের মধ্যে বাস করে পবিত্র ধর্মীয় জীবন যাপন করতেন। শঙ্করদেব উপলব্ধি করেছিলেন ঈশ্বর সর্বব্যাপী, সর্বশক্তিমান, নিরাকার আর অব্যক্ত।।
মতবাদ ও ধর্মপ্রচার : বৈষ্ণবীয় ভক্তির আলােকে তিনি উপলদ্ধি করেন, ‘কষ্ণস্তু ভগবান স্বয়ং’। তিনি এক এবং অদ্বিতীয়। সেই একেশ্বরই স্রষ্টা, দুষ্টা, ত্রাতা ও সংহার কর্তা। এই মতবাদের ভিত্তিতে শঙ্করদেব “এক শরণ ভাগবতী ধর্ম” প্রবর্তন প্রবর্তিত করেন। এই ধর্মীয় মতবাদের মূল কথা হলাে – শ্রী হরির শরণ নিয়ে তার নাম শ্রবণ ও কীর্তন করলে এ সংসারের পাপ-তাপ, জরা-ব্যাধি থেকে মুক্তি লাভ করা যায়। তার প্রবর্তিত ধর্মমতে অস্পৃশ্যতা, জাতিভেদ ও জীব হত্যার স্থান নেই। সর্বজীবেই ঈশ্বরের প্রকাশ এবং তারা সকলেই প্রণম্য।
তীর্থ পরিক্রমা ও গার্হস্থ্যধর্ম : পরিণত বয়সে শঙ্করদেব দু’বার নানা তীর্থে পরিভ্রমণ করেন। এই সময়ে তিনি বহু সাধু মহাপুরুষদের সঙ্গে ধর্মালােচনা করে এক নুতন দৃষ্টিলাভ করেন। ভারতের পবিত্র তীর্থ ক্ষেত্র গুলি পরিভ্রমণ করে সত্যজ্ঞান নিয়ে তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। তিনি সন্ন্যাসধর্ম গ্রহণ করেননি, তিনি ছিলেন নিরাসক্ত গৃহী। তার কাছে গৃহী ও ত্যাগীর স্থান সমান। তিনি মনে করতেন মানুষ সংসার ধর্ম পালন করলেও ঈশ্বরের করুণা লাভ করতে পারে।
ধর্মমতের সংক্ষিপ্ত পরিচয় : শ্ৰীমন্ত শঙ্করদেব ছিলেন মানব প্রেমিক। সকল মানুষই ঈশ্বরের সন্তান। প্রতিটি মানুষের মধ্যে একই-ভগবানের অংশ রয়েছে সুতরাং স্পৃশ্য ও অস্পৃশ্যের ভেদ সৃষ্টি করা মানে ঈশ্বরকে অবহেলা করারই নামান্তর।
“কোথা তুমি খুঁজিছ ঈশ্বর ?
জীবে প্রেম করে যেইজন। |
সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।”
– এই সত্যকে শঙ্করদেব মনে প্রাণে অনুভব করতেন। মানুষকে ভালবাসতে না পারলে, কেউ ঈশ্বরকে ভালবাসতে পারে না। “মানুষকে ভালবাস, সত্য কথা বল, মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করিবে না; তবেই পাইবে ভগবানের আশীর্বাদ, জীবনে আসিবে শান্তি ও মুক্তি।”
– এটাই ছিল শংকরদেবের বাণী ।
সাহিত্য কৃতি : শঙ্করদেব আদর্শ ধর্মনীতি ও সমাজনীতি প্রচারের জন্য বহু- গীত ও নাটক রচনা করেন। তার রচিত ‘বরগীত’ ও ‘অঙ্কীয়া নট” অসমীয়া সাহিত্যের অপূর্ব সম্পদ। তিনি বহু বরগীত এবং কালীয় দমন, কেলি গােপাল, রামবিজয়, রুক্মিনী হরণ, পারিজাত হরণ প্রভৃতি নাটক রচনা করেন। অসমীয়া ধর্মীয় সাহিত্য এই সকল গ্রন্থের প্রভাবে বিশেষ সমৃদ্ধ।
সাহিত্য সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অবদান : তিনি ভাগবতের কাহিনি অবলম্বন করে হরিশচন্দ্র উপাখ্যান, অজামিল উপাখ্যান, বলিছলন ইত্যাদি গ্রন্থ রচনা করেন। এগুলি ছাড়াও তিনি ‘ভক্তি প্রদীপ’, ‘অনাদি পাতন’, ‘ভক্তিরত্নাকর গুণমালা’, ‘রামায়ণের উত্তরাকাণ্ড’ ইত্যাদি গ্রন্থ রচনা করে অসমীয়া ধর্ম সংস্কৃতির পথ নির্দেশ করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থ সমূহে অসমীয়া জাতির রীতি-নীতি, আচার-ব্যবহার ও অসমীয়া সংস্কৃতির আদর্শ বর্ণিত হয়েছে। সমবেত কীর্তন ও নাট্যাভনয়ের পথিকৃৎ তিনি। তাছাড়া ‘নামঘর’ স্থাপন করা শঙ্করদেবের আর একটি কীর্তি। তার এসব কাজের ফলে অসমীয়া জনগণ ঐক্যবােধ ও মিলন চেতনায় দীক্ষিত হতে পেরেছে।
উপসংহারঃ মহাপুরুষ শঙ্কর দেব একশত কড়ি বৎসর বয়সে দেহত্যাগ করেন। এই কাল-সীমার মধ্যেই অসমীয়া সমাজ বহুমুখী সমৃদ্ধি লাভ করে। তার প্রবর্তিত নব বৈষ্ণব ধর্ম, রচিত সাহিত্য ধর্ম-সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবনকে সঞ্জীবিত করে। শ্ৰীমন্ত শঙ্করদেব একক প্রয়াসে একটি জাতির ধর্ম-সমাজ-সংস্কৃতিকে যে ভাবে সর্বাঙ্গীণ উন্নতি ও চিৎপ্রকর্ষের অভিমুখে প্রেরণ করেন, বিশ্বের ইতিহাসে তার তুলনা বিরল।
See less