Sign Up

Continue with Google
or use


Have an account? Sign In Now

Sign In

Continue with Google
or use


Forgot Password?

Don't have account, Sign Up Here

Forgot Password

Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.


Have an account? Sign In Now

Sorry, you do not have permission to ask a question, You must login to ask a question.

Continue with Google
or use


Forgot Password?

Need An Account, Sign Up Here

Please briefly explain why you feel this question should be reported.

Please briefly explain why you feel this answer should be reported.

Please briefly explain why you feel this user should be reported.

Bengali Forum Logo Bengali Forum Logo
Sign InSign Up

Bengali Forum

Bengali Forum Navigation

  • বিষয়
  • ব্লগ
  • হযবরল
Search
Ask A Question

Mobile menu

Close
Ask A Question
  • বাংলা অভিধান
  • সাহিত্য
  • শিক্ষা
  • রচনা
  • সাধারণ জ্ঞান
  • ইংলিশ টু বাংলা
  • বিজ্ঞান
  • বাংলা কুইজ
  • ধৰ্ম ও সংস্কৃতি
  • ইতিহাস
  • মতামত

Bengali Forum Latest Questions

In: রচনা

জনজীবনে দূরদর্শনের প্রভাব রচনা | essay on television in bengali language

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on March 25, 2020 at 4:29 am

    দূরদর্শন বা জনজীবনে দূরদর্শনের প্রভাব ভূমিকা : আজকের ভারতবর্ষে সর্বাধিক মনােরঞ্জক ও জনপ্রিয় কোন বৈজ্ঞানিক যন্ত্রের নাম যদি করতে হয়, তাহলে যে যন্ত্রটির নাম বহুজনের কণ্ঠে উচ্চারিত হবে, সেটি হল টেলিভিশন। বাংলায় আমরা একে বলে থাকি দূরদর্শন। বহুদুরের জিনিসকে, আমরা কাছে এনে দেখে থাকি এই যন্ত্রের মাধ্যমেRead more

    দূরদর্শন বা জনজীবনে দূরদর্শনের প্রভাব

    ভূমিকা : আজকের ভারতবর্ষে সর্বাধিক মনােরঞ্জক ও জনপ্রিয় কোন বৈজ্ঞানিক যন্ত্রের নাম যদি করতে হয়, তাহলে যে যন্ত্রটির নাম বহুজনের কণ্ঠে উচ্চারিত হবে, সেটি হল টেলিভিশন। বাংলায় আমরা একে বলে থাকি দূরদর্শন। বহুদুরের জিনিসকে, আমরা কাছে এনে দেখে থাকি এই যন্ত্রের মাধ্যমে। এই দেখার মধ্যে একাধারে যেমন আছে উত্তেজনা, ঠিক তেমনি আছে আনন্দ। ঘরে বসে এমন উত্তেজক আনন্দ আর কোন যন্ত্রের মাধ্যমে পাই না, তাই ‘দূরদর্শন আমাদের একান্ত প্রিয়।
    আবিষ্কার ও গবেষণা : বলা যেতে পারে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ দান এই আনন্দদায়ক যন্ত্রটি। যদিও ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জে, এল, বােয়ার্ডকে এই যন্ত্রটি আবিষ্কারের গৌরব দেওয়া হয়ে থাকে তথাপি পূর্বসূরী হিসাবে জার্মানির কর্ণ ও মার্কিন বৈজ্ঞানিক রেঞ্জারে নামও আমাদের স্মরণ করতে হয়। ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে জার্মান বৈজ্ঞানিক কর্ণ। বেতারের মাধ্যমে প্রথম দুরে ছবি পাঠাতে পেরেছিলেন যদিও তার দূরত্বটা ছিল কম। পরবর্তীতে রেঞ্জার এই ছবি পাঠাতে সমর্থ হলেন আটলান্টিক সাগরের এপার থেকে ওপারে। এ দুজন বৈজ্ঞানিক যে ছবি পাঠিয়ে ছিলেন তা ছিল স্থির। ১৯২৫ সালে অনেক গবেষণার পর বেয়ার্ড সমর্থ হলেন চলমান দৃশ্যের ছবি পাঠাতে। বলাবাহুল্য এই চলমান ছবি থেকেই আমরা পেয়ে গেলাম টেলিভিশন বা দূরদর্শন।
    ভারতে দূরদর্শন : ইউরােপ ও আমেরিকায় টেলিভিশন চালু হওয়ার অনেক পরে আমাদের দেশে এ যন্ত্রটি চালু হয়। এর কারণ আমাদের মতাে গরীব দেশের জন্য এটা ছিল বড়ই ব্যয় বহুল। বিজ্ঞানের এই শ্রেষ্ঠ ফসল যদি মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়া না যায়, যদি নির্দিষ্ট সংখ্যক লােকের কাছে পৌছায় তবে বিজ্ঞানের এই প্রকৃত সুফলটি পাওয়া যাবে না। তাই অনেক চেষ্টা সাবুদ করে প্রথমে চালু করা হল দিল্লী শহরে। তারপর সত্তরের দশকের মাঝামাঝি পশ্চিমবঙ্গে দূরদর্শন চালু হয়। দুরদর্শনের কলকাতা কেন্দ্রে টেলিভিশন প্রচার আরম্ভ হয় ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে। ১৯৮২ তে মাইক্রোওয়েভ সংযােগের মাধ্যমে দিল্লি থেকে সরাসরি কলকাতা এবং দেশের অপরাপর কেন্দ্রে প্রচার সম্ভব হয়।

    দূরদর্শনের উপযােগিতা : টেলিভিশন বা দূরদর্শন মানুষের জীবনে আনন্দ দানের এক বিরাট ও ব্যাপক ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে।টেলিভিশনের কল্যাণে পৃথিবী ঘটে যাওয়া বড় বড় ঘটনা সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চক্ষু গােচর হচ্ছে।এত সহজে এবং এত অল্প সময়ে এত বিস্তৃতভাবে লক্ষ লক্ষ জ্ঞান শিক্ষা আনন্দ-বিতরণের ব্যবস্থায় দূরদর্শন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। দূরদর্শন শিক্ষক, চাকুরীজীবী, রাজনৈতিক বা বৈজ্ঞানিক, শিক্ষিত অশিক্ষিত সকলের জন্যই প্রয়োজনীয়। আমেরিকার বক্তৃতা, ইংল্যান্ডের গান আর অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট খেলার বর্ণনা আমরা নিজ নিজ ঘরে বসেই দৈনন্দিন টেলিভিশনের মাধ্যমে দেখে আনন্দ উপভোগ করতে পারি। একই সময়ে একই সঙ্গে লক্ষ লক্ষ লোককে আনন্দ দানের এত বড় মাধ্যম পৃথিবীতে কোন কালেই ছিল না।

    ইডিয়েট বক্স বোকা বাক্স: বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে টেলিভিশন একটি বোকা বাক্স। এই দৃশ্যমান যন্ত্রটি মানুষকে বোকা বানিয়ে রাখে। ভাববার বা চিন্তা করবার ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে দিনে দিনে একটু একটু করে দর্শকদের নির্বোধ বানিয়ে ফেলে। নির্বোধ না হলে দিনের পর দিন ওই সব ছবি কেউ কি দেখতে পারে? রাজনীতিকরা মনে করেন যে এটি শাসক দলের প্রচার এর একটি হাতিয়ার। সুতরাং এই হাতি এটি তাদের হাতে না থাকাই ভালো। মোট কথা অনেকের কাছেই টিভি আজাদ পছন্দের বস্তু নয়। তবে ব্যবসায় দাঁড়ায় এবং জিজ্ঞাসু কৌতুহলী দর্শকদের কাছে এটি খুবই জনপ্রিয়। ব্যবসায়ীরা দেখছেন এর মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারলে খদ্দের ধরা খুবই সহজ। তাই টিভির মধ্যে দিয়ে বিজ্ঞাপন এখন একটি চারুকলা হয়ে উঠেছে। নাচ-গান, বিজ্ঞান, চিকিৎসা, খেলাধুলা, শিক্ষা, ভ্রমণ ইত্যাদি সম্পর্কে সারা সপ্তাহ ধরে নানান বিচিত্র আলোচনা এখানে পরিবেশিত হয়।

    ছাত্রদের জন্য : ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অনেক অনুষ্ঠান দুরদর্শনে পরিবেশন করা হয়। তবে টিভি প্রােগ্রাম দেখা সম্পর্কে ছাত্র-ছাত্রীদের উপরও কিছুটা বিধি নিষেধ থাকা দরকার। সব অনুষ্ঠান তাদের দেখা ঠিক নয়। যেগুলি শিক্ষামূলক সেগুলিই তারা দেখুক। সেগুলি ছাড়া আর সব অনুষ্ঠানের দিকে ঝোক ছাত্রদের পক্ষে ক্ষতিকারক হতে পারে। অধিকাংশ হিন্দি সিনেমা, নাচ, গান, ছাত্র-ছাত্রীদের দেখা উচিত নয়। প্রদর্শনীয় বিষয় পরিকল্পনার সময় দেশের কিশাের-কিশােরীদের নৈতিক এবং মানসিক গঠনের কথাটা ভাবতেই হবে।

    উপসংহার: মানুষের কল্যাণে বিজ্ঞানের আবিষ্কার। মানুষের প্রয়োগ পদ্ধতির জন্য আবিষ্কার হয়েছে কোন আশীর্বাদ আবার কখনো হয়েছে অভিশাপ। কোটি কোটি মানুষ আজও দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করছে। তাই আজও বহুলোকের টিভি ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। টিভি এখনো উচ্চবিত্ত উচ্চ-মধ্যবিত্ত বিলাসের উপকরণ অথচ বিজ্ঞানের আবিষ্কার কে করে করে সব মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। ধীরে ধীরে এগিয়ে রূপান্তরিত করতে হবে অগ্রগতির শানিত হাতিয়ারে। কেননা আধুনিক জীবনে এই অপরিহার্য সঙ্গীটিকে আর বর্জন করার উপায় বা সাধ্য নেই। তবে সেখানে প্রয়োজন অনুষ্ঠান সূচির নৈতিক নিয়ন্ত্রণ। প্রয়োজন ব্যাপক গঠনমূলক রুচি শিল্পোন্নত অনুষ্ঠানের নিত্য নতুন পরিকল্পনা উদ্ভাবন।

    See less
      • 0
  • 1
  • 4,679
  • 0
Answer
In: রচনা

রচনা: মাদার টেরেসা ও তার সমাজসেবা | Mother Teresa essay in Bengali

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on March 25, 2020 at 12:40 am
    This answer was edited.

    বিশ্বজননী মা টেরেসা ভূমিকা: মানব চরিত্রের শ্রেষ্ঠ গুণ সেবা ও প্রেম। সেবা ও প্রেম দিয়ে যারা পৃথিবীর মানব সমাজে অমরত্বের আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন মাদার টেরেসা তাদের মধ্যে অন্যতম। শৈশবকাল থেকে বৃদ্ধাবস্থা পর্যন্ত তিনি ছিলেন মানবসেবায় নিয়ােজিত প্রাণ। রােগগ্রস্ত শােক সন্তপ্ত মানুষের কাছে তিনি দেবমূর্তিRead more

    বিশ্বজননী মা টেরেসা

    ভূমিকা: মানব চরিত্রের শ্রেষ্ঠ গুণ সেবা ও প্রেম। সেবা ও প্রেম দিয়ে যারা পৃথিবীর মানব সমাজে অমরত্বের আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন মাদার টেরেসা তাদের মধ্যে অন্যতম। শৈশবকাল থেকে বৃদ্ধাবস্থা পর্যন্ত তিনি ছিলেন মানবসেবায় নিয়ােজিত প্রাণ। রােগগ্রস্ত শােক সন্তপ্ত মানুষের কাছে তিনি দেবমূর্তি। তার সেবা যত্নে, আদর আর ভালবাসায় অগণিত মানুষ রােগ মুক্ত হয়ে স্বস্তি পেয়েছে, তার স্নেহধন্য হয়ে কেউ পরম সুখে জীবন যাপন করছে। আর্ত লােকদের অতি কাছের মানুষ ছিলেন মাদার টেরেসা।

    জন্ম ও বাল্য জীবন : টেরেসা মায়ের নিজের দেশ ভারতবর্ষ, যদিও তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৯১০ খৃষ্টাব্দের ২৭শে আগষ্ট যুগােশ্লাভিয়ার স্কপেজ শহরের এক আলবেনীয় দম্পতির ঘরে। তার পূর্বনাম অ্যাগনেস গংক্সা বােজাক্সিউ। বাল্যকালে পড়াশুনা শুরু হয় একটি সরকারি বিদ্যালয়ে। স্কুলের পড়া-শুনা যেমন তার ভালাে লাগত তেমনি ভালাে লাগত সেবামূলক কাজ। স্কুলের শিক্ষিকার নিকট হতে জানতে পারেন যে সেবামলক কাজ করবার জন্য পথিবীতে বেশ কয়টি সংগঠন আছে। অ্যাগনেস মনে মনে স্থির করেন যে এ সব সংগঠনে যােগ দান করবেন। এর সঙ্গে এক অধ্যাত্ববােধও তার মনে বাসা বাঁধে, তাই মাত্র আঠারাে বছর বয়সে তিনি একটি খ্রিষ্টীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত হন।

    কর্মজীবন : মিশনারির ব্রত নেওয়ার পর তার নাম রাখা হয় টেরেসা। তারপর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ডাবলিনের লরেটো অ্যাবেতে ভারতের বৈচিত্র্যময় জীবনের কথা শুনে তিনি ভারতবর্ষের প্রতি আকৃষ্ট হন। ১৯২৮ খৃষ্টাব্দে মাদার ভারতে আসেন। প্রথমে মার্গারেট স্কুলে শিক্ষকতা, ছাত্র-ছাত্রীদের পরিচালনা ও পরে অধ্যক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই শিক্ষকতার ফাকে বস্তির দুঃস্থ অসহায় মানুষের সেবা করতেন।

    সেবায় নিজেকে নিয়ােগ : ১৯৪৬ খৃষ্টাব্দে দার্জিলিং যাত্রার পথে টেরেসার জীবনে এক ভাবান্তর দেখা যায়। শিক্ষকতা ছেড়ে তিনি একমাত্র সেবাব্রত গ্রহণে মনস্থ করেন। নীল পাড়যুক্ত সাদা সুতী শাড়ি পরিহিতা বিশ্বজননী মাদার এর এ সময় থেকে। শুরু হল জীবনের এক উজ্জ্বলতম অধ্যায়। ১৯৪৮ খৃষ্টাব্দে তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব অর্জন করেন। পাটনা থেকে নার্সিং ট্রেনিং নিয়ে তিনি এ বৎসরেই মতিঝিল বস্তিতে একটি বিদ্যালয় খুলেন। ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ‘মিশনারিজ অব চ্যারিটিজ’ প্রতিষ্ঠা। করেন। তাঁর শুভ প্রচেষ্টায় কলকাতার কালীঘাটে গড়ে উঠে মরণাপন্নদের জন্য আতুর ভবন নির্মল হৃদয়’। সােদপুরে ‘প্রেমনিবাস’, ‘নির্মলা কেনেডি কেন্দ্রের মতাে অগণিত প্রতিষ্ঠান দুঃস্থ, আতুর অসহায় মানুষের জন্য মাদার গড়ে তুলেন। ভারতের গ্রামে গঞ্জে ছড়িয়ে আছে মাদাদের প্রতিষ্ঠান গুলি। ভারতে তার পরিচালিত বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫, দাতব্য চিকিৎসাকেন্দ্র দুই শতাধিক, কুষ্ঠ চিকিৎসাকেন্দ্র ৫৫টি। ভারতের বাইরেও তার সেবা প্রতিষ্ঠান ছড়িয়ে আছে।

    সেবা কার্যের পুরস্কার : বিশ্বের নানাদেশ একের পর এক সম্মান ও স্বীকৃতি প্রদান করেছে মাদারকে। ১৯৬২ সালে ফিলিপাইন্স সরকার মাদারের জন্য ঘােষণা করেছে ম্যাগসেসে পুরস্কার। ওই বছরই ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মশ্রী’ উপাধিতে ভূষিত করেন। ১৯৬৪ সালে পােপ জন পল তাকে একটি বহুমূল্য গাড়ি উপহার দেন। ওই দামি গাড়ি বিক্রি করে মাদার সেই টাকায় একটি কুষ্ঠাশ্রম গড়ে তােলেন। ১৯৭২ সালে পান নেহেরু পুরস্কার। ১৯৭৯ সালের ১৭ই অক্টোবর তিনি শান্তির জন্য নােবেল পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৮০ সালে প্রদত্ত হয় ভারত সরকারের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘ভারতরত্ন’।

    আদর্শ : আত্ম প্রচার বিমুখ মা টেরেসা অক্লান্ত পরিশ্রমে দেশবাসীর কাছে। সেবার এক নতুন আদর্শ গড়ে তুলেছিলেন। শুধু সেবা নয় তার সঙ্গে আন্তরিক ভালবাসায় মানুষকে কাছে টেনে এনেছেন। বাণী বা উপদেশ নয়, যে কোন অবস্থায় আর্তের পাশে দাড়িয়ে সেবা ও ভালবাসাই ছিল তার জীবনাদর্শ।

    উপসংহার : ১৯৯৭ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর এই মহীয়সী নারী পঞ্জভতে বিলীন হয়ে যান। মানুষ হারাল তাদের বিশ্ব জননীকে। মহৎকাজে তাঁর সাধ ছিল, তাই সাদ্যের অকুলান হয়নি। তার সেবাদর্শ ও মানব প্রীতি সর্বকালের মানুষকে প্রেরণা ও শক্তি যোগায়।মূর্তিমতি সেবারূপা মা টেরেসা মানুষের মনিকোঠায় পূজিত ও বন্দিতা হবেন

    See less
      • 0
  • 1
  • 23,249
  • 0
Answer
In: রচনা

রচনা: দূরদর্শন | television paragraph in bengali

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on March 25, 2020 at 4:23 am

    দূরদর্শন ভূমিকা : আজকের ভারতবর্ষে সর্বাধিক মনােরঞ্জক ও জনপ্রিয় কোন বৈজ্ঞানিক যন্ত্রের নাম যদি করতে হয়, তাহলে যে যন্ত্রটির নাম বহুজনের কণ্ঠে উচ্চারিত হবে, সেটি হল টেলিভিশন। বাংলায় আমরা একে বলে থাকি দূরদর্শন। বহুদুরের জিনিসকে, আমরা কাছে এনে দেখে থাকি এই যন্ত্রের মাধ্যমে। এই দেখার মধ্যে একাধারে যেমনRead more

    দূরদর্শন

    ভূমিকা : আজকের ভারতবর্ষে সর্বাধিক মনােরঞ্জক ও জনপ্রিয় কোন বৈজ্ঞানিক যন্ত্রের নাম যদি করতে হয়, তাহলে যে যন্ত্রটির নাম বহুজনের কণ্ঠে উচ্চারিত হবে, সেটি হল টেলিভিশন। বাংলায় আমরা একে বলে থাকি দূরদর্শন। বহুদুরের জিনিসকে, আমরা কাছে এনে দেখে থাকি এই যন্ত্রের মাধ্যমে। এই দেখার মধ্যে একাধারে যেমন আছে উত্তেজনা, ঠিক তেমনি আছে আনন্দ। ঘরে বসে এমন উত্তেজক আনন্দ আর কোন যন্ত্রের মাধ্যমে পাই না, তাই ‘দূরদর্শন আমাদের একান্ত প্রিয়।
    আবিষ্কার ও গবেষণা : বলা যেতে পারে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ দান এই আনন্দদায়ক যন্ত্রটি। যদিও ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জে, এল, বােয়ার্ডকে এই যন্ত্রটি আবিষ্কারের গৌরব দেওয়া হয়ে থাকে তথাপি পূর্বসূরী হিসাবে জার্মানির কর্ণ ও মার্কিন বৈজ্ঞানিক রেঞ্জারে নামও আমাদের স্মরণ করতে হয়। ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে জার্মান বৈজ্ঞানিক কর্ণ। বেতারের মাধ্যমে প্রথম দুরে ছবি পাঠাতে পেরেছিলেন যদিও তার দূরত্বটা ছিল কম। পরবর্তীতে রেঞ্জার এই ছবি পাঠাতে সমর্থ হলেন আটলান্টিক সাগরের এপার থেকে ওপারে। এ দুজন বৈজ্ঞানিক যে ছবি পাঠিয়ে ছিলেন তা ছিল স্থির। ১৯২৫ সালে অনেক গবেষণার পর বেয়ার্ড সমর্থ হলেন চলমান দৃশ্যের ছবি পাঠাতে। বলাবাহুল্য এই চলমান ছবি থেকেই আমরা পেয়ে গেলাম টেলিভিশন বা দূরদর্শন।
    ভারতে দূরদর্শন : ইউরােপ ও আমেরিকায় টেলিভিশন চালু হওয়ার অনেক পরে আমাদের দেশে এ যন্ত্রটি চালু হয়। এর কারণ আমাদের মতাে গরীব দেশের জন্য এটা ছিল বড়ই ব্যয় বহুল। বিজ্ঞানের এই শ্রেষ্ঠ ফসল যদি মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়া না যায়, যদি নির্দিষ্ট সংখ্যক লােকের কাছে পৌছায় তবে বিজ্ঞানের এই প্রকৃত সুফলটি পাওয়া যাবে না। তাই অনেক চেষ্টা সাবুদ করে প্রথমে চালু করা হল দিল্লী শহরে। তারপর সত্তরের দশকের মাঝামাঝি পশ্চিমবঙ্গে দূরদর্শন চালু হয়। দুরদর্শনের কলকাতা কেন্দ্রে টেলিভিশন প্রচার আরম্ভ হয় ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে। ১৯৮২ তে মাইক্রোওয়েভ সংযােগের মাধ্যমে দিল্লি থেকে সরাসরি কলকাতা এবং দেশের অপরাপর কেন্দ্রে প্রচার সম্ভব হয়।

    দূরদর্শনের উপযােগিতা : টেলিভিশন বা দূরদর্শন মানুষের জীবনে আনন্দ দানের এক বিরাট ও ব্যাপক ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে।টেলিভিশনের কল্যাণে পৃথিবী ঘটে যাওয়া বড় বড় ঘটনা সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চক্ষু গােচর হচ্ছে।এত সহজে এবং এত অল্প সময়ে এত বিস্তৃতভাবে লক্ষ লক্ষ জ্ঞান শিক্ষা আনন্দ-বিতরণের ব্যবস্থায় দূরদর্শন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। দূরদর্শন শিক্ষক, চাকুরীজীবী, রাজনৈতিক বা বৈজ্ঞানিক, শিক্ষিত অশিক্ষিত সকলের জন্যই প্রয়োজনীয়। আমেরিকার বক্তৃতা, ইংল্যান্ডের গান আর অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট খেলার বর্ণনা আমরা নিজ নিজ ঘরে বসেই দৈনন্দিন টেলিভিশনের মাধ্যমে দেখে আনন্দ উপভোগ করতে পারি। একই সময়ে একই সঙ্গে লক্ষ লক্ষ লোককে আনন্দ দানের এত বড় মাধ্যম পৃথিবীতে কোন কালেই ছিল না।

    ইডিয়েট বক্স বোকা বাক্স: বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে টেলিভিশন একটি বোকা বাক্স। এই দৃশ্যমান যন্ত্রটি মানুষকে বোকা বানিয়ে রাখে। ভাববার বা চিন্তা করবার ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে দিনে দিনে একটু একটু করে দর্শকদের নির্বোধ বানিয়ে ফেলে। নির্বোধ না হলে দিনের পর দিন ওই সব ছবি কেউ কি দেখতে পারে? রাজনীতিকরা মনে করেন যে এটি শাসক দলের প্রচার এর একটি হাতিয়ার। সুতরাং এই হাতি এটি তাদের হাতে না থাকাই ভালো। মোট কথা অনেকের কাছেই টিভি আজাদ পছন্দের বস্তু নয়। তবে ব্যবসায় দাঁড়ায় এবং জিজ্ঞাসু কৌতুহলী দর্শকদের কাছে এটি খুবই জনপ্রিয়। ব্যবসায়ীরা দেখছেন এর মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারলে খদ্দের ধরা খুবই সহজ। তাই টিভির মধ্যে দিয়ে বিজ্ঞাপন এখন একটি চারুকলা হয়ে উঠেছে। নাচ-গান, বিজ্ঞান, চিকিৎসা, খেলাধুলা, শিক্ষা, ভ্রমণ ইত্যাদি সম্পর্কে সারা সপ্তাহ ধরে নানান বিচিত্র আলোচনা এখানে পরিবেশিত হয়।

    ছাত্রদের জন্য : ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অনেক অনুষ্ঠান দুরদর্শনে পরিবেশন করা হয়। তবে টিভি প্রােগ্রাম দেখা সম্পর্কে ছাত্র-ছাত্রীদের উপরও কিছুটা বিধি নিষেধ থাকা দরকার। সব অনুষ্ঠান তাদের দেখা ঠিক নয়। যেগুলি শিক্ষামূলক সেগুলিই তারা দেখুক। সেগুলি ছাড়া আর সব অনুষ্ঠানের দিকে ঝোক ছাত্রদের পক্ষে ক্ষতিকারক হতে পারে। অধিকাংশ হিন্দি সিনেমা, নাচ, গান, ছাত্র-ছাত্রীদের দেখা উচিত নয়। প্রদর্শনীয় বিষয় পরিকল্পনার সময় দেশের কিশাের-কিশােরীদের নৈতিক এবং মানসিক গঠনের কথাটা ভাবতেই হবে।

    উপসংহার: মানুষের কল্যাণে বিজ্ঞানের আবিষ্কার। মানুষের প্রয়োগ পদ্ধতির জন্য আবিষ্কার হয়েছে কোন আশীর্বাদ আবার কখনো হয়েছে অভিশাপ। কোটি কোটি মানুষ আজও দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করছে। তাই আজও বহুলোকের টিভি ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। টিভি এখনো উচ্চবিত্ত উচ্চ-মধ্যবিত্ত বিলাসের উপকরণ অথচ বিজ্ঞানের আবিষ্কার কে করে করে সব মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। ধীরে ধীরে এগিয়ে রূপান্তরিত করতে হবে অগ্রগতির শানিত হাতিয়ারে। কেননা আধুনিক জীবনে এই অপরিহার্য সঙ্গীটিকে আর বর্জন করার উপায় বা সাধ্য নেই। তবে সেখানে প্রয়োজন অনুষ্ঠান সূচির নৈতিক নিয়ন্ত্রণ। প্রয়োজন ব্যাপক গঠনমূলক রুচি শিল্পোন্নত অনুষ্ঠানের নিত্য নতুন পরিকল্পনা উদ্ভাবন।

    See less
      • 0
  • 1
  • 13,934
  • 0
Answer
In: রচনা

রচনা: সর্বশিক্ষা অভিযান | sarva shiksha abhiyan in bengali language

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on March 25, 2020 at 6:22 pm

    সর্বশিক্ষা অভিযান ভূমিকা : রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন ‘অজ্ঞানের অন্ধকারে আড়ালে ঢাকিছ যারে তােমার মঙ্গল ঢাকি গড়িছে সে ঘাের ব্যবধান। কিন্তু সেই বাণী হেলায় আমাদের রাষ্ট্রনেতারা উপেক্ষা করেছিলেন। তারা হয়তাে ভেবেছিলেন এমনি করেই যায় যদি দিন যাক না। কিন্তু এখন তারা বুঝেছেন, দেরিতে হলেও অন্য সব দেশ জাগছে জ্ঞRead more

    সর্বশিক্ষা অভিযান

    ভূমিকা : রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন ‘অজ্ঞানের অন্ধকারে আড়ালে ঢাকিছ যারে
    তােমার মঙ্গল ঢাকি গড়িছে সে ঘাের ব্যবধান। কিন্তু সেই বাণী হেলায় আমাদের রাষ্ট্রনেতারা উপেক্ষা করেছিলেন। তারা হয়তাে ভেবেছিলেন এমনি করেই যায় যদি দিন যাক না। কিন্তু এখন তারা বুঝেছেন, দেরিতে হলেও অন্য সব দেশ জাগছে জ্ঞানের গৌরবে, ভারত শুধুই ঘুমায়ে রয়। তাই কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কুম্ভকর্ণের নিদ্রা ভেঙ্গেছে। যৌথ উদ্যোগে আমাদের রাজ্যে শুরু হয়েছে সর্বশিক্ষা অভিযান।

    বাস্তবতা : ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আব্দুল কালাম ‘ভিশন ২০১০ পরিকল্পনা ঘােষণা করেন। তাতে প্রকাশিত রিপাের্টে দেখা যায় পশ্চিমবঙ্গে সাক্ষরতার হার ৬৯.২২ শতাংশ, হিমাচল প্রদেশ ৭৭.১৩ শতাংশ এবং কেরলে ৯০.২২ শতাংশ। আসামে ৬৮.৫৮ শতাংশ। এই বাস্তব অবস্থানের প্রেক্ষিতে আমাদের দেশে সর্ব শিক্ষা অভিযানের গুরুত্ব অপরিসীম।
    সর্বশিক্ষা অভিযান কী ? সকলের জন্য শিক্ষা, তাই হলাে সর্বশিক্ষা। বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে এই শিক্ষার সমাধান করার নাম সর্বশিক্ষা অভিযান। স্বাস্থ্যের জন্য যেমন পালস পােলিওর অভিযান – পােলিও মুক্ত পৃথিবী গড়ার জন্য, তেমনি সকল শিশুর জন্য সর্বশিক্ষা অভিযান। আসলে সর্বশিক্ষা অভিযান সকলের শিক্ষার জন্য সবশ্রেণির মানুষকে একসঙ্গে করে পথ চলার একটা পদ্ধতি মাত্র। যারা সমাজে নিজেদের শিক্ষিত বলে পরিচয় দিয়ে থাকে, তাদের যে অশিক্ষিত মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা আছে, সেই দায়বদ্ধতা সুনিশ্চিত করতে এই সর্বশিক্ষা অভিযান।

    সর্বশিক্ষা অভিযানের কারণ : এই সর্বশিক্ষা অভিযানের অন্যতম কারণ শুধু সব শিশুকেই শিক্ষা দান নয়, মাঝপথে শিক্ষা বন্ধ করে দেওয়া শিশুদেরও শিক্ষার মূল স্রোতে অঙ্গীভূত করা। কারণ, আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ এখনও নিজেদের সম্পূর্ণরূপে জানে না, নিজেদের দুঃখ দুর্দশার কারণগুলি সম্পর্কেও আদৌ সচেতন নয়। সেজন্য পারস্পরিক লেনদেনের প্রয়ােজনে চাই যাতায়াতের পথ। সেটা যদি রাজপথ না হয় তাে অন্তত গলি রাস্তা হওয়া চাই। সর্বশিক্ষা অভিযান সে পল্লি গ্রামের মেটে পথ। দ্বিতীয়তঃ অনেক সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও বিশ্বাস আছে যে শিক্ষার জন্য ব্যয় করা বিলাসিতা মাত্র। তাই শিক্ষা এখনাে সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়েনি। অথচ ভারতীয় সংবিধানের ৪৫নং ধারায় বলা হয়েছে, ১৪ বছরের কম বয়স্ক শিশুরা অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা পাবে। তবুও আজও পর্যন্ত এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়নি। তৃতীয়তঃ জন্মসূত্রে পেশাগত কাজে যারা নিয়ােজিত তারা নিজেদের মতাে তাদের সন্তানদের নিজের মৌলিক কাজে নিয়ােজিত করতে গিয়ে মাঝপথে পড়া বন্ধ করে দেন, তাদের জন্য এই কর্মসূচির গুরুত্ব রয়েছে।

    সর্বশিক্ষা অভিযানের সমস্যা : সর্বশিক্ষা অভিযানের পথ কঠিন। গরিব পরিবারের ছেলে মেয়েরা শিশু শ্রমিক হিসাবে চায়ের দোকানে, হােটেলে, মিষ্টির দোকানে কাজ করে। তাদের পিতা-মাতাদের কাছে ছেলেমেয়েকে স্কুলে পড়ানাে সময়ের অপব্যয় মাত্র। এদের মধ্যে যারা স্কুলে যায়, তারাও পরে স্কুলছুট হয়ে যায়। এজন্য সর্বশিক্ষা প্রকল্প মার খাচ্ছে। ফলে সব শিশুকে স্কুলে পাঠানাের লক্ষ্যমাত্রা আজও ষােলাে আনা পূরণ হয়নি।

    গৃহীত কর্মসূচি : প্রথাগত শিক্ষার ব্যাপারে গরিব পরিবারের শিশুদের অনাহা কাটানাের জন্য চালু হয়েছে Midday Meal অর্থাৎ মধ্যাহ্ন ভােজন। বর্তমানে
    হালেবা সংস্থা সৰ্বশিক্ষার প্রচারে ও পসারে এগিয়ে এসেছে। জেলায় জেলায় ৪টি গঠন করে পরিকাঠামাে নির্মাণ করে শিক্ষকদেরও এই অভিযানে সামিল রা হয়েছে।

    উপসংহার : UNESCO এর মাধ্যমে “সকলের জন্য শিক্ষা” সমীক্ষার ফলাফল থেকে জানা যায়, ভারতে পঞ্চম শ্রেণিতে উঠার আগেই ৭৫ শতাংশ পড়ুয়া স্কুল ছেড়ে যায় ।জনসাধারণকে শিক্ষিত করার ব্যাপারে শিক্ষিত মানুষদের গা-ছাড়া মনােভাব কম দায়ী নয় । এব্যাপারে আমাদেরও এগিয়ে আসা উচিত কারণ শিক্ষা না পেলে মানুষের কার্যকরী শক্তি জেগে উঠতে পারে না। মানুষ সমাজের সেবায় লাগার উপযুক্ত হয়ে উঠে না।

    See less
      • 1
  • 1
  • 8,029
  • 0
Answer
In: রচনা

রচনা: মাতৃভাষার গুরুত্ব | importance of mother tongue in bengali

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on March 25, 2020 at 6:46 pm
    This answer was edited.

    মাতৃভাষার গুরুত্ব  বা শিক্ষার মাধ্যমরূপে মাতৃভাষা ভূমিকা : মাতৃভাষার মাধ্যমেই প্রথম বােধের উন্মেষ। মাতৃভাষার মধ্যদিয়ে শিশুর চেতনার বিকাশ ঘটে। শিশুর কাছে মাতার যেমন গুরুত্ব, শিক্ষার ক্ষেত্রে মাতৃভাষারও তেমনই গুরুত্ব। মাতৃভাষা ছাড়া শিক্ষা লাভ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এই মাতৃভাষাকে কেন্দ্র করেই তার জীবনRead more

    মাতৃভাষার গুরুত্ব  বা শিক্ষার মাধ্যমরূপে মাতৃভাষা

    ভূমিকা : মাতৃভাষার মাধ্যমেই প্রথম বােধের উন্মেষ। মাতৃভাষার মধ্যদিয়ে শিশুর চেতনার বিকাশ ঘটে। শিশুর কাছে মাতার যেমন গুরুত্ব, শিক্ষার ক্ষেত্রে মাতৃভাষারও তেমনই গুরুত্ব। মাতৃভাষা ছাড়া শিক্ষা লাভ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এই মাতৃভাষাকে কেন্দ্র করেই তার জীবন নানাভাবে বিকাশ লাভ করে।

    সার্বিক বিকাশে মাতৃভাষা : মাতৃভূমির মতাে মাতৃভাষাও মানুষের নিকট একান্ত প্রিয়। মাতৃভাষাকে আশ্রয় করেই মানুষের সার্বিক বিকাশ সম্ভব। মাতৃভাষাতেই মানুষের পরম তৃপ্তি। কারণ, এই ভাষায় কথা বলে মনের ভাব প্রকাশ করে মানুষ যত আনন্দ পায় অন্যভাষায় কথা বলে তা পায় না। মাতৃভাষা শুধু প্রাত্যহিক জীবনের অবলম্বন নয় – এর মাধ্যমে সাহিত্য, কৃষ্টি-সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান সাধনার বিকাশ ঘটে।

    বিদেশি ভাষার অসুবিধা : শিক্ষার মাধ্যমরূপে বিদেশি ভাষাকে অবলম্বন করার পক্ষে কোন যুক্তি নেই। তার কতকগুলি কারণ আছে। প্রথমতঃ বিদেশি ভাষাকে আয়ত্ত করতে যে কোন মানুষের অনেক বেশি সময় লাগে। দ্বিতীয়তঃ বিদেশি ভাষার মাধ্যমে শিক্ষা যতই করায়ত্ত হােক না কেন তার মাধ্যমে মাতৃভাষার মতাে মনের ভাব সঠিকভাবে প্রকাশ করা যায় না।

    শিক্ষার লক্ষ্য : শিক্ষা ও জীবনের সামঞ্জস্য বিধানের জন্য মনুষ্যত্বের বিকাশ সাধনের জন্য মাধ্যম হওয়া উচিত মাতৃভাষা। একমাত্র মাতৃভাষাই পারে প্রাণের ভাবের সম্মিলন ঘটাতে। শুধ কাজ নয়, ভাব প্রকাশই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।মাতৃভাষাই মানুষের মুক্তির যথার্থ উপায়। মাতভাষায় শিক্ষাগ্রহণে আপামর জনসাধারণের পক্ষে সহজ। গভীর আনন্দে মানষ শিক্ষা গ্রহণ করে। শিক্ষা তার পক্ষে ভার হয়ে দাড়ায় না। মাতৃভাষা শিক্ষা নেওয়ার পরে মানুষ নিজের ইচ্ছেমতাে যে কোন ভাষায় শিক্ষা নিতে পারে।

    বাংলা ভাষায় জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চার সূচনা : জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্র হিসাবে বাংলা ভাষার ক্ষেত্রটি আজও দুর্বল। ঊনবিংশ শতাব্দীর গােড়ার দিকে হডরােপায় মিশনারিদের চেষ্টায় এদেশে সর্বপ্রথম বাংলাভাষার মাধ্যমে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার সত্রপাত ঘটে। রাজা রামমােহন রায় সর্বপ্রথম এই ব্যাপারে এগিয়ে এসেছিলেন। পরবর্তীকালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, অক্ষয়কুমার দত্ত, রাজেন্দ্রলাল মিত্র, ভূদেব মুখােপাধ্যায়, কৃষ্ণমােহন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ মনীষীদের প্রচেষ্টায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব লাভ করে।
    পরাধীন ভারতে রাষ্ট্রভাষা : পরাধীন ভারতবর্ষে ইংরেজিই ছিল রাষ্ট্রভাষা। তখন শিক্ষার মাধ্যমরূপে একমাত্র ইংরেজি ভাষাই ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল। ইংরেজি সভ্যতা ও সাহিত্যের অনেক গুণগত উৎকর্ষ আছে সেটি আমাদের স্বীকার করে নিতেই হবে। কিন্তু তবুও মাতৃভাষার স্থান সকলের চেয়ে আলাদা। ইংরেজি শিক্ষার মােহে সেই সময় শিক্ষিত যুবকবৃন্দ একস্রোতে ভেসে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে যখন সেই মােহ কাটল, তখন তাদের মধ্যে অনেকেই সত্য পথের সন্ধান পেয়েছিলেন। মাইকেল মধুসুদন দত্ত ইংরেজি ভাষায় মহাকবি হওয়ার স্বপ্ন ত্যাগ করে বাংলা ভাষায় সাহিত্য রচনা করেছিলেন। বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ও ইংরেজি ছেড়ে মাতৃভাষার মাধ্যমে সাহিত্যরচনা করতে আরম্ভ করেন।

    বাংলা ভাষার ধারণ ক্ষমতা : ভারতবর্ষের স্বাধীনতা লাভের পর অনেক বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ইংরেজি ও হিন্দি ভাষার ব্যাপক প্রচলন দেখা যায়। অনেকে হয়তাে যুক্তি দেখাবেন যে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষার পথই একমাত্র পথ কারণ কিছু বিষয় | যেমন অর্থনীতি, ভূতত্ত্ববিদ্যা, বিজ্ঞান বিষয় সমূহকে মাতৃভাষার মাধ্যমে যথার্থ শিক্ষাদান সম্ভব হয় না। একথা হয়তাে আংশিক সত্য। কিন্তু তবুও অনুপযুক্ত বলে চিরকালই তা অনুপযুক্তই থাকবে এমন কোন কথা নেই।

    উপসংহার : মাতৃভাষা যে শিক্ষার সর্বস্তরে মাধ্যম হিসাবে কার্যত গৃহিত হতে পারছে না এর মূলে পণ্ডিত অধ্যাপকদের মানসিক জাড্য এবং ইংরেজি ভাষার প্রতি মােহ। বাংলায় যে সর্বোচ্চ স্তরের জ্ঞান-বিজ্ঞানের গ্রন্থাদি রচিত হয়নি তার দায় পণ্ডিত সমাজ অস্বীকার করতে পারবে না। জাপান-রাশিয়া-জার্মানি সূচনা থেকেই মাতৃভাষাকে সর্বোচ্চ স্তরের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নিয়ােগ করেছেন। বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ ভাষা বাংলা সে বিষয়ে অক্ষম একথা স্বীকার করা যায় না। শুধু প্রতিষ্ঠানিক বিদ্যা চর্চার ক্ষেত্রে বাংলা তথা অন্যান্য মাতৃভাষাকে অবজ্ঞা করে রাখা লজ্জাকর। শিক্ষাকে সার্বজনীন ও উচ্চমানের করতে হলে মাতৃভাষার প্রতি এই মনােভাব অবশ্য বর্জন করতে হবে।

    See less
      • 0
  • 1
  • 30,178
  • 0
Answer
In: রচনা

রচনা: ভূমিকম্প | earthquake essay in bengali language

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on March 25, 2020 at 2:56 am

    ভূমিকম্প ভূমিকা : ধীর, শান্ত মানুষ যেমনি একেক সময় প্রচণ্ড ক্ষোভে ফেটে পড়তে চায়, ঠিক সেভাবে প্রকতিও যেন একেকবার একেক রূপে প্রকাশ কে রুদ্রমূর্তি। খরা, বন্যা, অগ্ন্যুৎপাত, জলোচ্ছাসের মতাে ভূমিকম্প প্রকৃতির একটি ভয়ঙ্কর দুর্যোগ। ভূমিকম্পের কারণ : পথিবীর অভ্যন্তরে তাপ, চাপ, গ্রাস প্রভৃতির ভারসাম্য নষ্Read more

    ভূমিকম্প

    ভূমিকা : ধীর, শান্ত মানুষ যেমনি একেক সময় প্রচণ্ড ক্ষোভে ফেটে পড়তে চায়, ঠিক সেভাবে প্রকতিও যেন একেকবার একেক রূপে প্রকাশ কে রুদ্রমূর্তি। খরা, বন্যা, অগ্ন্যুৎপাত, জলোচ্ছাসের মতাে ভূমিকম্প প্রকৃতির একটি ভয়ঙ্কর দুর্যোগ।

    ভূমিকম্পের কারণ : পথিবীর অভ্যন্তরে তাপ, চাপ, গ্রাস প্রভৃতির ভারসাম্য নষ্ট হলেই প্রচণ্ড আলােড়নের সৃষ্টি হয়। আর তারই ফলে ভীষণভাবে প্রকম্পিতা হন বসুন্ধরা। প্রকৃতির রােষতপ্ত এই প্রলয় নাচনে তখন চোখের পলকে নির্মমভাবে শেষ হয়ে যায় সভ্য মানুষের সাজানাে বাগান – অকাতরে নষ্ট হয় শতশত প্রাণ ও সম্পত্তি । হাহাকারে ভরে যায় আকাশ-বাতাস। আর বিজ্ঞানের দানে অন্ধ ভােগবদিী মানুষ তখন শুধুই নির্বাক দর্শক, নিরূপায় শিকার। পৃথিবীতে বার বার ঘটে গেছে এমনকী প্রয়লংকার ভূমিকম্পের তাণ্ডব।

    অতীতে ভূমিকম্প : বর্তমানের ন্যায় অতীতেও পৃথিবীতে বহু ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে গেছে। ইতিহাসের তত্ত্বমতে খ্রিষ্টপূর্ব ১৯০০ অব্দে ভূমিকম্পের ফলে ক্রীট দ্বীপের সভ্যতাই নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। ১৭০৩ সালে জাপানের টোকিও শহরে, ১৭৩৭ সালে কলকাতায়, ভূমিকম্প ছিল মারাত্মক। ১৯৫০ সালে আসামের ভূমিকম্প ব্রহ্মপুত্র নদের গতি পথটাই পালটে দিয়েছিল। ২০০১ সালের ২৬ জানুয়ারি গুজরাটের ভূমিকম্প ছিল ভারতের ভয়ঙ্করতম ভূমিকম্পগুলির মধ্যে দ্বিতীয়। এই ভূমিকম্পে তাসের ঘরের মতাে ভেঙে পড়েছিল সাজানাে সভ্যতার ইমারতগুলি। এই ভয়াবহ ভূমিকম্পে মারা গিয়েছিল প্রায় ৫০,০০০ মানুষ।

    সাম্প্রতিককালে ভূমিকম্প : ২০০৫ সালের ৮ অক্টোবর বাংলায় যখন শারদীয়া উৎসবের ঢাকে কাঠি পড়ে গেছে তখনই ভারতীয় সময় সকাল ৯-২০ মিনিটে। কেঁপে উঠে সমগ্র কাশ্মীর, পাকিস্থান, আফগানিস্থান এবং উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। রিখটার স্কেলে এই কম্পণের সর্বোচ্চ তীব্রতা ছিল ৭.৫। এই ভূমিকম্পের উৎস ছিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের উত্তর পশ্চিমে শিপাল মসজিদ এলাকায়। এই ভূমিকম্পে প্রায় ৫০,০০০ মানুষ নিহত হয়। আহত ও নিখোঁজ হয় আরও বহু মানুষ। ২৫ এপ্রিল ২০১৫ইং তারিখে ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপালের ভূমিকম্প পূর্বে বর্ণিত ভূমিকম্পগুলি থেকে কম মারাত্মক ছিল না। এ ভূমিকম্পে ১০,০০০ এরও অধিক লােক নিহত হয়। সাম্প্রতিককালে ২০১৬ইং ৩রা জানুয়ারি ভারতের হম্মল, আসাম ও এদের আশপাশ অঞ্চলে ভূমিকম্প তেমন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও সাবধানবাণী জানান দিয়ে গেল।
    ত্রাণকার্য : ভূকম্পনের প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠে দেশ জুড়ে শুরু হয় ত্রাণের তৎপরতা। মানুষ সামাজিক জীব তাই মানুষ দুর্গত মানুষকে সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়ে দেয়। বিভিন্ন সংঘটনও উদ্ধার কার্যে ঝাপিয়ে পড়ে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দুর্গতদের পাশে দাঁড়ায় ত্রাণ সামগ্রী খাদ্য, ঔষধ ইত্যাদি নিয়ে । ভারত শুধু নিজের দেশেই নয়, প্রতিবেশী পাকিস্তান, নেপাল, চীন প্রবৃত্তি দেশের জন্য ত্রাণ সামগ্রী পাঠায়। ভারতীয় সেনাবাহিনী বিপুল উদ্যমে ত্রাণ ও উদ্ধারে ঝাপিয়ে পড়ে।
    ক্ষয়ক্ষতি ও প্রতিরােধের ভাবনা : ভূমিকম্প এক বিরাট সাত বিপর্যয়। মানুষের নিশ্চিন্ত জীবনে আচমকা ঝাপিয়ে পড়ে এই বিপদ। ‘ ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির হার মারাত্মক রকমের। মানুষের কত সাধনায় সাজানাে সে চুরমার হয়ে যায় এক লহমায়। অসংখ্য মানুষ, পশু-পাখির প্রাণ ঝরে যায় পাতার মতাে। কিন্তু প্রকৃতির এই করাল অভিশাপের খবর আগাম পেতে যে ব্যবহার হয়, তা পৃথিবীর মুষ্টিমেয় কয়েকটি ধনী দেশেরই করায়ত্ত। আমাদের কে এই যন্ত্র বসানাে হয়েছে – এটা সুখের বিষয়। আশা করা যায় এর সাহায্যে ভাবান ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের বিপর্যয় এড়াতে পারবে।

    উপসংহার : একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয় মানুষের বিজ্ঞান-বুদ্ধির বড়াইকে বুড়াে আঙ্গুল দেখিয়ে চরম বিদ্রুপ করেছে। মানুষ ভুমিকম্পের আগাম বার্তা পেতে শিখেছে, কম্পনের তীব্রতাকে মাপজোখ করতে শিখেছে। কিন্তু তার হাত থেকে। নিজেকে বাঁচানাের ব্যবস্থা করতে আজও শেখেনি। হয়তাে শেখা সম্ভবও নয়। কেননা, প্রকৃতির বিশালতা ও প্রচণ্ডতার কাছে মানুষের দুর্দশা বুঝি কোনমতেই ঘােচাবার নয়।

    See less
      • 0
  • 1
  • 10,969
  • 0
Answer
In: রচনা

রচনা: স্বামী বিবেকানন্দ | swami vivekananda prabandha rachana in bengali

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on March 23, 2020 at 1:06 am

    স্বামী বিবেকানন্দ ভূমিকা “বীর সন্ন্যাসী বিবেক বাণী ছুটেছে জগৎময়, বাঙ্গালীর ছেলে ব্যাঘ্রে-বৃষভে ঘটাবে সমন্বয়।” কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত আমাদের গৌরবের কথা বলতে গিয়ে এই কথাগুলি লিখেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ সম্পর্কে। ভারতবর্ষের আধ্যাত্মিক সত্যকে বিবেকানন্দ যে ভাবে জগৎ সভায় উপস্থাপিত করেছিলেন, তার সত্যিRead more

    স্বামী বিবেকানন্দ

    ভূমিকা “বীর সন্ন্যাসী বিবেক বাণী ছুটেছে জগৎময়,

    বাঙ্গালীর ছেলে ব্যাঘ্রে-বৃষভে ঘটাবে সমন্বয়।”

    কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত আমাদের গৌরবের কথা বলতে গিয়ে এই কথাগুলি লিখেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ সম্পর্কে। ভারতবর্ষের আধ্যাত্মিক সত্যকে বিবেকানন্দ যে ভাবে জগৎ সভায় উপস্থাপিত করেছিলেন, তার সত্যিই তুলনা হয় না। ভারতবর্ষকে তিনি বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

    জন্ম ও পরিচয় : ১৮৬৩ খ্রিষ্টাব্দের ১২ই জানুয়ারি কলকাতার বিখ্যাত দত্ত পরিবারে বিবেকানন্দের জন্ম হয়। শৈশবে তার নাম ছিল “বীরেশ্বর’ বা ‘বিলে’। তার পিতা বিশ্বনাথ দত্ত সে যুগের একজন বিখ্যাত এটর্নি ছিলেন। মাতা ভুবনেশ্বরীও ছিলেন তেজস্বী মহিলা। প্রথমে গৃহশিক্ষকের কাছে, পরে মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশনে, এবং তারপর প্রেসিডেন্সি কলেজে তিনি পড়েন। ১৮৮৩ সালে তিনি বি. এ. পাশ করে আইন পড়তে আরম্ভ করেন বটে, কিন্তু হঠাৎ পিতার মৃত্যু হওয়ায় পড়াশুনা ছাড়তে তিনি বাধ্য হন। ছেলেবেলা থেকেই তিনি ঈশ্বরমুখী ছিলেন। সংকীর্ণ জাত-পাত তিনি মানতেন না।

    রামকৃষ্ণদেবের সান্নিধ্য :- বি. এ. পড়বার সময় তিনি পরমপুরুষ রামকৃষ্ণদেবের সংস্পর্শে আসেন। আর এই সংস্পর্শে আসার প্রথম দিনটি থেকেই তিনি রামকৃষ্ণ দেবের প্রতি এক গভীর আকর্ষণ অনুভব করেন। তাঁর বিশেষ আধ্যাত্মিক ক্ষমতা এই তরুণ যুবকটিকে দান করে তাকে দীক্ষিত করেন নতুন নতুন মন্ত্রে। রামকৃষ্ণদেব ছিলেন নবযুগের আচার্য। সকল ধর্ম ও মতের প্রতি তিনি ছিলেন শ্রদ্ধাশীল এবং তিনি তার। সাধনা ও জীবন চর্চার ভিতর দিয়ে আবিষ্কার করেছিলেন যে “যত মত তত পথ’।তাছাড়া জীব সেবার মধ্য দিয়েই যে ঈশ্বর সেবা হয়, এতে তিনি ছিলেন গভীর বিশ্বাসী।

    ভারত পরিক্রমা : ১৮৮৬ খৃষ্টাব্দে রামকৃষ্ণদেবের মৃত্যুর পর বিবেকানন্দ পরিব্রাজক হয়ে তিন বছর ধরে সারা ভারত পরিক্রমা করেন। ১৮৯৩ খৃষ্টাব্দে আমেরিকার শিকাগাে শহরে ধর্মমহাসভায় বক্তৃতা দেওয়ার জন্য হিন্দু ধর্মের একমাত্র প্রতিনিধি হিসাবে তিনি ভারত থেকে রওয়ানা হলেন। এই মহাসভায় হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে বক্তৃতা দিয়ে তিনি অসাধারণ খ্যাতি অর্জন করেন। ইংল্যাণ্ড ও আমেরিকার বহু নর-নারী তার ধর্ম মতে আকৃষ্ট হয়ে তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ভগিনী নিবেদিতা একজন।

    মিশন ও আদর্শ :- বিজয়ীর সম্মান নিয়ে দেশে ফিরে এসে ১৮৯৭ খৃষ্টাব্দে ‘রামকৃষ্ণ মিশন’ এবং ১৮৯৯ খৃষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠা করলেন ‘বেলুড় মঠ’। মানব সেবা, বেদান্ত দর্শন এবং রামকৃষ্ণের শিক্ষাপ্রচারই ছিল মিশন প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য। দয়া নয়, দরিদ্র ও অবহেলিত মানুষদের সেবার মধ্যদিয়ে তিনি ঈশ্বর প্রাপ্তির পথ দেখিয়েছিলেন। তার মতে ঈশ্বর আছেন আমাদের সামনে ‘বহুরূপে’ দরিদ্র ও অবহেলিত মানুষদের মধ্যে। এদের সেবা করলেই ঈশ্বরকেই লাভ করা যাবে।

    ‘বহুরূপে সম্মুখে তােমার, ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর; |

    জীবে প্রেম করে যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।

    ভারত প্রীতি :- তিনি নিজদেশকে সকলের উপরে স্থান দিতেন। প্রতিটি ভারত বাসীকে তিনি জাতি ধর্ম নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হতে আহ্বান জানিয়েছেন। দেশকে গড়ে তুলার জন্য তিনি স্বপ্ন দেখতেন, সেই দেশ গড়ার স্বপ্নকে তিনি চেয়েছেন বাস্তবে রূপায়ণ করতে। তার লক্ষ্যছিল সকলের কল্যাণের জন্য এক বৃহৎ অখণ্ড ভারতবর্ষ গড়ে তােলা। তিনিই এদেশ সম্পর্কে পাশ্চাত্যবাসীর ভ্রান্তধারণা দূর করেছিলেন। স্বামীজী দেখতে চেয়েছিলেন এক শক্তিশালী ভারতবর্ষকে।

    মানবতাবাদী বৈদান্তিকঃ স্বামী বিবেকানন্দ বৈদান্তিক সন্ন্যাসী হলেও আধুনিক মানবতাবাদের দৃষ্টিকোণ থেকে হিন্দুধর্মের এই শ্রেষ্ঠ গ্রন্থটিকে গ্রহণ করেছিলেন। বেদান্তের এই নবভাস্যকার বলেন – ‘জগতে জ্ঞানালোেক বিস্তার কর; আলােক-অলােক লইয়া আইস। প্রত্যেকে যেন জ্ঞানের আলাে পায়, যতদিন না সকলেই ভগবান লাভ করে, ততদিন যেন তােমাদের কাজ শেষ না হয়। জগজ্জননীর কাছে তিনি মনুষ্যত্ব প্রার্থনা। করে বলেছেন, “হে জগদম্বে আমায় মনুষ্যত্ব দাও, আমার দুর্বলতা কাপুরুষতা দুর কর, অমিয় মানুষ কর।’

    সাহিত্য কৃতি : শুধু কর্মের জগতেই নয়, চিন্তা ও মননশীলতার ক্ষেত্রে স্বামী বিবেকান্দ মানবতার বাণী প্রচার করেন গেছেন। তাঁর রচিত প্রধান গ্রন্থগুলি— ‘পরিব্রাজক’, ‘প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য, বর্তমান ভারত’ প্রভৃতি উল্লেখযােগ্য। বাংলাভাষায় তাঁর পত্রগুচ্ছে কিছু বিজ্ঞানভিত্তিক আলােচনাও করেছেন। বাংলা চলিত গদ্যরীতির তিনি অন্যতম পথিকৃৎ, কথ্য শব্দ প্রয়োগেও দুঃসাহসী পথ প্রদর্শক। তিনি স্বপ্ন দেখতেন সমৃদ্ধ ভারতবর্ষের, শিক্ষিত ভারতবর্ষের, সংস্কারহীন ভারতবর্ষের। ভারতবর্ষই ছিল তার শৈশবের শিশুশয্যা, যৌবনের উপবন আর বাধকের বারাণসী। তিনি বুকে হাত রেখে বলতে শিখিয়েছেন, “ভারতবর্ষের প্রতিটি মানুষ আমার ভাই, আমার রক্ত। ভারতের কল্যাণ আমার কল্যাণ, ভারতের দীনতা আমার অপমান।”

    উপসংহার : অত্যাধিক পরিশ্রম আর নিরলস কর্মসাধনায় এই কর্মী সন্ন্যাসীর শরীর ভেঙ্গে পড়ে। অবশেষে ১৯০২ সালের ৪ জুলাই মাত্র ৩৯ বৎসর। বয়সে এই বীর সন্ন্যাসী বেলুড় মঠে চিরনিদ্রায় অভিভূত হন। স্বামীজীর জন্ম দিবস সারা ভারতবর্ষে ‘জাতীয় যুব দিবস’ হিসাবে পালিত হয়। কিন্তু স্বামীজীর সেই ত্যাগ, সেই জীব প্রেম, সেই উদ্যম বর্তমান ভারতবর্ষে কোথায় ? অন্ধকার থেকে আলাের দিকে, মৃত্যু থেকে অমৃতের দিকে,অসৎ থেকে সৎ এর পথে আমাদের যাত্রা শুরু করেছিলেন যে মহামানব, সেই বিবেকানন্দই ভারতবর্ষের প্রকৃত বাতিঘর।

    See less
      • 1
  • 1
  • 17,815
  • 0
Answer
In: রচনা

রচনা: শীতকাল | winter season in bengali

  1. Stinelas Niloy
    Stinelas Niloy
    Added an answer on October 6, 2021 at 1:36 pm
    This answer was edited.

    See less
      • 0
  • 1
  • 4,462
  • 2
Answer
In: শিক্ষা

রচনা: বর্ষাকাল | rainy season paragraph in bengali

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on March 26, 2020 at 5:01 am

    বর্ষাকাল ভূমিকা: বাংলার প্রকৃতিতে রূপের পসরা সাজিয়ে ঋতুর পরে ঋতু আসে। কখনো শীতের হিম হিম পরশ আর কুয়াশার চাদরে ঢাকা থেকে চারদিক। কখনো চৈতালি-বৈশাখি রোদ, আর ঝিঁ ঝিঁ পোকার গুঞ্জনে মুখরিত হয় সারাবেলা। কখনো আবার কাশফুলের শুভ্রতার সাথে একাকার হয়ে মিশে থাকে শরতের সাদা মেঘ। আবার কখনো ঝিরিঝিরি বৃষ্টির নাচন নRead more

    বর্ষাকাল

    ভূমিকা: বাংলার প্রকৃতিতে রূপের পসরা সাজিয়ে ঋতুর পরে ঋতু আসে। কখনো শীতের হিম হিম পরশ আর কুয়াশার চাদরে ঢাকা থেকে চারদিক। কখনো চৈতালি-বৈশাখি রোদ, আর ঝিঁ ঝিঁ পোকার গুঞ্জনে মুখরিত হয় সারাবেলা। কখনো আবার কাশফুলের শুভ্রতার সাথে একাকার হয়ে মিশে থাকে শরতের সাদা মেঘ। আবার কখনো ঝিরিঝিরি বৃষ্টির নাচন নাচাতে নাচাতে আসে বর্ষা। বর্ষায় বাংলার প্রকৃতি পায় নতুন মাত্রা। জরাজীর্ণ গ্রীষ্মক্লান্ত এ দেশের প্রকৃতিকে বর্ষা তার আপন প্রেমপেয়ালার পবিত্র জলে স্নান করিয়ে সিক্ত করে তোলে। জলরঙে রাঙিয়ে দেয় ধরণী।

    বর্ষাকাল পরিচিতি: বর্ষাকাল বাংলাদেশের ঋতুচক্রের দ্বিতীয় ঋতু। বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য মাসের শেষে শুকনো ধরণীকে সিক্ত করে বাংলার বুকে বর্ষার শুভ আগমন ঘটে। তখন আর গ্রীষ্মের কাঠফাটা দাবদাহ থাকে না। বাংলা আষাঢ় ও শ্রাবণ দুই মাস নিয়ে বর্ষাকাল, যার পুরোটা সময় জুড়েই থাকে ঝর ঝর বৃষ্টিধারার কানজুড়ানো ধ্বনি, আর কদম ফুলের অপরূপ সৌন্দর্য।

    বর্ষার কারণ: ঝিরিঝিরি বৃষ্টির ফোঁটা আমাদের কানে বর্ষার আগমন বার্তা জানান দিয়ে যায়। এ বৃষ্টির রয়েছে ভৌগোলিক কারণ। গ্রীষ্মকালে মৌসুমি বায়ু ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং উত্তর-পূর্বে বয়ে যায় প্রচুর পরিমাণে জলীয়বাষ্প বুকে ধরে। হিমালয়ের গায়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে তা বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।

    বাংলায় বর্ষার আগমন: বর্ষার আগমন বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য প্রতীক্ষার সমাপন। গ্রীষ্মের রোদে যখন প্রকৃতি শুষ্কপ্রায়, মৃতপ্রায়; একফোঁটা বৃষ্টির জন্য যখন মানুষ ‘আল্লাহ মেঘ দে, পানি দে’ বলে গান গেয়ে ওঠে; খরতাপে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত কুকুরটির যখন তৃষ্ণায় জিভ ঝুলে যায়, এক পশলা বৃষ্টি তখন নতুন মাত্রার ছন্দ নিয়ে অবসান ঘটায় সব প্রতীক্ষার। পরিপূর্ণতা দেয় সকল প্রত্যাশার আর শীতল করে দেয় সব তৃষ্ণার্ত হৃদয়ের উত্তাপকে। অদ্ভূত সুন্দর শিহরণে শিহরিত হয় প্রকৃতি। টিনের চালের ঝুম বৃষ্টির নৃত্যে মুখরিত হয় গ্রামবাংলা। সাথে নেচে ওঠে বর্ষা-প্রেমিক মানুষগুলোর মন।

    বর্ষার প্রকৃতি: বর্ষার বৃষ্টিভেজা বাতাস শিহরিয়ে দিয়ে যায় প্রকৃতিকে। গ্রীষ্মের তাপে জরাজীর্ণ উদ্ভিদ বর্ষার নবীন মেঘের আহ্বানে নাচতে থাকে হেলেদুলে। বহুদিনের প্রতীক্ষিত বারিধারায় রোমাঞ্চিত হয় নগর-পল্লীর বৃক্ষরাজি।

    বর্ষায় পল্লীর রূপ-বৈচিত্র্য: বর্ষায় শহরে ও গ্রামে আলাদা আলাদা চিত্র ফুটে ওঠে। পল্লীর প্রকৃতি বর্ষার অপার সৌন্দর্যে শোভামন্ডিত। পুকুর, খাল, বিল বৃষ্টির পানিতে টইটুম্বুর থাকে। বৃক্ষরাজির ওপর বৃষ্টির ফোঁটা পড়ে কী যে অনাবিল শোভার সৃষ্টি করে তা সত্যিই হৃদয় পাগল করা। মাতাল হাওয়া যখন বাঁশবনে তার পরশ বুলিয়ে যায়, তখন বিরহিনীর আকুল হৃদয় প্রিয়জনকে কাছে পাওয়ার প্রত্যাশায় ব্যাকুল হয়ে ওঠে। পল্লী কবি জসীম উদ্দীনের কবিতা ‘পল্লীবর্ষা’য় এই রূপে ফুটে উঠেছে নিবিড় যত্নের সাথে। তিনি বলেছেন- ‘বেনুবনে বায়ু নাড়ে এলোকেশ, মন যেন চায় কারে।’

    বর্ষায় পল্লীর জনজীবন: বর্ষাকাল গ্রামীণ মানুষদেরকে অনেক বেশি ঘরমুখো করে দেয়। পাড়ার পুরুষ মানুষরা চায়ের দোকানে বসে পুরনো দিনের গল্প আড্ডায় মেতে ওঠে। রমনীরা ঘরে বসে নকসী কাঁথায় ফুল তোলে। অনেকটা আলস্যে কেটে যায় দিন।

    শহর জীবনে বর্ষা: শহরের গৎবাঁধা যান্ত্রিক জীবনে বর্ষা কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলে। বর্ষার বৃষ্টি শহরের আকাশে বাতাসে উড়ে চলা ধূলোবালিকে অনেকটাই বশ করে ফেলে। এই একটা ঋতুতেই কেবল শহরের ব্যস্ত মানুষগুলো একটু নির্মল হাওয়ায় নিঃশ্বাস ফেলতে পারে। তবে বর্ষায় শহরের রাস্তাঘাট অল্প বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় যা মানুষের চলার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

    বর্ষায় বাংলার নদ-নদী: বর্ষাকালে বাংলার নদ-নদী পূর্ণযৌবনা হয়ে ওঠে। কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে এ সময় নদী তার আসল সৌন্দর্য খুঁজে পায়। নদীর পাড়ের সবুজ ঘাস আরো সবুজ হয়ে ওঠে। যতদূর চোখ যায় শুধু পানি, তারপর লম্বা একটি গ্রামের রেখা, তার উপরে শুধু মেঘ আর মেঘ।

    বর্ষার ফুলফল: সৌন্দর্যের রেনু খুলে বর্ষায় ফোঁটে কদম ফুল, যা বর্ষার রূপকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। পল্লীকবি জসীম উদ্দীন-এর ভাষায়- ‘কাহার ঝিয়ারি কদম্ব-শাখে নিঝুম নিরালায়, ছোট ছোট রেণু খুলিয়া দিয়াছে, অস্ফুট কলিকায়।’ এ সময় বিলে ঝিলে ফোটে শাপলা-শালুক। হিজল আর কেয়াফুলের অরূপ দৃশ্য বর্ষাকে দেয় নতুন মাত্রা। বর্ষার ফলের মধ্যে অন্যতম ফল আনারস, আমড়া, পেয়ারা প্রভৃতি।

    কাব্যে ছন্দে বর্ষার প্রকৃতি: বর্ষার প্রকৃতি হৃদয় কাড়তে জানে। এর রূপের আকর্ষণ উতলা করে মানবমন। প্রাণোচ্ছল কিশোরীকে টেনে আনে ঘরের বাইরে। তখন তার বৃষ্টিভেজা নূপুরের নিক্কন আরো মধুর সুরে বাজতে থাকে। তা শুনে কবি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না, বন্ধ করে রাখতে পারেন না আর কবিতার খাতা। শিল্পীর সুর আর বাঁধ মানে না। ঝুম বৃষ্টির সাথে তার কণ্ঠ মিলেমিশে একাকার হয়ে দূর দিগন্তে মিলিয়ে যায়। বাংলার সাহিত্য, সংগীত এভাবেই সিক্ত হয়ে আছে বর্ষার বৃষ্টিতে।

    বর্ষার আশির্বাদ: বর্ষাকাল বাংলাদেশের জন্য বয়ে নিয়ে আসে অপার সম্ভাবনার বার্তা। নদীর ফেঁপে ওঠা জোয়ারের পানি প্রচুর পলি জমায় বাংলার মাটিতে, যা নিয়ে আসে শস্য-প্রাচুর্যের বার্তা। বর্ষার পানিতে সতেজ হয়ে ওঠে ফসলের মাঠ আর হাসি ফোটে কৃষকের মুখে।

    বাংলা সংস্কৃতিতে বর্ষার প্রভাব: বাংলার সংস্কৃতিতে একাকার হয়ে মিশে আছে বর্ষা ঋতুর ভেজা সৌন্দর্য। বর্ষাকে নিয়ে বাংলায় যতো গান রচিত হয়েছে, অন্য কোনো ঋতু নিয়ে তা হয়নি। রবীন্দ্র সাহিত্যের একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে বর্ষা ঋতুর বন্দনা, বর্ষার সৌন্দর্য বন্দনা। রবীন্দ্রনাথের ‘পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে’ কিংবা ‘আজি ঝরো ঝরো মুখর ভাদর দিনে’ প্রভৃতি গান আজও বৃষ্টির দিনে আমাদের ভাবনার জগতে টেনে নেয়। পল্লী কবি জসীম উদ্দীন পল্লীর আরশিতে বর্ষাকে যেভাবে প্রতিফলিত করেছেন তা সত্যিই অতুলনীয়।

    বর্ষার অপকারী দিক: বর্ষাকাল সব সময়ই বাঙালির মুখে হাসি ফোটায় তা নয়। খরস্রোতা নদী মাঝে মাঝে লাগামছাড়া হয়ে বান ডাকে, ভাসিয়ে নেয় উপকূলের অনেক মানুষের বসতবাড়ি। অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন-জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো, ঘুর্ণিঝড় ইত্যাদি বর্ষাকালেই বেশি আঘাত হানে। অতিবৃষ্টির ফলে অনেক সময় ফসল নষ্ট হতে পারে, আবার কখনো তা মানব জীবনে স্থবিরতা এনে দেয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর অনেক মহামারী ছড়িয়ে জনজীবনকে বিষিয়ে তোলে।

    উপসংহার: বর্ষার রূপ, রং, ভেজা গন্ধ-সব কিছুই আপন মহিমা আর সৌন্দর্যে ভাস্বর। বাংলার বর্ষাকাল কিছু কিছু ক্ষেত্রে জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেললেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা ইতিবাচক। বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চাবিকাঠি কৃষি অনেকাংশেই বর্ষার কাছে ঋণী। বাংলাদেশের অন্য কোনো ঋতুকেই আমরা এতটা গভীরভাবে দেহ, মন ও অনুভূতির সাথে মিলিয়ে নিতে পারি না। তাই বর্ষা অনেকের কাছেই প্রিয় ঋতু হিসেবে বিবেচিত।

    See less
      • 2
  • 2
  • 26,556
  • 0
Answer
In: রচনা

রচনা: গ্রীষ্মকাল | Summer season Essay in Bengali

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on July 30, 2020 at 2:03 am
    This answer was edited.

    গ্রীষ্মকাল সূচনা: বছরের সবচেয়ে উষ্ণতম কাল হল গ্রীষ্মকাল। আমাদের দেশে গ্রীষ্মকাল বলতে বৈশাখ ও জৈষ্ঠ মাস কে বুঝায়। এই সময় সূর্যের তাপমাত্রা এতই প্রখর হয় যে দিনের বেলা চলাচল দুষ্কর হয়ে ওঠে। চারিদিকে বিরাজ করে গরম আবহাওয়া এবং অস্বস্তিকর পরিবেশ। গ্রীষ্মের বৈশিষ্ট্য বা রূপ:গ্রীষ্মকালে বাতাস হয় শুষ্Read more

    গ্রীষ্মকাল

    সূচনা:

    বছরের সবচেয়ে উষ্ণতম কাল হল গ্রীষ্মকাল। আমাদের দেশে গ্রীষ্মকাল বলতে বৈশাখ ও জৈষ্ঠ মাস কে বুঝায়। এই সময় সূর্যের তাপমাত্রা এতই প্রখর হয় যে দিনের বেলা চলাচল দুষ্কর হয়ে ওঠে। চারিদিকে বিরাজ করে গরম আবহাওয়া এবং অস্বস্তিকর পরিবেশ।

    গ্রীষ্মের বৈশিষ্ট্য বা রূপ:
    গ্রীষ্মকালে বাতাস হয় শুষ্ক তাই বারবার তৃষ্ণা পায়। মানুষ দিনের বেলা যথাযথ পরিশ্রম করতে ব্যাহত হয়। বারবার ঘামে শরীর ভিজে যায়। কৃষকেরা মাঠ ত্যাগ করে ছায়ার আশ্রয় নে। গ্রীষ্মকালে আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে বারবার পানি, শরবত ইত্যাদি পান করতে হয়। গ্রীষ্মের গরম আবহাওয়া মানুষ ছাড়াও পশুপাখির জন্য কষ্টকর হয়। ‌ বিশ্বের বিকেলে সূর্যের তাপ কমে গেলে মৃদু বাতাস বয়। কখনো কখনো কালবৈশাখী ঝড় উঠে এবং বৃষ্টিপাত হয়।

    গ্রীষ্মের ফলমূল:
    গ্রীষ্মকাল ফুলের ঋতু। গ্রীষ্মকালে অনেক রকমের ফলমূল পাওয়া যায়। এই সময় আম, কাঁঠাল, জাম, তরমুজ, লিচু প্রভৃতি মিষ্টি ফল পাওয়া যায়। তাছাড়া গ্রীষ্মকালে বিভিন্ন সুগন্ধি ফুল যেমন বেল, জুঁই, চাপা, গন্ধরাজ প্রভৃতি ফুটে।

    গ্রীষ্মের সুবিধা ও অসুবিধা:
    গ্রীষ্মের সময় দিনের বেলা অনেক লম্বা হয়। তাই বাইরে ঘোরাঘুরি এবং কাজের জন্য অনেক সময় পাওয়া যায়। গ্রীষ্মের ছুটিতে জলে সাঁতার কাটা, বিভিন্ন ফল ফলমূল উপভোগ করা দারুন আনন্দের। কিন্তু গরমের প্রকোপে এই সময়ে অনেক রোগ যেমন জ্বর, কাশি, ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি দেখা দেয়। তাছাড়া কখনো কখনো কাল বৈশাখের কারণে অনেক ঘরবাড়ি ও সম্পত্তির ক্ষতিসাধন হয়।

    উপসংহার:
    গ্রীষ্মকাল নিঃসন্দেহে বছরের সবচেয়ে কষ্টের কাল বা ঋতু। এই সময় গরমের প্রকোপে চারিদিকে অশান্তি সৃষ্টি হয়। নানা অসুখ-বিসুখ দেখা দেয়। তবুও গ্রীষ্মের সুমিষ্ট ফলমূল, নববর্ষ উৎসব, জামাই ষষ্ঠী ইত্যাদি আমাদের জীবনে আনন্দ সঞ্চার করে।

    রচনা-গ্রীষ্মকাল | Summer season essay in bengali | summer season | grishma kal essay in bengali | paragraph in bengali | grishma ritu essay in bengali  

    See less
      • 2
  • 1
  • 73,558
  • 0
Answer
Load More Questions

Sidebar

আরও দেখুন

  • রচনা : শিশু শ্রম | Child Labour Paragraph in Bengali?
  • আসামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রচনা | Natural Beauty of Assam Essay in Bengali Language?
  • আসামের প্রাকৃতিক সম্পদ রচনা | Natural resources of assam essay in bengali language?
  • রচনাঃ অসমের বন্যা ও তার প্রতিকার | Flood in Assam Essay in Bengali?
  • রচনাঃ ভয়ংকর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয় | Prakritik Biporjoy Essay in Bengali?
  • রচনাঃ জাতীয় সংহতি ও বিচ্ছিন্নতাবাদ | Jatiya Sanhati Essay in Bengali or National Integration Essay in Bengali?
  • রচনা : একটি পাখির আত্মকথা | Autobiography of a Bird in Bengali
  • রচনা : বনভোজন | Bengali essay on Picnic for School student?
  • রচনা : শিক্ষা মূলক ভ্রমণ | Shikha mulok bhraman essay in Bengali
  • রচনা : দেশ ভ্রমণ | Essay on Travelling in Bengali for school student?
  • সংকিপ্ত রচনা : কুকুর | Short Essay on Dog in Bengali
  • রচনা : আমার মা | Amar Maa Bengali Essay for school student?
  • রচনা : একটি গাছ একটি প্রাণ | One tree one life paragraph in Bengali
  • রচনা : আমার প্রিয় খেলা ব্যাডমিন্টন | Amar Priyo Khela Badminton Essay in Bengali
  • রচনাঃ গ্রন্থাগার বা লাইব্রেরী | Library Essay in Bengali language
  • রচনাঃ একটি নদীর আত্মকথা | Autobiography of a river in Bengali
  • রচনাঃ একটি বট গাছের আত্মকথা | Autobiography of a banyan tree in bengali
  • গরু রচনা | Goru rochona in bengali or shonkipto bangla guru rachana
  • রচনা : পরিবেশ সংরক্ষণ ও তার প্রয়োজনীয়তা | Write an essay on environment in bengali
  • রচনা : আমার পরিবার | Essay on my family in bengali
Join us on Telegram
Join our FaceBook Group

বিষয়

All Bangla Paragraph (105) Apurba Dutta Poems (4) Bangla application format (11) Bangla Choto Golpo (7) Bangla dorkhasto lekha (11) Bangla gazal lyrics (8) Bangla GK (177) Bangla Kobita (203) Bangla Rachana (105) baul gaan lyrics (6) baul song lyrics (6) Bengali antonyms (40) Bengali Essay (105) Bengali letter Writing (11) Bengali lullaby lyrics (3) bengali lyrics (82) Bengali Meaning (259) bengali poem (14) Bengali Poems (124) Bengali Poem Summary (21) Bengali Rachana (99) Bengali short story (7) bengali song lyrics (98) bengali song lyrics in bengali (98) Bengali synonyms (33) chandrabindu lyrics (2) English grammar in Bengali (6) English to Bengali Meaning (270) English to Bengali Translation (256) Essay (75) Full form (14) general knowledge bengali (7) indian history in bengali (9) Joy Goswami kobita (4) kazi nazrul islamer kobita (8) Kobita (143) lyrics (17) Myth (3) nirendranath chakraborty poem (5) Nirmalendu Goon Poems (6) Paragraph (20) Parts of speech in Bengali (6) Pod Poriborton (39) Poem (3) poem summary in bengali (21) rabindranath tagore poems (57) Rabindra Sangeet lyrics (5) shakti chattopadhyay poems (7) Social Science (6) Somarthok Shobdo (33) Somas Bangla Grammar (15) sukanta bhattacharya kobita (4) Sukumar Roy Poem (16) Summary (8) অনুচ্ছেদ (127) অপূর্ব দত্তের কবিতা (4) আধ্যাত্মিক (10) ইংরেজি অনুবাদ (6) ইংরেজি থেকে বাংলা (6) ইংলিশ বাংলা অনুবাদ (6) ইন্টারনেট (1) ইসলাম (18) ইসলাম ধর্মীয় প্রশ্ন উত্তর (18) ইসলামী নাত ও গজল (8) ইসলামী সংগীত লিরিক্স (8) কবিতা (26) কবিতার সারাংশ ও সারমর্ম (21) কাজী নজরুল ইসলাম (8) কুসংস্কার (3) গানের কথা (14) ঘুম পাড়ানি গান lyrics (3) ছোটগল্প (7) জয় গোস্বামী (4) জয় গোস্বামীর কবিতা (4) জেনারেল নলেজ (7) জেনারেল নলেজ প্রশ্ন ও উত্তর (39) নির্মলেন্দু গুণের কবিতা (6) নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কবিতা (5) পদ পরিবর্তন (39) পূর্ণরূপ (14) প্রকৃতি (17) প্রক্রিতি (23) ফলমূল (28) ফুল ফর্ম (14) বাংলা general knowledge (52) বাংলা অর্থ (275) বাংলা আবেদন পত্র (11) বাংলা কবিতা (219) বাংলা কবিতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (68) বাংলা গান লিরিক্স (97) বাংলা গানের লিরিক্স (98) বাংলা ছোট গল্প (7) বাংলা দরখাস্ত নমুনা (11) বাংলা প্রবন্ধ (97) বাংলা বাক্য রচনা (176) বাংলা বিপরীত শব্দ (40) বাংলা রচনা (127) বাউল গান লিরিক্স (6) বাক্য রচনা (176) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (1) বিজ্ঞান শিক্ষা (17) বিপরীত শব্দ (40) বোঝাপড়া কবিতা (3) ব্যাখ্যা (8) ভক্তিভাজন (10) ভারতের ইতিহাস (9) ভূগোল (5) মধ্যযুগের ভারতের ইতিহাস (9) মূলভাব (8) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (34) রবীন্দ্রসংগীত (1) রবীন্দ্র সংগীত লিরিক্স (5) লিরিক্স (17) শক্তি চট্টোপাধ্যায় kobita (7) শঙ্খ ঘোষ (8) শুভ দাশগুপ্ত (7) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত (5) সন্ধি বিচ্ছেদ (8) সন্ধি বিচ্ছেদ ব্যবহার (8) সমাজ বিজ্ঞান (6) সমার্থক শব্দ (33) সমাস (15) সারাংশ (8) সুকান্তের কবিতা (4) সুকুমার রায় (16)

Footer

© 2025 Bengali Forum · All rights reserved. Contact Us