অভিসার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাব্য : কথা বোধিসত্তাবদান-কল্পলতা সন্ন্যাসী উপগুপ্ত মথুরাপুরীর প্রাচীরের তলে একদা ছিলেন সুপ্ত-- নগরীর দীপ নিবেছে পবনে, দুয়ার রুদ্ধ পৌর ভবনে, নিশীথের তারা শ্রাবণগগনে ঘন মেঘে অবলুপ্ত। (অভিসার - অনুসরণ, প্রাচীর-দেয়াল, সুপ্ত - নিদ্রিত, পবন - বাতাস, নিশীথ- রাত্রি, রুদ্ধ- বন্ধ, অRead more
অভিসার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাব্য : কথা
বোধিসত্তাবদান-কল্পলতা
সন্ন্যাসী উপগুপ্ত
মথুরাপুরীর প্রাচীরের তলে
একদা ছিলেন সুপ্ত–
নগরীর দীপ নিবেছে পবনে,
দুয়ার রুদ্ধ পৌর ভবনে,
নিশীথের তারা শ্রাবণগগনে
ঘন মেঘে অবলুপ্ত।
(অভিসার – অনুসরণ, প্রাচীর-দেয়াল, সুপ্ত – নিদ্রিত, পবন – বাতাস, নিশীথ- রাত্রি, রুদ্ধ- বন্ধ, অবলুপ্ত-অদৃশ্য)
কাহার নূপুরশিঞ্জিত পদ
সহসা বাজিল বক্ষে!
সন্ন্যাসীবর চমকি জাগিল,
স্বপ্নজড়িমা পলকে ভাগিল,
রূঢ় দীপের আলোক লাগিল
ক্ষমাসুন্দর চক্ষে।
(সহসা – অকস্মাৎ/হঠাৎ, বক্ষে – বুকে, নূপুরশিঞ্জিত- নুপুরপরিহিত, পদ- পা, রূঢ় – রুক্ষ, কঠোর)
নগরীর নটী চলে অভিসারে
যৌবনমদে মত্তা।
অঙ্গ আঁচল সুনীল বরন,
রুনুঝুনু রবে বাজে আভরণ–
সন্ন্যাসী-গায়ে পড়িতে চরণ
থামিল বাসবদত্তা।
(আঁচল – কাপড়ের খুঁটি, সুনীল – গাঢ় নীল, বরন – বর্ণ, রব – শব্দ/ধ্বনি, আভরণ – ভূষণ, চরণ – পা, বাসব – দেবরাজ ইন্দ্র)
প্রদীপ ধরিয়া হেরিল তাঁহার
নবীন গৌরকান্তি–
সৌম্য সহাস তরুণ বয়ান,
করুণাকিরণে বিকচ নয়ান,
শুভ্র ললাটে ইন্দুসমান
ভাতিছে স্নিগ্ধ শান্তি।
(সৌম্য – শান্ত ও সুন্দর, সহাস্য – হাস্যরত, বয়ান – বদন/মুখ, বিকচ – বিকশিত, নয়ান – নয়ন, শুভ্র – শুক্ল/সিত, ললাট – অদৃষ্ট, ইন্দু – চাঁদ)
কহিল রমণী ললিত কণ্ঠে,
নয়নে জড়িত লজ্জা,
ক্ষমা করো মোরে কুমার কিশোর,
দয়া করো যদি গৃহে চলো মোর,
এ ধরণীতল কঠিন কঠোর
এ নহে তোমার শয্যা।’
(ভাতিছে- প্রবাহে, রমণী -নারী, ললিত – চারু/সুন্দর, ধরণী – ধরা/পৃথিবী)
সন্ন্যাসী কহে করুণ বচনে,
“অয়ি লাবণ্যপুঞ্জ,
এখনো আমার সময় হয় নি,
যেথায় চলেছ যাও তুমি ধনী,
সময় যেদিন আসিবে আপনি
যাইব তোমার কুঞ্জ,’
(বচন – বাক্য/কথা, অয়ি – ওগো, লাবণ্য – সৌন্দর্য, কুঞ্জ – লতাদি দ্বারা আচ্ছাদিত গৃহাকার স্থান)
সহসা ঝঞ্ঝা তড়িৎশিখায়
মেলিল বিপুল আস্য।
রমণী কাঁপিয়া উঠিল তরাসে,
প্রলয়শঙ্খ বাজিল বাতাসে,
আকাশে বজ্র ঘোর পরিহাসে
হাসিল অট্টহাস্য।
(ঝঞ্ছা – প্রবল ঝটিকা, তড়িৎ – বিদু্যৎ, আস্য – মুখ, তরাস – ত্রাস/ভয়, প্রলয় – সর্বাত্মক ধ্বংস, পরিহাস – ঠাট্টা, তামাশা)
বর্ষ তখনো হয় নাই শেষ,
এসেছে চৈত্রসন্ধ্যা।
বাতাস হয়েছে উতলা আকুল,
পথতরুশাখে ধরেছে মুকুল,
রাজার কাননে ফুটেছে বকুল
পারুল রজনীগন্ধা।
(তরু – বৃক্ষ/ গাছ, কানন – বাগান, মুকুল – কলিকা/কুঁড়ি)
অতি দূর হতে আসিছে পবনে
বাঁশির মদির মন্দ্র।
জনহীন পুরী, পুরবাসী সবে
গেছে মধুবনে ফুল-উৎসবে–
শূন্য নগরী নিরখি নীরবে
হাসিছে পূর্ণচন্দ্র।
( মন্দ্র – গম্ভীর ধ্বনি, পুরী – গৃহ/ভবন স্বর্ণপুরী)
নির্জন পথে জ্যোৎস্না-আলোতে
সন্ন্যাসী একা যাত্রী।
মাথার উপরে তরুবীথিকার
কোকিল কুহরি উঠে বারবার,
এতদিন পরে এসেছে কি তাঁর
আজি অভিসাররাত্রি?
(বীথী – শ্রেণী, সারি)
নগর ছাড়ায়ে গেলেন দণ্ডী
বাহিরপ্রাচীরপ্রান্তে।
দাঁড়ালেন আসি পরিখার পারে–
আম্রবনের ছায়ার আঁধারে
কে ওই রমণী প’ড়ে এক ধারে
তাঁহার চরণোপ্রান্তে!
(আম্র – আম)
নিদারুণ রোগে মারীগুটিকায়
ভরে গেছে তার অঙ্গ–
রোগমসী ঢালা কালী তনু তার
লয়ে প্রজাগণে পুরপরিখার
বাহিরে ফেলেছে, করি’ পরিহার
বিষাক্ত তার সঙ্গ।
(তনু,- দেহ/শরীর, পরিহার – বর্জন/ত্যাগ, গুটি-গুটিকা- ছোট দানা/ বসন্ত রোগের ব্রণ)
সন্ন্যাসী বসি আড়ষ্ট শির
তুলি নিল নিজ অঙ্কে–
ঢালি দিল জল শুষ্ক অধরে,
মন্ত্র পড়িয়া দিল শির-‘পরে,
লেপি দিল দেহ আপনার করে
শীতচন্দনপঙ্কে।
ঝরিছে মুকুল, কূজিছে কোকিল,
যামিনী জোছনামত্তা।
(আড়ষ্ট – অসাড়/ জড়, অধর – ঠোঁট/নিচের ঠোঁট, যামিনী – রাত্রি)
“কে এসেছ তুমি ওগো দয়াময়’
শুধাইল নারী, সন্ন্যাসী কয়–
“আজি রজনীতে হয়েছে সময়,
এসেছি বাসবদত্তা!’
English Transliteration:
Abhishar
Rabindranath tagore
Bodhisottabadon-kolpona
Sonnyashi upogupto
Mothurapurir prachirer tole
Ekoda chilen supto–
nogorir deel nibeche pobone,
Duar ruddha pouro bhobone,
Nishither tara srabongogone
Ghono meg obolupto.
Kahar nupurshingit pod
Sohosha bajilo bokke!
Sonnyashibor chomki jagilo,
Shopnojorima poloke bhagilo,
Ruro deeper alok lagilo
Khomashundar chokke.
Nogorir noti chole abhisare
Joubonmode motta.
Ongi anchal sunil boron,
Runujhunu robe baje aboron–
Sonnyashi-gaye porite choron
Thamilo basbodotta.
Prodip dhoriya herilo tahar
Nobin gourokanti–
Soummya sahosh torun boyan,
Korunakirone bikocho noyan,
Shubro lolate indusoman
Bhatiche snighdha shanti.
Kohilo romoni lolito khonte,
Noyone jorito lojja,
Khoma koro more kumar kishor,
Doya koro jodi grihe cholo mor,
E dhoronitol kothin kothor
E nohe tomar shojjya.
Sonnyashi kohe torun bichone,
“Oyi labonnyapunjo,
Ekhono amar somoy hoy ni,
Jethay cholche jao tumi dhoni,
Somoy jedin ashibe apni
Jaibi tumar kunjo,
Sohisha jhonjha toritshikhay
Melilo bipul ashhya.
Romoni kapiya uthilo torashe,
Proloyoshongho bajilo batashe,
Akashe bojro ghor porihashe
hashilo ottohashya.
……
Borsho tokhono hoy ni sesh,
Esheche choitrosondhya.
Batash hoyeche utola akul,
Pothotorushakhe dhoreche mukul,
Rajar kanone futeche bokul
Parul rojonigondha .
Oti duur hote ashiche pobone
Bashir modir mondro.
Jonohin puri, purobashi sobe
Geche modhubone ful-utshobe–
Sunnyo nogori nirkhi nirobe
Hashiche purnochondro.
Nirjon pothe jyotsna-alote
Sonnyashi ek jatri.
Mathar upore torubithikar
Kokil khori uthe barbar,
Etodin pore esheche ki tar
Aji abhisharratri?
Nogor charay gelen dondi
Bahirprachirprante.
Daralen ashi porikhar pare–
Amroboner chayar adhare
Ke oi romoni pore ek dhare
Tahar choronoprante!
Nidarun roge marigutikay
Bhore geche tar songe–
Rogmoshidhala kali tonu tar
Loye projagone puroporikhar
Bahire feleche, kori porihar
Bishakto tar songo.
Sonnyashi boshi arosto shir
Tuli nilo nij onke–
Dhali dilo jol shusko odhore,
Montro poriya dilo shir pore,
Lepi dilo deho apnar kore
Shitchandanponghe.
Jhoriche mukul, kujiche kokil,
Jamini jochnamotta.
“Ke eshecho tumi ogo doyamoy”
Sudhailo nari, sonnyashi koy–
“Ani rojonite hoyeche somoy,
Eshechi bashobodotta!”

প্রশ্ন -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মা গো, আমায় ছুটি দিতে বল্,সকাল থেকে পড়েছি যে মেলা।এখন আমি তোমার ঘরে বসেকরব শুধু পড়া-পড়া খেলা।তুমি বলছ দুপুর এখন সবে,নাহয় যেন সত্যি হল তাই,একদিনও কি দুপুরবেলা হলেবিকেল হল মনে করতে নাই?আমি তো বেশ ভাবতে পারি মনেসুয্যি ডুবে গেছে মাঠের শেষে,বাগ্দি-বুড়ি চুবড়ি ভরে নিয়েশাক তুলেছেRead more
প্রশ্ন
-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মা গো, আমায় ছুটি দিতে বল্,
সকাল থেকে পড়েছি যে মেলা।
এখন আমি তোমার ঘরে বসে
করব শুধু পড়া-পড়া খেলা।
তুমি বলছ দুপুর এখন সবে,
নাহয় যেন সত্যি হল তাই,
একদিনও কি দুপুরবেলা হলে
বিকেল হল মনে করতে নাই?
আমি তো বেশ ভাবতে পারি মনে
সুয্যি ডুবে গেছে মাঠের শেষে,
বাগ্দি-বুড়ি চুবড়ি ভরে নিয়ে
শাক তুলেছে পুকুর-ধারে এসে।
আঁধার হল মাদার-গাছের তলা,
কালি হয়ে এল দিঘির জল,
হাটের থেকে সবাই এল ফিরে,
মাঠের থেকে এল চাষির দল।
মনে কর্-না উঠল সাঁঝের তারা,
মনে কর্-না সন্ধে হল যেন।
রাতের বেলা দুপুর যদি হয়
দুপুর বেলা রাত হবে না কেন।
আরও পড়ুনঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতাসমূহ
Prosno
Rabindranath Tagore
Maa go, amay chuti dite bol
See lessSokal thekeporechi je mela
Ekhon aami tumar ghore boshe
Korbo shudhu pora-pora khela
Tumi bolcho dupur ekhon sobe,
nahoy jeno shotti holo tai,
Ekdin o ki dupurbela hole
Bikel hole mone korte nai?
Ami to besh bhavte pari mone
Surja dube geche mather seshe
Bagdi -buri cubri bhore niye
shak tuleche pukur dare eshe
Adhar holo madar gacher tola,
Kali hoye elo dighir jol
Hater theke shobai elo fire
mater theke elo chashir dol
Mone koro na sondhe hole jeno
Rater bela dupur jodi hoy
Dupur bela raat hobe na keno.