Sign Up

Continue with Google
or use


Have an account? Sign In Now

Sign In

Continue with Google
or use


Forgot Password?

Don't have account, Sign Up Here

Forgot Password

Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.


Have an account? Sign In Now

Sorry, you do not have permission to ask a question, You must login to ask a question.

Continue with Google
or use


Forgot Password?

Need An Account, Sign Up Here

Please briefly explain why you feel this question should be reported.

Please briefly explain why you feel this answer should be reported.

Please briefly explain why you feel this user should be reported.

Bengali Forum Logo Bengali Forum Logo
Sign InSign Up

Bengali Forum

Bengali Forum Navigation

  • বিষয়
  • ব্লগ
  • হযবরল
Search
Ask A Question

Mobile menu

Close
Ask A Question
  • বাংলা অভিধান
  • সাহিত্য
  • শিক্ষা
  • রচনা
  • সাধারণ জ্ঞান
  • ইংলিশ টু বাংলা
  • বিজ্ঞান
  • বাংলা কুইজ
  • ধৰ্ম ও সংস্কৃতি
  • ইতিহাস
  • মতামত

Tag: বাংলা রচনা

গুরুত্বপূর্ণ বাংলা রচনার (Bangla Rachana) এক সংকলন।এখানে পাবেন প্রাইমারী থকে শুরু করে হাই স্কুল পর্যন্ত পরীক্ষায় আসা বিভিন্ন বিষয়ের উপর রচনা।

Bengali Forum Latest Questions

In: রচনা

গরু রচনা | cow paragraph in bengali language

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on April 5, 2020 at 1:32 am

    গরু রচনা সূচনা: গরু একটি গৃহপালিত পশু। গৃহস্থালির কাজে গরু একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী। গরু আমাদের নানা উপকারে আসে এবং তার দ্বারা অনেক কাজ সাধন করা হয়। প্রাণী হিসেবে গরু একটি শান্তশিষ্ট এবং নিরীহ প্রাণী। আকার ও আকৃতি: গরু একটি চার পা ওয়ালা প্রাণী। উচ্চতায় এটি তিন চার হাত এবং দৈর্ঘ্য পাঁচ ছয় হাত হয়েRead more

    গরু রচনা

    সূচনা: গরু একটি গৃহপালিত পশু। গৃহস্থালির কাজে গরু একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী। গরু আমাদের নানা উপকারে আসে এবং তার দ্বারা অনেক কাজ সাধন করা হয়। প্রাণী হিসেবে গরু একটি শান্তশিষ্ট এবং নিরীহ প্রাণী।

    আকার ও আকৃতি: গরু একটি চার পা ওয়ালা প্রাণী। উচ্চতায় এটি তিন চার হাত এবং দৈর্ঘ্য পাঁচ ছয় হাত হয়ে থাকে। গরুর দুই চোখ, দুই কান, দুই শিং,একটি দীর্ঘ মাথা এবং পিছনে একটি লেজ থাকে। গরুর সারা শরীর ছোট এবং ঘন লোমে আবৃত থাকে। গরু লাল,কালো, সাদা ইত্যাদি বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে এবং বিশ্বের সবজায়গায় পাওয়া যায়।

    খাদ্য: গরু একটি তৃণভোজী প্রাণী। ঘাস খড় গাছের পাতা গরুর প্রধান খাদ্য। তাছাড়াও ভাতের ফ্যান শুকনো দানা জাতীয় খাবার খেয়ে থাকে।

    উপকারিতা: আমাদের জীবনে গরুর উপকারিতা অসীম। গরুর দুধ অত্যন্ত সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর। এই দুধ থেকে দই ছানা মাখন কি ইত্যাদি নানারকম দ্রব্য তৈরি করা হয় যেগুলি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।আমরা আমাদের জমি চাষ করতে ষাঁড় বা বলদ ব্যবহার করে থাকি।পণ্য পরিবহনের জন্য গরুর গাড়িও ব্যবহৃত হয়। তাছাড়াও কৃষি ক্ষেত্রে গরুর গোবর একটি উত্তম সার হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

    উপসংহার: গরু নানা গুণ থাকা সত্ত্বেও গরুর প্রতি আমরা যত্নশীল নই। গরুর উপকারিতার দিকে চেয়ে আমাদের সবাইকে গরুর প্রতি সদয় হওয়া দরকার।গরু পালনে আমাদেরকে উৎসাহিত হওয়া দরকার তাহলে নানাভাবে উপকৃত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারব।

    See less
      • 0
  • 1
  • 17,135
  • 0
Answer
In: রচনা

রচনা : দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান | Science in Everyday life Essay in Bengali

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on January 30, 2020 at 1:47 am
    This answer was edited.

    দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান ভূমিকা : মানব জাতির গৌরবের শিখরে উত্তরণে যার ভূমিকা নিঃসংশয়ে ।এক বাক্যে স্বীকার করে নিতে হয় তার নাম বিজ্ঞান। বিজ্ঞান’ শব্দটির অর্থ - বিশেষ  জ্ঞান। মানুষ অন্য প্রাণীর তুলনায় অনেক উন্নত ও বুদ্ধিমান। তাই সীমাবদ্ধ জ্ঞানের বাইরে বিশেষ জ্ঞানের সাহায্যেই সে বিশ্বের সব প্রাণীদের উপRead more

    দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান

    ভূমিকা : মানব জাতির গৌরবের শিখরে উত্তরণে যার ভূমিকা নিঃসংশয়ে ।এক বাক্যে স্বীকার করে নিতে হয় তার নাম বিজ্ঞান। বিজ্ঞান’ শব্দটির অর্থ – বিশেষ  জ্ঞান। মানুষ অন্য প্রাণীর তুলনায় অনেক উন্নত ও বুদ্ধিমান। তাই সীমাবদ্ধ জ্ঞানের বাইরে বিশেষ জ্ঞানের সাহায্যেই সে বিশ্বের সব প্রাণীদের উপর অধিকার স্থাপন করেছে। মানুষের কাছে কোন কিছুই আজ আর অসম্ভব নয়। কোন একদিনের সেই গুহাচারী মানুষ আজ নির্মাণ করছে গগনস্পর্শী অট্টালিকা। আদিম মানুষ থেকে আধুনিক জীবনে উপনীত হওয়ার একমাত্র অবলম্বন হলাে বিজ্ঞান।

    বিজ্ঞানের জন্ম : সৃষ্টির ঊষালগ্নে মানুষ গভীর অরণ্যে, নদীতীরে বসবাস করতো । ভয়ঙ্কর প্রকৃতি বার বার মানুষকে হাতছানি দিয়ে ডাকত। গভীর অরণ্যে ঝড় ঝঞা-বন্দ্র বিদ্যুৎ আর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যে মানুষকে বাঁচতে হতাে নিরন্তর সংগ্রামের মধ্যে। মানুষ ছিল তখন প্রকৃতির হাতের ক্রীড়নক। সে দিন মানুষকে রক্ষা করতে আসেননি স্বর্গবাসী কোন দেবতা। কিন্তু মানুষ যেদিন নিজ বুদ্ধি বলে পাথর ঘষে অস্ত্র নির্মাণ করে পশুদের আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করল, তারপর ভয়ঙ্কর প্রকৃতিকে বশে এনে আত্মরক্ষার চিন্তা করল, সে দিন জন্ম হল বিজ্ঞানের।সে বিজ্ঞান-বুদ্ধির উপর নির্ভর করে মানুষ শিখেছে আগুনের ব্যবহার, শিখেছে কৃষিকর্ম, বয়ন কর্ম আর রাস্তা নির্মাণ। ওই বিজ্ঞানের বলেই নিসর্গ প্রকৃতি তথা জলে-স্থলে-আকাশ উড়াল বিজয় পতাকা। কবির ভাষায়

    “পাখিরে দিয়েছ গান,
    গায় সেই গান
    তার বেশী করে না সে দান,
    আমারে দিয়েছ সুর।
    আমি তার বেশি করে দান।
    আমি গাই গান।

    এভাবে মানুষ আপন প্রভাব বিস্তার করে বিধাতার শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করল।

    দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞানের জয়যাত্রা : আজ শতশত শতাব্দী ধরে চলে আসছে বিজ্ঞানের জয়যাত্রা। সভ্যতার বিকাশ ও বিবর্তনে বিজ্ঞানের সীমাহীন অবদানের কথা আজ আর কারো অজানা নয়। বিজ্ঞানকে করায়ত্ত করে মানুষ সাগর লঙঘন। করল, উদ্দাম নদী স্রোতকে বশীভূত করে বাঁধ দিয়ে তার দুই তীর জুড়ে দিল। খাল নির্মাণ করে নদীর জল ধারাকে দিকে দিকে ছড়িয়ে দিয়ে মরু প্রান্তরকে উর্বর শস্য শালিনী করে তুলল। সকালে ঘুম থেকে উঠে দিন আরম্ভ করা থেকে রাত্রে শয্যা গ্রহণ, জীবনযাত্রার প্রতিটি পদক্ষেপ আজ বিজ্ঞানের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বলা যায়, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আমরা বিজ্ঞানের মুখাপেক্ষী।

    বৈদ্যুতিক অবদান : বৈদ্যুতিক শক্তির সহায়তায় সুইচ টিপে উঠে যাচ্ছে। মানুষ ঘরের বিভিন্ন তলার কক্ষে। তাইতো আজ পাঁচতলা, দশতলা আর বাহান্ন তলা বাড়িতে হাটু ভেঙ্গে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠবার আর প্রয়ােজন নেই – রয়েছে লিফট।তাছাড়া বৈদ্যুতিক পাখা, হিটার, ফ্রিজ, ইলেকট্রিক ইস্ত্রি, ওয়াশিং মেশিন, ইলেকট্রিক বেল, ঘড়ি, দাড়ি কামানাের সরঞ্জাম। সর্বোপরি মােবাইল ফোন যা সকাল থেকে রাত্র পর্যন্ত এই গানটা পৃথিবীটাকে নিয়ে এসেছে মানুষের হাতের মুঠোয়। তাই আজ আর চিঠিপত্র লিখে সময় নষ্ট করতে হয় না – সময় গড়িয়ে আত্মীয় স্বজনের খবর নেওয়ার প্রয়ােজন হয় না। ইলেকট্রিকের মাধ্যমে E. V. M. মেশিনের দ্বারা জনসাধারণ তাদের নেতা নির্বাচন করেছেন অতি সহজে।

    টেলিভিশনের অবদান : আধুনিক যুগে বিজ্ঞানের একটি শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার টেলিভিশন। যার কল্যাণে পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া বড় বড় ঘটনা সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চক্ষুগোচর হচ্ছে। এত সহজে এত অল্প সময়ে এত বিস্তৃত ভাবে লক্ষ লক্ষ জ্ঞান শিক্ষা ও আনন্দ বিতরণের ব্যবস্থায় দূরদর্শন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। দূরদর্শন ছাত্র-শিক্ষক, চাকুরিজীবি, রাজনৈতিক বা বৈজ্ঞানিক, শিক্ষিত-অশিক্ষিত সকলের জন্যই প্রয়ােজনীয়। আমেরিকার বক্তৃতা, ইংল্যান্ডের গান আর অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট খেলার বর্ণনা আমরা ঘরে বসেই টেলিভিশনে দেখতে পাই। এরকম আনন্দ দানের এত বড় মাধ্যম পৃথিবীতে কোন কালে ছিল না।

    বিজ্ঞানের আবিষ্কার – কম্পিউটার ও লেপটপ : বিজ্ঞানের বিস্ময়কর আবিষ্কার কম্পিউটার আর ল্যাপটপ এর মাধ্যমে খুব কম সময়ের মধ্যে যােগ-বিয়ােগ, গুণ-ভাগের বড় বড় অংকের নির্ভুল ভাবে হিসেবে সম্পন্ন করা যায়। বর্তমানে বেঙ্ক, অফিস-আদালত, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এমনকি ব্যক্তিদের দৈনন্দিন জীবনে হিসাবের কাজে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

    চিকিৎসাক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অবদান : পৃথিবীতে আজ মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি হয়েছে যার দৌলতে সে হচ্ছে চিকিৎসা শাস্ত্রে বিজ্ঞান। পদার্থ বিজ্ঞান এবং রসায়নের অগ্রগতি আরও বিস্ময়ের ব্যাপার। পূবে যে সব রোগ একে বারেই দুরারােগ্য ছিল আজ আর তা এমনটি নয়। বিজ্ঞান মানুষের হাতে তুলে দিয়েছে অনেক জীবনদায়ী ঔষধ যা বাড়াচ্ছে মানুষের গড় আয়ু। আজকের পৃথিবীতে কলেরা, মহামারী, টাইফয়েড, বসন্ত, কর্কট, যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর, ব্লাড ফ্লু প্রভৃতি মারাত্মক রোগ আর দুরারোগ্য নয়। চিকিৎসকরা রঞ্জন রশ্মির সাহায্যে শরীরের ভিতরকার ছবি তুলে তা পরীক্ষা করে চিকিৎসা করতে পারছেন। রেডিয়ামের দ্বারা দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে। কৃত্রিম হৃদয় স্থাপন, কিড়নি স্থাপন প্রতিদিনই বড় বড়চিকিৎসালয়ে চলছে। বস্তুত চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির কথা অল্প কথায় বলে শেষ করা যায় না।

    কৃষিক্ষেত্রে সবুজ বিপ্লব : কৃষিক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অবদান আজকের দিনে অনস্বীকার্য। বিজ্ঞানের অবদানে উষর ভূমি আজ হয়েছে শস্য-শ্যামল ভূমি। পূর্বে যেভাবে ছিল দৈব নির্ভর কৃষিকাজ অর্থাৎ আকাশ থেকে বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল, বর্তমানে তা আর নয়। উচ্চ ফলনশীল বীজ, রাসায়নিক সার, নানা প্রকার যন্ত্রপাতি পাম্প-মেশিন এবং অধিক ফলনের জন্য গাছের অনুখাদ্য আবিষ্কারের ফলে কৃষিতে সবুজ বিপ্লবের সৃষ্টি হয়েছে। দেশের লােকের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে।

    উপসংহার : বিজ্ঞান যেভাবে দৈনন্দিন জীবনে অহরহ উন্নতি সাধন করে।চলেছে ঠিক সেভাবে বিজ্ঞানের আবার কিছু কিছু ধ্বংসাত্মক দিকও আছে। তবে মানুষের উপরে বিশ্বাস হারানাে ঠিক নয়। পৃথিবীতে এখনও বিবেকবান মানুষের অভাব নেই ধীর গতিতে হলেও বিশ্ববিবেক জাগ্রত হচ্ছে। আশা করা যায় মানুষ এই বিজ্ঞানকে সার্বিক মানব কল্যাণে ব্যবহার করবে। বিজ্ঞান কোটি কোটি মানুষের আশীর্বাদ লাভে ধন্য হবে।

    See less
      • 1
  • 1
  • 21,011
  • 0
Answer
In: রচনা

রচনা : আমার প্রিয় খেলা ফুটবল | football paragraph in bengali

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on March 26, 2020 at 4:48 am

    ফুটবল খেলা ভূমিকা: বর্তমান বিশ্বের একটি জনপ্রিয় ও অন্যতম খেলা হচ্ছে ফুটবল। কারও মতে চীন আবার কারো মতে ইতালি থেকে ফুটবল খেলা আরম্ব হয় এবং পরবর্তী কালে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে । জনপ্রিয়তার কারণে ইহা একটি আন্তর্জাতিক খেলা হিসাবে স্বীকৃতি পায় এবং প্রতি চার বছর পর পর আন্তর্জাতিক স্তরে ফুটবল বিশ্বকাপ প্রতিযRead more

    ফুটবল খেলা

    ভূমিকা: বর্তমান বিশ্বের একটি জনপ্রিয় ও অন্যতম খেলা হচ্ছে ফুটবল। কারও মতে চীন আবার কারো মতে ইতালি থেকে ফুটবল খেলা আরম্ব হয় এবং পরবর্তী কালে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে । জনপ্রিয়তার কারণে ইহা একটি আন্তর্জাতিক খেলা হিসাবে স্বীকৃতি পায় এবং প্রতি চার বছর পর পর আন্তর্জাতিক স্তরে ফুটবল বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয় । ইউরোপ-আমেরিকার অনেক দেশেই ফুটবল একটি জাতীয় খেলা । আমাদের দেশে সর্বত্রই এই খেলার প্রচলন ও জনপ্রিয়তা দেখা যায়।
    মাঠের বর্ণনা ও খেলোয়াড়: ফুটবল খেলার মাঠ সাধারণত ১০০-১২০ গজ দীর্ঘ এবং ৫০-৫৬ গজ প্রস্থ হয়ে থাকে । মাঠের দুই প্রান্তে দু’টি করে গোলপোস্ট থাকে। প্রতিটি গোলপোস্ট এর উচ্চতা ৮ ফুট এবং একটি বার বা খুঁটির অপরটি থেকে ৮ গজ দূরে অবস্থিত। একটি আদর্শ ফুটবলের ওজন সাধারণত ১৪-১৬ আউন্স হয়ে থাকে। একটি ফুটবল খেলায় মোট ২২ জন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করে , যারা দুইটি দলে ১১ জন করে বিভক্ত হয়ে খেলে থাকে। খেলা পরিচালনার জন্য একজন প্রধান রেফারি ও তাকে সাহায্যের জন্য দু’ জন লাইন্সম্যান থাকে।

    ফুটবল খেলার নিয়ম বা পদ্ধতি: পূর্বসিদ্বান্ত অনুযায়ী খেলার জন্য মাঠের মধ্যস্থলে দুই দল মুখোমুখি অবস্থান করে। রেফারির বাঁশি বাজানোর সাথে সাথে খেলা শুরু হয় এবং প্রত্যেক খেলোয়াড় নিজের অবস্থানে চলে যায়। সাধারণত ১১ জন খেলোয়াড়ের পাঁচ জন সামনের ভাগে দাঁড়ায় যাদেরকে বলে ফরোয়ার্ড, তাদের পিছনে ৩ জন থাকে মিডফিল্ডার বা হাফ ব্যাক, তাদের পিছনে দু’ জন থাকে ডিফেন্স বা ফুল ব্যাক আর গোলবারের সামনে থাকে একজন গোলরক্ষক, যিনি সর্বাঙ্গ দিয়ে বলকে গোল হওয়া থেকে রক্ষা করেন। একটি ফুটবল ম্যাচ মোট ৯০ মিনিটের হয়, মধ্যেখানে ১৫ মিনিটের বিরতি থাকে।

    খেলার নিয়ম কানুন: যে ভাবে প্রত্যেকটি খেলার একটি নিয়ম থাকে সে ভাবে ফুটবল খেলার কয়েকটি নিয়ম রয়েছে । এসব নিয়মনীতি সবই ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা তৈরী করে থাকে । যেমন প্রথমে বলটি মাঠের মধ্যস্থলে রাখতে হবে। রেফারি বাঁশি বাজানোর সাথে সাথে খেলা শুরু করতে হবে। একমাত্র গোলরক্ষক ছাড়া অন্য কেউ বল হাত দিয়ে ধরতে বা মারতে পারবে না। এ নিয়ম না মানলে হ্যান্ডবল হয় এবং বিপক্ষ দলের দিকে বল ফ্রি কিক মারা হয়। অবৈধভাবে কাউকে লাথি বা ধাক্কা মারলে রেফারি শাস্তি স্বরূপ উক্ত খেলোয়াড়কে লাল বা হলুদ কার্ড দেখিয়ে শাস্তি দেন। লাল কার্ড পেলে ঐ খেলোয়াড় আর খেলতে পারেন না। এ ছাড়া খেলোয়াড়দের সহজেই চিনতে প্রত্যেকটি খেলোয়াড় কে তাদের ইউনিফর্ম এ জার্সি নাম্বার দেয়া হয়।

    ফুটবল ও ভারতবর্ষ : বিদেশি খেলা হলেও ফুটবল খেলা ভারতবর্ষের একটি জনপ্রিয় খেলা । বিশেষ করে বাংলায় সঙ্গে ফটবললের অনন্য সম্পর্ক । বিশ্বকাপ এলেই সারাদেশ জুড়ে শুরু হয় ফুটবল উন্মাদনা। পতাকা টানিয়ে বা সমর্থিত দলের জার্সি গায়ে দিয়ে দলের প্রতি নিজেদের ভালোবাসা প্রকাশ করে বাঙালিরা।ভারতবর্ষে ফুটবল আসে ইংরেজ দের হাত ধরে এবং ১৮৭২ সালে প্রথম “কলকাতা ফটবল ক্লাব” স্হাপিত হয়। বর্তমানে “অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন” ভারতে ফুটবল খেলা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ভারত একাধিকবার অলিম্পিক এবং এশিয়ান কাপ সহ অনেক প্রতিজোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে।হাল আমলে ভারতবর্ষে ফুটবল কে আরও জনপ্রিয় করতে ২০১৩ সালে একটি প্রিমিয়াম ঘরোয়া প্রতিজুগিতা “ইন্ডিয়ান সুপার লিগ” নামে শুরু করা হয়।

    বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ফিফা): বিশ্বব্যাপী ফুটবল খেলার আইন-কানুন প্রচলন ও নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয় FIFA (Federation of International Football Association). ২১ মে, ১৯০৪ সালে ফ্রান্সের প্যারিসে প্রতিষ্ঠা লাভ করে সংস্থাটি। বর্তমানে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে এটির সদরদপ্তর। ফিফা এর বর্তমান সভাপতি সেপ ব্লাটার। ফিফার বর্তমান সদস্য ২০৯টি। এ সংস্থা প্রতি ৪ বছর পর পর আয়োজন করে বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা। পুরুষদের ন্যায় নারীদের ফুটবল বিশ্বকাপেরও প্রতিনিধিত্ব করে এ সংস্থা। প্রতিবছর এ সংস্থা বর্ষসেরা ফুটবলার নির্বাচন ও দলগত র‌্যাংকিং করে থাকে।

    ফুটবল বিশ্বকাপ: ফুটবল খেলার ইতিহাস দীর্ঘদিনের হলেও বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা প্রথম অনুষ্ঠিত হয় ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে। বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা ফিফার অধীনে প্রতি ৪ বছর পর পর অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ২১ তম বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর বসে রাশিয়ায় । এ আসরে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফ্রান্স । তবে বিশ্বকাপ ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ৫ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল। বিশ্বকাপ ফুটবলে সেরা খেলোয়াড়কে গোল্ডেন বল এবং সর্বোচ্চ গোলদাতাকে গোল্ডেন বুট সম্মাননা দেওয়া হয়। ফুটবল বিশ্বকাপের ২২ তম আসর হবে কাতারে ২০২২ সালে।

    ফুটবল খেলার উপকারিতা: ফুটবল খেলা শুধু খেলা নয়, এটির মাধ্যমে যেমন আনন্দ-বিনোদন পাওয়া যায়, তেমনি এ খেলার মাধ্যমে শারীরিক ব্যায়ামও হয়ে থাকে। তাছাড়া ফুটবল খেলা আজ বিশ্বব্যাপী বিশাল লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। ইউরোপ আমেরিকার ফুটবল ক্লাবগুলো ফুটবল বাণিজ্যের অন্যতম উদাহরণ। ফুটবল খেলার মাধ্যমে যেমন মানসিক অবসাদ দূর হয় তেমনি এর উত্তেজনা-উপভোগ মনকে আনন্দে ভাসিয়ে দেয়। ফুটবল খেলতে যথেষ্ট ছুটাছুটি ও পরিশ্রম করতে হয় বলে শরীর সর্বদাই ফিট থাকে। খেলার কঠোর আইন-কানুন খেলোয়াড়দের চারিত্রিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করে।

    বিশ্বের উল্লেখিত ফুটবল তারকা ও ক্লাবসমূহ: ফুটবলের জগতে জীবন্ত কিংবদন্তী হলো ফুটবল সম্রাট ব্রাজিলের পেলে। তাছাড়া আর্জেন্টিনার ম্যারাডোনা ফুটবলের রাজপুত্র নামে পরিচিত। এ ছাড়া রোনাল্ডো, মেসি, নেইমার, জিদান বর্তমান ফুটবলের অন্যতম তারকা। বার্সালোনা, রিয়েল মাদ্রিদ, বায়ান মিউনিখ, ডর্টমুন্ড, চেলসি, ম্যানচেষ্টার সিটি প্রভৃতি বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবল ক্লাব। কোপা আমেরিকা, কনফেডারেশন কাপ, এশিয়া কাপ, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নস্ লীগ, প্রভৃতির মাধ্যমে ফুটবল সারা পৃথিবীতে উন্মাদনা ছড়িয়ে যাচ্ছে।

    উপসংহার: ফুটবল খেলা বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকের কাছে এক অনাবিল আনন্দের উৎস। ফুটবল খেলায় থাকে হার-জিত, থাকে আনন্দ-বেদনার অশ্রু। সেই আনন্দ বেদনার ঊর্ধ্বে থাকে মনোরম লড়াই আর নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন, স্বদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি আর বিজয়ের তীব্র বাসনা। ফুটবল খেলা বিশ্বব্যাপী মানুষের মাঝে প্রীতি-সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি করে। এ জন্যই ফুটবল খেলা সকল খেলাকে ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছে।

    See less
      • 1
  • 3
  • 36,813
  • 0
Answer
In: রচনা

বৃক্ষরোপণ | tree paragraph in bengali

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on March 26, 2020 at 6:49 pm
    This answer was edited.

    বৃক্ষরোপণ সূচনা: মানবসভ্যতার ধারাবাহিক ইতিহাস পর্যালােচনা করলে দেখা যায়, নিবিড় বৃক্ষশােভিত অরণ্যের শ্যাম-সিদ্ধ সৌন্দর্যের পটভূমিতেই উন্মেষ ঘটেছিল মানুষের আদিম সভ্যতার। প্রাচীনকাল থেকেই অরণ্যের বিভিন্ন গাছপালার সাথে মানুষের জীবন ও জীবিকার একটা অচ্ছেদ্য সংযােগ গড়ে উঠেছে। বৃক্ষের প্রয়ােজনীয়তা: বৃকRead more

    বৃক্ষরোপণ

    সূচনা: মানবসভ্যতার ধারাবাহিক ইতিহাস পর্যালােচনা করলে দেখা যায়, নিবিড় বৃক্ষশােভিত অরণ্যের শ্যাম-সিদ্ধ সৌন্দর্যের পটভূমিতেই উন্মেষ ঘটেছিল মানুষের আদিম সভ্যতার। প্রাচীনকাল থেকেই অরণ্যের বিভিন্ন গাছপালার সাথে মানুষের জীবন ও জীবিকার একটা অচ্ছেদ্য সংযােগ গড়ে উঠেছে।

    বৃক্ষের প্রয়ােজনীয়তা: বৃক্ষ মানুষ তথা প্রাণীমাত্রেরই খাদ্যের একমাত্র উৎস। বৃক্ষ প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে। বৃক্ষ পরিবেশ দূষণ প্রক্রিয়াকে প্রতিরােধ করে এবং তার অনিষ্টকর প্রভাব থেকে জীবজগতকে রক্ষা করে। বৃক্ষের বিভিন্নমুখী অবদানকে বাদ দিয়ে মানবসভ্যতার ক্রমবিবর্তন বা উত্তরণের কথা কল্পনাই করা যায় না। বৃক্ষ খাদ্যের উৎস, শক্তির উৎস। বৃক্ষ মানুষের খাদ্য সরবরাহ করে, | বস্ত্রের জন্যে প্রয়ােজনীয় উপাদান তৈরি করে বাসস্থান তৈরির অন্যতম উপকরণ বৃক্ষ। রােগ নিবারণকারী এবং স্বাস্থ্য গঠন ও রক্ষাকারী মূল উপাদান আসে বৃক্ষ থেকে। জীবনের জন্যে অন্যতম উপাদান অক্সিজেন তৈরি এবং সরবরাহ করে বৃক্ষ। কাজেই মানবজীবনে বৃক্ষের প্রয়ােজনীয়তা অপরিসীম।

    বৃক্ষরােপণ অভিযান: বৃক্ষ নিধনজনিত অনিবার্য পরিণতির হাত থেকে রেহাই পেতে প্রতিবছর বৃক্ষরােপণ অভিযান চলে আসছে। সাধারণত এ অভিযানে মেহগনি, সেগুন, ইউক্যালিপটাস, ইপিল-ইপিল, আম, জাম, পেয়ারা, জামরুল প্রভৃতি জাতের বৃক্ষের চারা সরকারি নার্সারি থেকে রােপণের জন্যে সরবরাহ করা হয়। আমাদের উচিত একটি বৃক্ষ নিধনের পূর্বেই তার বদলে কমপক্ষে চারটি করে চারা রােপণ এবং সযত্নে সেগুলােকে লালন করা।

    বৃক্ষ সংরক্ষণ: গাছ লাগালেই গাছ হয় না। তার যত্ন, পরিচর্যা, রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থাদি না থাকলে অকালমৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। তা ছাড়া পুরনাে অরণ্যরাজিরও যত্ন এবং সংরক্ষণাদি প্রয়ােজন। এ উদ্দেশ্যে সরকারিভাবে বন বিভাগ’ নামে একটি দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তারই সক্রিয় প্রচেষ্টায় অরণ্য সম্প্রসারণ ও সংরক্ষণের কার্যক্রম রূপায়ণের যাবতীয় কাজকর্মও চলছে।

    বৃক্ষ সংরক্ষণে পালনীয় ব্যবস্থাদি: আর্থিক ব্যয় বরাদ্দ করলেই অরণ্য সম্প্রসারণ, সংরক্ষণের উদ্দেশ্য সার্থকভাবে রূপায়িত হতে পারে না। এজন্যে প্রয়ােজন আন্তরিক প্রয়াস ও প্রচেষ্টা। একদিকে যেমন দরকার বনভূমি সৃজনের উদ্যোগ, অপরদিকে তেমনই কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়ােজন অরণ্য উচ্ছেদের অপপ্রয়াস। অরণ্য সম্পদ যাতে যথেচ্ছা ব্যবহার করা না হয়, সকলেরই সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। সুতরাং বনভূমি সংরক্ষণার্থে কয়েকটি পালনীয় ব্যবস্থার কথা প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায়। যেমন
    ১. অরণ্যের অবাধ ও যথেচ্ছ উচ্ছেদ নিবারণ।
    ২. নতুন চারাগাছ লাগানাে এবং তার প্রয়ােজনীয় পরিচর্যা।
    ৩.কেবল পরিণত বৃক্ষচ্ছেদন ; অপরিণত বৃক্ষচ্ছেদন যাতে না হয় আইন করে তা নিষিদ্ধ করা।
    ৪. কীট-পতঙ্গের আক্রমণ থেকে বৃক্ষকে রক্ষা করা।
    ৫. অরণ্য গবেষণার প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা করা।

    উপসংহার: বৃক্ষরাজি মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী। কাজেই বৃক্ষরােপণের মাধ্যমে আমাদের চারপাশের পরিবেশকে সাজাতে হবে সবুজ শ্যামলিমায়।

     

    See less
      • 1
  • 1
  • 13,963
  • 1
Answer
In: রচনা

স্বচ্ছ ভারত অভিযান | bengali essay on swachh bharat abhiyan

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on March 26, 2020 at 1:15 am

    স্বচ্ছ ভারত অভিযান ভূমিকা: স্বচ্ছ ভারত অভিযান ভারত সরকারের প্রচলিত একটি জাতীয় প্রকল্প ।এই প্রকল্পের অধীনে দেশের ৪০৪১টি শহরের সড়ক এবং পরিকাঠামোকে পরিষ্করণের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের ২রা অক্টোবর নূতন দিল্লির রাজঘাট সমাধি পরিসরে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়, যেখাRead more

    স্বচ্ছ ভারত অভিযান

    ভূমিকা: স্বচ্ছ ভারত অভিযান ভারত সরকারের প্রচলিত একটি জাতীয় প্রকল্প ।এই প্রকল্পের অধীনে দেশের ৪০৪১টি শহরের সড়ক এবং পরিকাঠামোকে পরিষ্করণের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের ২রা অক্টোবর নূতন দিল্লির রাজঘাট সমাধি পরিসরে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়, যেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দ্বারা এই প্রকল্পের শুভাৰম্ভ হয় । সেই দিন এই প্রকল্পকে রূপায়িত করতে দেশের প্রায় ত্রিশ লক্ষ সরকারি কর্মচারী এবং ছাত্ররা অংশগ্রহণ করেন।

    আবশ্যকতা : ইহা নির্দ্বিধায় শিকার করা যায় যে স্বচ্ছতার দিক দিয়ে ভারত অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলি থেকে অনেক পিছিয়ে । ভারত বর্ষ একটি পুরনো সভ্য সংস্কৃতির দেশ হওয়া সত্ত্বেও ভারতবর্ষের নাগরিক স্বচ্ছতার দিক দিয়ে অনেকটাই উদ্বেগহীন। আর এই উদ্যোগ হীনতা ই নিত্যদিন বয়ে আনছে নানান রোগ ও ব্যাদি। তাই বৃহত্তর ভারতীয় নাগরিকদের সুস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে আরম্ভ হয় এই গণআন্দোলন। চারিদিক স্বচ্ছ রাখা এবং স্বচ্ছ করা এই গণআন্দোলনের একমাত্র লক্ষ।

    স্বচ্ছতার উপরে উল্লেখযোগ্য সাবেক প্রয়াস : ভারতবর্ষে সর্বপ্রথম ১৯৫৪ সালে স্বচ্ছতার প্রোগ্রাম চালানো হয়। পরে ১৯৮৬ সেন্ট্রাল সেন্ট্রাল রুবেল স্যানিটেশন প্রোগ্রাম নামে একটি প্রোগ্রাম চালিত হয়। এবং সর্বশেষ ১৯১২ সালে কংগ্রেস সরকার নির্মল ভারত অভিযান নামে একটি প্রোগ্রাম চালায়। যদিও নির্মল ভারতের আওতায় কয়েকটি বিশেষ এলাকা এবং সীমিত বিষয়বস্তুকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, এবং এর ফলাফল খুব একটা সুদূরপ্রসারি হয়ে উঠতে পারেনি। তাই এই নির্মল ভারত অভিযান কে ২০১৪ সালে আবার স্বচ্ছ ভারত অভিযান নামে আরম্ভ করা হয়।

    স্বচ্ছ ভারত অভিযানের তাৎপর্য: মহাত্মা গান্ধী যে ভারতবর্ষের স্বপ্ন দেখেছিলেন তা শুধুমাত্র ক্ষমতার হস্তান্তর ছিলনা। তিনি চেয়েছিলেন বিদেশি শক্তির উৎখাতের সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত ভেদাভেদ এবং নোংরামির উৎখাত। তাই মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন উপলক্ষে ২০১৪ সালে এই গণ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে পরিচ্ছন্ন অস্বাস্থ্যকর ভারতের যে স্বপ্ন গান্ধী দেখেছিলেন তা পূরণ করার লক্ষ্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

    স্বচ্ছ ভারত অভিযানের বিভিন্ন প্রকল্প ও কার্যকলাপ: স্বচ্ছ ভারত অভিযানে ব্যক্তিগত শৌচাগার, গোষ্ঠী শৌচাগার নির্মাণ ও কঠিন বর্জ্য পরিচালন ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়। গ্রামাঞ্চলে আবার মানুষের ব্যবহারিক আচরণ বদলানোর লক্ষ্যে মুখোমুখী কথাবার্তার মাধ্যমে মানুষকে বোঝানোর কাজ চলছে। এছাড়া, গ্রাম পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত প্রকল্প রূপায়ণ ও পরিষেবা প্রদান ব্যবস্থাকে জোরদার করা হয়ে । শৌচাগার নির্মাণের জন্য উৎসাহ প্রদান বাবদ অর্থ সাহায্যের পরিমাণ ২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা করা হয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে কঠিন ও তরল বর্জ্য পরিচালনের জন্যও অর্থ প্রদান করা হচ্ছে। সারা দেশে নাগরিকরা যেসব পরিচ্ছন্নতার কাজ করেছেন, তা তুলে ধরতে, স্বচ্ছ ভারত অভিযানের অঙ্গ হিসেবে MycleanIndiaনামে একটি পোর্টালও চালু করা হয়েছে।

    প্রভাব ও প্রসার: এই উদ্যোগে অংশগ্রহণের অনুরোধ স্বচ্ছতা অভিযান এক জাতীয় আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। স্বচ্ছ ভারত আন্দোলনের মাধ্যমে দেশবাসীর মধ্যে এক ধরনের দায়িত্ববোধের সঞ্চার হয়েছে।সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ পরিচ্ছন্নতার গণআন্দোলনে এগিয়ে এসে যুক্ত হয়েছেন। এই মহান উদ্যোগে সরকারি কর্মকর্তা থেকে জওয়ান, বলিউডের অভিনেতা থেকে ক্রীড়াবিদ, শিল্পপতি থেকে ধর্মীয় নেতা সকলেই যুক্ত হয়েছেন। সারা দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ দিনের পর দিন বিভিন্ন সরকারি বিভাগ, অসরকারি সংগঠন এবং স্থানীয় গোষ্ঠীগুলি কেন্দ্রের উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন। সারা দেশ জুড়ে ঘন ঘন পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে প্রচার কর্মসূচিতে নাটক ও সঙ্গীতের মাধ্যমে ব্যাপক ভিত্তিতে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে প্রচার সংগঠিত হচ্ছে।
    বলিউডের খ্যাতনামা চিত্রতারকা থেকে শুরু করে টেলিভিশনের অভিনেতারা এগিয়ে এসে এই পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। অমিতাভ বচ্চন, আমির খান, কৈলাশ খের, প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মতো বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরা এগিয়ে এসেছেন । শচীন তেন্ডুলকর, সানিয়া মির্জা, সাইনা নেহওয়াল এবং মেরীকমের মতো বহু বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদদের স্বচ্ছ ভারত অভিযানে অবদান বিশেষভাবে প্রশংসনীয়।

     

    See less
      • 0
  • 1
  • 7,971
  • 0
Answer
In: রচনা

বায়ু প্রদূষণ | air pollution in bengali speech

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on March 20, 2020 at 12:08 am

    বায়ু দূষণ – প্রাকৃতিক পরিবেশ আজ যে ছিন্নমস্তা রূপ ধারণ করতে চলেছে তার মূলে রয়েছে বায়ু দূষণ। প্রাণী জগতে প্রাণ ধারণের জন্য প্রয়ােজন নিল বায়ুর। জল ও খাদ্য ছাড়া মানুষ দু-চার দিন বেঁচে থাকতে পারে কিন্তু বায়ু অর্থাৎ বাতাস ছাড়া মানুষ বা প্রাণী এক মুহূর্তও বেচে থাকতে পারে না। বায়ু দুষিত হলে অক্সিজRead more

    বায়ু দূষণ – প্রাকৃতিক পরিবেশ আজ যে ছিন্নমস্তা রূপ ধারণ করতে
    চলেছে তার মূলে রয়েছে বায়ু দূষণ। প্রাণী জগতে প্রাণ ধারণের জন্য প্রয়ােজন নিল
    বায়ুর। জল ও খাদ্য ছাড়া মানুষ দু-চার দিন বেঁচে থাকতে পারে কিন্তু বায়ু অর্থাৎ
    বাতাস ছাড়া মানুষ বা প্রাণী এক মুহূর্তও বেচে থাকতে পারে না। বায়ু দুষিত হলে
    অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায় আর তার সঙ্গে আনুষঙ্গিক দুষিত গ্যাস আমাদের
    দেহে প্রবেশ করবে। এই অক্সিজেনের যােগান দেয় গাছ-পালা, এজন্য প্রাণী জগৎ বেঁচে
    আছে। তাই অরণ্য হল মানব জগতের ফুসফুস। সে অরণা আজ ফবংসের মুখে।
    মানুষ একদিন প্রয়ােজনের তাগিদে অরণ্য কেটে বসতি স্থাপন করেছিল আর
    আজ তাদের আগ্রাসী মনোভাবের জন্য করেছে অরণ্য ছেদন। যান্ত্রিক সভ্যতায় কল
    কারখানার ধোঁয়া, অপরিচ্ছন্ন শহরের ধুলা-বালু, রাস্তার ধারে জ্বালানাে কয়লার ঘোষ
    ইত্যাদি বাতাসকে করছে বিষাক্ত। ফলে আবহাওয়ার তাপমাত্রা ক্রম বর্ধমান, অকাল
    বর্ষণ, ঘূর্ণিঝড় এর মূলে বায়ু দূষণের অভিশাপ। এই দূষিত বায়ু নিশ্বাসকে নিষ্ট করে
    ফুসফুসকে দ্রুত জীর্ণ করে দেয়, ফলে শ্বাস রােগ, ফুসফুসের ক্যান্সার ইত্যাদি রােগ
    দেখা দেয়।

    See less
      • 0
  • 1
  • 2,938
  • 0
Answer
In: রচনা

আমার দেশ | amar desh essay in bengali

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on April 15, 2020 at 6:38 am

    আমার দেশ ভারতবর্ষ সূচনাঃ আমার দেশ, আমার মাতৃভূমি "ভারতবর্ষ"। ভারতবর্ষ একটি বৈচিত্র্যময় দেশ। নানা জাতি, নানা বর্ণের, নানা ধর্মের মানুষের বাস এই দেশে। ভারতবর্ষ জনসংখ্যার দিক দিয়ে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ আর আয়তনের দিক দিয়ে পৃথিবীর সপ্তম। আর ভারতবর্ষের সবচেয়ে অনন্য পরিচয় হচ্ছে ইহা পৃথিবীর বৃহRead more

    আমার দেশ ভারতবর্ষ

    সূচনাঃ আমার দেশ, আমার মাতৃভূমি “ভারতবর্ষ”। ভারতবর্ষ একটি বৈচিত্র্যময় দেশ। নানা জাতি, নানা বর্ণের, নানা ধর্মের মানুষের বাস এই দেশে। ভারতবর্ষ জনসংখ্যার দিক দিয়ে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ আর আয়তনের দিক দিয়ে পৃথিবীর সপ্তম। আর ভারতবর্ষের সবচেয়ে অনন্য পরিচয় হচ্ছে ইহা পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ।

    অবস্থান ও সীমা: ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান খুবই বৈচিত্র্যপূর্ণ। ভারতের উত্তর ও উত্তর পূর্ব সীমান্তে জুড়ে রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে উচ্চতম পর্বত মালা হিমালয়। আর পশ্চিম দিকে রয়েছে দীর্ঘ আরব সাগর। দক্ষিণ ভারত মহাসাগর আর পূর্বে বঙ্গোপসাগর। ভারতের সীমান্তবর্তী দেশ গুলি হচ্ছে চীন বাংলাদেশ পাকিস্তান শ্রীলংকা ও মায়ানমার।
    রাজ্য ও জনসংখ্যা: ভারতবর্ষ একটি জনবহুল দেশ বর্তমানে ভারতবর্ষের জনসংখ্যা 130 কোটির ও বেশি । ভারতবর্ষে বর্তমানে ২৮ রাজ্য ও ৮ টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল রয়েছে। আর মধ্যে আয়তনের দিক দিয়ে সর্ববৃহৎ রাজ্য হচ্ছে মধ্যপ্রদেশ আর জনসংখ্যার দিক দিয়ে উত্তর প্রদেশ।

    ইতিহাস: ভারতীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতি ৪০০০ বছরের থেকেও পুরনো। সিন্ধু নদীর তীরে ভারতে প্রথম সিন্ধু সভ্যতা গড়ে উঠে। তারপর আর্যদের আগমনের ফলে বৈদিক যুগের সূচনা হয়। এইভাবে অনেক বিদেশী শক্তি ভারতবর্ষে রাজত্ব কায়েম করে।ভারতের ধন সম্পদ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্ভাবনা মোঘল এবং ইংরেজদের মত বিদেশি শক্তিকে তাঁর দিকে আকর্ষণ করে। অবশেষে এর ১৯৪৭ সালের ১৫ ই আগস্ট ভারতবর্ষ ইংরেজদের হাত থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে। এবং সংবিধানের প্রণয়নের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক দেশে পরিণত হয়।

    জলবায়ু ও জীবন প্রণালী: ভারতের জলবায়ুর মধ্যে বৈচিত্র্যতা লক্ষ করা যায়। একদিকে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি বছরের প্রায় সময়ই গরম থাকে। অন্যদিকে উত্তর ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে সমভাবে গরম ও ঠান্ডা আবহাওয়া লক্ষ্য করা যায়। তাছাড়া উত্তর সীমান্তবর্তী রাজ্য কয়টি সব সময় ঠান্ডা আবহাওয়া ও তুষারপাত দেখতে পাওয়া যায়।‌ ভারতে মৌসুমী বায়ু প্রবাহের ফলে বৃষ্টিপাত হয়। ভারতবর্ষে বেশ কিছু চিরহরিৎ অঞ্চল রয়েছে। যেগুলোতে বিভিন্ন ধরনের প্রাণী ও উদ্ভিদ দেখতে পাওয়া যায়। বিশেষ প্রাণীর মধ্যে সুন্দরবনের বাঘ অসমের গন্ডার বিখ্যাত। সরকার কর্তিক বিভিন্ন প্রাণীর সংরক্ষণের জন্য গড়ে উঠেছে অভয়ারণ্য ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল।

    কৃষি ও শিল্প: ভারতবর্ষে একটি কৃষি প্রধান দেশ। এখানকার অধিকাংশ মানুষের জীবিকা নির্ভর করে তাদের কৃষি ক্ষেত্রের উপর। মসলা, কাজুবাদাম, নারকেল, আদা, ইত্যাদি উৎপাদনে ভারতের স্থান বিশ্বে প্রথম। তাছাড়া ভারতে প্রধানত ধান, গম, তৈলবীজ ইত্যাদি উৎপন্ন হয়।বর্তমান শিল্পায়নের বিপ্লবের কারণে ভারত এগিয়ে গিয়েছে অনেক পথ। অটোমোবাইলস, সফটওয়্যার থেকে শুরু করে পরিবহন উপকরণ ও বস্ত্র শিল্পে ভারত অনেক উন্নতি লাভ করেছে। ভারতবর্ষের প্রধান রপ্তানি পণ্য গুলো হল বস্ত্র, ইঞ্জিনিয়ারিং দ্রব্যাদি ও সফটওয়্যার।

    সভ্যতা ও সংস্কৃতি: ভারতবর্ষে একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। এখানে বাস করে নানা ধর্ম নানা ভাষাভাষীর মানুষ। তাই ভারতবর্ষের প্রত্যেকটি জনগোষ্ঠীর রয়েছে ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন ধর্মবিশ্বাস। এতে করে সৃষ্টি হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন সঙ্গীত,স্থাপত্যশিল্প, পরিধান ও খাদ্যাভাস। কিন্তু সমস্ত ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও আমরা সবাই ভারতীয়।

    উপসংহার: ভারতের বৈচিত্র্যময় চরিত্র মুগ্ধ করেছে পৃথিবীকে। এই বৈচিত্রের নাজির আর কোথাও নেই। প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতা থেকে শুরু করে আজ ও ভারত বিশ্ব দরবারে বন্দিত। আমাদের উন্নয়নের জয় গান ও প্রচেষ্টা চলছে অবিরাম। তাই আমার দেশ “ভারতবর্ষে” জন্মগ্রহণ করে আমি ধন্য এবং গর্বিত।

    “

    See less
      • 1
  • 1
  • 17,693
  • 0
Answer
In: রচনা

বাংলা রচনা : বর্ষাকাল | borshakal rochona in bengali

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on March 26, 2020 at 3:45 am

    বর্ষাকাল ভূমিকা: বাংলার প্রকৃতিতে রূপের পসরা সাজিয়ে ঋতুর পরে ঋতু আসে। কখনো শীতের হিম হিম পরশ আর কুয়াশার চাদরে ঢাকা থেকে চারদিক। কখনো চৈতালি-বৈশাখি রোদ, আর ঝিঁ ঝিঁ পোকার গুঞ্জনে মুখরিত হয় সারাবেলা। কখনো আবার কাশফুলের শুভ্রতার সাথে একাকার হয়ে মিশে থাকে শরতের সাদা মেঘ। আবার কখনো ঝিরিঝিরি বৃষ্টির নাচন নRead more

    বর্ষাকাল

    ভূমিকা: বাংলার প্রকৃতিতে রূপের পসরা সাজিয়ে ঋতুর পরে ঋতু আসে। কখনো শীতের হিম হিম পরশ আর কুয়াশার চাদরে ঢাকা থেকে চারদিক। কখনো চৈতালি-বৈশাখি রোদ, আর ঝিঁ ঝিঁ পোকার গুঞ্জনে মুখরিত হয় সারাবেলা। কখনো আবার কাশফুলের শুভ্রতার সাথে একাকার হয়ে মিশে থাকে শরতের সাদা মেঘ। আবার কখনো ঝিরিঝিরি বৃষ্টির নাচন নাচাতে নাচাতে আসে বর্ষা। বর্ষায় বাংলার প্রকৃতি পায় নতুন মাত্রা। জরাজীর্ণ গ্রীষ্মক্লান্ত এ দেশের প্রকৃতিকে বর্ষা তার আপন প্রেমপেয়ালার পবিত্র জলে স্নান করিয়ে সিক্ত করে তোলে। জলরঙে রাঙিয়ে দেয় ধরণী।

    বর্ষাকাল পরিচিতি: বর্ষাকাল বাংলাদেশের ঋতুচক্রের দ্বিতীয় ঋতু। বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য মাসের শেষে শুকনো ধরণীকে সিক্ত করে বাংলার বুকে বর্ষার শুভ আগমন ঘটে। তখন আর গ্রীষ্মের কাঠফাটা দাবদাহ থাকে না। বাংলা আষাঢ় ও শ্রাবণ দুই মাস নিয়ে বর্ষাকাল, যার পুরোটা সময় জুড়েই থাকে ঝর ঝর বৃষ্টিধারার কানজুড়ানো ধ্বনি, আর কদম ফুলের অপরূপ সৌন্দর্য।

    বর্ষার কারণ: ঝিরিঝিরি বৃষ্টির ফোঁটা আমাদের কানে বর্ষার আগমন বার্তা জানান দিয়ে যায়। এ বৃষ্টির রয়েছে ভৌগোলিক কারণ। গ্রীষ্মকালে মৌসুমি বায়ু ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং উত্তর-পূর্বে বয়ে যায় প্রচুর পরিমাণে জলীয়বাষ্প বুকে ধরে। হিমালয়ের গায়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে তা বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।

    বাংলায় বর্ষার আগমন: বর্ষার আগমন বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য প্রতীক্ষার সমাপন। গ্রীষ্মের রোদে যখন প্রকৃতি শুষ্কপ্রায়, মৃতপ্রায়; একফোঁটা বৃষ্টির জন্য যখন মানুষ ‘আল্লাহ মেঘ দে, পানি দে’ বলে গান গেয়ে ওঠে; খরতাপে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত কুকুরটির যখন তৃষ্ণায় জিভ ঝুলে যায়, এক পশলা বৃষ্টি তখন নতুন মাত্রার ছন্দ নিয়ে অবসান ঘটায় সব প্রতীক্ষার। পরিপূর্ণতা দেয় সকল প্রত্যাশার আর শীতল করে দেয় সব তৃষ্ণার্ত হৃদয়ের উত্তাপকে। অদ্ভূত সুন্দর শিহরণে শিহরিত হয় প্রকৃতি। টিনের চালের ঝুম বৃষ্টির নৃত্যে মুখরিত হয় গ্রামবাংলা। সাথে নেচে ওঠে বর্ষা-প্রেমিক মানুষগুলোর মন।

    বর্ষার প্রকৃতি: বর্ষার বৃষ্টিভেজা বাতাস শিহরিয়ে দিয়ে যায় প্রকৃতিকে। গ্রীষ্মের তাপে জরাজীর্ণ উদ্ভিদ বর্ষার নবীন মেঘের আহ্বানে নাচতে থাকে হেলেদুলে। বহুদিনের প্রতীক্ষিত বারিধারায় রোমাঞ্চিত হয় নগর-পল্লীর বৃক্ষরাজি।

    বর্ষায় পল্লীর রূপ-বৈচিত্র্য: বর্ষায় শহরে ও গ্রামে আলাদা আলাদা চিত্র ফুটে ওঠে। পল্লীর প্রকৃতি বর্ষার অপার সৌন্দর্যে শোভামন্ডিত। পুকুর, খাল, বিল বৃষ্টির পানিতে টইটুম্বুর থাকে। বৃক্ষরাজির ওপর বৃষ্টির ফোঁটা পড়ে কী যে অনাবিল শোভার সৃষ্টি করে তা সত্যিই হৃদয় পাগল করা। মাতাল হাওয়া যখন বাঁশবনে তার পরশ বুলিয়ে যায়, তখন বিরহিনীর আকুল হৃদয় প্রিয়জনকে কাছে পাওয়ার প্রত্যাশায় ব্যাকুল হয়ে ওঠে। পল্লী কবি জসীম উদ্দীনের কবিতা ‘পল্লীবর্ষা’য় এই রূপে ফুটে উঠেছে নিবিড় যত্নের সাথে। তিনি বলেছেন- ‘বেনুবনে বায়ু নাড়ে এলোকেশ, মন যেন চায় কারে।’

    বর্ষায় পল্লীর জনজীবন: বর্ষাকাল গ্রামীণ মানুষদেরকে অনেক বেশি ঘরমুখো করে দেয়। পাড়ার পুরুষ মানুষরা চায়ের দোকানে বসে পুরনো দিনের গল্প আড্ডায় মেতে ওঠে। রমনীরা ঘরে বসে নকসী কাঁথায় ফুল তোলে। অনেকটা আলস্যে কেটে যায় দিন।

    শহর জীবনে বর্ষা: শহরের গৎবাঁধা যান্ত্রিক জীবনে বর্ষা কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলে। বর্ষার বৃষ্টি শহরের আকাশে বাতাসে উড়ে চলা ধূলোবালিকে অনেকটাই বশ করে ফেলে। এই একটা ঋতুতেই কেবল শহরের ব্যস্ত মানুষগুলো একটু নির্মল হাওয়ায় নিঃশ্বাস ফেলতে পারে। তবে বর্ষায় শহরের রাস্তাঘাট অল্প বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় যা মানুষের চলার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

    বর্ষায় বাংলার নদ-নদী: বর্ষাকালে বাংলার নদ-নদী পূর্ণযৌবনা হয়ে ওঠে। কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে এ সময় নদী তার আসল সৌন্দর্য খুঁজে পায়। নদীর পাড়ের সবুজ ঘাস আরো সবুজ হয়ে ওঠে। যতদূর চোখ যায় শুধু পানি, তারপর লম্বা একটি গ্রামের রেখা, তার উপরে শুধু মেঘ আর মেঘ।

    বর্ষার ফুলফল: সৌন্দর্যের রেনু খুলে বর্ষায় ফোঁটে কদম ফুল, যা বর্ষার রূপকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। পল্লীকবি জসীম উদ্দীন-এর ভাষায়- ‘কাহার ঝিয়ারি কদম্ব-শাখে নিঝুম নিরালায়, ছোট ছোট রেণু খুলিয়া দিয়াছে, অস্ফুট কলিকায়।’ এ সময় বিলে ঝিলে ফোটে শাপলা-শালুক। হিজল আর কেয়াফুলের অরূপ দৃশ্য বর্ষাকে দেয় নতুন মাত্রা। বর্ষার ফলের মধ্যে অন্যতম ফল আনারস, আমড়া, পেয়ারা প্রভৃতি।

    কাব্যে ছন্দে বর্ষার প্রকৃতি: বর্ষার প্রকৃতি হৃদয় কাড়তে জানে। এর রূপের আকর্ষণ উতলা করে মানবমন। প্রাণোচ্ছল কিশোরীকে টেনে আনে ঘরের বাইরে। তখন তার বৃষ্টিভেজা নূপুরের নিক্কন আরো মধুর সুরে বাজতে থাকে। তা শুনে কবি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না, বন্ধ করে রাখতে পারেন না আর কবিতার খাতা। শিল্পীর সুর আর বাঁধ মানে না। ঝুম বৃষ্টির সাথে তার কণ্ঠ মিলেমিশে একাকার হয়ে দূর দিগন্তে মিলিয়ে যায়। বাংলার সাহিত্য, সংগীত এভাবেই সিক্ত হয়ে আছে বর্ষার বৃষ্টিতে।

    বর্ষার আশির্বাদ: বর্ষাকাল বাংলাদেশের জন্য বয়ে নিয়ে আসে অপার সম্ভাবনার বার্তা। নদীর ফেঁপে ওঠা জোয়ারের পানি প্রচুর পলি জমায় বাংলার মাটিতে, যা নিয়ে আসে শস্য-প্রাচুর্যের বার্তা। বর্ষার পানিতে সতেজ হয়ে ওঠে ফসলের মাঠ আর হাসি ফোটে কৃষকের মুখে।

    বাংলা সংস্কৃতিতে বর্ষার প্রভাব: বাংলার সংস্কৃতিতে একাকার হয়ে মিশে আছে বর্ষা ঋতুর ভেজা সৌন্দর্য। বর্ষাকে নিয়ে বাংলায় যতো গান রচিত হয়েছে, অন্য কোনো ঋতু নিয়ে তা হয়নি। রবীন্দ্র সাহিত্যের একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে বর্ষা ঋতুর বন্দনা, বর্ষার সৌন্দর্য বন্দনা। রবীন্দ্রনাথের ‘পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে’ কিংবা ‘আজি ঝরো ঝরো মুখর ভাদর দিনে’ প্রভৃতি গান আজও বৃষ্টির দিনে আমাদের ভাবনার জগতে টেনে নেয়। পল্লী কবি জসীম উদ্দীন পল্লীর আরশিতে বর্ষাকে যেভাবে প্রতিফলিত করেছেন তা সত্যিই অতুলনীয়।

    বর্ষার অপকারী দিক: বর্ষাকাল সব সময়ই বাঙালির মুখে হাসি ফোটায় তা নয়। খরস্রোতা নদী মাঝে মাঝে লাগামছাড়া হয়ে বান ডাকে, ভাসিয়ে নেয় উপকূলের অনেক মানুষের বসতবাড়ি। অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন-জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো, ঘুর্ণিঝড় ইত্যাদি বর্ষাকালেই বেশি আঘাত হানে। অতিবৃষ্টির ফলে অনেক সময় ফসল নষ্ট হতে পারে, আবার কখনো তা মানব জীবনে স্থবিরতা এনে দেয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর অনেক মহামারী ছড়িয়ে জনজীবনকে বিষিয়ে তোলে।

    উপসংহার: বর্ষার রূপ, রং, ভেজা গন্ধ-সব কিছুই আপন মহিমা আর সৌন্দর্যে ভাস্বর। বাংলার বর্ষাকাল কিছু কিছু ক্ষেত্রে জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেললেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা ইতিবাচক। বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চাবিকাঠি কৃষি অনেকাংশেই বর্ষার কাছে ঋণী। বাংলাদেশের অন্য কোনো ঋতুকেই আমরা এতটা গভীরভাবে দেহ, মন ও অনুভূতির সাথে মিলিয়ে নিতে পারি না। তাই বর্ষা অনেকের কাছেই প্রিয় ঋতু হিসেবে বিবেচিত।

    See less
      • 0
  • 1
  • 3,023
  • 0
Answer
In: শিক্ষা

বায়ু দূষণ রচনা | bengali essay on air pollution

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on January 25, 2020 at 1:20 pm

    ভূমিকা : মানুষের হাতেই যেন ঝলসে ওঠেছে মানুষের মৃত্যুবাণ। নিজেই সে করতে চলেছে নিজের ধ্বংস সাধন। নইলে কেন আজ শুনা যায় সভ্যতার নাভিশ্বাস ? সর্বং সহা পৃথিবী যেন আজ হারিয়ে ফেলেছে তার সহ্যের সীমা। নিজের সর্বগ্রাসী ক্ষুধা মিটাতেই মানুষ আজ নিঙড়ে নিচ্ছে পৃথিবীতে। এতে কার হচ্ছে সর্বনাশ ? কার ভবিষ্যৎ হয়ে পRead more

    ভূমিকা : মানুষের হাতেই যেন ঝলসে ওঠেছে মানুষের মৃত্যুবাণ। নিজেই
    সে করতে চলেছে নিজের ধ্বংস সাধন। নইলে কেন আজ শুনা যায় সভ্যতার
    নাভিশ্বাস ? সর্বং সহা পৃথিবী যেন আজ হারিয়ে ফেলেছে তার সহ্যের সীমা। নিজের
    সর্বগ্রাসী ক্ষুধা মিটাতেই মানুষ আজ নিঙড়ে নিচ্ছে পৃথিবীতে। এতে কার হচ্ছে
    সর্বনাশ ? কার ভবিষ্যৎ হয়ে পড়েছে বিপন্ন ? আজ পৃথিবীর হাজারও সমস্যার মধ্যে
    যেটা সবচাইতে বড় সমস্যা সেটাই হচ্ছে পরিবেশ দূষণ।

    বায়ু দূষণ – প্রাকৃতিক পরিবেশ আজ যে ছিন্নমস্তা রূপ ধারণ করতে
    চলেছে তার মূলে রয়েছে বায়ু দূষণ। প্রাণী জগতে প্রাণ ধারণের জন্য প্রয়ােজন নিল
    বায়ুর। জল ও খাদ্য ছাড়া মানুষ দু-চার দিন বেঁচে থাকতে পারে কিন্তু বায়ু অর্থাৎ
    বাতাস ছাড়া মানুষ বা প্রাণী এক মুহূর্তও বেচে থাকতে পারে না। বায়ু দুষিত হলে
    অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায় আর তার সঙ্গে আনুষঙ্গিক দুষিত গ্যাস আমাদের
    দেহে প্রবেশ করবে। এই অক্সিজেনের যােগান দেয় গাছ-পালা, এজন্য প্রাণী জগৎ বেঁচে
    আছে। তাই অরণ্য হল মানব জগতের ফুসফুস। সে অরণা আজ ফবংসের মুখে।
    মানুষ একদিন প্রয়ােজনের তাগিদে অরণ্য কেটে বসতি স্থাপন করেছিল আর
    আজ তাদের আগ্রাসী মনোভাবের জন্য করেছে অরণ্য ছেদন। যান্ত্রিক সভ্যতায় কল
    কারখানার ধোঁয়া, অপরিচ্ছন্ন শহরের ধুলা-বালু, রাস্তার ধারে জ্বালানাে কয়লার ঘোষ
    ইত্যাদি বাতাসকে করছে বিষাক্ত। ফলে আবহাওয়ার তাপমাত্রা ক্রম বর্ধমান, অকাল
    বর্ষণ, ঘূর্ণিঝড় এর মূলে বায়ু দূষণের অভিশাপ। এই দূষিত বায়ু নিশ্বাসকে নিষ্ট করে
    ফুসফুসকে দ্রুত জীর্ণ করে দেয়, ফলে শ্বাস রােগ, ফুসফুসের ক্যান্সার ইত্যাদি রােগ
    দেখা দেয়।

    See less
      • -10
  • 1
  • 10,481
  • 0
Answer
In: শিক্ষা

আসামের বিহু উৎসব | bihu festival essay in bengali

  1. Akmal Mahmud Shah
    Akmal Mahmud Shah
    Added an answer on March 3, 2020 at 10:10 pm
    This answer was edited.

    আসামের বিহু উৎসব ভূমিকাঃ প্রত্যেক জাতিরই আনন্দ উপভােগ করবার এক একটি উৎসব। আছে যার মধ্যদিয়ে সেই জাতির জীবনের একটি সামগ্রিক পরিচয় পাওয়া যায়, যে উৎসবে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ অংশ গ্রহণ করে, তাকেই জাতীয় উৎসব বলে। বিহু প্রকৃতই আসামের জাতীয় উৎসব। উৎসবের দিন। প্রতRead more

    আসামের বিহু উৎসব

    ভূমিকাঃ প্রত্যেক জাতিরই আনন্দ উপভােগ করবার এক একটি উৎসব। আছে যার মধ্যদিয়ে সেই জাতির জীবনের একটি সামগ্রিক পরিচয় পাওয়া যায়, যে উৎসবে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ অংশ গ্রহণ করে, তাকেই জাতীয় উৎসব বলে। বিহু প্রকৃতই আসামের জাতীয় উৎসব। উৎসবের দিন। প্রতিদিনের মালিন্য দূর করে, আত্মপরায়ণ জীবনের সংকীর্ণ গণ্ডী ত্যাগ করে বৃহত্তর কল্যাণের জন্য মানুষ মিলিত হন। এই উৎসব কল্যাণ ও মিলনের উৎসব। এতে অসমীয়া জনসাধারণ অপরিমেয় উৎসাহে উৎসব-অঙ্গনে সমবেত হন।

    বিহু উৎসবের উদ্ভব কাল : কোন সময় থেকে আসামে বিহুর প্রচলন হয়েছে তা প্রাচীন ইতিহাসের বিষয়। তাই নিশ্চিত করে তার সময় নির্দেশ করা যায় না। আদিম কৌম সমাজের বিশ্বাস ও সংস্কার যে এর মূলে রয়েছে সে বিষয়ে পণ্ডিতগণ একমত। বিহু কৃষি প্রধান সমাজের উৎসব। ধরিত্রীর উর্বরতা ও সৃষ্টিশীলতার জন্য প্রার্থনাই এর উৎস। এটা সকল দেশের আদিম সমাজের সাধারণ বৈশিষ্ট্য। আসামের বিহু উৎসব আজও সেই স্মৃতি বহন করে চলছে।

    বিহুর প্রকার ভেদ : বিহু উৎসবের সূচনা হয় বৎসরের শেষ দিন অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তিতে। যা কিছু পুরাতন তার বিসর্জন ও নবীনের প্রাণময় আবির্ভাব – এ কামনা বিহু উৎসবের ভিত্তি। ‘বিহু’ শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে ‘বিষুব’ শব্দ থেকে। এই উৎসব বৎসরে তিনবার অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে, এ জন্য বলা যায় বিহু উৎসব তিন প্রকার

    ‘বহাগ বিহু’ বা ‘রঙ্গালী বিহু’, ‘মাঘ বিহু’ বা ‘ভােগালী বিহু’ এবং ‘কার্তিক বিহু’ বা ‘কাঙ্গালী বিহু’ । বিহু উৎসবের সঙ্গে ঋতু প্রকৃতির সম্পর্কও গভীর। বিহু মুখ্যত সৃষ্টি কামনার উৎসব। তাই কৃষি প্রধান সমাজের প্রার্থনার মধ্য দিয়ে মূর্ত হয়ে উঠে।

    উৎসবের বিবরণ : রঙ্গালী বিহু – চৈত্র মাসের সংক্রান্তিতে আরম্ভ হয়ে বৈশাখ মাসের ছয় তারিখ পর্যন্ত মােট সাতদিন এই উৎসব পালিত হয়। এ উৎসব। অবাদ আনন্দের উৎসব।।

    আসামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনুপম। বসন্ত সমাগমে প্রকৃতি এখানে অপরূপ সাজে সজ্জিত হয়ে সকলকে মােহিত করে। এরূপ মনােরম প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে উৎসবটি আরম্ভ হয়। রঙ্গালী বিহুর প্রথম দিনটিতে রাত্রি প্রভাতেই স্নান-দানাদি ও পজা অর্চনা করা হয়। তাছাড়া গৃহপালিত গরুগুলিকেও স্নান ও যত্ন পরিচর্চা করে সাজানাে হয়। তাই রঙ্গালী বিহুর প্রথম দিনটিকে ‘গাে-বিহু’ও বলা হয়। দ্বিতীয় দিন থেকে নব বস্ত্র পরিধান করে শুরু হয় আবালবৃদ্ধবনিতার আনন্দোৎসব। এই দিন আত্মীয় স্বজন, বন্ধু-বান্ধবকে নিমন্ত্রণ করে সাধ্যানুসারে পান ভােজন ইত্যাদি চলে। উৎসব উপলক্ষে সহস্তে প্রস্তুত ‘গামছা প্রীতির স্মারক হিসেবে উপহার দেওয়া হয়।

    রঙ্গালী বিহুর নৃত্য গীতি :- ‘রঙালী’ বিহু নৃত্য-গীতের বাহুল্য লক্ষ্য করা যায়। এই উৎসবে নৃত্য-সঙ্গীতে যৌবনের বাসনা-কামনার ভাবােচ্ছল প্রকাশ ঘটে। প্রেমের, মিলন-বিরহের নানা পর্যায় এই লােক সঙ্গীতগুলির মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়। উর্বরা ও উৎপাদনের প্রাণাবেগপূর্ণ এই বিহু উৎসব অসমীয়াদের জীবনে অত্যন্ত আনন্দের প্লাবন ডেকে আনে। লাল রঙের মেখলা তরুণীরা প্রণয়ী যুবকের ঢোল, করতাল ও বাঁশির ছন্দে যখন নৃত্য-চপল হয়ে উঠে তখন সত্যই মনােমুগ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

    ভােগালী বিহু বা মাঘ বিহুর বিবরণ : আসামে মাঘ মাসের সংক্রান্তিতে ‘মাঘ বিহু’ উৎসব পালিত হয়ে থাকে। মাঘ বিহু’ চিন্তাহীনতার উৎসব। করণ এসময়ে কৃষকের ঘরে ঘরে পূর্ণ শস্য ভাণ্ডার। ‘ভােগালী বিহু’তে আহারের দিকটাই প্রধান থাকে। বিহুর পূর্বদিন মহিলারা নানা প্রকার পিঠা তৈরিতে ব্যস্ত থাকে। পুরুষ লােকেরা নদী, বিল, হাওয়রে মাছ ধরতে ব্যস্ত থাকে। তাছাড়া পূর্বদিন মাঠ বা বাসস্থান হতে কিছু দুরে বাঁশ, কাঠ, লতা, পাতা, খড় ইত্যাদি দিয়ে ‘মেজি’ বা ‘মেড়ামেড়ি ঘর’ তৈরি করে। আজকাল ওই রাত্রটি নাচে গানে আর নৃত্যে ভরপুর করে তুলে। পরের দিন অর্থাৎ বিহু বা সংক্রান্তির দিন ভােরবেলা উঠে যুবক ও বালকগণ স্নান করে ও ওই মেজিতে আগুন দিয়ে আনন্দ উপভােগ করে। তারপর ষাড়ের লড়াই, মুরগীর লড়াই ইত্যাদি ও প্রদর্শন করানাে হয়। ঘরে ঘরে প্রস্তুত হয় সুস্বাদু আহার – পিঠা, সন্দেশ, নাড় পরমান্ন। নিজে খেয়ে অন্যদের খাওয়ায়ে অমনি তৃপ্তি লাভ করে। অবসরের দিনগুলিতে গ্রামের প্রান্তরে নানা প্রকার খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়। তাই মাঘমাসের বিহুর ভােগালী বিহু নাম সার্থক।

    কার্তিক বিহু বা কাঙালী বিহু : আশ্বিন ও কার্তিক মাসের সংক্রান্তিতে কার্তিক বিহু বা কাঙালী বিহু পালিত হয়। এতে আনন্দ উল্লাস ও ভােগ প্রাচুর্য নেই বললেও চলে। তাই বুঝি এর নাম কাঙালী বিহু। আড়ম্বর-বিলাস কম হলেও এই বিহুটিও তাৎপর্যপূর্ণ। শারদ প্রকৃতির অমলিন স্নিগ্ধতা ও পবিত্রতা কাঙালী বিহুর ভাব রূপ। কৃষকের ঘরে শষ্যভাণ্ডার প্রায় রিক্ত, নতুন ফসলের সঞ্চয় দূরবর্তী। তাই এই বিহুতে ভােগ বিলাসের পরিবর্তে একটি আধ্যাত্মিক ভাব প্রকাশ পায়। আকাশ প্রদীপ জ্বালানাে হয়, তুলসীতলায় ধূপদীপ জ্বেলে সমবেত কণ্ঠে ‘নামগান করা হয়। সমস্ত কার্তিক মাস ধরেই এভাবে চলে।

    বিহু উৎসবের তাৎপর্য : আসামে পালিত হওয়া তিনটি বিহু উৎসবের সঙ্গে বিষুবীয় ঋতুর সম্পর্ক আছে। তিনটি বিহু উৎসব সুর্যের তিনটি বিশেষ অবস্থানকালে পালিত হয়। সেজন্য কোন কোন পণ্ডিতের মতে ‘বিষুব’ শব্দ থেকেই ‘বিহু’ শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে। বিহু উৎসবের আচার-অনুষ্ঠান, নাচ-গান, উৎসবের কাল প্রভৃতি বিচার করলে বােঝা যায় যে বিহু মূলত কৃষি উৎসব।

    উপসংহারঃ বিহু গীত ও বিহু নাচ অসমীয়া সংস্কৃতির একটি বিশিষ্ট রূপময় প্রকাশ । বিহু উৎসব একদিকে যেমন আধ্যাত্মিক শান্তি-কামনার উৎসব, তেমনি আবার যুবক-যুবতীর নৃত্যগীতে শক্তি ও স্বাধীনতার আভাস পাওয়া যায়। অতি প্রাচীন কাল হতে আসাম নানা ভাষা, নানা জাতি ও ধর্মের লােকগুলিকে আশ্রয় দিয়েছে। বিহু উৎসবে তারা সবাই ধর্মীয় ও অন্যান্য বিভেদ ভুলে অসমীয়া সংস্কৃতির মিলনমেলায় অংশগ্রহণ করে।

    See less
      • 0
  • 1
  • 20,562
  • 0
Answer
Load More Questions

Sidebar

আরও দেখুন

  • রচনা : শিশু শ্রম | Child Labour Paragraph in Bengali?
  • আসামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রচনা | Natural Beauty of Assam Essay in Bengali Language?
  • আসামের প্রাকৃতিক সম্পদ রচনা | Natural resources of assam essay in bengali language?
  • রচনাঃ অসমের বন্যা ও তার প্রতিকার | Flood in Assam Essay in Bengali?
  • রচনাঃ ভয়ংকর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয় | Prakritik Biporjoy Essay in Bengali?
  • রচনাঃ জাতীয় সংহতি ও বিচ্ছিন্নতাবাদ | Jatiya Sanhati Essay in Bengali or National Integration Essay in Bengali?
  • রচনা : একটি পাখির আত্মকথা | Autobiography of a Bird in Bengali
  • রচনা : বনভোজন | Bengali essay on Picnic for School student?
  • রচনা : শিক্ষা মূলক ভ্রমণ | Shikha mulok bhraman essay in Bengali
  • রচনা : দেশ ভ্রমণ | Essay on Travelling in Bengali for school student?
  • সংকিপ্ত রচনা : কুকুর | Short Essay on Dog in Bengali
  • রচনা : আমার মা | Amar Maa Bengali Essay for school student?
  • রচনা : একটি গাছ একটি প্রাণ | One tree one life paragraph in Bengali
  • রচনা : আমার প্রিয় খেলা ব্যাডমিন্টন | Amar Priyo Khela Badminton Essay in Bengali
  • রচনাঃ গ্রন্থাগার বা লাইব্রেরী | Library Essay in Bengali language
  • রচনাঃ একটি নদীর আত্মকথা | Autobiography of a river in Bengali
  • রচনাঃ একটি বট গাছের আত্মকথা | Autobiography of a banyan tree in bengali
  • গরু রচনা | Goru rochona in bengali or shonkipto bangla guru rachana
  • রচনা : পরিবেশ সংরক্ষণ ও তার প্রয়োজনীয়তা | Write an essay on environment in bengali
  • রচনা : আমার পরিবার | Essay on my family in bengali
Join us on Telegram
Join our FaceBook Group

বিষয়

All Bangla Paragraph (105) Apurba Dutta Poems (4) Bangla application format (11) Bangla Choto Golpo (7) Bangla dorkhasto lekha (11) Bangla gazal lyrics (8) Bangla GK (177) Bangla Kobita (203) Bangla Rachana (105) baul gaan lyrics (6) baul song lyrics (6) Bengali antonyms (40) Bengali Essay (105) Bengali letter Writing (11) Bengali lullaby lyrics (3) bengali lyrics (82) Bengali Meaning (259) bengali poem (14) Bengali Poems (124) Bengali Poem Summary (21) Bengali Rachana (99) Bengali short story (7) bengali song lyrics (98) bengali song lyrics in bengali (98) Bengali synonyms (33) chandrabindu lyrics (2) English grammar in Bengali (6) English to Bengali Meaning (270) English to Bengali Translation (256) Essay (75) Full form (14) general knowledge bengali (7) indian history in bengali (9) Joy Goswami kobita (4) kazi nazrul islamer kobita (8) Kobita (143) lyrics (17) Myth (3) nirendranath chakraborty poem (5) Nirmalendu Goon Poems (6) Paragraph (20) Parts of speech in Bengali (6) Pod Poriborton (39) Poem (3) poem summary in bengali (21) rabindranath tagore poems (57) Rabindra Sangeet lyrics (5) shakti chattopadhyay poems (7) Social Science (6) Somarthok Shobdo (33) Somas Bangla Grammar (15) sukanta bhattacharya kobita (4) Sukumar Roy Poem (16) Summary (8) অনুচ্ছেদ (127) অপূর্ব দত্তের কবিতা (4) আধ্যাত্মিক (10) ইংরেজি অনুবাদ (6) ইংরেজি থেকে বাংলা (6) ইংলিশ বাংলা অনুবাদ (6) ইন্টারনেট (1) ইসলাম (18) ইসলাম ধর্মীয় প্রশ্ন উত্তর (18) ইসলামী নাত ও গজল (8) ইসলামী সংগীত লিরিক্স (8) কবিতা (26) কবিতার সারাংশ ও সারমর্ম (21) কাজী নজরুল ইসলাম (8) কুসংস্কার (3) গানের কথা (14) ঘুম পাড়ানি গান lyrics (3) ছোটগল্প (7) জয় গোস্বামী (4) জয় গোস্বামীর কবিতা (4) জেনারেল নলেজ (7) জেনারেল নলেজ প্রশ্ন ও উত্তর (39) নির্মলেন্দু গুণের কবিতা (6) নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কবিতা (5) পদ পরিবর্তন (39) পূর্ণরূপ (14) প্রকৃতি (17) প্রক্রিতি (23) ফলমূল (28) ফুল ফর্ম (14) বাংলা general knowledge (52) বাংলা অর্থ (275) বাংলা আবেদন পত্র (11) বাংলা কবিতা (219) বাংলা কবিতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (68) বাংলা গান লিরিক্স (97) বাংলা গানের লিরিক্স (98) বাংলা ছোট গল্প (7) বাংলা দরখাস্ত নমুনা (11) বাংলা প্রবন্ধ (97) বাংলা বাক্য রচনা (176) বাংলা বিপরীত শব্দ (40) বাংলা রচনা (127) বাউল গান লিরিক্স (6) বাক্য রচনা (176) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (1) বিজ্ঞান শিক্ষা (17) বিপরীত শব্দ (40) বোঝাপড়া কবিতা (3) ব্যাখ্যা (8) ভক্তিভাজন (10) ভারতের ইতিহাস (9) ভূগোল (5) মধ্যযুগের ভারতের ইতিহাস (9) মূলভাব (8) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (34) রবীন্দ্রসংগীত (1) রবীন্দ্র সংগীত লিরিক্স (5) লিরিক্স (17) শক্তি চট্টোপাধ্যায় kobita (7) শঙ্খ ঘোষ (8) শুভ দাশগুপ্ত (7) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত (5) সন্ধি বিচ্ছেদ (8) সন্ধি বিচ্ছেদ ব্যবহার (8) সমাজ বিজ্ঞান (6) সমার্থক শব্দ (33) সমাস (15) সারাংশ (8) সুকান্তের কবিতা (4) সুকুমার রায় (16)

Footer

© 2025 Bengali Forum · All rights reserved. Contact Us