Sign Up

Continue with Google
or use


Have an account? Sign In Now

Sign In

Continue with Google
or use


Forgot Password?

Don't have account, Sign Up Here

Forgot Password

Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.


Have an account? Sign In Now

Sorry, you do not have permission to ask a question, You must login to ask a question.

Continue with Google
or use


Forgot Password?

Need An Account, Sign Up Here

Please briefly explain why you feel this question should be reported.

Please briefly explain why you feel this answer should be reported.

Please briefly explain why you feel this user should be reported.

Bengali Forum Logo Bengali Forum Logo
Sign InSign Up

Bengali Forum

Bengali Forum Navigation

  • বিষয়
  • ব্লগ
  • হযবরল
Search
Ask A Question

Mobile menu

Close
Ask A Question
  • বাংলা অভিধান
  • সাহিত্য
  • শিক্ষা
  • রচনা
  • সাধারণ জ্ঞান
  • ইংলিশ টু বাংলা
  • বিজ্ঞান
  • বাংলা কুইজ
  • ধৰ্ম ও সংস্কৃতি
  • ইতিহাস
  • মতামত

সাহিত্য

35 Followers
353 Answers
321 Questions
  • Recent Questions
  • No Answers

Bengali Forum Latest Questions

In: সাহিত্য

নীড় – জসীমউদ্দীন (গড়াই নদীর তীরে) Gorai Nodir Tire Poem by Jashimuddin

  • 0
  • 2,421
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

রুপাই – জসিম উদ্দিন | Rupai kobita in Bengali

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on April 27, 2020 at 6:30 am

    রুপাই - জসীমউদ্দীন এই গাঁয়ের এক চাষার ছেলে লম্বা মাথার চুল, কালো মুখেই কালো ভ্রমর, কিসের রঙিন ফুল! কাঁচা ধানের পাতার মত কচি-মুখের মায়া, তার সাথে কে মাখিয়ে দেছে নবীন তৃণের ছায়া | জালি লাউয়ের ডগার মত বাহু দুখান সরু, গা-খানি তার শাঙন মাসের যেমন তমাল তরু | বাদল-ধোয়া মেঘে কে গো মাখিয়ে দেছে তেল, বিRead more

    রুপাই – জসীমউদ্দীন

    এই গাঁয়ের এক চাষার ছেলে লম্বা মাথার চুল,
    কালো মুখেই কালো ভ্রমর, কিসের রঙিন ফুল!
    কাঁচা ধানের পাতার মত কচি-মুখের মায়া,
    তার সাথে কে মাখিয়ে দেছে নবীন তৃণের ছায়া |
    জালি লাউয়ের ডগার মত বাহু দুখান সরু,
    গা-খানি তার শাঙন মাসের যেমন তমাল তরু |
    বাদল-ধোয়া মেঘে কে গো মাখিয়ে দেছে তেল,
    বিজলী মেয়ে পিছলে পড়ে ছড়িয়ে আলোর খেল |
    কচি ধানের তুলতে চারা হয়ত কোনো চাষী,
    মুখে তাহার ছড়িয়ে গেছে কতকটা তার হাসি |

    কালো চোখের তারা দিয়েই সকল ধরা দেখি,
    কালো দাতের কালি দিয়েই কেতাব কোরাণ লেখি |
    জনম কালো, মরণ কালো, কালো ভূবনময় ;
    চাষীদের ওই কালো ছেলে সব করেছে জয় |

    সোনায় যে জন সোনা বানায়, কিসের গরব তার’
    রঙ পেলে ভাই গড়তে পারি রামধণুকের হার |
    কালোয় যে-জন আলো বানায়, ভুলায় সবার মন,
    তারি পদ-রজের লাগি লুটায় বৃন্দাবন |
    সোনা নহে, পিতল নহে, নহে সোনার মুখ,
    কালো-বরণ চাষীর ছেলে জুড়ায় যেন বুক |
    যে কালো তার মাঠেরি ধান, যে কালো তার গাঁও!
    সেই কালোতে সিনান করি উজল তাহার গাও |

    আখড়াতে তার বাঁশের লাঠি অনেক মানে মানী,
    খেলার দলে তারে নিয়েই সবার টানাটানি |
    জারীর গানে তাহার গলা উঠে সবার আগে,
    ‘শাল-সুন্দী-বেত’ যেন ও, সকল কাজেই লাগে |
    বুড়োরা কয়, ছেলে নয় ও, পাগাল লোহা যেন,
    রূপাই যেমন বাপের বেটা, কেউ দেখেছ হেন?
    যদিও রূপা নয়কো রূপাই, রূপার চেয়ে দামী,
    এক কালেতে ওরই নামে সব গাঁ হবে নামী |

    See less
      • 0
  • 1
  • 16,201
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

দিদি – শুভ দাশগুপ্ত | Subho Dasgupta Kobita Didi lyrics in Bengali

  1. Durba
    Durba
    Added an answer on April 27, 2020 at 5:36 am

    দিদি - শুভ দাশগুপ্ত তোর নতুন ফ্ল্যাট থেকে ঘুরে এসে মাকে বললাম সব কিছু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে । তোর ঝকঝকে মোঝাইক মেঝে, ইমালশান লাগানো দেয়াল, আধুনিক ডাইনিং টেবিল, জানালা দরজায় ঝুলানো দামী পর্দা, এমনকি তোর ভ্যালকোলনিতে রাখা বাহারি পাতার টব, সব কিছুই বললাম মাকে । নগেন দত্ত লেনে আমাদের আলো বাতাসহীন একতলার ভাঙাRead more

    দিদি – শুভ দাশগুপ্ত

    তোর নতুন ফ্ল্যাট থেকে ঘুরে এসে
    মাকে বললাম সব কিছু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ।
    তোর ঝকঝকে মোঝাইক মেঝে, ইমালশান লাগানো দেয়াল,
    আধুনিক ডাইনিং টেবিল,
    জানালা দরজায় ঝুলানো দামী পর্দা,
    এমনকি তোর ভ্যালকোলনিতে রাখা বাহারি পাতার টব,
    সব কিছুই বললাম মাকে ।
    নগেন দত্ত লেনে আমাদের আলো বাতাসহীন
    একতলার ভাঙা ঘরে বসে
    মাকে সব শুনলেন চোখ বুজে
    শুনতে শুনতে মার মুখে ফুটছিল হাসি আর
    চোখে আসছিল জল ।

    তোর ব্যালকোলনিতে দাঁড়ালে ছড়িয়ে থাকা শহরটাকে
    অনেক দূর পর্যন্ত দেখা যায়,
    বসবার ঘরের দেয়ালে নতুন কেনা
    একটা সুন্দর পেইন্টিং
    ঘরটাকে কি গাম্বীর্যে ভরিয়ে তুলেছে
    এ সব কিছুই মাকে বললাম ।
    চোখ বুজে শুনতে শুনতে মার মুখে
    ফুটে উঠছিল হাসি, আর
    চোখে আসছিল জল ।

    তোর চেহারাটা আগের চেয়ে অনেক ঝকঝকে
    সুন্দর হয়ে গেছে, ফর্সা হয়ে গেছিস অনেকটা ।
    যদিও তোর হাসিটা আছে ঠিক ছেলেবেলারই মতো ।
    জামাইবাবুর মুখে শুনলাম সামনের পূজোয়
    তোরা নাকি একেবারে পুরো দক্ষিণ ভারতটাই
    বেড়িয়ে আসবি।

    মা নগেন দত্ত লেনের ভাঙা চোরা ঘরে বসে
    এই সব শুনতে শুনতে হাসছে আর , কেন জানিনা
    মার চোখে এসেছে জল…!!
    সব কিছুই বলেছি দিদি,
    শুধু তোর ডাইনিং স্পেসে রাখা দুধ সাদা রংয়ের
    ঐ ফ্রিজটার কথা মাকে বলিনি ।

    তোর বিবাহ বার্ষিকির উজ্জ্বল সন্ধ্যায়, তুই যখন
    গা ভর্তি গয়নায় অপরূপা হয়ে
    ফ্রিজের মাথায় হাত রেখে হাসছিলি,
    তখন যে তোকে কি দারুণ সুন্দর লাগছিল-
    মাকে বলিনি সে কথাও ।

    বিবাহ বার্ষিকির সন্ধ্যায় তোদের আনন্দ উজ্জ্বল
    এপার্টমেন্টে তুই আর জামাইবাবু যখন ঐ
    ফ্রিজটার পাশে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে
    মালা বদল করছিলি
    বাবুদের রসিক বন্ধুদের অনুরোধে
    আর ক্যামেরা ফ্ল্যাস ঝিলিক দিয়ে উঠছিল
    উপচে পড়া খুশির মতো-
    তখন ঠিক তখনি দিদি
    আমার চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল
    হাসপাতালের করিডোরে বাবার ভেঙে পড়া মুখ ।
    ভেতরে মা তখন অপারেশনের পর অচৈতন্য ।
    ডাক্তার এসে বাবাকে বললেন
    চোখটা বোধহয় আর বাচানো গেলনা, তাও একবার
    চেষ্টা করে দেখতে পারেন-মাদ্রাজে – যদিও সে অবশ্য
    অনেক টাকার ব্যাপার ।
    হাড়ি কাঠে আটকে পড়া অসহায় পশুর মতো
    করুণ দেখাচ্ছিল তখন বাবার মুখটা ।
    সিড়ি দিয়ে আসতে আসতে বাবা
    আমার কাধে হাত রেখে বলেছিলেন
    কমলাকে সারা জীবন শুধু দুঃখ কষ্টই দিলাম,
    সুখ দিতে পারলাম না ।
    আজ ওর চোখ দুটোও চলে গেল ।
    সবই আমার কপাল ।”

    দিদি
    অনেক দর-দস্তুর চাপা-চাপির পর
    তোর বিয়েটা যখন আরো কয়েক ভরি সোনা আর
    একটা ফ্রিজের দাবীতে
    জন্য আটকে পড়েছিল অনিশ্চয়তার ঘুরটোপে
    বাবা তখন কাউকে না জানিয়ে
    চড়া সুদে ধার করেছিলেন
    অনেক টাকা ।
    সামান্য মাইনের প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করা বাবা
    বেঁচে থাকতে থাকতে অন্তত একটা মেয়েকে পার করার
    দূরন্ত আশায় ঝুঁকি নিয়ে ফেলেছিলেন অনেকটা।
    চোখের জল আর রজনীগন্ধার সৌরভকে পিছনে ফেলে
    তুই চলে গেলি ।
    পড়ে রইলাম আমরা, মা আর আমি। আর
    পড়ে রইলো নগেন দত্ত লেনের অন্ধকার ঘরে
    বাড়তে থাকা সুদের বোঝার চাপে তলিয়ে যাওয়া
    একটা সৎ মানুষ
    তোর বাবা, আমার বাবা ।

    দিদি
    তোর গা ভর্তি গয়না আর ঐ দুধ সাদা ফ্রিজটার কথা
    মাকে বলা হয়নি কিছুতেই ।
    দৃষ্টিশক্তি খুইয়ে বসা মাকে বাবা বলেননি কিছুই ।
    শুধু অসহায়ের মতো খুঁজেতেন
    মার মুখে একটু হাসি
    বড় মেয়ের ভালো ঘরে বিয়ে হওয়ার একটু তৃপ্তি ।
    সে হাসি খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত বাবা চলে গেছেন ।
    এখন নগেন দত্ত লেনের ভাঙা ঘরে বসে
    মা আর আমি আনন্দেই আছি ।
    একটা আনন্দই বোধহয় সবচেয়ে বড় –
    এ বাড়িতে আর কোনোদিন সানাই বাজবে না সাহানায়
    সানাই, রাজনীগন্ধা, বেনারসি, হৈচৈ এসব
    অপ্রাসঙ্গিক হয়ে থেকে যাবে
    চিরকাল।

    See less
      • 0
  • 1
  • 8,401
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

আমার আশ্চর্য ফুল (ফিরে এসো চাকা) বিনয় মজুমদার | Fire eso chaka lyrics | Fire esho chaka kobita

  1. Nibedita Paul
    Nibedita Paul
    Added an answer on April 27, 2020 at 3:34 am

    আমার আশ্চর্য ফুল – বিনয় মজুমদার আমার আশ্চর্য ফুল, যেন চকোলেট, নিমিষেই গলাধঃকরণ তাকে না ক’রে ক্রমশ রস নিয়ে তৃপ্ত হই, দীর্ঘ তৃষ্ণা ভুলে থাকি আবিষ্কারে, প্রেমে। অনেক ভেবেছি আমি, অনেক ছোবল নিয়ে প্রাণে জেনেছি বিদীর্ণ হওয়া কাকে বলে, কাকে বলে নীল- আকাশের হৃদয়ের; কাকে বলে নির্বিকার পাখি। অথবা ফড়িঙ তার স্বচ্Read more

    আমার আশ্চর্য ফুল – বিনয় মজুমদার

    আমার আশ্চর্য ফুল, যেন চকোলেট, নিমিষেই
    গলাধঃকরণ তাকে না ক’রে ক্রমশ রস নিয়ে
    তৃপ্ত হই, দীর্ঘ তৃষ্ণা ভুলে থাকি আবিষ্কারে, প্রেমে।
    অনেক ভেবেছি আমি, অনেক ছোবল নিয়ে প্রাণে
    জেনেছি বিদীর্ণ হওয়া কাকে বলে, কাকে বলে নীল-
    আকাশের হৃদয়ের; কাকে বলে নির্বিকার পাখি।
    অথবা ফড়িঙ তার স্বচ্ছ ডানা মেলে উড়ে যায়।
    উড়ে যায় শ্বাস ফেলে যুবকের প্রানের উপরে।
    আমি রোগে মুগ্ধ হয়ে দৃশ্য দেখি, দেখি জানালায়
    আকাশের লালা ঝরে বাতাসের আশ্রয়ে আশ্রয়ে।
    আমি মুগ্ধ; উড়ে গেছ; ফিরে এসো, ফিরে এসো , চাকা,
    রথ হয়ে, জয় হয়ে, চিরন্তন কাব্য হয়ে এসো।
    আমরা বিশুদ্ধ দেশে গান হবো, প্রেম হবো, অবয়বহীন
    সুর হয়ে লিপ্ত হবো পৃথীবীর সব আকাশে।

     

    See less
      • 0
  • 1
  • 7,692
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

বাবু – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | Babu by Bankim Chandra Chattopadhyay in Bengali

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on April 27, 2020 at 3:08 am

    বাবু - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (‘লোকরহস্য’ বইয়ের অন্তর্গত একটি প্ৰবন্ধ। মূলত এটি প্রকাশিত হয়েছিল বঙ্গদর্শন পত্রিকার ১২৭৯-র ফাল্গুন সংখ্যায়।)   “জনমেজয় কহিলেন, হে মহর্ষে! আপনি কহিলেন যে, কলি যুগে নেতা নামে এক প্রকার মনুষ্যেরা পৃথিবীতে আবির্ভূত হইবেন । তাঁহারা কি প্রকার মনুষ্য হইবেন এবং পৃথিবীতRead more

    বাবু – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

    (‘লোকরহস্য’ বইয়ের অন্তর্গত একটি প্ৰবন্ধ। মূলত এটি প্রকাশিত হয়েছিল বঙ্গদর্শন পত্রিকার ১২৭৯-র ফাল্গুন সংখ্যায়।)

     

    “জনমেজয় কহিলেন, হে মহর্ষে! আপনি কহিলেন যে, কলি যুগে নেতা নামে এক প্রকার মনুষ্যেরা পৃথিবীতে আবির্ভূত হইবেন । তাঁহারা কি প্রকার মনুষ্য হইবেন এবং পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করিয়া কি কার্য করিবেন, তাহা শুনিতে বড় কৌতূহল জন্মিতেছে । আপনি অনুগ্রহ করিয়া সবিস্তারে বর্ণন করুন ।

    বৈশম্পায়ন কহিলেন, হে নরবর! আমি সেই কূটবুদ্ধি, পানভোজনকুশলী নেতাগণকে আখ্যাত করিব, আপনি শ্রবণ করুন । আমি সেই চেন অলংকৃত, অদ্ভুতচরিত্র, বহুভাষী, বাইট-প্রিয় নেতাদিগের চরিত্র কীর্তিত করিতেছি, আপনি শ্রবণ করুন । হে রাজন, যাঁহারা পাঞ্জাবি-পাজামাবৃত, মোবাইলকর্ণগত, গ্রহরত্নখচিত অঙ্গুরিয়শোভিত, এবং রোদচসমা পরিহিত, তাঁহারাই নেতা । যাঁহারা বাক্যে অজেয়, অপভাষাপারদর্শী, সুস্থভাষাবিরোধী, তাঁহারাই নেতা । মহারাজ! এমন অনেক মহাবুদ্ধিসম্পন্ন নেতা জন্মিবেন যে তাঁহারা সুস্থভাষায় বাক্যালাপে অসমর্থিত হইবেন । যাঁহাদিগের রসনেন্দ্রিয় অন্যদলীয় নেতানেত্রীপ্রতি গালিদানে পবিত্র, তাঁহারাই নেতা । যাঁহাদিগের চরণ মাংসাস্থিবিহীন শুষ্ক কাষ্ঠের ন্যায় হইলেও দুর্বলোপরি পাদপ্রহারে সক্ষম; হস্ত দুর্বল হইলেও মাইকধারণে এবং অর্থগ্রহনে সুপটু, তাঁহারাই নেতা । যাঁহারা ক্ষমতালাভের উদ্দেশ্যে রাজনীতি করিবেন, রাজনীতির জন্য পার্টি করিবেন, পার্টির জন্য অপরাধ করিবেন, এবং আইনের হস্ত হইতে বাঁচিবার জন্য অপর পার্টিতে যোগদান করিবেন, তাঁহারাই নেতা ।

    মহারাজ! নেতা শব্দ নানার্থ হইবে । যাঁহারা কলিযুগের ভারতবর্ষে পরোক্ষে শাসক হইয়া ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট নামে খ্যাত হইবেন, তাঁহাদিগের নিকট ‘নেতা’ অর্থে শ্রমিক ইউনিয়নের পদাধিকারী বুঝাইবে । আই-পি-এল দলবিশেষের খেলোয়াড়দিগের নিকটে ‘নেতা’ শব্দে চিত্রতারকা বুঝাইবে । মার্কেটিং কর্মীদের নিকট ‘নেতা’ অর্থে টিম লিডার বুঝাইবে । এ সকল হইতে পৃথক, কেবল নেতাজন্ম নির্বাহ করিতে অভিলাষী কতকগুলিন মনুষ্য জন্মিবেন। আমি কেবল তাঁহাদিগেরই গুণকীর্তন করিতেছি । যিনি বিপরীতার্থ করিবেন, তাঁহার এই মহাভারত শ্রবণ নিষ্ফল হইবে। তিনি জনগণের এক জন হইয়া নেতাদিগের লক্ষ্য হইবেন ।

    হে নরাধিপ! সাধারণের বিপরীতে অবস্থান করিবার নিমিত্ত পঞ্চভূত নেতাদিগেরই কর্তৃত্বাধীন থাকিবেন । যথা, ক্ষিতি ইঁহাদিগের অতীব ক্ষমতাশালী আয়ুধ হইবে । শতনামে সহস্র পরিমাণ জমি নেতাগণ ভোগ করিবেন । দ্বিতীয় অগস্ত্যের ন্যায় সমুদ্ররূপী বরুণকে ইঁহারা শোষণ করিবেন, পানপাত্র ইঁহাদিগের গন্ডূষ । অগ্নিও ইঁহাদিগের আজ্ঞাবহ হইবেন – ‘সিগারেট’ নামক একটি অভিনব খান্ডবকে আশ্রয় করিয়া রাত্রিদিন ইঁহাদিগের মুখে লাগিয়া থাকিবেন । ইঁহাদিগের যেমন মুখে অগ্নি, তেমনি অন্তরেও অগ্নি জ্বলিবেন । সেই অন্তরাগ্নির জ্বলন মধ্যে মধ্যে অন্যদলীয় সমর্থকরা তাঁহাদের আপন গৃহাভ্যন্তরে অনুভব করিবেন । বায়ু ইঁহাদিগের গৃহের বাহিরে বাহনরূপে এবং জঠরমধ্যে গ্যাসরূপে নিত্য বিরাজমান থাকিবেন । ইঁহাদিগের অধিকাংশ চন্দ্রলোভী বামন হইবেন, কেহ কেহ মধ্যাহ্নে চন্দ্র এবং নিশীথে সূর্য দেখিবেন ।

    সমাজকে ইঁহারা বহুধা বিভক্ত করিবেন—ভদ্রতা করিয়া সেই দুর্ধর্ষ কার্যের নাম রাখিবেন, ‘সমাজসেবা’। জনগণের সম্মুখে ইঁহারা পূজার্চনা করিবেন, মন্দির মসজিদ গড়িবেন, আর তাঁহাদিগের পশ্চাতে যে পবিত্র স্থানে ইঁহারা আরাধনায় নিমগ্ন থাকিবেন তাহার নাম হইবে ‘গেস্ট হাউস’।

    হে নরশ্রেষ্ঠ! যিনি কাব্যরসাদিতে বঞ্চিত, সঙ্গীতে দগ্ধ কোকিলাহারী, যাঁহার পান্ডিত্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুস্তকাগত, তিনিই নেতা। ইঁহাদিগের সমর্থকেরা ইঁহাদের কাব্যে কালিদাস, সঙ্গীতে সরস্বতী, পান্ডিত্যে পাণিনি বলিয়া প্রচার করিবেন এবং তাহা শ্রবণ করিয়া যিনি আপনাকে অনন্তজ্ঞানী বিবেচনা করিবেন, তিনিই নেতা । যিনি নারীজাতির অবমাননাকারির শাস্তি লঘু করিতে প্রতিশ্রুত হইবেন, পরে তাঁহার বক্তব্য বিকৃত করা হইয়াছে দাবি করিয়া সংবাদ মাধ্যমের মুন্ড চর্বন করিবেন, তিনিই নেতা । যিনি স্বদলীয় কর্মীর অপরাধ লুকাইয়া রাখিবেন, ব্যক্তিবিশেষকে ব্যবহার করিয়া অবৈধ সুবিধা লইবেন এবং সুবিধালাভ সমাপ্ত হইলে তাহাকে সুদূরে নিক্ষেপ করিবেন, তিনিই নেতা । যাঁহার বাক্য মনোমধ্যে এক, কথনে দশ, লিখনে শত এবং ভাষণকালে সহস্র, তিনিই নেতা ।

    যিনি ইতিহাসের কিছুই জানিবেন না, অর্থনীতির কিছুই বুঝিবেন না, কেবল আপনাকে অভ্রান্ত জানিয়া আপনার মত জনগণের উপর চাপাইয়া দিবেন, তিনিই নেতা । যিনি ফান্ড সংগ্রহার্থ দুর্গাপূজা করিবেন, সমর্থকদের প্রীতিসম্পাদনার্থ গণেশপূজা করিবেন এবং নির্বাচনে জয়ের লোভে ঈদ পালন করিবেন, তিনিই নেতা ।

    হে কুরুকুলভূষণ! দেবদেবীদের কথা যখন উঠিল তখন বলা যাউক, বিষ্ণুর সহিত এই নেতাদিগের বিশেষ সাদৃশ্য হইবে । ইঁহারা বিষ্ণুর তুল্য লীলাপটু হইবেন, বিষ্ণুর ন্যায় ইঁহাদিগেরও দশ অবতার হইবে । যথা – কেরানী, মাস্টার, অভিনেতা, ব্যবসায়ী, ডাক্তার, উকিল, ধর্মগুরু, অবসরপ্রাপ্ত অফিসার, সংবাদপত্র সম্পাদক এবং নিষ্কর্মা। সকল অবতারেই ইঁহারা অমিত বলপরাক্রম অসুরগণকে বধ করিবেন । কেরানী অবতারে বধ্য অসুর প্রশাসন মুখাপেক্ষী, মাস্টার অবতারে বধ্য ছাত্র, অভিনেতা অবতারে বধ্য দর্শক, ব্যবসায়ী অবতারে বধ্য ক্রেতা, ডাক্তার অবতারে বধ্য রোগী, উকিল অবতারে বধ্য মক্কেল, ধর্মগুরু অবতারে বধ্য ধর্মভীরু, অফিসার অবতারে বধ্য আপনারই ছেড়ে আসা সরকার, সম্পাদক অবতারে বধ্য পাঠক, এবং নিষ্কর্মাবতারে বধ্য উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রী ।

    হে নরনাথ! আমি যাঁহাদিগের কথা বলিলাম, তাঁহাদিগের মনে মনে বিশ্বাস জন্মিবে যে, তাঁহারা আইনসভা দখল করিয়া, তথায় বাগাড়ম্বরের মেঘ জমাইয়া, মরিচবিষের বৃষ্টি নামাইয়া, কর্দমাক্ত সলিলে মৎস্যশিকার করিয়া ভারতবর্ষের পুনরুদ্ধার করিবেন ।

    জনমেজয় কহিলেন, হে মুনিপুঙ্গব! নেতাদিগের জয় হউক, আপনি অন্য প্রসঙ্গ আরম্ভ করুন ।”

     

    See less
      • 0
  • 1
  • 16,315
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

বাবু – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | Bengali essay Babu Written by Bankim Chandra pdf

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on April 27, 2020 at 2:48 am

    বাবু - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (‘লোকরহস্য’ বইয়ের অন্তর্গত একটি প্ৰবন্ধ। মূলত এটি প্রকাশিত হয়েছিল বঙ্গদর্শন পত্রিকার ১২৭৯-র ফাল্গুন সংখ্যায়।)   “জনমেজয় কহিলেন, হে মহর্ষে! আপনি কহিলেন যে, কলি যুগে নেতা নামে এক প্রকার মনুষ্যেরা পৃথিবীতে আবির্ভূত হইবেন । তাঁহারা কি প্রকার মনুষ্য হইবেন এবং পৃথিবীতRead more

    বাবু – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

    (‘লোকরহস্য’ বইয়ের অন্তর্গত একটি প্ৰবন্ধ। মূলত এটি প্রকাশিত হয়েছিল বঙ্গদর্শন পত্রিকার ১২৭৯-র ফাল্গুন সংখ্যায়।)

     

    “জনমেজয় কহিলেন, হে মহর্ষে! আপনি কহিলেন যে, কলি যুগে নেতা নামে এক প্রকার মনুষ্যেরা পৃথিবীতে আবির্ভূত হইবেন । তাঁহারা কি প্রকার মনুষ্য হইবেন এবং পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করিয়া কি কার্য করিবেন, তাহা শুনিতে বড় কৌতূহল জন্মিতেছে । আপনি অনুগ্রহ করিয়া সবিস্তারে বর্ণন করুন ।

    বৈশম্পায়ন কহিলেন, হে নরবর! আমি সেই কূটবুদ্ধি, পানভোজনকুশলী নেতাগণকে আখ্যাত করিব, আপনি শ্রবণ করুন । আমি সেই চেন অলংকৃত, অদ্ভুতচরিত্র, বহুভাষী, বাইট-প্রিয় নেতাদিগের চরিত্র কীর্তিত করিতেছি, আপনি শ্রবণ করুন । হে রাজন, যাঁহারা পাঞ্জাবি-পাজামাবৃত, মোবাইলকর্ণগত, গ্রহরত্নখচিত অঙ্গুরিয়শোভিত, এবং রোদচসমা পরিহিত, তাঁহারাই নেতা । যাঁহারা বাক্যে অজেয়, অপভাষাপারদর্শী, সুস্থভাষাবিরোধী, তাঁহারাই নেতা । মহারাজ! এমন অনেক মহাবুদ্ধিসম্পন্ন নেতা জন্মিবেন যে তাঁহারা সুস্থভাষায় বাক্যালাপে অসমর্থিত হইবেন । যাঁহাদিগের রসনেন্দ্রিয় অন্যদলীয় নেতানেত্রীপ্রতি গালিদানে পবিত্র, তাঁহারাই নেতা । যাঁহাদিগের চরণ মাংসাস্থিবিহীন শুষ্ক কাষ্ঠের ন্যায় হইলেও দুর্বলোপরি পাদপ্রহারে সক্ষম; হস্ত দুর্বল হইলেও মাইকধারণে এবং অর্থগ্রহনে সুপটু, তাঁহারাই নেতা । যাঁহারা ক্ষমতালাভের উদ্দেশ্যে রাজনীতি করিবেন, রাজনীতির জন্য পার্টি করিবেন, পার্টির জন্য অপরাধ করিবেন, এবং আইনের হস্ত হইতে বাঁচিবার জন্য অপর পার্টিতে যোগদান করিবেন, তাঁহারাই নেতা ।

    মহারাজ! নেতা শব্দ নানার্থ হইবে । যাঁহারা কলিযুগের ভারতবর্ষে পরোক্ষে শাসক হইয়া ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট নামে খ্যাত হইবেন, তাঁহাদিগের নিকট ‘নেতা’ অর্থে শ্রমিক ইউনিয়নের পদাধিকারী বুঝাইবে । আই-পি-এল দলবিশেষের খেলোয়াড়দিগের নিকটে ‘নেতা’ শব্দে চিত্রতারকা বুঝাইবে । মার্কেটিং কর্মীদের নিকট ‘নেতা’ অর্থে টিম লিডার বুঝাইবে । এ সকল হইতে পৃথক, কেবল নেতাজন্ম নির্বাহ করিতে অভিলাষী কতকগুলিন মনুষ্য জন্মিবেন। আমি কেবল তাঁহাদিগেরই গুণকীর্তন করিতেছি । যিনি বিপরীতার্থ করিবেন, তাঁহার এই মহাভারত শ্রবণ নিষ্ফল হইবে। তিনি জনগণের এক জন হইয়া নেতাদিগের লক্ষ্য হইবেন ।

    হে নরাধিপ! সাধারণের বিপরীতে অবস্থান করিবার নিমিত্ত পঞ্চভূত নেতাদিগেরই কর্তৃত্বাধীন থাকিবেন । যথা, ক্ষিতি ইঁহাদিগের অতীব ক্ষমতাশালী আয়ুধ হইবে । শতনামে সহস্র পরিমাণ জমি নেতাগণ ভোগ করিবেন । দ্বিতীয় অগস্ত্যের ন্যায় সমুদ্ররূপী বরুণকে ইঁহারা শোষণ করিবেন, পানপাত্র ইঁহাদিগের গন্ডূষ । অগ্নিও ইঁহাদিগের আজ্ঞাবহ হইবেন – ‘সিগারেট’ নামক একটি অভিনব খান্ডবকে আশ্রয় করিয়া রাত্রিদিন ইঁহাদিগের মুখে লাগিয়া থাকিবেন । ইঁহাদিগের যেমন মুখে অগ্নি, তেমনি অন্তরেও অগ্নি জ্বলিবেন । সেই অন্তরাগ্নির জ্বলন মধ্যে মধ্যে অন্যদলীয় সমর্থকরা তাঁহাদের আপন গৃহাভ্যন্তরে অনুভব করিবেন । বায়ু ইঁহাদিগের গৃহের বাহিরে বাহনরূপে এবং জঠরমধ্যে গ্যাসরূপে নিত্য বিরাজমান থাকিবেন । ইঁহাদিগের অধিকাংশ চন্দ্রলোভী বামন হইবেন, কেহ কেহ মধ্যাহ্নে চন্দ্র এবং নিশীথে সূর্য দেখিবেন ।

    সমাজকে ইঁহারা বহুধা বিভক্ত করিবেন—ভদ্রতা করিয়া সেই দুর্ধর্ষ কার্যের নাম রাখিবেন, ‘সমাজসেবা’। জনগণের সম্মুখে ইঁহারা পূজার্চনা করিবেন, মন্দির মসজিদ গড়িবেন, আর তাঁহাদিগের পশ্চাতে যে পবিত্র স্থানে ইঁহারা আরাধনায় নিমগ্ন থাকিবেন তাহার নাম হইবে ‘গেস্ট হাউস’।

    হে নরশ্রেষ্ঠ! যিনি কাব্যরসাদিতে বঞ্চিত, সঙ্গীতে দগ্ধ কোকিলাহারী, যাঁহার পান্ডিত্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুস্তকাগত, তিনিই নেতা। ইঁহাদিগের সমর্থকেরা ইঁহাদের কাব্যে কালিদাস, সঙ্গীতে সরস্বতী, পান্ডিত্যে পাণিনি বলিয়া প্রচার করিবেন এবং তাহা শ্রবণ করিয়া যিনি আপনাকে অনন্তজ্ঞানী বিবেচনা করিবেন, তিনিই নেতা । যিনি নারীজাতির অবমাননাকারির শাস্তি লঘু করিতে প্রতিশ্রুত হইবেন, পরে তাঁহার বক্তব্য বিকৃত করা হইয়াছে দাবি করিয়া সংবাদ মাধ্যমের মুন্ড চর্বন করিবেন, তিনিই নেতা । যিনি স্বদলীয় কর্মীর অপরাধ লুকাইয়া রাখিবেন, ব্যক্তিবিশেষকে ব্যবহার করিয়া অবৈধ সুবিধা লইবেন এবং সুবিধালাভ সমাপ্ত হইলে তাহাকে সুদূরে নিক্ষেপ করিবেন, তিনিই নেতা । যাঁহার বাক্য মনোমধ্যে এক, কথনে দশ, লিখনে শত এবং ভাষণকালে সহস্র, তিনিই নেতা ।

    যিনি ইতিহাসের কিছুই জানিবেন না, অর্থনীতির কিছুই বুঝিবেন না, কেবল আপনাকে অভ্রান্ত জানিয়া আপনার মত জনগণের উপর চাপাইয়া দিবেন, তিনিই নেতা । যিনি ফান্ড সংগ্রহার্থ দুর্গাপূজা করিবেন, সমর্থকদের প্রীতিসম্পাদনার্থ গণেশপূজা করিবেন এবং নির্বাচনে জয়ের লোভে ঈদ পালন করিবেন, তিনিই নেতা ।

    হে কুরুকুলভূষণ! দেবদেবীদের কথা যখন উঠিল তখন বলা যাউক, বিষ্ণুর সহিত এই নেতাদিগের বিশেষ সাদৃশ্য হইবে । ইঁহারা বিষ্ণুর তুল্য লীলাপটু হইবেন, বিষ্ণুর ন্যায় ইঁহাদিগেরও দশ অবতার হইবে । যথা – কেরানী, মাস্টার, অভিনেতা, ব্যবসায়ী, ডাক্তার, উকিল, ধর্মগুরু, অবসরপ্রাপ্ত অফিসার, সংবাদপত্র সম্পাদক এবং নিষ্কর্মা। সকল অবতারেই ইঁহারা অমিত বলপরাক্রম অসুরগণকে বধ করিবেন । কেরানী অবতারে বধ্য অসুর প্রশাসন মুখাপেক্ষী, মাস্টার অবতারে বধ্য ছাত্র, অভিনেতা অবতারে বধ্য দর্শক, ব্যবসায়ী অবতারে বধ্য ক্রেতা, ডাক্তার অবতারে বধ্য রোগী, উকিল অবতারে বধ্য মক্কেল, ধর্মগুরু অবতারে বধ্য ধর্মভীরু, অফিসার অবতারে বধ্য আপনারই ছেড়ে আসা সরকার, সম্পাদক অবতারে বধ্য পাঠক, এবং নিষ্কর্মাবতারে বধ্য উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রী ।

    হে নরনাথ! আমি যাঁহাদিগের কথা বলিলাম, তাঁহাদিগের মনে মনে বিশ্বাস জন্মিবে যে, তাঁহারা আইনসভা দখল করিয়া, তথায় বাগাড়ম্বরের মেঘ জমাইয়া, মরিচবিষের বৃষ্টি নামাইয়া, কর্দমাক্ত সলিলে মৎস্যশিকার করিয়া ভারতবর্ষের পুনরুদ্ধার করিবেন ।

    জনমেজয় কহিলেন, হে মুনিপুঙ্গব! নেতাদিগের জয় হউক, আপনি অন্য প্রসঙ্গ আরম্ভ করুন ।”

     

    See less
      • -1
  • 1
  • 7,574
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

কবিতাঃ জন্মদিন (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ) Jonmodin Poem by Rabindranath Tagore in Bengali

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on May 5, 2020 at 1:05 pm
    This answer was edited.

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মদিন নিয়ে অনেক কবিতা লিখেছেন। তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থের নাম "জন্মদিনে" সেই কাব্যে রয়েছে ২৯ টি কবিতা। এখানে তিনটি কবিতা দেয়া হলো যেগুলি তার অন্যান্য কাব্যের অন্তর্গত। জন্মদিন (তোমরা রচিলে যারে) কাব্যগ্রন্থ-নবজাতক জন্মদিন (আজ মম জন্মদিন। সদ্যই প্রাণের প্রান্তপথে) কাব্যগ্রন্থ-সেঁজুতিRead more

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মদিন নিয়ে অনেক কবিতা লিখেছেন। তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থের নাম “জন্মদিনে” সেই কাব্যে রয়েছে ২৯ টি কবিতা।
    এখানে তিনটি কবিতা দেয়া হলো যেগুলি তার অন্যান্য কাব্যের অন্তর্গত।

    • জন্মদিন (তোমরা রচিলে যারে) কাব্যগ্রন্থ-নবজাতক
    • জন্মদিন (আজ মম জন্মদিন। সদ্যই প্রাণের প্রান্তপথে) কাব্যগ্রন্থ-সেঁজুতি
    • জন্মদিন (দৃষ্টিজালে জড়ায় ওকে হাজারখানা চোখ) কাব্যগ্রন্থ-সেঁজুতি

     
    আরও পড়ুনঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতাসমূহ

    জন্মদিন

    তোমরা রচিলে যারে
    নানা অলংকারে
    তারে তো চিনি নে আমি,
    চেনেন না মোর অন্তর্যামী
    তোমাদের স্বাক্ষরিত সেই মোর নামের প্রতিমা।
    বিধাতার সৃষ্টিসীমা
    তোমাদের দৃষ্টির বাহিরে।
    কালসমুদ্রের তীরে
    বিরলে রচেন মূর্তিখানি
    বিচিত্রিত রহস্যের যবনিকা টানি
    রূপকার আপন নিভৃতে।
    বাহির হইতে
    মিলায়ে আলোক অন্ধকার
    কেহ এক দেখে তারে, কেহ দেখে আর।
    খণ্ড খণ্ড রূপ আর ছায়া,
    আর কল্পনার মায়া
    আর মাঝে মাঝে শূন্য, এই নিয়ে পরিচয় গাঁথে
    অপরিচয়ের ভূমিকাতে।
    সংসারখেলার কক্ষে তাঁর
    যে-খেলেনা রচিলেন মূর্তিকার
    মোরে লয়ে মাটিতে আলোতে,
    সাদায় কালোতে,
    কে না জানে সে ক্ষণভঙ্গুর
    কালের চাকার নিচে নিঃশেষে ভাঙিয়া হবে চুর।
    সে বহিয়া এনেছে যে-দান
    সে করে ক্ষণেকতরে অমরের ভান–
    সহসা মুহূর্তে দেয় ফাঁকি,
    মুঠি-কয় ধূলি রয় বাকি,
    আর থাকে কালরাত্রি সব-চিহ্ন-ধুয়ে-মুছে-ফেলা।
    তোমাদের জনতার খেলা
    রচিল যে পুতুলিরে
    সে কি লুব্ধ বিরাট ধূলিরে
    এড়ায়ে আলোতে নিত্য রবে।
    এ কথা কল্পনা কর যবে
    তখন আমার
    আপন গোপন রূপকার
    হাসেন কি আঁখিকোণে,
    সে কথাই ভাবি আজ মনে

     

    জন্মদিন

    দৃষ্টিজালে জড়ায় ওকে হাজারখানা চোখ,
    ধ্বনির ঝড়ে বিপন্ন ওই লোক।
    জন্মদিনের মুখর তিথি যারা ভুলেই থাকে,
    দোহাই ওগো, তাদের দলে লও এ মানুষটাকে–
    সজনে পাতার মতো যাদের হালকা পরিচয়,
    দুলুক খসুক শব্দ নাহি হয়।
    সবার মাঝে পৃথক ও যে ভিড়ের কারাগারে
    খ্যাতি-বেড়ির নিরন্ত ঝংকারে।
    সবাই মিলে নানা রঙে রঙিন করছে ওরে,
    নিলাজ মঞ্চে রাখছে তুলে ধরে,
    আঙুল তুলে দেখাচ্ছে দিনরাত;
    কোথায় লুকোয় ভেবে না পায়, আড়াল ভূমিসাৎ।
    দাও-না ছেড়ে ওকে
    স্নিগ্ধ -আলো শ্যামল-ছায়া বিরল-কথার লোকে,
    বেড়াহীন বিরাট ধূলি-‘পর,
    সেই যেখানে মহাশিশুর আদিম খেলাঘর।
    ভোরবেলাকার পাখির ডাকে প্রথম খেয়া এসে
    ঠেকল যখন সব-প্রথমের চেনাশোনার দেশে,
    নামল ঘাটে যখন তারে সাজ রাখে নি ঢেকে,
    ছুটির আলো নগ্ন গায়ে লাগল আকাশ থেকে–
    যেমন করে লাগে তরীর পালে,
    যেমন লাগে অশোক গাছের কচি পাতার ডালে।
    নাম ভোলা ফুল ফুটল ঘাসে ঘাসে
    সেই প্রভাতের সহজ অবকাশে।
    ছুটির যজ্ঞে পুষ্পহোমে জাগল বকুলশাখা,
    ছুটির শূন্যে ফাগুনবেলা মেলল সোনার পাখা।
    ছুটির কোণে গোপনে তার নাম
    আচম্কা সেই পেয়েছিল মিষ্টিসুরের দাম;
    কানে কানে সে নাম ডাকার ব্যথা উদাস করে
    চৈত্রদিনের স্তব্ধ দুইপ্রহরে।
    আজ সবুজ এই বনের পাতায় আলোর ঝিকিঝিকি
    সেই নিমেষের তারিখ দিল লিখি।
    তাহারে ডাক দিয়েছিল পদ্মানদীর ধারা,
    কাঁপন-লাগা বেণুর শিরে দেখেছে শুকতারা;
    কাজল-কালো মেঘের পুঞ্জ সজল সমীরণে
    নীল ছায়াটি বিছিয়েছিল তটের বনে বনে;
    ও দেখেছে গ্রামের বাঁকা বাটে
    কাঁখে কলস মুখর মেয়ে চলে স্নানের ঘাটে;
    সর্ষেতিসির খেতে
    দুইরঙা সুর মিলেছিল অবাক আকাশেতে;
    তাই দেখেছে চেয়ে চেয়ে অস্তরবির রাগে–
    বলেছিল, এই তো ভালো লাগে।
    সেই-যে ভালো-লাগাটি তার যাক সে রেখে পিছে,
    কীর্তি যা সে গেঁথেছিল হয় যদি হোক মিছে,
    না যদি রয় নাই রহিল নাম–
    এই মাটিতে রইল তাহার বিস্মিত প্রণাম।

     

    জন্মদিন

    আজ মম জন্মদিন। সদ্যই প্রাণের প্রান্তপথে
    ডুব দিয়ে উঠেছে সে বিলুপ্তির অন্ধকার হতে
    মরণের ছাড়পত্র নিয়ে। মনে হতেছে কী জানি
    পুরাতন বৎসরের গ্রন্থিবাঁধা জীর্ণ মালাখানি
    সেথা গেছে ছিন্ন হয়ে; নবসূত্রে পড়ে আজি গাঁথা
    নব জন্মদিন। জন্মোৎসবে এই-যে আসন পাতা
    হেথা আমি যাত্রী শুধু, অপেক্ষা করিব, লব টিকা
    মৃত্যুর দক্ষিণ হস্ত হতে, নূতন অরুণলিখা
    যবে দিবে যাত্রার ইঙ্গিত।
    আজ আসিয়াছে কাছে
    জন্মদিন মৃত্যুদিন, একাসনে দোঁহে বসিয়াছে,
    দুই আলো মুখোমুখি মিলিছে জীবনপ্রান্তে মম
    রজনীর চন্দ্র আর প্রত্যুষের শুকতারাসম–
    এক মন্ত্রে দোঁহে অভ্যর্থনা।
    প্রাচীন অতীত, তুমি
    নামাও তোমার অর্ঘ্য; অরূপ প্রাণের জন্মভূমি,
    উদয়শিখরে তার দেখো আদিজ্যোতি। করো মোরে
    আশীর্বাদ, মিলাইয়া যাক তৃষাতপ্ত দিগন্তরে
    মায়াবিনী মরীচিকা। ভরেছিনু আসক্তির ডালি
    কাঙালের মতো; অশুচি সঞ্চয়পাত্র করো খালি,
    ভিক্ষামুষ্টি ধূলায় ফিরায়ে লও, যাত্রাতরী বেয়ে
    পিছু ফিরে আর্ত চক্ষে যেন নাহি দেখি চেয়ে চেয়ে
    জীবনভোজের শেষ উচ্ছিষ্টের পানে।
    হে বসুধা,
    নিত্য নিত্য বুঝায়ে দিতেছ মোরে– যে তৃষ্ণা, যে ক্ষুধা
    তোমার সংসাররথে সহস্রের সাথে বাঁধি মোরে
    টানায়েছে রাত্রিদিন স্থুল সূক্ষ্ম নানাবিধ ডোরে
    নানা দিকে নানা পথে, আজ তার অর্থ গেল কমে
    ছুটির গোধূলিবেলা তন্দ্রালু আলোকে। তাই ক্রমে
    ফিরায়ে নিতেছ শক্তি, হে কৃপণা, চক্ষুকর্ণ থেকে
    আড়াল করিছ স্বচ্ছ আলো; দিনে দিনে টানিছে কে
    নিষ্প্রভ নেপথ্যপানে। আমাতে তোমার প্রায়োজন
    শিথিল হয়েছে, তাই মূল্য মোর করিছ হরণ,
    দিতেছ ললাটপটে বর্জনের ছাপ। কিন্তু জানি,
    তোমার অবজ্ঞা মোরে পারে না ফেলিতে দূরে টানি।
    তব প্রয়োজন হতে অতিরিক্ত যে মানুষ তারে
    দিতে হবে চরম সম্মান তব শেষ নমস্কারে।
    যদি মোরে পঙ্গু কর, যদি মোরে কর অন্ধপ্রায়,
    যদি বা প্রচ্ছন্ন কর নিঃশক্তির প্রদোষচ্ছায়ায়,
    বাঁধ বার্ধক্যের জালে, তবু ভাঙা মন্দিরবেদীতে
    প্রতিমা অক্ষুণ্ন রবে সগৌরবে; তারে কেড়ে নিতে
    শক্তি নাই তব।
    ভাঙো ভাঙো, উচ্চ করো ভগ্নস্তূপ,
    জীর্ণতার অন্তরালে জানি মোর আনন্দস্বরূপ
    রয়েছে উজ্জ্বল হয়ে। সুধা তারে দিয়েছিল আনি
    প্রতিদিন চতুর্দিকে রসপূর্ণ আকাশের বাণী;
    প্রত্যুত্তরে নানা ছন্দে গেয়েছে সে “ভালোবাসিয়াছি’।
    সেই ভালোবাসা মোরে তুলেছে স্বর্গের কাছাকাছি
    ছাড়ায়ে তোমার অধিকার। আমার সে ভালোবাসা
    সব ক্ষয়ক্ষতিশেষে অবশিষ্ট রবে; তার ভাষা
    হয়তো হারাবে দীপ্তি অভ্যাসের ম্লানস্পর্শ লেগে,
    তবু সে অমৃতরূপ সঙ্গে রবে যদি উঠি জেগে
    মৃত্যুপরপারে। তারি অঙ্গে এঁকেছিল পত্রলিখা
    আম্রমঞ্জরীর রেণু, এঁকেছে পেলব শেফালিকা
    সুগন্ধি শিশিরকণিকায়; তারি সূক্ষ্ম উত্তরীতে
    গেঁথেছিল শিল্পকারু প্রভাতের দোয়েলের গীতে
    চকিত কাকলিসূত্রে; প্রিয়ার বিহ্বল স্পর্শখানি
    সৃষ্টি করিয়াছে তার সর্বদেহে রোমাঞ্চিত বাণী,
    নিত্য তাহা রয়েছে সঞ্চিত। যেথা তব কর্মশালা
    সেথা বাতায়ন হতে কে জানি পরায়ে দিত মালা
    আমার ললাট ঘেরি সহসা ক্ষণিক অবকাশে,
    সে নহে ভৃত্যের পুরস্কার; কী ইঙ্গিতে কী আভাসে
    মুহূর্তে জানায়ে চলে যেত অসীমের আত্মীয়তা
    অধরা অদেখা দূত, বলে যেত ভাষাতীত কথা
    অপ্রয়োজনের মানুষেরে।
    সে মানুষ, হে ধরণী,
    তোমার আশ্রয় ছেড়ে যাবে যবে, নিয়ো তুমি গণি
    যা-কিছু দিয়েছ তারে, তোমার কর্মীর যত সাজ,
    তোমার পথের যে পাথেয়, তাহে সে পাবে না লাজ;
    রিক্ততায় দৈন্য নহে। তবু জেনো অবজ্ঞা করি নি
    তোমার মাটির দান, আমি সে মাটির কাছে ঋণী–
    জানায়েছি বারংবার, তাহারি বেড়ার প্রান্ত হতে
    অমূর্তের পেয়েছি সন্ধান। যবে আলোতে আলোতে
    লীন হত দড়যবনিকা, পুষ্পে পুষ্পে তৃণে তৃণে
    রূপে রসে সেই ক্ষণে যে গূঢ় রহস্য দিনে দিনে
    হত নিঃশ্বসিত, আজি মর্তের অপর তীরে বুঝি
    চলিতে ফিরানু মুখ তাহারি চরম অর্থ খুঁজি।
    যবে শান্ত নিরাসক্ত গিয়েছি তোমার নিমন্ত্রণে
    তোমার অমরাবতী সুপ্রসন্ন সেই শুভক্ষণে
    মুক্তদ্বার; বুভুক্ষুর লালসারে করে সে বঞ্চিত;
    তাহার মাটির পাত্রে যে অমৃত রয়েছে সঞ্চিত
    নহে তাহা দীন ভিক্ষু লালায়িত লোলুপের লাগি।
    ইন্দ্রের ঐশ্বর্য নিয়ে হে ধরিত্রী, আছ তুমি জাগি
    ত্যাগীরে প্রত্যাশা করি, নির্লোভেরে সঁপিতে সম্মান,
    দুর্গমের পথিকেরে আতিথ্য করিতে তব দান
    বৈরাগ্যের শুভ্র সিংহাসনে। ক্ষুব্ধযারা, লুব্ধ যারা,
    মাংসগন্ধে মুগ্ধ যারা, একান্ত আত্মার দৃষ্টিহারা
    শ্মশানের প্রান্তচর, আবর্জনাকুণ্ড তব ঘেরি
    বীভৎস চীৎকারে তারা রাত্রিদিন করে ফেরাফেরি,
    নির্লজ্জ হিংসায় করে হানাহানি।
    শুনি তাই আজি
    মানুষ-জন্তুর হুহুংকার দিকে দিকে উঠে বাজি।
    তবু যেন হেসে যাই যেমন হেসেছি বারে বারে
    পণ্ডিতের মূঢ়তায়, ধনীর দৈন্যের অত্যাচারে,
    সজ্জিতের রূপের বিদ্রূপে। মানুষের দেবতারে
    ব্যঙ্গ করে যে অপদেবতা বর্বর মুখবিকারে
    তারে হাস্য হেনে যাব, বলে যাব, “এ প্রহসনের
    মধ্য-অঙ্কে অকস্মাৎ হবে লোপ দুষ্ট স্বপনের;
    নাট্যের কবররূপে বাকি শুধু রবে ভস্মরাশি
    দগ্ধশেষ মশালের, আর অদৃষ্টের অট্টহাসি।’
    বলে যাব, “দ্যূতচ্ছলে দানবের মূঢ় অপব্যয়
    গ্রন্থিতে পারে না কভু ইতিবৃত্তে শাশ্বত অধ্যায়।’
    বৃথা বাক্য থাক্। তব দেহলিতে শুনি ঘন্টা বাজে,
    শেষপ্রহরের ঘন্টা; সেই সঙ্গে ক্লান্ত বক্ষোমাঝে
    শুনি বিদায়ের দ্বার খুলিবার শব্দ সে অদূরে
    ধ্বনিতেছে সূর্যাস্তের রঙে রাঙা পূরবীর সুরে।
    জীবনের স্মৃতিদীপে আজিও দিতেছে যারা জ্যোতি
    সেই ক’টি বাতি দিয়ে রচিব তোমার সন্ধ্যারতি
    সপ্তর্ষির দৃষ্টির সম্মুখে; দিনান্তের শেষ পলে
    রবে মোর মৌন বীণা মূর্ছিয়া তোমার পদতলে।
    আর রবে পশ্চাতে আমার, নাগকেশরের চারা
    ফুল যার ধরে নাই, আর রবে খেয়াতরীহারা
    এ পারের ভালোবাসা– বিরহস্মৃতির অভিমানে
    ক্লান্ত হয়ে রাত্রিশেষে ফিরিবে সে পশ্চাতের পানে।

    See less
      • 1
  • 1
  • 33,261
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

কবিতাঃ শারদীয় (শুভ দাশগুপ্ত ) Subho Dasgupta Kobita Sharodiya

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on April 25, 2020 at 12:36 pm

    শারদীয়া –শুভ দাশগুপ্ত গেরুয়া নদীর পাড় ঘেষে সেই ছোট্ট আমার গ্রাম ছেলেবেলার ছেলেখেলার সেই আনন্দধাম। আকাশ ছিল সুনীল উদার রোদ্দুরে টান টান, গেরুয়া নদীর পাড় ঘেষে সেই ছোট্ট আমার গ্রাম গেরুয়া নদীর পাড় ঘেষে সেই গ্রামের শেষ পাড়া, নবীন কাকার কুমোর বাড়ি, ঠাকুর হত গড়া। সাত পাড়াতে বেজায় খ্যাতি, নবীন তRead more

    শারদীয়া –শুভ দাশগুপ্ত

    গেরুয়া নদীর পাড় ঘেষে সেই ছোট্ট আমার গ্রাম
    ছেলেবেলার ছেলেখেলার সেই আনন্দধাম।
    আকাশ ছিল সুনীল উদার রোদ্দুরে টান টান,
    গেরুয়া নদীর পাড় ঘেষে সেই ছোট্ট আমার গ্রাম
    গেরুয়া নদীর পাড় ঘেষে সেই গ্রামের শেষ পাড়া,
    নবীন কাকার কুমোর বাড়ি, ঠাকুর হত গড়া।
    সাত পাড়াতে বেজায় খ্যাতি, নবীন তালেবর,
    নবীন কাকার হাতের ঠাকুর অপূর্ব সুন্দর।
    এক এক বছর এক এক রকম ঠাকুর তৈরি হতো,
    সেসব ঠাকুর দেখতে মানুষ বেজায় ভিড় জমাতো।
    স্কুল পালানো দুপুর ছিলো, ছিলো সঙ্গী সাথী,
    চোখ জুড়ানো মূর্তি দেখতে ভীষণ মাতামাতি।
    শারদীয়ার দিন গড়াতো শিউলি গন্ধে দুলে,
    রোজই যেতাম ঠাকুর গড়া দেখতে সদলবলে।
    নবীন কাকা গরিব মানুষ, সদাই হাসিমুখে,
    নিবিষ্ট মন, ব্যস্ত জীবন, আপন ভোলা সুখে।
    হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হতো লক্ষ্মী, গণেশ, পেঁচা,
    দূর গাঁয়ে তার ছোট্ট বাড়ি, ঠাকুর গড়েই বাঁচা।
    সে বছর কি হলো বলি, শোনো দিয়ে মন,
    বন্যা হলো ভীষণরকম ভাসলো যে জীবন।
    কত মানুষ ঘর হারালো, প্রাণ হারালো কত,
    গোটা গ্রামের বুকটি জুড়ে হাজার আঘাত ক্ষত।
    ধানের জমি পাটের ক্ষেতে জল থৈ থৈ বান,
    সর্বনাশের কান্না ঘেরা হাজার নিঃস্ব প্রাণ।
    বর্ষা শেষে বন্যা গেল, জাগলো শারদ আলো,
    নীল আকাশে পুজোর ছুটি দিব্যি ডাক পাঠালো।
    কাশফুলেরা উঠল দুলে, শিউলি ঝরা দিন,
    পুজো আসছে রোদ্দুরে তাই বাজলো খুশির বীণ।
    নবীন কাকার টালির ঘরে হচ্ছে ঠাকুর গড়া,
    গেরুয়া নদীর পাড় ঘেঁষে গ্রাম জাগলো খুশির সাড়া।
    আমরা যত কচিকাঁচা, আবার জড়ো হয়ে,
    ঠাকুর দেখতে গেলাম ছুটে মাঠ ঘাট পেরিয়ে।
    সেবার মাত্র গুটিকয়েক ঠাকুর টালির ঘরে,
    পুজোর আয়োজন তো সেবার নমোনমো করে।
    তারই মধ্যে একটি ঠাকুর টালির চালের কোনে,
    নবীন কাকা ভাঙেন, গড়েন নিত্য আপন মনে।
    অন্য ঠাকুর দেখতে চাইলে বাধা দিতেন না,
    ওই ঠাকুরটি দেখতে চাইলে না শুধু না।
    কৌতূহলে দিন গড়ালো পুজো এলো কাছে,
    মহালয়ার দিন টি এলো পুজোর খুশির সাজে।
    আমরা কয়জন রাত থাকতে উঠেছি ঘুম ছেড়ে,
    পুবের আকাশ মলিন, আলো ধীরে উঠছে বেড়ে।
    অন্ধকারে চুপিসারে গুটিগুটি পায়ে,
    আমরা হাজির নবীন কাকার ঘরের কিনারায়।
    চুপ্টি করে দরজা ঠেলে ভিতরে গিয়ে,
    দেখি কাকা চোখ আঁকছেন সমস্ত মন দিয়ে।
    চোখ আঁকা যেই সাঙ্গ হল, নিথর নবীন কাকা,
    অঝোর ধারে কেঁদেই চলেন দুহাতে মুখ ঢাকা।
    কাঁদছে শিল্পী, নিরব বিশ্ব, কুপির আলো ঘরে,
    নবীন কাকার পাষাণ হৃদয় কান্না হয়ে ঝরে।
    রাত ফুরোনো ভোরের আকাশ, কৃপণ অল্প আলো,
    মুখ দেখলাম সেই ঠাকুরের, প্রাণ জুড়িয়ে গেল।
    কিন্তু একি? এ মুখ তো নয় দুর্গা বা পার্বতী?
    এ যেন এক ঘরের মেয়ে, চেনা জানা অতি।
    নবীন কাকার সামনে গিয়ে কি হয়েছে বলি,
    কেঁদে বলেন নবীন কাকা সবই জলাঞ্জলি।
    শ্রাবণ মাসে বন্যা হলো, গেল অনেক কিছু,
    মারণব্যাধি এলো তখন বানের পিছু পিছু।
    ভাদ্র মাসের পূর্ণিমাতে সেই ব্যধি যে ধরল,
    মেয়ে আমার অনেক কষ্টে যন্ত্রনাতে মরল।
    ঠাকুর গড়ি, দু হাত আমার অবশ হয়ে আসে,
    সব প্রতিমার মুখ জুড়ে ওই মেয়ের মুখটি ভাসে।
    দ্যাখ্ না তোরা, দ্যাখ্ না সবাই, চোখ আঁকা শেষ হলো,
    দ্যাখ্ না এইতো মেয়ে আমার হাসছে ঝলোমলো।
    কোথায় গেলি মা রে আমার? কোথায় তোকে পাই?
    মূর্তি গড়ে খুঁজি তোকে মূর্তিতে তুই নাই।
    ষষ্ঠী এলে বোধন, দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা হবে,
    জাগবে ঠাকুর, কিন্তু আমার মেয়ে ফিরবে কবে?
    কেউ কি কোন মন্ত্র জানো মৃন্ময়ী এই মেয়ে,
    বাবার চোখের জল মোছাতে উঠবে হেসে গেয়ে?
    আমরা অবাক! মহালয়ায় ভোরের শিউলি ঝরে,
    কি নিদারুণ ঠাকুর পুজো নবীন কাকার ঘরে!

     

    See less
      • 0
  • 1
  • 4,822
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

কবিতাঃ ব্রিলিয়ান্ট ছেলে (শুভ দাশগুপ্ত ) Brilliant Chele Kobita lyrics in Bengali

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on April 28, 2020 at 6:03 am

    ব্রিলিয়ান্ট ছেলেরা (শুভ দাশগুপ্ত ) ব্রিলিয়ান্ট ছেলেরা ব্রিলিয়ান্ট কেরিয়ার তৈরী করে ……. তারা প্রথমে গাঁয়ে- মফস্বলে হরিপ্রসন্ন স্কুলে গেঁয়ো বন্ধুদের সাথে লেখাপড়া শেখে । তারপর - ব্রিলিয়ান্ট রেজাল্ট করে সকলকে চমকে দেয় । তারপর তারা উচ্চতর শিক্ষার জন্য চলে যায় ব্যাঙ্গালোর কিংবা দিল্লী ,কিংবা পুণে সেখানে গRead more

    ব্রিলিয়ান্ট ছেলেরা (শুভ দাশগুপ্ত )

    ব্রিলিয়ান্ট ছেলেরা ব্রিলিয়ান্ট কেরিয়ার তৈরী করে …….
    তারা প্রথমে গাঁয়ে- মফস্বলে হরিপ্রসন্ন স্কুলে গেঁয়ো বন্ধুদের সাথে লেখাপড়া শেখে ।
    তারপর –
    ব্রিলিয়ান্ট রেজাল্ট করে সকলকে চমকে দেয় ।
    তারপর তারা উচ্চতর শিক্ষার জন্য চলে যায়
    ব্যাঙ্গালোর কিংবা দিল্লী ,কিংবা পুণে
    সেখানে গিয়ে তারা বড় বড় নম্বর পায় ! পজিশন পায় !
    তারপর সেই নম্বর প্লেট গলায় ঝুলিয়ে তারা মস্ত মস্ত কোম্পানীতে ভালো ভালো চাকরি পায় !
    প্রচুর স্যালারি ! দামি ফ্ল্যাট ! ভালো গাড়ী !
    ব্রিলিয়ান্ট ছেলেরা ….. এরপর বিদেশের বিমানে গিয়ে বসে ।
    পৌঁছে যায় আমেরিকা ,জার্মানি কিংবা আবুধাবী …. অথবা সিঙ্গাপুর কিংবা কানাডা !
    ব্রিলিয়ান্ট ছেলেদের , ঐ সব দেশ টপাটপ কিনে নেয় ।
    ঐ সব ব্রিলিয়ান্ট দেশ ,আমাদের ব্রিলিয়ান্টদের জন্য বিলাসবহুল বাড়ি – গাড়ি
    আর প্রচুর ডলারের ব্যবস্থা করে দেয় ….
    সেখানে আমাদের ব্রিলিয়ান্টরা সুখে থাকে ।

    সুখে থাকতে থাকতে ব্রিলিয়ান্ট ছেলেরা ভুলে যায় তাদের দেশ গাঁয়ের কথা , হরিপ্রসন্ন স্কুলের কথা —
    গাঁয়ের বন্ধুদের কথা ক্রমে ভুলে যেতে থাকে !
    মনে রাখতে পারে না —– খুড়তুতো , জ্যাঠতুতো সব অসফল ভাই বোনেদের কথা ।

    ব্রিলিয়ান্টদের জগতে ইমোশন নেই ! প্রোমোশন আছে ।
    ব্রিলিয়ান্টদের অতীত নেই ! কেবল ভবিষ্যৎ , কেবল ফিউচার ।
    ছোট চেয়ার থেকে বড় চেয়ার ……নন এসি থেকে এসি ।
    ব্রিলিয়ান্ট ছেলেরা বাবা- মা কে মাঝে মধ্যে টাকা পাঠায় ….অ -নে -ক টাকা !!!!
    সেই টাকা হাতে পেয়ে ব্রিলিয়ান্টদের বাবার মুখে ফুটে ওঠে হাসি।
    মায়ের চোখ ভরে ওঠে জলে ।

    ব্রিলিয়ান্টরা এই ন্যাস্টি ইন্ডিয়াতে আর ফিরে আসতে চায় না ।
    এত ভিড় ! এত ধুলোকাদা ! এত কোরাপশন !
    এসবের মধ্যে তাদের গা ঘিনঘিন করে

    তবু যদি কখনও আসে ……..
    অনেক অনেক ফরেইন জিনিস নিয়ে আসে ।
    মায়ের জন্য ইতালির চাদর , বাবার জন্য ফ্রান্সের সিগারেট .. সঙ্গে জাপানি লাইটার ,
    আলো জ্বললেই যা থেকে টুং টাং করে বাজনা বেজে ওঠে ।

    ব্রিলিয়ান্টদের ব্যাপার স্যাপারই আলাদা ……..
    ব্রিলিয়ান্টদের ব্রিলিয়ান্ট বানিয়ে তুলতে কেরানী বাবাকে যে কতদিন কর্মক্লান্ত দুপুরে টিফিনে একটা চাপাকলা কিংবা
    একটাকার শুকনো মুড়িতে পেট ভরিয়েছেন ……
    কতকাল যে মা কোনো নতুন শাড়ী কেনাকে বিলাসিতা মনে করে ছেঁড়া শাড়ীতে দিন কাটিয়েছেন !!!
    এসব তথ্য ব্রিলিয়ান্টদের ল্যাপটপে থাকেনা । ব্রিলিয়ান্টদের ল্যাপটপে নায়াগ্রার দূরন্ত জলোচ্ছ্বাস , কিংবা
    ভিসুভিয়াসের ছবি থাকে …….
    এই শ্যামল বাংলার নদী গাছ , বর্ষার মেঘ —–
    এসব হাবিজাবি সেখানে ইনসার্ট করা যায় না ।

    ব্রিলিয়ান্টরা সদা ব্যস্ত ! ভীষণ ব্যস্ত …… !
    তারা সঙ্গীত শোনেনা , তারা গল্প বা কবিতা পড়ে সময় নষ্ট করেনা ।
    তারা আকাশ দেখে না , বৃষ্টিতে তাদের মন খারাপ হয় না ।
    তারা কেবল কাজ করে ,কেবল ব্যাস্ততায় ডুবে থাকে ।

    বৃষ্টি নেমেছে আকাশ ভেঙ্গে …….শ্রাবণ মাস ।
    মা মৃত্যুশয্যায় …..বাড়ি ভর্তি লোকজন ।
    অসুস্থ বাবা বারান্দায় চেয়ারে বসে আছেন শূন্য চোখে ……
    ডাক্তার জবাব দিয়ে গেছেন ….গোটা বাড়িতে অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতা !
    কাঁপা কাঁপা ঠোঁটে মা জিজ্ঞেস করছেন ….. খোকন এলো ? খো – ক – ন ………….!

    ব্রিলিয়ান্ট খোকন তখন ফ্লাইটে …..
    সবাই মা কে বোঝাচ্ছে ঐ তো ঐ তো খোকন এলো বলে !
    কিন্তু সে ফ্লাইট চলে যাচ্ছে কানাডায়।
    কানাডায় কোম্পানীর নতুন শাখা উদ্বোধন।
    খোকন যাচ্ছে আরও বড়ো দায়িত্ব নিয়ে , আরও বেশী ডলার ……..
    এখানে এই পোড়া দেশে ব্রিলিয়ান্ট খোকনের মা
    ছেলের মুখ না দেখেই শেষ বারের মতো চোখ বুঁজলেন …..।।

    আমরা এখন ঘরে ঘরে সবাই —— এমন ব্রিলিয়ান্ট ছেলে গড়ে তুলতেই ব্যস্ত…….।
    সক্কলে!

    See less
      • 1
  • 4
  • 22,410
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

কবিতাঃ মা ( শুভ দাশগুপ্ত ) Subho dasgupta kobita maa lyrics

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on April 25, 2020 at 12:20 pm
    This answer was edited.

    মা - শুভ দাসগুপ্ত যখন ডাকি শিউলি হয়ে শরৎ তখন ভোরের হাওয়ায় বলে কান্না রাখিস না মা তো ছিলই মা তো আছেই, সবখানেতেই মা যখন ডাকি মা সহস্র চোখ বিপন্ন মুখ দুহাত তুলে বলে বাইরে খোঁজিস না ব্যর্থ জীবন ক্লান্ত জীবন পাশেই আছে মা মা ববলেই স্নেরের সকাল মা বললেই তৃষ্ণার জল মা বললেই ছায়ার আচল মা বললেই দুঃখ উধাও যখনRead more

    মা – শুভ দাসগুপ্ত

    যখন ডাকি শিউলি হয়ে শরৎ তখন
    ভোরের হাওয়ায় বলে
    কান্না রাখিস না মা তো ছিলই মা তো আছেই,
    সবখানেতেই মা
    যখন ডাকি মা
    সহস্র চোখ বিপন্ন মুখ দুহাত
    তুলে বলে বাইরে খোঁজিস না
    ব্যর্থ জীবন ক্লান্ত জীবন পাশেই আছে মা
    মা ববলেই স্নেরের সকাল
    মা বললেই তৃষ্ণার জল
    মা বললেই ছায়ার আচল
    মা বললেই দুঃখ উধাও
    যখন ডাকি মা
    মন্দিরে আর গীর্জিয় কিংবা মসজিদে
    সুর ভাসে একই তো সুর না
    মানুষ বড় কষ্টে আছে
    মানুষ বড় দুঃখে বাঁচে
    মানুষ বড় যাতাকলে
    মানুষ বড় চোখের জলে
    এর নেই কি শান্তনা
    দূরের থেকে মা তখনই উঠে আসেন কাছে
    শীয়রে হাত রেখে বলেন
    আমি আছি না
    যখন ডাকি মা

     

    English transliteration;

    Jakhan daki shuili hoye sharat takhan
    Vorer hawai bole
    kanna rakhish na maa to chiloi maa to aachei,
    Shabkhanetei ma
    jakhan daki maa
    Shahasra chokh biponno mukh duhaath
    Tui bole baire khujish na
    Bertho jibon klanta jibon pashei aache maa
    maa bollei sneher shakal
    maa bollei trishnar jol
    maa bollei chayar aanchal
    maa bollei dukkho udhao
    jakhan daki maa
    Mandire aar girjay kingba mashjide
    Shur vashe eki to shur na
    manush baro kaste aache
    manush baro dukkhe bache
    manush baro jatakale
    manush baro chokher jale
    Er nei ki shantona
    durer theke maa takhani uthe aashen kache
    Shiyore haath rekhe bolen
    Ami aaschi na
    jakhan daki maa

     

    See less
      • 0
  • 1
  • 21,494
  • 0
Answer
Load More Questions

Sidebar

আরও দেখুন

  • কবিতা : আবহমান (নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী) Nirendranath Chakraborty Poem Abohoman
  • কবিতা : অমলকান্তি | Nirendranath Chakraborty Poem Amalkanti
  • কবিতা : নিঃস্বার্থ (সুকুমার রায়) Bangla Kobita Nisarto Sukumar Roy
  • কবিতাঃ যাবার দিনে এই কথাটি | Jabar Dine Ei Kothati Lyrics in Bengali
  • যদি প্রেম দিলে না প্রাণে | Jodi Prem Dile na Prane Lyrics
  • রবীন্দ্রসংগীতঃ মহারাজ একি সাজে | Maharajo Eki Saje Lyrics in Bengali
  • রবীন্দ্রসংগীতঃ খরবায়ু বয় বেগে | Khara Bayu Boy Bege Lyrics in Bengali
  • রবীন্দ্রসংগীতঃ এই লভিনু সঙ্গ তব | Ei lobhinu Songo Tobo Lyrics in Bengali
  • রবীন্দ্রসংগীতঃ বর্ষণ মন্দ্রিত অন্ধকারে | Barshan Mandrita Andhakare lyrics
  • Martyrs of Barak Valley Language Movement | ১৯ মে আসামের বাংলাভাষা শহীদদের পরিচিতি
  • হোরিখেলা (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) Hori Khela Poem by Rabindranath Tagore Lyrics
  • কবিতা : একুশে আইন | Ekushe Ain Poem By Sukumar Roy
  • কবিতা : ঠিকানা | Thikana Poem By Sukumar Roy
  • কবিতা : জীবনের হিসাব | Jiboner Hisab Sukumar Roy Kobita
  • কবিতা : বোম্বাগড়ের রাজা | Bombagorer Raja Sukumar Roy Kobita
  • কবিতা : ভয় পেয়োনা (সুকুমার রায়) Bhoy Peona Sukumar Roy Kobita
  • কবিতা : কাতুকুতু বুড়ো | Katukutu Buro Sukumar Roy Kobita lyrics
  • কবিতা : রাম গরুড়ের ছানা | Kobita Ramgorurer Chhana Sukumar Roy
  • কবিতা : বিজ্ঞ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) Biggo by Rabindranath Tagore Lyrics
  • কবিতা : সবলা (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) Sobola by Rabindranath Tagore Lyrics
Join us on Telegram
Join our FaceBook Group

বিষয়

All Bangla Paragraph (105) Apurba Dutta Poems (4) Bangla application format (11) Bangla Choto Golpo (7) Bangla dorkhasto lekha (11) Bangla gazal lyrics (8) Bangla GK (177) Bangla Kobita (203) Bangla Rachana (105) baul gaan lyrics (6) baul song lyrics (6) Bengali antonyms (40) Bengali Essay (105) Bengali letter Writing (11) Bengali lullaby lyrics (3) bengali lyrics (82) Bengali Meaning (259) bengali poem (14) Bengali Poems (124) Bengali Poem Summary (21) Bengali Rachana (99) Bengali short story (7) bengali song lyrics (98) bengali song lyrics in bengali (98) Bengali synonyms (33) chandrabindu lyrics (2) English grammar in Bengali (6) English to Bengali Meaning (270) English to Bengali Translation (256) Essay (75) Full form (14) general knowledge bengali (7) indian history in bengali (9) Joy Goswami kobita (4) kazi nazrul islamer kobita (8) Kobita (143) lyrics (17) Myth (3) nirendranath chakraborty poem (5) Nirmalendu Goon Poems (6) Paragraph (20) Parts of speech in Bengali (6) Pod Poriborton (39) Poem (3) poem summary in bengali (21) rabindranath tagore poems (57) Rabindra Sangeet lyrics (5) shakti chattopadhyay poems (7) Social Science (6) Somarthok Shobdo (33) Somas Bangla Grammar (15) sukanta bhattacharya kobita (4) Sukumar Roy Poem (16) Summary (8) অনুচ্ছেদ (127) অপূর্ব দত্তের কবিতা (4) আধ্যাত্মিক (10) ইংরেজি অনুবাদ (6) ইংরেজি থেকে বাংলা (6) ইংলিশ বাংলা অনুবাদ (6) ইন্টারনেট (1) ইসলাম (18) ইসলাম ধর্মীয় প্রশ্ন উত্তর (18) ইসলামী নাত ও গজল (8) ইসলামী সংগীত লিরিক্স (8) কবিতা (26) কবিতার সারাংশ ও সারমর্ম (21) কাজী নজরুল ইসলাম (8) কুসংস্কার (3) গানের কথা (14) ঘুম পাড়ানি গান lyrics (3) ছোটগল্প (7) জয় গোস্বামী (4) জয় গোস্বামীর কবিতা (4) জেনারেল নলেজ (7) জেনারেল নলেজ প্রশ্ন ও উত্তর (39) নির্মলেন্দু গুণের কবিতা (6) নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কবিতা (5) পদ পরিবর্তন (39) পূর্ণরূপ (14) প্রকৃতি (17) প্রক্রিতি (23) ফলমূল (28) ফুল ফর্ম (14) বাংলা general knowledge (52) বাংলা অর্থ (275) বাংলা আবেদন পত্র (11) বাংলা কবিতা (219) বাংলা কবিতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (68) বাংলা গান লিরিক্স (97) বাংলা গানের লিরিক্স (98) বাংলা ছোট গল্প (7) বাংলা দরখাস্ত নমুনা (11) বাংলা প্রবন্ধ (97) বাংলা বাক্য রচনা (176) বাংলা বিপরীত শব্দ (40) বাংলা রচনা (127) বাউল গান লিরিক্স (6) বাক্য রচনা (176) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (1) বিজ্ঞান শিক্ষা (17) বিপরীত শব্দ (40) বোঝাপড়া কবিতা (3) ব্যাখ্যা (8) ভক্তিভাজন (10) ভারতের ইতিহাস (9) ভূগোল (5) মধ্যযুগের ভারতের ইতিহাস (9) মূলভাব (8) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (34) রবীন্দ্রসংগীত (1) রবীন্দ্র সংগীত লিরিক্স (5) লিরিক্স (17) শক্তি চট্টোপাধ্যায় kobita (7) শঙ্খ ঘোষ (8) শুভ দাশগুপ্ত (7) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত (5) সন্ধি বিচ্ছেদ (8) সন্ধি বিচ্ছেদ ব্যবহার (8) সমাজ বিজ্ঞান (6) সমার্থক শব্দ (33) সমাস (15) সারাংশ (8) সুকান্তের কবিতা (4) সুকুমার রায় (16)

Footer

© 2025 Bengali Forum · All rights reserved. Contact Us

Add Bengali Forum to your Homescreen!

Add