Sign Up

Continue with Google
or use


Have an account? Sign In Now

Sign In

Continue with Google
or use


Forgot Password?

Don't have account, Sign Up Here

Forgot Password

Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.


Have an account? Sign In Now

Sorry, you do not have permission to ask a question, You must login to ask a question.

Continue with Google
or use


Forgot Password?

Need An Account, Sign Up Here

Please briefly explain why you feel this question should be reported.

Please briefly explain why you feel this answer should be reported.

Please briefly explain why you feel this user should be reported.

Bengali Forum Logo Bengali Forum Logo
Sign InSign Up

Bengali Forum

Bengali Forum Navigation

  • বিষয়
  • ব্লগ
  • হযবরল
Search
Ask A Question

Mobile menu

Close
Ask A Question
  • বাংলা অভিধান
  • সাহিত্য
  • শিক্ষা
  • রচনা
  • সাধারণ জ্ঞান
  • ইংলিশ টু বাংলা
  • বিজ্ঞান
  • বাংলা কুইজ
  • ধৰ্ম ও সংস্কৃতি
  • ইতিহাস
  • মতামত

Bengali Forum Latest Questions

In: সাহিত্য

তেজ -দেবব্রত সিংহ | Tej Kobita lyrics in Bengali

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on April 24, 2020 at 2:36 am

    তেজ -দেবব্রত সিংহ ‘আমি জামবনির কুঁইরি পাড়ার শিবু কুঁইরির বিটি সাঁঝলি বটে।’ কাগজওয়ালারা বইললেক, “উঁ অতটুকু বইললে হবেক কেনে? তুমি এবারকার মাধ্যমিকে পত্থম হইছ। তোমাকে বইলতে হবেক আরো কিছু।” পঞ্চায়েতের অনি বৌদি, পধান, উপপধান, এইমেলে, এম.পি- সব একেবারে হামলিয়ে পড়ল আমাদের মাটির কুঁইড়েঘরে। জামবনি ইস্কুলের হRead more

    তেজ -দেবব্রত সিংহ

    ‘আমি জামবনির কুঁইরি পাড়ার শিবু কুঁইরির বিটি সাঁঝলি বটে।’

    কাগজওয়ালারা বইললেক,
    “উঁ অতটুকু বইললে হবেক কেনে?
    তুমি এবারকার মাধ্যমিকে পত্থম হইছ।
    তোমাকে বইলতে হবেক আরো কিছু।”

    পঞ্চায়েতের অনি বৌদি, পধান, উপপধান, এইমেলে, এম.পি-
    সব একেবারে হামলিয়ে পড়ল আমাদের মাটির কুঁইড়েঘরে।

    জামবনি ইস্কুলের হেডমাস্টার
    কোন বিহান বেলায় টিনের আগর খুইলে,
    হেইকে, ডেইকে, ঘুম ভাঙাই- খবরটা যখন পথম শুনালেক
    তখন মাকে জড়াই শুয়ে ছিলুম আমি।
    কুঁড়াঘরের ঘুটঘুইটা আঁধারে হেডমাস্টার মশাইরে দেইখে
    চোখ কচালে মায়ের পারা আমিও হাঁ – হয়ে ভাইবে ছিলেম।
    -একি স্বপন দেখছি নাকি-
    স্যার বইলল, এটা স্বপুন লয়, স্বপুন লয়, সত্যি বইটে।
    কথাটো শুইনে কেঁইনদে ভাসায়েছিলুম আমরা মা বিটি।

    আজ বাপ বেঁইচে থাইকলে
    আমি মানুষটাকে দেখাইতে পাইত্থম। দেখাইতে পাইতত্থেম বহুত কিছু-
    আমার বুকের ভিতর
    যে তেজালো সইনঝা বাতিটা জ্বালায়ে ছিল মানুষটা।
    সেই বাতিটা আজকে কেমন আমাদের কুঁইড়ে ঘরটাকে আলো কইরেছে।
    সেটো দেখাইতে পাইত্থম।

    আপনারা বইলছেন বটে
    “তুমাদের মতো মেইয়ারা যদি উঠে আসে তবে ভারতবর্ষ উঠে আসে।”
    কথাটা খুবই সত্যি, কিন্তু
    উঠে আসার রাস্তাটা যে এখোন তৈয়ার হয় নাই।
    খাড়া পাহাড়ে উঠা যে কি জিনিস।
    বহুত দম লাগে। বহুত ত্যাজ লাগে…

    আমি জামবনির কুঁইরি পাড়ার শিবু কুঁইরির বিটি সাঁঝলি।
    যখন থেকে হুঁশ হইছে তখন থেকে শুইনে আসছি
    “বিটি না মাটি’
    ঠাকুমা বইলথক্,
    পরের ঘরে হেঁইসেল ঠেইলবেক্ তার আবার লিখাপড়া’

    গাঁয়ের বাবুরা বইলথক্
    “দ্যাখ সাঁঝলি – মন খারাপ কইরলি তো হেইরে গেলি।
    শুন যে যা বইলছে বলুক্। সে সব কথা এক কানে সিধালে
    আর এক কানে বার কইরে দিবি।’

    তখ্যান বাবুপাড়ার দেঘইরা ঘরে কামিন খাইটতক মা।
    ক্ষয় রোগের তাড়সে-মায়ের গতরটা ভাঙে নাই অতোটা।
    মাঝে মইধ্যে জ্বরটর আইত বটে, জ্বর এলে মা
    চুপচাপ এঙনাতে তালাই পাইতে শুইয়ে থাইকতো।
    মনে আছে সে ছিল এক জাঁড় কালের সকাল।
    রোদ উঠেছিল ঝলমলানি ঝিঙা ফুলা রোদ।
    আমি সে রোদে পিঠ দিয়া গা দুলাই পড়ছিলাম
    ইতিহাস…
    কেলাস সেভেনের সামন্ত রাজাদের ইতিহাস।

    দে ঘরের গিন্নি লোক পাঠাইছিল বারকতক।
    মায়ের জ্বর সে তারা শুইনতে নাই চায়!
    আমাদের দিদি বুঢ়ি তখনো বাঁইচে।
    ছেঁড়া কম্বল মুড়হি দিয়ে বিড়ি ফুকছিল বুড়হি।
    শেষতক্ বুড়হি সেদিন পড়া থেকে উঠাই
    মায়ের কাইজ টুকুন কইরতে পাঠাই ছিল বাবু ঘরে।

    পুরানো ফটক ঘেরা উঠান-অতোবড়ো দরদালান- অতোবড়ো বারান্দা,
    সব ঝাঁট ফাট দিয়ে সাফ সুতরো করে আসছিলুম চইলে,
    দেঘইরে গিন্নি নাই ছাইড়ল্যাক, একগাদা এটাকাটা-জুঠা বাসন
    আমার সামনে আইনে ধইরে দিলেক। বইল্লুম
    “আমি তোমাদের জুঠা বাসন ধুইতে লাইরবো,”
    বাবু গিন্নির সেকি রাগ’-
    “কি বইল্লি তুই যতবড়ো মু লয় তত বড়ো কথা? জানিস,
    তর মা, তর মায়ের মা, তার মায়ের মা সবাই এতক্কাল
    আমাদের জুঠা বাসন ধুয়ে গুজারে গ্যালো
    আর তুই আমাদের জুঠা বাসন ধুইতে লাইরবি!”
    বল্লুম “হ আমি তোমাদের জুঠা বাসন ধুইতে লাইরবো।
    তোমরা লোক দেখে লাওগা। আমি চইল্লোম”
    কথাটো বইলে গটগট গটগট কইরে বাবু গিন্নির মুখের সামনে
    আমি বেড়োই চইলে আইলম।”

    তা বাদে সে লিয়ে কি কাইন্ড। কি ঝাম্যালা।
    বেলা ডুবলে মাহাতোদের ধান কাট্টে বাপ ঘরে ফিরে আইলে
    দুপাতা লিখাপড়া করা লাত্নির ছোট মুখে বড়ো থুতির কথা
    সাতকাহন কইরে বইলেছিল বুড়হি দিদি।

    মা কুনো রা কাড়ে নাই।
    আঘর মাসের সইন্ ঝা বেলাই এঙ্গ্নাতে আগুন জ্বেইলে
    গা-হাত-পা সেঁকছিল মা।

    একমাথা ঝাঁকড়া চুল ঝাঁকানো বাপের পেটানো পাথরের মুখটা
    ঝইলকে উঠেছিল আগুনের আঁচে।
    আমি বাপের অমুন চেহারা কুনোদিন দেখি লাই।
    বাপ সেদিন মা আর দিদি বুড়ির সমুখে আমাকে কাইছে ডেইকে
    মাথায় হাত বুলাই গম্ গইমা গলায় বইলেছিল –

    যা কইরেছিস্! বেশ্ কইরেছিস্।
    শুন্, তর মা, তর মায়ের মা, তার মায়ের মা- সবাই কইরেছে কামিনগিরি।
    বাবুঘরে গতর খাটাই খাইয়েছে। তাইতে হইছে টা কি।
    তাতে হইছে টা কি! ই-কথাটো মনে রাখবি সাঝ্লি,
    তুই কিন্তু কামিন হবার লাগে জম্মাস লাই।
    যত বড় লাট সাহেবই হোক কেনে কারু কাছে মাথা নোয়াই
    নিজের ত্যাজ বিকাবি লাই।
    এই ত্যাজ টুকুর ল্যাইগে লিখাপড়া শিখাচ্ছি তুকে।
    না হলে আমাদের মতো হা-ভাতা মানুষের ঘরে আর আছে টা কি?”

    আমি জামবনির কুইরি পাড়ার শিবু কুইরির বিটি সাঁঝলি,
    কবেকার সেই কেলাস সেভেনের কথা ভাবতে যায়ে
    কাগজওয়ালা টিভিওয়ালাদের সামনে এখুন কি যে বলি…

    তালপাতার রদ দিয়ে ঘেরা গোবুর লতার এঙ্গনাতে লুকে এখন লুকাকার।
    তার মাঝে বাঁশি বাজাই, জিপগাড়িতে চেইপে
    আগুপিছু পুলিশ লিয়ে মন্ত্রী আইল্যাক ছুটে।
    ‘কুথায় সাঁঝলি কুইরি কুথায়’, বইলতে বইলতে
    বন্দুকধারী পুলিশ লিয়ে সুজা আমাদের মাটির কুইড়ে ঘরে,

    হেডমাস্টার বইললে ‘পনাম কর, সাঁঝলি পনামকর’
    মন্ত্রী তখন পিঠ চাপড়াইল্যাক। পিঠ চাপরাই বইল্লেক,
    “তুমি কামিন খেইটে মাইধ্যমিকে পথম হইছ,
    তাই তুমারে দেইখতে আইলম্, সত্যিই বড় গরীব অবস্থা বটে।
    তুমাদের মতো মিয়ারা যাতে উঠে আসে
    তার লাগেই তো আমাদের পার্টি, তার লাগেই তো আমাদের সরকার।
    – এই লাও, দশ হাজার টাকার চেকটা এখুন লাও।
    শুন আমরা তুমাকে আরো ফুল দিব, সম্মর্ধ্বনা দিব,
    আরো দ্যাদার টাকা তুলে দিব।–
    এই টিবির লোক, কাগুজের লোক, কারা আছেন, ই-দিকে আসেন।“

    তক্ষুনি ছোট বড় কতরকমের সব ঝইলকে উঠল ক্যামেরা,
    ঝইলকে উঠল মন্ত্রীর মুখ। না না মন্ত্রী লয়, মন্ত্রী লয়,
    ঝইলকে উঠল আমার বাপের মুখ।
    গন্ গনা আগুনের পারা আগুন মানুষের মুখ।
    আমি তক্ষুনি বইলে উঠলম-
    “না না ই টাকা আমার নাই লাইগব্যাক। আর আপনারা
    যে আমায় ফুল দিব্যান, সম্মর্ধ্বনা দিব্যান বইলছেন তাও আমার নাই লাইগব্যাক।’

    মন্ত্রী তখন ঢোক গিলল্যাক।
    গাঁয়ের সেই দেঘইর‍্যা গিন্নির বড় ব্যাটা এখুন পাটির বড় ল্যাতা।
    ভিড় ঠেলে সে আইসে বইলল্যাক-
    “ ক্যানে, কি হইছেরে সাঁঝলি,
    তুই তো আমাদের বাড়ি কামিন ছিলি।
    বল তর কি কি লাইগব্যাক, বল, তর কি কি লাইগব্যাক খুলে বল খালি,”

    বইল্ লম –
    “ আমার পারা শয়ে শয়ে আর অনেক সাঁঝলি আছে।
    আর শিবু কুইরির বিটি আছে গাঁ গিরামে। তারা যদ্দিন
    অন্ধকারে পইড়ে থাইকবেক তারা যদ্দিন লিখ-পড়ার লাগে কাঁইদে বুলব্যাক্।
    তদ্দিন কুনো বাবুর দয়া আমার নাই লাইগব্যাক্। শুইনছ্যান আপনারা
    তদ্দিন কুনো বাবুর দয়া আমার নাই লাইগ্ ব্যাক।“

     

    English transliteration:

    Mu Jambanir kuiri parar shibu Kuirir biti Shajhli bote.

    Kagajwalara boillek
    Uuh ototuku bolole hobek kene?
    Tumi ebarkar maddyomik prothom hoiso.
    Tumake boilte hobek aaro kichu.

    Ponchayeter oni boudi, podhan, upapadhan, Eimele, MP
    Shob ekebare halmliye podlo amader matir kuireghore.

    Jamboni schooler headmaster
    Kono bihan belay tiner aagar khuile
    Heike, Deike, Ghum bhangai- khabarta jokhon prothom shunlek
    Takhan maake jorai shuye chilum aami.
    Kudaghorer ghutghuita aadhare deadmaster moshire deikhe
    Chokh kochale mayer para amio ha- hoye bhaibe chilem.
    -Eki shopon deksi naki-
    Sir boillo, Eta shpun loy, Shapun loy, Shottyi boite.
    KOthatu shuinle keinde bhashachilem amara ma beti

    Aj bap beiche thaikle
    Ami manushtake dekhaite paithum. Dekhaite paithem bahut kicu
    Amar buker vitor
    Je tejalo shoijha batita jalaye chilo manushta.
    Shei batita aajke kemon aamader kuire ghartake aalo koireche
    Sheto dekhaite paithum

    Apnara boilchen bote
    “Tumader moto meiyara jodi uth aashe tobe bharatborsho uthe aashe.
    Kothata khub e shotti kintu
    uthe aashar rasta je ekhono taiyyar hoy nai.
    khara pahare utha je ki jinish.
    bahut dam lage baht tej lage

    Ami Jambanir kuiri parar shibu Kuirir biti Shajhli.
    jakhan theke hush oise takhan theke shuine aashchi
    “biti na mati”
    Thakuma boiltak
    Parer ghare heichel theilbek tar abar likhapora’

    gayer babura boilthok
    deykh Shajhli- Mon kharap karli mto heiri geli.
    Shun je ja boilche baluk. She shob kotha ek kane shidhale
    Aar ek kane bar koira dibi.

    Takhan babuparar deghroiya ghaare kamin khaitak ma.
    Khay roger tadoshe -mayer gatarta venge nai otota.
    majhe moddhe jartor aaito bote, Jar ele maa
    Chupchap egnate talai paite shuiye thaikto.
    Mone aache she chilo ek jaro kaler shokal.
    Rod uthechichilo jhalmalani jinga ful rod
    Ami she rode pith diya ga dulai parchilam
    itihash…
    Kelas sevener shamanta rajader itihas

     

    See less
      • 0
  • 1
  • 18,994
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

আমিই সেই মেয়ে (শুভ দাশগুপ্ত) Subho Dasgupta Poem Ami Sei Meye lyrics in Bengali

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on April 23, 2020 at 4:57 am

    আমিই সেই মেয়ে (শুভ দাশগুপ্ত) আমিই সেই মেয়ে। বাসে ট্রেনে রাস্তায় আপনি যাকে রোজ দেখেন যার শাড়ি, কপালের টিপ কানের দুল আর পায়ের গোড়ালি আপনি রোজ দেখেন। আর আরও অনেক কিছু দেখতে পাবার স্বপ্ন দেখেন। স্বপ্নে যাকে ইচ্ছে মতন দেখেন। আমিই সেই মেয়ে। বিহারের প্রত্যন্ত গ্রামে দিনের আলোয় যার ছায়া মাড়ানো আপনার ধর্মে নRead more

    আমিই সেই মেয়ে (শুভ দাশগুপ্ত)

    আমিই সেই মেয়ে।
    বাসে ট্রেনে রাস্তায় আপনি যাকে রোজ দেখেন
    যার শাড়ি, কপালের টিপ কানের দুল আর পায়ের গোড়ালি
    আপনি রোজ দেখেন।
    আর
    আরও অনেক কিছু দেখতে পাবার স্বপ্ন দেখেন।
    স্বপ্নে যাকে ইচ্ছে মতন দেখেন।
    আমিই সেই মেয়ে।

    বিহারের প্রত্যন্ত গ্রামে দিনের আলোয় যার ছায়া মাড়ানো
    আপনার ধর্মে নিষিদ্ধ, আর রাতের গভীরে যাকে বস্তি থেকে
    তুলে আনতে পাইক বরকন্দাজ পাঠান আপনি
    আর সুসজ্জিত বিছানায় যার জন্য অপেক্ষায় অধীন হয়
    আপনার রাজকীয় লাম্পট্য
    আমিই সেই মেয়ে।

    আমিই সেই মেয়ে- আসামের চাবাগানে ঝুপড়ি কামিন বস্তি থেকে
    যাকে আপনি নিয়ে যেতে চান সাহেবি বাংলোয় মধ্যরাতে
    ফায়ার প্লেসের ঝলসে ওঠা আলোয় মদির চোখে দেখতে চান
    যার অনাবৃত শরীর
    আমি সেই মেয়ে।

    রাজস্থানের শুকনো উঠোন থেকে পিপাসার জল আনতে যাকে আপনি
    পাঠিয়ে দেন দশ মাইল দূরে সরকারি ইঁদারায়- আর কুড়ি মাইল
    হেঁটে কান্ত বিধ্বস্ত যে রমণী ঘড়া কাঁখে ঘরে ফিরলেই যাকে বসিয়ে দেন
    চুলার আগুনের সামনে আপনার রুটি বানাতে
    আমিই সেই মেয়ে।

    আমিই সেই মেয়ে- যাকে নিয়ে আপনি মগ্ন হতে চান গঙ্গার ধারে কিংবা
    ভিক্টোরিয়ার সবুজে কিংবা সিনেমা হলের নীল অন্ধকারে, যার
    চোখে আপনি একে দিতে চান ঝুটা স্বপ্নের কাজল আর ফুরিয়ে যাওয়া
    সিগারেটের প্যাকেটের মত যাকে পথের পাশে ছুঁড়ে ফেলে আপনার ফুল সাজানো
    গাড়ি শুভবিবাহ সুসম্পন্ন করতে ছুটে যায় শহরের পথে-
    কনে দেখা আলোর গোধুলিতে একা দাঁড়িয়ে থাকা
    আমিই সেই মেয়ে।

    আমিই সেই মেয়ে- এমন কি দেবতারাও যাকে ক্ষমা করেন না। অহংকার
    আর শক্তির দম্ভে যার গর্ভে রেখে যান কুমারীর অপমান
    আর চোখের জলে কুন্তী হয়ে নদীর জলে
    বিসর্জন দিতে হয় কর্ণকে। আত্মজকে।
    আমিই সেই মেয়ে।

    সংসারে অসময়ের আমিই ভরসা।
    আমার ছাত্র পড়ানো টাকায় মায়ের ওষুধ কেনা হয়।
    আমার বাড়তি রোজগারে ভাইয়ের বই কেনা হয়।
    আমার সমস্ত শরীর প্রবল বৃষ্টিতে ভিজতে থাকে।
    কালো আকাশ মাথায় নিয়ে
    আমি ছাতা হয়ে থাকি।
    ছাতার নিচে সুখে বাঁচে সংসার।

    আপনি
    আপনারা
    আমার জন্য অনেক করেছেন।
    সাহিত্যে কাব্যে শাস্ত্রে লোকাচারে আমাকে
    মা বলে পুজো করেছেন।
    প্রকৃতি বলে আদিখ্যেতা করেছেন- আর
    শহর গঞ্জের কানাগলিতে
    ঠোঁটে রঙ মাখিয়ে কুপি হাতে দাঁড় করিয়েও দিয়েছেন।
    হ্যা, আমিই সেই মেয়ে।
    একদিন হয়ত
    হয়ত একদিন- হয়ত অন্য কোন এক দিন
    আমার সমস্ত মিথ্যে পোশাক ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে
    আমিই হয়ে উঠবো সেই অসামান্যা !
    খোলা চুল মেঘের মত ঢাকবে আমার খোলা পিঠ।
    দু চোখে জ্বলবে ভীষণ আগুন।
    কপাল-ঠিকরে বেরুবে ভয়ঙ্কর তেজরশ্মি।
    হাতে ঝলসে উঠবে সেই খড়গ।
    দুপায়ের নুপুরে বেজে উঠবে রণদুন্দভি।
    নৃশংস অট্টহাসিতে ভরে উঠবে আকাশ।
    দেবতারাও আতঙ্কে স্তব্ধ হয়ে বলতে থাকবেন
    মহামেঘপ্রভাং ঘোরাং মুক্তকেশীং চতুর্ভুজাং
    কালিকাং দক্ষিণাং মুণ্ডমালা বিভুষিতাং।

    বীভৎস দাবানলের মত
    আমি এগোতে থাকবো ! আর আমার এগিয়ে যাবার পথের দুপাশে
    মুণ্ডহীন অসংখ্য দেহ ছটফট করতে থাকবে-
    সভ্যতার দেহ
    প্রগতির দেহ-
    উন্নতির দেহ-
    সমাজের দেহ

    হয়ত আমিই সেই মেয়ে ! হয়ত ! হয়ত বা।

    English Transliteration:

    Ami shei meye
    Bus e train rastay aapni jake roj dekhen
    Jar Shari, Kopaler tip kaner dul aar payer gorali
    aapni roj dekhen
    Aar
    Aar o onek kichu dekhte parar shopno dekhen
    Shopne jake icche moton dekhen.
    Ami shei meye
    Biharer protontyo grame diner aaloy jar chaya marano
    Apnar dhorme nishiddo, r rater ghovire jake basti theke
    tule aante paik barkondaz pathan aapni
    Aar shushojjito bichanay jar jonno opekkhay odhin hoy
    Apnar rajokiyo lampottyo
    Ami e shei meye
    Ami e shei meye- Assamer chabagane Jhupri kamin basti theke
    Jake aapne niye jete chan shahebi bangloy moddorate
    Fiar Placer jholshe utha aaloy modir chokhe dekhte chan
    Jar onabrito shorir
    Ami Shei meye.
    Rajastaner shukno uthon theke pipashar jol aante jake aapni
    Pathiye den dash mile dure shorkari idaray- Aar kuri mile
    Hete klanto biddasto je ramani ghora kake ghore firlei jake bashiye den
    Chulkar aaguner shamne apnar roti banate
    Ami e shei meye.
    Ami e shei meye- jake niye aaoni magna hote chan gangar dhare kingba
    Vitoriar shabuje kingba Cinema haller nil ondokarte, jar
    Chokhe aapni jhuta shopner kajol aar furiye jawa
    Cigarater packeter moto jake pather pashe chure kele aapnar ful shajano
    Gari shuvobibaho shushamponno korte chute jay shohorer pothe
    kone dekha aalor gudhulite Eka dariye thaka
    Ami e shei meye
    Ami e shei meye- Emon ki debotarao jake khoma koren na. Ahankar
    Aar shaktir dambhe jar garbe rekhe jan kumarir opman
    Aar chokher jole kunti hoye nadir jole
    bishorjon dite hoy karnake. Aattajke
    Ami e shei meye
    Shongshare oshomoyer aami e bhorosha.
    Amar chatro poranor takay mayer oshudh kena hoy.
    amar barti rojgaare bhai er boin kena hoy.
    Amar shomosto shorir bristite vijte thake
    Kalo aakash mathay niye
    Ami chata hoye thaki.
    chatar niche shukhe bache shongshar
    Aapni
    Apnara
    Amar jonno onek korechen
    Shahitte kabbe shastre lokachare amake
    Maa bole pujo korechen
    Prokriti bole aadikhetto korechen-Aar
    Shahar ganjer kanagalite
    Thote rang makhiye kupi haate dar koriyeo diyechen.
    Ha Ami shei meye.
    Ekdin hoyto- onno kono ek din
    Amar shomosto pushak chure fele diye
    Ami e hoye uthbo shei oshamanno!
    Khola chul megher moto dhakbe amar khula pith
    Du chokhe jolbe vishan aagun.
    Kopal-thikre berube voyonkar tejrashmi
    Haate jolshe uthbe shei khargo
    Du payer nupure beje uthbe randundavi
    Nrishansho ottohashite bhore uthbe aakash.
    Debotara o aatonke shabda hoye bolte thakben
    Mohameghprobang ghorang muktokeshing chaturbhujang
    kalikang dokkinang munndomala bhibushitang.
    bibhotsho dabanoler moto
    ami egote thakbo! Aar amar egiye jawar pather dupashe
    Munduhin oshonkhyo deho chotfot korte thakbe-
    Shovhotar deho
    Pragatir deho
    Unnatir deho
    Shomajer deho
    hoyto ami shei meye! hoyto! hoyto ba!

    See less
      • 0
  • 1
  • 28,881
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

বেহালার ছেলেটা (সুবোধ সরকার) Behalar Cheleta Poem lyrics in Bengali

  1. Durba
    Durba
    Added an answer on April 23, 2020 at 1:36 am

    বেহালার ছেলেটা - সুবোধ সরকার বেহালা কোনও গ্রাম নয়। বেহালা কোনও উপত্যকা নয়। বেহালা কোনও শহর নয়। বেহালা কোনও আঙুরখেত নয়। রাত সাড়ে দশটায় নক্ষত্রের আলোয় ট্রামভর্তি লোক। রাত এগারোটায় খিদিরপুরের দিক থেকে পাঁচখানা ৩৭ নম্বর ছুটে আসছে গোটা খিদিরপুর নিয়ে। রাত বারোটায় ডায়মন্ডহারবার রোড চলতে শরু করল। ডায়মন্ডহারRead more

    বেহালার ছেলেটা – সুবোধ সরকার

    বেহালা কোনও গ্রাম নয়।
    বেহালা কোনও উপত্যকা নয়।
    বেহালা কোনও শহর নয়।
    বেহালা কোনও আঙুরখেত নয়।
    রাত সাড়ে দশটায় নক্ষত্রের আলোয় ট্রামভর্তি লোক।
    রাত এগারোটায় খিদিরপুরের দিক থেকে পাঁচখানা ৩৭ নম্বর
    ছুটে আসছে গোটা খিদিরপুর নিয়ে।
    রাত বারোটায় ডায়মন্ডহারবার রোড চলতে শরু করল।
    ডায়মন্ডহারবার রোড কীর্তিনাশার মতো ছড়িয়ে পড়ল ভারতবর্ষে।
    কয়েক হাজার মাইল দূরে বেহালার ছেলেটা ব্যাট করছে এখন।
    শান্ত কিন্তু রাগী
    স্থির কিন্তু তেজী
    সমাহিত কিন্তু ছটফটে
    ‘মা, দেখ, কী সুন্দর দেখাচ্ছে আমাদের ছেলেটাকে’।
    কে বলল কথাটা?
    আমি
    কে আমি? তারাতলায় থাকো।
    না, আমি রাজারহাটে থাকি, আমি বারাসতে থাকি
    আমি বহরমপুর, আমি বালুরঘাট, আমি কুচবিহার।
    রাত্রি সাড়ে বারোটা। আকাশ থমথমে। ভারতবর্ষের আকাশ
    চিরকালই থমথমে। জ্যোৎস্নায় ভরে গেছে ভারতবর্ষ
    গরীবের ভারত, অভিজাতের ভারত, দলিত ভারত।

    একটা দুরন্ত ছয় মারল ছেলেটা।
    জ্যোৎস্না পার হয়ে বলটা গিয়ে পড়ল আসামের জঙ্গলে,
    সেখানে তিনজন টেররিস্ট বসে আছে সাইনাইড খাবে বলে
    তিনজনই লাফিয়ে উঠল, আঃ মৃত্যু! দাঁড়াও!
    আর একটা ছয় দেখে যেতে চাই
    জ্যোৎস্না পার হয়ে, পার হয়ে, বল এসে পড়ল এবার
    বম্বের ধারাভিতে-এশিয়ার সবচেয়ে বড় বস্তি
    তিনজন মারামারি করছিল রুটি তরকা নিয়ে,
    থেমে গেল। জোয়ারের মত বেরিয়ে গেল গোটা ঝোপড়ি
    খেতে-না-পাওয়া জ্যোৎস্নায় থমকে দাঁড়ানো ভারতবর্ষ।
    জ্যোৎস্না পার হয়ে বল এসে পড়ল আহমেদাবাদে
    বল জিজ্ঞেস করল, তোমরা কাকে পুড়িয়ে মারছ?
    বল এসে পড়ল শ্রীনগরে,বল জিজ্ঞেস করল :
    কী হয়েছে তোমাদের, এত বছর ধরে
    একই ভুল করে চলেছ তোমরা?
    মা, দেখ কী সুন্দর দেখাচ্ছে আমাদের ছেলেটাকে!
    কে? কে বলল কথাটা?
    আমি? আমি কে?
    আমি ধর্ম, আমি অধর্ম, আমি ব্রাহ্মণ, আমি মেথর,
    আমি রাস্তা ঝাঁট দিই, আমি ইটভাটায় ইট তুলি
    আমি কলেজে পড়ি, আমি জেলখানায়
    আমি মাঠে, আমি বস্তিতে, আমি বারোতলায় …
    আমাকে চিনলে না ?
    আমি ভারতবর্ষ।

    ট্রামলাইন চলে গেছে গরিবের ঘর ছুঁয়ে
    অনন্ত নক্ষত্রে ঘেরা ওটাই বেহালা, ওটাই ওর পাড়া
    বিদ্যুৎবেগে একটা বল ছুটে যাচ্ছে বাউন্ডারির বাইরে
    গ্যালারি নয়, গোটা ভারত বর্ষ উঠে দাঁড়িয়েছে এত রাতে
    ধর্ম ভুলে, জাতি ভুলে, দাঙ্গা ভুলে
    বলটা কোথায় গিয়ে পড়ল একটু দেখবে বলে।

     

     

    English transliteration:

     

    Behala kuno gram noy.
    Behala kuno upottoka noy.
    Behala kuno shohor noy.
    Behala kuno angurkhet noy.
    Raat share doshtay nokkhotrer aaloy tram bhorti lok
    Raat egarotay Khidirpurer dik theke pachkhana 37 number
    Chute aashche khidirpur niye.

    Raat batrotay Dimond harbour road cholte shuru korlo.
    Dimond harbour road kirtinashar moto choriye porlo bharatbarshe.
    Koyek hajar mile dure Behalar cheleta bat korche ekhon
    Shanto kintu raagi
    Stir kintu tyaji
    Shomahito kintu chotfote
    Maa, dekh, ki shundor dekhacche amader cheletake.
    Ke bollo kothata?
    aami
    Ke aami? taratolay thako.
    Na, ami rajarhaate thaki, ami barasat e thaki
    Ami Bohorampur, am i Balurghat, ami Coachbehar
    ratri share barota.Aakash thomthome.bharatborsher aakash
    chirokal e thomthome. Josnay bhore geche Bharatbarsha
    Goriber Bhartat, Obhijater Bharat, Dalit Bharat

    Ekta duronto choy marlo cheleta.
    Josna par hoye ballta giye porlo Assamer jongole,
    Shekhane tinjon terrorist boshe aasche signboard khabe bole
    tinjon lafiye uthlo, Aah mrittu| Darao!
    Aar ekta choy dekhe jete chai
    Josna par hoye, par hoye, ball eshe porlo ebar
    Bomber Dharavite-Asia r shobcheye boro basti
    tinjon maramari korchilo roti torka niye,
    theme gelo. jowarer moto beriye gelo guta jhopri
    Khete na pawa josnay thamke darano Bharatbarsha

    Josna par hoye ball eshe porlo ebar Ahmedabad e
    ball jiggesh karlo tumra kake puriya marcho?
    ball eshe porlo Srinagar e, ball jiggesh karlo:
    Ki hoyeche tumader eto bochor dhore
    Eki bhul kore cholecho tumara?

    Maa, dekh, ki shundor dekhacche amader cheletake.
    Ke? ke bollo kothata?
    aami? ami ke?
    Ami dharma, ami odharma, ami Brahman,ami Methor
    Ami rasta jhat di, Ami It vatai it tuli
    Ami cllege e pori, ami jailkhanay
    Ami mathe, ami bastite, ami barotolay
    Amake chinle na?
    Ami Bharatbarsha

    Tram line chole geche goriber ghar chuye
    ononto nokkhotre ghera otai behala, otai or para
    Bidyut bege ekta ball chute jacche boundarir baire
    Gallary noy, Guta Bharatbarsha uthe dariyeche eto raate
    dharma bhule, Jati bhule, danga bhule
    Ball ta kuthay giye porlo ektu dekhbe bole.

    See less
      • 0
  • 1
  • 9,866
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

আমার নাম ভারতবর্ষ (অমিতাভ দাশগুপ্ত ) Amar Naam Bharatbarsha by Amitabha Dasgupta lyrics

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on April 22, 2020 at 7:11 am

    আমার নাম ভারতবর্ষ -অমিতাভ দাশগুপ্ত স্টেন গানের বুলেটে বুলেটে আমার ঝাঁঝরা বুকের উপরে ফুটে উঠেছে যে মানচিত্র— তার নাম ভারতবর্ষ। আমার প্রতিটি রক্তের ফোঁটা দিয়ে চা-বাগিচায় কফি খেতে, কয়লা-খাদানে, পাহাড়ে-অরণ্যে লেখা হয়েছে যে ভালোবাসা— তার নাম ভারতবর্ষ। আমার অশ্রুর জলসেচে আর হাড়ের ফসফেট-এ খুনীর চেয়েও রুকRead more

    আমার নাম ভারতবর্ষ -অমিতাভ দাশগুপ্ত

    স্টেন গানের বুলেটে বুলেটে
    আমার ঝাঁঝরা বুকের উপরে ফুটে উঠেছে যে মানচিত্র—
    তার নাম ভারতবর্ষ।

    আমার প্রতিটি রক্তের ফোঁটা দিয়ে
    চা-বাগিচায় কফি খেতে,
    কয়লা-খাদানে, পাহাড়ে-অরণ্যে
    লেখা হয়েছে যে ভালোবাসা—
    তার নাম ভারতবর্ষ।

    আমার অশ্রুর জলসেচে আর হাড়ের ফসফেট-এ
    খুনীর চেয়েও রুক্ষ কঠোর মাটিতে
    বোনা হয়েছে যে-অন্তহীন ধান ও গানের স্বপ্ন—
    তার নাম ভারতবর্ষ।

    আমার ঠাণ্ডা মুখের ওপর
    এখন গাঢ় হয়ে জমে আছে
    ভাক্ রা নাঙ্গালের পাথুরে বাঁধের গম্ভীর ছায়া।
    ডিগবয়ের বুক থেকে
    মায়ের দুধের মত উঠে আসা তোলো ভেসে যাচ্ছে
    আমার সারা শরীর।

    কপাল থেকে দাঙ্গার রক্ত মুছে ফেলে
    আমাকে বুকে ক’রে তুলে নিতে এসেছে
    আমেদাবাদের সুতোকলের জঙ্গী মজুর।
    আমার মৃতদেহের পাহারাদার আজ
    প্রতিটি হাল বহনকারী বলরাম।
    প্রতিটি ধর্ষিতা আদিবাসী যুবতীর
    শোক নয় ক্রোধের আগুনে
    দাউ দাউ জ্বলে যাচ্ছে আমার শেষ শয্যা।

    ভরাট গর্ভের মত
    আকাশে আকাশে কেঁপে উঠছে মেঘ।
    বৃষ্টি আসবে।
    ঘাতকের স্টেনগান আর আমার মাঝবরাবর
    ঝরে যাবে বরফ-গলা গঙ্গোত্রী।
    আর একটু পরেই প্রতিটি মরা খাল-বিল-পুকুর
    কানায় কানায় ভরে উঠবে আমার মায়ের চোখের মত।
    প্রতিটি পাথর ঢেকে যাবে উদ্ভিদের সবুদ চুম্বনে।

    ওড়িশির ছন্দে ভারতনাট্যমের মুদ্রায়
    সাঁওতালী মাদলে আর ভাঙরার আলোড়নে
    জেগে উঠবে তুমুল উৎসবের রাত।
    সেই রাতে
    সেই তারায় ফেটে পরা মেহফিলের রাতে
    তোমরা ভুলে যেও না আমাকে
    যার ছেঁড়া হাত, ফাঁসা জঠর, উপড়ে আনা কল্ জে,
    ফোঁটা ফোঁটা অশ্রু, রক্ত, ঘাম
    মাইল-মাইল অভিমান আর ভালোবাসার নাম
    .             স্বদেশ
    .                স্বাধীনতা
    .                   ভারতবর্ষ॥

     

    English Transliteration:

    Sten guner bullete bullete
    Amar jhajhra buker upor fute uthche je manchitro
    tar naam bharatbarsha

    Amar proto ti rokter futa diye
    Cha bagichar coffe khete,
    Koyla khadane pahare oronne
    Lekha hoyeche bhalobhasha
    tar naam bharatbarsha

    Amar osrur jolseche aar harer fosfet e
    Khunir cheye o rukkho kothur matite
    Bona hoyeche je-ontoheen dhan o ganeer shopno
    tar naam bharatbarsha

    Amar thanda mukher upor
    Ekhon garo hoye jome aache
    Bhak ra nangaler pathure badher gombir chaya
    Digboi er bukh theke
    mayer dudher moto uthe aasha tolo bheshe jacche
    amar shara shorir

    Kpal theke dangar rokto muche fele
    amake buke kore tule nite esheche
    Ahmedabader sutokoler jongi majur
    Amar mritodeher paharadar aaj
    Protiti haal bohonkari boloram
    protiti dorshita aadhibashi jubotir
    shok noy krudher aagune
    Dhau dhau jole jacche amar shesh shojjya

    Vorat gorter moto
    Akashe akashe kep utche megh
    bristi aashbe.
    Ghatoker sten gun ar amar majhborabar
    jhore jabe borof gola gongetri
    Ar ektu porei protiti mora khal-bill-pukhur
    kanay kanay bhore uthbe amar mayer chokher moto
    Proti ti pathor deke jabe udbider shabuj chumbone

    orishir chonde bharatnatyamer mudray
    Shaotali madole aar bhangbar aaloron
    Jege uthbe tumul utshober raat
    Shei raat e
    Shei taray fete pora mehfil er raat e
    Tumara bhule jeyo na amake
    jar chera haat,Fasha jothor, upre ana kolje
    Futa futa osru, rokto, gham
    Mile mile obhiman ar valobhashar naam

    shadesh
    shadinota
    bharatbarsha

    See less
      • 0
  • 2
  • 14,633
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

কবিতা : আমি একটা তুই চাই | Ami ekta tui chai kobita lyrics in Bengali

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on April 18, 2020 at 7:41 am
    This answer was edited.

    কবিতা : আমি একটা তুই চাই আমি একটা 'তুই' চাই... একটা সত্যিকারের 'তুই' চাই। যে জানবে আমার পুরো ভিতরটা... জানবে আমার লুকানো সব দোষ... আমার বদমাইশি, আমার নোংরামি... আমার কলঙ্ক... যে নিজে থেকে আমার ভুলগুলোর অংশীদার হবে... আমার পাপগুলোকে অর্ধেক করে লিখে নেবে নিজের খাতার প্রথম পাতায়... আমি এমন একটি 'তুই' চRead more

    কবিতা : আমি একটা তুই চাই

    আমি একটা ‘তুই’ চাই…
    একটা সত্যিকারের ‘তুই’ চাই।
    যে জানবে আমার পুরো ভিতরটা…
    জানবে আমার লুকানো সব দোষ…
    আমার বদমাইশি, আমার নোংরামি…
    আমার কলঙ্ক…
    যে নিজে থেকে আমার ভুলগুলোর
    অংশীদার হবে…
    আমার পাপগুলোকে অর্ধেক
    করে লিখে নেবে নিজের খাতার
    প্রথম পাতায়…
    আমি এমন একটি ‘তুই’ চাই…
    যাকে আমি নির্দ্বিধায় উপহার দেব
    আমার সব অনিয়ম…
    আমার অপারগতা… আমার বদভ্যাস…
    আমার উশৃঙ্খলতা…
    আমি পিঠ চাপড়ে তার
    কাঁধে তুলে দেব আমার
    অসহায়ত্বের ঝুলি…
    আমার একাকীত্ব, আমার
    নিঃসঙ্গতার কষ্ট, আমার
    দুশ্চিন্তা, আমার হতাশা…
    সবগুলো ঝাড়ুদারের
    মতো কুড়িয়ে নিয়ে সে বাধবে মস্ত
    বড় এক বস্তা…
    তারপর কুলির মতো মাথায়
    করে বয়ে নিয়ে যাবে সেইসব
    অভিশাপ…
    আর হাসতে হাসতে বলবে–
    “ভীষণ ভারী রে… কি করে এতদিন
    বইলি এই বোঝা??”
    তারপর
    ঠিকানা ছাড়া পথে হাটতে থাকবে অসীম
    সমুদ্র পর্যন্ত…
    সাগর পাড়ে এসে প্রচন্ড
    শক্তিতে ছুড়ে ফেলে দেবে সেই
    বোঝা…
    ঠিক সাগরের
    মাঝখানে হারিয়ে যাবে আমার সব
    অভিশাপের ঝুলি…
    আমি ঠিক এরকম একটা ‘তুই’ চাই…
    যে কোনদিন “তুমি” বা “আপনি”গুলোর
    মাঝে হারিয়ে যাবে না…

    English Translation:

    I need someone like you
    I really need someone like you
    One who will know my whole core
    One who will know my every fault
    My wickedness, my dirtiness,
    My scandals.
    One who willingly take responsibility of my faults
    Who will divide my sins equally with her
    And will right in the first page of her diary.
    I need someone
    Whom can I gift, Without any worry
    all my indiscipline
    all my incapability, my bad habits
    my madness.

    I will burden her shoulder
    With my bag of helplessness,
    my loneliness, the pain of my loneliness
    my worries, my stress.
    Like a dustman
    She will collect all those trashes
    and prepare a huge bag.
    Than Like a coolie
    Carry out all those
    Curse..
    And will say with a smile
    “It’s too heavy”. How you carried
    This burden till now?
    Than
    She will walk without any destination
    until the sea appears..
    And from the shore of the sea
    she will through out this burden
    with all her power.
    And all my curses will sink
    at the middle of the sea
    I need exactly someone like you.
    Who will not lose in
    social hierarchy.

    See less
      • 0
  • 1
  • 15,735
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

আফ্রিকা কবিতার ব্যাখ্যা এবং সারাংশ | Africa poem summary in bengali

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on April 15, 2020 at 3:45 am
    This answer was edited.

    আলোচনার সূচী : সারাংশ কবিতা বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা বিশেষ লাইনের প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা   সারাংশ: সভ্যতার সেই আদিমযুগে বিশ্বের প্রাচ্য ভূভাগ থেকে আফ্রিকা নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে, অন্ধকার গভীর অরণ্যানীতে সে সমাচ্ছন্ন হয়। সেখানকার দুর্গম তমসাময় প্রকৃতির দৃষ্টি-অতীত জাদু সমস্ত শঙ্কRead more

    আলোচনার সূচী :

    1. সারাংশ
    2. কবিতা
    3. বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা
    4. বিশেষ লাইনের প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা

     

    সারাংশ:

    সভ্যতার সেই আদিমযুগে বিশ্বের প্রাচ্য ভূভাগ থেকে আফ্রিকা নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে, অন্ধকার গভীর অরণ্যানীতে সে সমাচ্ছন্ন হয়। সেখানকার দুর্গম তমসাময় প্রকৃতির দৃষ্টি-অতীত জাদু সমস্ত শঙ্কাকে হার মানাতে চাইছিল। ছায়াবৃতা আফ্রিকার মানবরূপ বাইরের পৃথিবীর উপেক্ষায় অবজ্ঞায় অজ্ঞাত থেকে গেছে। এমনই সময় (ইউরােপের) সভ্যতাভিমানী বর্বর নেকড়ের দল নির্লজ্জভাবে আফ্রিকাকে শৃঙ্খলিত করবার জন্য এগিয়ে এল। ফলে দস্যুদের আক্রমণে বীভৎস অত্যাচারে রক্তে-অশুতে মিশে গেল আফ্রিকার মানবতা। ওদিকে (ইউরােপের) পাড়ায় পাড়ায় চলল উৎসব সমারােহ।আজ সেই পশ্চিমাকাশে সেই পশু শক্তিই আবার নতুন করে যখন বেরিয়ে এসেছে, তখন মানহারা এই মানবীর (আফ্রিকার) পাশে দাঁড়িয়ে হিংস্র প্রলাপের মধ্যেও মানবতাবাদী কবি ক্ষমার আহ্বান জানাচ্ছেন। এটিই হােক সভ্যতার শেষ বাণী।

    __________________________

    আফ্রিকা

    উদ্ভ্রান্ত সেই আদিম যুগে
    স্রষ্টা যখন নিজের প্রতি অসন্তোষে
    নতুন সৃষ্টিকে বারবার করছিলেন বিধ্বস্ত,
    তাঁর সেই অধৈর্যে ঘন-ঘন মাথা-নাড়ার দিনে
    রুদ্র সমুদ্রের বাহু
    প্রাচী ধরিত্রীর বুকের থেকে
    ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে, আফ্রিকা,
    বাঁধলে তোমাকে বনস্পতির নিবিড় পাহারায়
    কৃপণ আলোর অন্তঃপুরে।
    সেখানে নিভৃত অবকাশে তুমি
    সংগ্রহ করছিলে দুর্গমের রহস্য,
    চিনছিলে জলস্থল-আকাশের দুর্বোধ সংকেত,
    প্রকৃতির দৃষ্টি-অতীত জাদু
    মন্ত্র জাগাচ্ছিল তোমার চেতনাতীত মনে।
    বিদ্রূপ করছিলে ভীষণকে
    বিরূপের ছদ্মবেশে,
    শঙ্কাকে চাচ্ছিলে হার মানাতে
    আপনাকে উগ্র করে বিভীষিকার প্রচণ্ড মহিমায়
    তাণ্ডবের দুন্দুভিনিনাদে।
    হায় ছায়াবৃতা,
    কালো ঘোমটার নীচে
    অপরিচিত ছিল তোমার মানবরূপ
    উপেক্ষার আবিল দৃষ্টিতে।
    এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে
    নখ যাদের তীক্ষ্ণ তোমার নেকড়ের চেয়ে,
    এল মানুষ-ধরার দল
    গর্বে যারা অন্ধ তোমার সূর্যহারা অরণ্যের চেয়ে।
    সভ্যের বর্বর লোভ
    নগ্ন করল আপন নির্লজ্জ অমানুষতা।
    তোমার ভাষাহীন ক্রন্দনে বাষ্পাকুল অরণ্যপথে
    পঙ্কিল হল ধূলি তোমার রক্তে অশ্রুতে মিশে;
    দস্যু-পায়ের কাঁটা-মারা জুতোর তলায়
    বীভৎস কাদার পিণ্ড
    চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে।
    সমুদ্রপারে সেই মুহূর্তেই তাদের পাড়ায় পাড়ায়
    মন্দিরে বাজছিল পুজোর ঘণ্টা
    সকালে সন্ধ্যায়, দয়াময় দেবতার নামে;
    শিশুরা খেলছিল মায়ের কোলে;
    কবির সংগীতে বেজে উঠছিল

    সুন্দরের আরাধনা।
    আজ যখন পশ্চিমদিগন্তে
    প্রদোষকাল ঝঞ্ঝাবাতাসে রুদ্ধশ্বাস,
    যখন গুপ্তগহ্বর থেকে পশুরা বেরিয়ে এল,
    অশুভ ধ্বনিতে ঘোষণা করল দিনের অন্তিমকাল,
    এসো যুগান্তরের কবি,
    আসন্ন সন্ধ্যার শেষ রশ্মিপাতে
    দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর দ্বারে,
    বলো “ক্ষমা করো’–
    হিংস্র প্রলাপের মধ্যে
    সেই হোক তোমার সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী।

    __________________________

    বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা:

    পত্রপুট (১৯৩৬) কাব্য-এ ষােলাে সংখ্যক কবিতা – ‘উদ্ভান্ত সেই আদিম যুগে’ (নাম আফ্রিকা) কবি অমিয় চক্রবর্তী লিখে পাঠাবার জন্য অনুরােধ করায় ২৮ শে মাঘ ১৩৪৩, ইং ১২ ফ্রেব্রুয়ারি ১৯৩৬ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কবিতাটি রচনা করেন।

    কবিতাটি প্রথমে প্রবাসী (চৈত্র ১৩৪৩) ও পরে কবিতাটির পত্রপুটের দ্বিতীয় সংস্করণে (১৩৪৫) প্রকাশিত হয়। ৩রা অক্টোবর, ১৯৩৫ ফ্যাসিস্ত মুসােলিনির নির্দেশে ইতালীয় আক্রমণকারী সৈন্যদল অ্যাবিসিনিয়ায় (ইথিওপিয়া) আক্রমণ করে। রবীন্দ্রনাথ এখানে তার প্রতিবাদ করে আফ্রিকা, ‘ছায়াচ্ছন্ন আফ্রিকার সকল বন লাঞ্ছনার রক্তাক্ত ইতিহাসকে স্মরণ করে এক অনবদ্য কাব্য রূপ দিয়েছেন। বেদনায় ভারাক্রান্ত চিত্তে একান্ত মমতায় এক লাঞ্ছিত কৃয়া মানবীর রূপ এই কবিতায় তিনি নির্মাণ করেছেন। আবেদন রেখেছেন “দাঁড়াও ঐ মান-হারা মানবীর দ্বারে।”

    কবির জীবনীকার প্রভাতকুমার মুখােপাধ্যায় লিখেছেন আফ্রিকার ইতিহাস কবি ভালােকরেই জানতেন। মােরেল (E.D. Morel) প্রভৃতির বই তাঁর পড়া ছিল। পৃথিবীর অসহায় কৃষ্ণুকায় মানুষদের প্রতি তথাকথিত সভ্য শ্বেতকায় মানুষের অত্যাচারে সুবিদিত। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, অমিয় চক্রবর্তী কবিকে এক চিঠিতে লিখেছেন, ‘আফ্রিকার ইংরেজি তর্জমা তিনি বিলাতে নির্বাসিত ইথিওপীয় সম্রাট হাইলে সেলেসীর হাতে দেন এবং সেটি পড়ে তিনি শান্তি পান। এছাড়াও উগান্ডার রাজকুমার নিয়াবঙ্গো কবিতাটির বান্টু ও সােয়াহিলি ভাষী আফ্রিকানদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচার করেন।

    এই সংক্ষিপ্ত পরিচয় থেকে বােঝা যায় ‘পত্রপুট’-এর অন্যান্য কবিতা লেখা যখন চলছে পূজাবকাশে (অক্টোবর নভেম্বর ১৯৩৫ অর্থাৎ আশ্বিন-কার্তিক, ১৩৪৩-এ), তখন কবি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন ভাষণ ও গান লেখায় ব্যস্ত। অকস্মাৎ অমিয় চক্রবর্তীর অনুরােধ ‘হাইলে সেলসি ও নিয়াবঙ্গার’ প্রতিক্রিয়া আফ্রিকার সমকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের গুরুত্বের প্রতি তাঁকে মনােযােগী করে তােলে।

    মুসােলিনির ইতালি যখন অ্যাবিসিনিয়ায় (ইথিওপিয়া) স্বাধীনতা গ্রাস করবার জন্য সামরিক অভিযান চালায় তখন নানা দিক থেকে দেশটি ছিল অনগ্রসর, কিন্তু প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। শ্বেতাঙ্গ বিদেশিরা আফ্রিকাকে নানা ভাগে ভাগ করে যখন বসতি স্থাপন করে তখন অ্যাবিসিনিয়া ছিল স্বাধীন। এই আক্রমণের বিরুদ্ধে সম্রাট হাইলে সেলাসির পক্ষে সােভিয়েতের সমর্থনে বিশ্বজনমত গড়ে ওঠে। সাধারণভাবে রবীন্দ্রনাথ উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধ মত পােষণ করতেন। শ্বেতাঙ্গরা সেখানকার মানুষদের উপর বর্বর অত্যাচার ও নিষ্ঠুর অপমান করেছে, এ সংবাদ তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। আফ্রিকার সেই অত্যাচার ও পৃথিবীব্যাপী শােষণের বিরুদ্ধে কবির প্রতিবাদ। নৈবেদ্যে-র ‘শতাব্দীর সূর্য আজি’র মতাে এবারও তার কণ্ঠে প্রতিবাদের ভাষা জেগে উঠেছে। শক্তিমদমত্ত তথাকথিত সভ্য, অত্যাচারী উপনিবেশবাসীদের প্রতি তাঁর পুঞ্জীভূত ঘৃণা এখানে তীব্রভাবে প্রকাশিত হল। কবি বলেছেন, “সভ্যের বর্বর লােভনগ্ন করল আপন নির্লজ্জ অমানুষতা।”

     

     

    এভাবে কবি “বিশ্বমানবের দুঃখ আপনারই দুঃখ” রূপে গ্রহণ করেছেন। কোথাও ইথিওপিয়া, কোথায় স্পেন, কোথায় চীন – এ সবের জন্য কবির বেদনাবােধ আমাদের বিচলিত করে। কিন্তু এর মধ্যে কবি মানব ইতিহাসের মূলে যে কল্যাণের শক্তি কাজ করছে সে কথা মনে রেখে কল্যাণের পক্ষে সমস্ত কর্মকে, চেষ্টাকে প্রয়ােগ করতে বলেছেন। সর্বজীবে মঙ্গলচিন্তা ভারতবর্ষের ঐতিহ্য। তাই আহ্বান জানিয়েছে, “এসাে যুগান্তরের কবি | আসন্ন সন্ধ্যার শেষ রশ্মিপাতে | দাঁড়াও মানহারা মানবীর দ্বারে / বলাে, ক্ষমা করাে — / হিংস্র প্রলাপের মধ্যে । সেই হােক তােমার সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী।” । – এই মঙ্গল চিন্তাই কবির মতে ভারতবর্ষকে সর্বজাতির শ্রদ্ধার আসনে বসিয়েছে।
    তথাপি বার বার দেখা গেছে, পৃথিবীর যেখানেই স্বাধীনতা বিপন্ন হয়েছে বা মানবতার অপমান ঘটেছে, সমস্ত ঘটনাই কবি-আত্মাকে সমভাবে মর্মাহত করেছে। রবীন্দ্রনাথের শেষ পর্যায়ের কাব্যে এ বিষয়টি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। ১৯২৯-১৯৩৩ বিশ্বব্যাপী মন্দা শিল্পে বাণিজ্যে য়ুরােপে যখন হতাশা, সেই সময় সাম্রাজ্যবাদী শক্তি উপনিবেশগুলির প্রতি প্রথমে থাবা বসায়। কিন্তু প্রত্যেকের ক্ষুদ্র স্বার্থ এতে চরিতার্থ না হওয়ায় শেষপর্যন্ত সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের সূচনা। এ পর্যায়ের কবিতাতেও রবীন্দ্রনাথকে স্থিতধী চিত্তে ঘটনাগুলির মূল্যায়ন করতে দেখা গেছে। সেখানে যেমন একদিকে ছিল প্রশান্তি ও গাম্ভীর্য, অন্যদিকে তদানীন্তন রাজনৈতিক ঘটনার প্রতিক্রিয়া।
    ‘পুনশ্চ-শেষসপ্তক-পত্রপুট’ ও ‘শ্যামলীর রচনাভঙ্গির ছন্দ-অলংকার ভাষারীতি ও চিত্রাঙ্কন বিশিষ্টতার দাবি রাখে। প্রবল প্রাণােচ্ছ্বাস এ পর্বে প্রায় নেই। তার পরিবর্তে শান্ত, সংযত গদ্যবদ্ধ বাভঙ্গিতে গভীর কথা সহজভাবে প্রকাশ করেছেন। উপমা প্রয়ােগ, ছন্দরচনায় গদ্যভঙ্গির অনায়াস ব্যবহার এবং অনলংকৃত বাগবিন্যাস এ পর্যায়ের কাব্যের বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখা দিয়েছে।
    ____________________

    প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা:

    “উদ্ৰান্ত সেই আদিম যুগে… অসন্তোষে – সূর্যের অগ্নিবলয়”, সমুদ্রের অনন্ত জলরাশি নানা জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ক্রমশ স্থলভূমি ও প্রাণের প্রকাশ ঘটে। কোটি কোটি বৎসরের সেই সুপ্রাচীন ইতিহাস বৈজ্ঞানিক গবেষণার বিষয়। পরে প্রাগৈতিহাসিক কালে ভূত্বকের নানা বিপর্যয়ে বিশ্ব প্রকৃতিতে নানা ঘটনা ঘটেছে, তারই ইঙ্গিত এখানে আছে।

    “রুদ্র সমুদ্রের বাহু প্রাচী ধরিত্রীর… আফ্রিকা” প্রাগৈতিহাসিক যুগে ইউরােপের সঙ্গে জিব্রাল্টার টিউনিস সিসিলি ও ইতালি যুক্ত ছিল। তখন ভূমধ্যসাগর দুটি হ্রদের মতাে মনে হত। ভূত্বকের নানা বিপর্যয়ে কালক্রমে ইউরােপ থেকে আফ্রিকা বিচ্ছিন্ন হয়। পূর্ব গােলার্ধের এই মহাদেশ এক সময় এশিয়ার ও ইউরােপের সঙ্গে যুক্ত ছিল। অপর দিকে আফ্রিকা পূর্বে সাইনাই উপদ্বীপ দিয়ে এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল। সুয়েজ খাল কাটার পর এশিয়ার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়। এই বিচ্ছিন্ন অংশ বর্তমানে মিশরের অন্তর্গত।

    “এল ওরা লােহার হাতকড়ি নিয়ে” য়ুরােপের সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলি তাদের উপনিবেশ গড়ে আফ্রিকাকে পদানত ও শৃঙ্খলিত করেছে, এই পরাধীনতার নিগড়কে এখানে বােঝানাে হয়েছে লােহার হাতকড়ি’ ব্যঞ্জনায়।

    “সভ্যের বর্বর লােভ” আফ্রিকার মতাে বিচ্ছিন্ন একটি মহাদেশ গভীর অরণ্যসঙ্কুল। সংখ্যাতীত জাতি ও উপজাতিকে বিভক্ত সে দেশে আধুনিক সভ্যতার আলাে তখনও প্রবেশ করেনি। উপজাতি গােষ্ঠীশাসিত সেই আদিম সমাজের সামাজিক অর্থনৈতিক বিকাশ না ঘটলেও দেশটি ছিল প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। সভ্যতাভিমানী য়ুরােপের দেশগুলি তাদের ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রিক স্বার্থ ও সমৃদ্ধির প্রয়ােজনে, সীমাহীন লােভের তাড়নায় এ দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠন করে এবং দেশের জনগােষ্ঠীর শ্রমকে ব্যবহার করে সম্পদের পাহাড় তৈরি করতে অমানবিক হিংস্রতার আশ্রয় নেয়।

    “মন্দিরে বাজছিল পূজার ঘণ্টা…. দেবতার নামে” আফ্রিকার জনগণ যখন হিংস্র নগ্ন আক্রমণে রক্তাক্ত, বিধ্বস্ত ও বিপর্যস্ত, সেই সময় সমুদ্রের অপর পারে ইয়ােরােপের সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলিতে সম্পদের প্রাচুর্যে, আনন্দ-উৎসবে দেবতার কাছে কল্যাণ ভিক্ষা চলছে। এই বিপরীত চিত্রটি তুলে ধরে কবি আফ্রিকার শােষিত অসহায় মানুষের প্রতি সমবেদনায়, সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রতি তির্যক বাণ নিক্ষেপ করেছেন।

    ‘আফ্রিকা’ কবিতাটি বিশেষ দেশকালের কথা হলেও, আজও যখন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হিংস্র নখর দেশ দেশান্তরে মানুষকে বিপন্ন করছে দেখতে পাওয়া যায়, তখন স্পষ্টতই উপলব্ধি করা যায় এ কবিতার গুরুত্ব। এভাবে কবিতাটি দেশকাল নিরপেক্ষ একটি অসাধারণ কাব্যশিল্প বলে মানা।

    See less
      • 0
  • 1
  • 45,265
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

রবীন্দ্রনাথের ‘গোরা’ উপন্যাসের সংকিপ্ত সারাংশ | Summary of gora by rabindranath tagore in bengali

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on April 14, 2020 at 8:11 am

      সারাংশ: ‘গোরা’ (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম এবং অনেকের মতে সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস। ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ থেকে ১৯১০ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। ঊনিবংশ শতাব্দীর শেষভাগের ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই আখ্যান গড়ে উঠেছে। এই উপন্যাসের নায়ক গোরা সিপাহিRead more

     

    সারাংশ:

    ‘গোরা’ (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম এবং অনেকের মতে সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস। ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ থেকে ১৯১০ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

    ঊনিবংশ শতাব্দীর শেষভাগের ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই আখ্যান গড়ে উঠেছে। এই উপন্যাসের নায়ক গোরা সিপাহি বিপ্লবের সময় নিহত এক আইরিশ দম্পত্তির সন্তান। কিন্তু সে বড় হয় হিন্দু ব্রাহ্মণ কৃষ্ণদয়াল ও আনন্দময়ীর ঘরে। গোরা নিজের জন্মবিবরণ ও প্রকৃত পরিচয় সম্বন্ধে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। দম্পতি কৃষ্ণদয়াল ও আনন্দময়ী না চাইলেও গোরা হিন্দুধর্মের অন্ধ সমর্থক হয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে ঘটনার ঘাত-প্রতিঘাত বিশেষত এক নারীর ভালোবাসা কিভাবে তাকে অন্ধতা ও সংকীর্ণতা থেকে পৌঁছে দিল এক মহাভারতবর্ষের আদর্শের দিকে, নির্দিষ্ট ধর্ম থেকে মানবতার মধ্যে, তারই কাহিনি ‘গোরা’।

    এই উপন্যঅসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র : গোরা, পরেশবাবু, সুচরিতা, পানুবাবু, ললিতা, বিনয়, বরদাসুন্দরী, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী প্রমুখ। ‘গোরা’য় ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয় চিত্রিত হয়েছে।

     

    See less
      • 0
  • 1
  • 11,681
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

সোনার তরী কবিতার সারাংশ ও মূলভাব | Sonar tori poem summary in Bengali

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on April 14, 2020 at 7:30 am
    This answer was edited.

    আলোচনায় থাকবে : সারাংশ ও মূলভাব কবিতা বিভিন্ন লাইনের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা প্রাসঙ্গিক আলােচনা এবং কবিতা বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা   সারাংশ - মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, অবিরাম বর্ষণ থেকে ক্ষণিক ক্ষান্তির মুহূর্ত। এরই মধ্যে এক কৃষক নদীর ধারে একাকী বসে আছে, কোনাে ভরসা নেই। জলভরা খরস্রোতা নদী, দুর্বার বেগে বহমান। তারRead more

    আলোচনায় থাকবে :

    • সারাংশ ও মূলভাব
    • কবিতা
    • বিভিন্ন লাইনের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
    • প্রাসঙ্গিক আলােচনা এবং কবিতা বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা

     

    সারাংশ –

    মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, অবিরাম বর্ষণ থেকে ক্ষণিক ক্ষান্তির মুহূর্ত। এরই মধ্যে এক কৃষক নদীর ধারে একাকী বসে আছে, কোনাে ভরসা নেই। জলভরা খরস্রোতা নদী, দুর্বার বেগে বহমান। তার চারিদিকে রাশি রাশি বােঝাই কাটা ধান।ছােটো খেতের ধারে একলা বসে, তখন পরপারের তরুচ্ছায়াচ্ছন্ন গ্রামটি আঁকা ছবির মতাে দেখাচ্ছিল। দূর থেকে গান গাইতে গাইতে কে যেন আসছে, দেখে মনে হল সে যেন চেনা। কোনাে দিকে না তাকিয়ে সে পালতােলা নৌকায় ঢেউ তুলে কোথায় চলেছে।
    কৃষক মাঝিকে কাতর কণ্ঠে কূলে নৌকা ভেরাবার জন্য অনুরােধ করল। তার কেটে রাখা সােনার ধান তলে নিয়ে তারপর সে যেখানে ইচ্ছা যাক—এটাই একান্ত ইচ্ছা।অনুরােধ মত নৌকায় সমস্ত তুলে দিয়ে তাকে করুণা করে নিয়ে যাওয়ার কথা বলায় উত্তরে ঠাঁই নেই’ বলে সােনার ফসল নিয়ে গেলেও, কৃষক প্রবহমান নদীর তীরে নিঃসঙ্গ ও অচল হয়ে বসে রইল।

    ________________________________________________________________

    সোনার তরী

    গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা।
    কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা।
    রাশি রাশি ভারা ভারা
    ধান কাটা হল সারা,
    ভরা নদী ক্ষুরধারা
    খরপরশা।
    কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা।

    একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা,
    চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা।
    পরপারে দেখি আঁকা
    তরুছায়ামসীমাখা
    গ্রামখানি মেঘে ঢাকা
    প্রভাতবেলা–
    এ পারেতে ছোটো খেত, আমি একেলা।

    গান গেয়ে তরী বেয়ে কে আসে পারে,
    দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে।
    ভরা-পালে চলে যায়,
    কোনো দিকে নাহি চায়,
    ঢেউগুলি নিরুপায়
    ভাঙে দু-ধারে–
    দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে।

    ওগো, তুমি কোথা যাও কোন্‌ বিদেশে,
    বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে।
    যেয়ো যেথা যেতে চাও,
    যারে খুশি তারে দাও,
    শুধু তুমি নিয়ে যাও
    ক্ষণিক হেসে
    আমার সোনার ধান কূলেতে এসে।

    যত চাও তত লও তরণী-‘পরে।
    আর আছে?– আর নাই, দিয়েছি ভরে।
    এতকাল নদীকূলে
    যাহা লয়ে ছিনু ভুলে
    সকলি দিলাম তুলে
    থরে বিথরে–
    এখন আমারে লহ করুণা করে।

    ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই– ছোটো সে তরী
    আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।
    শ্রাবণগগন ঘিরে
    ঘন মেঘ ঘুরে ফিরে,
    শূন্য নদীর তীরে
    রহিনু পড়ি–
    যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী।

    _________________________________________________________________

    সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা :

    ভরা নদী ক্ষুরধারা – বর্ষায় নদীজল ক্ষুরের মতাে ধারালাে অর্থাৎ খরস্রোতা বােঝানাে হয়েছে।

    তরু ছায়া মসীমাখা (কালিমাখা) – আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় গাছের ছায়ায় ঘেরা গ্রাম অন্ধকারাচ্ছন্ন বলে মনে হচ্ছে।

    বাঁকা জল করিছে খেলা – বাঁকা শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহার করা যায়। একটি অর্থে নদী বেঁকে বেষ্টন করে আছে, অপর ব্যঞ্জনগর্ভ অর্থ ‘কুটিল বা প্রতিকূল’।

    কে আসে পারে – ‘কে’ এই শব্দটি ব্যবহার করে অনির্দিষ্ট ব্যক্তিকে বােঝান হয়েছে।

    দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে – বর্ষা সমাগমে কাটা ফসল নিয়ে তরীর অপেক্ষায় যখন আছেন এমনি সময় দূর থেকে দেখে কোন চেনা চেনা নেয়েকে যেন দেখা যাচ্ছে – এমনি সাধারণ অর্থ হলেও উদ্ধৃতিটি ব্যঞ্জনা সমৃদ্ধ। যাকে দেখে মনে হয় চিনি উহারে’ সে যে কবির হৃদয়গত অন্তর্যামী। রবীন্দ্রনাথ তাঁর কাব্যভাবনায় ব্যক্তি আমির অতিরিক্ত পৃথক এক অন্তঃপ্রেরণা বা অন্তৰ্শক্তি যাকে অনেকে অন্তর্দেৰ্বতা বা জীবনদেবতা বলেন তার কল্পনা করেছেন। সােনার তরী’ কবিতায় এরা আভাস, চিত্রা’য় তার পরিণতি। ইনিই কবির প্রেরণা, তাঁর কাব্যাধিষ্ঠাত্রী দেবী। কোন বিদেশে — এখানে বলতে কোনাে অজানা জগতে।

    শুধু তুমি নিয়ে যাও— সৃষ্টির যে শ্রেষ্ঠ সম্ভার, মহাকালের তরণীতে তুলে দেওয়ার মধ্যেই স্রষ্টার সার্থকতা। কিন্তু কালের মাঝি কোনােদিকে দৃকপাত না করে নিতান্ত নিরাসক্ত চিত্তে এগিয়ে যাচ্ছে দেখে স্রষ্টার একান্ত অনুরােধ সে জীবনের যা কিছু অর্জিত ফল তাকে যেন নিয়ে যায়।

    এখন আমারে লহাে করুণা করে – একলা জনবেষ্টিত ছােটো খেতে বসে আছি। করুণা করে তােমার তরীতে তুলে নাও। এর আধ্যাত্মিক অর্থ হতে পারে, আমাকে সকল কর্মবন্দি থেকে মুক্ত করাে। অথবা আমার শিল্পের সঙ্গে আমারও অস্তিত্বকে যুক্ত করাে।

    যাহা ছিল নিয়ে গেল সােনার তরী –আজীবন সতি সােনার ফসল, সংসার তরণীতে তুলে নিয়েছেন অর্থাৎ কবির সৃষ্টি সমাদৃত হওয়ায় তিনি আনন্দিত। কিন্তু সেখানে তাঁর স্থান না হওয়ায় — শূন্য নদীর তীরে রহিনু পড়ি – তিনি একাকিত্বের বেদনায় বিষন্ন।

     

    প্রাসঙ্গিক আলােচনা এবং কবিতা বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা :

    ‘সােনার তরী’ কাব্যগ্রন্থের নামক কবিতা সােনার তরীর রচনা স্থান শিলাইদহ, কাল-ফাল্গুন ১২৯৮, ইং ফেব্রুয়ারি ৪ মার্চ ১৮৯২। কবিতাটির নামকরণ সবিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সােনার তরী’ সােনায় তৈরি তরী অর্থে ব্যবহৃত হয়নি। এটি ব্যঞ্জনাগর্ভ। জীবনের সাধনায় যে স্বর্ণসম্ভার, তাই তাে ফসল, সেই ফসল বহ করে যে তরী তা-ই সােনার তরী।
    কবিতার এই নামকরণটি আক্ষরিক-অর্থ-অতিরিক্ত অন্যতর অর্থে সমৃদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ। সংসার-তরণীতে কবি তাঁর সৃষ্টির সমস্ত সম্পদ তুলে দিলেও, সংসার কবিকে গ্রহণ করল না। মহাকালরূপী নেয়ে ইতিহাসরূপ সােনারতরী নিয়ে সােনার ধান রূপ জীবনের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টিকে তুলে নিলেও, স্রষ্টাকে গ্রহণ করে না।

    ইতিহাসের পৃষ্ঠায় মানুষের শিল্প, তার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি সঞ্চিত থাকে। জগৎ স্রষ্টাকে চায় না, তার শিল্পকে সৃষ্টিকে চায়, এটাই চিরন্তন সত্য। মানবজীবনের এই চিরন্তন সত্যটি আলােচ্য কবিতায় ধ্বনিত হয়েছে বলে কবি কবিতাটির নামকরণ করেছেন ‘সােনার তরী’। সােনার তরী মানব সংসারের তরী যাতে কবি বিশ্বমানবের উদ্দেশ্যে নিজের সৃষ্টি সম্ভারকে তুলে দিলেও “ঠাই নাই, ঠাই নাই—ছােট সে তরী”—তাই কবি স্বয়ং নির্জনতায় নির্বাসিতা। এ সব বিচারে কবিতার নামকরণ তাই সার্থক ও সুন্দর।

    এ পর্বে কবি আত্মস্থ, তাঁর প্রতিভার পূর্ণ প্রকাশ—রবি-রশ্মির মধ্যাহ্নদীপ্তি বিচ্ছুরিত। প্রকৃতি ও মানুষ সম্পর্কে কবির দৃষ্টি কল্পলােকের আলােকচ্ছটা থেকে বাস্তব জগতের উদার আকাশ-বাতাসে স্থাপিত। এ সময় কবির সৌন্দর্যানুভূতি ও বিশ্বানুভূতি প্রবলভাবে প্রকাশিত। কবি-কল্পনায় কবিত্বে প্রকাশ-ভঙ্গির চমৎকারিত্বে, ভাষার ঐশ্বর্যে ও ছন্দের বৈচিত্র্যে কবিতাগুলির দীপ্যমান। সােনার তরী তার ব্যতিক্রম নয়। এখানে যুক্ত হয়েছে, একটি তত্ত্ব যার ব্যাখ্যা নানা কবিতায় রূপে ভিন্ন, স্বরূপে এক।

    কবিতাটি রচনার সময় কবি জমিদারি দেখাশােনার কাজে কখনাে শিলাইদহ, সাজাদপুর, কালিগ্রাম, পতিসরে বাস করেছেন। বাংলার পল্লীপ্রকৃতি সমস্ত সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে তাঁর অনুভবে, রঙে, রূপে কল্পনায়, নিত্য নতুন হয়ে প্রতিভাত হচ্ছে। পল্লীর নরনারীর সুখ-দুঃখ, হাসিকান্নার সঙ্গে পরিচয় নিবিড় থেকে নিবিড়তর হচ্ছে। এই পরিচয় সূত্রেই ‘সােনার তরী’ কাব্য।‘সােনার তরী’ কবিতা এই অনুভবের সৃষ্টি। এখানেও প্রকৃতি ও মানুষ, কবির অন্তদৃষ্টিতে বিশ্বপ্রকৃতি ও মানবলােকের সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে। একে বলা যেতে পারে বিশ্বানুভূতি—এটি সম্ভব কবির সৃষ্টিপ্রেরণা বা অন্তর্দেৰ্বতার অন্তঃপ্রেরণায়, সম্ভবত কবির এই অন্তর্দেৰ্বতাই সােনারতরী কবিতার ‘নেয়ে। অন্তর্দেৰ্বতা কোনাে অলৌকিক শক্তিধর নন, কবির প্রকাশপ্রেরণা, যিনি কবির মনের মধ্যে বসে সমগ্র জগৎকে সাহিত্যে রূপদান করছেন। প্রকৃতি—সােনার তরী কবিতার উৎস, চলমান নদীস্রোত, যার মধ্যে কবি জন্ম জন্মান্তরের সম্পর্ক উপলব্ধি করেছেন, তাকে এখানে দেখেছেন সাংকেতিকতায়, রহস্যময়, রূপকের ব্যবহারে ব্যঞ্জনাশ্রয়ী রূপে।

    ‘সােনার তরী’ কাব্যে কবি নদীমাতৃক বাংলাদেশের রূপ, পদ্মার প্রবহমানতা, বিচিত্র খণ্ড খণ্ড রূপকল্প ও চিত্রকল্পের ভিতর দিয়ে, কখনও সাঙ্কেতিক রহস্যময়তায়, কখনাে বর্ষা প্রকৃতির বিষাদ উজ্জ্বলতায় প্রকাশিত হয়েছে। সােনার তরী’ কবিতাটিও এরকমই এক ঘন বর্ষায় আবৃত নদীচরের নিসর্গচিত্র। কবির ভাষায় পল্লীপ্রকৃতির সঙ্গে তাঁর একটি মানসিক ঘরকন্নার সম্পর্ক, সেটি এ কবিতায় ফুটে উঠেছে।

    See less
      • 0
  • 1
  • 47,156
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

কবিতা – বাঁশ বাগানের মাথার উপর (যতীন্দ্রমোহন বাগচী) Bash baganer mathar opor chand utheche oi lyrics in bengali

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on April 8, 2020 at 2:43 am

    কাজলা দিদি  (যতীন্দ্রমোহন বাগচী) বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই মাগো, আমার শোলক-বলা কাজলা দিদি কই? পুকুর ধারে, নেবুর গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই; মাগো, আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই ? (Bash baganer mathar upor chad uteche oi Mago, amar shulok-bola kajla didi koi? Pukur dhare, Nebur gondhe ghRead more

    কাজলা দিদি  (যতীন্দ্রমোহন বাগচী)

    বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই
    মাগো, আমার শোলক-বলা কাজলা দিদি কই?
    পুকুর ধারে, নেবুর গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই;
    মাগো, আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই ?

    (Bash baganer mathar upor chad uteche oi
    Mago, amar shulok-bola kajla didi koi?
    Pukur dhare, Nebur gondhe ghum aashe na, ekla jege roi
    Mago, amar shulok-bola kajla didi koi?)

    সেদিন হতে দিদিকে আর কেনই-বা না ডাকো,
    দিদির কথায় আচঁল দিয়ে মুখটি কেন ঢাকো ?

    (shedin hote didike aar kenoi ba dake
    Didir kothay aachol diye mukhti keno dhake?)

    খাবার খেতে আসি যখন দিদি বলে ডাকি, তখন
    ও-ঘর থেকে কেন মা আর দিদি আসে নাকো,
    আমি ডাকি, – তুমি কেন চূপটি করে থাকো ?
    বল মা, দিদি কোথায় গেছে, আসবে আবার কবে ?
    কাল যে আমার নতুন ঘরে পুতুল-বিয়ে হবে !
    দিদির মতন ফাঁকি দিয়ে আমিও যদি লুকোই গিয়ে –
    তুমি তখন একলা ঘরে কেমন করে রবে ?
    আমিও নাই দিদিও নাই কেমন মজা হবে !

    (Khabar khete aashi jokhon didi bole daki, tokhon
    O ghor theke keno ma didi aar aashe nako
    Ami daki tumi keno chupti kore thako
    Bolo ma didi kuthay gese aashbe abar kobe?
    Kal je amar natun ghore putul biye hobe
    Didir moto faki diye ami jodi lukoi giye
    Tumi tokhon ekla ghore kemon ko0re robe?
    Amio nai didi o nai kemon moja hobe!)

    ভুঁইচাঁপাতে ভরে গেছে শিউলি গাছের তল,
    মাড়াস নে মা পুকুর থেকে আনবি যখন জল;
    ডালিম গাছের ডালের ফাঁকে বুলবুলিটি লুকিয়ে থাকে,
    দিস না তারে উড়িয়ে মা গো , ছিঁড়তে গিয়ে ফল;
    দিদি এসে শুনবে যখন, বলবে কী মা বল!

    (bhuichapate bhore gese shuili gacher tol,
    madash ne maa pukur theke aanbe jokhon jol
    Dalim gacher daler fake bulbuliti lukhiye thake,
    Dish na tare uriye mago, chirte giye fol;
    Didi eshe shunbe jokhon, bolbe ki ma bol!)

    বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই
    এমন সময়, মাগো, আমার কাজলা দিদি কই ?
    বেড়ার ধারে, পুকুর পাড়ে ঝিঁঝিঁ ডাকে ঝোঁপে-ঝাড়ে;
    নেবুর গন্ধে ঘুম আসে না -তাইতো জেগে রই;
    রাত হলো যে, মাগো, আমার কাজলা দিদি কই ?

    (Bash baganer mathar upor chad uteche oi
    Emon shomoy mago, amar kajla didi koi?
    bedar dare, pukhur pare jhi jhi dake jhope-jhade
    Nebur gondhe ghum aashe na, taito jege roi
    Raat holo je, mago, amar kajla didi koi?)

    English Translation :

    The moon has risen above the Bamboo garden
    Mother, Where is my kajla sister who read poetry to me
    lemon smells from the side of pond, make me insomaniac
    Mother, Where is my Kajla sister?

    See less
      • 0
  • 1
  • 23,216
  • 0
Answer
In: সাহিত্য

রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ -আমার ভিতর বাহিরে | Amar bhitoro bahire lyrics in bengali font

  1. Hridoy
    Hridoy
    Added an answer on April 5, 2020 at 4:11 am

    আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে - রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে আছো তুমি হৃদয় জুড়ে। ঢেকে রাখে যেমন কুসুম, পাপড়ির আবডালে ফসলের ঘুম তেমনি তোমার নিবিড় চলা মরমের মূল পথ ধরে। পুষে রাখে যেমন ঝিনুক, খোলসের আবরনে মুক্তোর সুখ তেমনি তোমার গভীর ছোঁয়া ভিতরের নীল বন্দরে। ভালো আছি,Read more

    আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে – রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ

    আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে
    আছো তুমি হৃদয় জুড়ে।

    ঢেকে রাখে যেমন কুসুম,
    পাপড়ির আবডালে ফসলের ঘুম
    তেমনি তোমার নিবিড় চলা
    মরমের মূল পথ ধরে।

    পুষে রাখে যেমন ঝিনুক,
    খোলসের আবরনে মুক্তোর সুখ
    তেমনি তোমার গভীর ছোঁয়া
    ভিতরের নীল বন্দরে।

    ভালো আছি, ভালো থেকো,
    আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো
    দিও তোমার মালাখানি,
    বাউলের এই মনটা রে।

    আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে
    আছো তুমি হৃদয় জুড়ে ।

    Bangla Phonetic

    Amar bhitor o bahire ontore ontore
    Achho tumi hridoy jurey

    Dheke rakhe jemon kusum
    Paprir abdaale phosholer ghum
    Temni tomar nibir chola
    Moromer mul poth dhore.

    Amar bhitor o bahire ontore ontore
    Achho tumi hridoy jurey

    Pushe rakhe jemon jhinuk
    Kholosher aborone muktor sukh
    Temni tomar gobhir chhowa
    Bheetorer neel bondore

    Amar bhitor o bahire ontore ontore
    Achho tumi hridoy jurey

    Bhalo achhi, Bhalo theko
    Akasher thikanay chithi likho
    Dio tomar mala-khani
    Baul er ei mon ta re…

    Amar bhitor o bahire ontore ontore
    Achho tumi hridoy jurey

    Translation

    In my whole being, inside & outside
    deep in my heart entirely, you reside.

    As hides the flower
    in petals,its grain’s stupor;

    similarly you take a tender stroll
    along the highway of the soul.

    The way preserves the oyster
    the joys of pearl in its shell cover;

    similarly your deep touch sensitizes
    harbors of the blues of insides

    I’m fine, wish you to be better,
    addressing the skies, do write your letter.

    Do offer your garlands
    with the hymns of vagabonds.

    In my whole being, inside & outside
    deep in my heart entirely, you reside.

    See less
      • 0
  • 1
  • 902
  • 0
Answer
Load More Questions

Sidebar

আরও দেখুন

  • কবিতা : রানার | Runner Chuteche Lyrics in Bengali
  • পাল্কীর গান (সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত) Palki Chole Poem by Satyendranath Dutta?
  • লোহার ব্যাথা (যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত) Lohar Batha Bengali Poem Lyrics?
  • বঙ্কিমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন কবিতা | Bankim Chandra Chatterjee Poems in Bengali?
  • বন্দে মাতরম (বঙ্কিমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়) Vande Mataram lyrics in Bengali?
  • কবিতা : আমরা (বাঙালি) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত | Amra Bangali by Satyendranath Dutta?
  • বাংলাদেশ কবিতা সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত সারাংশ | Bangladesh Poem by Satyendranath Dutta Summary in Bengali?
  • কবিতা : সাগর তর্পণ (সত্যেন্দ্র নাথ দত্ত) Sagar Tarpan Poem by Satyendranath Dutta in Bengali ?
  • কবিতা : হাট ( দূরে দূরে গ্রাম দশ বারোখানি) Dure Dure Gram Dash Baro Kahani Poem ?
  • কবিতা : কোন্ দেশে (সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত) Kon Deshe Poem by Satyendranath Dutta?
  • কবিতা : দেশলাই কাঠি (সুকান্ত ভট্টাচার্য) Deshlai kathi poem in Bengali?
  • রবীন্দ্রসংগীত : তুমি কোন কাননের ফুল | Tumi Kon Kanoner Phool lyrics in Bengali with English Translation?
  • কবিতা : পরশ পাথর (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) Parash Pathar Poem by Rabindranath Tagore in Bengali?
  • কবিতা : নিষ্কৃতি (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) Nishkriti by Rabindranath Tagore in Bengali?
  • কবিতা : ক্যামেলিয়া (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) Camellia Poem by Rabindranath Tagore in Bengali lyrics?
  • কবিতা : দেবতার বিদায় (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) Debotar Biday by Rabindranath Tagore?
  • কবিতা : প্রশ্ন (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) Proshno Kobita Rabindranath Tagore in Bengali?
  • অভিসার (সন্ন্যাসী উপগুপ্ত) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | Upagupta Poem lyrics in Bengali and English?
  • কবিতা : মূল্যপ্রাপ্তি (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) Mulya Prapti Poem in Bengali?
  • কবিতা : পূজারিনী (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) Pujarini Poem by Rabindranath Tagore in Bengali?
Join us on Telegram
Join our FaceBook Group

বিষয়

All Bangla Paragraph (105) Apurba Dutta Poems (4) Bangla application format (11) Bangla Choto Golpo (7) Bangla dorkhasto lekha (11) Bangla gazal lyrics (8) Bangla GK (177) Bangla Kobita (203) Bangla Rachana (105) baul gaan lyrics (6) baul song lyrics (6) Bengali antonyms (40) Bengali Essay (105) Bengali letter Writing (11) Bengali lullaby lyrics (3) bengali lyrics (82) Bengali Meaning (259) bengali poem (14) Bengali Poems (124) Bengali Poem Summary (21) Bengali Rachana (99) Bengali short story (7) bengali song lyrics (98) bengali song lyrics in bengali (98) Bengali synonyms (33) chandrabindu lyrics (2) English grammar in Bengali (6) English to Bengali Meaning (270) English to Bengali Translation (256) Essay (75) Full form (14) general knowledge bengali (7) indian history in bengali (9) Joy Goswami kobita (4) kazi nazrul islamer kobita (8) Kobita (143) lyrics (17) Myth (3) nirendranath chakraborty poem (5) Nirmalendu Goon Poems (6) Paragraph (20) Parts of speech in Bengali (6) Pod Poriborton (39) Poem (3) poem summary in bengali (21) rabindranath tagore poems (57) Rabindra Sangeet lyrics (5) shakti chattopadhyay poems (7) Social Science (6) Somarthok Shobdo (33) Somas Bangla Grammar (15) sukanta bhattacharya kobita (4) Sukumar Roy Poem (16) Summary (8) অনুচ্ছেদ (127) অপূর্ব দত্তের কবিতা (4) আধ্যাত্মিক (10) ইংরেজি অনুবাদ (6) ইংরেজি থেকে বাংলা (6) ইংলিশ বাংলা অনুবাদ (6) ইন্টারনেট (1) ইসলাম (18) ইসলাম ধর্মীয় প্রশ্ন উত্তর (18) ইসলামী নাত ও গজল (8) ইসলামী সংগীত লিরিক্স (8) কবিতা (26) কবিতার সারাংশ ও সারমর্ম (21) কাজী নজরুল ইসলাম (8) কুসংস্কার (3) গানের কথা (14) ঘুম পাড়ানি গান lyrics (3) ছোটগল্প (7) জয় গোস্বামী (4) জয় গোস্বামীর কবিতা (4) জেনারেল নলেজ (7) জেনারেল নলেজ প্রশ্ন ও উত্তর (39) নির্মলেন্দু গুণের কবিতা (6) নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কবিতা (5) পদ পরিবর্তন (39) পূর্ণরূপ (14) প্রকৃতি (17) প্রক্রিতি (23) ফলমূল (28) ফুল ফর্ম (14) বাংলা general knowledge (52) বাংলা অর্থ (275) বাংলা আবেদন পত্র (11) বাংলা কবিতা (219) বাংলা কবিতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (68) বাংলা গান লিরিক্স (97) বাংলা গানের লিরিক্স (98) বাংলা ছোট গল্প (7) বাংলা দরখাস্ত নমুনা (11) বাংলা প্রবন্ধ (97) বাংলা বাক্য রচনা (176) বাংলা বিপরীত শব্দ (40) বাংলা রচনা (127) বাউল গান লিরিক্স (6) বাক্য রচনা (176) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (1) বিজ্ঞান শিক্ষা (17) বিপরীত শব্দ (40) বোঝাপড়া কবিতা (3) ব্যাখ্যা (8) ভক্তিভাজন (10) ভারতের ইতিহাস (9) ভূগোল (5) মধ্যযুগের ভারতের ইতিহাস (9) মূলভাব (8) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (34) রবীন্দ্রসংগীত (1) রবীন্দ্র সংগীত লিরিক্স (5) লিরিক্স (17) শক্তি চট্টোপাধ্যায় kobita (7) শঙ্খ ঘোষ (8) শুভ দাশগুপ্ত (7) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত (5) সন্ধি বিচ্ছেদ (8) সন্ধি বিচ্ছেদ ব্যবহার (8) সমাজ বিজ্ঞান (6) সমার্থক শব্দ (33) সমাস (15) সারাংশ (8) সুকান্তের কবিতা (4) সুকুমার রায় (16)

Footer

© 2025 Bengali Forum · All rights reserved. Contact Us

Add Bengali Forum to your Homescreen!

Add