Sign Up

Continue with Google
or use


Have an account? Sign In Now

Sign In

Continue with Google
or use


Forgot Password?

Don't have account, Sign Up Here

Forgot Password

Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.


Have an account? Sign In Now

Sorry, you do not have permission to ask a question, You must login to ask a question.

Continue with Google
or use


Forgot Password?

Need An Account, Sign Up Here

Please briefly explain why you feel this question should be reported.

Please briefly explain why you feel this answer should be reported.

Please briefly explain why you feel this user should be reported.

Bengali Forum Logo Bengali Forum Logo
Sign InSign Up

Bengali Forum

Bengali Forum Navigation

  • বিষয়
  • ব্লগ
  • হযবরল
Search
Ask A Question

Mobile menu

Close
Ask A Question
  • বাংলা অভিধান
  • সাহিত্য
  • শিক্ষা
  • রচনা
  • সাধারণ জ্ঞান
  • ইংলিশ টু বাংলা
  • বিজ্ঞান
  • বাংলা কুইজ
  • ধৰ্ম ও সংস্কৃতি
  • ইতিহাস
  • মতামত

Bengali Forum Latest Questions

In: সাহিত্য

কবিতাঃ এখনো তো বড় হয়নি আমি | Ekhono to Boro Hoini Ami Kobita lyrics?

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on May 7, 2020 at 5:53 am

    ছোটোবড়ো- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এখনো তো বড়ো হই নি আমি, ছোটো আছি ছেলেমানুষ ব'লে। দাদার চেয়ে অনেক মস্ত হব বড়ো হয়ে বাবার মতো হলে। দাদা তখন পড়তে যদি না চায়, পাখির ছানা পোষে কেবল খাঁচায়, তখন তারে এমনি বকে দেব! বলব, "তুমি চুপটি ক'রে পড়ো।' বলব, "তুমি ভারি দুষ্টু ছেলে' -- যখন হব বাবার মতো বড়ো। তখন নিয়ে দাদার খাঁRead more

    ছোটোবড়ো- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    এখনো তো বড়ো হই নি আমি,
    ছোটো আছি ছেলেমানুষ ব’লে।
    দাদার চেয়ে অনেক মস্ত হব
    বড়ো হয়ে বাবার মতো হলে।
    দাদা তখন পড়তে যদি না চায়,
    পাখির ছানা পোষে কেবল খাঁচায়,
    তখন তারে এমনি বকে দেব!
    বলব, “তুমি চুপটি ক’রে পড়ো।’
    বলব, “তুমি ভারি দুষ্টু ছেলে’ —
    যখন হব বাবার মতো বড়ো।
    তখন নিয়ে দাদার খাঁচাখানা
    ভালো ভালো পুষব পাখির ছানা।
    সাড়ে দশটা যখন যাবে বেজে
    নাবার জন্যে করব না তো তাড়া।
    ছাতা একটা ঘাড়ে ক’রে নিয়ে
    চটি পায়ে বেড়িয়ে আসব পাড়া।
    গুরুমশায় দাওয়ায় এলে পরে
    চৌকি এনে দিতে বলব ঘরে,
    তিনি যদি বলেন “সেলেট কোথা?
    দেরি হচ্ছে, বসে পড়া করো’
    আমি বলব, “খোকা তো আর নেই,
    হয়েছি যে বাবার মতো বড়ো।’
    গুরুমশায় শুনে তখন কবে,
    “বাবুমশায়, আসি এখন তবে।’
    খেলা করতে নিয়ে যেতে মাঠে
    ভুলু যখন আসবে বিকেল বেলা,
    আমি তাকে ধমক দিয়ে কব,
    “কাজ করছি, গোল কোরো না মেলা।’
    রথের দিনে খুব যদি ভিড় হয়
    একলা যাব, করব না তো ভয় —
    মামা যদি বলেন ছুটে এসে
    “হারিয়ে যাবে, আমার কোলে চড়ো’
    বলব আমি, “দেখছ না কি মামা,
    হয়েছি যে বাবার মতো বড়ো।’
    দেখে দেখে মামা বলবে, “তাই তো,
    খোকা আমার সে খোকা আর নাই তো।’
    আমি যেদিন প্রথম বড়ো হব
    মা সেদিনে গঙ্গাস্নানের পরে
    আসবে যখন খিড়কি-দুয়োর দিয়ে
    ভাববে “কেন গোল শুনি নে ঘরে।’
    তখন আমি চাবি খুলতে শিখে
    যত ইচ্ছে টাকা দিচ্ছি ঝিকে,
    মা দেখে তাই বলবে তাড়াতাড়ি,
    “খোকা, তোমার খেলা কেমনতরো।’
    আমি বলব, “মাইনে দিচ্ছি আমি,
    হয়েছি যে বাবার মতো বড়ো।
    ফুরোয় যদি টাকা, ফুরোয় খাবার,
    যত চাই মা, এনে দেব আবার।’
    আশ্বিনেতে পুজোর ছুটি হবে,
    মেলা বসবে গাজনতলার হাটে,
    বাবার নৌকো কত দূরের থেকে
    লাগবে এসে বাবুগঞ্জের ঘাটে।
    বাবা মনে ভাববে সোজাসুজি,
    খোকা তেমনি খোকাই আছে বুঝি,
    ছোটো ছোটো রঙিন জামা জুতো
    কিনে এনে বলবে আমায় “পরো’।
    আমি বলব, “দাদা পরুক এসে,
    আমি এখন তোমার মতো বড়ো।
    দেখছ না কি যে ছোটো মাপ জামার–
    পরতে গেলে আঁট হবে যে আমার।’

    আরও পড়ুনঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতাসমূহ

    In English font:

    Chotoboro
    Rabindranath Tagore

    Ekhono to boro hoini ami
    Choto aachi chelemanush bolo.
    Dadar cheye onek mosto hobo
    Boro hoye babar moto hole.
    Dada takhan jodi porte na chay
    Pakhir chana poshe kebol khachay,
    Takhan tare emni boke debo!
    Bolbo, “Tumi chupti kore poro”
    Bolbo, “tumi bhari dusto chele”

    Jakhan hobo babar moto boro
    Takhan niye dadar khachakhana
    Valo valo pushbo pakhir chana
    Share dashta jakhan jabe beje
    Nabar jonno korbo na to tara.
    Chata ekta ghare kore niye
    Choti paye beriye aashbo para
    Gurumoshay daway ele pore
    chouki ene dite bolobo ghore,
    Tini jadi bolen “selet kutha”?
    Deri hocche, “boshe pora koro.
    Amo bolbo, “khoka to ar nei,
    hoyechi je babar moto boro”
    Gurumoshay shune takhan kobe,
    “babumoshay, aashi ekhon tobe.
    Khela korte niye jete mathe
    Bhulu jakhan aashbe bikelbela,
    Ami take dhamak diye kobo,
    “kaj korchi, gol koro na mela”
    rather din khub bhir hoy
    Ekla jabo korbo na to bhoy
    Mama jadi bolen chute eshe
    “hariye jabe, amar kole choro”
    Bolbo ami, “Dekhcho na ki mama,
    Hoyechi je babar moto boro”
    dekhe dekhe mama bolbe, “tai to,
    Khoka amar she khoka aar nai to”
    Ami jedin prothom boro hobo
    Maa shedine gongasnaner pore
    Aashbe jakhan Khirki-duwar diye
    Bhabbe “Keno gol shuni ne ghore”
    takhan ami chabi khulte shikhe
    joto icche taka dicchi jhike,
    Maa dekhe tai bolbe taratari,
    “khoka, tomar khela kemontoro”
    Ami bolbo, maine dicchi ami,
    Hoyechi je babar moto boro
    Furoy jadi taka, furoy khabar,
    Jata chai maa, ene debo abar
    Aashinete pujor chuti hobe,
    Mela boshbe gajantalar hate,
    Babar nouko koto durer theke
    Lagbe eshe babuganjer ghate.
    Baba mone bhabbe shujashuji,
    Khoka temni khoka i aache bujhi,
    Choto choto rangin jama juto
    Kine ene bolbe amay “porp”
    Ami bolbo, “dada paruk eshe,
    Ami ekhon tumar moto boro.
    Dekhcho na ki je choto map jamar-
    porte gele aat hobe je amar.

    See less
      • 1
  • 2
  • 40,502
  • 1
Answer
In: সাহিত্য

ফাল্গুনে বিকশিত কাঞ্চন ফুল (রবীন্দ্রসঙ্গীত) Falgune Bikoshito Kanchan full lyrics in Bengali?

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on May 7, 2020 at 7:43 pm

    ফাল্গুন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাব্যগ্রন্থ - চিত্রবিচিত্র ফাল্গুনে বিকশিত কাঞ্চন ফুল, ডালে ডালে পুঞ্জিত আম্রমুকুল। চঞ্চল মৌমাছি গুঞ্জরি গায়, বেণুবনে মর্মরে দক্ষিণবায়। স্পন্দিত নদীজল ঝিলিমিলি করে, জ্যোৎস্নার ঝিকিমিকি বালুকার চরে। নৌকা ডাঙায় বাঁধা, কাণ্ডারী জাগে, পূর্ণিমারাত্রির মত্ততা লাগে। খেয়াঘাটে ওঠে গRead more

    ফাল্গুন

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    কাব্যগ্রন্থ – চিত্রবিচিত্র

    ফাল্গুনে বিকশিত
    কাঞ্চন ফুল,
    ডালে ডালে পুঞ্জিত
    আম্রমুকুল।
    চঞ্চল মৌমাছি
    গুঞ্জরি গায়,
    বেণুবনে মর্মরে
    দক্ষিণবায়।
    স্পন্দিত নদীজল
    ঝিলিমিলি করে,
    জ্যোৎস্নার ঝিকিমিকি
    বালুকার চরে।
    নৌকা ডাঙায় বাঁধা,
    কাণ্ডারী জাগে,
    পূর্ণিমারাত্রির
    মত্ততা লাগে।
    খেয়াঘাটে ওঠে গান
    অশ্বথতলে,
    পান্থ বাজায়ে বাঁশি
    আন্মনে চলে।
    ধায় সে বংশীরব
    বহুদূর গাঁয়,
    জনহীন প্রান্তর
    পার হয়ে যায়।
    দূরে কোন্ শয্যায়
    একা কোন্ ছেলে
    বংশীর ধ্বনি শুনে
    ভাবে চোখ মেলে–
    যেন কোন্ যাত্রী সে,
    রাত্রি অগাধ
    জ্যোৎস্নাসমুদ্রের
    তরী যেন চাঁদ।
    চলে যায় চাঁদে চ’ড়ে
    সারা রাত ধরি,
    মেঘেদের ঘাটে ঘাটে
    ছুঁ’য়ে যায় তরী।
    রাত কাটে, ভোর হ|য়,
    পাখি জাগে বনে–
    চাঁদের তরণী ঠেকে
    ধরণীর কোণে।

     

    In English Font:

    Falgun

    Falgune bikoshito
    kanchon ful
    dale dale punjito
    Amromukul
    Chonchol Moumachi
    gunjuri gay
    Benubone mormore
    Dokkhinbay

    Spandito nadijol
    jhilimili kore
    Josnar Jhikimiki
    balukar chore
    Nouka Dangay badha
    Kandari jage
    Purnimaratrir
    Mottota lage.

    Kheyaghate othe gaan
    Osshothtole
    Pantho bajay bashi
    Anmone chole
    Dhay she bangshidhar
    bahudur gay
    Janahin prantar
    par hoye jay

    Dure kono shojjay
    eka kuno chele
    bongshir dhani shune
    Bhabe chokh mele
    Jeno kuno jatri she
    Ratri ogadh
    Josnashamudrer
    Tari jeno chada

    Chole jay chade chore
    Shara raat dhori
    Megheder ghate ghate
    Chuye jay tari
    Raat kate, Vor hay
    Pakhi jage bone
    Chader tarani theke
    Dharanir kune.

     

    See less
      • 0
  • 1
  • 14,982
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

একটি সংলাপ (সুভাষ মুখোপাধ্যায়) Ekti Songlap Kobita lyrics in Bengali?

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on May 3, 2020 at 10:56 am

    একটি সংলাপ - সুভাষ মুখোপাধ্যায় মেয়ে: তুমি কি চাও আমার ভালবাসা ? ছেলে: হ্যাঁ, চাই ! মেয়ে: গায়ে কিন্তু তার কাদা মাখা ! ছেলে: যেমন তেমনিভাবেই চাই । মেয়ে: আমার আখেরে কী হবে বলা হোক । ছেলে: বেশ! মেয়ে: আর আমি জিগ্যেস করতে চাই । ছেলে: করো । মেয়ে: ধরো’ আমি কড়া নাড়লাম । ছেলে: আমি হাত ধরে ভেতরে নিয়ে যাবRead more

    একটি সংলাপ – সুভাষ মুখোপাধ্যায়

    মেয়ে: তুমি কি চাও আমার ভালবাসা ?
    ছেলে: হ্যাঁ, চাই !
    মেয়ে: গায়ে কিন্তু তার কাদা মাখা !
    ছেলে: যেমন তেমনিভাবেই চাই ।
    মেয়ে: আমার আখেরে কী হবে বলা হোক ।
    ছেলে: বেশ!
    মেয়ে: আর আমি জিগ্যেস করতে চাই ।
    ছেলে: করো ।
    মেয়ে: ধরো’ আমি কড়া নাড়লাম ।
    ছেলে: আমি হাত ধরে ভেতরে নিয়ে যাব !
    মেয়ে: ধরো’ তোমাকে তলব করলাম ।
    ছেলে: আমি হুজুরে হাজির হব ।
    মেয়ে: তাতে যদি বিপদ ঘটে ?
    ছেলে: আমি সে বিপদে ঝাঁপ দেব ।
    মেয়ে: যদি তোমার সঙ্গে প্রতারণা করি?
    ছেলে: আমি ক্ষমা করে দেব ।
    মেয়ে: তোমাকে তর্জনী তুলে বলব, গান গাও ।
    ছেলে: আমি গাইব ।
    মেয়ে: বলব,কোনো বন্ধু এলে তার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দাও।
    ছেলে: বন্ধ করে দেব ।
    মেয়ে: তোমাকে বলব, প্রাণ নাও ।
    ছেলে: আমি নেব ।
    মেয়ে: বলব, প্রাণ দাও ।
    ছেলে: দেব ।
    মেয়ে: যদি তলিয়ে যাই ?
    ছেলে: আমি টেনে তুলবো ।
    মেয়ে: তাতে যদি ব্যথা লাগে ?
    ছেলে: সহ্য করব ।
    মেয়ে: আর যদি থাকে বাধার দেয়াল ?
    ছেলে: ভেঙ্গে ফেলব ।
    মেয়ে: যদি থাকে একশো গিঠঁ ?
    ছেলে: তাহলেও ।
    মেয়ে: তুমি চাও আমার ভালবাসা ?
    ছেলে: হ্যাঁ, তোমার ভালবাসা ।
    মেয়ে: তুমি কখনোই পাবে না ।
    ছেলে: কিন্তু কেন ?
    মেয়ে: কারণ, যারা ত্রীতদাস আমি তাদের কখনই ভালবাসি না ।

    In English Font:

    Ekti Songlap
    Subhash Mukopadhay

    Meye- Tumi ki chao amar valobasha
    Chele- Ha, chai!
    Meye- Gaye kintu tar kada makha
    Chele- Jemon temnibhabei chai.
    Meye- Amar aakher ki hobe bola houk.
    Chele- Besh!
    Meye- Aar ami jiggesh korte chai.
    Chele- koro
    Meye- Dhoro ami kora narlam.
    Chele- Ami hath dhore vitore niye jabo
    Meye- Dhoro tumake talab korlam.
    Chele- Ami huzure hajir hobo.
    Meye- Tate jadi bipod ghote?
    Chele-Ami she bipode jhap debo
    Meye- Jadi tumar shange protarona kori?
    Chele- Ami gaibo
    Meye- Bolobo, Kuno bandhu eletar mukher upar darja bandha kore dao.,
    Chele- bandha kore debo.
    Meye- Tumake balbo pran nao.
    Chele- Ami nebo.
    Meye- Balbo pran dao.
    Chele- Debo.
    Meye- Jadi taliye jai?
    Chele- Ami tene tulbo
    Meye- Tate jadi betha lage?
    Chele- shojyo karbo
    Meye- Ar jadi thake badhar deyal?
    Chele- Venge felbo
    Meye- Jadi thake eksho gith?
    Chele- taholeo.
    Meye- tumi chao amar valobasha?
    Chele- ha, Tumar valobasha
    Meye- Tumi khakhonoi pabe na.
    chele- kintu keno?
    Meye- Karon, Jara tritidash ami tader kakhanoi valobashi na.

    See less
      • 0
  • 1
  • 5,915
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

দিদি – শুভ দাশগুপ্ত | Subho Dasgupta Kobita Didi lyrics in Bengali

  1. Durba
    Durba
    Added an answer on April 27, 2020 at 5:36 am

    দিদি - শুভ দাশগুপ্ত তোর নতুন ফ্ল্যাট থেকে ঘুরে এসে মাকে বললাম সব কিছু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে । তোর ঝকঝকে মোঝাইক মেঝে, ইমালশান লাগানো দেয়াল, আধুনিক ডাইনিং টেবিল, জানালা দরজায় ঝুলানো দামী পর্দা, এমনকি তোর ভ্যালকোলনিতে রাখা বাহারি পাতার টব, সব কিছুই বললাম মাকে । নগেন দত্ত লেনে আমাদের আলো বাতাসহীন একতলার ভাঙাRead more

    দিদি – শুভ দাশগুপ্ত

    তোর নতুন ফ্ল্যাট থেকে ঘুরে এসে
    মাকে বললাম সব কিছু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ।
    তোর ঝকঝকে মোঝাইক মেঝে, ইমালশান লাগানো দেয়াল,
    আধুনিক ডাইনিং টেবিল,
    জানালা দরজায় ঝুলানো দামী পর্দা,
    এমনকি তোর ভ্যালকোলনিতে রাখা বাহারি পাতার টব,
    সব কিছুই বললাম মাকে ।
    নগেন দত্ত লেনে আমাদের আলো বাতাসহীন
    একতলার ভাঙা ঘরে বসে
    মাকে সব শুনলেন চোখ বুজে
    শুনতে শুনতে মার মুখে ফুটছিল হাসি আর
    চোখে আসছিল জল ।

    তোর ব্যালকোলনিতে দাঁড়ালে ছড়িয়ে থাকা শহরটাকে
    অনেক দূর পর্যন্ত দেখা যায়,
    বসবার ঘরের দেয়ালে নতুন কেনা
    একটা সুন্দর পেইন্টিং
    ঘরটাকে কি গাম্বীর্যে ভরিয়ে তুলেছে
    এ সব কিছুই মাকে বললাম ।
    চোখ বুজে শুনতে শুনতে মার মুখে
    ফুটে উঠছিল হাসি, আর
    চোখে আসছিল জল ।

    তোর চেহারাটা আগের চেয়ে অনেক ঝকঝকে
    সুন্দর হয়ে গেছে, ফর্সা হয়ে গেছিস অনেকটা ।
    যদিও তোর হাসিটা আছে ঠিক ছেলেবেলারই মতো ।
    জামাইবাবুর মুখে শুনলাম সামনের পূজোয়
    তোরা নাকি একেবারে পুরো দক্ষিণ ভারতটাই
    বেড়িয়ে আসবি।

    মা নগেন দত্ত লেনের ভাঙা চোরা ঘরে বসে
    এই সব শুনতে শুনতে হাসছে আর , কেন জানিনা
    মার চোখে এসেছে জল…!!
    সব কিছুই বলেছি দিদি,
    শুধু তোর ডাইনিং স্পেসে রাখা দুধ সাদা রংয়ের
    ঐ ফ্রিজটার কথা মাকে বলিনি ।

    তোর বিবাহ বার্ষিকির উজ্জ্বল সন্ধ্যায়, তুই যখন
    গা ভর্তি গয়নায় অপরূপা হয়ে
    ফ্রিজের মাথায় হাত রেখে হাসছিলি,
    তখন যে তোকে কি দারুণ সুন্দর লাগছিল-
    মাকে বলিনি সে কথাও ।

    বিবাহ বার্ষিকির সন্ধ্যায় তোদের আনন্দ উজ্জ্বল
    এপার্টমেন্টে তুই আর জামাইবাবু যখন ঐ
    ফ্রিজটার পাশে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে
    মালা বদল করছিলি
    বাবুদের রসিক বন্ধুদের অনুরোধে
    আর ক্যামেরা ফ্ল্যাস ঝিলিক দিয়ে উঠছিল
    উপচে পড়া খুশির মতো-
    তখন ঠিক তখনি দিদি
    আমার চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল
    হাসপাতালের করিডোরে বাবার ভেঙে পড়া মুখ ।
    ভেতরে মা তখন অপারেশনের পর অচৈতন্য ।
    ডাক্তার এসে বাবাকে বললেন
    চোখটা বোধহয় আর বাচানো গেলনা, তাও একবার
    চেষ্টা করে দেখতে পারেন-মাদ্রাজে – যদিও সে অবশ্য
    অনেক টাকার ব্যাপার ।
    হাড়ি কাঠে আটকে পড়া অসহায় পশুর মতো
    করুণ দেখাচ্ছিল তখন বাবার মুখটা ।
    সিড়ি দিয়ে আসতে আসতে বাবা
    আমার কাধে হাত রেখে বলেছিলেন
    কমলাকে সারা জীবন শুধু দুঃখ কষ্টই দিলাম,
    সুখ দিতে পারলাম না ।
    আজ ওর চোখ দুটোও চলে গেল ।
    সবই আমার কপাল ।”

    দিদি
    অনেক দর-দস্তুর চাপা-চাপির পর
    তোর বিয়েটা যখন আরো কয়েক ভরি সোনা আর
    একটা ফ্রিজের দাবীতে
    জন্য আটকে পড়েছিল অনিশ্চয়তার ঘুরটোপে
    বাবা তখন কাউকে না জানিয়ে
    চড়া সুদে ধার করেছিলেন
    অনেক টাকা ।
    সামান্য মাইনের প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করা বাবা
    বেঁচে থাকতে থাকতে অন্তত একটা মেয়েকে পার করার
    দূরন্ত আশায় ঝুঁকি নিয়ে ফেলেছিলেন অনেকটা।
    চোখের জল আর রজনীগন্ধার সৌরভকে পিছনে ফেলে
    তুই চলে গেলি ।
    পড়ে রইলাম আমরা, মা আর আমি। আর
    পড়ে রইলো নগেন দত্ত লেনের অন্ধকার ঘরে
    বাড়তে থাকা সুদের বোঝার চাপে তলিয়ে যাওয়া
    একটা সৎ মানুষ
    তোর বাবা, আমার বাবা ।

    দিদি
    তোর গা ভর্তি গয়না আর ঐ দুধ সাদা ফ্রিজটার কথা
    মাকে বলা হয়নি কিছুতেই ।
    দৃষ্টিশক্তি খুইয়ে বসা মাকে বাবা বলেননি কিছুই ।
    শুধু অসহায়ের মতো খুঁজেতেন
    মার মুখে একটু হাসি
    বড় মেয়ের ভালো ঘরে বিয়ে হওয়ার একটু তৃপ্তি ।
    সে হাসি খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত বাবা চলে গেছেন ।
    এখন নগেন দত্ত লেনের ভাঙা ঘরে বসে
    মা আর আমি আনন্দেই আছি ।
    একটা আনন্দই বোধহয় সবচেয়ে বড় –
    এ বাড়িতে আর কোনোদিন সানাই বাজবে না সাহানায়
    সানাই, রাজনীগন্ধা, বেনারসি, হৈচৈ এসব
    অপ্রাসঙ্গিক হয়ে থেকে যাবে
    চিরকাল।

    See less
      • 0
  • 1
  • 8,550
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

কবিতাঃ জন্মদিন (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ) Jonmodin Poem by Rabindranath Tagore in Bengali

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on May 5, 2020 at 1:05 pm
    This answer was edited.

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মদিন নিয়ে অনেক কবিতা লিখেছেন। তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থের নাম "জন্মদিনে" সেই কাব্যে রয়েছে ২৯ টি কবিতা। এখানে তিনটি কবিতা দেয়া হলো যেগুলি তার অন্যান্য কাব্যের অন্তর্গত। জন্মদিন (তোমরা রচিলে যারে) কাব্যগ্রন্থ-নবজাতক জন্মদিন (আজ মম জন্মদিন। সদ্যই প্রাণের প্রান্তপথে) কাব্যগ্রন্থ-সেঁজুতিRead more

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মদিন নিয়ে অনেক কবিতা লিখেছেন। তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থের নাম “জন্মদিনে” সেই কাব্যে রয়েছে ২৯ টি কবিতা।
    এখানে তিনটি কবিতা দেয়া হলো যেগুলি তার অন্যান্য কাব্যের অন্তর্গত।

    • জন্মদিন (তোমরা রচিলে যারে) কাব্যগ্রন্থ-নবজাতক
    • জন্মদিন (আজ মম জন্মদিন। সদ্যই প্রাণের প্রান্তপথে) কাব্যগ্রন্থ-সেঁজুতি
    • জন্মদিন (দৃষ্টিজালে জড়ায় ওকে হাজারখানা চোখ) কাব্যগ্রন্থ-সেঁজুতি

     
    আরও পড়ুনঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতাসমূহ

    জন্মদিন

    তোমরা রচিলে যারে
    নানা অলংকারে
    তারে তো চিনি নে আমি,
    চেনেন না মোর অন্তর্যামী
    তোমাদের স্বাক্ষরিত সেই মোর নামের প্রতিমা।
    বিধাতার সৃষ্টিসীমা
    তোমাদের দৃষ্টির বাহিরে।
    কালসমুদ্রের তীরে
    বিরলে রচেন মূর্তিখানি
    বিচিত্রিত রহস্যের যবনিকা টানি
    রূপকার আপন নিভৃতে।
    বাহির হইতে
    মিলায়ে আলোক অন্ধকার
    কেহ এক দেখে তারে, কেহ দেখে আর।
    খণ্ড খণ্ড রূপ আর ছায়া,
    আর কল্পনার মায়া
    আর মাঝে মাঝে শূন্য, এই নিয়ে পরিচয় গাঁথে
    অপরিচয়ের ভূমিকাতে।
    সংসারখেলার কক্ষে তাঁর
    যে-খেলেনা রচিলেন মূর্তিকার
    মোরে লয়ে মাটিতে আলোতে,
    সাদায় কালোতে,
    কে না জানে সে ক্ষণভঙ্গুর
    কালের চাকার নিচে নিঃশেষে ভাঙিয়া হবে চুর।
    সে বহিয়া এনেছে যে-দান
    সে করে ক্ষণেকতরে অমরের ভান–
    সহসা মুহূর্তে দেয় ফাঁকি,
    মুঠি-কয় ধূলি রয় বাকি,
    আর থাকে কালরাত্রি সব-চিহ্ন-ধুয়ে-মুছে-ফেলা।
    তোমাদের জনতার খেলা
    রচিল যে পুতুলিরে
    সে কি লুব্ধ বিরাট ধূলিরে
    এড়ায়ে আলোতে নিত্য রবে।
    এ কথা কল্পনা কর যবে
    তখন আমার
    আপন গোপন রূপকার
    হাসেন কি আঁখিকোণে,
    সে কথাই ভাবি আজ মনে

     

    জন্মদিন

    দৃষ্টিজালে জড়ায় ওকে হাজারখানা চোখ,
    ধ্বনির ঝড়ে বিপন্ন ওই লোক।
    জন্মদিনের মুখর তিথি যারা ভুলেই থাকে,
    দোহাই ওগো, তাদের দলে লও এ মানুষটাকে–
    সজনে পাতার মতো যাদের হালকা পরিচয়,
    দুলুক খসুক শব্দ নাহি হয়।
    সবার মাঝে পৃথক ও যে ভিড়ের কারাগারে
    খ্যাতি-বেড়ির নিরন্ত ঝংকারে।
    সবাই মিলে নানা রঙে রঙিন করছে ওরে,
    নিলাজ মঞ্চে রাখছে তুলে ধরে,
    আঙুল তুলে দেখাচ্ছে দিনরাত;
    কোথায় লুকোয় ভেবে না পায়, আড়াল ভূমিসাৎ।
    দাও-না ছেড়ে ওকে
    স্নিগ্ধ -আলো শ্যামল-ছায়া বিরল-কথার লোকে,
    বেড়াহীন বিরাট ধূলি-‘পর,
    সেই যেখানে মহাশিশুর আদিম খেলাঘর।
    ভোরবেলাকার পাখির ডাকে প্রথম খেয়া এসে
    ঠেকল যখন সব-প্রথমের চেনাশোনার দেশে,
    নামল ঘাটে যখন তারে সাজ রাখে নি ঢেকে,
    ছুটির আলো নগ্ন গায়ে লাগল আকাশ থেকে–
    যেমন করে লাগে তরীর পালে,
    যেমন লাগে অশোক গাছের কচি পাতার ডালে।
    নাম ভোলা ফুল ফুটল ঘাসে ঘাসে
    সেই প্রভাতের সহজ অবকাশে।
    ছুটির যজ্ঞে পুষ্পহোমে জাগল বকুলশাখা,
    ছুটির শূন্যে ফাগুনবেলা মেলল সোনার পাখা।
    ছুটির কোণে গোপনে তার নাম
    আচম্কা সেই পেয়েছিল মিষ্টিসুরের দাম;
    কানে কানে সে নাম ডাকার ব্যথা উদাস করে
    চৈত্রদিনের স্তব্ধ দুইপ্রহরে।
    আজ সবুজ এই বনের পাতায় আলোর ঝিকিঝিকি
    সেই নিমেষের তারিখ দিল লিখি।
    তাহারে ডাক দিয়েছিল পদ্মানদীর ধারা,
    কাঁপন-লাগা বেণুর শিরে দেখেছে শুকতারা;
    কাজল-কালো মেঘের পুঞ্জ সজল সমীরণে
    নীল ছায়াটি বিছিয়েছিল তটের বনে বনে;
    ও দেখেছে গ্রামের বাঁকা বাটে
    কাঁখে কলস মুখর মেয়ে চলে স্নানের ঘাটে;
    সর্ষেতিসির খেতে
    দুইরঙা সুর মিলেছিল অবাক আকাশেতে;
    তাই দেখেছে চেয়ে চেয়ে অস্তরবির রাগে–
    বলেছিল, এই তো ভালো লাগে।
    সেই-যে ভালো-লাগাটি তার যাক সে রেখে পিছে,
    কীর্তি যা সে গেঁথেছিল হয় যদি হোক মিছে,
    না যদি রয় নাই রহিল নাম–
    এই মাটিতে রইল তাহার বিস্মিত প্রণাম।

     

    জন্মদিন

    আজ মম জন্মদিন। সদ্যই প্রাণের প্রান্তপথে
    ডুব দিয়ে উঠেছে সে বিলুপ্তির অন্ধকার হতে
    মরণের ছাড়পত্র নিয়ে। মনে হতেছে কী জানি
    পুরাতন বৎসরের গ্রন্থিবাঁধা জীর্ণ মালাখানি
    সেথা গেছে ছিন্ন হয়ে; নবসূত্রে পড়ে আজি গাঁথা
    নব জন্মদিন। জন্মোৎসবে এই-যে আসন পাতা
    হেথা আমি যাত্রী শুধু, অপেক্ষা করিব, লব টিকা
    মৃত্যুর দক্ষিণ হস্ত হতে, নূতন অরুণলিখা
    যবে দিবে যাত্রার ইঙ্গিত।
    আজ আসিয়াছে কাছে
    জন্মদিন মৃত্যুদিন, একাসনে দোঁহে বসিয়াছে,
    দুই আলো মুখোমুখি মিলিছে জীবনপ্রান্তে মম
    রজনীর চন্দ্র আর প্রত্যুষের শুকতারাসম–
    এক মন্ত্রে দোঁহে অভ্যর্থনা।
    প্রাচীন অতীত, তুমি
    নামাও তোমার অর্ঘ্য; অরূপ প্রাণের জন্মভূমি,
    উদয়শিখরে তার দেখো আদিজ্যোতি। করো মোরে
    আশীর্বাদ, মিলাইয়া যাক তৃষাতপ্ত দিগন্তরে
    মায়াবিনী মরীচিকা। ভরেছিনু আসক্তির ডালি
    কাঙালের মতো; অশুচি সঞ্চয়পাত্র করো খালি,
    ভিক্ষামুষ্টি ধূলায় ফিরায়ে লও, যাত্রাতরী বেয়ে
    পিছু ফিরে আর্ত চক্ষে যেন নাহি দেখি চেয়ে চেয়ে
    জীবনভোজের শেষ উচ্ছিষ্টের পানে।
    হে বসুধা,
    নিত্য নিত্য বুঝায়ে দিতেছ মোরে– যে তৃষ্ণা, যে ক্ষুধা
    তোমার সংসাররথে সহস্রের সাথে বাঁধি মোরে
    টানায়েছে রাত্রিদিন স্থুল সূক্ষ্ম নানাবিধ ডোরে
    নানা দিকে নানা পথে, আজ তার অর্থ গেল কমে
    ছুটির গোধূলিবেলা তন্দ্রালু আলোকে। তাই ক্রমে
    ফিরায়ে নিতেছ শক্তি, হে কৃপণা, চক্ষুকর্ণ থেকে
    আড়াল করিছ স্বচ্ছ আলো; দিনে দিনে টানিছে কে
    নিষ্প্রভ নেপথ্যপানে। আমাতে তোমার প্রায়োজন
    শিথিল হয়েছে, তাই মূল্য মোর করিছ হরণ,
    দিতেছ ললাটপটে বর্জনের ছাপ। কিন্তু জানি,
    তোমার অবজ্ঞা মোরে পারে না ফেলিতে দূরে টানি।
    তব প্রয়োজন হতে অতিরিক্ত যে মানুষ তারে
    দিতে হবে চরম সম্মান তব শেষ নমস্কারে।
    যদি মোরে পঙ্গু কর, যদি মোরে কর অন্ধপ্রায়,
    যদি বা প্রচ্ছন্ন কর নিঃশক্তির প্রদোষচ্ছায়ায়,
    বাঁধ বার্ধক্যের জালে, তবু ভাঙা মন্দিরবেদীতে
    প্রতিমা অক্ষুণ্ন রবে সগৌরবে; তারে কেড়ে নিতে
    শক্তি নাই তব।
    ভাঙো ভাঙো, উচ্চ করো ভগ্নস্তূপ,
    জীর্ণতার অন্তরালে জানি মোর আনন্দস্বরূপ
    রয়েছে উজ্জ্বল হয়ে। সুধা তারে দিয়েছিল আনি
    প্রতিদিন চতুর্দিকে রসপূর্ণ আকাশের বাণী;
    প্রত্যুত্তরে নানা ছন্দে গেয়েছে সে “ভালোবাসিয়াছি’।
    সেই ভালোবাসা মোরে তুলেছে স্বর্গের কাছাকাছি
    ছাড়ায়ে তোমার অধিকার। আমার সে ভালোবাসা
    সব ক্ষয়ক্ষতিশেষে অবশিষ্ট রবে; তার ভাষা
    হয়তো হারাবে দীপ্তি অভ্যাসের ম্লানস্পর্শ লেগে,
    তবু সে অমৃতরূপ সঙ্গে রবে যদি উঠি জেগে
    মৃত্যুপরপারে। তারি অঙ্গে এঁকেছিল পত্রলিখা
    আম্রমঞ্জরীর রেণু, এঁকেছে পেলব শেফালিকা
    সুগন্ধি শিশিরকণিকায়; তারি সূক্ষ্ম উত্তরীতে
    গেঁথেছিল শিল্পকারু প্রভাতের দোয়েলের গীতে
    চকিত কাকলিসূত্রে; প্রিয়ার বিহ্বল স্পর্শখানি
    সৃষ্টি করিয়াছে তার সর্বদেহে রোমাঞ্চিত বাণী,
    নিত্য তাহা রয়েছে সঞ্চিত। যেথা তব কর্মশালা
    সেথা বাতায়ন হতে কে জানি পরায়ে দিত মালা
    আমার ললাট ঘেরি সহসা ক্ষণিক অবকাশে,
    সে নহে ভৃত্যের পুরস্কার; কী ইঙ্গিতে কী আভাসে
    মুহূর্তে জানায়ে চলে যেত অসীমের আত্মীয়তা
    অধরা অদেখা দূত, বলে যেত ভাষাতীত কথা
    অপ্রয়োজনের মানুষেরে।
    সে মানুষ, হে ধরণী,
    তোমার আশ্রয় ছেড়ে যাবে যবে, নিয়ো তুমি গণি
    যা-কিছু দিয়েছ তারে, তোমার কর্মীর যত সাজ,
    তোমার পথের যে পাথেয়, তাহে সে পাবে না লাজ;
    রিক্ততায় দৈন্য নহে। তবু জেনো অবজ্ঞা করি নি
    তোমার মাটির দান, আমি সে মাটির কাছে ঋণী–
    জানায়েছি বারংবার, তাহারি বেড়ার প্রান্ত হতে
    অমূর্তের পেয়েছি সন্ধান। যবে আলোতে আলোতে
    লীন হত দড়যবনিকা, পুষ্পে পুষ্পে তৃণে তৃণে
    রূপে রসে সেই ক্ষণে যে গূঢ় রহস্য দিনে দিনে
    হত নিঃশ্বসিত, আজি মর্তের অপর তীরে বুঝি
    চলিতে ফিরানু মুখ তাহারি চরম অর্থ খুঁজি।
    যবে শান্ত নিরাসক্ত গিয়েছি তোমার নিমন্ত্রণে
    তোমার অমরাবতী সুপ্রসন্ন সেই শুভক্ষণে
    মুক্তদ্বার; বুভুক্ষুর লালসারে করে সে বঞ্চিত;
    তাহার মাটির পাত্রে যে অমৃত রয়েছে সঞ্চিত
    নহে তাহা দীন ভিক্ষু লালায়িত লোলুপের লাগি।
    ইন্দ্রের ঐশ্বর্য নিয়ে হে ধরিত্রী, আছ তুমি জাগি
    ত্যাগীরে প্রত্যাশা করি, নির্লোভেরে সঁপিতে সম্মান,
    দুর্গমের পথিকেরে আতিথ্য করিতে তব দান
    বৈরাগ্যের শুভ্র সিংহাসনে। ক্ষুব্ধযারা, লুব্ধ যারা,
    মাংসগন্ধে মুগ্ধ যারা, একান্ত আত্মার দৃষ্টিহারা
    শ্মশানের প্রান্তচর, আবর্জনাকুণ্ড তব ঘেরি
    বীভৎস চীৎকারে তারা রাত্রিদিন করে ফেরাফেরি,
    নির্লজ্জ হিংসায় করে হানাহানি।
    শুনি তাই আজি
    মানুষ-জন্তুর হুহুংকার দিকে দিকে উঠে বাজি।
    তবু যেন হেসে যাই যেমন হেসেছি বারে বারে
    পণ্ডিতের মূঢ়তায়, ধনীর দৈন্যের অত্যাচারে,
    সজ্জিতের রূপের বিদ্রূপে। মানুষের দেবতারে
    ব্যঙ্গ করে যে অপদেবতা বর্বর মুখবিকারে
    তারে হাস্য হেনে যাব, বলে যাব, “এ প্রহসনের
    মধ্য-অঙ্কে অকস্মাৎ হবে লোপ দুষ্ট স্বপনের;
    নাট্যের কবররূপে বাকি শুধু রবে ভস্মরাশি
    দগ্ধশেষ মশালের, আর অদৃষ্টের অট্টহাসি।’
    বলে যাব, “দ্যূতচ্ছলে দানবের মূঢ় অপব্যয়
    গ্রন্থিতে পারে না কভু ইতিবৃত্তে শাশ্বত অধ্যায়।’
    বৃথা বাক্য থাক্। তব দেহলিতে শুনি ঘন্টা বাজে,
    শেষপ্রহরের ঘন্টা; সেই সঙ্গে ক্লান্ত বক্ষোমাঝে
    শুনি বিদায়ের দ্বার খুলিবার শব্দ সে অদূরে
    ধ্বনিতেছে সূর্যাস্তের রঙে রাঙা পূরবীর সুরে।
    জীবনের স্মৃতিদীপে আজিও দিতেছে যারা জ্যোতি
    সেই ক’টি বাতি দিয়ে রচিব তোমার সন্ধ্যারতি
    সপ্তর্ষির দৃষ্টির সম্মুখে; দিনান্তের শেষ পলে
    রবে মোর মৌন বীণা মূর্ছিয়া তোমার পদতলে।
    আর রবে পশ্চাতে আমার, নাগকেশরের চারা
    ফুল যার ধরে নাই, আর রবে খেয়াতরীহারা
    এ পারের ভালোবাসা– বিরহস্মৃতির অভিমানে
    ক্লান্ত হয়ে রাত্রিশেষে ফিরিবে সে পশ্চাতের পানে।

    See less
      • 1
  • 1
  • 33,350
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

কবিতাঃ শারদীয় (শুভ দাশগুপ্ত ) Subho Dasgupta Kobita Sharodiya

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on April 25, 2020 at 12:36 pm

    শারদীয়া –শুভ দাশগুপ্ত গেরুয়া নদীর পাড় ঘেষে সেই ছোট্ট আমার গ্রাম ছেলেবেলার ছেলেখেলার সেই আনন্দধাম। আকাশ ছিল সুনীল উদার রোদ্দুরে টান টান, গেরুয়া নদীর পাড় ঘেষে সেই ছোট্ট আমার গ্রাম গেরুয়া নদীর পাড় ঘেষে সেই গ্রামের শেষ পাড়া, নবীন কাকার কুমোর বাড়ি, ঠাকুর হত গড়া। সাত পাড়াতে বেজায় খ্যাতি, নবীন তRead more

    শারদীয়া –শুভ দাশগুপ্ত

    গেরুয়া নদীর পাড় ঘেষে সেই ছোট্ট আমার গ্রাম
    ছেলেবেলার ছেলেখেলার সেই আনন্দধাম।
    আকাশ ছিল সুনীল উদার রোদ্দুরে টান টান,
    গেরুয়া নদীর পাড় ঘেষে সেই ছোট্ট আমার গ্রাম
    গেরুয়া নদীর পাড় ঘেষে সেই গ্রামের শেষ পাড়া,
    নবীন কাকার কুমোর বাড়ি, ঠাকুর হত গড়া।
    সাত পাড়াতে বেজায় খ্যাতি, নবীন তালেবর,
    নবীন কাকার হাতের ঠাকুর অপূর্ব সুন্দর।
    এক এক বছর এক এক রকম ঠাকুর তৈরি হতো,
    সেসব ঠাকুর দেখতে মানুষ বেজায় ভিড় জমাতো।
    স্কুল পালানো দুপুর ছিলো, ছিলো সঙ্গী সাথী,
    চোখ জুড়ানো মূর্তি দেখতে ভীষণ মাতামাতি।
    শারদীয়ার দিন গড়াতো শিউলি গন্ধে দুলে,
    রোজই যেতাম ঠাকুর গড়া দেখতে সদলবলে।
    নবীন কাকা গরিব মানুষ, সদাই হাসিমুখে,
    নিবিষ্ট মন, ব্যস্ত জীবন, আপন ভোলা সুখে।
    হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হতো লক্ষ্মী, গণেশ, পেঁচা,
    দূর গাঁয়ে তার ছোট্ট বাড়ি, ঠাকুর গড়েই বাঁচা।
    সে বছর কি হলো বলি, শোনো দিয়ে মন,
    বন্যা হলো ভীষণরকম ভাসলো যে জীবন।
    কত মানুষ ঘর হারালো, প্রাণ হারালো কত,
    গোটা গ্রামের বুকটি জুড়ে হাজার আঘাত ক্ষত।
    ধানের জমি পাটের ক্ষেতে জল থৈ থৈ বান,
    সর্বনাশের কান্না ঘেরা হাজার নিঃস্ব প্রাণ।
    বর্ষা শেষে বন্যা গেল, জাগলো শারদ আলো,
    নীল আকাশে পুজোর ছুটি দিব্যি ডাক পাঠালো।
    কাশফুলেরা উঠল দুলে, শিউলি ঝরা দিন,
    পুজো আসছে রোদ্দুরে তাই বাজলো খুশির বীণ।
    নবীন কাকার টালির ঘরে হচ্ছে ঠাকুর গড়া,
    গেরুয়া নদীর পাড় ঘেঁষে গ্রাম জাগলো খুশির সাড়া।
    আমরা যত কচিকাঁচা, আবার জড়ো হয়ে,
    ঠাকুর দেখতে গেলাম ছুটে মাঠ ঘাট পেরিয়ে।
    সেবার মাত্র গুটিকয়েক ঠাকুর টালির ঘরে,
    পুজোর আয়োজন তো সেবার নমোনমো করে।
    তারই মধ্যে একটি ঠাকুর টালির চালের কোনে,
    নবীন কাকা ভাঙেন, গড়েন নিত্য আপন মনে।
    অন্য ঠাকুর দেখতে চাইলে বাধা দিতেন না,
    ওই ঠাকুরটি দেখতে চাইলে না শুধু না।
    কৌতূহলে দিন গড়ালো পুজো এলো কাছে,
    মহালয়ার দিন টি এলো পুজোর খুশির সাজে।
    আমরা কয়জন রাত থাকতে উঠেছি ঘুম ছেড়ে,
    পুবের আকাশ মলিন, আলো ধীরে উঠছে বেড়ে।
    অন্ধকারে চুপিসারে গুটিগুটি পায়ে,
    আমরা হাজির নবীন কাকার ঘরের কিনারায়।
    চুপ্টি করে দরজা ঠেলে ভিতরে গিয়ে,
    দেখি কাকা চোখ আঁকছেন সমস্ত মন দিয়ে।
    চোখ আঁকা যেই সাঙ্গ হল, নিথর নবীন কাকা,
    অঝোর ধারে কেঁদেই চলেন দুহাতে মুখ ঢাকা।
    কাঁদছে শিল্পী, নিরব বিশ্ব, কুপির আলো ঘরে,
    নবীন কাকার পাষাণ হৃদয় কান্না হয়ে ঝরে।
    রাত ফুরোনো ভোরের আকাশ, কৃপণ অল্প আলো,
    মুখ দেখলাম সেই ঠাকুরের, প্রাণ জুড়িয়ে গেল।
    কিন্তু একি? এ মুখ তো নয় দুর্গা বা পার্বতী?
    এ যেন এক ঘরের মেয়ে, চেনা জানা অতি।
    নবীন কাকার সামনে গিয়ে কি হয়েছে বলি,
    কেঁদে বলেন নবীন কাকা সবই জলাঞ্জলি।
    শ্রাবণ মাসে বন্যা হলো, গেল অনেক কিছু,
    মারণব্যাধি এলো তখন বানের পিছু পিছু।
    ভাদ্র মাসের পূর্ণিমাতে সেই ব্যধি যে ধরল,
    মেয়ে আমার অনেক কষ্টে যন্ত্রনাতে মরল।
    ঠাকুর গড়ি, দু হাত আমার অবশ হয়ে আসে,
    সব প্রতিমার মুখ জুড়ে ওই মেয়ের মুখটি ভাসে।
    দ্যাখ্ না তোরা, দ্যাখ্ না সবাই, চোখ আঁকা শেষ হলো,
    দ্যাখ্ না এইতো মেয়ে আমার হাসছে ঝলোমলো।
    কোথায় গেলি মা রে আমার? কোথায় তোকে পাই?
    মূর্তি গড়ে খুঁজি তোকে মূর্তিতে তুই নাই।
    ষষ্ঠী এলে বোধন, দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা হবে,
    জাগবে ঠাকুর, কিন্তু আমার মেয়ে ফিরবে কবে?
    কেউ কি কোন মন্ত্র জানো মৃন্ময়ী এই মেয়ে,
    বাবার চোখের জল মোছাতে উঠবে হেসে গেয়ে?
    আমরা অবাক! মহালয়ায় ভোরের শিউলি ঝরে,
    কি নিদারুণ ঠাকুর পুজো নবীন কাকার ঘরে!

     

    See less
      • 0
  • 1
  • 4,850
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

কবিতাঃ ব্রিলিয়ান্ট ছেলে (শুভ দাশগুপ্ত ) Brilliant Chele Kobita lyrics in Bengali

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on April 28, 2020 at 6:03 am

    ব্রিলিয়ান্ট ছেলেরা (শুভ দাশগুপ্ত ) ব্রিলিয়ান্ট ছেলেরা ব্রিলিয়ান্ট কেরিয়ার তৈরী করে ……. তারা প্রথমে গাঁয়ে- মফস্বলে হরিপ্রসন্ন স্কুলে গেঁয়ো বন্ধুদের সাথে লেখাপড়া শেখে । তারপর - ব্রিলিয়ান্ট রেজাল্ট করে সকলকে চমকে দেয় । তারপর তারা উচ্চতর শিক্ষার জন্য চলে যায় ব্যাঙ্গালোর কিংবা দিল্লী ,কিংবা পুণে সেখানে গRead more

    ব্রিলিয়ান্ট ছেলেরা (শুভ দাশগুপ্ত )

    ব্রিলিয়ান্ট ছেলেরা ব্রিলিয়ান্ট কেরিয়ার তৈরী করে …….
    তারা প্রথমে গাঁয়ে- মফস্বলে হরিপ্রসন্ন স্কুলে গেঁয়ো বন্ধুদের সাথে লেখাপড়া শেখে ।
    তারপর –
    ব্রিলিয়ান্ট রেজাল্ট করে সকলকে চমকে দেয় ।
    তারপর তারা উচ্চতর শিক্ষার জন্য চলে যায়
    ব্যাঙ্গালোর কিংবা দিল্লী ,কিংবা পুণে
    সেখানে গিয়ে তারা বড় বড় নম্বর পায় ! পজিশন পায় !
    তারপর সেই নম্বর প্লেট গলায় ঝুলিয়ে তারা মস্ত মস্ত কোম্পানীতে ভালো ভালো চাকরি পায় !
    প্রচুর স্যালারি ! দামি ফ্ল্যাট ! ভালো গাড়ী !
    ব্রিলিয়ান্ট ছেলেরা ….. এরপর বিদেশের বিমানে গিয়ে বসে ।
    পৌঁছে যায় আমেরিকা ,জার্মানি কিংবা আবুধাবী …. অথবা সিঙ্গাপুর কিংবা কানাডা !
    ব্রিলিয়ান্ট ছেলেদের , ঐ সব দেশ টপাটপ কিনে নেয় ।
    ঐ সব ব্রিলিয়ান্ট দেশ ,আমাদের ব্রিলিয়ান্টদের জন্য বিলাসবহুল বাড়ি – গাড়ি
    আর প্রচুর ডলারের ব্যবস্থা করে দেয় ….
    সেখানে আমাদের ব্রিলিয়ান্টরা সুখে থাকে ।

    সুখে থাকতে থাকতে ব্রিলিয়ান্ট ছেলেরা ভুলে যায় তাদের দেশ গাঁয়ের কথা , হরিপ্রসন্ন স্কুলের কথা —
    গাঁয়ের বন্ধুদের কথা ক্রমে ভুলে যেতে থাকে !
    মনে রাখতে পারে না —– খুড়তুতো , জ্যাঠতুতো সব অসফল ভাই বোনেদের কথা ।

    ব্রিলিয়ান্টদের জগতে ইমোশন নেই ! প্রোমোশন আছে ।
    ব্রিলিয়ান্টদের অতীত নেই ! কেবল ভবিষ্যৎ , কেবল ফিউচার ।
    ছোট চেয়ার থেকে বড় চেয়ার ……নন এসি থেকে এসি ।
    ব্রিলিয়ান্ট ছেলেরা বাবা- মা কে মাঝে মধ্যে টাকা পাঠায় ….অ -নে -ক টাকা !!!!
    সেই টাকা হাতে পেয়ে ব্রিলিয়ান্টদের বাবার মুখে ফুটে ওঠে হাসি।
    মায়ের চোখ ভরে ওঠে জলে ।

    ব্রিলিয়ান্টরা এই ন্যাস্টি ইন্ডিয়াতে আর ফিরে আসতে চায় না ।
    এত ভিড় ! এত ধুলোকাদা ! এত কোরাপশন !
    এসবের মধ্যে তাদের গা ঘিনঘিন করে

    তবু যদি কখনও আসে ……..
    অনেক অনেক ফরেইন জিনিস নিয়ে আসে ।
    মায়ের জন্য ইতালির চাদর , বাবার জন্য ফ্রান্সের সিগারেট .. সঙ্গে জাপানি লাইটার ,
    আলো জ্বললেই যা থেকে টুং টাং করে বাজনা বেজে ওঠে ।

    ব্রিলিয়ান্টদের ব্যাপার স্যাপারই আলাদা ……..
    ব্রিলিয়ান্টদের ব্রিলিয়ান্ট বানিয়ে তুলতে কেরানী বাবাকে যে কতদিন কর্মক্লান্ত দুপুরে টিফিনে একটা চাপাকলা কিংবা
    একটাকার শুকনো মুড়িতে পেট ভরিয়েছেন ……
    কতকাল যে মা কোনো নতুন শাড়ী কেনাকে বিলাসিতা মনে করে ছেঁড়া শাড়ীতে দিন কাটিয়েছেন !!!
    এসব তথ্য ব্রিলিয়ান্টদের ল্যাপটপে থাকেনা । ব্রিলিয়ান্টদের ল্যাপটপে নায়াগ্রার দূরন্ত জলোচ্ছ্বাস , কিংবা
    ভিসুভিয়াসের ছবি থাকে …….
    এই শ্যামল বাংলার নদী গাছ , বর্ষার মেঘ —–
    এসব হাবিজাবি সেখানে ইনসার্ট করা যায় না ।

    ব্রিলিয়ান্টরা সদা ব্যস্ত ! ভীষণ ব্যস্ত …… !
    তারা সঙ্গীত শোনেনা , তারা গল্প বা কবিতা পড়ে সময় নষ্ট করেনা ।
    তারা আকাশ দেখে না , বৃষ্টিতে তাদের মন খারাপ হয় না ।
    তারা কেবল কাজ করে ,কেবল ব্যাস্ততায় ডুবে থাকে ।

    বৃষ্টি নেমেছে আকাশ ভেঙ্গে …….শ্রাবণ মাস ।
    মা মৃত্যুশয্যায় …..বাড়ি ভর্তি লোকজন ।
    অসুস্থ বাবা বারান্দায় চেয়ারে বসে আছেন শূন্য চোখে ……
    ডাক্তার জবাব দিয়ে গেছেন ….গোটা বাড়িতে অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতা !
    কাঁপা কাঁপা ঠোঁটে মা জিজ্ঞেস করছেন ….. খোকন এলো ? খো – ক – ন ………….!

    ব্রিলিয়ান্ট খোকন তখন ফ্লাইটে …..
    সবাই মা কে বোঝাচ্ছে ঐ তো ঐ তো খোকন এলো বলে !
    কিন্তু সে ফ্লাইট চলে যাচ্ছে কানাডায়।
    কানাডায় কোম্পানীর নতুন শাখা উদ্বোধন।
    খোকন যাচ্ছে আরও বড়ো দায়িত্ব নিয়ে , আরও বেশী ডলার ……..
    এখানে এই পোড়া দেশে ব্রিলিয়ান্ট খোকনের মা
    ছেলের মুখ না দেখেই শেষ বারের মতো চোখ বুঁজলেন …..।।

    আমরা এখন ঘরে ঘরে সবাই —— এমন ব্রিলিয়ান্ট ছেলে গড়ে তুলতেই ব্যস্ত…….।
    সক্কলে!

    See less
      • 1
  • 4
  • 23,086
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

কবিতাঃ মা ( শুভ দাশগুপ্ত ) Subho dasgupta kobita maa lyrics

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on April 25, 2020 at 12:20 pm
    This answer was edited.

    মা - শুভ দাসগুপ্ত যখন ডাকি শিউলি হয়ে শরৎ তখন ভোরের হাওয়ায় বলে কান্না রাখিস না মা তো ছিলই মা তো আছেই, সবখানেতেই মা যখন ডাকি মা সহস্র চোখ বিপন্ন মুখ দুহাত তুলে বলে বাইরে খোঁজিস না ব্যর্থ জীবন ক্লান্ত জীবন পাশেই আছে মা মা ববলেই স্নেরের সকাল মা বললেই তৃষ্ণার জল মা বললেই ছায়ার আচল মা বললেই দুঃখ উধাও যখনRead more

    মা – শুভ দাসগুপ্ত

    যখন ডাকি শিউলি হয়ে শরৎ তখন
    ভোরের হাওয়ায় বলে
    কান্না রাখিস না মা তো ছিলই মা তো আছেই,
    সবখানেতেই মা
    যখন ডাকি মা
    সহস্র চোখ বিপন্ন মুখ দুহাত
    তুলে বলে বাইরে খোঁজিস না
    ব্যর্থ জীবন ক্লান্ত জীবন পাশেই আছে মা
    মা ববলেই স্নেরের সকাল
    মা বললেই তৃষ্ণার জল
    মা বললেই ছায়ার আচল
    মা বললেই দুঃখ উধাও
    যখন ডাকি মা
    মন্দিরে আর গীর্জিয় কিংবা মসজিদে
    সুর ভাসে একই তো সুর না
    মানুষ বড় কষ্টে আছে
    মানুষ বড় দুঃখে বাঁচে
    মানুষ বড় যাতাকলে
    মানুষ বড় চোখের জলে
    এর নেই কি শান্তনা
    দূরের থেকে মা তখনই উঠে আসেন কাছে
    শীয়রে হাত রেখে বলেন
    আমি আছি না
    যখন ডাকি মা

     

    English transliteration;

    Jakhan daki shuili hoye sharat takhan
    Vorer hawai bole
    kanna rakhish na maa to chiloi maa to aachei,
    Shabkhanetei ma
    jakhan daki maa
    Shahasra chokh biponno mukh duhaath
    Tui bole baire khujish na
    Bertho jibon klanta jibon pashei aache maa
    maa bollei sneher shakal
    maa bollei trishnar jol
    maa bollei chayar aanchal
    maa bollei dukkho udhao
    jakhan daki maa
    Mandire aar girjay kingba mashjide
    Shur vashe eki to shur na
    manush baro kaste aache
    manush baro dukkhe bache
    manush baro jatakale
    manush baro chokher jale
    Er nei ki shantona
    durer theke maa takhani uthe aashen kache
    Shiyore haath rekhe bolen
    Ami aaschi na
    jakhan daki maa

     

    See less
      • 0
  • 1
  • 21,719
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

কবিতাঃ শারদীয় (শুভ দাশগুপ্ত ) Saradiya by Subho Dasgupta lyrics

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on April 24, 2020 at 7:12 am
    This answer was edited.

    শারদীয়া –শুভ দাশগুপ্ত গেরুয়া নদীর পাড় ঘেষে সেই ছোট্ট আমার গ্রাম ছেলেবেলার ছেলেখেলার সেই আনন্দধাম। আকাশ ছিল সুনীল উদার রোদ্দুরে টান টান, গেরুয়া নদীর পাড় ঘেষে সেই ছোট্ট আমার গ্রাম গেরুয়া নদীর পাড় ঘেষে সেই গ্রামের শেষ পাড়া, নবীন কাকার কুমোর বাড়ি, ঠাকুর হত গড়া। সাত পাড়াতে বেজায় খ্যাতি, নবীন তRead more

    শারদীয়া –শুভ দাশগুপ্ত

    গেরুয়া নদীর পাড় ঘেষে সেই ছোট্ট আমার গ্রাম
    ছেলেবেলার ছেলেখেলার সেই আনন্দধাম।
    আকাশ ছিল সুনীল উদার রোদ্দুরে টান টান,
    গেরুয়া নদীর পাড় ঘেষে সেই ছোট্ট আমার গ্রাম
    গেরুয়া নদীর পাড় ঘেষে সেই গ্রামের শেষ পাড়া,
    নবীন কাকার কুমোর বাড়ি, ঠাকুর হত গড়া।
    সাত পাড়াতে বেজায় খ্যাতি, নবীন তালেবর,
    নবীন কাকার হাতের ঠাকুর অপূর্ব সুন্দর।
    এক এক বছর এক এক রকম ঠাকুর তৈরি হতো,
    সেসব ঠাকুর দেখতে মানুষ বেজায় ভিড় জমাতো।
    স্কুল পালানো দুপুর ছিলো, ছিলো সঙ্গী সাথী,
    চোখ জুড়ানো মূর্তি দেখতে ভীষণ মাতামাতি।
    শারদীয়ার দিন গড়াতো শিউলি গন্ধে দুলে,
    রোজই যেতাম ঠাকুর গড়া দেখতে সদলবলে।
    নবীন কাকা গরিব মানুষ, সদাই হাসিমুখে,
    নিবিষ্ট মন, ব্যস্ত জীবন, আপন ভোলা সুখে।
    হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হতো লক্ষ্মী, গণেশ, পেঁচা,
    দূর গাঁয়ে তার ছোট্ট বাড়ি, ঠাকুর গড়েই বাঁচা।
    সে বছর কি হলো বলি, শোনো দিয়ে মন,
    বন্যা হলো ভীষণরকম ভাসলো যে জীবন।
    কত মানুষ ঘর হারালো, প্রাণ হারালো কত,
    গোটা গ্রামের বুকটি জুড়ে হাজার আঘাত ক্ষত।
    ধানের জমি পাটের ক্ষেতে জল থৈ থৈ বান,
    সর্বনাশের কান্না ঘেরা হাজার নিঃস্ব প্রাণ।
    বর্ষা শেষে বন্যা গেল, জাগলো শারদ আলো,
    নীল আকাশে পুজোর ছুটি দিব্যি ডাক পাঠালো।
    কাশফুলেরা উঠল দুলে, শিউলি ঝরা দিন,
    পুজো আসছে রোদ্দুরে তাই বাজলো খুশির বীণ।
    নবীন কাকার টালির ঘরে হচ্ছে ঠাকুর গড়া,
    গেরুয়া নদীর পাড় ঘেঁষে গ্রাম জাগলো খুশির সাড়া।
    আমরা যত কচিকাঁচা, আবার জড়ো হয়ে,
    ঠাকুর দেখতে গেলাম ছুটে মাঠ ঘাট পেরিয়ে।
    সেবার মাত্র গুটিকয়েক ঠাকুর টালির ঘরে,
    পুজোর আয়োজন তো সেবার নমোনমো করে।
    তারই মধ্যে একটি ঠাকুর টালির চালের কোনে,
    নবীন কাকা ভাঙেন, গড়েন নিত্য আপন মনে।
    অন্য ঠাকুর দেখতে চাইলে বাধা দিতেন না,
    ওই ঠাকুরটি দেখতে চাইলে না শুধু না।
    কৌতূহলে দিন গড়ালো পুজো এলো কাছে,
    মহালয়ার দিন টি এলো পুজোর খুশির সাজে।
    আমরা কয়জন রাত থাকতে উঠেছি ঘুম ছেড়ে,
    পুবের আকাশ মলিন, আলো ধীরে উঠছে বেড়ে।
    অন্ধকারে চুপিসারে গুটিগুটি পায়ে,
    আমরা হাজির নবীন কাকার ঘরের কিনারায়।
    চুপ্টি করে দরজা ঠেলে ভিতরে গিয়ে,
    দেখি কাকা চোখ আঁকছেন সমস্ত মন দিয়ে।
    চোখ আঁকা যেই সাঙ্গ হল, নিথর নবীন কাকা,
    অঝোর ধারে কেঁদেই চলেন দুহাতে মুখ ঢাকা।
    কাঁদছে শিল্পী, নিরব বিশ্ব, কুপির আলো ঘরে,
    নবীন কাকার পাষাণ হৃদয় কান্না হয়ে ঝরে।
    রাত ফুরোনো ভোরের আকাশ, কৃপণ অল্প আলো,
    মুখ দেখলাম সেই ঠাকুরের, প্রাণ জুড়িয়ে গেল।
    কিন্তু একি? এ মুখ তো নয় দুর্গা বা পার্বতী?
    এ যেন এক ঘরের মেয়ে, চেনা জানা অতি।
    নবীন কাকার সামনে গিয়ে কি হয়েছে বলি,
    কেঁদে বলেন নবীন কাকা সবই জলাঞ্জলি।
    শ্রাবণ মাসে বন্যা হলো, গেল অনেক কিছু,
    মারণব্যাধি এলো তখন বানের পিছু পিছু।
    ভাদ্র মাসের পূর্ণিমাতে সেই ব্যধি যে ধরল,
    মেয়ে আমার অনেক কষ্টে যন্ত্রনাতে মরল।
    ঠাকুর গড়ি, দু হাত আমার অবশ হয়ে আসে,
    সব প্রতিমার মুখ জুড়ে ওই মেয়ের মুখটি ভাসে।
    দ্যাখ্ না তোরা, দ্যাখ্ না সবাই, চোখ আঁকা শেষ হলো,
    দ্যাখ্ না এইতো মেয়ে আমার হাসছে ঝলোমলো।
    কোথায় গেলি মা রে আমার? কোথায় তোকে পাই?
    মূর্তি গড়ে খুঁজি তোকে মূর্তিতে তুই নাই।
    ষষ্ঠী এলে বোধন, দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা হবে,
    জাগবে ঠাকুর, কিন্তু আমার মেয়ে ফিরবে কবে?
    কেউ কি কোন মন্ত্র জানো মৃন্ময়ী এই মেয়ে,
    বাবার চোখের জল মোছাতে উঠবে হেসে গেয়ে?
    আমরা অবাক! মহালয়ায় ভোরের শিউলি ঝরে,
    কি নিদারুণ ঠাকুর পুজো নবীন কাকার ঘরে!

     

    See less
      • 0
  • 1
  • 43,701
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

কবিতা – জন্মদিন ( শুভ দাশগুপ্ত ) Jonmodin Kobita by Subho Dasgupta lyrics

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on April 26, 2020 at 8:07 pm

    জন্মদিন ( শুভ দাশগুপ্ত ) আজ পয়লা শ্রাবণ। খোকন, আজ তোর জন্মদিন। তুই যখন জন্মেছিলি, আমরা তখন যাদবপুরে নতুন গড়ে ওঠা কলোনীর টালির ঘরে তোর ইস্কুল মাস্টার বাবা সেই হ্যারিকেনের আলো জ্বলা ঘরেই আনন্দে আর খুশিতে ঝলমলে হয়ে উঠেছিলেন তুই আসার পর। তোর নাম রেখেছিলেন- সুকল্যাণ। মানুষটার মনটা ছিল শিশুর মতন অভাবে অনটRead more

    জন্মদিন ( শুভ দাশগুপ্ত )

    আজ পয়লা শ্রাবণ।
    খোকন, আজ তোর জন্মদিন।
    তুই যখন জন্মেছিলি, আমরা তখন যাদবপুরে
    নতুন গড়ে ওঠা কলোনীর টালির ঘরে
    তোর ইস্কুল মাস্টার বাবা
    সেই হ্যারিকেনের আলো জ্বলা ঘরেই
    আনন্দে আর খুশিতে ঝলমলে হয়ে উঠেছিলেন
    তুই আসার পর। তোর নাম রেখেছিলেন- সুকল্যাণ।
    মানুষটার মনটা ছিল শিশুর মতন
    অভাবে অনটনে, বেঁচে থাকার নানা দুর্বিপাকেও
    ভেঙ্গে পড়তেন না কখনও। সকলের ভাল চাইতেন মন থেকে।
    বলতেন দেখো একদিন এই দেশের মানুষ
    ঠিক খুঁজে পাবে মুক্তির পথ। শোষণ থেকে মুক্তি
    দারিদ্র থেকে মুক্তি অশিক্ষা থেকে মুক্তি…

    আজ পয়লা শ্রাবণ
    খোকন, আজ তোর জন্মদিন।
    ছোটবেলায়, তোর মনে আছে? আমাদের ভাঙ্গা মেঝেতে
    বাক্স থেকে বার করা মেজো-মাসীর হাতে তৈরি আসনটা
    পেতে দিতাম। সামনে রাখতাম ঠাকুরের আসনের প্রদীপখানা।
    তুই বসতিস বাবু হয়ে চুপটি করে।
    তোকে আমরা একে একে ধান দুব্বো মাথায় দিয়ে আশীর্বাদ করতাম।
    বাবা বলতেন বড় হও মানুষ হও।
    তোর বাবার সেই বন্ধু-ঘোষ কাকা তিনি বলতেন
    বেঁচে বর্তে থাকো।
    তুই জিগ্যেস করতিস-মা, বর্তে মানে কি মা?
    আমি শুধু তোর মাথায় ধান-দুব্বোই দিতাম।
    বলতাম না কিছুই। শুধু মনে মনে বলতাম
    ঠাকুর, আমার খোকনকে মস্ত বড় মানুষ করে তোলো
    আমার খোকন যেন সত্যিই মানুষ হয়।
    ওর যেন কখনো কোনো বিপদ না হয় ঠাকুর।
    অভাবের সংসারে ওই একটা দিন-পয়লা শ্রাবণ
    কষ্টের পয়সায় একটু বাড়তি দুধ নিতাম।
    পায়েস রান্না করে দিতাম তোকে।
    তুই খুব ভালবাসতিস পায়েস খেতে।
    তোর বাবা বাসস্টান্ডের দোকান থেকে নিয়ে আসতেন
    তোর প্রিয় মিষ্টি ছানার গজা।
    সামান্য ইস্কুল মাস্টারিতে কীই বা আয় হত;
    ঘরে বসে ছাত্র পড়িয়ে আসতো কিছু।
    দাউ দাউ অভাবের আগুনে সে রসদ পুড়তে সময় লাগত না।
    তোর বাবার জামা সেলাই করতাম আর বার বার বলতাম
    আসছে মাসে একটা জামা বানিয়ে নিও।
    উনি হেসে উঠে বলতেন; বাদ দাও তো, খোকন বড় হচ্ছে।
    ওর জন্য ভাবছি দুধ রাখতে হবে আরো আধসের-
    দুধে শক্তি বাড়ে। বুদ্ধি বাড়ে। শক্তি আরে বুদ্ধি না হলে
    তোমার খোকন মস্ত বড় মানুষ হয়ে উঠবে কি করে?
    ভাবছি আরো দুটো টিউশনি নেব।
    ছাত্র পড়িয়ে পড়িয়ে মানুষটা দিনের শেষে ক্লান্ত হয়ে যেতেন।
    বারান্দার ধার ঘেঁষে যখন রাতের অন্ধকারে জোনাকির ব্যস্ততা,
    আর ঘরে তোর পড়া মুখস্থ করার একটানা সুর
    আমাদের কলোনীর ভাঙ্গাচূড়া বাড়িটাকে জীবন্ত করে রাখতো-
    তখন বলতেন আমায়; খাওয়া দাওয়া একটু করো- তোমার চেহারাটা
    বড় ভেঙ্গে পড়ছে দিন দিন… শাড়িটাও তো দেখছি বেশ ছিঁড়েছে-
    কালই আমি ফেরার পথে একটা শাড়ি নিয়ে আসব। ধারেই আনব।
    আমি বলতাম-ধুর। সামনে খোকনের উঁচু ক্লাস-
    কত বই পত্তর কিনতে হবে- কত খরচ।
    উনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে চুপ করে যেতেন।
    জোনাকিরা নিঃশব্দ অদৃশ্য আলোর আলপনা আঁকত
    উঠনের আগাছার ঝোপে।
    আবহ সঙ্গীতের মত তুই ভেতরে বসে বসে পড়া মুখস্থ করতিস।
    ইতিহাস, ভূগোল, গ্রামার।
    ঈশ্বর আমাদের নিরাশ করেননি।
    তুই কত বড় হলি।
    সব পরীক্ষায় কত ভাল ফল হল তোর।
    বাবা বললেন; আরও পড়। উচ্চ শিখাই উচ্চ সম্মানের
    এক মাত্র পথ। তুই আরও পড়লি।
    তারপর…
    তোর চাকরি হল কত বড় অফিসে
    মনে আছে খোকা? প্রথম মাসের মাইনে হাতে পেয়েই
    তুই কত কী কিনে এনেছিলি?
    তখন তো আমরা উঠে এসেছি শ্যামবাজারে।
    দু’কামরার বেশ সাজানো ঘোচানো গোছানো বড় ফ্লাট।
    তোর অফিস থেকেই তো দিয়েছিল।
    সেই বাড়ি সেই ঘর সেই বেলকনি- কত স্মৃতি- কত ছবি!
    ঐ বাড়িতেই তো
    আশ্বিনের ঝড়ো বিকেলে- তোর মনে আছে খোকন?
    তোর বাবা যেদিনটাতে চলে গেলেন- মনে আছে?
    তুই বাবার বুকের ওপর পড়ে যখন কাঁদছিলি হাপুস নয়নে
    সদ্য স্বামীহারা, আমি সেদিন তোর সেই অসহায় মুখ দেখে
    আরো বেশি করে ভেঙ্গে পড়েছিলাম।
    তোকে বুকে টেনে নিয়েছিলাম ছোটবেলার মত।
    বলেছিলাম-
    কাঁদিস না খোকা। আমিতো আছি।

    আজ পয়লা শ্রাবণ
    কলকাতা থেকে অনেক দুরে মফস্বলের এই বৃদ্ধাশ্রমে
    আমি একেবারে একা, খোকন।
    তোকে বড় দেখতে ইচ্ছে করছে রে।
    তোকে, বৌমাকে আর ছোট্ট বিল্টুকে।
    তোরা এখন কত দুরে-
    সল্ট-লেকের মার্বেল বসানো ঝকঝকে বাড়িতে।
    আজ তোর জন্মদিনের নিশ্চয়ই খুব বড় পার্টি হচ্ছে-
    তাই নারে খোকন? লোকজন, হৈচৈ, খাওয়া-দাওয়া।
    খুব ভাল, খুব ভাল।
    খোকন, আজ পয়লা শ্রাবণ
    আমার বড় মনে পড়ছে যাদবপুরের ভাঙ্গা ঘরে রাত্রে
    তুই আমার পাশে শুয়ে মাঝে মধ্যে হঠাৎ খুব ভয় পেয়ে
    জড়িয়ে ধরতিস আমাকে। আমি বলতাম, ভয় কী রে?
    আমি তো আছি। মা তো আছে খোকনের। যার মা থাকে
    তাকে কী ভুতে ধরে?
    তুই নিশ্চিন্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়তিস আমার বুক জুড়ে।
    তোর আধুনিক সংসারে
    এই বুড়িটার একটু ঠাই হল নারে?
    প্রতিমাও তো মা। ওরও তো আছে আমার খোকনেরই মত
    কোল আলো- করা এক চাঁদের টুকরো।
    কিন্তু সময়ের কী আশ্চর্য পরিবর্তন!
    খোকন!
    তুই বোধহয় আর এখন পায়েস খাস না- তাই নারে?

    তুই জানিস না খোকন
    আজ আমি সকালে পায়েস রান্না করেছি। হ্যাঁ
    তোরই পাঠানো টাকায়।
    সারাদিন সেই পায়েসের বাটি সামনে নিয়ে বসে আছি রে।
    এখানে এই বৃদ্ধাশ্রমে
    আমার একলা ঘরে
    আর কেউ নেই।
    তুই একবার আসবি খোকন।
    একবার.. শুধু

    একবার।।

     

    English Transliteration:

    Aaj poyla Srabon.
    Khukhan, aaj tor jonmodin
    Tui jakhan jonmechili, amra takhan Jadabpur e
    Natun gore utha colony r talir ghore.
    Tor school master baba
    Shei Haricaner alo jola ghorei
    Aanonde ar khushite jhalmal hoye uthechilen
    Tui ashar par. Tor naam rekhechilen Sukalyan.
    manushtar monta chilo shishur moton
    obhabe onotane, beche thakar nana durbipakeo
    Venge porten na khokhono. Shokoler valo chaiten mon theke
    Bolten dekho ekdin ei desher manush
    Thik khuje pabe muktir poth. Shushan theke nukti
    Doridro theke mukti oshikkha theke mukti..

    Aaj poyla Srabon.
    Khukhan, aaj tor jonmodin
    Chotobelay tor mone aache? Amader bhanga mejete
    Bakso theke bar kora mejo mashir haate toiri aashonta
    pete ditam. Shamne rakhtam thakurer aashaner prodipkhana
    tui boshtis babu hoye chupti kore.
    toke amay eke eke dhan dubba mathay diye aashirbaad kortam
    Baba bolten boro ho manush ho.
    Tor baba shei bandhu-ghosh kaka tini bolten
    beche borte thako.
    Trui jeggesh kortish maa, Borte mane ki maa?
    Ami shudhu tor mathay dhan dobboi ditam
    Boltam na kichui. Shudhu mone mone boltam
    thakur, Amar khukhanke masta boro manush kore tulo.
    Amar khukhan jeno shotti manush hoy
    Or jeno kokhono kuno bipod na hoy thakur
    Obhaver shongshare oi ekta din poyla srabon
    kashter poyshar ektu barti dudh nitam.
    Payesh ranna kore ditam toke
    tui khub valo bhastish payesh khete.
    Tor baba bus stander dukan thekeniye aashten
    Tor priyo misti chanar goja.
    Shamanno school mastarite ki ba aay hoto;
    ghore boshiye chatro podiye aashto kichu
    dau dau obhaber aagune she rashad purte shomoy lagto na
    tor babar jama shelai kortam ar baar baar boltam
    Asshche mashe ekta jama baniye niyo
    Uni heshe bolten; Baad dao to, Khukhan boro hocche.
    Or jonno bhavchi dudh rakhte hobe aaro aadhsher
    Dudhe shakti bare. buddhi bare. Shakti aare briddi na hole
    tumar khukhan masta boro manush hoye uthbe ki kore?
    bhavchi aro duita tution nebo.
    chatro poriyr poriye manushta diner sheshe klanta hoye jeten.
    barandar dhar geshe jakhan raater ondhokare jonakir bestota
    aar ghore tor pora mukhasta korar ektana shur
    amader colony r bhanga chura baritake jibonta kore rakhto
    Takhan bolten aamay; khawa dawa ektu koro- tumar cheharata
    baro venge porche din din..Sharitao to dekhchi besh chireche-
    kal e ami ferar pathe ekta shari niye aashbo. dharei anbo
    Ami boltam dhur. shamne khokhaner uchu class-
    Koto boi pattar kinte hobe- koto kharach
    uni dirghosshash fele chup kore jeten.
    honakira nisshobda odrishyo aalpona aakto
    uthoner aagachar jhope.
    Aaboho shangiter moto tui bhetore boshe boshe pora mukasta kortish
    Itihash, Vugal, r
    grammar.

    Isshar amader nirash korenni
    Tui koto boro holi
    Shab porikkay koto valo fol holo tor
    baba bollen aaro por . uccho shikka e uccho shommaner
    Ek matro path. Tui aaro mporli.

    Tarpar
    Tor chakri holo koto boro office e
    Mone aache khoka? Prothom masher maine haate peye e
    tui koto ki kine enechili?
    takhan to Amra uthe eshechi Shyambazare
    Du kamrar besh shajano ghochano gochano boro flat.
    to office thekei to diyechilo.
    Shei bari shei ghar shei balkoni- koto smriti koto chobi
    Ei baritei to
    Aashiner jhoro bikele-tor mone aache khokon?
    tor baba jedinta te chole gelen-mone aache?
    tui babar buker upar pare jakhan kadchili hapush nayane
    shodyo shamihara, Ami shedin tor she oshohay mukh dekhe
    Aaro beshi kore venge porechilam
    toke buke tene niyechilam choto belar moto.
    Bolechilam
    Kadish na khoka amito aachi
    Aaj poyla srabon
    Kolkata theke onek dure mofossoler ei briddsrome
    Ami ekebare eka, khokon
    Toke dekhte boro icche korche re
    toke, boumake r chotto biltuke
    tora ekhon onek dure
    salt laker, marbel boshano jhakjhake barite.
    Aaj tor jonmodine nishoy khub boro party hocche.
    tai nare khokon? lokjon hoichoi, khawa dawa.
    khub valo, khub valo.

    Khokon, Ajj poyla srabon
    Amar boro mone porche jadabpurer bhanga ghore ratre
    Tui amar pashe shuye majhe modde hotath khub voy peye
    joriye dhortish amake. Ami boltam, voy ki re?
    Ami to aachi. Maa to aache khokoner. jar maa thake
    tate ki bhute dhore?
    tui nischinto ghumiye portish amar buk jure.
    tor aadhunik songshare
    ei buritar ektu thai holo nare?
    Pritimao to maa . oro to aache amar khokoner e moto
    Kol aalo kora ek chader tukro.
    Kintu shomoyer ki aashcharjo poribortan.
    Khokon!
    Tui budhoy ekhon r payesh khas na-tai na re?
    Tui janish na khokon
    Aaj ami shokale payesh ranna korechi. Hay
    Tor e pathano takai
    Sharadin shei payesher bati shamne niye boshe aacchi re
    Ekhane ei briddasrome
    Amar ekla ghore
    Aar keu nei
    Tui ekbaar aashbi khokon
    Ekbaar..shudhu
    Ekbaar.

    See less
      • 0
  • 1
  • 27,345
  • 0
Answer
Load More Questions

Sidebar

আরও দেখুন

  • রবীন্দ্রসংগীত : তুমি কোন কাননের ফুল | Tumi Kon Kanoner Phool lyrics in Bengali with English Translation?
  • কবিতা : পরশ পাথর (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) Parash Pathar Poem by Rabindranath Tagore in Bengali?
  • কবিতা : নিষ্কৃতি (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) Nishkriti by Rabindranath Tagore in Bengali?
  • কবিতা : ক্যামেলিয়া (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) Camellia Poem by Rabindranath Tagore in Bengali lyrics?
  • কবিতা : দেবতার বিদায় (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) Debotar Biday by Rabindranath Tagore?
  • কবিতা : প্রশ্ন (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) Proshno Kobita Rabindranath Tagore in Bengali?
  • মা গো আমায় ছুটি (প্রশ্ন ) Mago Amay Chuti Dite Bol Kobita in Bengali?
  • অভিসার (সন্ন্যাসী উপগুপ্ত) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | Upagupta Poem lyrics in Bengali and English?
  • কবিতা : মূল্যপ্রাপ্তি (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) Mulya Prapti Poem in Bengali?
  • কবিতা : পূজারিনী (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) Pujarini Poem by Rabindranath Tagore in Bengali?
  • কবিতা : অভিসার (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) Abhisar Poem lyrics in Bengali?
  • কবিতাঃ শঙ্খ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) Sankha by Rabindranath Tagore in Bengali?
  • কবিতাঃ পৃথিবী (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) Prithibi Poem by Rabindranath Tagore lyrics?
  • কবিতাঃ দুষ্টু (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) Dustu Poem By Rabindranath Tagore lyrics?
  • লুকোচুরি (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) Poem Lukochuri Rabindranath Tagore Bengali Script?
  • কবিতাঃ সাগরিকা (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) Sagarika Poem by Rabindranath in Bengali?
  • দুরন্ত আশা (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) Duranta Asha Poem in Bengali lyrics?
  • ওরা কাজ করে কবিতার সারাংশ ও মূলভাব | Ora Kaj Kore Poem Summary in Bengali?
  • শেষ বসন্ত (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) Sesh Basanta Bengali Poem lyrics?
  • ফাল্গুনে বিকশিত কাঞ্চন ফুল (রবীন্দ্রসঙ্গীত) Falgune Bikoshito Kanchan full lyrics in Bengali?
Join us on Telegram
Join our FaceBook Group

বিষয়

All Bangla Paragraph (105) Apurba Dutta Poems (4) Bangla application format (11) Bangla Choto Golpo (7) Bangla dorkhasto lekha (11) Bangla gazal lyrics (8) Bangla GK (177) Bangla Kobita (203) Bangla Rachana (105) baul gaan lyrics (6) baul song lyrics (6) Bengali antonyms (40) Bengali Essay (105) Bengali letter Writing (11) Bengali lullaby lyrics (3) bengali lyrics (82) Bengali Meaning (259) bengali poem (14) Bengali Poems (124) Bengali Poem Summary (21) Bengali Rachana (99) Bengali short story (7) bengali song lyrics (98) bengali song lyrics in bengali (98) Bengali synonyms (33) chandrabindu lyrics (2) English grammar in Bengali (6) English to Bengali Meaning (270) English to Bengali Translation (256) Essay (75) Full form (14) general knowledge bengali (7) indian history in bengali (9) Joy Goswami kobita (4) kazi nazrul islamer kobita (8) Kobita (143) lyrics (17) Myth (3) nirendranath chakraborty poem (5) Nirmalendu Goon Poems (6) Paragraph (20) Parts of speech in Bengali (6) Pod Poriborton (39) Poem (3) poem summary in bengali (21) rabindranath tagore poems (57) Rabindra Sangeet lyrics (5) shakti chattopadhyay poems (7) Social Science (6) Somarthok Shobdo (33) Somas Bangla Grammar (15) sukanta bhattacharya kobita (4) Sukumar Roy Poem (16) Summary (8) অনুচ্ছেদ (127) অপূর্ব দত্তের কবিতা (4) আধ্যাত্মিক (10) ইংরেজি অনুবাদ (6) ইংরেজি থেকে বাংলা (6) ইংলিশ বাংলা অনুবাদ (6) ইন্টারনেট (1) ইসলাম (18) ইসলাম ধর্মীয় প্রশ্ন উত্তর (18) ইসলামী নাত ও গজল (8) ইসলামী সংগীত লিরিক্স (8) কবিতা (26) কবিতার সারাংশ ও সারমর্ম (21) কাজী নজরুল ইসলাম (8) কুসংস্কার (3) গানের কথা (14) ঘুম পাড়ানি গান lyrics (3) ছোটগল্প (7) জয় গোস্বামী (4) জয় গোস্বামীর কবিতা (4) জেনারেল নলেজ (7) জেনারেল নলেজ প্রশ্ন ও উত্তর (39) নির্মলেন্দু গুণের কবিতা (6) নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কবিতা (5) পদ পরিবর্তন (39) পূর্ণরূপ (14) প্রকৃতি (17) প্রক্রিতি (23) ফলমূল (28) ফুল ফর্ম (14) বাংলা general knowledge (52) বাংলা অর্থ (275) বাংলা আবেদন পত্র (11) বাংলা কবিতা (219) বাংলা কবিতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (68) বাংলা গান লিরিক্স (97) বাংলা গানের লিরিক্স (98) বাংলা ছোট গল্প (7) বাংলা দরখাস্ত নমুনা (11) বাংলা প্রবন্ধ (97) বাংলা বাক্য রচনা (176) বাংলা বিপরীত শব্দ (40) বাংলা রচনা (127) বাউল গান লিরিক্স (6) বাক্য রচনা (176) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (1) বিজ্ঞান শিক্ষা (17) বিপরীত শব্দ (40) বোঝাপড়া কবিতা (3) ব্যাখ্যা (8) ভক্তিভাজন (10) ভারতের ইতিহাস (9) ভূগোল (5) মধ্যযুগের ভারতের ইতিহাস (9) মূলভাব (8) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (34) রবীন্দ্রসংগীত (1) রবীন্দ্র সংগীত লিরিক্স (5) লিরিক্স (17) শক্তি চট্টোপাধ্যায় kobita (7) শঙ্খ ঘোষ (8) শুভ দাশগুপ্ত (7) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত (5) সন্ধি বিচ্ছেদ (8) সন্ধি বিচ্ছেদ ব্যবহার (8) সমাজ বিজ্ঞান (6) সমার্থক শব্দ (33) সমাস (15) সারাংশ (8) সুকান্তের কবিতা (4) সুকুমার রায় (16)

Footer

© 2025 Bengali Forum · All rights reserved. Contact Us

Add Bengali Forum to your Homescreen!

Add