প্রিয় নেতাজী (শুভ্রা ঘোষ ) priyo netaji poem lyrics
Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.
Please briefly explain why you feel this question should be reported.
Please briefly explain why you feel this answer should be reported.
Please briefly explain why you feel this user should be reported.
প্রিয় নেতাজী,
অনেক দিন ধরে চিঠি লিখবো ভাবছিলাম
কিছুতেই আর হয়ে উঠছিলো না।
আজ কোনো একটা ঘটনার নিরিখে,
তোমাকে চিঠি লিখতে বসলাম।
ছেলেবেলায় আমাদের দোতলা ড্রইং রুমে,
তোমার ছবি।
জন্মদিনে পেতাম বই, সেখানেও তুমি
বাবার গল্পে তোমারি বীরত্ব।
দেখতে দেখতে, শুনতে শুনতে,
ক্রমে আমিও তোমার ভক্ত।
বাবা বলতেন,
ইন্ডিয়ার আর একজন নেতাজীর দরকার ছিল
মা গাইতেন,
বীর সুভাষের মহান দেশ।
দাদু বলতেন,
ছেলেটাকে ওরা শেষ করে দিলো
ঠাম্মার চোখে তখন, আঁচলের খুঁট।
এসবের মধ্যে বড়ো হওয়া আমিও,
কেমন একটা ঘরের মধ্যে থাকতাম।
ভাবতাম, পারতে তুমি সব পারতে,
যদি আর একবার,
একবার আমাদের মধ্যে তোমাকে পেতাম।
আজ উত্তর চল্লিশেও আমার একই ভোর
তুমি পারতে, কেন না দেশের মাটিতে
দেশোপ্রেমের মতো জোরালো একটা ঝাঁকুনি
দেবার ক্ষমতা তখন আর কারুর ছিল না।
এখনও আছে কি ?
তোমার হারিয়ে যাবার পর,
দেশে কত কমিশন বসেছে।
ভারতের পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণে
কোনো পীর, কোনো সন্তো,
কোনো দয়ালু বৃদ্ধ কে দেখে
ভুল করেছে সবাই,
ছুটে গেছে তুমি মনে করে।
কিন্তু ফিরেছে মাথা নেড়ে,
তবু তোমাকে পাবার আশায় বুক বেঁধেছে।
তুমি তো শুধু বসু বাড়ির নও,
গোটা ভারতবর্ষের মনিকোঠার হীরক।
যার আলোর শুদ্ধতা,
কালো কে সাদা করতে পারে।
এই বিশ্বাসে ভর করে সবাই ভেবেছিলো
তুমি আসবে, আসবেই।
কিন্তু এলে না।
কেটে গেলো অনেক গুলো বছর,
পেরিয়ে এলাম জীবনের অনেক গলি খুঁজে।
তুমি এখন বিমান বন্দরে, সভা সমিতিতে,
রিসার্চ বিউরোতে,
এমন কি ছেলের নামকরণেও,
শুধু হৃদয় যেন দোলা দেয় না।
জানো ? তোমার জন্মদিনটা
এখন সবাই ছুটির দিন বলে
আয়েশ করে উপভোগ করে।
আর ছেলেরা, তারা তো এখন
দেশ থেকে বিদেশের খবরই বেশি রাখে।
আর মেয়েরা, তারাও স্বাধীনতার
ভেলায় চড়ে হতচকিত।
শুধু মাটিটা কাঁদে,
সেই কান্না যেন ভূমিকম্প, খরা
এলেনিনও, বন্যা হয়ে চারিদিক ভাসিয়ে দেয়।
এখনো অভিমান করে শুয়ে থাকবে রেনকোজিতে?
আজ যখন ঘাড়ের উপর AK-47 এর নিশ্বাষ
রক্তের হরি খেলা ধর্মের জিগিরে
তখন শোনাও সেই আওয়াজ।
আমি সুভাষ বলছি,
মেয়েটা দৌড়ে এসে বলবে,
মা.. মা দেখো উনি আসছেন
পাশের বাড়ির মেসোমশাই ডাকবেন জানলা দিয়ে
বৌমা আমি বলিনি উনি ফিরে আসবেন ?
খোলা জানালার ধরে দাঁড়াবেন মায়েরা,
তাদের ডান হাতে শঙ্খ, বাঁ চোখে জল,
নদী হবে উত্তল, নৌকা বেসামাল
পরান মাঝিও চেঁচাবে,
উনি আসতেসেন…
সবুজ মাঠে শিশুদের হাতে পতাকার দোলা
উনি আসছেন, উনি আসছেন,
উনি ফিরে আসছেন।
তোমার হারিয়ে যাওয়া জন্মদিনের ভেতর থেকে
উঠে আসুক, আর একটা ২৩শে
আজ স্বাধীনতার ঠিক আগের মুহূর্তে দাঁড়িয়ে
তোমাকে আমার এই চিঠি
প্রণাম নিও, ভালো থেকো নেতাজী।