Sign Up

Continue with Google
or use


Have an account? Sign In Now

Sign In

Continue with Google
or use


Forgot Password?

Don't have account, Sign Up Here

Forgot Password

Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.


Have an account? Sign In Now

Sorry, you do not have permission to ask a question, You must login to ask a question.

Continue with Google
or use


Forgot Password?

Need An Account, Sign Up Here

Please briefly explain why you feel this question should be reported.

Please briefly explain why you feel this answer should be reported.

Please briefly explain why you feel this user should be reported.

Bengali Forum Logo Bengali Forum Logo
Sign InSign Up

Bengali Forum

Bengali Forum Navigation

  • বিষয়
  • ব্লগ
  • হযবরল
Search
Ask A Question

Mobile menu

Close
Ask A Question
  • বাংলা অভিধান
  • সাহিত্য
  • শিক্ষা
  • রচনা
  • সাধারণ জ্ঞান
  • ইংলিশ টু বাংলা
  • বিজ্ঞান
  • বাংলা কুইজ
  • ধৰ্ম ও সংস্কৃতি
  • ইতিহাস
  • মতামত

রচনা

20 Followers
104 Answers
102 Questions
  • Recent Questions
  • No Answers

Bengali Forum Latest Questions

In: রচনা

রচনা: মাতৃভাষার গুরুত্ব | importance of mother tongue in bengali

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on March 25, 2020 at 6:46 pm
    This answer was edited.

    মাতৃভাষার গুরুত্ব  বা শিক্ষার মাধ্যমরূপে মাতৃভাষা ভূমিকা : মাতৃভাষার মাধ্যমেই প্রথম বােধের উন্মেষ। মাতৃভাষার মধ্যদিয়ে শিশুর চেতনার বিকাশ ঘটে। শিশুর কাছে মাতার যেমন গুরুত্ব, শিক্ষার ক্ষেত্রে মাতৃভাষারও তেমনই গুরুত্ব। মাতৃভাষা ছাড়া শিক্ষা লাভ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এই মাতৃভাষাকে কেন্দ্র করেই তার জীবনRead more

    মাতৃভাষার গুরুত্ব  বা শিক্ষার মাধ্যমরূপে মাতৃভাষা

    ভূমিকা : মাতৃভাষার মাধ্যমেই প্রথম বােধের উন্মেষ। মাতৃভাষার মধ্যদিয়ে শিশুর চেতনার বিকাশ ঘটে। শিশুর কাছে মাতার যেমন গুরুত্ব, শিক্ষার ক্ষেত্রে মাতৃভাষারও তেমনই গুরুত্ব। মাতৃভাষা ছাড়া শিক্ষা লাভ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এই মাতৃভাষাকে কেন্দ্র করেই তার জীবন নানাভাবে বিকাশ লাভ করে।

    সার্বিক বিকাশে মাতৃভাষা : মাতৃভূমির মতাে মাতৃভাষাও মানুষের নিকট একান্ত প্রিয়। মাতৃভাষাকে আশ্রয় করেই মানুষের সার্বিক বিকাশ সম্ভব। মাতৃভাষাতেই মানুষের পরম তৃপ্তি। কারণ, এই ভাষায় কথা বলে মনের ভাব প্রকাশ করে মানুষ যত আনন্দ পায় অন্যভাষায় কথা বলে তা পায় না। মাতৃভাষা শুধু প্রাত্যহিক জীবনের অবলম্বন নয় – এর মাধ্যমে সাহিত্য, কৃষ্টি-সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান সাধনার বিকাশ ঘটে।

    বিদেশি ভাষার অসুবিধা : শিক্ষার মাধ্যমরূপে বিদেশি ভাষাকে অবলম্বন করার পক্ষে কোন যুক্তি নেই। তার কতকগুলি কারণ আছে। প্রথমতঃ বিদেশি ভাষাকে আয়ত্ত করতে যে কোন মানুষের অনেক বেশি সময় লাগে। দ্বিতীয়তঃ বিদেশি ভাষার মাধ্যমে শিক্ষা যতই করায়ত্ত হােক না কেন তার মাধ্যমে মাতৃভাষার মতাে মনের ভাব সঠিকভাবে প্রকাশ করা যায় না।

    শিক্ষার লক্ষ্য : শিক্ষা ও জীবনের সামঞ্জস্য বিধানের জন্য মনুষ্যত্বের বিকাশ সাধনের জন্য মাধ্যম হওয়া উচিত মাতৃভাষা। একমাত্র মাতৃভাষাই পারে প্রাণের ভাবের সম্মিলন ঘটাতে। শুধ কাজ নয়, ভাব প্রকাশই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।মাতৃভাষাই মানুষের মুক্তির যথার্থ উপায়। মাতভাষায় শিক্ষাগ্রহণে আপামর জনসাধারণের পক্ষে সহজ। গভীর আনন্দে মানষ শিক্ষা গ্রহণ করে। শিক্ষা তার পক্ষে ভার হয়ে দাড়ায় না। মাতৃভাষা শিক্ষা নেওয়ার পরে মানুষ নিজের ইচ্ছেমতাে যে কোন ভাষায় শিক্ষা নিতে পারে।

    বাংলা ভাষায় জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চার সূচনা : জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্র হিসাবে বাংলা ভাষার ক্ষেত্রটি আজও দুর্বল। ঊনবিংশ শতাব্দীর গােড়ার দিকে হডরােপায় মিশনারিদের চেষ্টায় এদেশে সর্বপ্রথম বাংলাভাষার মাধ্যমে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার সত্রপাত ঘটে। রাজা রামমােহন রায় সর্বপ্রথম এই ব্যাপারে এগিয়ে এসেছিলেন। পরবর্তীকালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, অক্ষয়কুমার দত্ত, রাজেন্দ্রলাল মিত্র, ভূদেব মুখােপাধ্যায়, কৃষ্ণমােহন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ মনীষীদের প্রচেষ্টায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব লাভ করে।
    পরাধীন ভারতে রাষ্ট্রভাষা : পরাধীন ভারতবর্ষে ইংরেজিই ছিল রাষ্ট্রভাষা। তখন শিক্ষার মাধ্যমরূপে একমাত্র ইংরেজি ভাষাই ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল। ইংরেজি সভ্যতা ও সাহিত্যের অনেক গুণগত উৎকর্ষ আছে সেটি আমাদের স্বীকার করে নিতেই হবে। কিন্তু তবুও মাতৃভাষার স্থান সকলের চেয়ে আলাদা। ইংরেজি শিক্ষার মােহে সেই সময় শিক্ষিত যুবকবৃন্দ একস্রোতে ভেসে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে যখন সেই মােহ কাটল, তখন তাদের মধ্যে অনেকেই সত্য পথের সন্ধান পেয়েছিলেন। মাইকেল মধুসুদন দত্ত ইংরেজি ভাষায় মহাকবি হওয়ার স্বপ্ন ত্যাগ করে বাংলা ভাষায় সাহিত্য রচনা করেছিলেন। বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ও ইংরেজি ছেড়ে মাতৃভাষার মাধ্যমে সাহিত্যরচনা করতে আরম্ভ করেন।

    বাংলা ভাষার ধারণ ক্ষমতা : ভারতবর্ষের স্বাধীনতা লাভের পর অনেক বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ইংরেজি ও হিন্দি ভাষার ব্যাপক প্রচলন দেখা যায়। অনেকে হয়তাে যুক্তি দেখাবেন যে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষার পথই একমাত্র পথ কারণ কিছু বিষয় | যেমন অর্থনীতি, ভূতত্ত্ববিদ্যা, বিজ্ঞান বিষয় সমূহকে মাতৃভাষার মাধ্যমে যথার্থ শিক্ষাদান সম্ভব হয় না। একথা হয়তাে আংশিক সত্য। কিন্তু তবুও অনুপযুক্ত বলে চিরকালই তা অনুপযুক্তই থাকবে এমন কোন কথা নেই।

    উপসংহার : মাতৃভাষা যে শিক্ষার সর্বস্তরে মাধ্যম হিসাবে কার্যত গৃহিত হতে পারছে না এর মূলে পণ্ডিত অধ্যাপকদের মানসিক জাড্য এবং ইংরেজি ভাষার প্রতি মােহ। বাংলায় যে সর্বোচ্চ স্তরের জ্ঞান-বিজ্ঞানের গ্রন্থাদি রচিত হয়নি তার দায় পণ্ডিত সমাজ অস্বীকার করতে পারবে না। জাপান-রাশিয়া-জার্মানি সূচনা থেকেই মাতৃভাষাকে সর্বোচ্চ স্তরের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নিয়ােগ করেছেন। বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ ভাষা বাংলা সে বিষয়ে অক্ষম একথা স্বীকার করা যায় না। শুধু প্রতিষ্ঠানিক বিদ্যা চর্চার ক্ষেত্রে বাংলা তথা অন্যান্য মাতৃভাষাকে অবজ্ঞা করে রাখা লজ্জাকর। শিক্ষাকে সার্বজনীন ও উচ্চমানের করতে হলে মাতৃভাষার প্রতি এই মনােভাব অবশ্য বর্জন করতে হবে।

    See less
      • 0
  • 1
  • 29,860
  • 0
Answer
In: রচনা

রচনা: ভূমিকম্প | earthquake essay in bengali language

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on March 25, 2020 at 2:56 am

    ভূমিকম্প ভূমিকা : ধীর, শান্ত মানুষ যেমনি একেক সময় প্রচণ্ড ক্ষোভে ফেটে পড়তে চায়, ঠিক সেভাবে প্রকতিও যেন একেকবার একেক রূপে প্রকাশ কে রুদ্রমূর্তি। খরা, বন্যা, অগ্ন্যুৎপাত, জলোচ্ছাসের মতাে ভূমিকম্প প্রকৃতির একটি ভয়ঙ্কর দুর্যোগ। ভূমিকম্পের কারণ : পথিবীর অভ্যন্তরে তাপ, চাপ, গ্রাস প্রভৃতির ভারসাম্য নষ্Read more

    ভূমিকম্প

    ভূমিকা : ধীর, শান্ত মানুষ যেমনি একেক সময় প্রচণ্ড ক্ষোভে ফেটে পড়তে চায়, ঠিক সেভাবে প্রকতিও যেন একেকবার একেক রূপে প্রকাশ কে রুদ্রমূর্তি। খরা, বন্যা, অগ্ন্যুৎপাত, জলোচ্ছাসের মতাে ভূমিকম্প প্রকৃতির একটি ভয়ঙ্কর দুর্যোগ।

    ভূমিকম্পের কারণ : পথিবীর অভ্যন্তরে তাপ, চাপ, গ্রাস প্রভৃতির ভারসাম্য নষ্ট হলেই প্রচণ্ড আলােড়নের সৃষ্টি হয়। আর তারই ফলে ভীষণভাবে প্রকম্পিতা হন বসুন্ধরা। প্রকৃতির রােষতপ্ত এই প্রলয় নাচনে তখন চোখের পলকে নির্মমভাবে শেষ হয়ে যায় সভ্য মানুষের সাজানাে বাগান – অকাতরে নষ্ট হয় শতশত প্রাণ ও সম্পত্তি । হাহাকারে ভরে যায় আকাশ-বাতাস। আর বিজ্ঞানের দানে অন্ধ ভােগবদিী মানুষ তখন শুধুই নির্বাক দর্শক, নিরূপায় শিকার। পৃথিবীতে বার বার ঘটে গেছে এমনকী প্রয়লংকার ভূমিকম্পের তাণ্ডব।

    অতীতে ভূমিকম্প : বর্তমানের ন্যায় অতীতেও পৃথিবীতে বহু ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে গেছে। ইতিহাসের তত্ত্বমতে খ্রিষ্টপূর্ব ১৯০০ অব্দে ভূমিকম্পের ফলে ক্রীট দ্বীপের সভ্যতাই নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। ১৭০৩ সালে জাপানের টোকিও শহরে, ১৭৩৭ সালে কলকাতায়, ভূমিকম্প ছিল মারাত্মক। ১৯৫০ সালে আসামের ভূমিকম্প ব্রহ্মপুত্র নদের গতি পথটাই পালটে দিয়েছিল। ২০০১ সালের ২৬ জানুয়ারি গুজরাটের ভূমিকম্প ছিল ভারতের ভয়ঙ্করতম ভূমিকম্পগুলির মধ্যে দ্বিতীয়। এই ভূমিকম্পে তাসের ঘরের মতাে ভেঙে পড়েছিল সাজানাে সভ্যতার ইমারতগুলি। এই ভয়াবহ ভূমিকম্পে মারা গিয়েছিল প্রায় ৫০,০০০ মানুষ।

    সাম্প্রতিককালে ভূমিকম্প : ২০০৫ সালের ৮ অক্টোবর বাংলায় যখন শারদীয়া উৎসবের ঢাকে কাঠি পড়ে গেছে তখনই ভারতীয় সময় সকাল ৯-২০ মিনিটে। কেঁপে উঠে সমগ্র কাশ্মীর, পাকিস্থান, আফগানিস্থান এবং উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। রিখটার স্কেলে এই কম্পণের সর্বোচ্চ তীব্রতা ছিল ৭.৫। এই ভূমিকম্পের উৎস ছিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের উত্তর পশ্চিমে শিপাল মসজিদ এলাকায়। এই ভূমিকম্পে প্রায় ৫০,০০০ মানুষ নিহত হয়। আহত ও নিখোঁজ হয় আরও বহু মানুষ। ২৫ এপ্রিল ২০১৫ইং তারিখে ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপালের ভূমিকম্প পূর্বে বর্ণিত ভূমিকম্পগুলি থেকে কম মারাত্মক ছিল না। এ ভূমিকম্পে ১০,০০০ এরও অধিক লােক নিহত হয়। সাম্প্রতিককালে ২০১৬ইং ৩রা জানুয়ারি ভারতের হম্মল, আসাম ও এদের আশপাশ অঞ্চলে ভূমিকম্প তেমন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও সাবধানবাণী জানান দিয়ে গেল।
    ত্রাণকার্য : ভূকম্পনের প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠে দেশ জুড়ে শুরু হয় ত্রাণের তৎপরতা। মানুষ সামাজিক জীব তাই মানুষ দুর্গত মানুষকে সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়ে দেয়। বিভিন্ন সংঘটনও উদ্ধার কার্যে ঝাপিয়ে পড়ে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দুর্গতদের পাশে দাঁড়ায় ত্রাণ সামগ্রী খাদ্য, ঔষধ ইত্যাদি নিয়ে । ভারত শুধু নিজের দেশেই নয়, প্রতিবেশী পাকিস্তান, নেপাল, চীন প্রবৃত্তি দেশের জন্য ত্রাণ সামগ্রী পাঠায়। ভারতীয় সেনাবাহিনী বিপুল উদ্যমে ত্রাণ ও উদ্ধারে ঝাপিয়ে পড়ে।
    ক্ষয়ক্ষতি ও প্রতিরােধের ভাবনা : ভূমিকম্প এক বিরাট সাত বিপর্যয়। মানুষের নিশ্চিন্ত জীবনে আচমকা ঝাপিয়ে পড়ে এই বিপদ। ‘ ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির হার মারাত্মক রকমের। মানুষের কত সাধনায় সাজানাে সে চুরমার হয়ে যায় এক লহমায়। অসংখ্য মানুষ, পশু-পাখির প্রাণ ঝরে যায় পাতার মতাে। কিন্তু প্রকৃতির এই করাল অভিশাপের খবর আগাম পেতে যে ব্যবহার হয়, তা পৃথিবীর মুষ্টিমেয় কয়েকটি ধনী দেশেরই করায়ত্ত। আমাদের কে এই যন্ত্র বসানাে হয়েছে – এটা সুখের বিষয়। আশা করা যায় এর সাহায্যে ভাবান ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের বিপর্যয় এড়াতে পারবে।

    উপসংহার : একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয় মানুষের বিজ্ঞান-বুদ্ধির বড়াইকে বুড়াে আঙ্গুল দেখিয়ে চরম বিদ্রুপ করেছে। মানুষ ভুমিকম্পের আগাম বার্তা পেতে শিখেছে, কম্পনের তীব্রতাকে মাপজোখ করতে শিখেছে। কিন্তু তার হাত থেকে। নিজেকে বাঁচানাের ব্যবস্থা করতে আজও শেখেনি। হয়তাে শেখা সম্ভবও নয়। কেননা, প্রকৃতির বিশালতা ও প্রচণ্ডতার কাছে মানুষের দুর্দশা বুঝি কোনমতেই ঘােচাবার নয়।

    See less
      • 0
  • 1
  • 10,770
  • 0
Answer
In: রচনা

স্বামী বিবেকানন্দের সংকিপ্ত জীবনী | swami vivekananda biography bengali

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on March 23, 2020 at 1:21 am

    স্বামী বিবেকানন্দ ভূমিকা “বীর সন্ন্যাসী বিবেক বাণী ছুটেছে জগৎময়, বাঙ্গালীর ছেলে ব্যাঘ্রে-বৃষভে ঘটাবে সমন্বয়।” কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত আমাদের গৌরবের কথা বলতে গিয়ে এই কথাগুলি লিখেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ সম্পর্কে। ভারতবর্ষের আধ্যাত্মিক সত্যকে বিবেকানন্দ যে ভাবে জগৎ সভায় উপস্থাপিত করেছিলেন, তার সত্যিRead more

    স্বামী বিবেকানন্দ

    ভূমিকা “বীর সন্ন্যাসী বিবেক বাণী ছুটেছে জগৎময়,

    বাঙ্গালীর ছেলে ব্যাঘ্রে-বৃষভে ঘটাবে সমন্বয়।”

    কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত আমাদের গৌরবের কথা বলতে গিয়ে এই কথাগুলি লিখেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ সম্পর্কে। ভারতবর্ষের আধ্যাত্মিক সত্যকে বিবেকানন্দ যে ভাবে জগৎ সভায় উপস্থাপিত করেছিলেন, তার সত্যিই তুলনা হয় না। ভারতবর্ষকে তিনি বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

    জন্ম ও পরিচয় : ১৮৬৩ খ্রিষ্টাব্দের ১২ই জানুয়ারি কলকাতার বিখ্যাত দত্ত পরিবারে বিবেকানন্দের জন্ম হয়। শৈশবে তার নাম ছিল “বীরেশ্বর’ বা ‘বিলে’। তার পিতা বিশ্বনাথ দত্ত সে যুগের একজন বিখ্যাত এটর্নি ছিলেন। মাতা ভুবনেশ্বরীও ছিলেন তেজস্বী মহিলা। প্রথমে গৃহশিক্ষকের কাছে, পরে মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশনে, এবং তারপর প্রেসিডেন্সি কলেজে তিনি পড়েন। ১৮৮৩ সালে তিনি বি. এ. পাশ করে আইন পড়তে আরম্ভ করেন বটে, কিন্তু হঠাৎ পিতার মৃত্যু হওয়ায় পড়াশুনা ছাড়তে তিনি বাধ্য হন। ছেলেবেলা থেকেই তিনি ঈশ্বরমুখী ছিলেন। সংকীর্ণ জাত-পাত তিনি মানতেন না।

    রামকৃষ্ণদেবের সান্নিধ্য :- বি. এ. পড়বার সময় তিনি পরমপুরুষ রামকৃষ্ণদেবের সংস্পর্শে আসেন। আর এই সংস্পর্শে আসার প্রথম দিনটি থেকেই তিনি রামকৃষ্ণ দেবের প্রতি এক গভীর আকর্ষণ অনুভব করেন। তাঁর বিশেষ আধ্যাত্মিক ক্ষমতা এই তরুণ যুবকটিকে দান করে তাকে দীক্ষিত করেন নতুন নতুন মন্ত্রে। রামকৃষ্ণদেব ছিলেন নবযুগের আচার্য। সকল ধর্ম ও মতের প্রতি তিনি ছিলেন শ্রদ্ধাশীল এবং তিনি তার। সাধনা ও জীবন চর্চার ভিতর দিয়ে আবিষ্কার করেছিলেন যে “যত মত তত পথ’।তাছাড়া জীব সেবার মধ্য দিয়েই যে ঈশ্বর সেবা হয়, এতে তিনি ছিলেন গভীর বিশ্বাসী।

    ভারত পরিক্রমা : ১৮৮৬ খৃষ্টাব্দে রামকৃষ্ণদেবের মৃত্যুর পর বিবেকানন্দ পরিব্রাজক হয়ে তিন বছর ধরে সারা ভারত পরিক্রমা করেন। ১৮৯৩ খৃষ্টাব্দে আমেরিকার শিকাগাে শহরে ধর্মমহাসভায় বক্তৃতা দেওয়ার জন্য হিন্দু ধর্মের একমাত্র প্রতিনিধি হিসাবে তিনি ভারত থেকে রওয়ানা হলেন। এই মহাসভায় হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে বক্তৃতা দিয়ে তিনি অসাধারণ খ্যাতি অর্জন করেন। ইংল্যাণ্ড ও আমেরিকার বহু নর-নারী তার ধর্ম মতে আকৃষ্ট হয়ে তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ভগিনী নিবেদিতা একজন।

    মিশন ও আদর্শ :- বিজয়ীর সম্মান নিয়ে দেশে ফিরে এসে ১৮৯৭ খৃষ্টাব্দে ‘রামকৃষ্ণ মিশন’ এবং ১৮৯৯ খৃষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠা করলেন ‘বেলুড় মঠ’। মানব সেবা, বেদান্ত দর্শন এবং রামকৃষ্ণের শিক্ষাপ্রচারই ছিল মিশন প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য। দয়া নয়, দরিদ্র ও অবহেলিত মানুষদের সেবার মধ্যদিয়ে তিনি ঈশ্বর প্রাপ্তির পথ দেখিয়েছিলেন। তার মতে ঈশ্বর আছেন আমাদের সামনে ‘বহুরূপে’ দরিদ্র ও অবহেলিত মানুষদের মধ্যে। এদের সেবা করলেই ঈশ্বরকেই লাভ করা যাবে।

    ‘বহুরূপে সম্মুখে তােমার, ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর; |

    জীবে প্রেম করে যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।

    ভারত প্রীতি :- তিনি নিজদেশকে সকলের উপরে স্থান দিতেন। প্রতিটি ভারত বাসীকে তিনি জাতি ধর্ম নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হতে আহ্বান জানিয়েছেন। দেশকে গড়ে তুলার জন্য তিনি স্বপ্ন দেখতেন, সেই দেশ গড়ার স্বপ্নকে তিনি চেয়েছেন বাস্তবে রূপায়ণ করতে। তার লক্ষ্যছিল সকলের কল্যাণের জন্য এক বৃহৎ অখণ্ড ভারতবর্ষ গড়ে তােলা। তিনিই এদেশ সম্পর্কে পাশ্চাত্যবাসীর ভ্রান্তধারণা দূর করেছিলেন। স্বামীজী দেখতে চেয়েছিলেন এক শক্তিশালী ভারতবর্ষকে।

    মানবতাবাদী বৈদান্তিকঃ স্বামী বিবেকানন্দ বৈদান্তিক সন্ন্যাসী হলেও আধুনিক মানবতাবাদের দৃষ্টিকোণ থেকে হিন্দুধর্মের এই শ্রেষ্ঠ গ্রন্থটিকে গ্রহণ করেছিলেন। বেদান্তের এই নবভাস্যকার বলেন – ‘জগতে জ্ঞানালোেক বিস্তার কর; আলােক-অলােক লইয়া আইস। প্রত্যেকে যেন জ্ঞানের আলাে পায়, যতদিন না সকলেই ভগবান লাভ করে, ততদিন যেন তােমাদের কাজ শেষ না হয়। জগজ্জননীর কাছে তিনি মনুষ্যত্ব প্রার্থনা। করে বলেছেন, “হে জগদম্বে আমায় মনুষ্যত্ব দাও, আমার দুর্বলতা কাপুরুষতা দুর কর, অমিয় মানুষ কর।’

    সাহিত্য কৃতি : শুধু কর্মের জগতেই নয়, চিন্তা ও মননশীলতার ক্ষেত্রে স্বামী বিবেকান্দ মানবতার বাণী প্রচার করেন গেছেন। তাঁর রচিত প্রধান গ্রন্থগুলি— ‘পরিব্রাজক’, ‘প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য, বর্তমান ভারত’ প্রভৃতি উল্লেখযােগ্য। বাংলাভাষায় তাঁর পত্রগুচ্ছে কিছু বিজ্ঞানভিত্তিক আলােচনাও করেছেন। বাংলা চলিত গদ্যরীতির তিনি অন্যতম পথিকৃৎ, কথ্য শব্দ প্রয়োগেও দুঃসাহসী পথ প্রদর্শক। তিনি স্বপ্ন দেখতেন সমৃদ্ধ ভারতবর্ষের, শিক্ষিত ভারতবর্ষের, সংস্কারহীন ভারতবর্ষের। ভারতবর্ষই ছিল তার শৈশবের শিশুশয্যা, যৌবনের উপবন আর বাধকের বারাণসী। তিনি বুকে হাত রেখে বলতে শিখিয়েছেন, “ভারতবর্ষের প্রতিটি মানুষ আমার ভাই, আমার রক্ত। ভারতের কল্যাণ আমার কল্যাণ, ভারতের দীনতা আমার অপমান।”

    উপসংহার : অত্যাধিক পরিশ্রম আর নিরলস কর্মসাধনায় এই কর্মী সন্ন্যাসীর শরীর ভেঙ্গে পড়ে। অবশেষে ১৯০২ সালের ৪ জুলাই মাত্র ৩৯ বৎসর। বয়সে এই বীর সন্ন্যাসী বেলুড় মঠে চিরনিদ্রায় অভিভূত হন। স্বামীজীর জন্ম দিবস সারা ভারতবর্ষে ‘জাতীয় যুব দিবস’ হিসাবে পালিত হয়। কিন্তু স্বামীজীর সেই ত্যাগ, সেই জীব প্রেম, সেই উদ্যম বর্তমান ভারতবর্ষে কোথায় ? অন্ধকার থেকে আলাের দিকে, মৃত্যু থেকে অমৃতের দিকে,অসৎ থেকে সৎ এর পথে আমাদের যাত্রা শুরু করেছিলেন যে মহামানব, সেই বিবেকানন্দই ভারতবর্ষের প্রকৃত বাতিঘর।

    See less
      • 1
  • 1
  • 5,874
  • 0
Answer
In: রচনা

রচনা: স্বামী বিবেকানন্দ | swami vivekananda prabandha rachana in bengali

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on March 23, 2020 at 1:06 am

    স্বামী বিবেকানন্দ ভূমিকা “বীর সন্ন্যাসী বিবেক বাণী ছুটেছে জগৎময়, বাঙ্গালীর ছেলে ব্যাঘ্রে-বৃষভে ঘটাবে সমন্বয়।” কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত আমাদের গৌরবের কথা বলতে গিয়ে এই কথাগুলি লিখেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ সম্পর্কে। ভারতবর্ষের আধ্যাত্মিক সত্যকে বিবেকানন্দ যে ভাবে জগৎ সভায় উপস্থাপিত করেছিলেন, তার সত্যিRead more

    স্বামী বিবেকানন্দ

    ভূমিকা “বীর সন্ন্যাসী বিবেক বাণী ছুটেছে জগৎময়,

    বাঙ্গালীর ছেলে ব্যাঘ্রে-বৃষভে ঘটাবে সমন্বয়।”

    কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত আমাদের গৌরবের কথা বলতে গিয়ে এই কথাগুলি লিখেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ সম্পর্কে। ভারতবর্ষের আধ্যাত্মিক সত্যকে বিবেকানন্দ যে ভাবে জগৎ সভায় উপস্থাপিত করেছিলেন, তার সত্যিই তুলনা হয় না। ভারতবর্ষকে তিনি বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

    জন্ম ও পরিচয় : ১৮৬৩ খ্রিষ্টাব্দের ১২ই জানুয়ারি কলকাতার বিখ্যাত দত্ত পরিবারে বিবেকানন্দের জন্ম হয়। শৈশবে তার নাম ছিল “বীরেশ্বর’ বা ‘বিলে’। তার পিতা বিশ্বনাথ দত্ত সে যুগের একজন বিখ্যাত এটর্নি ছিলেন। মাতা ভুবনেশ্বরীও ছিলেন তেজস্বী মহিলা। প্রথমে গৃহশিক্ষকের কাছে, পরে মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশনে, এবং তারপর প্রেসিডেন্সি কলেজে তিনি পড়েন। ১৮৮৩ সালে তিনি বি. এ. পাশ করে আইন পড়তে আরম্ভ করেন বটে, কিন্তু হঠাৎ পিতার মৃত্যু হওয়ায় পড়াশুনা ছাড়তে তিনি বাধ্য হন। ছেলেবেলা থেকেই তিনি ঈশ্বরমুখী ছিলেন। সংকীর্ণ জাত-পাত তিনি মানতেন না।

    রামকৃষ্ণদেবের সান্নিধ্য :- বি. এ. পড়বার সময় তিনি পরমপুরুষ রামকৃষ্ণদেবের সংস্পর্শে আসেন। আর এই সংস্পর্শে আসার প্রথম দিনটি থেকেই তিনি রামকৃষ্ণ দেবের প্রতি এক গভীর আকর্ষণ অনুভব করেন। তাঁর বিশেষ আধ্যাত্মিক ক্ষমতা এই তরুণ যুবকটিকে দান করে তাকে দীক্ষিত করেন নতুন নতুন মন্ত্রে। রামকৃষ্ণদেব ছিলেন নবযুগের আচার্য। সকল ধর্ম ও মতের প্রতি তিনি ছিলেন শ্রদ্ধাশীল এবং তিনি তার। সাধনা ও জীবন চর্চার ভিতর দিয়ে আবিষ্কার করেছিলেন যে “যত মত তত পথ’।তাছাড়া জীব সেবার মধ্য দিয়েই যে ঈশ্বর সেবা হয়, এতে তিনি ছিলেন গভীর বিশ্বাসী।

    ভারত পরিক্রমা : ১৮৮৬ খৃষ্টাব্দে রামকৃষ্ণদেবের মৃত্যুর পর বিবেকানন্দ পরিব্রাজক হয়ে তিন বছর ধরে সারা ভারত পরিক্রমা করেন। ১৮৯৩ খৃষ্টাব্দে আমেরিকার শিকাগাে শহরে ধর্মমহাসভায় বক্তৃতা দেওয়ার জন্য হিন্দু ধর্মের একমাত্র প্রতিনিধি হিসাবে তিনি ভারত থেকে রওয়ানা হলেন। এই মহাসভায় হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে বক্তৃতা দিয়ে তিনি অসাধারণ খ্যাতি অর্জন করেন। ইংল্যাণ্ড ও আমেরিকার বহু নর-নারী তার ধর্ম মতে আকৃষ্ট হয়ে তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ভগিনী নিবেদিতা একজন।

    মিশন ও আদর্শ :- বিজয়ীর সম্মান নিয়ে দেশে ফিরে এসে ১৮৯৭ খৃষ্টাব্দে ‘রামকৃষ্ণ মিশন’ এবং ১৮৯৯ খৃষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠা করলেন ‘বেলুড় মঠ’। মানব সেবা, বেদান্ত দর্শন এবং রামকৃষ্ণের শিক্ষাপ্রচারই ছিল মিশন প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য। দয়া নয়, দরিদ্র ও অবহেলিত মানুষদের সেবার মধ্যদিয়ে তিনি ঈশ্বর প্রাপ্তির পথ দেখিয়েছিলেন। তার মতে ঈশ্বর আছেন আমাদের সামনে ‘বহুরূপে’ দরিদ্র ও অবহেলিত মানুষদের মধ্যে। এদের সেবা করলেই ঈশ্বরকেই লাভ করা যাবে।

    ‘বহুরূপে সম্মুখে তােমার, ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর; |

    জীবে প্রেম করে যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।

    ভারত প্রীতি :- তিনি নিজদেশকে সকলের উপরে স্থান দিতেন। প্রতিটি ভারত বাসীকে তিনি জাতি ধর্ম নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হতে আহ্বান জানিয়েছেন। দেশকে গড়ে তুলার জন্য তিনি স্বপ্ন দেখতেন, সেই দেশ গড়ার স্বপ্নকে তিনি চেয়েছেন বাস্তবে রূপায়ণ করতে। তার লক্ষ্যছিল সকলের কল্যাণের জন্য এক বৃহৎ অখণ্ড ভারতবর্ষ গড়ে তােলা। তিনিই এদেশ সম্পর্কে পাশ্চাত্যবাসীর ভ্রান্তধারণা দূর করেছিলেন। স্বামীজী দেখতে চেয়েছিলেন এক শক্তিশালী ভারতবর্ষকে।

    মানবতাবাদী বৈদান্তিকঃ স্বামী বিবেকানন্দ বৈদান্তিক সন্ন্যাসী হলেও আধুনিক মানবতাবাদের দৃষ্টিকোণ থেকে হিন্দুধর্মের এই শ্রেষ্ঠ গ্রন্থটিকে গ্রহণ করেছিলেন। বেদান্তের এই নবভাস্যকার বলেন – ‘জগতে জ্ঞানালোেক বিস্তার কর; আলােক-অলােক লইয়া আইস। প্রত্যেকে যেন জ্ঞানের আলাে পায়, যতদিন না সকলেই ভগবান লাভ করে, ততদিন যেন তােমাদের কাজ শেষ না হয়। জগজ্জননীর কাছে তিনি মনুষ্যত্ব প্রার্থনা। করে বলেছেন, “হে জগদম্বে আমায় মনুষ্যত্ব দাও, আমার দুর্বলতা কাপুরুষতা দুর কর, অমিয় মানুষ কর।’

    সাহিত্য কৃতি : শুধু কর্মের জগতেই নয়, চিন্তা ও মননশীলতার ক্ষেত্রে স্বামী বিবেকান্দ মানবতার বাণী প্রচার করেন গেছেন। তাঁর রচিত প্রধান গ্রন্থগুলি— ‘পরিব্রাজক’, ‘প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য, বর্তমান ভারত’ প্রভৃতি উল্লেখযােগ্য। বাংলাভাষায় তাঁর পত্রগুচ্ছে কিছু বিজ্ঞানভিত্তিক আলােচনাও করেছেন। বাংলা চলিত গদ্যরীতির তিনি অন্যতম পথিকৃৎ, কথ্য শব্দ প্রয়োগেও দুঃসাহসী পথ প্রদর্শক। তিনি স্বপ্ন দেখতেন সমৃদ্ধ ভারতবর্ষের, শিক্ষিত ভারতবর্ষের, সংস্কারহীন ভারতবর্ষের। ভারতবর্ষই ছিল তার শৈশবের শিশুশয্যা, যৌবনের উপবন আর বাধকের বারাণসী। তিনি বুকে হাত রেখে বলতে শিখিয়েছেন, “ভারতবর্ষের প্রতিটি মানুষ আমার ভাই, আমার রক্ত। ভারতের কল্যাণ আমার কল্যাণ, ভারতের দীনতা আমার অপমান।”

    উপসংহার : অত্যাধিক পরিশ্রম আর নিরলস কর্মসাধনায় এই কর্মী সন্ন্যাসীর শরীর ভেঙ্গে পড়ে। অবশেষে ১৯০২ সালের ৪ জুলাই মাত্র ৩৯ বৎসর। বয়সে এই বীর সন্ন্যাসী বেলুড় মঠে চিরনিদ্রায় অভিভূত হন। স্বামীজীর জন্ম দিবস সারা ভারতবর্ষে ‘জাতীয় যুব দিবস’ হিসাবে পালিত হয়। কিন্তু স্বামীজীর সেই ত্যাগ, সেই জীব প্রেম, সেই উদ্যম বর্তমান ভারতবর্ষে কোথায় ? অন্ধকার থেকে আলাের দিকে, মৃত্যু থেকে অমৃতের দিকে,অসৎ থেকে সৎ এর পথে আমাদের যাত্রা শুরু করেছিলেন যে মহামানব, সেই বিবেকানন্দই ভারতবর্ষের প্রকৃত বাতিঘর।

    See less
      • 1
  • 1
  • 17,268
  • 0
Answer
In: রচনা

ভগিনী নিবেদিতার সংকিপ্ত জীবনী | bhagini nivedita jiboni bangla

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on March 25, 2020 at 1:37 am

    ভগিনী নিবেদিতা ভূমিকা : ঊনবিংশ শতাব্দীর ভারতের নবজাগরণের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পুরােধা স্বামী বিবেকানন্দ। আর ভারতমাতার পায়ে তারই শ্রেষ্ঠ উপহার ভগিনী নিবেদিতা। নিবেদিতা আপন সেবাধর্মে, মমতায়, ত্যাগে ও দরদে দেশবাসীর ভগিনী রূপে আখ্যাত। স্বামী বিবেকানন্দের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি ভারতে এসে ভারতবাসীর সঙRead more

    ভগিনী নিবেদিতা

    ভূমিকা : ঊনবিংশ শতাব্দীর ভারতের নবজাগরণের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পুরােধা স্বামী বিবেকানন্দ। আর ভারতমাতার পায়ে তারই শ্রেষ্ঠ উপহার ভগিনী নিবেদিতা। নিবেদিতা আপন সেবাধর্মে, মমতায়, ত্যাগে ও দরদে দেশবাসীর ভগিনী রূপে আখ্যাত। স্বামী বিবেকানন্দের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি ভারতে এসে ভারতবাসীর সঙ্গে একাত্ম হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি দেশবাসীর প্রকৃত ভগিনীর আসনে চির প্রতিষ্ঠাতা।

    জন্ম ও পরিচয় : ভগিনী নিবেদিতার জন্ম উত্তর আয়ার্ল্যাণ্ডের ডানগ্যানন শহরে ১৮৬৭ খ্রিষ্টাব্দে। তার পূর্ব নাম মার্গারেট এলিজাবেথ নােবেল। পিতা স্যামুয়েল রিচমও নােবেলের অকাল মৃত্যু সমগ্র পরিবারকে ঠেলে দিয়েছিল দারিদ্র্যের মধ্যে। মার্গারেটের জননী দুই কন্যা ও এক পুত্রকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন মাতামহ হ্যামিলটনের সংসারে। স্কুল ও কলেজে শিক্ষা সমাপ্ত করে মার্গারেট রেক্সহ্যাম শহরে শিক্ষিকার কাজ, করতে লাগলেন। এই সময় তিনি আকৃষ্ট হলেন ওয়েলসবাসী এক তরুণ ইঞ্জিনিয়ারের প্রতি। সেই ইঞ্জিনিয়ারের অকাল মৃত্যুর পর মার্গারেট রেক্সহামের চাকুরি ছেড়ে চলে এলেন চেস্টারে। শিশুদের শিক্ষাদান পদ্ধতি নিয়ে করতে লাগলেন পরীক্ষা নিরীক্ষা।

    স্বামী বিবেকানন্দের সান্নিধ্য লাভ : ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে চিকাগাে বিশ্বধর্ম সম্মেলনে স্বামীজি ভারতীয় আধ্যাত্ম সাধনার গৃঢ় মর্ম কথা এবং বেদান্তের বাণী প্রচারের দ্বারা আমেরিকাকে মুগ্ধ করলেন। বিশ্বজয়ের পর ১৮৯৫ খ্রিষ্টাব্দে স্বামী বিবেকানন্দ এলেন লণ্ডনে। মার্গারেট স্বামীজির বক্তৃতা শুনে ভারতীয় দর্শনের প্রতি উত্তরােত্তর আকষ্ট হন। একদিন মার্গারেট স্বামীজিকে তার মনের সংশয়ের কথা বলেন। স্বামীজি তাকে ভারতীয় দর্শন-এর সারতত্ত্ব সরলভাবে বুঝিয়ে দিলেন।বিবেকানন্দের বাণী তাকে মহাজীবনের সন্ধান দিল। খণ্ড ক্ষুদ্রকে বর্জন করে সেই শাশ্বত এক আবনশ্বর ধ্যানে নিজেকে উৎসর্গ করলেন। গ্রহণ করলেন স্বামীজির শিষ্যত্ব। মার্গারেট বিবেকানন্দের ভিতরে খুঁজে পেলেন তাঁর ধ্যানের গুরুকে। মার্গারেটের ভিতরে বিবেকানন্দ দেখলেন একজন করুণাময়ী শুচিশুভ্র রমণীকে।

    ভারতে আগমন : ১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দে মার্গারেট ইংল্যাণ্ডের নিকট হতে বিদায় নিয়ে ভারতভূমিতে পদার্পণ করলেন। সানন্দে নিজের মস্তকে তুলে নিলেন স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ। স্বামীজি এই মহিয়সী নারীর অসাধারণ ত্যাগের স্বীকৃতি দান করে সর্বসমক্ষে সগৌরবে ঘােষণা করলেন – ইংল্যাণ্ড আমাদিগকে এক অমূল্য উপহার দিয়েছে, ভারত কল্যাণে আত্মনিবেদিতা এই নারীত্ব।’ স্বামীজিই মার্গারেটের নূতন নাম দিলেন ‘নিবেদিতা’। ভগিনী’ আখ্যা দিলেন সংঘভ্রাতা সন্ন্যাসীগণ।
    কর্মভার গ্রহণ : গুরুর আদেশ শিরােধার্য করে নিবেদিতা এবার অবতীর্ণা হলেন বাস্তব কর্মক্ষেত্রে। কলকাতায় বাগবাজার পল্লির বােস পাড়া অঞ্চলে এক অন্ধকার গৃহের ভিতর বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত করলেন নিবেদিতা। অতি কষ্টে কয়েকটি কিশােরীসহ কিছু বেশি সংখ্যক বয়স্কা কন্যা সংগ্রহ করে তিনি বিদ্যালয়ের কাজ আরম্ভ করে দিলেন। তাঁর শিক্ষাদানের প্রণালী ছিল অতি সহজ এবং অভিনব। পড়তে বসে মেয়েরা পড়ার চেয়ে বেশি আনন্দ পেত। শুধু পাঠ্যগ্রন্থের পড়া পড়িয়ে নিবেদিতা কর্তব্য শেষ করতেন না। ছাত্রীদের গল্পচ্ছলে উপদেশ দিতেন- হিন্দুর প্রাচীন আদর্শের প্রতি নিষ্ঠা ও শ্রদ্ধা পােষণ করতে, রামায়ণ-মহাভারত থেকে সীতা, সাবিত্রী, গান্ধারি প্রভৃতি মহিয়সী রমণীদের আখ্যান শুনিয়ে ছাত্রীদের তাদের মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ করে তুলতেন। নারীজনােচিত চারুকলার শিক্ষা, আলপনা, সেলাই প্রভৃতির অনুশীলনও নিবেদিতার তত্ত্বাবধানে নিয়মিতভাবে হত।

    দেশসেবা : নিবেদিতা ভারতবর্ষকে মনে প্রাণে ভালােবেসে এদেশের সঙ্গে একাত্ম হয়ে পড়েছিলেন। এদেশ ছিল তার স্বদেশ। বাংলার জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। দেশে তখন স্বাধীনতার সংগ্রাম চলছে। ফাঁসির মঞ্চে, পুলিশের গুলিতে স্বদেশি বাঙালি যুবকেরা একের পর এক প্রাণ দিচ্ছে। রাজরােষে পতিত পলাতক সংগ্রামীরা অনেকেই নিবেদিতার নিকট ছিলেন অশেষ প্রকারে ঋণী। আন্তরিক সহানুভূতি, অর্থ সাহায্য তিনি অকাতরে বিতরণ করতেন। সাহিত্য-সাধনার মাধ্যমেও এই মহিয়সী মহিলা করে গেছেন ভারতের সেবা। তার রচিত ‘ক্লেডেটেলস্ অব হিন্দুইজম’, ‘দ্য মাস্টার অ্যাজ আইসহি প্রভৃতি গ্রন্থে তার ভারত অনুরাগ ও গুরুভক্তির পরিচয় পাওয়া যায়।

    প্রয়াণ : নিবেদিতা ভারতকে করে নিয়েছিলেন মনে প্রাণে আপন। নিষ্ঠাবতী ব্রহ্মচারিণীর জীবন যাপন করতেন তিনি। আচারে, ব্যবহারে, আহারে কোথাও ছিল না পাশ্চাত্যভাব। ধ্যান-ধারণা জীবন-চর্চায় তিনি ছিলেন খাঁটি ভারতীয়। মা সারদা তাকে সর্বদা নিজের কন্যা বলেই পরিচয় দিতেন। রবীন্দ্রনাথ তাঁকে ‘লােকমাতা হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই অক্টোবর ভগিনী নিবেদিতার জীবন দীপ হল নির্বাপিত।

    উপসংহারঃ ভগিনী নিবেদিতা নিজ বৈশিষ্ট্যে ভারতাত্মায় পরিণত হয়েছিলেন। ভারতবাসীর তিনি মহিয়সী ভগিনী। তাঁর আত্মত্যাগের আদর্শ চিরদিন ভারতবাসীকে
    উদ্বুদ্ধ করবে।

    See less
      • 0
  • 1
  • 3,051
  • 0
Answer
In: রচনা

প্রবন্ধ: ভগিনী নিবেদিতা | bengali essay on sister nivedita

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on March 25, 2020 at 1:37 am

    ভগিনী নিবেদিতা ভূমিকা : ঊনবিংশ শতাব্দীর ভারতের নবজাগরণের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পুরােধা স্বামী বিবেকানন্দ। আর ভারতমাতার পায়ে তারই শ্রেষ্ঠ উপহার ভগিনী নিবেদিতা। নিবেদিতা আপন সেবাধর্মে, মমতায়, ত্যাগে ও দরদে দেশবাসীর ভগিনী রূপে আখ্যাত। স্বামী বিবেকানন্দের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি ভারতে এসে ভারতবাসীর সঙRead more

    ভগিনী নিবেদিতা

    ভূমিকা : ঊনবিংশ শতাব্দীর ভারতের নবজাগরণের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পুরােধা স্বামী বিবেকানন্দ। আর ভারতমাতার পায়ে তারই শ্রেষ্ঠ উপহার ভগিনী নিবেদিতা। নিবেদিতা আপন সেবাধর্মে, মমতায়, ত্যাগে ও দরদে দেশবাসীর ভগিনী রূপে আখ্যাত। স্বামী বিবেকানন্দের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি ভারতে এসে ভারতবাসীর সঙ্গে একাত্ম হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি দেশবাসীর প্রকৃত ভগিনীর আসনে চির প্রতিষ্ঠাতা।

    জন্ম ও পরিচয় : ভগিনী নিবেদিতার জন্ম উত্তর আয়ার্ল্যাণ্ডের ডানগ্যানন শহরে ১৮৬৭ খ্রিষ্টাব্দে। তার পূর্ব নাম মার্গারেট এলিজাবেথ নােবেল। পিতা স্যামুয়েল রিচমও নােবেলের অকাল মৃত্যু সমগ্র পরিবারকে ঠেলে দিয়েছিল দারিদ্র্যের মধ্যে। মার্গারেটের জননী দুই কন্যা ও এক পুত্রকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন মাতামহ হ্যামিলটনের সংসারে। স্কুল ও কলেজে শিক্ষা সমাপ্ত করে মার্গারেট রেক্সহ্যাম শহরে শিক্ষিকার কাজ, করতে লাগলেন। এই সময় তিনি আকৃষ্ট হলেন ওয়েলসবাসী এক তরুণ ইঞ্জিনিয়ারের প্রতি। সেই ইঞ্জিনিয়ারের অকাল মৃত্যুর পর মার্গারেট রেক্সহামের চাকুরি ছেড়ে চলে এলেন চেস্টারে। শিশুদের শিক্ষাদান পদ্ধতি নিয়ে করতে লাগলেন পরীক্ষা নিরীক্ষা।

    স্বামী বিবেকানন্দের সান্নিধ্য লাভ : ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে চিকাগাে বিশ্বধর্ম সম্মেলনে স্বামীজি ভারতীয় আধ্যাত্ম সাধনার গৃঢ় মর্ম কথা এবং বেদান্তের বাণী প্রচারের দ্বারা আমেরিকাকে মুগ্ধ করলেন। বিশ্বজয়ের পর ১৮৯৫ খ্রিষ্টাব্দে স্বামী বিবেকানন্দ এলেন লণ্ডনে। মার্গারেট স্বামীজির বক্তৃতা শুনে ভারতীয় দর্শনের প্রতি উত্তরােত্তর আকষ্ট হন। একদিন মার্গারেট স্বামীজিকে তার মনের সংশয়ের কথা বলেন। স্বামীজি তাকে ভারতীয় দর্শন-এর সারতত্ত্ব সরলভাবে বুঝিয়ে দিলেন।বিবেকানন্দের বাণী তাকে মহাজীবনের সন্ধান দিল। খণ্ড ক্ষুদ্রকে বর্জন করে সেই শাশ্বত এক আবনশ্বর ধ্যানে নিজেকে উৎসর্গ করলেন। গ্রহণ করলেন স্বামীজির শিষ্যত্ব। মার্গারেট বিবেকানন্দের ভিতরে খুঁজে পেলেন তাঁর ধ্যানের গুরুকে। মার্গারেটের ভিতরে বিবেকানন্দ দেখলেন একজন করুণাময়ী শুচিশুভ্র রমণীকে।

    ভারতে আগমন : ১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দে মার্গারেট ইংল্যাণ্ডের নিকট হতে বিদায় নিয়ে ভারতভূমিতে পদার্পণ করলেন। সানন্দে নিজের মস্তকে তুলে নিলেন স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ। স্বামীজি এই মহিয়সী নারীর অসাধারণ ত্যাগের স্বীকৃতি দান করে সর্বসমক্ষে সগৌরবে ঘােষণা করলেন – ইংল্যাণ্ড আমাদিগকে এক অমূল্য উপহার দিয়েছে, ভারত কল্যাণে আত্মনিবেদিতা এই নারীত্ব।’ স্বামীজিই মার্গারেটের নূতন নাম দিলেন ‘নিবেদিতা’। ভগিনী’ আখ্যা দিলেন সংঘভ্রাতা সন্ন্যাসীগণ।
    কর্মভার গ্রহণ : গুরুর আদেশ শিরােধার্য করে নিবেদিতা এবার অবতীর্ণা হলেন বাস্তব কর্মক্ষেত্রে। কলকাতায় বাগবাজার পল্লির বােস পাড়া অঞ্চলে এক অন্ধকার গৃহের ভিতর বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত করলেন নিবেদিতা। অতি কষ্টে কয়েকটি কিশােরীসহ কিছু বেশি সংখ্যক বয়স্কা কন্যা সংগ্রহ করে তিনি বিদ্যালয়ের কাজ আরম্ভ করে দিলেন। তাঁর শিক্ষাদানের প্রণালী ছিল অতি সহজ এবং অভিনব। পড়তে বসে মেয়েরা পড়ার চেয়ে বেশি আনন্দ পেত। শুধু পাঠ্যগ্রন্থের পড়া পড়িয়ে নিবেদিতা কর্তব্য শেষ করতেন না। ছাত্রীদের গল্পচ্ছলে উপদেশ দিতেন- হিন্দুর প্রাচীন আদর্শের প্রতি নিষ্ঠা ও শ্রদ্ধা পােষণ করতে, রামায়ণ-মহাভারত থেকে সীতা, সাবিত্রী, গান্ধারি প্রভৃতি মহিয়সী রমণীদের আখ্যান শুনিয়ে ছাত্রীদের তাদের মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ করে তুলতেন। নারীজনােচিত চারুকলার শিক্ষা, আলপনা, সেলাই প্রভৃতির অনুশীলনও নিবেদিতার তত্ত্বাবধানে নিয়মিতভাবে হত।

    দেশসেবা : নিবেদিতা ভারতবর্ষকে মনে প্রাণে ভালােবেসে এদেশের সঙ্গে একাত্ম হয়ে পড়েছিলেন। এদেশ ছিল তার স্বদেশ। বাংলার জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। দেশে তখন স্বাধীনতার সংগ্রাম চলছে। ফাঁসির মঞ্চে, পুলিশের গুলিতে স্বদেশি বাঙালি যুবকেরা একের পর এক প্রাণ দিচ্ছে। রাজরােষে পতিত পলাতক সংগ্রামীরা অনেকেই নিবেদিতার নিকট ছিলেন অশেষ প্রকারে ঋণী। আন্তরিক সহানুভূতি, অর্থ সাহায্য তিনি অকাতরে বিতরণ করতেন। সাহিত্য-সাধনার মাধ্যমেও এই মহিয়সী মহিলা করে গেছেন ভারতের সেবা। তার রচিত ‘ক্লেডেটেলস্ অব হিন্দুইজম’, ‘দ্য মাস্টার অ্যাজ আইসহি প্রভৃতি গ্রন্থে তার ভারত অনুরাগ ও গুরুভক্তির পরিচয় পাওয়া যায়।

    প্রয়াণ : নিবেদিতা ভারতকে করে নিয়েছিলেন মনে প্রাণে আপন। নিষ্ঠাবতী ব্রহ্মচারিণীর জীবন যাপন করতেন তিনি। আচারে, ব্যবহারে, আহারে কোথাও ছিল না পাশ্চাত্যভাব। ধ্যান-ধারণা জীবন-চর্চায় তিনি ছিলেন খাঁটি ভারতীয়। মা সারদা তাকে সর্বদা নিজের কন্যা বলেই পরিচয় দিতেন। রবীন্দ্রনাথ তাঁকে ‘লােকমাতা হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই অক্টোবর ভগিনী নিবেদিতার জীবন দীপ হল নির্বাপিত।

    উপসংহারঃ ভগিনী নিবেদিতা নিজ বৈশিষ্ট্যে ভারতাত্মায় পরিণত হয়েছিলেন। ভারতবাসীর তিনি মহিয়সী ভগিনী। তাঁর আত্মত্যাগের আদর্শ চিরদিন ভারতবাসীকে
    উদ্বুদ্ধ করবে।

    See less
      • 1
  • 1
  • 9,925
  • 0
Answer
In: রচনা

রচনা: শরৎকাল | essay on autumn season in bengali language

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on April 18, 2020 at 6:22 am

    শরৎকাল সূচনা: ঋতুররানী শরৎ কাল, বাংলার তৃতীয় ঋতু। বর্ষার ঘন বাদল বৃষ্টি শেষ হলে আগমন ঘটে শরতের। ভাদ্র আশ্বিন মাস নিয়ে গঠিত এই ঋতু। এই ঋতুতে এই দূর্গা বাংলা মায়ের আবির্ভাব ঘটে এবং সমস্ত বাংলা জুড়ে উদযাপিত হয় দুর্গোৎসব। শরৎ এর বৈশিষ্ট্য: শ্রাবণ শেষে অবিরত বৃষ্টির বিরাম ঘটলেই প্রকৃতি নতুন রূপে সাজRead more

    শরৎকাল

    সূচনা: ঋতুররানী শরৎ কাল, বাংলার তৃতীয় ঋতু। বর্ষার ঘন বাদল বৃষ্টি শেষ হলে আগমন ঘটে শরতের। ভাদ্র আশ্বিন মাস নিয়ে গঠিত এই ঋতু। এই ঋতুতে এই দূর্গা বাংলা মায়ের আবির্ভাব ঘটে এবং সমস্ত বাংলা জুড়ে উদযাপিত হয় দুর্গোৎসব।

    শরৎ এর বৈশিষ্ট্য: শ্রাবণ শেষে অবিরত বৃষ্টির বিরাম ঘটলেই প্রকৃতি নতুন রূপে সাজে। আকাশের বুকে ভেসে বেড়ায় সাদা মেঘ, রোদ হয় ঝলমলে আর বাতাস হয় নির্মল। আকাশের উজ্জ্বল নীলিমার প্রান্ত ছুঁয়ে মালার মত উড়ে যায় পাখির ঝাঁক। শরৎ নিয়ে আসে এক মাধুর্য।ফলে যাহার পৃথিবী এক অপরূপ মহিমায় পরিণত হয়। সূর্যের আলোয় সবুজ ধানের ক্ষেত হয়ে মনমুগ্ধকর।

    শরৎ কালের রুপ: শরৎকালের প্রকৃতিতে লক্ষ করা যায় এক অনন্য রূপ। গাছপালা বৃক্ষ হয়ে ওঠে সতেজ ও সুন্দর ।‌ চারিদিকে সবুজের ছড়াছড়ি মনে হয়। ধানের ক্ষেতের মাঠ হয়ে ওঠে সবুজ প্রান্তর । নদীর ধারে উঠে উঁকি দেয় সাদা সাদা কাশফুল। শিউলি তলায় হালকা শিশিরে ভেজা দূর্বাঘাসের ওপর চাদরের মত বিছিয়ে থাকে সাদা আর জাফরন রং মেশানো রাশি রাশি শিউলিফুল। শরতের আগমনে বাংলার বন কোয়েল, দোয়েল ময়নার কল কাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে। সাজে এক অপরূপ সাজে।

    শরতের দুর্গোৎসব: শরৎকাল এর মূল আকর্ষণ দুর্গোৎসব বা দূর্গাপুজা। যা বাঙালির প্রধান উৎসব। তাই দুর্গাপূজা কে শারদীয় উৎসবে বলা হয় । দুর্গা মায়ের আগমনের জন্য বাঙালি অপেক্ষা করে সারা বছর ধরে। সেই অপেক্ষার প্রহর কাটিয়ে দুর্গা মা নিয়ে আসেন আনন্দ বাংলার ঘরে ঘরে। আকাশে বাতাসে মুখরিত হয় বাংলা মায়ের আগমনের ধ্বনি। উৎসবের আনন্দে বাঙালি হয় মাতোয়ারা। স্কুলের ছুটি হলে ছোটদের মধ্যে আনন্দের সীমা থাকে না। বাংলার শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা ছাড়াও লক্ষ্মীপূজা কালীপূজা এই শরৎ কালেই উদযাপিত হয়।

    উপসংহার: আকাশের সাদা মেঘের ভেলা আর নদীতীরে সাদা কাশফূল,ভোরে হালকা শিউলিভেজা শিউলিফুল আর দূর্গা মায়ের আগমন সব মিলিয়ে শরৎ যেন শুভ্রতার ঋতু।শরৎকালে রাতের বেলায় জ্যোৎস্নার রূপ অপরূপ ।মেঘমুক্ত আকাশ থেকে কল্প কথার পরীরা ডানা মেলে নেমে আসে পৃথিবীতে।শরতের জ্যোৎস্নার মোহিত রূপ নিজ চোখে না দেখলে বোঝা যায় না । বলা যায়, শরৎ বাংলার ঋতু – ঋতুর রানী।

    See less
      • 0
  • 1
  • 35,994
  • 0
Answer
In: রচনা

রচনা: শীতকাল | winter season in bengali

  1. Stinelas Niloy
    Stinelas Niloy
    Added an answer on October 6, 2021 at 1:36 pm
    This answer was edited.

    See less
      • 0
  • 1
  • 4,433
  • 2
Answer
In: রচনা

রচনা: গ্রীষ্মকাল | Summer season Essay in Bengali

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on July 30, 2020 at 2:03 am
    This answer was edited.

    গ্রীষ্মকাল সূচনা: বছরের সবচেয়ে উষ্ণতম কাল হল গ্রীষ্মকাল। আমাদের দেশে গ্রীষ্মকাল বলতে বৈশাখ ও জৈষ্ঠ মাস কে বুঝায়। এই সময় সূর্যের তাপমাত্রা এতই প্রখর হয় যে দিনের বেলা চলাচল দুষ্কর হয়ে ওঠে। চারিদিকে বিরাজ করে গরম আবহাওয়া এবং অস্বস্তিকর পরিবেশ। গ্রীষ্মের বৈশিষ্ট্য বা রূপ:গ্রীষ্মকালে বাতাস হয় শুষ্Read more

    গ্রীষ্মকাল

    সূচনা:

    বছরের সবচেয়ে উষ্ণতম কাল হল গ্রীষ্মকাল। আমাদের দেশে গ্রীষ্মকাল বলতে বৈশাখ ও জৈষ্ঠ মাস কে বুঝায়। এই সময় সূর্যের তাপমাত্রা এতই প্রখর হয় যে দিনের বেলা চলাচল দুষ্কর হয়ে ওঠে। চারিদিকে বিরাজ করে গরম আবহাওয়া এবং অস্বস্তিকর পরিবেশ।

    গ্রীষ্মের বৈশিষ্ট্য বা রূপ:
    গ্রীষ্মকালে বাতাস হয় শুষ্ক তাই বারবার তৃষ্ণা পায়। মানুষ দিনের বেলা যথাযথ পরিশ্রম করতে ব্যাহত হয়। বারবার ঘামে শরীর ভিজে যায়। কৃষকেরা মাঠ ত্যাগ করে ছায়ার আশ্রয় নে। গ্রীষ্মকালে আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে বারবার পানি, শরবত ইত্যাদি পান করতে হয়। গ্রীষ্মের গরম আবহাওয়া মানুষ ছাড়াও পশুপাখির জন্য কষ্টকর হয়। ‌ বিশ্বের বিকেলে সূর্যের তাপ কমে গেলে মৃদু বাতাস বয়। কখনো কখনো কালবৈশাখী ঝড় উঠে এবং বৃষ্টিপাত হয়।

    গ্রীষ্মের ফলমূল:
    গ্রীষ্মকাল ফুলের ঋতু। গ্রীষ্মকালে অনেক রকমের ফলমূল পাওয়া যায়। এই সময় আম, কাঁঠাল, জাম, তরমুজ, লিচু প্রভৃতি মিষ্টি ফল পাওয়া যায়। তাছাড়া গ্রীষ্মকালে বিভিন্ন সুগন্ধি ফুল যেমন বেল, জুঁই, চাপা, গন্ধরাজ প্রভৃতি ফুটে।

    গ্রীষ্মের সুবিধা ও অসুবিধা:
    গ্রীষ্মের সময় দিনের বেলা অনেক লম্বা হয়। তাই বাইরে ঘোরাঘুরি এবং কাজের জন্য অনেক সময় পাওয়া যায়। গ্রীষ্মের ছুটিতে জলে সাঁতার কাটা, বিভিন্ন ফল ফলমূল উপভোগ করা দারুন আনন্দের। কিন্তু গরমের প্রকোপে এই সময়ে অনেক রোগ যেমন জ্বর, কাশি, ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি দেখা দেয়। তাছাড়া কখনো কখনো কাল বৈশাখের কারণে অনেক ঘরবাড়ি ও সম্পত্তির ক্ষতিসাধন হয়।

    উপসংহার:
    গ্রীষ্মকাল নিঃসন্দেহে বছরের সবচেয়ে কষ্টের কাল বা ঋতু। এই সময় গরমের প্রকোপে চারিদিকে অশান্তি সৃষ্টি হয়। নানা অসুখ-বিসুখ দেখা দেয়। তবুও গ্রীষ্মের সুমিষ্ট ফলমূল, নববর্ষ উৎসব, জামাই ষষ্ঠী ইত্যাদি আমাদের জীবনে আনন্দ সঞ্চার করে।

    রচনা-গ্রীষ্মকাল | Summer season essay in bengali | summer season | grishma kal essay in bengali | paragraph in bengali | grishma ritu essay in bengali  

    See less
      • 2
  • 1
  • 73,426
  • 0
Answer
In: রচনা

বাংলা রচনা: গ্রন্থাগার | granthagar bengali essay

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on March 25, 2020 at 5:50 pm

    গ্রন্থাগার ভূমিকা: গ্রন্থাগার সভ্য মানুষের জীবনযাত্রায় এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। বর্তমান কালে অধিকাংশ শিক্ষিত লোকের বাড়িতেই জ্ঞান আনন্দলাভের জন্য গৃহ লাইব্রেরি গড়ে উঠেছে। বর্তমানে যে সকল সরকারি গ্রন্থাগার স্থাপিত হয়েছে তাদের প্রয়োজনীয়তা আমাদের মত শিক্ষাবঞ্চিত দেশের পক্ষে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। সরকRead more

    গ্রন্থাগার

    ভূমিকা: গ্রন্থাগার সভ্য মানুষের জীবনযাত্রায় এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। বর্তমান কালে অধিকাংশ শিক্ষিত লোকের বাড়িতেই জ্ঞান আনন্দলাভের জন্য গৃহ লাইব্রেরি গড়ে উঠেছে। বর্তমানে যে সকল সরকারি গ্রন্থাগার স্থাপিত হয়েছে তাদের প্রয়োজনীয়তা আমাদের মত শিক্ষাবঞ্চিত দেশের পক্ষে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি বা সাধারণ গ্রন্থাগার সকল মানুষের জ্ঞানের পিপাসা মেটায় আনন্দ দান করে। দেশের অজ্ঞতার অন্ধকার দূরীকরণে গ্রন্থাগারের ভূমিকা বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

    গ্রন্থাগার জ্ঞানের মিলনক্ষেত্র: গ্রন্থাগার বা লাইব্রেরী জ্ঞান ধারার মহামিলন ক্ষেত্র। এখানে অতীত,বর্তমান ও ভবিষ্যৎ মিলিত হয়ে আছে নানা দেশের পুস্তকের মাধ্যমে এটি সকল জ্ঞানের মিলন তীর্থ। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সাহিত্যের চিন্তাধারা আমাদেরশান্তি দেয়, আনন্দ দেয়, আর দেয় উদারতার শিক্ষা।

    গ্রন্থাগারের উদ্ভব : জ্ঞান-পিপাসু মানুষের কাছে গ্রন্থাগার আধুনিক সভ্যতার অবদান। প্রাচীন কালের মানুষও আধুনিক মানুষের মতাে জ্ঞান লাভ ও বিদ্যা শিক্ষার প্রয়ােজনে গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠায় মনােযােগী হয়েছিল। তখনকার দিনে গ্রন্থ বলতে অবশ্য বর্তমানকালের সহজে বহন করার মতাে কাগজের গ্রন্থ ছিল না। ছিল খােদাই করা শিলায় লিপি। তারপর তালপাতায় ও ভুজপত্রে লিখিত গ্রন্থ বের হয়। মধ্যযুগে তুলট কাগজের আবিষ্কার হওয়ায় এ কাগজে লেখা আরম্ভ হয়।

    প্রাচীন কালের গ্রন্থাগার : চীনদেশে প্রথম কাগজ আবিষ্কৃত হয় এবং সেখানে অনেক বড় গ্রন্থাগার সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল। প্রাচীন ভারতে তক্ষশিলা, নালন্দা প্রভৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় বড় গ্রন্থাগার ছিল। এসব গ্রন্থাগার শত শত ছাত্র ও বিদেশি পরিব্রাজকদের জ্ঞান-তৃষ্ণা মিটাত।

    পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গ্রন্থাগার : জ্ঞানের চর্চার প্রয়ােজনের সঙ্গে সঙ্গে এবং মুদ্রণযন্ত্রের প্রবর্তনের ফলে পৃথিবীর সকল দেশেই বড় বড় গ্রন্থাগার স্থাপিত হয়েছে। পৃথিবীর বৃহৎ গ্রন্থাগার ছিল চারটি – প্যারিস নগরীর বিবলিওথেক ন্যাশন্যাল, লণ্ডনের বৃটিশ মিউজিয়াম লাইব্রেরি, আমেরিকার ওয়াশিংটন নগরের লাইব্রেরি অব কংগ্রেস এবং সােভিয়েত রাশিয়ার লেলিন লাইব্রেরি। এগুলির দ্বারা ছাত্র-ছাত্রীরা খুবই উপকৃত হতেন।

    গ্রন্থাগারের শ্রেণি : গ্রন্থাগার দুই প্রকার – ব্যক্তিগত গ্রন্থাগার ও সাধারণ গ্রন্থাগার। ব্যক্তি বিশেষের গ্রন্থাগারে পুস্তকের সংখ্যা সাধারণত কিছু কম। এ সব গ্রন্থাগার গড়ে উঠে পণ্ডিত, শিক্ষক ও গবেষকদের নিজস্ব প্রয়ােজনে। এর দ্বারা বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিরাই উপকৃত হন। অপরদিকে, সাধারণ গ্রন্থাগারের লক্ষ্য থাকে সকল শ্রেণির পাঠকের চাহিদা পূরণ। সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের চেষ্টায় প্রতিষ্টিত হয় সাধারণ গ্রন্থাগার। এ গ্রন্থাগারে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকলের বই পড়ার সুযােগসুবিধা থাকে। শুধু বর্তমান যুগেই নয় প্রাচীন যুগেও প্রচলন ছিল সাধারণ গ্রন্থাগারের ভারতের বৌদ্ধ বিহারগুলির বিশাল গ্রন্থাগার ধ্যান মগ্ন ঋষির নীরবতায় করে চলত সকল মানুষের হিতসাধনের তপস্যা।

    বর্তমানের গ্রন্থাগার : আমাদের দেশে কয়েকটি গ্রন্থাগার আছে – কলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগার, এশিয়াটিক সােসাইটির গ্রন্থাগার, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের গ্রন্থাগার। তাছাড়া দেশের প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজে,স্কুলে ও বড় বড় শহরে সাধারণ পাঠের জন্য গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাছাড়া কিছু ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারও আমাদের দেশে দেখা যায়।

    গ্রন্থাগার সভ্যতা ও প্রগতির পরিচায়ক : সমস্ত জগতের শিক্ষিত সমাজ আজ গ্রন্থাগারের বিরাট প্রয়ােজনীয়তা উপলব্ধি করতে পেরেছে। তাই গ্রন্থাগার আন্দোলনের সাহায্যে তারা চেয়েছেন গ্রন্থাগারের উন্নতি সাধন করতে। কারণ প্রত্যেক দেশেরই সর্বশ্রেণির মানুষের কাছে শিক্ষা ও জ্ঞানের আলাে বিতরণ করতে হলে সরকারের শুধু শিক্ষা নীতি করলেই চলবে না তার সঙ্গে সঙ্গে লাইব্রেরির সংখ্যাও বৃদ্ধি করতে হবে। কারণ জাতীয় জীবনে গ্রন্থাগার-এক মহৎ কর্তব্য পালন করে চলছে, গ্রন্থাগারই পারে অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করে জ্ঞানের আলাে জ্বালিয়ে দিতে।

    উপসংহার : গ্রন্থাগার দেশের গ্রন্থ-সচেতন মানসিকতার পরিচায়ক। গত জাতির সভ্যতার বার্তা বহন করে অগ্রগতির পথে নিয়ে যায়। গ্রন্থাগার নিরক্ষরতা দূরীকরণে যেমন সহায়ক, তেমনি জ্ঞান বৃদ্ধিরও সহায়ক। সুতরাং দেশে যত বেশি লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হবে ততই জ্ঞান পিপাসু মানুষ প্রেরণা ও অমৃতের স্বাদ করবে আস্বাদন। আর হবে জাতির উন্নতি।

    See less
      • -1
  • 1
  • 14,262
  • 0
Answer
Load More Questions

Sidebar

আরও দেখুন

  • রচনা : বনভোজন | Bengali essay on Picnic for School student?
  • রচনা : শিক্ষা মূলক ভ্রমণ | Shikha mulok bhraman essay in Bengali
  • রচনা : দেশ ভ্রমণ | Essay on Travelling in Bengali for school student?
  • সংকিপ্ত রচনা : কুকুর | Short Essay on Dog in Bengali
  • রচনা : আমার মা | Amar Maa Bengali Essay for school student?
  • রচনা : একটি গাছ একটি প্রাণ | One tree one life paragraph in Bengali
  • রচনাঃ একটি নদীর আত্মকথা | Autobiography of a river in Bengali
  • রচনাঃ একটি বট গাছের আত্মকথা | Autobiography of a banyan tree in bengali
  • রচনা : পরিবেশ সংরক্ষণ ও তার প্রয়োজনীয়তা | Write an essay on environment in bengali
  • রচনা : আমার পরিবার | Essay on my family in bengali
  • রচনা : বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য | Unity in diversity essay in bengali language
  • রচনা – আমাদের গ্রাম (আমাদের গ্রাম অনুচ্ছেদ) Amader gram paragraph in bengali or amader gram rachana in bengali
  • রচনা – আমার প্রিয় কবি | My favourite poet essay in bengali
  • রচনা : দূর্গা পূজা | Essay on durga puja in 1000 words in bengali
  • রচনা : কালী পূজা | Kali puja rachana in bengali language
  • রচনা : একটি শীতের সকাল | winter morning paragraph in bengali
  • রচনা: মাতা পিতার প্রতি কর্তব্য | Mata Pitar Proti kortobbo Rochona
  • রচনা: বাংলাদেশের নদ নদী | Bangladesher Nod Nodi Essay
  • রচনা : বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান | Bangla rachana rabindranath thakur
  • রচনা : আমার প্রিয় গ্রন্থ । আমার প্রিয় বই | amar priyo grontho essay in bengali
Join us on Telegram
Join our FaceBook Group

বিষয়

All Bangla Paragraph (105) Apurba Dutta Poems (4) Bangla application format (11) Bangla Choto Golpo (7) Bangla dorkhasto lekha (11) Bangla gazal lyrics (8) Bangla GK (177) Bangla Kobita (203) Bangla Rachana (105) baul gaan lyrics (6) baul song lyrics (6) Bengali antonyms (40) Bengali Essay (105) Bengali letter Writing (11) Bengali lullaby lyrics (3) bengali lyrics (82) Bengali Meaning (259) bengali poem (14) Bengali Poems (124) Bengali Poem Summary (21) Bengali Rachana (99) Bengali short story (7) bengali song lyrics (98) bengali song lyrics in bengali (98) Bengali synonyms (33) chandrabindu lyrics (2) English grammar in Bengali (6) English to Bengali Meaning (270) English to Bengali Translation (256) Essay (75) Full form (14) general knowledge bengali (7) indian history in bengali (9) Joy Goswami kobita (4) kazi nazrul islamer kobita (8) Kobita (143) lyrics (17) Myth (3) nirendranath chakraborty poem (5) Nirmalendu Goon Poems (6) Paragraph (20) Parts of speech in Bengali (6) Pod Poriborton (39) Poem (3) poem summary in bengali (21) rabindranath tagore poems (57) Rabindra Sangeet lyrics (5) shakti chattopadhyay poems (7) Social Science (6) Somarthok Shobdo (33) Somas Bangla Grammar (15) sukanta bhattacharya kobita (4) Sukumar Roy Poem (16) Summary (8) অনুচ্ছেদ (127) অপূর্ব দত্তের কবিতা (4) আধ্যাত্মিক (10) ইংরেজি অনুবাদ (6) ইংরেজি থেকে বাংলা (6) ইংলিশ বাংলা অনুবাদ (6) ইন্টারনেট (1) ইসলাম (18) ইসলাম ধর্মীয় প্রশ্ন উত্তর (18) ইসলামী নাত ও গজল (8) ইসলামী সংগীত লিরিক্স (8) কবিতা (26) কবিতার সারাংশ ও সারমর্ম (21) কাজী নজরুল ইসলাম (8) কুসংস্কার (3) গানের কথা (14) ঘুম পাড়ানি গান lyrics (3) ছোটগল্প (7) জয় গোস্বামী (4) জয় গোস্বামীর কবিতা (4) জেনারেল নলেজ (7) জেনারেল নলেজ প্রশ্ন ও উত্তর (39) নির্মলেন্দু গুণের কবিতা (6) নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কবিতা (5) পদ পরিবর্তন (39) পূর্ণরূপ (14) প্রকৃতি (17) প্রক্রিতি (23) ফলমূল (28) ফুল ফর্ম (14) বাংলা general knowledge (52) বাংলা অর্থ (275) বাংলা আবেদন পত্র (11) বাংলা কবিতা (219) বাংলা কবিতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (68) বাংলা গান লিরিক্স (97) বাংলা গানের লিরিক্স (98) বাংলা ছোট গল্প (7) বাংলা দরখাস্ত নমুনা (11) বাংলা প্রবন্ধ (97) বাংলা বাক্য রচনা (176) বাংলা বিপরীত শব্দ (40) বাংলা রচনা (127) বাউল গান লিরিক্স (6) বাক্য রচনা (176) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (1) বিজ্ঞান শিক্ষা (17) বিপরীত শব্দ (40) বোঝাপড়া কবিতা (3) ব্যাখ্যা (8) ভক্তিভাজন (10) ভারতের ইতিহাস (9) ভূগোল (5) মধ্যযুগের ভারতের ইতিহাস (9) মূলভাব (8) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (34) রবীন্দ্রসংগীত (1) রবীন্দ্র সংগীত লিরিক্স (5) লিরিক্স (17) শক্তি চট্টোপাধ্যায় kobita (7) শঙ্খ ঘোষ (8) শুভ দাশগুপ্ত (7) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত (5) সন্ধি বিচ্ছেদ (8) সন্ধি বিচ্ছেদ ব্যবহার (8) সমাজ বিজ্ঞান (6) সমার্থক শব্দ (33) সমাস (15) সারাংশ (8) সুকান্তের কবিতা (4) সুকুমার রায় (16)

Footer

© 2025 Bengali Forum · All rights reserved. Contact Us

Add Bengali Forum to your Homescreen!

Add