Sign Up

Continue with Google
or use


Have an account? Sign In Now

Sign In

Continue with Google
or use


Forgot Password?

Don't have account, Sign Up Here

Forgot Password

Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.


Have an account? Sign In Now

Sorry, you do not have permission to ask a question, You must login to ask a question.

Continue with Google
or use


Forgot Password?

Need An Account, Sign Up Here

Please briefly explain why you feel this question should be reported.

Please briefly explain why you feel this answer should be reported.

Please briefly explain why you feel this user should be reported.

Bengali Forum Logo Bengali Forum Logo
Sign InSign Up

Bengali Forum

Bengali Forum Navigation

  • বিষয়
  • ব্লগ
  • হযবরল
Search
Ask A Question

Mobile menu

Close
Ask A Question
  • বাংলা অভিধান
  • সাহিত্য
  • শিক্ষা
  • রচনা
  • সাধারণ জ্ঞান
  • ইংলিশ টু বাংলা
  • বিজ্ঞান
  • বাংলা কুইজ
  • ধৰ্ম ও সংস্কৃতি
  • ইতিহাস
  • মতামত

Bengali Forum Latest Questions

In: সাহিত্য

কবিতাঃ আড়ালে (শঙ্খ ঘোষ) Bengali poem Arale Sankha Ghosh

  1. Nibedita Paul
    Nibedita Paul
    Added an answer on April 21, 2020 at 8:19 am

    আড়ালে (শঙ্খ ঘোষ দুপুরে রুক্ষ গাছের পাতার কোমলতাগুলি হারালে- তোমাকে বকব, ভীষণ বকব আড়ালে । যখন যা চাই তখুনি তা চাই । তা যদি না হবে তাহলে বাঁচাই মিথ্যে, আমার সকল আশায় নিয়মেরা যদি নিয়ম শাসায় দগ্ধ হাওয়ার কৃপণ আঙুলে- তাহলে শুকনো জীবনের মূলে বিশ্বাস নেই, সে জীবন ছাই! মেঘের কোমল করুণ দুপুর সূর্যে আঙুল বাড়ালRead more

    আড়ালে (শঙ্খ ঘোষ

    দুপুরে রুক্ষ গাছের পাতার
    কোমলতাগুলি হারালে-
    তোমাকে বকব, ভীষণ বকব
    আড়ালে ।
    যখন যা চাই তখুনি তা চাই ।
    তা যদি না হবে তাহলে বাঁচাই
    মিথ্যে, আমার সকল আশায়
    নিয়মেরা যদি নিয়ম শাসায়
    দগ্ধ হাওয়ার কৃপণ আঙুলে-
    তাহলে শুকনো জীবনের মূলে
    বিশ্বাস নেই, সে জীবন ছাই!
    মেঘের কোমল করুণ দুপুর
    সূর্যে আঙুল বাড়ালে-
    তোমাকে বকব, ভীষণ বকব
    আড়ালে ।।

    English Transliteration:

    Dupure rukko gacher patar
    komolotaguli harale
    tomake bokbo, vishon bokbo
    aarale.
    Jokhon ja chai takhon e ta chai
    ta jodi na hobe tahole bachai
    mitthe, Amar shokol aashay
    Niyomera jodi niyom shashay
    Dogdo hawar kripon aangule
    tahole shukno jiboner mule
    bishash nei, she jibon cai.
    Megher komol karun dupur
    Shurje aangul barale
    tomake bokbo, vishon bokbo
    aarale

    See less
      • 0
  • 1
  • 3,516
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

কবিতা‎ – সঙ্গিনী (শঙ্খ ঘোষ) Sangini by Sankha Ghosh Poem in Bengali

  1. Nibedita Paul
    Nibedita Paul
    Added an answer on April 21, 2020 at 8:00 am
    This answer was edited.

    সঙ্গিনী - শঙ্খ ঘোষ হাতের উপর হাত রাখা খুব সহজ নয় সারা জীবন বইতে পারা সহজ নয় এ কথা খুব সহজ, কিন্তু কে না জানে সহজ কথা ঠিক ততটা সহজ নয় | পায়ের ভিতর মাতাল, আমার পায়ের নিচে মাতাল, এই মদের কাছে সবাই ঋণী –-- ঝলমলে ঘোর দুপুরবেলাও সঙ্গে থাকে হাঁ-করা ওই গঙ্গাতীরের চণ্ডালিনী | সেই সনাতন ভরসাহীন অশ্রুহীনা তুমিRead more

    সঙ্গিনী – শঙ্খ ঘোষ

    হাতের উপর হাত রাখা খুব সহজ নয়
    সারা জীবন বইতে পারা সহজ নয়
    এ কথা খুব সহজ, কিন্তু কে না জানে
    সহজ কথা ঠিক ততটা সহজ নয় |

    পায়ের ভিতর মাতাল, আমার পায়ের নিচে
    মাতাল, এই মদের কাছে সবাই ঋণী ––
    ঝলমলে ঘোর দুপুরবেলাও সঙ্গে থাকে
    হাঁ-করা ওই গঙ্গাতীরের চণ্ডালিনী |

    সেই সনাতন ভরসাহীন অশ্রুহীনা
    তুমিই আমার সব সময়ের সঙ্গিনী না ?
    তুমি আমায় সুখ দেবে তা সহজ নয়
    তুমি আমায় দুঃখ দেবে সহজ নয় |

    English Transliteration:

    Hater upore haat rakha khub shohoj noy
    Shara jibon boite para shohoj noy
    E kotha khub shohoj, Kintu ke na jane
    Shohoj kotha thik totota shohoj noy.

    payer vitor matal, amar payer niche
    matal, Ei moder kache shobai rini
    Jholmole ghur dupur bela o shonge thake
    Ha kora oi ganga tirer chondalini.

    Shei shonaton bhoroshahin osruhina
    tumi e amar shob shomoyer shongi na?
    Tumi amay shukh debe ta shohoj noy
    Tumi amay dukkho debe shohoj noy.

    See less
      • 0
  • 1
  • 21,455
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

কবিতাঃ মেঘ (শঙ্খ ঘোষ) Megh by Shankha Ghosh lyrics

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on April 21, 2020 at 5:06 am
    This answer was edited.

    মেঘ (শঙ্খ ঘোষ) ও আমার মেঘলা আকাশ এতো দিন কোথায় ছিলে ! এতো যে রাত্র দিনে ডাকছি সবাই মিলে। চোখে জল ছুটছে নোনা কিছু কি তাই মান না। দিয়ে যাও এক ঘটি জল আমাদের শুকনো বিলে ও আমার মেঘলা আকাশ এতো দিন কোথায় ছিলে ! ও আমার মেঘলা আকাশ তুমি কি সেই মেঘলা ঝরাতে সেই পদ্দায় জল , ভরাতে যেই মেঘনা। সেই ধারা কোথায় গেলো তRead more

    মেঘ (শঙ্খ ঘোষ)

    ও আমার মেঘলা আকাশ
    এতো দিন কোথায় ছিলে !
    এতো যে রাত্র দিনে
    ডাকছি সবাই মিলে।
    চোখে জল ছুটছে নোনা
    কিছু কি তাই মান না।
    দিয়ে যাও এক ঘটি জল
    আমাদের শুকনো বিলে
    ও আমার মেঘলা আকাশ
    এতো দিন কোথায় ছিলে !
    ও আমার মেঘলা আকাশ
    তুমি কি সেই মেঘলা
    ঝরাতে সেই পদ্দায় জল ,
    ভরাতে যেই মেঘনা।
    সেই ধারা কোথায় গেলো
    তুমি কি অন্ধ হলে
    আমাদের ত্যাগ করেছো
    আমরা মন্দ হলে ,
    ভালো আর হই কি করে
    দু ফুটা জল না পেলে।
    ও আমার মেঘলা আকাশ
    এতো দিন কোথায় ছিলে

     

    See less
      • 0
  • 1
  • 26,811
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

মিথ্যে কথা (শঙ্খ ঘোষ) Mithye Katha by Shankha Ghosh lyrics

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on April 21, 2020 at 4:09 am

    মিথ্যে কথা - শঙ্খ ঘোষ লোকে আমায় ভালোই বলে দিব্যি চলনসই দোষের মধ্যে একটু নাকি মিথ্যে কথা কই। ঘাটশিলাতে যাবার পথে ট্রেন-ছুটছে যখন মায়ের কাছে বাবার কাছে করছি বকম বকম। হঠাৎ দেখি মাঠের মধ্যে চলন্ত সব গাছে এক একরকম ভঙ্গি ফোটে এক একরকম নাচে। “ওমা , দেখো নৃত্যনাট্য” -যেই বলেছি আমি মা বকে দেয় , “বড্ড তোমার বRead more

    মিথ্যে কথা – শঙ্খ ঘোষ

    লোকে আমায় ভালোই বলে দিব্যি চলনসই
    দোষের মধ্যে একটু নাকি মিথ্যে কথা কই।
    ঘাটশিলাতে যাবার পথে ট্রেন-ছুটছে যখন
    মায়ের কাছে বাবার কাছে করছি বকম বকম।

    হঠাৎ দেখি মাঠের মধ্যে চলন্ত সব গাছে
    এক একরকম ভঙ্গি ফোটে এক একরকম নাচে।
    “ওমা , দেখো নৃত্যনাট্য” -যেই বলেছি আমি
    মা বকে দেয় , “বড্ড তোমার বেড়েছে ফাজলামি।”

    চিড়িয়াখানার নাম জানো তো আমার সেজ মেসোর
    আদর করে দেখিয়ে দিলেন পশুরাজের কেশর।
    ক’দিন পরে চুন খসানো দেয়াল জুড়ে এ কী
    ঠিক অবিকল সেইরকমই মূর্তি যেন দেখি ?

    ক্লাসের মধ্যে যেই বলেছি সুরঞ্জনার কাছে
    “জানিস ? আমার ঘরের মধ্যে সিংহ বাঁধা আছে !”
    শুনতে পেয়ে দিদিমণি অমনি বলেন “শোন ,
    এসব কথা আবার যেন না শুনি কখনো।”

    বলি না তাই সে সব কথা সামলে থাকি খুব
    কিন্তু সেদিন হয়েছে কি এমনি বেয়াকুব-
    আকাশপারে আবার ও চোখ গিয়েছে আটকে
    শরৎ মেঘে দেখতে পেলাম রবীন্দ্রনাথকে।

     

    English transliteration:

    Loke Amay valoi bole dibbi cholonshoi
    Dosher moddhe ektu naki mithye kotha koi
    Ghatshilate jawar pothe train chutche jokhon
    Mayer kache babar kache korchi bokom bokom

    hothath deki mather moddhe cholonto shob gache
    Ek rokom vongi fute ek rokom nache
    O maa, dekho nrityo nattyo- jei bolechio aami
    Ma boke de, “boddo tumare bereche fajlami”.

    Chiriyakhanar naam jano to amar shejmeshor
    Aador kore dekiye diler pashu rajer keshor
    Kodin pore chun koshano dewal jude e ki
    thik obicall shei rokom murti jeno deki?

    Classer moddhe jei bolechi suronjonar kache
    Janish? Amar ghorer moddhe shingho badha aache
    shunte peye didimoni omni bolen “shon,
    Eshob kotha amay jeno na shuni khokhono”.

    Boli na tai she shob kotha shamle thaki khub
    kintu shedin hoyeche ki emni beyakub
    akashpare abar o chok giyeche aatke
    Shorot meghe dekte pelam rabindranathke.

    See less
      • 0
  • 1
  • 19,707
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

বাবরের প্রার্থনা (শঙ্খ ঘোষ) Babarer Prarthana by Sankha Ghosh lyrics

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on April 21, 2020 at 3:29 am

    বাবরের প্রার্থনা – শঙ্খ ঘোষ এই তো জানু পেতে বসেছি, পশ্চিম আজ বসন্তের শূন্য হাত— ধ্বংস করে দাও আমাকে যদি চাও আমার সন্ততি স্বপ্নে থাক। . কোথায় গেল ওর স্বচ্ছ যৌবন কোথায় কুরে খায় গোপন ক্ষয়! চোখের কোণে এই সমূহ পরাভব বিষায় ফুসফুস ধমনী শিরা! . জাগাও শহরের প্রান্তে প্রান্তরে ধূসর শূন্যের আজান গান ; পাথর করেRead more

    বাবরের প্রার্থনা
    – শঙ্খ ঘোষ

    এই তো জানু পেতে বসেছি, পশ্চিম
    আজ বসন্তের শূন্য হাত—
    ধ্বংস করে দাও আমাকে যদি চাও
    আমার সন্ততি স্বপ্নে থাক।
    .
    কোথায় গেল ওর স্বচ্ছ যৌবন
    কোথায় কুরে খায় গোপন ক্ষয়!
    চোখের কোণে এই সমূহ পরাভব
    বিষায় ফুসফুস ধমনী শিরা!
    .
    জাগাও শহরের প্রান্তে প্রান্তরে
    ধূসর শূন্যের আজান গান ;
    পাথর করে দাও আমাকে নিশ্চল
    আমার সন্ততি স্বপ্নে থাক।
    .
    না কি এ শরীরের পাপের বীজাণুতে
    কোনোই ত্রাণ নেই ভবিষ্যের?
    আমারই বর্বর জয়ের উল্লাসে
    মৃত্যু ডেকে আনি নিজের ঘরে?
    .
    না কি এ প্রাসাদের আলোর ঝলসানি
    পুড়িয়ে দেয় সব হৃদয় হাড়
    এবং শরীরের ভিতরে বাসা গড়ে
    লক্ষ নির্বোধ পতঙ্গের?
    .
    আমারই হাতে এত দিয়েছ সম্ভার
    জীর্ণ করে ওকে কোথায় নেবে?
    ধ্বংস করে দাও আমাকে ঈশ্বর
    আমার সন্ততি স্বপ্নে থাক।

    English Transliteration:

    Ei to janu pete boshechi, poshim
    aaj boshonter shonno haat
    Dhongsho kore dao aamake jode chao
    Amar shontoti shopne thak

    Kuthay gelo or shoccho joubon
    Kuthay kure khay gupon khoy
    Choker kune ei shamuho poravoho
    bishay fushfush dhomoni shira

    Jagao shohorer pranthe pranthore
    Dhushar shonner ajan gaan
    Pathor kore dao amake nishol
    Amar shontoti shopne thak

    Na ki e shorirer bijanute
    Kunoi tran nei bhovisher?
    Amar borbor joyer ullashe
    Mrittu deke aani nijer ghore?

    Na ki e prashader aalor jolshani
    pudiye deye shob hridoy had
    Ebong shorirer vitore bhasha gode
    Lokkho nirbod potonger?

    Amaroi hate eto diyecho shombhar
    jirno kore oke kuthay nebe?
    Dhongsho kore dao amake isshar
    Amar shontoti shopne thak

    See less
      • 0
  • 1
  • 11,340
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

শঙ্খ ঘোষের নির্বাচিত কয়েকটি কবিতা | A collection of best Shankha Ghosh poems in Bengali

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on April 21, 2020 at 2:55 am
    This answer was edited.

    শঙ্খ ঘষে তাঁর জীবনে রচনা করেছেন অনেক কবিতা। তারমধ্যে কয়েকটি বাছাই করা কবিতা নিচে দেয়া হলো। মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে শূন্যের ভিতরে ঢেঊ ছুটি সবিনয় নিবেদন বাবরের প্রার্থনা যমুনাবতী জন্মদিন   মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে - শঙ্খ ঘোষ কলা হয়ে দাঁড়িয়ে আছি তোমার জন্য গলির কোণে ভাবি আমার মুখ দেখাব মুখ ঢেকে যায় বRead more

    শঙ্খ ঘষে তাঁর জীবনে রচনা করেছেন অনেক কবিতা। তারমধ্যে কয়েকটি বাছাই করা কবিতা নিচে দেয়া হলো।

    1. মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে
    2. শূন্যের ভিতরে ঢেঊ
    3. ছুটি
    4. সবিনয় নিবেদন
    5. বাবরের প্রার্থনা
    6. যমুনাবতী
    7. জন্মদিন

     

    মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে
    – শঙ্খ ঘোষ

    কলা হয়ে দাঁড়িয়ে আছি
    তোমার জন্য গলির কোণে
    ভাবি আমার মুখ দেখাব
    মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে।

    একটা দুটো সহজ কথা
    বলব ভাবি চোখের আড়ে
    জৌলুশে তা ঝলসে ওঠে
    বিজ্ঞাপনে, রংবাহারে।

    কে কাকে ঠিক কেমন দেখে
    বুঝতে পারা শক্ত খুবই
    হা রে আমার বাড়িয়ে বলা
    হা রে আমার জন্মভূমি!

    বিকিয়ে গেছে চোখের চাওয়া
    তোমার সঙ্গে ওতপ্রোত
    নিওন আলোয় পণ্য হলো
    যা-কিছু আজ ব্যক্তিগত।

    মুখের কথা একলা হয়ে
    রইল পড়ে গলির কোণে
    ক্লান্ত আমার মুখোশ শুধু
    ঝুলতে থাকে বিজ্ঞাপনে।

     

    শূন্যের ভিতরে ঢেঊ
    – শঙ্খ ঘোষ

    বলিনি কখনো?
    আমি তো ভেবেছি বলা হয়ে গেছে কবে।
    এভাবে নিথর এসে দাঁড়ানো তোমার সামনে
    সেই এক বলা
    কেননা নীরব এই শরীরের চেয়ে আরো বড়ো
    কোনো ভাষা নেই
    কেননা শরীর তার দেহহীন উত্থানে জেগে
    যতদূর মুছে নিতে জানে
    দীর্ঘ চরাচর
    তার চেয়ে আর কোনো দীর্ঘতর যবনিকা নেই।
    কেননা পড়ন্ত ফুল, চিতার রুপালি ছাই, ধাবমান শেষ ট্রাম
    সকলেই চেয়েছে আশ্রয়
    সেকথা বলিনি? তবে কী ভাবে তাকাল এতদিন
    জলের কিনারে নিচু জবা?
    শুন্যতাই জানো শুধু? শুন্যের ভিতরে এত ঢেউ আছে
    সেকথা জানো না?

     

    ছুটি

    – শঙ্খ ঘোষ

    হয়তো এসেছিল | কিন্তু আমি দেখিনি |
    এখন কি সে অনেক দূরে চ’লে গেছে?
    যাব | যাব | যাব |

    সব তো ঠিক করাই আছে | এখন কেবল বিদায় নেওয়া,
    সবার দিকে চোখ,
    যাবার বেলায় প্রণাম, প্রণাম!

    কী নাম?
    আমার কোনো নাম তো নেই, নৌকো বাঁধা আছে দুটি,
    দুরে সবাই জাল ফেলেছে সমুদ্রে—

     

    সবিনয় নিবেদন
    – শঙ্খ ঘোষ

    আমি তো আমার শপথ রেখেছি
    অক্ষরে অক্ষরে
    যারা প্রতিবাদী তাদের জীবন
    দিয়েছি নরক করে |
    দাপিয়ে বেড়াবে আমাদের দল
    অন্যে কবে না কথা
    বজ্র কঠিন রাজ্যশাসনে
    সেটাই স্বাভাবিকতা |
    গুলির জন্য সমস্ত রাত
    সমস্ত দিন খোলা
    বজ্র কঠিন রাজ্যে এটাই
    শান্তি শৃঙ্খলা |
    যে মরে মরুক, অথবা জীবন
    কেটে যাক শোক করে—
    আমি আজ জয়ী, সবার জীবন
    দিয়েছি নরক করে |

     

    বাবরের প্রার্থনা
    – শঙ্খ ঘোষ

    এই তো জানু পেতে বসেছি, পশ্চিম
    আজ বসন্তের শূন্য হাত—
    ধ্বংস করে দাও আমাকে যদি চাও
    আমার সন্ততি স্বপ্নে থাক।
    .
    কোথায় গেল ওর স্বচ্ছ যৌবন
    কোথায় কুরে খায় গোপন ক্ষয়!
    চোখের কোণে এই সমূহ পরাভব
    বিষায় ফুসফুস ধমনী শিরা!
    .
    জাগাও শহরের প্রান্তে প্রান্তরে
    ধূসর শূন্যের আজান গান ;
    পাথর করে দাও আমাকে নিশ্চল
    আমার সন্ততি স্বপ্নে থাক।
    .
    না কি এ শরীরের পাপের বীজাণুতে
    কোনোই ত্রাণ নেই ভবিষ্যের?
    আমারই বর্বর জয়ের উল্লাসে
    মৃত্যু ডেকে আনি নিজের ঘরে?
    .
    না কি এ প্রাসাদের আলোর ঝলসানি
    পুড়িয়ে দেয় সব হৃদয় হাড়
    এবং শরীরের ভিতরে বাসা গড়ে
    লক্ষ নির্বোধ পতঙ্গের?
    .
    আমারই হাতে এত দিয়েছ সম্ভার
    জীর্ণ করে ওকে কোথায় নেবে?
    ধ্বংস করে দাও আমাকে ঈশ্বর
    আমার সন্ততি স্বপ্নে থাক।

     

    যমুনাবতী

    – শঙ্খ ঘোষ

    ONE MORE UNFORTUNATE
    WEARY OF BREATH
    RASHLY IMPORTUNATE
    GONE TO HER DEATH. – THOMAS HOOD

    নিভন্ত এই চুল্লীতে মা
    একটু আগুন দে
    আরেকটু কাল বেঁচেই থাকি
    বাঁচার আনন্দে।
    নোটন নোটন পায়রাগুলি
    খাঁচাতে বন্দী
    দু’এক মুঠো ভাত পেলে তা
    ওড়াতে মন দি’।

    হায় তোকে ভাত দিই কী করে যে ভাত দিই হায়
    হায় তোকে ভাত দেব কী দিয়ে যে ভাত দেব হায়

    নিভন্ত এই চুল্লী তবে
    একটু আগুন দে –
    হাড়ের শিরায় শিখার মাতন
    মরার আনন্দে।
    দু’পারে দুই রুই কাৎলার
    মারণী ফন্দী
    বাঁচার আশায় হাত-হাতিয়ার
    মৃত্যুতে মন দি’।

    বর্গী না টর্গী না, যমকে কে সামলায়!
    ধার-চকচকে থাবা দেখছ না হামলায়?
    যাস্ নে ও-হামলায়, যাস্ নে।।

    কান্না কন্যার মায়ের ধমনীতে আকুল ঢেউ তোলে, জ্বলে না-
    মায়ের কান্নায় মেয়ের রক্তের উষ্ণ হাহাকার মরে না-
    চলল মেয়ে রণে চলল।
    বাজে না ডম্বরু, অস্ত্র ঝন্ ঝন্ করে না, জানল না কেউ তা
    চলল মেয়ে রণে চলল।
    পেশীর দৃঢ় ব্যথা, মুঠোর দৃঢ় কথা, চোখের দৃঢ় জ্বালা সঙ্গে
    চলল মেয়ে রণে চলল।

    নেকড়ে-ওজর মৃত্যু এল
    মৃত্যুরই গান গা-
    মায়ের চোখে বাপের চোখে
    দু-তিনটে গঙ্গা।
    দূর্বাতে তার রক্ত লেগে
    সহস্র সঙ্গী
    জাগে ধক্ ধক্, যজ্ঞে ঢালে
    সহস্র মণ ঘি।

    যমুনাবতী সরস্বতী কাল যমুনার বিয়ে
    যমুনা তার বাসর রচে বারুদ বুকে দিয়ে
    বিষের টোপর নিয়ে।
    যমুনাবতী সরস্বতী গেছে এ পথ দিয়ে
    দিয়েছে পথ, গিয়ে।

    নিভন্ত এই চুল্লীতে বোন আগুন ফলেছে।

     

    জন্মদিন

    – শঙ্খ ঘোষ

    মার জন্মদিনে কী আর দেব এই কথাটুকু ছাড়া
    আবার আমাদের দেখা হবে কখনো
    দেখা হবে তুলসীতলায় দেখা হবে বাঁশের সাঁকোয়
    দেখা হবে সুপুরি বনের কিনারে
    আমরা ঘুরে বেড়াবো শহরের ভাঙা অ্যাসফল্টে অ্যাসফল্টে
    গনগনে দুপুরে কিংবা অবিশ্বাসের রাতে
    কিন্তু আমাদের ঘিরে থাকবে অদৃশ্য কত সুতনুকা হাওয়া
    ওই তুলসী কিংবা সাঁকোর কিংবা সুপুরির
    হাত তুলে নিয়ে বলব, এই তো, এইরকমই, শুধু
    দু-একটা ব্যথা বাকি রয়ে গেল আজও
    যাবার সময় হলে চোখের চাওয়ায় ভিজিয়ে নেবো চোখ
    বুকের ওপর ছুঁয়ে যাবো আঙুলের একটি পালক
    যেন আমাদের সামনে কোথাও কোনো অপঘাত নেই আর
    মৃত্যু নেই দিগন্ত অবধি
    তোমার জন্মদিনে কী আর দেবো শুধু এই কথাটুকু ছাড়া যে
    কাল থেকে রোজই আমার জন্মদিন।

    See less
      • 0
  • 1
  • 21,363
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

আফ্রিকা কবিতার ব্যাখ্যা এবং সারাংশ | Africa poem summary in bengali

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on April 15, 2020 at 3:45 am
    This answer was edited.

    আলোচনার সূচী : সারাংশ কবিতা বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা বিশেষ লাইনের প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা   সারাংশ: সভ্যতার সেই আদিমযুগে বিশ্বের প্রাচ্য ভূভাগ থেকে আফ্রিকা নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে, অন্ধকার গভীর অরণ্যানীতে সে সমাচ্ছন্ন হয়। সেখানকার দুর্গম তমসাময় প্রকৃতির দৃষ্টি-অতীত জাদু সমস্ত শঙ্কRead more

    আলোচনার সূচী :

    1. সারাংশ
    2. কবিতা
    3. বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা
    4. বিশেষ লাইনের প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা

     

    সারাংশ:

    সভ্যতার সেই আদিমযুগে বিশ্বের প্রাচ্য ভূভাগ থেকে আফ্রিকা নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে, অন্ধকার গভীর অরণ্যানীতে সে সমাচ্ছন্ন হয়। সেখানকার দুর্গম তমসাময় প্রকৃতির দৃষ্টি-অতীত জাদু সমস্ত শঙ্কাকে হার মানাতে চাইছিল। ছায়াবৃতা আফ্রিকার মানবরূপ বাইরের পৃথিবীর উপেক্ষায় অবজ্ঞায় অজ্ঞাত থেকে গেছে। এমনই সময় (ইউরােপের) সভ্যতাভিমানী বর্বর নেকড়ের দল নির্লজ্জভাবে আফ্রিকাকে শৃঙ্খলিত করবার জন্য এগিয়ে এল। ফলে দস্যুদের আক্রমণে বীভৎস অত্যাচারে রক্তে-অশুতে মিশে গেল আফ্রিকার মানবতা। ওদিকে (ইউরােপের) পাড়ায় পাড়ায় চলল উৎসব সমারােহ।আজ সেই পশ্চিমাকাশে সেই পশু শক্তিই আবার নতুন করে যখন বেরিয়ে এসেছে, তখন মানহারা এই মানবীর (আফ্রিকার) পাশে দাঁড়িয়ে হিংস্র প্রলাপের মধ্যেও মানবতাবাদী কবি ক্ষমার আহ্বান জানাচ্ছেন। এটিই হােক সভ্যতার শেষ বাণী।

    __________________________

    আফ্রিকা

    উদ্ভ্রান্ত সেই আদিম যুগে
    স্রষ্টা যখন নিজের প্রতি অসন্তোষে
    নতুন সৃষ্টিকে বারবার করছিলেন বিধ্বস্ত,
    তাঁর সেই অধৈর্যে ঘন-ঘন মাথা-নাড়ার দিনে
    রুদ্র সমুদ্রের বাহু
    প্রাচী ধরিত্রীর বুকের থেকে
    ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে, আফ্রিকা,
    বাঁধলে তোমাকে বনস্পতির নিবিড় পাহারায়
    কৃপণ আলোর অন্তঃপুরে।
    সেখানে নিভৃত অবকাশে তুমি
    সংগ্রহ করছিলে দুর্গমের রহস্য,
    চিনছিলে জলস্থল-আকাশের দুর্বোধ সংকেত,
    প্রকৃতির দৃষ্টি-অতীত জাদু
    মন্ত্র জাগাচ্ছিল তোমার চেতনাতীত মনে।
    বিদ্রূপ করছিলে ভীষণকে
    বিরূপের ছদ্মবেশে,
    শঙ্কাকে চাচ্ছিলে হার মানাতে
    আপনাকে উগ্র করে বিভীষিকার প্রচণ্ড মহিমায়
    তাণ্ডবের দুন্দুভিনিনাদে।
    হায় ছায়াবৃতা,
    কালো ঘোমটার নীচে
    অপরিচিত ছিল তোমার মানবরূপ
    উপেক্ষার আবিল দৃষ্টিতে।
    এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে
    নখ যাদের তীক্ষ্ণ তোমার নেকড়ের চেয়ে,
    এল মানুষ-ধরার দল
    গর্বে যারা অন্ধ তোমার সূর্যহারা অরণ্যের চেয়ে।
    সভ্যের বর্বর লোভ
    নগ্ন করল আপন নির্লজ্জ অমানুষতা।
    তোমার ভাষাহীন ক্রন্দনে বাষ্পাকুল অরণ্যপথে
    পঙ্কিল হল ধূলি তোমার রক্তে অশ্রুতে মিশে;
    দস্যু-পায়ের কাঁটা-মারা জুতোর তলায়
    বীভৎস কাদার পিণ্ড
    চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে।
    সমুদ্রপারে সেই মুহূর্তেই তাদের পাড়ায় পাড়ায়
    মন্দিরে বাজছিল পুজোর ঘণ্টা
    সকালে সন্ধ্যায়, দয়াময় দেবতার নামে;
    শিশুরা খেলছিল মায়ের কোলে;
    কবির সংগীতে বেজে উঠছিল

    সুন্দরের আরাধনা।
    আজ যখন পশ্চিমদিগন্তে
    প্রদোষকাল ঝঞ্ঝাবাতাসে রুদ্ধশ্বাস,
    যখন গুপ্তগহ্বর থেকে পশুরা বেরিয়ে এল,
    অশুভ ধ্বনিতে ঘোষণা করল দিনের অন্তিমকাল,
    এসো যুগান্তরের কবি,
    আসন্ন সন্ধ্যার শেষ রশ্মিপাতে
    দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর দ্বারে,
    বলো “ক্ষমা করো’–
    হিংস্র প্রলাপের মধ্যে
    সেই হোক তোমার সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী।

    __________________________

    বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা:

    পত্রপুট (১৯৩৬) কাব্য-এ ষােলাে সংখ্যক কবিতা – ‘উদ্ভান্ত সেই আদিম যুগে’ (নাম আফ্রিকা) কবি অমিয় চক্রবর্তী লিখে পাঠাবার জন্য অনুরােধ করায় ২৮ শে মাঘ ১৩৪৩, ইং ১২ ফ্রেব্রুয়ারি ১৯৩৬ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কবিতাটি রচনা করেন।

    কবিতাটি প্রথমে প্রবাসী (চৈত্র ১৩৪৩) ও পরে কবিতাটির পত্রপুটের দ্বিতীয় সংস্করণে (১৩৪৫) প্রকাশিত হয়। ৩রা অক্টোবর, ১৯৩৫ ফ্যাসিস্ত মুসােলিনির নির্দেশে ইতালীয় আক্রমণকারী সৈন্যদল অ্যাবিসিনিয়ায় (ইথিওপিয়া) আক্রমণ করে। রবীন্দ্রনাথ এখানে তার প্রতিবাদ করে আফ্রিকা, ‘ছায়াচ্ছন্ন আফ্রিকার সকল বন লাঞ্ছনার রক্তাক্ত ইতিহাসকে স্মরণ করে এক অনবদ্য কাব্য রূপ দিয়েছেন। বেদনায় ভারাক্রান্ত চিত্তে একান্ত মমতায় এক লাঞ্ছিত কৃয়া মানবীর রূপ এই কবিতায় তিনি নির্মাণ করেছেন। আবেদন রেখেছেন “দাঁড়াও ঐ মান-হারা মানবীর দ্বারে।”

    কবির জীবনীকার প্রভাতকুমার মুখােপাধ্যায় লিখেছেন আফ্রিকার ইতিহাস কবি ভালােকরেই জানতেন। মােরেল (E.D. Morel) প্রভৃতির বই তাঁর পড়া ছিল। পৃথিবীর অসহায় কৃষ্ণুকায় মানুষদের প্রতি তথাকথিত সভ্য শ্বেতকায় মানুষের অত্যাচারে সুবিদিত। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, অমিয় চক্রবর্তী কবিকে এক চিঠিতে লিখেছেন, ‘আফ্রিকার ইংরেজি তর্জমা তিনি বিলাতে নির্বাসিত ইথিওপীয় সম্রাট হাইলে সেলেসীর হাতে দেন এবং সেটি পড়ে তিনি শান্তি পান। এছাড়াও উগান্ডার রাজকুমার নিয়াবঙ্গো কবিতাটির বান্টু ও সােয়াহিলি ভাষী আফ্রিকানদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচার করেন।

    এই সংক্ষিপ্ত পরিচয় থেকে বােঝা যায় ‘পত্রপুট’-এর অন্যান্য কবিতা লেখা যখন চলছে পূজাবকাশে (অক্টোবর নভেম্বর ১৯৩৫ অর্থাৎ আশ্বিন-কার্তিক, ১৩৪৩-এ), তখন কবি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন ভাষণ ও গান লেখায় ব্যস্ত। অকস্মাৎ অমিয় চক্রবর্তীর অনুরােধ ‘হাইলে সেলসি ও নিয়াবঙ্গার’ প্রতিক্রিয়া আফ্রিকার সমকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের গুরুত্বের প্রতি তাঁকে মনােযােগী করে তােলে।

    মুসােলিনির ইতালি যখন অ্যাবিসিনিয়ায় (ইথিওপিয়া) স্বাধীনতা গ্রাস করবার জন্য সামরিক অভিযান চালায় তখন নানা দিক থেকে দেশটি ছিল অনগ্রসর, কিন্তু প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। শ্বেতাঙ্গ বিদেশিরা আফ্রিকাকে নানা ভাগে ভাগ করে যখন বসতি স্থাপন করে তখন অ্যাবিসিনিয়া ছিল স্বাধীন। এই আক্রমণের বিরুদ্ধে সম্রাট হাইলে সেলাসির পক্ষে সােভিয়েতের সমর্থনে বিশ্বজনমত গড়ে ওঠে। সাধারণভাবে রবীন্দ্রনাথ উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধ মত পােষণ করতেন। শ্বেতাঙ্গরা সেখানকার মানুষদের উপর বর্বর অত্যাচার ও নিষ্ঠুর অপমান করেছে, এ সংবাদ তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। আফ্রিকার সেই অত্যাচার ও পৃথিবীব্যাপী শােষণের বিরুদ্ধে কবির প্রতিবাদ। নৈবেদ্যে-র ‘শতাব্দীর সূর্য আজি’র মতাে এবারও তার কণ্ঠে প্রতিবাদের ভাষা জেগে উঠেছে। শক্তিমদমত্ত তথাকথিত সভ্য, অত্যাচারী উপনিবেশবাসীদের প্রতি তাঁর পুঞ্জীভূত ঘৃণা এখানে তীব্রভাবে প্রকাশিত হল। কবি বলেছেন, “সভ্যের বর্বর লােভনগ্ন করল আপন নির্লজ্জ অমানুষতা।”

     

     

    এভাবে কবি “বিশ্বমানবের দুঃখ আপনারই দুঃখ” রূপে গ্রহণ করেছেন। কোথাও ইথিওপিয়া, কোথায় স্পেন, কোথায় চীন – এ সবের জন্য কবির বেদনাবােধ আমাদের বিচলিত করে। কিন্তু এর মধ্যে কবি মানব ইতিহাসের মূলে যে কল্যাণের শক্তি কাজ করছে সে কথা মনে রেখে কল্যাণের পক্ষে সমস্ত কর্মকে, চেষ্টাকে প্রয়ােগ করতে বলেছেন। সর্বজীবে মঙ্গলচিন্তা ভারতবর্ষের ঐতিহ্য। তাই আহ্বান জানিয়েছে, “এসাে যুগান্তরের কবি | আসন্ন সন্ধ্যার শেষ রশ্মিপাতে | দাঁড়াও মানহারা মানবীর দ্বারে / বলাে, ক্ষমা করাে — / হিংস্র প্রলাপের মধ্যে । সেই হােক তােমার সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী।” । – এই মঙ্গল চিন্তাই কবির মতে ভারতবর্ষকে সর্বজাতির শ্রদ্ধার আসনে বসিয়েছে।
    তথাপি বার বার দেখা গেছে, পৃথিবীর যেখানেই স্বাধীনতা বিপন্ন হয়েছে বা মানবতার অপমান ঘটেছে, সমস্ত ঘটনাই কবি-আত্মাকে সমভাবে মর্মাহত করেছে। রবীন্দ্রনাথের শেষ পর্যায়ের কাব্যে এ বিষয়টি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। ১৯২৯-১৯৩৩ বিশ্বব্যাপী মন্দা শিল্পে বাণিজ্যে য়ুরােপে যখন হতাশা, সেই সময় সাম্রাজ্যবাদী শক্তি উপনিবেশগুলির প্রতি প্রথমে থাবা বসায়। কিন্তু প্রত্যেকের ক্ষুদ্র স্বার্থ এতে চরিতার্থ না হওয়ায় শেষপর্যন্ত সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের সূচনা। এ পর্যায়ের কবিতাতেও রবীন্দ্রনাথকে স্থিতধী চিত্তে ঘটনাগুলির মূল্যায়ন করতে দেখা গেছে। সেখানে যেমন একদিকে ছিল প্রশান্তি ও গাম্ভীর্য, অন্যদিকে তদানীন্তন রাজনৈতিক ঘটনার প্রতিক্রিয়া।
    ‘পুনশ্চ-শেষসপ্তক-পত্রপুট’ ও ‘শ্যামলীর রচনাভঙ্গির ছন্দ-অলংকার ভাষারীতি ও চিত্রাঙ্কন বিশিষ্টতার দাবি রাখে। প্রবল প্রাণােচ্ছ্বাস এ পর্বে প্রায় নেই। তার পরিবর্তে শান্ত, সংযত গদ্যবদ্ধ বাভঙ্গিতে গভীর কথা সহজভাবে প্রকাশ করেছেন। উপমা প্রয়ােগ, ছন্দরচনায় গদ্যভঙ্গির অনায়াস ব্যবহার এবং অনলংকৃত বাগবিন্যাস এ পর্যায়ের কাব্যের বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখা দিয়েছে।
    ____________________

    প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা:

    “উদ্ৰান্ত সেই আদিম যুগে… অসন্তোষে – সূর্যের অগ্নিবলয়”, সমুদ্রের অনন্ত জলরাশি নানা জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ক্রমশ স্থলভূমি ও প্রাণের প্রকাশ ঘটে। কোটি কোটি বৎসরের সেই সুপ্রাচীন ইতিহাস বৈজ্ঞানিক গবেষণার বিষয়। পরে প্রাগৈতিহাসিক কালে ভূত্বকের নানা বিপর্যয়ে বিশ্ব প্রকৃতিতে নানা ঘটনা ঘটেছে, তারই ইঙ্গিত এখানে আছে।

    “রুদ্র সমুদ্রের বাহু প্রাচী ধরিত্রীর… আফ্রিকা” প্রাগৈতিহাসিক যুগে ইউরােপের সঙ্গে জিব্রাল্টার টিউনিস সিসিলি ও ইতালি যুক্ত ছিল। তখন ভূমধ্যসাগর দুটি হ্রদের মতাে মনে হত। ভূত্বকের নানা বিপর্যয়ে কালক্রমে ইউরােপ থেকে আফ্রিকা বিচ্ছিন্ন হয়। পূর্ব গােলার্ধের এই মহাদেশ এক সময় এশিয়ার ও ইউরােপের সঙ্গে যুক্ত ছিল। অপর দিকে আফ্রিকা পূর্বে সাইনাই উপদ্বীপ দিয়ে এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল। সুয়েজ খাল কাটার পর এশিয়ার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়। এই বিচ্ছিন্ন অংশ বর্তমানে মিশরের অন্তর্গত।

    “এল ওরা লােহার হাতকড়ি নিয়ে” য়ুরােপের সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলি তাদের উপনিবেশ গড়ে আফ্রিকাকে পদানত ও শৃঙ্খলিত করেছে, এই পরাধীনতার নিগড়কে এখানে বােঝানাে হয়েছে লােহার হাতকড়ি’ ব্যঞ্জনায়।

    “সভ্যের বর্বর লােভ” আফ্রিকার মতাে বিচ্ছিন্ন একটি মহাদেশ গভীর অরণ্যসঙ্কুল। সংখ্যাতীত জাতি ও উপজাতিকে বিভক্ত সে দেশে আধুনিক সভ্যতার আলাে তখনও প্রবেশ করেনি। উপজাতি গােষ্ঠীশাসিত সেই আদিম সমাজের সামাজিক অর্থনৈতিক বিকাশ না ঘটলেও দেশটি ছিল প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। সভ্যতাভিমানী য়ুরােপের দেশগুলি তাদের ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রিক স্বার্থ ও সমৃদ্ধির প্রয়ােজনে, সীমাহীন লােভের তাড়নায় এ দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠন করে এবং দেশের জনগােষ্ঠীর শ্রমকে ব্যবহার করে সম্পদের পাহাড় তৈরি করতে অমানবিক হিংস্রতার আশ্রয় নেয়।

    “মন্দিরে বাজছিল পূজার ঘণ্টা…. দেবতার নামে” আফ্রিকার জনগণ যখন হিংস্র নগ্ন আক্রমণে রক্তাক্ত, বিধ্বস্ত ও বিপর্যস্ত, সেই সময় সমুদ্রের অপর পারে ইয়ােরােপের সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলিতে সম্পদের প্রাচুর্যে, আনন্দ-উৎসবে দেবতার কাছে কল্যাণ ভিক্ষা চলছে। এই বিপরীত চিত্রটি তুলে ধরে কবি আফ্রিকার শােষিত অসহায় মানুষের প্রতি সমবেদনায়, সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রতি তির্যক বাণ নিক্ষেপ করেছেন।

    ‘আফ্রিকা’ কবিতাটি বিশেষ দেশকালের কথা হলেও, আজও যখন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হিংস্র নখর দেশ দেশান্তরে মানুষকে বিপন্ন করছে দেখতে পাওয়া যায়, তখন স্পষ্টতই উপলব্ধি করা যায় এ কবিতার গুরুত্ব। এভাবে কবিতাটি দেশকাল নিরপেক্ষ একটি অসাধারণ কাব্যশিল্প বলে মানা।

    See less
      • 0
  • 1
  • 41,763
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

রবীন্দ্রনাথের ‘গোরা’ উপন্যাসের সংকিপ্ত সারাংশ | Summary of gora by rabindranath tagore in bengali

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on April 14, 2020 at 8:11 am

      সারাংশ: ‘গোরা’ (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম এবং অনেকের মতে সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস। ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ থেকে ১৯১০ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। ঊনিবংশ শতাব্দীর শেষভাগের ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই আখ্যান গড়ে উঠেছে। এই উপন্যাসের নায়ক গোরা সিপাহিRead more

     

    সারাংশ:

    ‘গোরা’ (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম এবং অনেকের মতে সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস। ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ থেকে ১৯১০ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

    ঊনিবংশ শতাব্দীর শেষভাগের ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই আখ্যান গড়ে উঠেছে। এই উপন্যাসের নায়ক গোরা সিপাহি বিপ্লবের সময় নিহত এক আইরিশ দম্পত্তির সন্তান। কিন্তু সে বড় হয় হিন্দু ব্রাহ্মণ কৃষ্ণদয়াল ও আনন্দময়ীর ঘরে। গোরা নিজের জন্মবিবরণ ও প্রকৃত পরিচয় সম্বন্ধে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। দম্পতি কৃষ্ণদয়াল ও আনন্দময়ী না চাইলেও গোরা হিন্দুধর্মের অন্ধ সমর্থক হয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে ঘটনার ঘাত-প্রতিঘাত বিশেষত এক নারীর ভালোবাসা কিভাবে তাকে অন্ধতা ও সংকীর্ণতা থেকে পৌঁছে দিল এক মহাভারতবর্ষের আদর্শের দিকে, নির্দিষ্ট ধর্ম থেকে মানবতার মধ্যে, তারই কাহিনি ‘গোরা’।

    এই উপন্যঅসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র : গোরা, পরেশবাবু, সুচরিতা, পানুবাবু, ললিতা, বিনয়, বরদাসুন্দরী, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী প্রমুখ। ‘গোরা’য় ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয় চিত্রিত হয়েছে।

     

    See less
      • 0
  • 1
  • 11,503
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

সোনার তরী কবিতার সারাংশ ও মূলভাব | Sonar tori poem summary in Bengali

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on April 14, 2020 at 7:30 am
    This answer was edited.

    আলোচনায় থাকবে : সারাংশ ও মূলভাব কবিতা বিভিন্ন লাইনের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা প্রাসঙ্গিক আলােচনা এবং কবিতা বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা   সারাংশ - মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, অবিরাম বর্ষণ থেকে ক্ষণিক ক্ষান্তির মুহূর্ত। এরই মধ্যে এক কৃষক নদীর ধারে একাকী বসে আছে, কোনাে ভরসা নেই। জলভরা খরস্রোতা নদী, দুর্বার বেগে বহমান। তারRead more

    আলোচনায় থাকবে :

    • সারাংশ ও মূলভাব
    • কবিতা
    • বিভিন্ন লাইনের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
    • প্রাসঙ্গিক আলােচনা এবং কবিতা বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা

     

    সারাংশ –

    মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, অবিরাম বর্ষণ থেকে ক্ষণিক ক্ষান্তির মুহূর্ত। এরই মধ্যে এক কৃষক নদীর ধারে একাকী বসে আছে, কোনাে ভরসা নেই। জলভরা খরস্রোতা নদী, দুর্বার বেগে বহমান। তার চারিদিকে রাশি রাশি বােঝাই কাটা ধান।ছােটো খেতের ধারে একলা বসে, তখন পরপারের তরুচ্ছায়াচ্ছন্ন গ্রামটি আঁকা ছবির মতাে দেখাচ্ছিল। দূর থেকে গান গাইতে গাইতে কে যেন আসছে, দেখে মনে হল সে যেন চেনা। কোনাে দিকে না তাকিয়ে সে পালতােলা নৌকায় ঢেউ তুলে কোথায় চলেছে।
    কৃষক মাঝিকে কাতর কণ্ঠে কূলে নৌকা ভেরাবার জন্য অনুরােধ করল। তার কেটে রাখা সােনার ধান তলে নিয়ে তারপর সে যেখানে ইচ্ছা যাক—এটাই একান্ত ইচ্ছা।অনুরােধ মত নৌকায় সমস্ত তুলে দিয়ে তাকে করুণা করে নিয়ে যাওয়ার কথা বলায় উত্তরে ঠাঁই নেই’ বলে সােনার ফসল নিয়ে গেলেও, কৃষক প্রবহমান নদীর তীরে নিঃসঙ্গ ও অচল হয়ে বসে রইল।

    ________________________________________________________________

    সোনার তরী

    গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা।
    কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা।
    রাশি রাশি ভারা ভারা
    ধান কাটা হল সারা,
    ভরা নদী ক্ষুরধারা
    খরপরশা।
    কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা।

    একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা,
    চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা।
    পরপারে দেখি আঁকা
    তরুছায়ামসীমাখা
    গ্রামখানি মেঘে ঢাকা
    প্রভাতবেলা–
    এ পারেতে ছোটো খেত, আমি একেলা।

    গান গেয়ে তরী বেয়ে কে আসে পারে,
    দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে।
    ভরা-পালে চলে যায়,
    কোনো দিকে নাহি চায়,
    ঢেউগুলি নিরুপায়
    ভাঙে দু-ধারে–
    দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে।

    ওগো, তুমি কোথা যাও কোন্‌ বিদেশে,
    বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে।
    যেয়ো যেথা যেতে চাও,
    যারে খুশি তারে দাও,
    শুধু তুমি নিয়ে যাও
    ক্ষণিক হেসে
    আমার সোনার ধান কূলেতে এসে।

    যত চাও তত লও তরণী-‘পরে।
    আর আছে?– আর নাই, দিয়েছি ভরে।
    এতকাল নদীকূলে
    যাহা লয়ে ছিনু ভুলে
    সকলি দিলাম তুলে
    থরে বিথরে–
    এখন আমারে লহ করুণা করে।

    ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই– ছোটো সে তরী
    আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।
    শ্রাবণগগন ঘিরে
    ঘন মেঘ ঘুরে ফিরে,
    শূন্য নদীর তীরে
    রহিনু পড়ি–
    যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী।

    _________________________________________________________________

    সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা :

    ভরা নদী ক্ষুরধারা – বর্ষায় নদীজল ক্ষুরের মতাে ধারালাে অর্থাৎ খরস্রোতা বােঝানাে হয়েছে।

    তরু ছায়া মসীমাখা (কালিমাখা) – আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় গাছের ছায়ায় ঘেরা গ্রাম অন্ধকারাচ্ছন্ন বলে মনে হচ্ছে।

    বাঁকা জল করিছে খেলা – বাঁকা শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহার করা যায়। একটি অর্থে নদী বেঁকে বেষ্টন করে আছে, অপর ব্যঞ্জনগর্ভ অর্থ ‘কুটিল বা প্রতিকূল’।

    কে আসে পারে – ‘কে’ এই শব্দটি ব্যবহার করে অনির্দিষ্ট ব্যক্তিকে বােঝান হয়েছে।

    দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে – বর্ষা সমাগমে কাটা ফসল নিয়ে তরীর অপেক্ষায় যখন আছেন এমনি সময় দূর থেকে দেখে কোন চেনা চেনা নেয়েকে যেন দেখা যাচ্ছে – এমনি সাধারণ অর্থ হলেও উদ্ধৃতিটি ব্যঞ্জনা সমৃদ্ধ। যাকে দেখে মনে হয় চিনি উহারে’ সে যে কবির হৃদয়গত অন্তর্যামী। রবীন্দ্রনাথ তাঁর কাব্যভাবনায় ব্যক্তি আমির অতিরিক্ত পৃথক এক অন্তঃপ্রেরণা বা অন্তৰ্শক্তি যাকে অনেকে অন্তর্দেৰ্বতা বা জীবনদেবতা বলেন তার কল্পনা করেছেন। সােনার তরী’ কবিতায় এরা আভাস, চিত্রা’য় তার পরিণতি। ইনিই কবির প্রেরণা, তাঁর কাব্যাধিষ্ঠাত্রী দেবী। কোন বিদেশে — এখানে বলতে কোনাে অজানা জগতে।

    শুধু তুমি নিয়ে যাও— সৃষ্টির যে শ্রেষ্ঠ সম্ভার, মহাকালের তরণীতে তুলে দেওয়ার মধ্যেই স্রষ্টার সার্থকতা। কিন্তু কালের মাঝি কোনােদিকে দৃকপাত না করে নিতান্ত নিরাসক্ত চিত্তে এগিয়ে যাচ্ছে দেখে স্রষ্টার একান্ত অনুরােধ সে জীবনের যা কিছু অর্জিত ফল তাকে যেন নিয়ে যায়।

    এখন আমারে লহাে করুণা করে – একলা জনবেষ্টিত ছােটো খেতে বসে আছি। করুণা করে তােমার তরীতে তুলে নাও। এর আধ্যাত্মিক অর্থ হতে পারে, আমাকে সকল কর্মবন্দি থেকে মুক্ত করাে। অথবা আমার শিল্পের সঙ্গে আমারও অস্তিত্বকে যুক্ত করাে।

    যাহা ছিল নিয়ে গেল সােনার তরী –আজীবন সতি সােনার ফসল, সংসার তরণীতে তুলে নিয়েছেন অর্থাৎ কবির সৃষ্টি সমাদৃত হওয়ায় তিনি আনন্দিত। কিন্তু সেখানে তাঁর স্থান না হওয়ায় — শূন্য নদীর তীরে রহিনু পড়ি – তিনি একাকিত্বের বেদনায় বিষন্ন।

     

    প্রাসঙ্গিক আলােচনা এবং কবিতা বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা :

    ‘সােনার তরী’ কাব্যগ্রন্থের নামক কবিতা সােনার তরীর রচনা স্থান শিলাইদহ, কাল-ফাল্গুন ১২৯৮, ইং ফেব্রুয়ারি ৪ মার্চ ১৮৯২। কবিতাটির নামকরণ সবিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সােনার তরী’ সােনায় তৈরি তরী অর্থে ব্যবহৃত হয়নি। এটি ব্যঞ্জনাগর্ভ। জীবনের সাধনায় যে স্বর্ণসম্ভার, তাই তাে ফসল, সেই ফসল বহ করে যে তরী তা-ই সােনার তরী।
    কবিতার এই নামকরণটি আক্ষরিক-অর্থ-অতিরিক্ত অন্যতর অর্থে সমৃদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ। সংসার-তরণীতে কবি তাঁর সৃষ্টির সমস্ত সম্পদ তুলে দিলেও, সংসার কবিকে গ্রহণ করল না। মহাকালরূপী নেয়ে ইতিহাসরূপ সােনারতরী নিয়ে সােনার ধান রূপ জীবনের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টিকে তুলে নিলেও, স্রষ্টাকে গ্রহণ করে না।

    ইতিহাসের পৃষ্ঠায় মানুষের শিল্প, তার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি সঞ্চিত থাকে। জগৎ স্রষ্টাকে চায় না, তার শিল্পকে সৃষ্টিকে চায়, এটাই চিরন্তন সত্য। মানবজীবনের এই চিরন্তন সত্যটি আলােচ্য কবিতায় ধ্বনিত হয়েছে বলে কবি কবিতাটির নামকরণ করেছেন ‘সােনার তরী’। সােনার তরী মানব সংসারের তরী যাতে কবি বিশ্বমানবের উদ্দেশ্যে নিজের সৃষ্টি সম্ভারকে তুলে দিলেও “ঠাই নাই, ঠাই নাই—ছােট সে তরী”—তাই কবি স্বয়ং নির্জনতায় নির্বাসিতা। এ সব বিচারে কবিতার নামকরণ তাই সার্থক ও সুন্দর।

    এ পর্বে কবি আত্মস্থ, তাঁর প্রতিভার পূর্ণ প্রকাশ—রবি-রশ্মির মধ্যাহ্নদীপ্তি বিচ্ছুরিত। প্রকৃতি ও মানুষ সম্পর্কে কবির দৃষ্টি কল্পলােকের আলােকচ্ছটা থেকে বাস্তব জগতের উদার আকাশ-বাতাসে স্থাপিত। এ সময় কবির সৌন্দর্যানুভূতি ও বিশ্বানুভূতি প্রবলভাবে প্রকাশিত। কবি-কল্পনায় কবিত্বে প্রকাশ-ভঙ্গির চমৎকারিত্বে, ভাষার ঐশ্বর্যে ও ছন্দের বৈচিত্র্যে কবিতাগুলির দীপ্যমান। সােনার তরী তার ব্যতিক্রম নয়। এখানে যুক্ত হয়েছে, একটি তত্ত্ব যার ব্যাখ্যা নানা কবিতায় রূপে ভিন্ন, স্বরূপে এক।

    কবিতাটি রচনার সময় কবি জমিদারি দেখাশােনার কাজে কখনাে শিলাইদহ, সাজাদপুর, কালিগ্রাম, পতিসরে বাস করেছেন। বাংলার পল্লীপ্রকৃতি সমস্ত সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে তাঁর অনুভবে, রঙে, রূপে কল্পনায়, নিত্য নতুন হয়ে প্রতিভাত হচ্ছে। পল্লীর নরনারীর সুখ-দুঃখ, হাসিকান্নার সঙ্গে পরিচয় নিবিড় থেকে নিবিড়তর হচ্ছে। এই পরিচয় সূত্রেই ‘সােনার তরী’ কাব্য।‘সােনার তরী’ কবিতা এই অনুভবের সৃষ্টি। এখানেও প্রকৃতি ও মানুষ, কবির অন্তদৃষ্টিতে বিশ্বপ্রকৃতি ও মানবলােকের সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে। একে বলা যেতে পারে বিশ্বানুভূতি—এটি সম্ভব কবির সৃষ্টিপ্রেরণা বা অন্তর্দেৰ্বতার অন্তঃপ্রেরণায়, সম্ভবত কবির এই অন্তর্দেৰ্বতাই সােনারতরী কবিতার ‘নেয়ে। অন্তর্দেৰ্বতা কোনাে অলৌকিক শক্তিধর নন, কবির প্রকাশপ্রেরণা, যিনি কবির মনের মধ্যে বসে সমগ্র জগৎকে সাহিত্যে রূপদান করছেন। প্রকৃতি—সােনার তরী কবিতার উৎস, চলমান নদীস্রোত, যার মধ্যে কবি জন্ম জন্মান্তরের সম্পর্ক উপলব্ধি করেছেন, তাকে এখানে দেখেছেন সাংকেতিকতায়, রহস্যময়, রূপকের ব্যবহারে ব্যঞ্জনাশ্রয়ী রূপে।

    ‘সােনার তরী’ কাব্যে কবি নদীমাতৃক বাংলাদেশের রূপ, পদ্মার প্রবহমানতা, বিচিত্র খণ্ড খণ্ড রূপকল্প ও চিত্রকল্পের ভিতর দিয়ে, কখনও সাঙ্কেতিক রহস্যময়তায়, কখনাে বর্ষা প্রকৃতির বিষাদ উজ্জ্বলতায় প্রকাশিত হয়েছে। সােনার তরী’ কবিতাটিও এরকমই এক ঘন বর্ষায় আবৃত নদীচরের নিসর্গচিত্র। কবির ভাষায় পল্লীপ্রকৃতির সঙ্গে তাঁর একটি মানসিক ঘরকন্নার সম্পর্ক, সেটি এ কবিতায় ফুটে উঠেছে।

    See less
      • 0
  • 1
  • 46,755
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

হে মোর দুর্ভাগা দেশ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ) He mor durbhaga desh kobita?

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on January 8, 2020 at 12:43 am
    This answer was edited.

     রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হে মোর দুর্ভাগা দেশ, যাদের করেছ অপমান, অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান! মানুষের অধিকারে বঞ্চিত করেছ যারে, সম্মুখে দাঁড়ায়ে রেখে তবু কোলে দাও নাই স্থান, অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান। মানুষের পরশেরে প্রতিদিন ঠেকাইয়া দূরে ঘৃণা করিয়াছ তুমি মানুষের প্রাণের ঠাকুরে। বিধাতার রুদ্ররোষেRead more

     রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    হে মোর দুর্ভাগা দেশ, যাদের করেছ অপমান,
    অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান!
    মানুষের অধিকারে
    বঞ্চিত করেছ যারে,
    সম্মুখে দাঁড়ায়ে রেখে তবু কোলে দাও নাই স্থান,
    অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।
    মানুষের পরশেরে প্রতিদিন ঠেকাইয়া দূরে
    ঘৃণা করিয়াছ তুমি মানুষের প্রাণের ঠাকুরে।
    বিধাতার রুদ্ররোষে
    দুর্ভিক্ষের দ্বারে বসে
    ভাগ করে খেতে হবে সকলের সাথে অন্নপান।
    অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।

    তোমার আসন হতে যেথায় তাদের দিলে ঠেলে
    সেথায় শক্তিরে তব নির্বাসন দিলে অবহেলে।
    চরণে দলিত হয়ে
    ধুলায় সে যায় বয়ে
    সে নিম্নে নেমে এসো, নহিলে নাহি রে পরিত্রাণ।
    অপমানে হতে হবে আজি তোরে সবার সমান।
    যারে তুমি নীচে ফেল সে তোমারে বাঁধিবে যে নীচে
    পশ্চাতে রেখেছ যারে সে তোমারে পশ্চাতে টানিছে।
    অজ্ঞানের অন্ধকারে
    আড়ালে ঢাকিছ যারে
    তোমার মঙ্গল ঢাকি গড়িছে সে ঘোর ব্যবধান।
    অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।
    শতেক শতাব্দী ধরে নামে শিরে অসম্মানভার,
    মানুষের নারায়ণে তবুও কর না নমস্কার।
    তবু নত করি আঁখি
    দেখিবারে পাও না কি
    নেমেছে ধুলার তলে হীন পতিতের ভগবান,
    অপমানে হতে হবে সেথা তোরে সবার সমান।
    দেখিতে পাও না তুমি মৃত্যুদূত দাঁড়ায়েছে দ্বারে,
    অভিশাপ আঁকি দিল তোমার জাতির অহংকারে।
    সবারে না যদি ডাক’,
    এখনো সরিয়া থাক’,
    আপনারে বেঁধে রাখ’ চৌদিকে জড়ায়ে অভিমান–
    মৃত্যুমাঝে হবে তবে চিতাভস্মে সবার সমান।

    আরও পড়ুনঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতাসমূহ

     

    English Translation:

    Oh my wretched country!

    You will be humiliated in the same way you humiliated others for so long.
    Those whom you deprived of basic humanity
    Whom you zealously excluded, despite being in the same boat
    You will be brought down to your knees one day.
    You left them out in the cold, day in and day out
    You despised the very soul of the people
    You will be paid back in the same coin
    When you will have to eat and drink along with them
    One day at the doorway of deprivation.
    .
    You ostracized and cornered them
    With your own your own strength you labeled them with your disdain
    You trampled them under your feet
    You will have to come down to their status one day for salvation; there is no other way out
    You too will have to experience their humiliation, one day.
    With your wickedness you rebuffed them as lowly
    You repudiated them as backward and brought yourself down to the level of backwardness.
    You thrust them into the darkness of ignorance thus building up a vast chasm
    Which will one day be bridged only through your immense ignominy
    Heaps of degradation have dominated for centuries

    You have not allowed them to move forward even an inch
    You too will be disgraced just like the ones whom you disgraced one day.
    You are still blind to the monarch of mortality at your door who has cursed you for your racial arrogance.
    If you still revile them, keep them distant, and surround yourself with pride and prejudice
    Death will one day bring you down to the same obscurity–to the ashes, all alike.

    See less
      • 0
  • 1
  • 8,950
  • 0
Answer
Load More Questions

Sidebar

আরও দেখুন

  • কবিতাঃ মুক্ত গণতন্ত্র (শঙ্খ ঘোষ ) Shankha ghosh poem Unnayan in Bengali
  • কবিতাঃ মুক্ত গণতন্ত্র (শঙ্খ ঘোষ ) Bengali poem Mukta Gantantra Sankha Ghosh
  • কবিতা‎ – সঙ্গিনী (শঙ্খ ঘোষ) Sangini by Sankha Ghosh Poem in Bengali
  • কবিতাঃ মেঘ (শঙ্খ ঘোষ) Megh by Shankha Ghosh lyrics
  • মিথ্যে কথা (শঙ্খ ঘোষ) Mithye Katha by Shankha Ghosh lyrics
  • বাবরের প্রার্থনা (শঙ্খ ঘোষ) Babarer Prarthana by Sankha Ghosh lyrics
  • শঙ্খ ঘোষের নির্বাচিত কয়েকটি কবিতা | A collection of best Shankha Ghosh poems in Bengali
  • কবিতাঃ শাড়ি (সুবোধ সরকার) Sari Kobita lyrics in Bengali
  • কবিতাঃ বাংলা টাংলা ( অপূর্ব দত্ত ) Bangla Tangla Poem by Apurba Dutta in Bangali
  • ছন্নছাড়া (অচিন্ত্য কুমার সেনগুপ্ত) Chonnochara Kobita lyrics in Bengali
  • আফ্রিকা কবিতার ব্যাখ্যা এবং সারাংশ | Africa poem summary in bengali
  • রবীন্দ্রনাথের ‘গোরা’ উপন্যাসের সংকিপ্ত সারাংশ | Summary of gora by rabindranath tagore in bengali
  • সোনার তরী কবিতার সারাংশ ও মূলভাব | Sonar tori poem summary in Bengali
  • হে মোর দুর্ভাগা দেশ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ) He mor durbhaga desh kobita?
  • কতবার ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া সংগীত| kotobaro vebechinu lyrics?
  • আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে দেখতে আমি পাই নি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | amar hiyar majhe lukiye chile lyrics by Rabindra nath tagore
  • majhe majhe tobo lyrics ta ki? মাঝে মাঝে তব দেখা পাই
  • কবিতা : আফ্রিকা (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ) africa poem by rabindranath tagore in bengali script?
  • হে নূতন দেখা দিক ( রবীন্দ্রসঙ্গীত ) He nutan dekha dik arbar lyrics?
  • Kotobaro Bhebechinu Lyrics in Bengali | কতবার ভেবেছিনু- রবীন্দ্রসংগীত?
Join us on Telegram
Join our FaceBook Group

বিষয়

All Bangla Paragraph (105) Apurba Dutta Poems (4) Bangla application format (11) Bangla Choto Golpo (7) Bangla dorkhasto lekha (11) Bangla gazal lyrics (8) Bangla GK (177) Bangla Kobita (203) Bangla Rachana (105) baul gaan lyrics (6) baul song lyrics (6) Bengali antonyms (40) Bengali Essay (105) Bengali letter Writing (11) Bengali lullaby lyrics (3) bengali lyrics (82) Bengali Meaning (259) bengali poem (14) Bengali Poems (124) Bengali Poem Summary (21) Bengali Rachana (99) Bengali short story (7) bengali song lyrics (98) bengali song lyrics in bengali (98) Bengali synonyms (33) chandrabindu lyrics (2) English grammar in Bengali (6) English to Bengali Meaning (270) English to Bengali Translation (256) Essay (75) Full form (14) general knowledge bengali (7) indian history in bengali (9) Joy Goswami kobita (4) kazi nazrul islamer kobita (8) Kobita (143) lyrics (17) Myth (3) nirendranath chakraborty poem (5) Nirmalendu Goon Poems (6) Paragraph (20) Parts of speech in Bengali (6) Pod Poriborton (39) Poem (3) poem summary in bengali (21) rabindranath tagore poems (57) Rabindra Sangeet lyrics (5) shakti chattopadhyay poems (7) Social Science (6) Somarthok Shobdo (33) Somas Bangla Grammar (15) sukanta bhattacharya kobita (4) Sukumar Roy Poem (16) Summary (8) অনুচ্ছেদ (127) অপূর্ব দত্তের কবিতা (4) আধ্যাত্মিক (10) ইংরেজি অনুবাদ (6) ইংরেজি থেকে বাংলা (6) ইংলিশ বাংলা অনুবাদ (6) ইন্টারনেট (1) ইসলাম (18) ইসলাম ধর্মীয় প্রশ্ন উত্তর (18) ইসলামী নাত ও গজল (8) ইসলামী সংগীত লিরিক্স (8) কবিতা (26) কবিতার সারাংশ ও সারমর্ম (21) কাজী নজরুল ইসলাম (8) কুসংস্কার (3) গানের কথা (14) ঘুম পাড়ানি গান lyrics (3) ছোটগল্প (7) জয় গোস্বামী (4) জয় গোস্বামীর কবিতা (4) জেনারেল নলেজ (7) জেনারেল নলেজ প্রশ্ন ও উত্তর (39) নির্মলেন্দু গুণের কবিতা (6) নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কবিতা (5) পদ পরিবর্তন (39) পূর্ণরূপ (14) প্রকৃতি (17) প্রক্রিতি (23) ফলমূল (28) ফুল ফর্ম (14) বাংলা general knowledge (52) বাংলা অর্থ (275) বাংলা আবেদন পত্র (11) বাংলা কবিতা (219) বাংলা কবিতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (68) বাংলা গান লিরিক্স (97) বাংলা গানের লিরিক্স (98) বাংলা ছোট গল্প (7) বাংলা দরখাস্ত নমুনা (11) বাংলা প্রবন্ধ (97) বাংলা বাক্য রচনা (176) বাংলা বিপরীত শব্দ (40) বাংলা রচনা (127) বাউল গান লিরিক্স (6) বাক্য রচনা (176) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (1) বিজ্ঞান শিক্ষা (17) বিপরীত শব্দ (40) বোঝাপড়া কবিতা (3) ব্যাখ্যা (8) ভক্তিভাজন (10) ভারতের ইতিহাস (9) ভূগোল (5) মধ্যযুগের ভারতের ইতিহাস (9) মূলভাব (8) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (34) রবীন্দ্রসংগীত (1) রবীন্দ্র সংগীত লিরিক্স (5) লিরিক্স (17) শক্তি চট্টোপাধ্যায় kobita (7) শঙ্খ ঘোষ (8) শুভ দাশগুপ্ত (7) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত (5) সন্ধি বিচ্ছেদ (8) সন্ধি বিচ্ছেদ ব্যবহার (8) সমাজ বিজ্ঞান (6) সমার্থক শব্দ (33) সমাস (15) সারাংশ (8) সুকান্তের কবিতা (4) সুকুমার রায় (16)

Footer

© 2025 Bengali Forum · All rights reserved. Contact Us

Add Bengali Forum to your Homescreen!

Add