তােমার জীবনের লক্ষ্য (My aim in life) ভূমিকা : ফুল ফুটে, পাখি গান গাহে, নদী বহে যায়, গাছে ফল ধরে, পাকে। প্রকৃতির মধ্যে এ সব বস্তু সকলেরই এক একটি উদ্দেশ্য আছে। ফুল ফুটে আমাদেরকে গন্ধ দানের জন্য, পাখি গান গাহে মানুষের মনে আনন্দ দানের জন্য, নদী বহে চলে জল দানের জন্য, ফল ধরে পাকে মানুষের তৃপ্তি আর পুষ্Read more
তােমার জীবনের লক্ষ্য (My aim in life)
ভূমিকা : ফুল ফুটে, পাখি গান গাহে, নদী বহে যায়, গাছে ফল ধরে,
পাকে। প্রকৃতির মধ্যে এ সব বস্তু সকলেরই এক একটি উদ্দেশ্য আছে। ফুল ফুটে
আমাদেরকে গন্ধ দানের জন্য, পাখি গান গাহে মানুষের মনে আনন্দ দানের জন্য, নদী
বহে চলে জল দানের জন্য, ফল ধরে পাকে মানুষের তৃপ্তি আর পুষ্টি দানের জন্য।
জগতে সকল কিছুরই জীবনের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য আছে। মানব জীবনের সেরকম
একটি লক্ষ্য আছে। আমি আমার ভবিষ্যত জীবনের জন্য একটি লক্ষ্য স্থির করে
রেখেছি। কবির ভাষায় –
‘আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে আসে নাই
কেহ অবনি পরে।
সকলেই আমরা পরের তরে।
তাই আমাকেও অন্যের জন্য কিছু করতে হবে।
লক্ষ্য কী হওয়া উচিত : সাধক রামপ্রসাদের একটি গানের কয়েকটি
কলি মনরে কৃষি কাজ জানিস না।
এমন মানব জমিন রইল পতিত
আবাদ করলে ফলতাে সােনা।
মানব জীবনের দুর্বলতা ও অসামান্য তাৎপর্য কথা এই কলি কটিতে ধ্বনিত
হয়েছে। পৃথিবীর সকল মহামানব, ঋষি ও মনীষীরা একই কথা বলে গিয়েছেন।
জীবনকে সফল করে তুলতে হবে, নতুবা শুধু শুধু আহার-নিদ্রায় জীবনে অতিবাহিত
করলে পশুর জীবন এবং মানুষের জীবনের মধ্যে তফাৎ রইল কোথায়? মানুষ ঈশ্বরের
শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। তাই আমরা প্রতিটি মানুষ পৃথিবীতে এসেছি ঈশ্বরের বাণী বহন করে কিছু
করতে। মনুষ্য জীবন একটি বিশাল কর্মক্ষেত্র। কর্মের ভিতর দিয়ে জীবনকে রূপারিত
করতে হবে – তবেই জীবনের সার্থকতা।
লক্ষ্য স্থির করবার প্রয়ােজনীয়তা : সুতরাং শৈশব থেকেই প্রত্যেরে
জীবনে একটি স্থির ও নিশ্চিন্ত লক্ষ্য থাকা উচিত। নতুবা, অসীম সাগরের মধ্যে নাবিক
বক্ষে নৌকার যা অবস্থা, সংসার সমুদ্রে লক্ষাহীন ভাসমান মানুষের অবস্থাও হয় ঠিক
সেই রকম। শৈশব থেকে একটা লক্ষ্য সম্পর্কে স্থির নিশ্চিন্ত হয়ে একটি মহৎ জীবনাদর্শ
অনুসরণ করে ঠিক মতাে অগ্রসর হতে না পারলে যথার্থ লক্ষ্যে পৌছানাে সম্ভব হয় না।
বর্তমানযুগে সমাজে সম্মানের সঙ্গে বসবাস করতে হলে অন্ততঃ শিক্ষিত হতেই হবে।
তাই আমাকে আগে পড়াশুনায় মনােযােগী হতে হবে।
মানুষের উচ্চ আকাঙ্ক্ষা : সমাজে প্রত্যেক বৃত্তি-সম্পন্ন মানুষেরই
প্রয়ােজনীয়তা আছে। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল-ব্যারিস্টার, শিক্ষক অধ্যাপক, সাংবাদিক,
কৃষক, ব্যবসায়ী সকল শ্রেণির বৃত্তিজীবি মানুষের মিলনে সমাজের সচলতা। তাই দেখা
গেছে, আমাদের মধ্যে সকলেরই প্রবল আকাঙক্ষা উচ্চ পদের সরকারি অফিসার,
ডাক্তার, ইৱিনিয়ার, অধ্যাপক ও ব্যাপ্ত কর্মচারী হওয়ার। কেউই মনে সাধারণ প্রাইমারী
শিক্ষক, ব্যবসায়ী কিংবা কৃষিজীবি হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন না। অথচ আমদের
দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে হলে শুধু ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা উচ্চ পদস্থ অফিসার
হলেই চলবে না, দেশ গড়ে তুলার কাজে চাই আদর্শবাদী শিক্ষক, সুদক্ষ কৃষিজীবি,
নির্ভীক নিরপেক্ষ সাংবাদিক, সাধু সচ্চরিত্র ব্যবসায়ী প্রভৃতি বিভিন্ন বৃত্তিজীবি মানুষ।
আমার লক্ষ্য : আমি স্থির করেছি একজন সাধু ও সঙ্চরিত্র ব্যবসায়ী হব।
আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় চাইতেন ব্যবসা-বাণিজ্যে বাঙালি সুপ্রতিষ্ঠিত হােক। বাক্তিগতভাবে
তিনি বাঙালি ব্যবসায়ীকে আর্থিক সাহায্য পর্যন্ত করেছিলেন। আমি আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র
রায়ের মনােভাবের গভীর প্রশংসা করি। বিশ্বাস করি, শুধু ডাক্তার, উকিল, বারিস্টার
হলেই বাঙ্গালী সমাজের উন্নতি ঘটবে না। বাঙ্গালী ব্যবসা বাণিজ্যের দিক দিয়েও সাফল্য
অর্জন করতে হবে। তাই আমি স্থির করেছি একজন সার্থক বাবসায়ী হব। এখানে প্রশ্ন
উঠতে পারে ব্যবসার মাধ্যমে কতটুকু সমাজের উপকার সাধন করা যাবে কিংবা ব্যবসা
কি এমন আদর্শ বৃত্তি। তার উত্তরে আমি বলব আজকাল সরকারি চাকরি লাভ করা
বড় কঠিন ব্যাপার। তাই ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা অর্জনের উপায় আছে স্বাধীনভাবে থেকে।
ব্যবসায় সততা : আজ যখন সমস্ত দেশ অসাধু ব্যবসায়ী ছেয়ে গেছে,
কালােবাজারী, মুনাফা বাজীতে দেশ ভরে গেছে, তখন একথা বলার সময় এসেছে যে,
ব্যবসা ভিত্তিতে আদর্শ, সততা ও স্থান সাধুতার অতি উচ্চে। দেশের মুদ্রাস্ফীতি ও
নিত্য প্রয়ােজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মূল কারণ হল অসাধু ব্যবসায়ীদের কালো টাকা
সংগ্রহ। গভীর পরিতাপের বিষয়, আজ দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমেই বহিরাগত
অসাধু ব্যবসায়ীদের হাতে চলে গেছে। এদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে সততা
সম্পন্ন দেশের যুবকদের শুধু সরকারি চাকরির দিকে চাতক পাখির মতো চেয়ে না
থেকে ব্যবসা বাণিজ্যে নেমে পড়া উচিত। ব্যবসার জন্য কিছু মূলধন অবশ্যই চাই।
তবে স্বল্প মূলধনেও ব্যবসা করা যায়। কেবল চাই শ্রম, চাই উদ্যোগ ও অধ্যবসায়।
তাছাড়া আজকাল বিভিন্ন ব্যঙ্কি থেকে ঋণ হিসেবে অর্থ পাওয়া যাচ্ছে। এ ব্যাপারে
সরকারি অনুকূল্য পাওয়াও কঠিন নয়।
ব্যবসার উদ্দেশ্য ধনী হওয়া নয় । পৃথিবীর বড়-বড় ব্যবসায়ীর জীবন।
ইতিহাস পাঠ করে দেখেছি তারা খুব সাধারণ অবস্থা থেকেই উন্নতি করেছেন। টাটা,
রিলায়েন্স, কার্নেগী ব্যক্তিগণ তার উদাহরণ। অবশ্য টাটা-বিড়লার মতাে ধনী হওয়ার সাধ ও সাধ্য আমার নেই। ধন সম্পদের পাহাড় জমিয়ে কী হবে -যদি সেই ধন সম্পদ দেশের ও দশের কাজে না
লাগে।
উপসংহারঃ কথায় আছে ‘জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভালাে।’
কর্মের প্রতি নিষ্ঠা থাকলে জীবনে নিষ্ঠা লাভ করা যায়। এখানে প্রতিষ্ঠার অর্থ স্বচ্ছলতা
আর স্বচ্ছলতা জীবনের পথে প্রয়োজন। এছাড়া, ব্যবসার সঙ্গে দেশের অতীত।
ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি যুক্ত। বহির্বাণিজ্য ভারতের গৌরবময় অতীতের কথা ভুলা যায়।
। ব্যবসা একটি শিল্প সংস্কৃতির অঙ্গ। কাজেই ব্যবসাকে অবহেলা করার যুক্তি নেই।
সুতরাং আশা রাখি এ বৃত্তিতে যেন সকলের শুভেচ্ছা পাই।
আমাদের জাতীয় পতাকা/ ভারতের জাতীয় পতাকা সূচনা : প্রত্যেকটি স্বাধীন দেশের জাতীয় পতাকা সেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। পতাকা একটি জাতি,দল, দেশ বা সংগঠনের প্রতীক তথা পরিচায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বর্তমান বিশ্বের প্রতিটি দেশেরই একটি নিজস্ব পতাকা আছে, যা জাতীয় পতাকা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সে ভাবেRead more
আমাদের জাতীয় পতাকা/ ভারতের জাতীয় পতাকা
সূচনা : প্রত্যেকটি স্বাধীন দেশের জাতীয় পতাকা সেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। পতাকা একটি জাতি,দল, দেশ বা সংগঠনের প্রতীক তথা পরিচায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বর্তমান বিশ্বের প্রতিটি দেশেরই একটি নিজস্ব পতাকা আছে, যা জাতীয় পতাকা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সে ভাবে ভারতবর্ষের ও একটি নিজস্ব জাতীয় পতাকা আছে যা ভারতবর্ষের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে প্রকাশ করে।
আমাদের জাতীয় পতাকার বিবরণ : ভারতের জাতীয় পতাকা তিনটি রং দিয়ে তৈরী।উপরে গেরুয়া মধ্যে সাদা ও নিচে সবুজ।পতাকার ঠিক মধ্যেখানে আছে চব্বিশটি দণ্ডযুক্ত নীল “অশোকচক্র”।তিনটি রং থাকার দরুন আমাদের জাতীয় পতাকাকে সাধারণত “ত্রিরঙ্গা পতাকা” বা “ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা” বলা হয়।১৯৪৭ সালের ২২ জুলাই এই পতাকার বর্তমান রূপটি ভারতবর্ষের সরকারি পতাকা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।
জাতীয় পতাকার ইতিহাস : ভারতবর্ষের স্বাধীনতার পর্বে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রং ও আকারের পতাকা ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি ভারতের স্বাধীনতার সময় জাতীয় পতাকার বাছাই নিয়ে অনেক বিবাদ দেখা দে। শেষ পর্যন্ত “পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া” ধারা তৈরী তিরঙ্গা জাতীয় পতাকা হিসাবে গৃহীত হয়। এই পতাকায় আনুভূমিক গেরুয়া, সাদা ও সবুজের মধ্যস্থলে একটি চরকা খচিত ছিল। গেরুয়া ত্যাগ; সাদা সত্য ও শান্তি এবং সবুজ বিশ্বাস ও প্রগতির প্রতীক তথা চরকা ভারতের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও দেশবাসীর শ্রমশীলতার প্রতীক হিসেবে গৃহীত হয়। পবর্তীকালে চরকার স্থলে অশোকচক্র যুক্ত করে ইহাকে ভারতবর্ষের জাতীয় পতাকা হিসাবে গ্রহণ করা হয়।
পতাকা ব্যবহারের নিয়ম : পতাকা উত্তোলনের বিশেষ কয়েকটি দিন রয়েছে তারমধ্যে স্বাধীনতা দিবস, গণতন্ত্র দিবস অন্যতম। এই দিনগুলোতে প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বিভিন্ন অফিস আদালত ও সরকারি- বেসরকারি কার্যালয় গুলোতে পতাকা উত্তোলন করা হয়। পতাকা কোনো একটি উঁচু জায়গায় উত্তোলন করা হয়। দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পতাকা উড়িয়ে রাখা হয় এবং আঁধার নামিয়ে আসলে পতাকা নামিয়ে নেওয়া হয়। এই দিন গুলি ছাড়া কোনো বিশেষ ব্যক্তির মৃত্যু হলে অর্ধেক উত্তোলন করা হয়।তাছাড়া জাতীয় পতাকা কুচকাওয়াজ প্রদর্শনী, বিশেষ প্রদর্শনী, সরকারি অফিস ও আদালতে বছরের যে কোনো সময়ে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
জাতীয় পতাকার মাহাত্ম্য : জাতীয় পতাকা ভারতবর্ষের পরিচয়ের প্রতীক, প্রত্যেক ভারতীয় মানুষের গর্বের প্রতীক, আমাদের সার্বভৌমত্ব এবং রাষ্ট্রের অখন্ডতার চিহ্ন। জাতীয় পতাকার প্রতি অবিচল আস্থা, ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।ভারতীয় আইন অনুসারে জাতীয় পতাকার ব্যবহার সর্বদা “মর্যাদা, আনুগত্য ও সম্মান সহকারে হওয়া উচিত।জাতীয় পতাকার অপব্যবহার ও অমর্যাদা করা অত্যন্ত জগন্য ও শাস্তিমূলক অপরাধ।
উপসংহার : ভারতের জাতীয় পতাকা আমাদের গর্বের প্রতীক, আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক।আমরা অনেক সংগ্রাম ও কষ্টের পর এই পতাকাকে অর্জন করেছি। তাই এই পতাকার প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও মর্যাদা ভারতীয় হিসাবে প্রথম দায়িত্ব ও কর্তব্য। ভারতের জাতীয় পতাকার মান যাতে অক্ষুন্ন থাকে সেই জন্য আমাদেরকে এই লক্ষ্যে কাজ করা উচিত।
See less