Bengali Forum Latest Questions
-
Sojib SarkerAdded an answer on November 17, 2022 at 9:14 pmThis answer was edited.See less
-
জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী ভূমিকা : যে সমস্ত মানুষ পৃথিবীতে এসে তাদের মহাজীবনের অতি উজ্জ্বল আলাের দ্বারা মানুষের জীবনে কল্যাণের পথটি উদ্ভাসিত করে দেন মহাত্মা গান্ধী সেরূপ একজন মহাপুরুষ। ভারতবাসীকে তিনি এক নবমন্ত্রে দীক্ষিত করেছিলেন। তাই তাই তিনি জাতির জনক। তার অপরাজেয় আত্মশক্তি সমগ্র দেশের প্রাণ শক্Read more
জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী
ভূমিকা : যে সমস্ত মানুষ পৃথিবীতে এসে তাদের মহাজীবনের অতি
উজ্জ্বল আলাের দ্বারা মানুষের জীবনে কল্যাণের পথটি উদ্ভাসিত করে দেন মহাত্মা গান্ধী
সেরূপ একজন মহাপুরুষ। ভারতবাসীকে তিনি এক নবমন্ত্রে দীক্ষিত করেছিলেন। তাই
তাই তিনি জাতির জনক। তার অপরাজেয় আত্মশক্তি সমগ্র দেশের প্রাণ শক্তিকে
জাগ্রত করেছিল। শুধু ভারতবর্ষ কেন সারা বিশ্বের তিনি একজন মহামানব।জন্ম ও শিক্ষা: ইংরেজি ১৮৬৯ সালের ২রা অক্টোবর গুজরাটের অন্তর্গত
পােরবন্দরের এক সম্ত্রান্ত বণিক বংশে মহাত্মা গান্ধীর জন্ম। তার পুরাে নাম মােহন দাস
করম চাদ গান্ধী। তাঁর পিতার নাম কাবা গান্ধী আর মাতার নাম পুতলিবাঈ। তার পিতা
ছিলেন অত্যন্ত ন্যায়-নিষ্ঠ ও তেজস্বী পুরুষ। আর মাতা ছিলেন ধর্মশীলা। গান্ধীজী
বাল্যকালে অতিশয় ভীরু ও লাজুক প্রকৃতির ছিলেন। গান্ধিজীর বিদ্যা শিক্ষা আরম্ভ
হয় দেশীয় বিদ্যালয়ে। দশবছর বয়সে রাজকোটের উচ্চ ইংরাজি বিদ্যালয়ে তার উচ্চশিক্ষা
শুরু এবং সতের বছর বয়সে প্রবেশিকা পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভবন নগরের শ্যামল দাস
কলেজে ভর্তি হন। কলেজে তাঁর বেশিদিন পড়ার সুযােগ হয়নি। দেশীয় প্রথামতে
মাত্র তের বছর বয়সে কস্তুরীবাঈয়ের সঙ্গে তার বিবাহ হয়।ব্যারিস্টারি পাস প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে
গান্ধীজী ব্যারিস্টারি পাশ করবার জন্য বিলাত যান এবং ১৮৯০ খৃস্টাব্দে ব্যরিষ্টারি পাশ
করে স্বদেশে ফিরে আসেন। সেখানে তিনি মদ্য-মাংস স্পর্শ বা কোন আচার-বিরাে
কার্য করবেন না বলে মায়ের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন
করেছিলেন। আফ্রিকায় থাকা অবস্থায় সে দেশের বর্ণ বিদ্বেষী সরকারের বিদ্ধ
সত্যনিষ্ঠ গান্ধীজী দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন।কর্মজীবন : প্রথমে বােম্বাইয়ে, পরে রাজকোট শহরে তিনি আইন ব্যবসা
আরম্ভ করেন। কিন্তু তার প্রকৃতিগত লাজুক স্বভাবের জন্য তিনি আইন ব্যবসায়ে ।
প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারেননি।১৮৯৩ খৃস্টাব্দে একটি জটিল মোকদ্দমার ভার নিয়ে গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকার নাটলে গমন করেন। তার চেষ্টায় মোকদ্দমা আপসে মীমাংসা হয়ে গেলেও তিনি রয়ে
গেলেন সেখানে। দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতীয়দের লাঞ্ছনা ও নির্যাতন দেখে তিনি সকল
প্রবাসী ভারতবাসীকে সম্মিলিত করে গড়ে তুলেন ‘নাটাল ইন্ডিয়ান কংগ্রেস’ নামে
একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের অধিকার রক্ষার জন্য চালাতে লাগলেন নানাভাবে আন্দোলন।
এর ফলে সেতাঙ্গদের হাতে তাকে নানা প্রকার নির্যাতন ভােগ করতে হয়েছিল।দীর্ঘ একুশ বছর সেখানে বাস করে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ভারতীয়দের অধিকার। এখানেই
তার সত্যাগ্রহ আন্দোলনের সূচনা।জীবন দর্শনের মূল সূত্র : গান্ধীজীর জীবনদর্শনের মূল ভিত্তিই সত্যের
প্রতি মূল নিষ্ঠা। যার সমস্ত শক্তির উৎস ছিল সুগভীর মানবতাবোধ, কর্তব্য নিষ্ঠা ও
ধর্মনিষ্ঠতা। গান্ধীজী বিশ্বাস করতেন হিংসা দিয়ে কখনাে হিংসার উগ্রতাকে স্তব্ধ করা
যায় না। অহিংসার শক্তি হিংসার শক্তির চেয়ে অনেকগুণ বেশি। গান্ধীজীর জীবন দর্শনের মূল ছিল আধ্যাত্ব চেতনা যা ছিল তাঁর প্রেরণা শক্তি। যে সত্যনিষ্ঠাকে তিনি ছেলেবেলা থেকে অনুসরণ করেছেন সেটাই তাকে পথ দেখিয়েছিল গভীর আধ্যাত্মিক বোধ ও বিশ্বাস।ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ও গান্ধীজী : ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে
গান্ধীজীর ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সর্বাধিক প্রভাব বিস্তারকারী। এই স্বাধীনতা
যজ্ঞে তিনিই ছিলেন প্রধান ঋত্বিক। ১৯১৬ সালে নীলকরের অত্যাচারের প্রতিবাদে
চম্পারণ তার সত্যাগ্রহ আন্দোলন, ১৯১১ সালে রাওলাট বিলের প্রতিবাদে হরতাল
ঘােষণা, ১৯২০ সালে ‘খিলাফত আন্দোলন ও ওই সালে অসহযোগ-নীতি গ্রহণ এবং
বিলাতী-বর্জন আন্দোলন প্রভৃতি দ্বারা তিনি ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতন
অধ্যায়ের সূচনা করেন। ১৯২৯ সাল পর্যন্ত তিনি খদ্দর ও চরকা প্রচারে ব্রতী হয়ে
আন্দোলন চালান। ভারতকে স্বায়ত্ব-শাসন দেওয়ার জন্য ব্রিটিশ সরকার গােলটেবিল
বৈঠকের আয়োজন করেন গান্ধীজী বিলাত যান এবং ১৯৩৯ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে
শূন্য হাতে ফিরে আসে। ১৯৪২ খৃষ্টাব্দে “ভারত ছাড়ো আন্দোলনের মধ্য দিয়ে
গান্ধী ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে তার আত্মিক শক্তি দুর্জয় রূপ দেখিয়ে বিশ্ববাসীকে।
চকিত করে দেন। বস্তুত এভাবে ধারাবাহিক আন্দোলনে ভারতের স্বাধীনতা প্রাপ্তি।
ত্বরান্বিত হয়েছে। তিনি জীবনে বহুবার কারাবরণ করেন।সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য ও গান্ধীজী – গান্ধীজীর স্বাধীনতার জন্য
সংগ্রাম তথা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুধু সরকার বদল বা শাসন ক্ষমতা হস্তান্তরের
রাজনীতি নয়। তিনি বিশ্বাস করতেন রাজনৈতিক স্বাধীনতা সামাজিক এবং অর্থনৈতিক
স্বাধীনতার সঙ্গে এক সুত্রে জড়িত। তাই সামাজিক এবং অর্থনৈতিক অসমতার
বিরুদ্ধে তিনি অবতীর্ণ হয়েছিলেন প্রথম থেকে। ভারতবর্ষের মাটিতে এক নতুন
সমাজতন্ত্রের সাধনার প্রবক্তা ছিলেন গান্ধীজী। শিল্পের বিকেন্দ্রীকরণ এবং ব্যাপক কুটির শিল্প স্থাপনের মধ্য দিয়ে ভারতে নব্য আর্থ সামাজিক কাঠামোর হদিশ
দিয়েছেন তিনিই।গান্ধীজী ও মানবপ্রেম : গান্ধীজী ছিলেন প্রেমের পূজারী। তিনি মানব
সেবক, তরি মানব প্রেম সমাজসেবার মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছিল। তিনি হিন্দু-সমাজের
অস্পৃশ্যতা-রূপ পাপ দূর করবার জন্য চষ্টা করে গেছেন। অস্পৃশাদের তিনি নাম
দিয়েছিলেন হরিজন’। হিন্দু ও মুসলমানদের সম্প্রীতিকে তিনি দৃঢ় করার প্রয়াস চালিয়ে
গিয়েছিলেন। গ্রাম প্রধান ভারতের পুনর্গঠনের জন্যও তিনি আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে
গিয়েছেন। ভারতবর্ষের সাত লক্ষ শ্রীহীন গ্রামের পূর্ব গৌরব ফিরিয়ে আনার জন্য তার
অবদান স্মরণীয়।উপসংহার : গান্ধীজীর জীবন দর্শন ও ভারতাত্মা শাশ্বত বাণী সংহত
See less
মূর্তি। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ৩০শে জানুয়ারি নাথুরাম গডসের পিস্তলের গুলিতে তার নশ্বর।
দেহ লীন হয়ে গেছে। কিন্তু তিনি চিরঞ্জীবী। আজও তার আরম্ভ করা কাজ সমাপ্ত
হয়নি। ভারতের যতটুকু অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে, তা তারই প্রদর্শিত পথে এগিয়ে
চলার ফল। তবে এখনও অনেক পথ অতিক্রম করতে হবে। দেশ থেকে দারিদ্র্য,
অশিক্ষা, বিভেদ নীতি আর সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলতে হবে। তাহলে
দেশ বাঁচবে, জাতি বাঁচবে,মানব সমাজ বিপদ মুক্ত হবে। আর এই সাধনায় গান্ধীজীর
জীবন দর্শন হবে আমাদের পরম পাথেয়।
-
মহাত্মা গান্ধী - (Mahatma Gandhi biography essay) ভূমিকা : যে সমস্ত মানুষ পৃথিবীতে এসে তাদের মহাজীবনের অতি উজ্জ্বল আলাের দ্বারা মানুষের জীবনে কল্যাণের পথটি উদ্ভাসিত করে দেন মহাত্মা গান্ধী সেরূপ একজন মহাপুরুষ। ভারতবাসীকে তিনি এক নবমন্ত্রে দীক্ষিত করেছিলেন। তাই তাই তিনি জাতির জনক। তার অপরাজেয় আত্মশক্Read more
মহাত্মা গান্ধী – (Mahatma Gandhi biography essay)
ভূমিকা : যে সমস্ত মানুষ পৃথিবীতে এসে তাদের মহাজীবনের অতি
উজ্জ্বল আলাের দ্বারা মানুষের জীবনে কল্যাণের পথটি উদ্ভাসিত করে দেন মহাত্মা গান্ধী
সেরূপ একজন মহাপুরুষ। ভারতবাসীকে তিনি এক নবমন্ত্রে দীক্ষিত করেছিলেন। তাই
তাই তিনি জাতির জনক। তার অপরাজেয় আত্মশক্তি সমগ্র দেশের প্রাণ শক্তিকে
জাগ্রত করেছিল। শুধু ভারতবর্ষ কেন সারা বিশ্বের তিনি একজন মহামানব।জন্ম ও শিক্ষা: ইংরেজি ১৮৬৯ সালের ২রা অক্টোবর গুজরাটের অন্তর্গত
পােরবন্দরের এক সম্ত্রান্ত বণিক বংশে মহাত্মা গান্ধীর জন্ম। তার পুরাে নাম মােহন দাস
করম চাদ গান্ধী। তাঁর পিতার নাম কাবা গান্ধী আর মাতার নাম পুতলিবাঈ। তার পিতা
ছিলেন অত্যন্ত ন্যায়-নিষ্ঠ ও তেজস্বী পুরুষ। আর মাতা ছিলেন ধর্মশীলা। গান্ধীজী
বাল্যকালে অতিশয় ভীরু ও লাজুক প্রকৃতির ছিলেন। গান্ধিজীর বিদ্যা শিক্ষা আরম্ভ
হয় দেশীয় বিদ্যালয়ে। দশবছর বয়সে রাজকোটের উচ্চ ইংরাজি বিদ্যালয়ে তার উচ্চশিক্ষা
শুরু এবং সতের বছর বয়সে প্রবেশিকা পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভবন নগরের শ্যামল দাস
কলেজে ভর্তি হন। কলেজে তাঁর বেশিদিন পড়ার সুযােগ হয়নি। দেশীয় প্রথামতে
মাত্র তের বছর বয়সে কস্তুরীবাঈয়ের সঙ্গে তার বিবাহ হয়।ব্যারিস্টারি পাস প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে
গান্ধীজী ব্যারিস্টারি পাশ করবার জন্য বিলাত যান এবং ১৮৯০ খৃস্টাব্দে ব্যরিষ্টারি পাশ
করে স্বদেশে ফিরে আসেন। সেখানে তিনি মদ্য-মাংস স্পর্শ বা কোন আচার-বিরাে
কার্য করবেন না বলে মায়ের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন
করেছিলেন। আফ্রিকায় থাকা অবস্থায় সে দেশের বর্ণ বিদ্বেষী সরকারের বিদ্ধ
সত্যনিষ্ঠ গান্ধীজী দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন।কর্মজীবন : প্রথমে বােম্বাইয়ে, পরে রাজকোট শহরে তিনি আইন ব্যবসা
আরম্ভ করেন। কিন্তু তার প্রকৃতিগত লাজুক স্বভাবের জন্য তিনি আইন ব্যবসায়ে ।
প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারেননি।১৮৯৩ খৃস্টাব্দে একটি জটিল মোকদ্দমার ভার নিয়ে গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকার নাটলে গমন করেন। তার চেষ্টায় মোকদ্দমা আপসে মীমাংসা হয়ে গেলেও তিনি রয়ে
গেলেন সেখানে। দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতীয়দের লাঞ্ছনা ও নির্যাতন দেখে তিনি সকল
প্রবাসী ভারতবাসীকে সম্মিলিত করে গড়ে তুলেন ‘নাটাল ইন্ডিয়ান কংগ্রেস’ নামে
একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের অধিকার রক্ষার জন্য চালাতে লাগলেন নানাভাবে আন্দোলন।
এর ফলে সেতাঙ্গদের হাতে তাকে নানা প্রকার নির্যাতন ভােগ করতে হয়েছিল।দীর্ঘ একুশ বছর সেখানে বাস করে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ভারতীয়দের অধিকার। এখানেই
তার সত্যাগ্রহ আন্দোলনের সূচনা।জীবন দর্শনের মূল সূত্র : গান্ধীজীর জীবনদর্শনের মূল ভিত্তিই সত্যের
প্রতি মূল নিষ্ঠা। যার সমস্ত শক্তির উৎস ছিল সুগভীর মানবতাবোধ, কর্তব্য নিষ্ঠা ও
ধর্মনিষ্ঠতা। গান্ধীজী বিশ্বাস করতেন হিংসা দিয়ে কখনাে হিংসার উগ্রতাকে স্তব্ধ করা
যায় না। অহিংসার শক্তি হিংসার শক্তির চেয়ে অনেকগুণ বেশি। গান্ধীজীর জীবন দর্শনের মূল ছিল আধ্যাত্ব চেতনা যা ছিল তাঁর প্রেরণা শক্তি। যে সত্যনিষ্ঠাকে তিনি ছেলেবেলা থেকে অনুসরণ করেছেন সেটাই তাকে পথ দেখিয়েছিল গভীর আধ্যাত্মিক বোধ ও বিশ্বাস।ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ও গান্ধীজী : ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে
গান্ধীজীর ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সর্বাধিক প্রভাব বিস্তারকারী। এই স্বাধীনতা
যজ্ঞে তিনিই ছিলেন প্রধান ঋত্বিক। ১৯১৬ সালে নীলকরের অত্যাচারের প্রতিবাদে
চম্পারণ তার সত্যাগ্রহ আন্দোলন, ১৯১১ সালে রাওলাট বিলের প্রতিবাদে হরতাল
ঘােষণা, ১৯২০ সালে ‘খিলাফত আন্দোলন ও ওই সালে অসহযোগ-নীতি গ্রহণ এবং
বিলাতী-বর্জন আন্দোলন প্রভৃতি দ্বারা তিনি ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতন
অধ্যায়ের সূচনা করেন। ১৯২৯ সাল পর্যন্ত তিনি খদ্দর ও চরকা প্রচারে ব্রতী হয়ে
আন্দোলন চালান। ভারতকে স্বায়ত্ব-শাসন দেওয়ার জন্য ব্রিটিশ সরকার গােলটেবিল
বৈঠকের আয়োজন করেন গান্ধীজী বিলাত যান এবং ১৯৩৯ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে
শূন্য হাতে ফিরে আসে। ১৯৪২ খৃষ্টাব্দে “ভারত ছাড়ো আন্দোলনের মধ্য দিয়ে
গান্ধী ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে তার আত্মিক শক্তি দুর্জয় রূপ দেখিয়ে বিশ্ববাসীকে।
চকিত করে দেন। বস্তুত এভাবে ধারাবাহিক আন্দোলনে ভারতের স্বাধীনতা প্রাপ্তি।
ত্বরান্বিত হয়েছে। তিনি জীবনে বহুবার কারাবরণ করেন।সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য ও গান্ধীজী – গান্ধীজীর স্বাধীনতার জন্য
সংগ্রাম তথা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুধু সরকার বদল বা শাসন ক্ষমতা হস্তান্তরের
রাজনীতি নয়। তিনি বিশ্বাস করতেন রাজনৈতিক স্বাধীনতা সামাজিক এবং অর্থনৈতিক
স্বাধীনতার সঙ্গে এক সুত্রে জড়িত। তাই সামাজিক এবং অর্থনৈতিক অসমতার
বিরুদ্ধে তিনি অবতীর্ণ হয়েছিলেন প্রথম থেকে। ভারতবর্ষের মাটিতে এক নতুন
সমাজতন্ত্রের সাধনার প্রবক্তা ছিলেন গান্ধীজী। শিল্পের বিকেন্দ্রীকরণ এবং ব্যাপক কুটির শিল্প স্থাপনের মধ্য দিয়ে ভারতে নব্য আর্থ সামাজিক কাঠামোর হদিশ
দিয়েছেন তিনিই।গান্ধীজী ও মানবপ্রেম : গান্ধীজী ছিলেন প্রেমের পূজারী। তিনি মানব
সেবক, তরি মানব প্রেম সমাজসেবার মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছিল। তিনি হিন্দু-সমাজের
অস্পৃশ্যতা-রূপ পাপ দূর করবার জন্য চষ্টা করে গেছেন। অস্পৃশাদের তিনি নাম
দিয়েছিলেন হরিজন’। হিন্দু ও মুসলমানদের সম্প্রীতিকে তিনি দৃঢ় করার প্রয়াস চালিয়ে
গিয়েছিলেন। গ্রাম প্রধান ভারতের পুনর্গঠনের জন্যও তিনি আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে
গিয়েছেন। ভারতবর্ষের সাত লক্ষ শ্রীহীন গ্রামের পূর্ব গৌরব ফিরিয়ে আনার জন্য তার
অবদান স্মরণীয়।উপসংহার : গান্ধীজীর জীবন দর্শন ও ভারতাত্মা শাশ্বত বাণী সংহত
See less
মূর্তি। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ৩০শে জানুয়ারি নাথুরাম গডসের পিস্তলের গুলিতে তার নশ্বর।
দেহ লীন হয়ে গেছে। কিন্তু তিনি চিরঞ্জীবী। আজও তার আরম্ভ করা কাজ সমাপ্ত
হয়নি। ভারতের যতটুকু অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে, তা তারই প্রদর্শিত পথে এগিয়ে
চলার ফল। তবে এখনও অনেক পথ অতিক্রম করতে হবে। দেশ থেকে দারিদ্র্য,
অশিক্ষা, বিভেদ নীতি আর সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলতে হবে। তাহলে
দেশ বাঁচবে, জাতি বাঁচবে,মানব সমাজ বিপদ মুক্ত হবে। আর এই সাধনায় গান্ধীজীর
জীবন দর্শন হবে আমাদের পরম পাথেয়।
-
নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু ভূমিকা : ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনে একক শক্তি ও সাংগঠনিক ক্ষমতায় যিনি ব্রিটিশ রাজশক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়ে স্বাধীনতার সূর্যোদয় ঘটিয়ে ছিলেন তার নাম নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু। রাজ শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামে বিনীত আবেদন-নিবেদন পন্থায় বিশ্বাসী ছিলেন না সুভাষ। বাহুবলেRead more
নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু
ভূমিকা : ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনে একক শক্তি ও সাংগঠনিক
ক্ষমতায় যিনি ব্রিটিশ রাজশক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়ে স্বাধীনতার সূর্যোদয়
ঘটিয়ে ছিলেন তার নাম নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু। রাজ শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামে বিনীত
আবেদন-নিবেদন পন্থায় বিশ্বাসী ছিলেন না সুভাষ। বাহুবলে ভারতবাসীর জন্য
স্বাধীনতার সূর্য উদয়ে তিনি ছিলেন দৃঢ় সংকল্প। শেষ পর্যন্ত যে তিনি সফল হননি সেটা
রাজনীতির কুটচাল। তবে স্বদেশের মাটিতে উত্তোলন করেছিলেন স্বাধীনতার পতাকা।
তাই তাে আজও স্বদেশ বাসীর কণ্ঠে উচ্চারিত ধ্বনি : জয়তু নেতাজী।জন্ম ও বাল্যজীবন : ১৮৯৭ সালের ২৩ শে জানুয়ারি ওড়িয্যার কটক
শহরে জন্মগ্রহণ করেন।তার পৈত্রিক নিবাস ছিল চব্বিশ পরগনা কোদালিয়া গ্রামে।
পিতার নাম জানকী নাথ বস ও মাতা প্রভাবতী দেবী। ছাত্র জীবনে সুভাষ এক দিকে
যেমন ছিলেন মেধাবী, তেমনি ছিলেন দুর্লভ মনোবলের অধিকারী। ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি
প্রবেশিকা পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। অতি শৈশব থেকেই তার মানব
সেবার পরিচয় পাওয়া যায়। পিতা-মাতাকে লকিয়ে তিনি সঙ্গীদের সঙ্গে আর্ত-পীড়িত
রোগীদের সেবা-শুভশ্রী যা করতেন।ছাত্র জীবনের বলিষ্ঠতা : ছাত্র জীবনেই তিনি সংকল্প গ্রহণ করেছিলেন –
মাতৃভূমির বন্ধন মোচন ও আর্তমানবতার সেবায় নিজের জীবনকে উৎসর্গ করার।এ
কারণেই প্রেসিডেন্সি কলেজে বি. এ. পড়ার সময়ে অধ্যাপক ওটেনের বিরুদ্ধে রুখে
দাড়িয়ে তিনি নিজ ভবিষ্যৎকে নষ্ট করেন। আর আই সি এস-এর লােভনীয় চাকুরি
হেলায় ত্যাগ করে রাজনৈতিক নেতা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। বেছে
নেন দুঃখ, দারিদ্র ও নির্যাতনের এক অনিশ্চিত জীবন।স্বাধীনতা সংগ্রাম জীবনের ব্রত : ভারতের ইতিহাসে রাজনৈতিক সুভাষ
এক সফল ও বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। বঙ্গীয় প্রাদেশিক কলেজ, বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস
কমিটি, দেশবন্ধুর স্বরাজ দল ও ফরওয়ার্ড পত্রিকা পরিচালনা ও সংগঠনে তিনি
বিস্ময়কর সাফল্যের নজির রেখেছিলেন। তার কাছে রাজনীতি ও দেশসেবা ছিল ঈশ্বর
সেবারই নামান্তর। বিভিন্ন জায়গায় বারংবার তিনি বলেছেন যে “এই আদর্শই আমার।
জীবনের জপ-তপ ও স্বাধ্যায়।”নরম পন্থীদের সঙ্গে মতানৈক্য ও নিজ পথে সংগ্রাম : চরম পন্থী এই
যুবনেতা সুভাষচন্দ্রের কাম্য ছিল ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণ মুক্ত পূর্ণ স্বাধীনতা। এই মতাদর্শ নিয়ে
জাতীয় কংগ্রেসের প্রবীণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর বিবাদ বাধে। অপর পক্ষে, সরকারের।
চোখেও তিনি বিপজ্জনক ব্যক্তি হিসাবে চিহ্নিত হন। ব্রিটিশ সরকার তাকে গৃহবন্দি
করে রাখে। কিন্তু সদা সতর্ক-পুলিশের চোখে ধূলি দিয়ে তিনি ছদ্মবেশে বিপদজনক
দুস্তর পথ পাড়ি দিয়ে ব্রিটিশ শত্রুদেশে জার্মানিতে এসে উপস্থিত হন। ভারত মাতার
মুক্তির জন্য জার্মান রাষ্ট্রনায়ক হিটলার তাকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেন। বিপ্লবী রাসবিহারী
বসুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিপদ সঙ্কুল সমুদ্র পথে পাড়ি দিয়ে জার্মানী থেকে জাপানে
এসে উপস্থিত হন। সেখানে আজাদ হিন্দ বাহিনী গঠন করে ব্রিটিশ ভারতের বিরুদ্ধে
সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। আজাদ হিন্দ বাহিনী গঠন ও তার পরিচালনা সুভাষচন্দ্রের
জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি। আজাদী সেনাদলের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছিল –“দিল্লি চলাে”।
প্রেরণা তাদের নেতাজী।উপসংহার : নেতাজীর জীবনের রহস্যাবৃত পরিণতি দেশবাসীর মনকে
See less
আজও আলােড়িত করে চলেছে। তাই হাতে বিমান দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছিল
কিনা এ প্রশ্নের উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি রাশিয়ার মহাফেজখানা থেকে
এমন কিছু তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে, যা তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে প্রচারিত তথ্যের সম্বন্ধে
সামঞ্জস্য পূর্ণ নয়। কিন্তু এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, তার মৃত্যুঞ্জয় উপস্থিতি যুগ
হতে যুগান্তরে মুক্তি সংগ্রামী মানুষের মনে চির ভাস্কর হয়ে থাকবে। নেতাজি সুভাষচন্দ্রের
সাহসিক আঘাতে কম্পমান ব্রিটিশ শক্তি বুঝেছিল ভারত থেকে বিদায়ের কাল সমাগত।
ব্রিটিশ শাসক বদান্যতার পরিচয় দিয়ে তাদের বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যের কুহিনুর ভারত
ছেড়ে চলে যায়নি। সাম্রাজ্যের নিয়তি লিপি পাঠ করেই তারা বিদায় নিয়েছে। তারপর
থেকেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সূর্যাস্ত কাল শুরু হয়েছে। ‘Springing Tiger’ নেতাজীর
শাণিত তরবারি সেই অন্তিম আঘাত হেনেছ।
-
নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু ভূমিকা : ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনে একক শক্তি ও সাংগঠনিক ক্ষমতায় যিনি ব্রিটিশ রাজশক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়ে স্বাধীনতার সূর্যোদয় ঘটিয়ে ছিলেন তার নাম নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু। রাজ শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামে বিনীত আবেদন-নিবেদন পন্থায় বিশ্বাসী ছিলেন না সুভাষ। বাহুবলেRead more
নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু
ভূমিকা : ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনে একক শক্তি ও সাংগঠনিক
ক্ষমতায় যিনি ব্রিটিশ রাজশক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়ে স্বাধীনতার সূর্যোদয়
ঘটিয়ে ছিলেন তার নাম নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু। রাজ শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামে বিনীত
আবেদন-নিবেদন পন্থায় বিশ্বাসী ছিলেন না সুভাষ। বাহুবলে ভারতবাসীর জন্য
স্বাধীনতার সূর্য উদয়ে তিনি ছিলেন দৃঢ় সংকল্প। শেষ পর্যন্ত যে তিনি সফল হননি সেটা
রাজনীতির কুটচাল। তবে স্বদেশের মাটিতে উত্তোলন করেছিলেন স্বাধীনতার পতাকা।
তাই তাে আজও স্বদেশ বাসীর কণ্ঠে উচ্চারিত ধ্বনি : জয়তু নেতাজী।জন্ম ও বাল্যজীবন : ১৮৯৭ সালের ২৩ শে জানুয়ারি ওড়িয্যার কটক
শহরে জন্মগ্রহণ করেন।তার পৈত্রিক নিবাস ছিল চব্বিশ পরগনা কোদালিয়া গ্রামে।
পিতার নাম জানকী নাথ বস ও মাতা প্রভাবতী দেবী। ছাত্র জীবনে সুভাষ এক দিকে
যেমন ছিলেন মেধাবী, তেমনি ছিলেন দুর্লভ মনোবলের অধিকারী। ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি
প্রবেশিকা পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। অতি শৈশব থেকেই তার মানব
সেবার পরিচয় পাওয়া যায়। পিতা-মাতাকে লকিয়ে তিনি সঙ্গীদের সঙ্গে আর্ত-পীড়িত
রোগীদের সেবা-শুভশ্রী যা করতেন।ছাত্র জীবনের বলিষ্ঠতা : ছাত্র জীবনেই তিনি সংকল্প গ্রহণ করেছিলেন –
মাতৃভূমির বন্ধন মোচন ও আর্তমানবতার সেবায় নিজের জীবনকে উৎসর্গ করার।এ
কারণেই প্রেসিডেন্সি কলেজে বি. এ. পড়ার সময়ে অধ্যাপক ওটেনের বিরুদ্ধে রুখে
দাড়িয়ে তিনি নিজ ভবিষ্যৎকে নষ্ট করেন। আর আই সি এস-এর লােভনীয় চাকুরি
হেলায় ত্যাগ করে রাজনৈতিক নেতা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। বেছে
নেন দুঃখ, দারিদ্র ও নির্যাতনের এক অনিশ্চিত জীবন।স্বাধীনতা সংগ্রাম জীবনের ব্রত : ভারতের ইতিহাসে রাজনৈতিক সুভাষ
এক সফল ও বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। বঙ্গীয় প্রাদেশিক কলেজ, বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস
কমিটি, দেশবন্ধুর স্বরাজ দল ও ফরওয়ার্ড পত্রিকা পরিচালনা ও সংগঠনে তিনি
বিস্ময়কর সাফল্যের নজির রেখেছিলেন। তার কাছে রাজনীতি ও দেশসেবা ছিল ঈশ্বর
সেবারই নামান্তর। বিভিন্ন জায়গায় বারংবার তিনি বলেছেন যে “এই আদর্শই আমার।
জীবনের জপ-তপ ও স্বাধ্যায়।”নরম পন্থীদের সঙ্গে মতানৈক্য ও নিজ পথে সংগ্রাম : চরম পন্থী এই
যুবনেতা সুভাষচন্দ্রের কাম্য ছিল ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণ মুক্ত পূর্ণ স্বাধীনতা। এই মতাদর্শ নিয়ে
জাতীয় কংগ্রেসের প্রবীণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর বিবাদ বাধে। অপর পক্ষে, সরকারের।
চোখেও তিনি বিপজ্জনক ব্যক্তি হিসাবে চিহ্নিত হন। ব্রিটিশ সরকার তাকে গৃহবন্দি
করে রাখে। কিন্তু সদা সতর্ক-পুলিশের চোখে ধূলি দিয়ে তিনি ছদ্মবেশে বিপদজনক
দুস্তর পথ পাড়ি দিয়ে ব্রিটিশ শত্রুদেশে জার্মানিতে এসে উপস্থিত হন। ভারত মাতার
মুক্তির জন্য জার্মান রাষ্ট্রনায়ক হিটলার তাকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেন। বিপ্লবী রাসবিহারী
বসুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিপদ সঙ্কুল সমুদ্র পথে পাড়ি দিয়ে জার্মানী থেকে জাপানে
এসে উপস্থিত হন। সেখানে আজাদ হিন্দ বাহিনী গঠন করে ব্রিটিশ ভারতের বিরুদ্ধে
সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। আজাদ হিন্দ বাহিনী গঠন ও তার পরিচালনা সুভাষচন্দ্রের
জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি। আজাদী সেনাদলের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছিল –“দিল্লি চলাে”।
প্রেরণা তাদের নেতাজী।উপসংহার : নেতাজীর জীবনের রহস্যাবৃত পরিণতি দেশবাসীর মনকে
See less
আজও আলােড়িত করে চলেছে। তাই হাতে বিমান দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছিল
কিনা এ প্রশ্নের উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি রাশিয়ার মহাফেজখানা থেকে
এমন কিছু তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে, যা তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে প্রচারিত তথ্যের সম্বন্ধে
সামঞ্জস্য পূর্ণ নয়। কিন্তু এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, তার মৃত্যুঞ্জয় উপস্থিতি যুগ
হতে যুগান্তরে মুক্তি সংগ্রামী মানুষের মনে চির ভাস্কর হয়ে থাকবে। নেতাজি সুভাষচন্দ্রের
সাহসিক আঘাতে কম্পমান ব্রিটিশ শক্তি বুঝেছিল ভারত থেকে বিদায়ের কাল সমাগত।
ব্রিটিশ শাসক বদান্যতার পরিচয় দিয়ে তাদের বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যের কুহিনুর ভারত
ছেড়ে চলে যায়নি। সাম্রাজ্যের নিয়তি লিপি পাঠ করেই তারা বিদায় নিয়েছে। তারপর
থেকেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সূর্যাস্ত কাল শুরু হয়েছে। ‘Springing Tiger’ নেতাজীর
শাণিত তরবারি সেই অন্তিম আঘাত হেনেছ।
-
নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু ভূমিকা : ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনে একক শক্তি ও সাংগঠনিক ক্ষমতায় যিনি ব্রিটিশ রাজশক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়ে স্বাধীনতার সূর্যোদয় ঘটিয়ে ছিলেন তার নাম নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু। রাজ শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামে বিনীত আবেদন-নিবেদন পন্থায় বিশ্বাসী ছিলেন না সুভাষ। বাহুবলেRead more
নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু
ভূমিকা : ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনে একক শক্তি ও সাংগঠনিক
ক্ষমতায় যিনি ব্রিটিশ রাজশক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়ে স্বাধীনতার সূর্যোদয়
ঘটিয়ে ছিলেন তার নাম নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু। রাজ শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামে বিনীত
আবেদন-নিবেদন পন্থায় বিশ্বাসী ছিলেন না সুভাষ। বাহুবলে ভারতবাসীর জন্য
স্বাধীনতার সূর্য উদয়ে তিনি ছিলেন দৃঢ় সংকল্প। শেষ পর্যন্ত যে তিনি সফল হননি সেটা
রাজনীতির কুটচাল। তবে স্বদেশের মাটিতে উত্তোলন করেছিলেন স্বাধীনতার পতাকা।
তাই তাে আজও স্বদেশ বাসীর কণ্ঠে উচ্চারিত ধ্বনি : জয়তু নেতাজী।জন্ম ও বাল্যজীবন : ১৮৯৭ সালের ২৩ শে জানুয়ারি ওড়িয্যার কটক
শহরে জন্মগ্রহণ করেন।তার পৈত্রিক নিবাস ছিল চব্বিশ পরগনা কোদালিয়া গ্রামে।
পিতার নাম জানকী নাথ বস ও মাতা প্রভাবতী দেবী। ছাত্র জীবনে সুভাষ এক দিকে
যেমন ছিলেন মেধাবী, তেমনি ছিলেন দুর্লভ মনোবলের অধিকারী। ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি
প্রবেশিকা পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। অতি শৈশব থেকেই তার মানব
সেবার পরিচয় পাওয়া যায়। পিতা-মাতাকে লকিয়ে তিনি সঙ্গীদের সঙ্গে আর্ত-পীড়িত
রোগীদের সেবা-শুভশ্রী যা করতেন।ছাত্র জীবনের বলিষ্ঠতা : ছাত্র জীবনেই তিনি সংকল্প গ্রহণ করেছিলেন –
মাতৃভূমির বন্ধন মোচন ও আর্তমানবতার সেবায় নিজের জীবনকে উৎসর্গ করার।এ
কারণেই প্রেসিডেন্সি কলেজে বি. এ. পড়ার সময়ে অধ্যাপক ওটেনের বিরুদ্ধে রুখে
দাড়িয়ে তিনি নিজ ভবিষ্যৎকে নষ্ট করেন। আর আই সি এস-এর লােভনীয় চাকুরি
হেলায় ত্যাগ করে রাজনৈতিক নেতা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। বেছে
নেন দুঃখ, দারিদ্র ও নির্যাতনের এক অনিশ্চিত জীবন।স্বাধীনতা সংগ্রাম জীবনের ব্রত : ভারতের ইতিহাসে রাজনৈতিক সুভাষ
এক সফল ও বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। বঙ্গীয় প্রাদেশিক কলেজ, বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস
কমিটি, দেশবন্ধুর স্বরাজ দল ও ফরওয়ার্ড পত্রিকা পরিচালনা ও সংগঠনে তিনি
বিস্ময়কর সাফল্যের নজির রেখেছিলেন। তার কাছে রাজনীতি ও দেশসেবা ছিল ঈশ্বর
সেবারই নামান্তর। বিভিন্ন জায়গায় বারংবার তিনি বলেছেন যে “এই আদর্শই আমার।
জীবনের জপ-তপ ও স্বাধ্যায়।”নরম পন্থীদের সঙ্গে মতানৈক্য ও নিজ পথে সংগ্রাম : চরম পন্থী এই
যুবনেতা সুভাষচন্দ্রের কাম্য ছিল ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণ মুক্ত পূর্ণ স্বাধীনতা। এই মতাদর্শ নিয়ে
জাতীয় কংগ্রেসের প্রবীণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর বিবাদ বাধে। অপর পক্ষে, সরকারের।
চোখেও তিনি বিপজ্জনক ব্যক্তি হিসাবে চিহ্নিত হন। ব্রিটিশ সরকার তাকে গৃহবন্দি
করে রাখে। কিন্তু সদা সতর্ক-পুলিশের চোখে ধূলি দিয়ে তিনি ছদ্মবেশে বিপদজনক
দুস্তর পথ পাড়ি দিয়ে ব্রিটিশ শত্রুদেশে জার্মানিতে এসে উপস্থিত হন। ভারত মাতার
মুক্তির জন্য জার্মান রাষ্ট্রনায়ক হিটলার তাকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেন। বিপ্লবী রাসবিহারী
বসুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিপদ সঙ্কুল সমুদ্র পথে পাড়ি দিয়ে জার্মানী থেকে জাপানে
এসে উপস্থিত হন। সেখানে আজাদ হিন্দ বাহিনী গঠন করে ব্রিটিশ ভারতের বিরুদ্ধে
সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। আজাদ হিন্দ বাহিনী গঠন ও তার পরিচালনা সুভাষচন্দ্রের
জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি। আজাদী সেনাদলের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছিল –“দিল্লি চলাে”।
প্রেরণা তাদের নেতাজী।উপসংহার : নেতাজীর জীবনের রহস্যাবৃত পরিণতি দেশবাসীর মনকে
See less
আজও আলােড়িত করে চলেছে। তাই হাতে বিমান দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছিল
কিনা এ প্রশ্নের উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি রাশিয়ার মহাফেজখানা থেকে
এমন কিছু তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে, যা তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে প্রচারিত তথ্যের সম্বন্ধে
সামঞ্জস্য পূর্ণ নয়। কিন্তু এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, তার মৃত্যুঞ্জয় উপস্থিতি যুগ
হতে যুগান্তরে মুক্তি সংগ্রামী মানুষের মনে চির ভাস্কর হয়ে থাকবে। নেতাজি সুভাষচন্দ্রের
সাহসিক আঘাতে কম্পমান ব্রিটিশ শক্তি বুঝেছিল ভারত থেকে বিদায়ের কাল সমাগত।
ব্রিটিশ শাসক বদান্যতার পরিচয় দিয়ে তাদের বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যের কুহিনুর ভারত
ছেড়ে চলে যায়নি। সাম্রাজ্যের নিয়তি লিপি পাঠ করেই তারা বিদায় নিয়েছে। তারপর
থেকেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সূর্যাস্ত কাল শুরু হয়েছে। ‘Springing Tiger’ নেতাজীর
শাণিত তরবারি সেই অন্তিম আঘাত হেনেছ।
-
Akmal Mahmud ShahAdded an answer on March 3, 2020 at 9:46 pmThis answer was edited.স্বামী বিবেকানন্দ ভূমিকা “বীর সন্ন্যাসী বিবেক বাণী ছুটেছে জগৎময়, বাঙ্গালীর ছেলে ব্যাঘ্রে-বৃষভে ঘটাবে সমন্বয়।” কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত আমাদের গৌরবের কথা বলতে গিয়ে এই কথাগুলি লিখেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ সম্পর্কে। ভারতবর্ষের আধ্যাত্মিক সত্যকে বিবেকানন্দ যে ভাবে জগৎ সভায় উপস্থাপিত করেছিলেন, তার সত্যিRead more
স্বামী বিবেকানন্দ
ভূমিকা “বীর সন্ন্যাসী বিবেক বাণী ছুটেছে জগৎময়,
বাঙ্গালীর ছেলে ব্যাঘ্রে-বৃষভে ঘটাবে সমন্বয়।”
কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত আমাদের গৌরবের কথা বলতে গিয়ে এই কথাগুলি লিখেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ সম্পর্কে। ভারতবর্ষের আধ্যাত্মিক সত্যকে বিবেকানন্দ যে ভাবে জগৎ সভায় উপস্থাপিত করেছিলেন, তার সত্যিই তুলনা হয় না। ভারতবর্ষকে তিনি বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
জন্ম ও পরিচয় : ১৮৬৩ খ্রিষ্টাব্দের ১২ই জানুয়ারি কলকাতার বিখ্যাত দত্ত পরিবারে বিবেকানন্দের জন্ম হয়। শৈশবে তার নাম ছিল “বীরেশ্বর’ বা ‘বিলে’। তার পিতা বিশ্বনাথ দত্ত সে যুগের একজন বিখ্যাত এটর্নি ছিলেন। মাতা ভুবনেশ্বরীও ছিলেন তেজস্বী মহিলা। প্রথমে গৃহশিক্ষকের কাছে, পরে মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশনে, এবং তারপর প্রেসিডেন্সি কলেজে তিনি পড়েন। ১৮৮৩ সালে তিনি বি. এ. পাশ করে আইন পড়তে আরম্ভ করেন বটে, কিন্তু হঠাৎ পিতার মৃত্যু হওয়ায় পড়াশুনা ছাড়তে তিনি বাধ্য হন। ছেলেবেলা থেকেই তিনি ঈশ্বরমুখী ছিলেন। সংকীর্ণ জাত-পাত তিনি মানতেন না।
রামকৃষ্ণদেবের সান্নিধ্য :- বি. এ. পড়বার সময় তিনি পরমপুরুষ রামকৃষ্ণদেবের সংস্পর্শে আসেন। আর এই সংস্পর্শে আসার প্রথম দিনটি থেকেই তিনি রামকৃষ্ণ দেবের প্রতি এক গভীর আকর্ষণ অনুভব করেন। তাঁর বিশেষ আধ্যাত্মিক ক্ষমতা এই তরুণ যুবকটিকে দান করে তাকে দীক্ষিত করেন নতুন নতুন মন্ত্রে। রামকৃষ্ণদেব ছিলেন নবযুগের আচার্য। সকল ধর্ম ও মতের প্রতি তিনি ছিলেন শ্রদ্ধাশীল এবং তিনি তার। সাধনা ও জীবন চর্চার ভিতর দিয়ে আবিষ্কার করেছিলেন যে “যত মত তত পথ’।তাছাড়া জীব সেবার মধ্য দিয়েই যে ঈশ্বর সেবা হয়, এতে তিনি ছিলেন গভীর বিশ্বাসী।
ভারত পরিক্রমা : ১৮৮৬ খৃষ্টাব্দে রামকৃষ্ণদেবের মৃত্যুর পর বিবেকানন্দ পরিব্রাজক হয়ে তিন বছর ধরে সারা ভারত পরিক্রমা করেন। ১৮৯৩ খৃষ্টাব্দে আমেরিকার শিকাগাে শহরে ধর্মমহাসভায় বক্তৃতা দেওয়ার জন্য হিন্দু ধর্মের একমাত্র প্রতিনিধি হিসাবে তিনি ভারত থেকে রওয়ানা হলেন। এই মহাসভায় হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে বক্তৃতা দিয়ে তিনি অসাধারণ খ্যাতি অর্জন করেন। ইংল্যাণ্ড ও আমেরিকার বহু নর-নারী তার ধর্ম মতে আকৃষ্ট হয়ে তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ভগিনী নিবেদিতা একজন।
মিশন ও আদর্শ :- বিজয়ীর সম্মান নিয়ে দেশে ফিরে এসে ১৮৯৭ খৃষ্টাব্দে ‘রামকৃষ্ণ মিশন’ এবং ১৮৯৯ খৃষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠা করলেন ‘বেলুড় মঠ’। মানব সেবা, বেদান্ত দর্শন এবং রামকৃষ্ণের শিক্ষাপ্রচারই ছিল মিশন প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য। দয়া নয়, দরিদ্র ও অবহেলিত মানুষদের সেবার মধ্যদিয়ে তিনি ঈশ্বর প্রাপ্তির পথ দেখিয়েছিলেন। তার মতে ঈশ্বর আছেন আমাদের সামনে ‘বহুরূপে’ দরিদ্র ও অবহেলিত মানুষদের মধ্যে। এদের সেবা করলেই ঈশ্বরকেই লাভ করা যাবে।
‘বহুরূপে সম্মুখে তােমার, ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর; |
জীবে প্রেম করে যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।
ভারত প্রীতি :- তিনি নিজদেশকে সকলের উপরে স্থান দিতেন। প্রতিটি ভারত বাসীকে তিনি জাতি ধর্ম নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হতে আহ্বান জানিয়েছেন। দেশকে গড়ে তুলার জন্য তিনি স্বপ্ন দেখতেন, সেই দেশ গড়ার স্বপ্নকে তিনি চেয়েছেন বাস্তবে রূপায়ণ করতে। তার লক্ষ্যছিল সকলের কল্যাণের জন্য এক বৃহৎ অখণ্ড ভারতবর্ষ গড়ে তােলা। তিনিই এদেশ সম্পর্কে পাশ্চাত্যবাসীর ভ্রান্তধারণা দূর করেছিলেন। স্বামীজী দেখতে চেয়েছিলেন এক শক্তিশালী ভারতবর্ষকে।
মানবতাবাদী বৈদান্তিকঃ স্বামী বিবেকানন্দ বৈদান্তিক সন্ন্যাসী হলেও আধুনিক মানবতাবাদের দৃষ্টিকোণ থেকে হিন্দুধর্মের এই শ্রেষ্ঠ গ্রন্থটিকে গ্রহণ করেছিলেন। বেদান্তের এই নবভাস্যকার বলেন – ‘জগতে জ্ঞানালোেক বিস্তার কর; আলােক-অলােক লইয়া আইস। প্রত্যেকে যেন জ্ঞানের আলাে পায়, যতদিন না সকলেই ভগবান লাভ করে, ততদিন যেন তােমাদের কাজ শেষ না হয়। জগজ্জননীর কাছে তিনি মনুষ্যত্ব প্রার্থনা। করে বলেছেন, “হে জগদম্বে আমায় মনুষ্যত্ব দাও, আমার দুর্বলতা কাপুরুষতা দুর কর, অমিয় মানুষ কর।’
সাহিত্য কৃতি : শুধু কর্মের জগতেই নয়, চিন্তা ও মননশীলতার ক্ষেত্রে স্বামী বিবেকান্দ মানবতার বাণী প্রচার করেন গেছেন। তাঁর রচিত প্রধান গ্রন্থগুলি— ‘পরিব্রাজক’, ‘প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য, বর্তমান ভারত’ প্রভৃতি উল্লেখযােগ্য। বাংলাভাষায় তাঁর পত্রগুচ্ছে কিছু বিজ্ঞানভিত্তিক আলােচনাও করেছেন। বাংলা চলিত গদ্যরীতির তিনি অন্যতম পথিকৃৎ, কথ্য শব্দ প্রয়োগেও দুঃসাহসী পথ প্রদর্শক। তিনি স্বপ্ন দেখতেন সমৃদ্ধ ভারতবর্ষের, শিক্ষিত ভারতবর্ষের, সংস্কারহীন ভারতবর্ষের। ভারতবর্ষই ছিল তার শৈশবের শিশুশয্যা, যৌবনের উপবন আর বাধকের বারাণসী। তিনি বুকে হাত রেখে বলতে শিখিয়েছেন, “ভারতবর্ষের প্রতিটি মানুষ আমার ভাই, আমার রক্ত। ভারতের কল্যাণ আমার কল্যাণ, ভারতের দীনতা আমার অপমান।”
উপসংহার : অত্যাধিক পরিশ্রম আর নিরলস কর্মসাধনায় এই কর্মী সন্ন্যাসীর শরীর ভেঙ্গে পড়ে। অবশেষে ১৯০২ সালের ৪ জুলাই মাত্র ৩৯ বৎসর। বয়সে এই বীর সন্ন্যাসী বেলুড় মঠে চিরনিদ্রায় অভিভূত হন। স্বামীজীর জন্ম দিবস সারা ভারতবর্ষে ‘জাতীয় যুব দিবস’ হিসাবে পালিত হয়। কিন্তু স্বামীজীর সেই ত্যাগ, সেই জীব প্রেম, সেই উদ্যম বর্তমান ভারতবর্ষে কোথায় ? অন্ধকার থেকে আলাের দিকে, মৃত্যু থেকে অমৃতের দিকে,অসৎ থেকে সৎ এর পথে আমাদের যাত্রা শুরু করেছিলেন যে মহামানব, সেই বিবেকানন্দই ভারতবর্ষের প্রকৃত বাতিঘর।
See less
-
This answer was edited.
মহাপুরুষ শ্ৰীমন্ত শঙ্করদেব ভূমিকা : পৃথিবীতে যখনই অধর্ম আধিপত্য বিস্তার করে ফেলে তখনই সাধুজনদের রক্ষা ও অধর্মীদের বিনাশের জন্য ভগবান যুগে যুগে আবির্ভূত হন। আসল কথা এই যে, বিপন্ন পথভ্রষ্ট জাতিকে সুস্থ-সুন্দর পথ দেখাবার জন্য যুগের প্রয়োজনেই দেবকল্প মানুষের আবির্ভূত হয় । এরূপ ধর্মীয় ও সামাজিক পট ভূমRead more
মহাপুরুষ শ্ৰীমন্ত শঙ্করদেব
ভূমিকা : পৃথিবীতে যখনই অধর্ম আধিপত্য বিস্তার করে ফেলে তখনই সাধুজনদের রক্ষা ও অধর্মীদের বিনাশের জন্য ভগবান যুগে যুগে আবির্ভূত হন। আসল কথা এই যে, বিপন্ন পথভ্রষ্ট জাতিকে সুস্থ-সুন্দর পথ দেখাবার জন্য যুগের প্রয়োজনেই দেবকল্প মানুষের আবির্ভূত হয় । এরূপ ধর্মীয় ও সামাজিক পট ভূমিকায় শঙ্করদেব আবির্ভাব হয়ে সমগ্ৰ অসমীয়া জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সুস্থ জীবন চেতনায় প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এ কথা বলা যায় যে, শ্ৰীমন্ত শঙ্করদেব মধ্যযুগের জনজীবনে নবজাগরণ বা রেনেসাস ঘটিয়ে ছিলেন।
জন্ম ও বংশ পরিচয় : আসামের নগাওঁ জেলার অন্তর্গত বরদোয়ার আলিপুখুরী গ্রামে ১৪৪৯ খৃস্টাব্দে শঙ্করদেব জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম কুসুমবর ও মাতার নাম সত্যসন্ধ্যাদেবী। তার জন্মক্ষণে মঙ্গল সূচক নানা অলৌকিক ঘটনা ঘটেছিল। এ থেকেই তাকে বিষ্ণুর অংশাবতার বলে গ্রহণ করা হয়। অতি শৈশবে শঙ্কর তার পিতা মাতাকে হারান। তাই তিনি তার পিতামহী খেরসূতী আইর সযত্ন স্নেহে প্রতিপালিত হন। বাল্যকালে তাকে মহেন্দ্ৰ কন্দলীর পাঠশালায় ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি অলৌকিক প্রতিভার পরিচয় দিয়ে বাল্যশিক্ষা সমাপ্ত করেন। |
সাধনা ও আধ্যাত্ম সিদ্ধিলাভ: বাল্যকাল থেকেই শঙ্কর ধর্মপরায়ণ ও সত্যবাদী ছিলেন। অন্যান্য ধর্ম প্রচারক মহাপুরুষদের ন্যায় তিনি সংসার ধর্ম পরিত্যাগ করে সন্ন্যাস ধর্ম অবলম্বন করেননি। সংসারে থেকে সমাজের মধ্যে বাস করে পবিত্র ধর্মীয় জীবন যাপন করতেন। শঙ্করদেব উপলব্ধি করেছিলেন ঈশ্বর সর্বব্যাপী, সর্বশক্তিমান, নিরাকার আর অব্যক্ত।।
মতবাদ ও ধর্মপ্রচার : বৈষ্ণবীয় ভক্তির আলােকে তিনি উপলদ্ধি করেন, ‘কষ্ণস্তু ভগবান স্বয়ং’। তিনি এক এবং অদ্বিতীয়। সেই একেশ্বরই স্রষ্টা, দুষ্টা, ত্রাতা ও সংহার কর্তা। এই মতবাদের ভিত্তিতে শঙ্করদেব “এক শরণ ভাগবতী ধর্ম” প্রবর্তন প্রবর্তিত করেন। এই ধর্মীয় মতবাদের মূল কথা হলাে – শ্রী হরির শরণ নিয়ে তার নাম শ্রবণ ও কীর্তন করলে এ সংসারের পাপ-তাপ, জরা-ব্যাধি থেকে মুক্তি লাভ করা যায়। তার প্রবর্তিত ধর্মমতে অস্পৃশ্যতা, জাতিভেদ ও জীব হত্যার স্থান নেই। সর্বজীবেই ঈশ্বরের প্রকাশ এবং তারা সকলেই প্রণম্য।
তীর্থ পরিক্রমা ও গার্হস্থ্যধর্ম : পরিণত বয়সে শঙ্করদেব দু’বার নানা তীর্থে পরিভ্রমণ করেন। এই সময়ে তিনি বহু সাধু মহাপুরুষদের সঙ্গে ধর্মালােচনা করে এক নুতন দৃষ্টিলাভ করেন। ভারতের পবিত্র তীর্থ ক্ষেত্র গুলি পরিভ্রমণ করে সত্যজ্ঞান নিয়ে তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। তিনি সন্ন্যাসধর্ম গ্রহণ করেননি, তিনি ছিলেন নিরাসক্ত গৃহী। তার কাছে গৃহী ও ত্যাগীর স্থান সমান। তিনি মনে করতেন মানুষ সংসার ধর্ম পালন করলেও ঈশ্বরের করুণা লাভ করতে পারে।
ধর্মমতের সংক্ষিপ্ত পরিচয় : শ্ৰীমন্ত শঙ্করদেব ছিলেন মানব প্রেমিক। সকল মানুষই ঈশ্বরের সন্তান। প্রতিটি মানুষের মধ্যে একই-ভগবানের অংশ রয়েছে সুতরাং স্পৃশ্য ও অস্পৃশ্যের ভেদ সৃষ্টি করা মানে ঈশ্বরকে অবহেলা করারই নামান্তর।
“কোথা তুমি খুঁজিছ ঈশ্বর ?
জীবে প্রেম করে যেইজন। |
সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।”
– এই সত্যকে শঙ্করদেব মনে প্রাণে অনুভব করতেন। মানুষকে ভালবাসতে না পারলে, কেউ ঈশ্বরকে ভালবাসতে পারে না। “মানুষকে ভালবাস, সত্য কথা বল, মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করিবে না; তবেই পাইবে ভগবানের আশীর্বাদ, জীবনে আসিবে শান্তি ও মুক্তি।”
– এটাই ছিল শংকরদেবের বাণী ।
সাহিত্য কৃতি : শঙ্করদেব আদর্শ ধর্মনীতি ও সমাজনীতি প্রচারের জন্য বহু- গীত ও নাটক রচনা করেন। তার রচিত ‘বরগীত’ ও ‘অঙ্কীয়া নট” অসমীয়া সাহিত্যের অপূর্ব সম্পদ। তিনি বহু বরগীত এবং কালীয় দমন, কেলি গােপাল, রামবিজয়, রুক্মিনী হরণ, পারিজাত হরণ প্রভৃতি নাটক রচনা করেন। অসমীয়া ধর্মীয় সাহিত্য এই সকল গ্রন্থের প্রভাবে বিশেষ সমৃদ্ধ।
সাহিত্য সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অবদান : তিনি ভাগবতের কাহিনি অবলম্বন করে হরিশচন্দ্র উপাখ্যান, অজামিল উপাখ্যান, বলিছলন ইত্যাদি গ্রন্থ রচনা করেন। এগুলি ছাড়াও তিনি ‘ভক্তি প্রদীপ’, ‘অনাদি পাতন’, ‘ভক্তিরত্নাকর গুণমালা’, ‘রামায়ণের উত্তরাকাণ্ড’ ইত্যাদি গ্রন্থ রচনা করে অসমীয়া ধর্ম সংস্কৃতির পথ নির্দেশ করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থ সমূহে অসমীয়া জাতির রীতি-নীতি, আচার-ব্যবহার ও অসমীয়া সংস্কৃতির আদর্শ বর্ণিত হয়েছে। সমবেত কীর্তন ও নাট্যাভনয়ের পথিকৃৎ তিনি। তাছাড়া ‘নামঘর’ স্থাপন করা শঙ্করদেবের আর একটি কীর্তি। তার এসব কাজের ফলে অসমীয়া জনগণ ঐক্যবােধ ও মিলন চেতনায় দীক্ষিত হতে পেরেছে।
উপসংহারঃ মহাপুরুষ শঙ্কর দেব একশত কড়ি বৎসর বয়সে দেহত্যাগ করেন। এই কাল-সীমার মধ্যেই অসমীয়া সমাজ বহুমুখী সমৃদ্ধি লাভ করে। তার প্রবর্তিত নব বৈষ্ণব ধর্ম, রচিত সাহিত্য ধর্ম-সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবনকে সঞ্জীবিত করে। শ্ৰীমন্ত শঙ্করদেব একক প্রয়াসে একটি জাতির ধর্ম-সমাজ-সংস্কৃতিকে যে ভাবে সর্বাঙ্গীণ উন্নতি ও চিৎপ্রকর্ষের অভিমুখে প্রেরণ করেন, বিশ্বের ইতিহাসে তার তুলনা বিরল।
See less
-
This answer was edited.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হে মোর দুর্ভাগা দেশ, যাদের করেছ অপমান, অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান! মানুষের অধিকারে বঞ্চিত করেছ যারে, সম্মুখে দাঁড়ায়ে রেখে তবু কোলে দাও নাই স্থান, অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান। মানুষের পরশেরে প্রতিদিন ঠেকাইয়া দূরে ঘৃণা করিয়াছ তুমি মানুষের প্রাণের ঠাকুরে। বিধাতার রুদ্ররোষেRead more
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
হে মোর দুর্ভাগা দেশ, যাদের করেছ অপমান,
অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান!
মানুষের অধিকারে
বঞ্চিত করেছ যারে,
সম্মুখে দাঁড়ায়ে রেখে তবু কোলে দাও নাই স্থান,
অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।
মানুষের পরশেরে প্রতিদিন ঠেকাইয়া দূরে
ঘৃণা করিয়াছ তুমি মানুষের প্রাণের ঠাকুরে।
বিধাতার রুদ্ররোষে
দুর্ভিক্ষের দ্বারে বসে
ভাগ করে খেতে হবে সকলের সাথে অন্নপান।
অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।
তোমার আসন হতে যেথায় তাদের দিলে ঠেলে
সেথায় শক্তিরে তব নির্বাসন দিলে অবহেলে।
চরণে দলিত হয়ে
ধুলায় সে যায় বয়ে
সে নিম্নে নেমে এসো, নহিলে নাহি রে পরিত্রাণ।
অপমানে হতে হবে আজি তোরে সবার সমান।
যারে তুমি নীচে ফেল সে তোমারে বাঁধিবে যে নীচে
পশ্চাতে রেখেছ যারে সে তোমারে পশ্চাতে টানিছে।
অজ্ঞানের অন্ধকারে
আড়ালে ঢাকিছ যারে
তোমার মঙ্গল ঢাকি গড়িছে সে ঘোর ব্যবধান।
অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।
শতেক শতাব্দী ধরে নামে শিরে অসম্মানভার,
মানুষের নারায়ণে তবুও কর না নমস্কার।
তবু নত করি আঁখি
দেখিবারে পাও না কি
নেমেছে ধুলার তলে হীন পতিতের ভগবান,
অপমানে হতে হবে সেথা তোরে সবার সমান।
দেখিতে পাও না তুমি মৃত্যুদূত দাঁড়ায়েছে দ্বারে,
অভিশাপ আঁকি দিল তোমার জাতির অহংকারে।
সবারে না যদি ডাক’,
এখনো সরিয়া থাক’,
আপনারে বেঁধে রাখ’ চৌদিকে জড়ায়ে অভিমান–
মৃত্যুমাঝে হবে তবে চিতাভস্মে সবার সমান।
English Translation:
Oh my wretched country!You will be humiliated in the same way you humiliated others for so long.
Those whom you deprived of basic humanity
Whom you zealously excluded, despite being in the same boat
You will be brought down to your knees one day.
You left them out in the cold, day in and day out
You despised the very soul of the people
You will be paid back in the same coin
When you will have to eat and drink along with them
One day at the doorway of deprivation.
.
You ostracized and cornered them
With your own your own strength you labeled them with your disdain
You trampled them under your feet
You will have to come down to their status one day for salvation; there is no other way out
You too will have to experience their humiliation, one day.
With your wickedness you rebuffed them as lowly
You repudiated them as backward and brought yourself down to the level of backwardness.
You thrust them into the darkness of ignorance thus building up a vast chasm
Which will one day be bridged only through your immense ignominy
Heaps of degradation have dominated for centuriesYou have not allowed them to move forward even an inch
See less
You too will be disgraced just like the ones whom you disgraced one day.
You are still blind to the monarch of mortality at your door who has cursed you for your racial arrogance.
If you still revile them, keep them distant, and surround yourself with pride and prejudice
Death will one day bring you down to the same obscurity–to the ashes, all alike.