বৃক্ষরোপণ | tree paragraph in bengali
Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.
Please briefly explain why you feel this question should be reported.
Please briefly explain why you feel this answer should be reported.
Please briefly explain why you feel this user should be reported.
বৃক্ষরোপণ
সূচনা: মানবসভ্যতার ধারাবাহিক ইতিহাস পর্যালােচনা করলে দেখা যায়, নিবিড় বৃক্ষশােভিত অরণ্যের শ্যাম-সিদ্ধ সৌন্দর্যের পটভূমিতেই উন্মেষ ঘটেছিল মানুষের আদিম সভ্যতার। প্রাচীনকাল থেকেই অরণ্যের বিভিন্ন গাছপালার সাথে মানুষের জীবন ও জীবিকার একটা অচ্ছেদ্য সংযােগ গড়ে উঠেছে।
বৃক্ষের প্রয়ােজনীয়তা: বৃক্ষ মানুষ তথা প্রাণীমাত্রেরই খাদ্যের একমাত্র উৎস। বৃক্ষ প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে। বৃক্ষ পরিবেশ দূষণ প্রক্রিয়াকে প্রতিরােধ করে এবং তার অনিষ্টকর প্রভাব থেকে জীবজগতকে রক্ষা করে। বৃক্ষের বিভিন্নমুখী অবদানকে বাদ দিয়ে মানবসভ্যতার ক্রমবিবর্তন বা উত্তরণের কথা কল্পনাই করা যায় না। বৃক্ষ খাদ্যের উৎস, শক্তির উৎস। বৃক্ষ মানুষের খাদ্য সরবরাহ করে, | বস্ত্রের জন্যে প্রয়ােজনীয় উপাদান তৈরি করে বাসস্থান তৈরির অন্যতম উপকরণ বৃক্ষ। রােগ নিবারণকারী এবং স্বাস্থ্য গঠন ও রক্ষাকারী মূল উপাদান আসে বৃক্ষ থেকে। জীবনের জন্যে অন্যতম উপাদান অক্সিজেন তৈরি এবং সরবরাহ করে বৃক্ষ। কাজেই মানবজীবনে বৃক্ষের প্রয়ােজনীয়তা অপরিসীম।
বৃক্ষরােপণ অভিযান: বৃক্ষ নিধনজনিত অনিবার্য পরিণতির হাত থেকে রেহাই পেতে প্রতিবছর বৃক্ষরােপণ অভিযান চলে আসছে। সাধারণত এ অভিযানে মেহগনি, সেগুন, ইউক্যালিপটাস, ইপিল-ইপিল, আম, জাম, পেয়ারা, জামরুল প্রভৃতি জাতের বৃক্ষের চারা সরকারি নার্সারি থেকে রােপণের জন্যে সরবরাহ করা হয়। আমাদের উচিত একটি বৃক্ষ নিধনের পূর্বেই তার বদলে কমপক্ষে চারটি করে চারা রােপণ এবং সযত্নে সেগুলােকে লালন করা।
বৃক্ষ সংরক্ষণ: গাছ লাগালেই গাছ হয় না। তার যত্ন, পরিচর্যা, রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থাদি না থাকলে অকালমৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। তা ছাড়া পুরনাে অরণ্যরাজিরও যত্ন এবং সংরক্ষণাদি প্রয়ােজন। এ উদ্দেশ্যে সরকারিভাবে বন বিভাগ’ নামে একটি দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তারই সক্রিয় প্রচেষ্টায় অরণ্য সম্প্রসারণ ও সংরক্ষণের কার্যক্রম রূপায়ণের যাবতীয় কাজকর্মও চলছে।
বৃক্ষ সংরক্ষণে পালনীয় ব্যবস্থাদি: আর্থিক ব্যয় বরাদ্দ করলেই অরণ্য সম্প্রসারণ, সংরক্ষণের উদ্দেশ্য সার্থকভাবে রূপায়িত হতে পারে না। এজন্যে প্রয়ােজন আন্তরিক প্রয়াস ও প্রচেষ্টা। একদিকে যেমন দরকার বনভূমি সৃজনের উদ্যোগ, অপরদিকে তেমনই কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়ােজন অরণ্য উচ্ছেদের অপপ্রয়াস। অরণ্য সম্পদ যাতে যথেচ্ছা ব্যবহার করা না হয়, সকলেরই সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। সুতরাং বনভূমি সংরক্ষণার্থে কয়েকটি পালনীয় ব্যবস্থার কথা প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায়। যেমন
১. অরণ্যের অবাধ ও যথেচ্ছ উচ্ছেদ নিবারণ।
২. নতুন চারাগাছ লাগানাে এবং তার প্রয়ােজনীয় পরিচর্যা।
৩.কেবল পরিণত বৃক্ষচ্ছেদন ; অপরিণত বৃক্ষচ্ছেদন যাতে না হয় আইন করে তা নিষিদ্ধ করা।
৪. কীট-পতঙ্গের আক্রমণ থেকে বৃক্ষকে রক্ষা করা।
৫. অরণ্য গবেষণার প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা করা।
উপসংহার: বৃক্ষরাজি মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী। কাজেই বৃক্ষরােপণের মাধ্যমে আমাদের চারপাশের পরিবেশকে সাজাতে হবে সবুজ শ্যামলিমায়।